Chapter 11: ওশিয়ানিয়া (Oceania)

অস্ট্রেলিয়া | গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ | আর্টেজীয় কূপ | মারে-ডার্লিং অববাহিকা | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 19 February 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 8 Geography Chapter 11 ওশিয়ানিয়া

Chapter 11: ওশিয়ানিয়া (Oceania)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 40 MCQ | 30 SAQ | 10 Broad Questions

ক্ষুদ্রতম মহাদেশ ক্যাঙারু ও প্লাটিপাস মারে-ডার্লিং অববাহিকা আর্টেজীয় কূপ
🦘

অস্ট্রেলিয়া

ওশিয়ানিয়ার বৃহত্তম দেশ

🐠

প্রবাল প্রাচীর

বিশ্বের দীর্ঘতম গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

🌾

ডাউনস ও মেরিনো

তৃণভূমি এবং বিশ্ববিখ্যাত উল

💦

আর্টেজীয় কূপ

পাম্প ছাড়াই জল ওঠে এমন কূপ

ওশিয়ানিয়ার ৪টি প্রধান আঞ্চলিক বিভাগ

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলির সুন্দর বিভাজন

বিভাগের নামনামের অর্থঅবস্থান ও অন্তর্ভুক্ত দেশ/দ্বীপসমূহ
অস্ট্রেলেশিয়া
(Australasia)
অস্ট্রেল = দক্ষিণ,
অর্থাৎ এশিয়ার দক্ষিণে
এটি ওশিয়ানিয়ার বৃহত্তম অংশ। এশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত।
মেলানেশিয়া
(Melanesia)
মেলান = কালো,
নেশিয়া = দ্বীপ
এখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং কালো বলে এই নাম। যেমন— নিউগিনি, ফিজি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ।
মাইক্রোনেশিয়া
(Micronesia)
মাইক্রো = ছোট বা ক্ষুদ্রপ্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ছোট দ্বীপ। যেমন— মার্শাল, মারিয়ানা, ক্যারোলিন।
পলিনেশিয়া
(Polynesia)
পলি = বহুপ্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্যভাগে ছড়িয়ে থাকা বহু দ্বীপের সমষ্টি। যেমন— হাওয়াই, সামোয়া, তাহিতি, টোঙ্গা।

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

40 টি
1. আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি?
ক) ক) ইউরোপ
খ) খ) ওশিয়ানিয়া
গ) গ) আন্টার্কটিকা
ঘ) ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা: আয়তনের দিক থেকে ওশিয়ানিয়া (Oceania) হলো পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ। এটি মূলত অসংখ্য ছোট-বড়ো দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
2. ওশিয়ানিয়া মহাদেশে প্রায় কতগুলি দ্বীপ রয়েছে?
ক) ক) ১ হাজার
খ) খ) ৫ হাজার
গ) গ) ১০ হাজারেরও বেশি
ঘ) ঘ) ৫০ হাজার
ব্যাখ্যা: অবাক করার মতো হলেও প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে ওশিয়ানিয়া মহাদেশ গঠিত হয়েছে।
3. ওশিয়ানিয়া মহাদেশের লোকসংখ্যা প্রায় কত?
ক) ক) ৩.৫ কোটি
খ) খ) ১০ কোটি
গ) গ) ৫০ কোটি
ঘ) ঘ) ১০০ কোটি
ব্যাখ্যা: এতগুলো দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটা গোটা মহাদেশ হলেও এর লোকসংখ্যা অত্যন্ত কম, মাত্র প্রায় সাড়ে ৩ কোটি (যা পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কম)।
4. পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর (Coral Reef) কোনটি?
ক) ক) গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ
খ) খ) গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ
গ) গ) মারিয়ানা খাত
ঘ) ঘ) সুন্দরবন
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত 'গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ' (Great Barrier Reef) হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
5. পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাতের নাম কী?
ক) ক) সুন্ডা খাত
খ) খ) মারিয়ানা খাত
গ) গ) টোঙ্গা খাত
ঘ) ঘ) পুয়ের্তোরিকো খাত
ব্যাখ্যা: প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মারিয়ানা খাত (Mariana Trench) হলো পৃথিবীর গভীরতম স্থান, যা ওশিয়ানিয়া মহাদেশের অন্তর্গত।
6. ডানাহীন পাখি 'কিউই' (Kiwi) কোন দেশে দেখা যায়?
ক) ক) অস্ট্রেলিয়া
খ) খ) ফিজি
গ) গ) নিউজিল্যান্ড
ঘ) ঘ) পাপুয়া নিউগিনি
ব্যাখ্যা: কিউই হলো একটি অদ্ভুত পাখি যার কোনো ডানা নেই। এটি মূলত নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়। কিউই নিউজিল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক।
7. হংসচঞ্চু বা প্লাটিপাস (Platypus) প্রাণীর বিশেষত্ব কী?
ক) ক) এরা উড়তে পারে
খ) খ) এরা ডিম পাড়ে কিন্তু বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়
গ) গ) এরা পেটের থলিতে বাচ্চা রাখে
ঘ) ঘ) এরা বিষধর নয়
ব্যাখ্যা: প্লাটিপাস বা হংসচঞ্চু একটি অদ্ভুত স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা পাখির মতো ডিম পাড়ে কিন্তু অন্যান্য স্তন্যপায়ীর মতো এদের বাচ্চারা মায়ের দুধ খেয়ে বাঁচে।
8. কোন পাখি উড়তে পারে না কিন্তু উটের মতো জোরে দৌড়ায়?
ক) ক) কিউই
খ) খ) পেঙ্গুইন
গ) গ) এমু
ঘ) ঘ) কোকিল
ব্যাখ্যা: এমু (Emu) হলো অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশাল আকারের পাখি, যা উড়তে পারে না কিন্তু উটের মতো খুব জোরে দৌড়াতে পারে।
9. ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus) গাছের আদি জন্মস্থান কোথায়?
ক) ক) ভারত
খ) খ) ওশিয়ানিয়া (অস্ট্রেলিয়া)
গ) গ) আফ্রিকা
ঘ) ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা: ইউক্যালিপটাস গাছের মূল জন্মস্থান হলো ওশিয়ানিয়া মহাদেশের অস্ট্রেলিয়া।
10. ওশিয়ানিয়া মহাদেশে শীতকাল কখন থাকে?
ক) ক) ডিসেম্বর-জানুয়ারি
খ) খ) মার্চ-এপ্রিল
গ) গ) জুন-জুলাই
ঘ) ঘ) অক্টোবর-নভেম্বর
ব্যাখ্যা: ওশিয়ানিয়া দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। তাই আমাদের (উত্তর গোলার্ধ) যখন গরমকাল, সেখানে তখন শীতকাল। অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে সেখানে শীতকাল থাকে।
11. 'মেলানেশিয়া' (Melanesia) শব্দের অর্থ কী?
ক) ক) বহু দ্বীপ
খ) খ) ক্ষুদ্র দ্বীপ
গ) গ) কালো দ্বীপ
ঘ) ঘ) প্রবাল দ্বীপ
ব্যাখ্যা: 'মেলান' কথার অর্থ কালো এবং 'নেশিয়া' মানে দেশ বা দ্বীপ। এখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং কালো হওয়ায় এই অঞ্চলের নাম মেলানেশিয়া (কালো দ্বীপ)।
12. নিম্নলিখিত কোনটি পলিনেশিয়ার (Polynesia) অন্তর্গত?
ক) ক) হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ
খ) খ) ফিজি
গ) গ) নিউগিনি
ঘ) ঘ) মার্শাল দ্বীপ
ব্যাখ্যা: পলিনেশিয়া কথার অর্থ 'বহু দ্বীপ'। হাওয়াই, সামোয়া, টোঙ্গা, তাহিতি প্রভৃতি অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে পলিনেশিয়া গঠিত।
13. ওশিয়ানিয়ার বৃহত্তম দেশ কোনটি?
ক) ক) নিউজিল্যান্ড
খ) খ) অস্ট্রেলিয়া
গ) গ) ফিজি
ঘ) ঘ) পাপুয়া নিউগিনি
ব্যাখ্যা: ওশিয়ানিয়া মহাদেশের বৃহত্তম দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া। এটি নিজেই একটি বিশাল দ্বীপ এবং মহাদেশের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে।
14. অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর বিস্তৃত পর্বতমালাটির নাম কী?
ক) ক) রকি
খ) খ) গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ
গ) গ) আন্দিজ
ঘ) ঘ) আল্পস
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত পর্বতমালাটিকে 'গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ' (Great Dividing Range) বলা হয়।
15. অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ক) ক) মাউন্ট কুক
খ) খ) মাউন্ট কসিয়াস্কো
গ) গ) মাউন্ট এভারেস্ট
ঘ) ঘ) কিলিমাঞ্জারো
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট কসিয়াস্কো (Mt. Kosciuszko), যার উচ্চতা ২২২৮ মিটার। এটি অস্ট্রেলিয়ারও সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
16. নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
ক) ক) মাউন্ট কসিয়াস্কো
খ) খ) মাউন্ট কুক
গ) গ) মাউন্ট এলব্রাস
ঘ) ঘ) মাউন্ট ব্লাঁ
ব্যাখ্যা: নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের আল্পস পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট কুক (Mt. Cook), যার উচ্চতা ৩৭৬৪ মিটার।
17. অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের সমভূমি অঞ্চলে মাটির তলা থেকে আপনা-আপনি জল বেরিয়ে আসে। এই ধরনের কূপকে কী বলে?
ক) ক) নলকূপ
খ) খ) পাতকুয়ো
গ) গ) আর্টেজীয় কূপ
ঘ) ঘ) গিজার
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল লোল্যান্ডস বা গ্রেট আর্টেজিয়ান বেসিন অঞ্চলে মাটির গঠন এমন যে গর্ত খুঁড়লে পাম্প ছাড়াই ভূগর্ভস্থ জল ফোয়ারার মতো বেরিয়ে আসে, একে আর্টেজীয় কূপ (Artesian Well) বলে।
18. অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম নদীর নাম কী?
ক) ক) ডার্লিং
খ) খ) মারে
গ) গ) মারে-ডার্লিং
ঘ) ঘ) সোয়ান
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত মারে এবং তার প্রধান উপনদী ডার্লিং মিলে মারে-ডার্লিং (Murray-Darling) নদীপ্রণালী গঠন করেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম নদী।
19. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কোন কৃষিজ ফসল সবথেকে বেশি উৎপন্ন হয়?
ক) ক) ধান
খ) খ) গম
গ) গ) চা
ঘ) ঘ) পাট
ব্যাখ্যা: মারে-ডার্লিং অববাহিকায় নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং উর্বর মাটির কারণে প্রচুর পরিমাণে গম (Wheat) চাষ হয়।
20. অস্ট্রেলিয়ার নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি কী নামে পরিচিত?
ক) ক) পম্পাস
খ) খ) প্রেইরি
গ) গ) ডাউনস
ঘ) ঘ) সাভানা
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকায় যে বিস্তীর্ণ নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি দেখা যায়, তাকে 'ডাউনস' (Downs) বলা হয়। এটি পশুচারণের জন্য অত্যন্ত বিখ্যাত।
21. অস্ট্রেলিয়া কোন পশুর লোম বা উল (Wool) উৎপাদনে বিশ্বে বিখ্যাত?
ক) ক) ছাগল
খ) খ) মেরিনো ভেড়া
গ) গ) লামা
ঘ) ঘ) আলপাকা
ব্যাখ্যা: মারে-ডার্লিং অববাহিকায় ডাউনস তৃণভূমিতে প্রচুর উন্নত জাতের মেরিনো (Merino) ভেড়া পালন করা হয়। মেরিনো ভেড়ার লোম বা উল সারা বিশ্বে বিখ্যাত।
22. অস্ট্রেলিয়ার পশুখামারগুলোতে যারা কাজ করে তাদের কী বলা হয়?
ক) ক) গউচো
খ) খ) জ্যাকারু
গ) গ) কাউবয়
ঘ) ঘ) মাওরি
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার বিশাল পশুখামার বা 'শিপ স্টেশন' গুলোতে পশুপালনের জন্য যে দক্ষ শ্রমিকরা কাজ করেন, তাদের জ্যাকারু (Jackaroos) বলা হয়।
23. অস্ট্রেলিয়ার 'রুপোর শহর' (Silver City) কাকে বলা হয়?
ক) ক) সিডনি
খ) খ) মেলবোর্ন
গ) গ) ব্রোকেন হিল
ঘ) ঘ) অ্যাডিলেড
ব্যাখ্যা: মারে-ডার্লিং অববাহিকায় অবস্থিত ব্রোকেন হিল (Broken Hill) খনি থেকে প্রচুর পরিমাণে রুপো (Silver) ও সিসা উত্তোলিত হয়। তাই একে রুপোর শহর বলা হয়।
24. মারে-ডার্লিং অববাহিকার প্রধান শহর ও বাণিজ্যকেন্দ্র কোনটি?
ক) ক) পার্থ
খ) খ) অ্যাডিলেড
গ) গ) ডারউইন
ঘ) ঘ) হোবার্ট
ব্যাখ্যা: অ্যাডিলেড (Adelaide) হলো মারে-ডার্লিং অববাহিকার প্রধান শহর, শিল্পকেন্দ্র এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বা বাণিজ্যকেন্দ্র।
25. অস্ট্রেলিয়ার কোবার (Cobar) খনি থেকে কী উত্তোলিত হয়?
ক) ক) সোনা
খ) খ) লোহা
গ) গ) তামা
ঘ) ঘ) কয়লা
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে অবস্থিত কোবার (Cobar) খনি থেকে প্রচুর পরিমাণে তামা (Copper) উত্তোলিত হয়।
26. নিউজিল্যান্ডের আদি অধিবাসীদের কী বলা হয়?
ক) ক) অ্যাবোরিজিন
খ) খ) মাওরি
গ) গ) এস্কিমো
ঘ) ঘ) রেড ইন্ডিয়ান
ব্যাখ্যা: নিউজিল্যান্ডের আদিম অধিবাসীদের 'মাওরি' (Maori) বলা হয়। আর অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বলা হয় অ্যাবোরিজিন।
27. অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ভাগ মূলত কী ধরনের ভূপ্রকৃতি?
ক) ক) সমভূমি
খ) খ) উচ্চ পর্বতমালা
গ) গ) রুক্ষ মালভূমি ও মরুভূমি
ঘ) ঘ) ঘন জঙ্গল
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ভাগ জুড়ে এক বিস্তীর্ণ, প্রাচীন, রুক্ষ ও শুষ্ক মালভূমি রয়েছে, যার বেশিরভাগ অংশই মরুভূমি (যেমন- গ্রেট ভিক্টোরিয়া, গিবসন মরুভূমি)।
28. নিউজিল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপকে কে বিচ্ছিন্ন করেছে?
ক) ক) কুক প্রণালী
খ) খ) বাস প্রণালী
গ) গ) বেরিং প্রণালী
ঘ) ঘ) পক প্রণালী
ব্যাখ্যা: নিউজিল্যান্ড প্রধানত দুটি বড়ো দ্বীপ নিয়ে গঠিত— উত্তর দ্বীপ এবং দক্ষিণ দ্বীপ। এদের মাঝখানে কুক প্রণালী (Cook Strait) অবস্থিত।
29. অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম হ্রদ কোনটি?
ক) ক) আয়ার হ্রদ
খ) খ) বৈকাল হ্রদ
গ) গ) টিটিকাকা হ্রদ
ঘ) ঘ) সুপিরিয়র হ্রদ
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের নিম্নভূমিতে অবস্থিত আয়ার হ্রদ (Lake Eyre) হলো অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম হ্রদ এবং সর্বনিম্ন স্থান।
30. ওশিয়ানিয়া মহাদেশের কোথায় 'মৌনালোয়া' (Mauna Loa) আগ্নেয়গিরি অবস্থিত?
ক) ক) ফিজি
খ) খ) হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ
গ) গ) নিউজিল্যান্ড
ঘ) ঘ) তাহিতি
ব্যাখ্যা: মৌনালোয়া হলো একটি বিশাল সক্রিয় ঢাল আগ্নেয়গিরি, যা প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত।
31. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কেমন?
ক) ক) অত্যধিক
খ) খ) মাঝারি ও কম
গ) গ) একেবারেই হয় না
ঘ) ঘ) সারাবছর সমপরিমাণে হয়
ব্যাখ্যা: মারে-ডার্লিং অববাহিকা গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের পশ্চিম দিকে অর্থাৎ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাঝারি থেকে বেশ কম (২৫-৭৫ সেমি)।
32. মারে-ডার্লিং অববাহিকার জলবায়ু প্রধানত কোন প্রকৃতির?
ক) ক) নিরক্ষীয়
খ) খ) ক্রান্তীয়
গ) গ) নাতিশীতোষ্ণ
ঘ) ঘ) তুন্দ্রা
ব্যাখ্যা: মারে-ডার্লিং অববাহিকাটি দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্য অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু মনোরম এবং নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির।
33. অস্ট্রেলিয়ার কোন অংশে সবচেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করে?
ক) ক) উত্তর-পশ্চিম
খ) খ) মধ্যভাগ
গ) গ) দক্ষিণ-পূর্ব
ঘ) ঘ) পশ্চিম উপকূল
ব্যাখ্যা: অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে (যেখানে মারে-ডার্লিং অববাহিকা অবস্থিত) মনোরম জলবায়ু, কৃষিকাজ ও শিল্পের উন্নতির কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করে।
34. ইস্টার আইল্যান্ডের (Easter Island) রহস্যময় মূর্তিগুলি কোথায় দেখা যায়?
ক) ক) মাইক্রোনেশিয়া
খ) খ) পলিনেশিয়া
গ) গ) মেলানেশিয়া
ঘ) ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা: বিশাল আকারের পাথরের মাথার ভাস্কর্য (Moai) এর জন্য বিখ্যাত ইস্টার আইল্যান্ড প্রশান্ত মহাসাগরে পলিনেশিয়ার অন্তর্গত।
35. জারা ও কারি (Jarrah & Karri) গাছ কোথায় দেখা যায়?
ক) ক) আমাজন অরণ্যে
খ) খ) কানাডীয় শিল্ডে
গ) গ) ওশিয়ানিয়া মহাদেশে
ঘ) ঘ) সুন্দরবনে
ব্যাখ্যা: জারা এবং কারি হলো অত্যন্ত শক্ত কাঠের চিরহরিৎ গাছ, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নয়, কেবল ওশিয়ানিয়া মহাদেশেই দেখা যায়।
36. অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত মারসুপিয়াল (Marsupial) বা পেটে থলিযুক্ত প্রাণী কোনটি?
ক) ক) ক্যাঙারু
খ) খ) ইমু
গ) গ) ডিংগো
ঘ) ঘ) কুমির
ব্যাখ্যা: ক্যাঙারু (Kangaroo) হলো অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রাণী, যাদের পেটের নীচে একটি থলি থাকে যেখানে তারা তাদের অপরিণত বাচ্চাকে বড়ো করে। এদের মারসুপিয়াল বলে।
37. সিডনি হারবার ব্রিজ (Sydney Harbour Bridge) কোথায় অবস্থিত?
ক) ক) নিউজিল্যান্ড
খ) খ) ফিজি
গ) গ) অস্ট্রেলিয়া
ঘ) ঘ) পাপুয়া নিউগিনি
ব্যাখ্যা: বিখ্যাত এবং দৃষ্টিনন্দন সিডনি হারবার ব্রিজ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে অবস্থিত।
38. নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি মূলত কীসের ওপর নির্ভরশীল?
ক) ক) খনিজ তেল
খ) খ) পশুপালন ও ডেয়ারি শিল্প
গ) গ) লৌহ-ইস্পাত শিল্প
ঘ) ঘ) তথ্যপ্রযুক্তি
ব্যাখ্যা: নিউজিল্যান্ডের বিস্তৃত সবুজ তৃণভূমি পশুপালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার অর্থনীতি মূলত পশুপালন, উন্নত ডেয়ারি শিল্প (দুধ, মাখন, পনির) এবং মাংস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল।
39. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কোন ধরনের কৃষিব্যবস্থা বেশি দেখা যায়?
ক) ক) মিশ্র কৃষি
খ) খ) ঝুম চাষ
গ) গ) সোপান কৃষি
ঘ) ঘ) উদ্যান কৃষি
ব্যাখ্যা: মারে-ডার্লিং অববাহিকায় একই খামারে কৃষিকাজের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে পশুপালন (ভেড়া ও গবাদি পশু) করা হয়, একে মিশ্র কৃষি (Mixed Farming) বলে।
40. মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia) শব্দের অর্থ কী?
ক) ক) বহু দ্বীপ
খ) খ) কালো দ্বীপ
গ) গ) ছোট বা ক্ষুদ্র দ্বীপ
ঘ) ঘ) প্রবাল দ্বীপ
ব্যাখ্যা: 'মাইক্রো' কথার অর্থ ক্ষুদ্র বা ছোট। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জকে একত্রে মাইক্রোনেশিয়া বলা হয়।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

30 টি
Q1. ওশিয়ানিয়া (Oceania) মহাদেশ কী নিয়ে গঠিত?

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ছোট-বড়ো প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে একত্রে যে মহাদেশটি গঠিত হয়েছে, তাকেই ওশিয়ানিয়া মহাদেশ বলা হয়। এটি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।

Q2. ওশিয়ানিয়ার জনসংখ্যা এত কম কেন?

ওশিয়ানিয়া একটি দ্বীপময় মহাদেশ। এর সবচেয়ে বড়ো দেশ অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ অংশই উষ্ণ ও রুক্ষ মরুভূমি। পানীয় জলের তীব্র অভাব, দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং অনেক দ্বীপে জীবনযাত্রার প্রতিকূল পরিবেশের জন্যই এখানকার মোট জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৩ কোটি।

Q3. ওশিয়ানিয়া মহাদেশের চারটি প্রধান আঞ্চলিক বিভাগের নাম লেখো।

ভৌগোলিক অবস্থান এবং দ্বীপের প্রকৃতি অনুযায়ী ওশিয়ানিয়াকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়: ১) অস্ট্রেলেশিয়া (Australasia), ২) মেলানেশিয়া (Melanesia), ৩) মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia), এবং ৪) পলিনেশিয়া (Polynesia)।

Q4. গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ (Great Barrier Reef) কী?

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে প্রবাল কিটের মৃতদেহ জমে জমে প্রায় ২০০০ কিমি দীর্ঘ একটি প্রাচীর বা দেওয়াল তৈরি হয়েছে। এটিই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ নামে পরিচিত, যা পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।

Q5. আর্টেজীয় কূপ (Artesian Well) কাকে বলে?

অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের সমভূমিতে মাটির নীচে বাটির মতো একটি অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের মাঝে একটি প্রবেশ্য শিলাস্তর অবস্থান করে। এই অংশে গর্ত খুঁড়লে জলের প্রবল চাপে পাম্প ছাড়াই ভূগর্ভস্থ জল ফোয়ারার মতো আপনা-আপনি বেরিয়ে আসে। একেই আর্টেজীয় কূপ বলে।

Q6. ওশিয়ানিয়ার কয়েকটি অদ্ভুত প্রাণীর নাম লেখো, যা অন্য কোথাও দেখা যায় না।

ক্যাঙারু, হংসচঞ্চু বা প্লাটিপাস (স্তন্যপায়ী কিন্তু ডিম পাড়ে), কোয়ালা (গাছে থাকা ছোট্ট ভাল্লুক), এমু (উটপাখির মতো দৌড়ায়), এবং কিউই (ডানাহীন পাখি) হলো এখানকার অদ্ভুত প্রাণী।

Q7. অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ (Great Dividing Range) কী?

অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত সুউচ্চ পর্বতমালাটিকে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ বলা হয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্বদিকের উর্বর উপকূলীয় সমভূমিকে পশ্চিমের রুক্ষ মালভূমি থেকে আলাদা বা বিভক্ত (Divide) করেছে।

Q8. মারে ও ডার্লিং নদীর উৎপত্তি কোথায়?

মারে নদীর উৎপত্তি: গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের মাউন্ট কসিয়াস্কো শৃঙ্গের কাছ থেকে।
ডার্লিং নদীর উৎপত্তি: গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের উত্তর অংশ (নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জ) থেকে উৎপন্ন হয়ে পরে এটি মারে নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।

Q9. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় বৃষ্টিপাত কম হয় কেন?

মারে-ডার্লিং অববাহিকাটি গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। পূর্বদিক থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে পূর্ব ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, কিন্তু পশ্চিম ঢালে পৌঁছলে তাতে জলীয়বাষ্প থাকে না। তাই এটি একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Area), ফলে এখানে বৃষ্টিপাত বেশ কম হয় (২৫-৭৫ সেমি)।

Q10. ডাউনস (Downs) কী?

অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কম বৃষ্টিপাত এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর কারণে যে বিস্তীর্ণ, সবুজ এবং নরম নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে, তাকেই 'ডাউনস' বলা হয়। এটি মেষপালনের জন্য আদর্শ।

Q11. মেরিনো (Merino) ভেড়া কীসের জন্য বিখ্যাত?

অস্ট্রেলিয়ার ডাউনস তৃণভূমিতে প্রচুর পরিমাণে মেরিনো জাতের ভেড়া পালন করা হয়। এই ভেড়ার লোম বা উল (Wool) অত্যন্ত উন্নত মানের, সূক্ষ্ম এবং উষ্ণ। মেরিনো উল উৎপাদনে অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে।

Q12. জ্যাকারু (Jackaroos) কাদের বলা হয়?

অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকায় পশুপালনের জন্য হাজার হাজার হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি বিশাল পশুখামার বা 'শিপ স্টেশন' (Sheep Station) গুলোতে যে দক্ষ শ্রমিকরা কাজ করে, তাদের স্থানীয় ভাষায় জ্যাকারু বলা হয়।

Q13. ব্রোকেন হিল (Broken Hill) শহরটিকে 'রুপোর শহর' বলা হয় কেন?

অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকার পশ্চিম দিকে অবস্থিত ব্রোকেন হিল একটি অত্যন্ত খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই খনি থেকে প্রচুর পরিমাণে রুপো (Silver), সিসা এবং দস্তা উত্তোলিত হয়। রুপোর প্রাচুর্যের জন্যই একে 'রুপোর শহর' (Silver City) বলা হয়।

Q14. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কোন কোন কৃষিজ ফসল উৎপন্ন হয়?

এখানকার প্রধান ফসল হলো গম (Wheat)। এছাড়া এখানে যব, ওট, এবং নদীর তীরে ফলের বাগানে প্রচুর আপেল, আঙুর, কমলালেবু ও ন্যাসপাতি চাষ করা হয়।

Q15. অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের কী বলা হয়? তাদের জীবনযাত্রা কেমন ছিল?

অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের অ্যাবোরিজিন (Aborigines) বলা হয়। এরা মূলত শিকারি এবং সংগ্রাহক ছিল। শিকারের জন্য তারা 'বুমেরাং' (Boomerang) নামক এক বিশেষ ধরনের বাঁকানো অস্ত্র ব্যবহার করত।

Q16. মারিয়ানা খাত (Mariana Trench) কী?

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মাইক্রোনেশিয়ার কাছে অবস্থিত মারিয়ানা খাত হলো পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত (গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার)। এর গভীরতা এত বেশি যে সমগ্র মাউন্ট এভারেস্ট পর্বতকে এর মধ্যে ডুবিয়ে দিলেও তার মাথায় জল থাকবে।

Q17. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কৃষি ও পশুপালনের সহাবস্থান দেখা যায় কেন?

এখানে বৃষ্টিপাত কম হলেও নদীর জল সেচের কাজে লাগিয়ে গম চাষ করা হয় এবং যে জমি কৃষির জন্য উপযুক্ত নয়, সেখানে ডাউনস তৃণভূমিতে প্রচুর ভেড়া ও গবাদি পশু পালন করা হয়। একেই মিশ্র কৃষি (Mixed Farming) বলে।

Q18. অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ভাগ কেন রুক্ষ মরুভূমি?

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ভাগ একটি অতি প্রাচীন মালভূমি, যা দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। সমুদ্র থেকে বহু দূরে এবং বায়ুপ্রবাহের গতিপথের কারণে এখানে বৃষ্টিপাত প্রায় হয়ই না। তাই এটি গ্রেট ভিক্টোরিয়া, গিবসন এর মতো রুক্ষ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

Q19. কুক প্রণালী (Cook Strait) কোথায় অবস্থিত?

নিউজিল্যান্ড প্রধানত দুটি বড়ো দ্বীপ নিয়ে গঠিত— উত্তর দ্বীপ (North Island) এবং দক্ষিণ দ্বীপ (South Island)। এই দুটি দ্বীপের ঠিক মাঝখানে যে সংকীর্ণ জলভাগ রয়েছে, তাকেই কুক প্রণালী বলা হয়।

Q20. অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
দেশসর্বোচ্চ শৃঙ্গউচ্চতাপর্বতমালার নাম
অস্ট্রেলিয়ামাউন্ট কসিয়াস্কো২২২৮ মিটারগ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ
নিউজিল্যান্ডমাউন্ট কুক৩৭৬৪ মিটারসাউদার্ন আল্পস
Q21. মারে-ডার্লিং অববাহিকার খনিজ সম্পদের পরিচয় দাও।

এই অববাহিকা খনিজ সম্পদে খুব বেশি সমৃদ্ধ না হলেও, প্রান্তবর্তী অঞ্চলে কিছু খনি রয়েছে। ব্রোকেন হিলে রুপো, সিসা, দস্তা এবং কোবার (Cobar) অঞ্চলে তামা উত্তোলিত হয়। অ্যাডিলেডের কাছে সামান্য কয়লা পাওয়া যায়।

Q22. ওশিয়ানিয়ার জনসংখ্যা কেন দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় বেশি কেন্দ্রীভূত?

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে (মারে-ডার্লিং অববাহিকা ও উপকূল) জলবায়ু মনোরম, নদী থাকায় জলের অভাব নেই, এবং উর্বর সমভূমিতে কৃষিকাজ, পশুপালন ও শিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। তাই এখানেই জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বাধিক।

Q23. জারা (Jarrah) এবং কারি (Karri) কী?

জারা এবং কারি হলো অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত অত্যন্ত শক্ত কাঠের চিরহরিৎ গাছ। এই গাছগুলি পৃথিবীর অন্য কোনো মহাদেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় না।

Q24. পর্যটন শিল্প (Tourism) ওশিয়ানিয়ার অর্থনীতিতে কী ভূমিকা পালন করে?

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, সিডনি হারবার, নিউজিল্যান্ডের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং হাওয়াই দ্বীপের আগ্নেয়গিরি দেখতে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ পর্যটক ওশিয়ানিয়ায় আসেন। পর্যটন থেকে উপার্জিত অর্থ এই দেশগুলির অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা পালন করে।

Q25. অ্যাডিলেড (Adelaide) শহর কীসের জন্য বিখ্যাত?

অ্যাডিলেড হলো মারে-ডার্লিং অববাহিকার সবচেয়ে বড়ো শহর এবং প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার উন্নত বন্দরের মাধ্যমে পশম, মাংস ও গম বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

Q26. ওশিয়ানিয়া মহাদেশে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে গরমকাল থাকে কেন?

ওশিয়ানিয়া মহাদেশ দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে, তাই ওই সময়ে সেখানে গরমকাল বা গ্রীষ্মকাল হয়।

Q27. পলিনেশিয়া (Polynesia) বলতে কী বোঝায়?

'পলি' কথার অর্থ বহু এবং 'নেশিয়া' মানে দ্বীপ। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্যভাগে ছড়িয়ে থাকা বহু ছোট-বড়ো দ্বীপের সমষ্টিকে পলিনেশিয়া বলা হয়। হাওয়াই, সামোয়া, তাহিতি এর অন্তর্গত।

Q28. মারে-ডার্লিং নদী অববাহিকার শিল্পগুলির নাম লেখো।

খনিজ সম্পদের অভাবে এখানে ভারী শিল্প গড়ে ওঠেনি। তবে কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভর করে পশম শিল্প, বস্ত্রবয়ন, ডেয়ারি, ময়দা, এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খুব উন্নতি লাভ করেছে।

Q29. আয়ার হ্রদ (Lake Eyre) এর বৈশিষ্ট্য কী?

আয়ার হ্রদ অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের সেন্ট্রাল লোল্যান্ডস বা গ্রেট আর্টেজিয়ান বেসিন অঞ্চলে অবস্থিত। এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম হ্রদ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ মিটার নীচু (অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্থান)। এর জল লবণাক্ত।

Q30. অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলীয় সমভূমির বৈশিষ্ট্য কী?

গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ এবং প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই উপকূলীয় সমভূমিটি অত্যন্ত উর্বর। নদীগঠিত এই সমভূমিতে প্রচুর কৃষিকাজ হয় এবং এখানেই সিডনি, ব্রিসবেনের মতো বড়ো শহরগুলো অবস্থিত।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

10 টি
1. ওশিয়ানিয়া মহাদেশকে প্রধানত যে চারটি আঞ্চলিক ভাগে ভাগ করা হয়, তার বিস্তারিত বিবরণ দাও।

ওশিয়ানিয়া মহাদেশের আঞ্চলিক বিভাগ:

ভৌগোলিক অবস্থান এবং দ্বীপগুলোর বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ওশিয়ানিয়াকে চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:

  1. অস্ট্রেলেশিয়া (Australasia): 'অস্ট্রেল' কথার অর্থ দক্ষিণ এবং 'এশিয়া' বলতে এশিয়া মহাদেশকে বোঝায়। এশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এটি ওশিয়ানিয়ার বৃহত্তম অংশ।
  2. মেলানেশিয়া (Melanesia): 'মেলান' মানে কালো এবং 'নেশিয়া' মানে দ্বীপ। এই দ্বীপগুলোর অধিবাসীদের গায়ের রং কালো হওয়ায় এর নাম মেলানেশিয়া। নিউগিনি, ফিজি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এর অন্তর্গত।
  3. মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia): 'মাইক্রো' কথার অর্থ ছোট বা ক্ষুদ্র। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে এটি গঠিত। যেমন— মার্শাল, মারিয়ানা, ক্যারোলিন দ্বীপপুঞ্জ।
  4. পলিনেশিয়া (Polynesia): 'পলি' মানে বহু। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব ভাগের অসংখ্য ছোট-বড়ো দ্বীপের সমষ্টিকে পলিনেশিয়া বলে। হাওয়াই, সামোয়া, টোঙ্গা, তাহিতি এর অন্তর্গত।
2. অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতিকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? মধ্যভাগের সমভূমি অঞ্চল এবং আর্টেজীয় কূপের বিবরণ দাও।

অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতি:

অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১) পূর্বের উচ্চভূমি (গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ)
২) মধ্যভাগের সমভূমি (সেন্ট্রাল লোল্যান্ডস)
৩) পশ্চিমের উচ্চভূমি বা মালভূমি।

মধ্যভাগের সমভূমি (Central Lowlands):

  • অবস্থান: পূর্বে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ এবং পশ্চিমে মালভূমির ঠিক মাঝখানে এই বিস্তীর্ণ নিচু সমভূমি অবস্থিত। এটি উত্তরে গালফ অফ কার্পেন্টারিয়া থেকে দক্ষিণে মারে-ডার্লিং অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
  • আয়ার হ্রদ: এই সমভূমির মধ্যভাগে রয়েছে আয়ার হ্রদ (Lake Eyre), যা অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন স্থান এবং বৃহত্তম লবণাক্ত জলের হ্রদ।
  • আর্টেজীয় কূপ (Artesian Basin): এই নিচু সমভূমি অঞ্চলে গ্রেট আর্টেজিয়ান বেসিন অবস্থিত। এখানকার পাথরের গঠন অনেকটা বাটির মতো, যেখানে দুটি অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের মাঝে একটি প্রবেশ্য শিলাস্তর অবস্থান করে। বৃষ্টির জল এই প্রবেশ্য স্তরে জমা হয়। সমভূমি অঞ্চলে গর্ত খুঁড়লে জলের প্রবল চাপে পাম্প ছাড়াই জল ফোয়ারার মতো বেরিয়ে আসে, একেই আর্টেজীয় কূপ বলে। এই জল এখানকার কৃষি ও পশুপালনে খুব সাহায্য করে।
3. মারে-ডার্লিং অববাহিকার (Murray-Darling Basin) নদী প্রণালী এবং জলবায়ুর বর্ণনা দাও।

নদী প্রণালী:

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মারে (Murray) এবং তার প্রধান উপনদী ডার্লিং (Darling) মিলে এই বিশাল অববাহিকা তৈরি করেছে। মারে নদী গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের মাউন্ট কসিয়াস্কো থেকে এবং ডার্লিং নদী উত্তরের নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জ থেকে উৎপন্ন হয়ে ওয়েন্টওয়ার্থ শহরের কাছে মারে নদীর সাথে মিলেছে। এরপর এরা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে এনকাউন্টার উপসাগরে পতিত হয়েছে। মুররুমবিজি (Murrumbidgee) হলো মারে নদীর আরেকটি বড়ো উপনদী।

জলবায়ু:

  • মারে-ডার্লিং অববাহিকাটি দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্য অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ ও মনোরম প্রকৃতির।
  • বৃষ্টিপাত: এই অঞ্চলটি গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে (Rain Shadow) অবস্থিত। তাই সমুদ্রের দিক থেকে আসা বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে পশ্চিম ঢালে (অববাহিকায়) বেশি বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না। এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত মাঝারি থেকে কম (২৫-৭৫ সেমি)। গ্রীষ্মকাল উষ্ম এবং শীতকাল বেশ শীতল হয়।
4. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কৃষিকাজের বিপুল উন্নতির কারণগুলি আলোচনা করো।

মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কৃষিকাজের উন্নতি:

বৃষ্টিপাত কম হওয়া সত্ত্বেও এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কৃষিজ অঞ্চল। এর উন্নতির কারণগুলি হলো:

  1. উর্বর সমভূমি: মারে ও ডার্লিং নদীর পলি সঞ্চিত হয়ে এই অববাহিকার মাটি অত্যন্ত উর্বর হয়েছে, যা কৃষিকাজের জন্য দারুণ উপযোগী।
  2. উন্নত জলসেচ: বৃষ্টি কম হলেও, নদীর জলকে আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাষের জমিতে কাজে লাগানো হয়। এছাড়া মাটির নীচের আর্টেজীয় কূপের জল সেচের কাজে অত্যন্ত সহায়ক।
  3. নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু: এখানকার মনোরম জলবায়ু গম (Wheat) চাষের জন্য আদর্শ। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে এখানে বিস্তীর্ণ জমিতে প্রচুর গম উৎপাদিত হয়।
  4. মিশ্র কৃষি ও ফলের বাগান: কৃষিজমির পাশাপাশি এখানে প্রচুর আপেল, আঙুর ও কমলালেবুর বাগান আছে। একই খামারে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষবাস ও পশুপালন (মিশ্র কৃষি) এখানকার কৃষিব্যবস্থাকে লাভজনক করেছে।
5. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় পশুপালন অত্যন্ত উন্নত কেন? মেরিনো ভেড়া ও জ্যাকারু সম্পর্কে কী জানো?

পশুপালনের উন্নতি:

মারে-ডার্লিং অববাহিকা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পশুপালন কেন্দ্র। এর কারণ হলো এখানকার ডাউনস (Downs) নামক নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি। এই বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের প্রান্তর ভেড়া ও গবাদি পশু পালনের জন্য অত্যন্ত আদর্শ।

মেরিনো (Merino) ভেড়া:

ডাউনস তৃণভূমিতে প্রচুর পরিমাণে মেরিনো জাতের ভেড়া পালন করা হয়। এই ভেড়ার লোম বা উল (Wool) অত্যন্ত সূক্ষ্ম, নরম এবং বিশ্ববিখ্যাত। উল এবং মাংস রপ্তানি করে অস্ট্রেলিয়া প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।

পশুখামার ও জ্যাকারু:

অস্ট্রেলিয়ায় পশুপালনের জন্য হাজার হাজার হেক্টর জমি জুড়ে বিশাল বিশাল খামার রয়েছে, যেগুলোকে 'শিপ স্টেশন' (Sheep Station) বলা হয়। এই খামারগুলোতে পশুদের যত্ন নেওয়া, উল কাটা ইত্যাদি কাজের জন্য দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করা হয়, যাদের স্থানীয় ভাষায় 'জ্যাকারু' (Jackaroos) বলা হয়।

6. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় গড়ে ওঠা প্রধান শিল্পগুলির পরিচয় দাও। খনিজ সম্পদ কম থাকা সত্ত্বেও এখানে শিল্পের বিকাশ ঘটল কীভাবে?

মারে-ডার্লিং অববাহিকায় শিল্প:

এই অববাহিকা খনিজ সম্পদে খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। কেবল ব্রোকেন হিল-এ রুপো ও সিসা এবং কোবার-এ তামা পাওয়া যায়। তাই এখানে লোহা-ইস্পাতের মতো ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটেনি।

তবে কৃষি ও পশুপালনে অত্যন্ত উন্নত হওয়ায়, কৃষি ও পশুজাত কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে এখানে শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে:

  1. পশম ও বস্ত্রবয়ন শিল্প: ডাউনস অঞ্চলের মেরিনো ভেড়ার উলকে কেন্দ্র করে উন্নত পশম শিল্প গড়ে উঠেছে।
  2. খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ময়দা শিল্প: প্রচুর গম উৎপাদনের কারণে ময়দা শিল্প এবং বেকারি শিল্পের বিকাশ হয়েছে।
  3. ডেয়ারি ও মাংস শিল্প: গবাদি পশু থেকে প্রাপ্ত দুধ ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ, মাখন ও পনির তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে।

অ্যাডিলেড এবং মিলডুরা হলো এখানকার প্রধান শিল্পকেন্দ্র ও বাণিজ্য শহর।

7. গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ (Great Barrier Reef) কী? এটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং এর গুরুত্ব কী?

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ:

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে, প্রশান্ত মহাসাগরের (কোরাল সি) বুকে অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর হলো গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। এটি প্রায় ২০০০ কিমি দীর্ঘ।

সৃষ্টির কারণ:

সমুদ্রে বসবাসকারী 'কোরাল' বা প্রবাল নামক এক প্রকার ক্ষুদ্র কিটের দেহাবশেষ বা চুনজাতীয় খোলস অগভীর সমুদ্রের তলদেশে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে স্তরে স্তরে জমা হয়ে এই বিশাল সামুদ্রিক প্রাচীরের সৃষ্টি করেছে।

গুরুত্ব:

  1. বাস্তুতন্ত্র: এটি সমুদ্রের এক বিশাল জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। এখানে হাজার হাজার প্রজাতির মাছ, কচ্ছপ এবং সামুদ্রিক প্রাণী বাস করে।
  2. পর্যটন শিল্প: এর অপূর্ব রঙিন সৌন্দর্য দেখতে সারা বিশ্ব থেকে প্রচুর মানুষ এখানে আসে (স্কুবা ডাইভিং), যা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে।
  3. প্রতিরক্ষা: এই প্রাচীর উপকূলকে সমুদ্রের প্রবল ঢেউ এবং সুনামির হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা করে।
8. অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী (Aborigines) এবং নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের (Maori) জীবনযাত্রা সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবোরিজিন (Aborigines):

অস্ট্রেলিয়ার মূল আদিবাসীদের অ্যাবোরিজিন বলা হয়। ইউরোপীয়রা আসার আগে এরা প্রকৃতির কোলে সরল জীবনযাপন করত। এরা মূলত শিকারি এবং সংগ্রাহক ছিল। শিকার করার জন্য তারা বুমেরাং (Boomerang) নামক এক বিশেষ ধরনের বাঁকানো কাঠের অস্ত্র ব্যবহার করত, যা ছুড়লে আবার শিকারির কাছে ফিরে আসে। এদের নিজস্ব শিল্পকলা এবং সংস্কৃতি অত্যন্ত প্রাচীন।

নিউজিল্যান্ডের মাওরি (Maori):

নিউজিল্যান্ডের আদিম অধিবাসীদের মাওরি বলা হয়। এরা মূলত পলিনেশিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেছিল। এরা শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী এবং সাহসী যোদ্ধা ছিল। এদের নিজস্ব ভাষা, উল্কি (Tattoo) আঁকার ঐতিহ্য এবং বিশেষ যুদ্ধনৃত্য (Haka) বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বর্তমানে উভয় আদিবাসী সম্প্রদায়ই আধুনিক সভ্যতার সাথে মিলেমিশে বাস করছে।

9. ওশিয়ানিয়া মহাদেশের অদ্ভুত ও অনন্য জীবজন্তুর পরিচয় দাও, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না।

ওশিয়ানিয়ার অনন্য জীবজন্তু:

ওশিয়ানিয়া মহাদেশ ভৌগোলিকভাবে পৃথিবীর অন্যান্য ভূখণ্ড থেকে বহুকাল ধরে বিচ্ছিন্ন থাকায় এখানকার প্রাণীজগত সম্পূর্ণ আলাদা ও বিচিত্র।

  1. মারসুপিয়াল (Marsupial): এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত প্রাণী হলো ক্যাঙারু (Kangaroo) এবং ওয়ালাবি, যাদের পেটের নীচে থলি থাকে। অপরিণত বাচ্চারা এই থলিতে থেকেই বড়ো হয়।
  2. প্লাটিপাস (Platypus): হংসচঞ্চু বা প্লাটিপাস হলো এমন এক অদ্ভুত স্তন্যপায়ী, যার হাঁসের মতো ঠোঁট আছে, এরা ডিম পাড়ে, কিন্তু বাচ্চারা মায়ের দুধ খায়।
  3. কোয়ালা (Koala): দেখতে ছোটো ভাল্লুকের মতো এই প্রাণীগুলো ইউক্যালিপটাস গাছে বাস করে এবং ওই গাছের পাতাই খায়।
  4. পাখি: এখানকার এমু (Emu) একটি বিশাল আকারের পাখি, যা উড়তে পারে না কিন্তু উটের মতো জোরে দৌড়ায়। নিউজিল্যান্ডের কিউই (Kiwi) পাখির কোনো ডানা নেই। এছাড়াও কুকাবুরা পাখি অদ্ভুত মানুষের হাসির মতো শব্দ করে।
10. অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার বন্টন অত্যন্ত অসম কেন? দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় কেন বেশি মানুষ বাস করে?

অসম জনসংখ্যার বন্টন:

গোটা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশটি বিশাল হলেও এর জনসংখ্যা মাত্র কয়েক কোটি এবং এই জনসংখ্যা মূলত উপকূলীয় অঞ্চলেই কেন্দ্রীভূত। ভেতরের অংশ প্রায় জনশূন্য।

দক্ষিণ-পূর্ব অংশে বেশি মানুষ বাস করার কারণ:

অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব অংশে (মারে-ডার্লিং অববাহিকা ও পূর্ব উপকূলে) বাস করে। এর কারণগুলি হলো:

  1. মনোরম জলবায়ু: এই অঞ্চলটি নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় জলবায়ু মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক।
  2. জলের প্রাচুর্য: মারে-ডার্লিং নদী থাকায় এখানে পানীয় জল এবং সেচের জলের কোনো অভাব নেই।
  3. উর্বর সমভূমি ও কৃষি: পলিগঠিত উর্বর সমভূমিতে গম চাষ এবং ডাউনস অঞ্চলে প্রচুর মেষপালন হয়, যা মানুষের জীবনজীবিকার প্রধান উৎস।
  4. শিল্প ও কর্মসংস্থান: কৃষিজ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে এখানে বহু শিল্প (দুগ্ধ, মাংস, পশম) গড়ে উঠেছে এবং সিডনি, মেলবোর্ন, অ্যাডিলেডের মতো বড়ো শহরগুলোতে কর্মসংস্থানের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

বিপরীতদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ও মধ্যভাগ চরম রুক্ষ মরুভূমি হওয়ায় সেখানে জনবসতি বিরল।

মনে রেখো! (Key Points)

১) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ: ওশিয়ানিয়া (১০ হাজারেরও বেশি দ্বীপ)।
২) বিচিত্র প্রাণী: ক্যাঙারু, প্লাটিপাস (ডিম পাড়ে কিন্তু দুধ খাওয়ায়), এমু, কিউই (ডানাহীন)।
৩) মারে-ডার্লিং অববাহিকা: অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম নদী প্রণালী এবং প্রধান কৃষি ও পশুপালন কেন্দ্র (ডাউনস তৃণভূমি ও মেরিনো ভেড়া)।
৪) মারিয়ানা খাত: পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত।

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড
Sponsored Links

Frequently Asked Questions - ওশিয়ানিয়া

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ওশিয়ানিয়াকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়: ১) অস্ট্রেলেশিয়া, ২) মেলানেশিয়া (কালো দ্বীপ), ৩) মাইক্রোনেশিয়া (ক্ষুদ্র দ্বীপ), এবং ৪) পলিনেশিয়া (বহু দ্বীপ)।

অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের সমভূমিতে (গ্রেট আর্টেজিয়ান বেসিন) মাটির নীচের শিলাস্তরের গঠন বাটির মতো হওয়ায়, সেখানে গর্ত খুঁড়লে জলের প্রবল চাপে পাম্প ছাড়াই জল ফোয়ারার মতো আপনা-আপনি বেরিয়ে আসে। একেই আর্টেজীয় কূপ বলে।

অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কম বৃষ্টিপাত এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর কারণে যে বিস্তীর্ণ, সবুজ নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমির সৃষ্টি হয়েছে, তাকেই 'ডাউনস' বলা হয়। এটি মেরিনো মেষপালনের জন্য আদর্শ।

প্লাটিপাস বা হংসচঞ্চু হলো অস্ট্রেলিয়ার একটি অদ্ভুত স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা পাখির মতো ডিম পাড়ে কিন্তু অন্যান্য স্তন্যপায়ীর মতো এদের বাচ্চারা মায়ের দুধ খেয়ে বাঁচে।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে প্রবাল কিটের মৃতদেহ জমে জমে তৈরি পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীরই হলো গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।