Chapter 4: চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ (Pressure Belts & Wind)
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 30 MCQ | 20 SAQ | 8 Broad Questions
নিয়ত বায়ু
মৌসুমি বায়ু
উপত্যকা বায়ু
স্থানীয় বায়ু
🌬️
আয়ন বায়ু
ক্রান্তীয় → নিরক্ষীয় | বাণিজ্য বায়ু
💨
পশ্চিমা বায়ু
৩৫°-৬০° অক্ষাংশ | Roaring Forties
🌊
মৌসুমি বায়ু
ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন | ভারতের জলবায়ু
🏔️
স্থানীয় বায়ু
লু, চিনুক, সিরক্কো
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
30 টি
1. নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর কোন ধরনের বায়ুচাপ বলয় অবস্থান করে?
ক) ক) উচ্চচাপ বলয়
খ) খ) নিম্নচাপ বলয়
গ) গ) স্বাভাবিক চাপ
ঘ) ঘ) পরিবর্তনশীল চাপ
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে (০°-৫° উত্তর ও দক্ষিণ) সারা বছর সূর্যের তাপ লম্বভাবে পড়ে। ফলে বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত ও প্রসারিত হয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, ভূপৃষ্ঠে ঘনত্ব কমে নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়। একে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় বা ডোলড্রামস বলে।
2. ক্রান্তীয় অঞ্চলে (৩০° উত্তর ও দক্ষিণ) কী ধরনের চাপ বলয় থাকে?
ক) ক) নিম্নচাপ বলয়
খ) খ) উচ্চচাপ বলয়
গ) গ) ঘূর্ণিঝড় বলয়
ঘ) ঘ) মেরু চাপ
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় অঞ্চলে (৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে) নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উপরে ওঠা উষ্ণ বায়ু শীতল ও ভারী হয়ে নীচে নেমে আসে (নিমজ্জন)। ফলে ভূপৃষ্ঠে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়। একে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় বা অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitudes) বলে।
3. আয়ন বায়ু কোন উচ্চচাপ বলয় থেকে কোন নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়?
ক) ক) মেরু উচ্চচাপ → নিরক্ষীয় নিম্নচাপ
খ) খ) ক্রান্তীয় উচ্চচাপ → নিরক্ষীয় নিম্নচাপ
গ) গ) ক্রান্তীয় উচ্চচাপ → মেরু নিম্নচাপ
ঘ) ঘ) নিরক্ষীয় → ক্রান্তীয়
ব্যাখ্যা: আয়ন বায়ু (Trade Wind) ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (৩০° উ/দ) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের (০°) দিকে সারা বছর ধরে প্রায় নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়। উভয় গোলার্ধে ৫° থেকে ২৫° অক্ষাংশের মধ্যে এই বায়ু প্রবাহিত হয়।
4. ফেরেলের সূত্র অনুসারে উত্তর গোলার্ধে আয়ন বায়ু কোন দিকে বেঁকে যায়?
ক) ক) বাঁ দিকে
খ) খ) ডান দিকে
গ) গ) সোজা
ঘ) ঘ) ওপরে
ব্যাখ্যা: ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে উত্তর গোলার্ধে বায়ু তার গতিপথ থেকে ডান দিকে বেঁকে যায়। তাই ক্রান্তীয় উচ্চচাপ থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপের দিকে সরাসরি না গিয়ে এই বায়ু ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু রূপে প্রবাহিত হয়।
5. দক্ষিণ গোলার্ধে আয়ন বায়ু কী নামে পরিচিত?
ক) ক) উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু
খ) খ) দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু
গ) গ) দক্ষিণ-পশ্চিম আয়ন বায়ু
ঘ) ঘ) উত্তর-পশ্চিম আয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ গোলার্ধে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ু বাঁ দিকে বেঁকে যায়, ফলে এটি দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু (South-East Trade Wind) নামে পরিচিত হয়।
6. আয়ন বায়ুর ইংরেজি নাম 'Trade Wind' কেন?
ক) ক) বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত হতো
খ) খ) পথ পরিবর্তন করে বলে
গ) গ) ট্রেড নামক বিজ্ঞানীর নামে
ঘ) ঘ) ত্রিভুজাকার পথে চলে বলে
ব্যাখ্যা: আয়ন বায়ুর ইংরেজি নাম Trade Wind। Trade শব্দটির আঞ্চলিক অর্থ 'বাণিজ্য'। আগেকার দিনে পাল তোলা জাহাজ এই বায়ু দ্বারা নির্দিষ্ট গতিপথে বাণিজ্য সামগ্রী নিয়ে চলাচল করত। তাই এই বায়ুর অপর নাম 'বাণিজ্য বায়ু'।
7. ITCZ (আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল) কী?
ক) ক) মেরু অঞ্চলের ঝড়
খ) খ) উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর মিলনস্থল
গ) গ) উচ্চচাপ অঞ্চল
ঘ) ঘ) মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা: উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলে এসে মিলিত হয়। এই মিলনস্থানকেই আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল বা ITCZ (Inter Tropical Convergence Zone) বলে। এই অঞ্চলের আরেক নাম নিরক্ষীয় শান্তবলয় (Doldrums)।
8. পশ্চিমা বায়ু কোন উচ্চচাপ বলয় থেকে কোন নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়?
ক) ক) মেরু → ক্রান্তীয়
খ) খ) ক্রান্তীয় → উপমেরু
গ) গ) নিরক্ষীয় → ক্রান্তীয়
ঘ) ঘ) উপমেরু → মেরু
ব্যাখ্যা: পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (৩০°-৩৫°) থেকে যথাক্রমে সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের (৬০°) দিকে প্রবাহিত হয়। পশ্চিম দিক থেকে আসার কারণেই এর নাম পশ্চিমা বায়ু। এটি ৩৫° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে প্রবাহিত হয়।
9. উত্তর গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ু ফেরেলের সূত্রে কী নামে পরিচিত?
ক) ক) উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু
খ) খ) দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু
গ) গ) উত্তর-পূর্ব পশ্চিমা বায়ু
ঘ) ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা: উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ থেকে উপমেরু নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হবার সময় ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ু ডান দিকে বেঁকে যায়, ফলে এর গতি হয় দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে। তাই একে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বলে।
10. উত্তর গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় কেমন?
ক) ক) বেশি
খ) খ) কম
গ) গ) সমান
ঘ) ঘ) কখনো বেশি কখনো কম
ব্যাখ্যা: উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি থাকায় পাহাড়-পর্বত, ঘরবাড়ি, গাছপালার বাধা পেয়ে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ কমে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় ঘর্ষণের প্রভাব কম বলে পশ্চিমা বায়ু অনেক বেশি জোরে (Roaring Forties) প্রবাহিত হয়।
11. মেরু বায়ু (Polar Wind) কী?
ক) ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলের বায়ু
খ) খ) মেরু উচ্চচাপ থেকে মেরুবৃত্ত নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত শীতল বায়ু
গ) গ) ক্রান্তীয় ঝড়
ঘ) ঘ) মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা: মেরু বায়ু (Polar Wind): দুই গোলার্ধে মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর ধরে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু রূপে ৭০°-৮০° অক্ষাংশের মধ্যে প্রবাহিত হয়।
12. মৌসুমি বায়ু (Monsoon) কাকে বলে?
ক) ক) সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত বায়ু
খ) খ) ঋতুভেদে দিক পরিবর্তনকারী বায়ু
গ) গ) পাহাড়ি বায়ু
ঘ) ঘ) সমুদ্রের ঝড়
ব্যাখ্যা: মৌসুমি বায়ু (Monsoon): বছরের নির্দিষ্ট ঋতুতে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে যে বায়ু নির্দিষ্ট দিক থেকে প্রবাহিত হয় এবং ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যার দিক সম্পূর্ণ বিপরীত হয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। এটি মূলত এক ধরনের সামুদ্রিক বায়ু।
13. গ্রীষ্মকালে ভারত মহাসাগর থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) শীতল ও শুষ্ক
খ) খ) উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পপূর্ণ
গ) গ) অত্যন্ত ঠান্ডা
ঘ) ঘ) ধূলিপূর্ণ
ব্যাখ্যা: গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি করে, আর জলভাগ অপেক্ষাকৃত উচ্চচাপযুক্ত থাকে। ফলে ভারত মহাসাগর থেকে উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু বা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে।
14. শীতকালীন মৌসুমি বায়ু কেন শুষ্ক ও বৃষ্টিপাতহীন হয়?
ক) ক) সমুদ্র থেকে আসে বলে
খ) খ) স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত বলে
গ) গ) খুব ঠান্ডা বলে
ঘ) ঘ) পাহাড়ি এলাকায় বলে
ব্যাখ্যা: শীতকালে স্থলভাগ তাড়াতাড়ি তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে, আর সমুদ্র উষ্ণ থাকে ও নিম্নচাপ সৃষ্টি করে। তাই স্থলভাগ থেকে শীতল ও শুষ্ক বাতাস সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি স্থল থেকে আসায় জলীয়বাষ্প নেয়নি, তাই বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না।
15. উপত্যকা বায়ু (Anabatic Wind) কাকে বলে?
ক) ক) পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে নামা বায়ু
খ) খ) পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে ওঠা উষ্ণ বায়ু
গ) গ) সমুদ্র থেকে আসা বায়ু
ঘ) ঘ) মরুভূমির বায়ু
ব্যাখ্যা: দিনের বেলা সূর্যের তাপে পাহাড়ের ঢালের ওপরের বায়ু উপত্যকার তুলনায় বেশি উষ্ণ ও হালকা হয়ে পাহাড়ের ঢাল বরাবর নীচে থেকে উপরের দিকে উঠতে থাকে। এই উষ্ণ বায়ুপ্রবাহকে উপত্যকা বায়ু বা অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind) বলে।
16. পর্বত বায়ু (Katabatic Wind) কী?
ক) ক) দিনের বেলা উপরে ওঠা বায়ু
খ) খ) রাতের বেলা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে নামা শীতল বায়ু
গ) গ) সমুদ্রের হাওয়া
ঘ) ঘ) মরুভূমির ঝড়
ব্যাখ্যা: রাতের বেলা তাড়াতাড়ি তাপ বিকিরণ করে পাহাড়ের ঢালের উপরিস্থিত বায়ু শীতল, ভারী হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। এই ভারী বায়ু ঢাল বরাবর ওপর থেকে নীচের দিকে নামতে শুরু করে এবং উপত্যকায় জমা হয়। এই শীতল বায়ুপ্রবাহকে পর্বত বায়ু বা ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind) বলে।
17. ভারতের স্থানীয় উষ্ণ বায়ু 'লু' (Loo) কখন প্রবাহিত হয়?
ক) ক) শীতকালে
খ) খ) বর্ষাকালে
গ) গ) গ্রীষ্মকালে
ঘ) ঘ) শরৎকালে
ব্যাখ্যা: লু (Loo) ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে (মে-জুন) প্রবাহিত এক প্রকার স্থানীয় উষ্ণ, শুষ্ক ও ধূলিপূর্ণ বায়ু। এটি দিনের বেলা পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় এবং তাপমাত্রা ৪৫°C পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। লু-তে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে।
18. স্থানীয় বায়ু কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) সারা পৃথিবীজুড়ে প্রবাহিত বায়ু
খ) খ) নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় কারণে প্রবাহিত বায়ু
গ) গ) শুধু সমুদ্রের ওপরের বায়ু
ঘ) ঘ) ঋতুভিত্তিক বায়ু
ব্যাখ্যা: স্থানীয় বায়ু (Local Wind): পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে স্থানীয় ভৌগোলিক কারণে (তাপমাত্রার পার্থক্য, ভূমিরূপ) যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় বায়ু বলে। যে অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়, সেখানকার স্থানীয় ভাষার নামে এটি পরিচিত। যেমন— ভারতের লু, রকি পর্বতের চিনুক।
19. চিনুক (Chinook) কোন অঞ্চলের স্থানীয় বায়ু?
ক) ক) ভারত
খ) খ) সাহারা মরুভূমি
গ) গ) রকি পর্বত অঞ্চল
ঘ) ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা: চিনুক (Chinook) উত্তর আমেরিকার রকি পর্বত অঞ্চলের পূর্ব ঢাল বেয়ে নীচে নামা এক প্রকার উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু। এটি শীতকালে তুষার দ্রুত গলিয়ে দেয় বলে একে 'Snow Eater' (তুষার ভক্ষক)-ও বলা হয়। আল্পস পর্বতে এর অনুরূপ বায়ু 'ফন' নামে পরিচিত।
20. ডাচ আবহবিজ্ঞানী বাইস ব্যালট কত সালে বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক উল্লেখ করেন?
ক) ক) ১৮২৭
খ) খ) ১৮৫৭
গ) গ) ১৯০১
ঘ) ঘ) ১৯১২
ব্যাখ্যা: ডাচ আবহবিজ্ঞানী বাইস ব্যালট (Buys Ballot) ১৮৫৭ সালে বায়ুচাপের পার্থক্য ও বায়ুপ্রবাহের মধ্যে সম্পর্ক উল্লেখ করেন। বাইস ব্যালট সূত্র অনুসারে উত্তর গোলার্ধে বায়ু যে দিক থেকে প্রবাহিত হয়, সে দিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে ডান দিকে উচ্চচাপ ও বাঁ দিকে নিম্নচাপ হয়।
21. ক্রান্তীয় অঞ্চলে মহাদেশের পশ্চিম দিকে কেন মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে?
ক) ক) শীতল স্রোতের জন্য
খ) খ) আয়ন বায়ুর প্রভাবে
গ) গ) পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে
ঘ) ঘ) বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায়
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় অঞ্চলে আয়ন বায়ু মহাদেশের পূর্ব উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটালেও পশ্চিম অংশে পৌঁছাতে পৌঁছাতে শুষ্ক হয়ে যায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে যাওয়ার সাথে সাথে এই বায়ুর উষ্ণতা বাড়ে এবং জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বেড়ে যায়, তাই পশ্চিমাংশে বৃষ্টিপাত হয় না— ফলে মরুভূমি সৃষ্টি হয়। যেমন— আফ্রিকার সাহারা ও কালাহারি মরুভূমি।
22. বায়ুচাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ৩০°-৪০° অক্ষাংশের জলবায়ু কেমন হয়?
ক) ক) সারাবছর বৃষ্টি
খ) খ) গ্রীষ্মে শুষ্ক ও শীতে বৃষ্টি (ভূমধ্যসাগরীয়)
গ) গ) সারাবছর শুষ্ক
ঘ) ঘ) সারাবছর তুষারপাত
ব্যাখ্যা: বায়ুচাপ বলয় সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সাথে ৫°-১০° করে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে ৩০°-৪০° অক্ষাংশের অঞ্চলগুলো গ্রীষ্মকালে আয়ন বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক এবং শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিযুক্ত থাকে। একে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু (Mediterranean Climate) বলে। পর্তুগাল, ইতালি, গ্রিস এ ধরনের।
23. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে শীতকালে কেন বৃষ্টিপাত হয়?
ক) ক) আয়ন বায়ুর জন্য
খ) খ) দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুর জন্য
গ) গ) মৌসুমি বায়ুর জন্য
ঘ) ঘ) মেরু বায়ুর জন্য
ব্যাখ্যা: শীতকালে সূর্যের দক্ষিণায়নের সময় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় দক্ষিণ দিকে সরে যায়। ফলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল (৩০°-৪০°) পশ্চিমা বায়ু বলয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু জলীয়বাষ্প নিয়ে এসে এই অঞ্চলে শীতকালে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত ঘটায়।
24. মেরু বায়ুর কারণে দুই গোলার্ধের মেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে কী ঘটে?
ক) ক) বৃষ্টিপাত
খ) খ) তুষারঝড়
গ) গ) খরা
ঘ) ঘ) উষ্ণ আবহাওয়া
ব্যাখ্যা: মেরু বায়ু অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক। দুই গোলার্ধে মেরু বায়ুর কারণে মেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে (৬০°-৭০°) মাঝে মাঝে তুষারঝড় (Blizzard) হয়। যেমন— রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চল। এছাড়াও এই অঞ্চলে শীতল মেরু বায়ু ও উষ্ণ পশ্চিমা বায়ুর মিলনে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।
25. কানাডার পূর্ব উপকূলে (নিউইয়র্ক) থেকে ইংল্যান্ডে (লন্ডন) বিমান যেতে কোন বায়ুর পথ অনুসরণ করবে?
ক) ক) আয়ন বায়ু
খ) খ) পশ্চিমা বায়ু
গ) গ) মেরু বায়ু
ঘ) ঘ) মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা: উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল (নিউইয়র্ক) থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ইংল্যান্ডে (লন্ডন) যেতে হলে বিমান পশ্চিমা বায়ুর পথ অনুসরণ করবে। এই বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়, যা আটলান্টিক পারাপারে বিমানকে গতি দেয় (Jet Stream সহায়ক)।
26. পৃথিবীর কোন অঞ্চলকে 'অশ্ব অক্ষাংশ' (Horse Latitudes) বলা হয়?
ক) ক) নিরক্ষীয়
খ) খ) ক্রান্তীয় (৩০°)
গ) গ) মেরুবৃত্ত (৬০°)
ঘ) ঘ) মেরু (৯০°)
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় অঞ্চলে (৩০°-৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ) বায়ুপ্রবাহ অত্যন্ত দুর্বল ও পরিবর্তনশীল। স্পেনীয় নাবিকরা ঘোড়া বোঝাই জাহাজ এখানে বায়ুর অভাবে আটকা পড়লে ঘোড়াগুলোকে সমুদ্রে ফেলে দিত। এই কারণে একে 'অশ্ব অক্ষাংশ' (Horse Latitudes) বলে।
27. সামুদ্রিক বায়ু ও স্থল বায়ুর মধ্যে পার্থক্যের মূল কারণ কী?
ক) ক) ভূ-আবর্তন
খ) খ) স্থল ও জলের তাপমাত্রার পার্থক্য
গ) গ) বায়ুচাপ বলয়
ঘ) ঘ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা: স্থলভাগ ও জলভাগের উত্তপ্ত হওয়া ও শীতল হওয়ার হারের পার্থক্যই (Differential Heating) সামুদ্রিক বায়ু (দিনে সমুদ্র→স্থল) ও স্থল বায়ুর (রাতে স্থল→সমুদ্র) মূল কারণ। একই নীতি বড়ো স্কেলে মৌসুমি বায়ুর জন্যেও প্রযোজ্য।
28. ভারতে শীতকালীন মৌসুমি বায়ুর গতিপথ কোন দিকে?
ক) ক) দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব
খ) খ) উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম
গ) গ) পশ্চিম-পূর্ব
ঘ) ঘ) উত্তর-দক্ষিণ
ব্যাখ্যা: শীতকালে স্থলভাগের উচ্চচাপ (হিমালয় ও মধ্য এশিয়া) থেকে ভারত মহাসাগরের নিম্নচাপের দিকে শীতল ও শুষ্ক বায়ু উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে। এটি মূলত করমণ্ডল উপকূলে সামান্য বৃষ্টি দেয়।
29. দক্ষিণ গোলার্ধে আয়ন বায়ুর গতিবেগ উত্তর গোলার্ধের তুলনায় কেমন?
ক) ক) কম
খ) খ) বেশি
গ) গ) সমান
ঘ) ঘ) অনিয়মিত
ব্যাখ্যা: উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি থাকার কারণে ঘর্ষণজনিত বাধা বেশি, তাই আয়ন বায়ুর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিমি। দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় ঘর্ষণ কম, তাই আয়ন বায়ুর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২২-৩০ কিমি— অনেক বেশি।
30. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় সূর্যের উত্তরায়ণে কোন দিকে সরে যায়?
ক) ক) উত্তর দিকে
খ) খ) দক্ষিণ দিকে
গ) গ) পূর্ব দিকে
ঘ) ঘ) পশ্চিম দিকে
ব্যাখ্যা: সূর্যের উত্তরায়ণের সময় (গ্রীষ্মকাল, কর্কটসংক্রান্তি ২১ জুন) কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়টি উত্তর দিকে সরে যায়। ফলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল গ্রীষ্মকালে আয়ন বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক থাকে। দক্ষিণায়নের সময় (শীতকাল) এই বলয় দক্ষিণ দিকে সরে যায়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
20 টি
1. বাইস ব্যালট সূত্র (Buys Ballot's Law) কী?
ডাচ আবহবিজ্ঞানী বাইস ব্যালট ১৮৫৭ সালে বায়ুচাপের পার্থক্য ও বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক উল্লেখ করেন। এই সূত্র অনুসারে, উত্তর গোলার্ধে বায়ু যে দিক থেকে প্রবাহিত হয়, সেই দিকে পিছন ফিরে দাঁড়ালে ডান দিকে বায়ুর উচ্চচাপ এবং বাঁ দিকে নিম্নচাপ অবস্থান করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এর বিপরীত— অর্থাৎ বাঁ দিকে উচ্চচাপ ও ডান দিকে নিম্নচাপ হয়।
2. নিয়ত বায়ু (Planetary Wind) কাকে বলে? কয় প্রকার ও কী কী?
নিয়ত বায়ু: সারাবছর ধরে নিয়মিতভাবে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে একই দিকে প্রায় একই গতিবেগে প্রবাহিত বায়ুকে নিয়ত বায়ু বা গ্রহ বায়ু বলে। নিয়ত বায়ু তিন প্রকার: (১) আয়ন বায়ু (Trade Wind): ক্রান্তীয় উচ্চচাপ → নিরক্ষীয় নিম্নচাপ, (২) পশ্চিমা বায়ু (Westerlies): ক্রান্তীয় উচ্চচাপ → উপমেরু নিম্নচাপ (৩৫°-৬০°), (৩) মেরু বায়ু (Polar Wind): মেরু উচ্চচাপ → মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ (৭০°-৮০°)।
3. আয়ন বায়ু (Trade Wind) কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
আয়ন বায়ু: ক্রান্তীয় ও মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে সারা বছর ধরে প্রায় নিয়মিতভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত বায়ু হল আয়ন বায়ু। বৈশিষ্ট্য: (১) উভয় গোলার্ধে ৫° থেকে ২৫° অক্ষাংশের মধ্যে প্রবাহিত, (২) উত্তর গোলার্ধে ফেরেলের সূত্রে ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু, দক্ষিণে বাঁ দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে পরিচিত, (৩) আগেকার দিনে জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত হতো বলে ইংরেজি নাম Trade Wind (বাণিজ্য বায়ু), (৪) দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগ বেশি থাকায় গতিবেগ বেশি (২২-৩০ কিমি/ঘণ্টা)।
4. পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য কী?
পশ্চিমা বায়ু: কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে যথাক্রমে সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত বায়ু হল পশ্চিমা বায়ু। পশ্চিম দিক থেকে চলাচল করায় এর নাম পশ্চিমা বায়ু। বৈশিষ্ট্য: (১) উভয় গোলার্ধে ৩৫° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে প্রবাহিত, (২) আয়ন বায়ুর তুলনায় কিছুটা অনিয়মিত, (৩) উত্তর গোলার্ধে ফেরেলের সূত্রে ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু, (৪) উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ বেশি থাকায় গতিবেগ কম, দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগে বাধাহীন বলে প্রচন্ড বেগে (Roaring Forties) প্রবাহিত হয়।
5. ITCZ বা আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল কী? এর অবস্থান কোথায়?
ITCZ (Inter Tropical Convergence Zone): উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলে এসে মিলিত হয়— এই মিলনস্থানকেই আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল বা ITCZ বলে। এর আরেক নাম নিরক্ষীয় শান্তবলয় (Doldrums)। অবস্থান: পৃথিবীর তিনটি অংশ জুড়ে এটি অবস্থান করে— (১) ভারত মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত (সবচেয়ে বড় অংশ), (২) আফ্রিকার পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরে, (৩) দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে। এখানে সূর্যের তাপে বায়ু সোজা উপরে উঠে যায় বলে বায়ুপ্রবাহ অনুভূমিকভাবে প্রায় থাকে না।
6. মেরু বায়ু (Polar Wind) সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
মেরু বায়ু (Polar Wind): দুই গোলার্ধে মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে শুষ্ক ও শীতল মেরু বায়ু মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর ধরে প্রবাহিত হয়। এটি অত্যন্ত ঠান্ডা (শীতল মেরু অঞ্চল থেকে আসে) এবং শুষ্ক। উত্তর গোলার্ধে ফেরেলের সূত্রে ডান দিকে বেঁকে এটি উত্তর-পূর্ব মেরু বায়ু নামে ৭০°-৮০° অক্ষাংশের মধ্যে প্রবাহিত হয়। মেরু বায়ুর কারণে মেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে মাঝে মাঝে তুষারঝড় (Blizzard) হয়, যেমন— রাশিয়ার সাইবেরিয়া।
7. মৌসুমি বায়ু (Monsoon) কী? গ্রীষ্ম ও শীতকালীন মৌসুমি বায়ুর পার্থক্য লেখো।
মৌসুমি বায়ু: বছরের নির্দিষ্ট ঋতুতে স্থলভাগ ও জলভাগের উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে নির্দিষ্ট দিক থেকে প্রবাহিত এবং ঋতু পরিবর্তনে দিক সম্পূর্ণ বিপরীত হয় যে বায়ু, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। পার্থক্য: গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি: স্থলভাগ উত্তপ্ত ও নিম্নচাপ → সমুদ্র থেকে স্থলে উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু → দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে → প্রচুর বৃষ্টিপাত। শীতকালীন মৌসুমি: স্থলভাগ শীতল ও উচ্চচাপ → স্থল থেকে সমুদ্রে শীতল ও শুষ্ক বায়ু → উত্তর-পূর্ব দিক থেকে → বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না।
8. উপত্যকা বায়ু (Anabatic Wind) ও পর্বত বায়ুর (Katabatic Wind) পার্থক্য কী?
উপত্যকা বায়ু (Anabatic Wind): দিনের বেলা পাহাড়ের ঢাল সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হয়ে উষ্ণ, হালকা বায়ু ঢাল বরাবর নীচে থেকে ওপরে উঠতে থাকে। উপত্যকায় তখন শীতল উচ্চচাপযুক্ত বায়ু অবস্থান করে। পর্বত বায়ু (Katabatic Wind): রাতের বেলা পাহাড়ের ঢাল দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল ও ভারী হয়, এই উচ্চচাপযুক্ত ভারী বায়ু ঢাল বরাবর ওপর থেকে নীচের দিকে নেমে আসে এবং উপত্যকায় জমা হয়। সংক্ষেপে: দিনে উপরে ওঠে (অ্যানাবেটিক), রাতে নীচে নামে (ক্যাটাবেটিক)।
9. স্থানীয় বায়ু (Local Wind) কী? উদাহরণ দাও।
স্থানীয় বায়ু (Local Wind): পৃথিবীর নানা অঞ্চলে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে স্থানীয় ভৌগোলিক কারণে (স্থল-জলের তাপমাত্রার পার্থক্য, ভূমিরূপ) যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় বায়ু বলে। যে অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়, সেখানকার স্থানীয় ভাষার কোনো নামে এই বায়ু পরিচিত। উদাহরণ: ভারতের উষ্ণ বায়ু 'লু' ও ধূলিঝড় 'আঁধি'; রকি পর্বত অঞ্চলের উষ্ণ বায়ু 'চিনুক'; ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের শীতল বায়ু 'বোরা'; লিবিয়া মরুভূমির উষ্ণ ও ধূলিপূর্ণ বায়ু 'সিরক্কো'।
10. ক্রান্তীয় অঞ্চলে মহাদেশের পশ্চিম দিকে মরুভূমি সৃষ্টির কারণ কী?
ক্রান্তীয় অঞ্চলে মহাদেশের পশ্চিম দিকে মরুভূমি সৃষ্টির কারণ আয়ন বায়ুর প্রভাব। দুই গোলার্ধের ক্রান্তীয় অঞ্চলের কম উষ্ণ স্থান থেকে তুলনায় বেশি উষ্ণ নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে আয়ন বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তার উষ্ণতা বেড়ে যায় এবং জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু জলীয়বাষ্প গ্রহণের উৎস থাকে না। ফলে এই বায়ু মহাদেশের পূর্ব উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটালেও পশ্চিমাংশে এসে একেবারেই শুষ্ক হয়ে বৃষ্টিপাতহীন থাকে। তাই পশ্চিমাংশে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে। যেমন— আফ্রিকার সাহারা (উত্তর গোলার্ধে) ও কালাহারি (দক্ষিণ গোলার্ধে)।
11. বায়ুচাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তন বলতে কী বোঝো? এর প্রভাব কী?
জলবিষুব (২১ মার্চ) ও মহাবিষুবের (২৩ সেপ্টেম্বর) দিন সূর্য নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়, তখন বায়ুচাপ বলয়গুলো তাদের নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। কিন্তু সূর্যের উত্তরায়ণে (২১ জুন, কর্কটক্রান্তি) এগুলো ৫° থেকে ১০° অক্ষাংশ পর্যন্ত উত্তর দিকে এবং দক্ষিণায়নে (২২ ডিসেম্বর, মকরক্রান্তি) দক্ষিণ দিকে সরে যায়। একে বায়ুচাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তন বলে। প্রভাব: ৩০°-৪০° অক্ষাংশের স্থানগুলো গ্রীষ্মকালে আয়ন বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক এবং শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিযুক্ত (ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু) হয়। পর্তুগাল, স্পেন, ইতালি, গ্রিস এ ধরনের।
12. উত্তর গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় কম কেন?
উত্তর গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় কম হওয়ার কারণ: (১) উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অনেক বেশি— পাহাড়-পর্বত, ঘরবাড়ি, গাছপালা প্রচুর বাধার সৃষ্টি করে, (২) এই বাধা পেরোতে ঘর্ষণজনিত কারণে বায়ুর গতিবেগ কমে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগের তুলনায় জলভাগ অনেক বেশি থাকায় ঘর্ষণের প্রভাব অত্যন্ত কম, তাই পশ্চিমা বায়ু বাধাহীনভাবে অত্যন্ত প্রবল বেগে (Roaring Forties, Furious Fifties) প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০°-৫০° অক্ষাংশ নাবিকদের কাছে 'Roaring Forties' নামে পরিচিত।
13. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গ্রীষ্মে শুষ্ক ও শীতে বৃষ্টিপাত হয় কেন?
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল (৩০°-৪০° অক্ষাংশ) বায়ুচাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তনের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত। গ্রীষ্মকালে (জুন-আগস্ট) সূর্যের উত্তরায়ণে কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় উত্তর দিকে সরে এলে, এই অঞ্চল ক্রান্তীয় উচ্চচাপের অধীনে আসে এবং স্থলভাগ থেকে আগত উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ুর প্রভাবে শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে। শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) সূর্যের দক্ষিণায়নে উচ্চচাপ বলয় দক্ষিণ দিকে সরে যায়, তখন এই অঞ্চল পশ্চিমা বায়ু বলয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। সমুদ্র থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে এসে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত ঘটায়।
14. পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহ পথে মহাদেশের পূর্ব ও মধ্য অংশে তৃণভূমি সৃষ্টি হয়েছে কেন?
শীতকালে জলভাগ স্থলভাগের তুলনায় বেশি উষ্ণ থাকে, ফলে জলীয়বাষ্পপূর্ণ পশ্চিমা বায়ু পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহের সময় মহাদেশের পশ্চিমাংশে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত ঘটায় (যেমন— ভূমধ্যসাগর উপকূল)। কিন্তু মহাদেশের পূর্বাংশের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে দীর্ঘ স্থলপথ অতিক্রম করায় এই বায়ুর জলীয়বাষ্প ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে, তাই মধ্য ও পূর্বাংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এসব অঞ্চলে তৃণভূমি (Steppe) সৃষ্টি হয়েছে। যেমন— মধ্য এশিয়ার স্তেপ তৃণভূমি অঞ্চল।
15. ভারতের 'লু' ও 'আঁধি' স্থানীয় বায়ু সম্পর্কে কী জানো?
লু (Loo): ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে (মে-জুন মাসে) পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত এক প্রকার উষ্ণ, শুষ্ক ও ধূলিপূর্ণ স্থানীয় বায়ু। দিনের বেলা এর তাপমাত্রা ৪৫°C ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে হিট স্ট্রোকের (লু লাগা) ঝুঁকি থাকে। আঁধি (Andhi): উত্তর ভারতের সমভূমিতে গ্রীষ্মকালের শেষে (প্রাক্-মৌসুমি) বিকেলের দিকে ধূলিঝড় সহ আকস্মিক যে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বয়, তাকে আঁধি বলে। এর ফলে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পায় এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টিও হতে পারে।
16. মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় বায়ুচাপ কম থাকার প্রভাব কী?
উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুচাপ কমে যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুচাপ ১০১৩.২৫ মিলিবার হলেও মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে (৮৮৪৮ মিটার) বায়ুচাপ মাত্র প্রায় ৩০০ মিলিবার— সমুদ্রপৃষ্ঠের এক-তৃতীয়াংশ। প্রভাব: (১) বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ এত কমে যায় যে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাই পর্বতারোহীরা অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, (২) বায়ুচাপ কমলে জলের স্ফুটনাঙ্ক ১০০°C থেকে ৭০°C-তে নেমে যায়, ফলে রান্না করতে প্রেসার কুকার লাগে, (৩) আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল ও তুষারঝড়প্রবণ হয়।
17. দক্ষিণ গোলার্ধে পশ্চিমা বায়ু কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয় এবং কী নামে পরিচিত?
দক্ষিণ গোলার্ধে মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী এটি বাঁ দিকে বেঁকে যায়। সুতরাং এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়, তাই একে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগ কম ও জলভাগ বেশি থাকায় এই বায়ুর গতিবেগ অত্যন্ত বেশি (Roaring Forties — ৪০° অক্ষাংশে গর্জনশীল চল্লিশা)।
18. শীতকালীন মৌসুমি বায়ু কীভাবে সৃষ্টি হয়?
শীতকালে (অক্টোবর-ফেব্রুয়ারি) সূর্যের দক্ষিণায়নের ফলে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগ (মধ্য এশিয়া, হিমালয়ের উত্তরে) দ্রুত তাপ বিকিরণ করে অত্যন্ত শীতল হয়ে পড়ে এবং সেখানে উচ্চচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ভারত মহাসাগরের জল স্থলভাগের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ থাকে, ফলে সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপের পার্থক্যের ফলে স্থলভাগের উচ্চচাপ থেকে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস সমুদ্রের দিকে (নিম্নচাপের দিকে) প্রবাহিত হয়— একেই শীতকালীন মৌসুমি বায়ু বা উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে। এটি শুষ্ক প্রকৃতির, তবে করমণ্ডল উপকূলে সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়।
19. পৃথিবীর কোন অঞ্চলকে 'নিরক্ষীয় শান্তবলয়' (Doldrums) বলা হয় ও কেন?
নিরক্ষীয় অঞ্চলকে (০°-৫° উত্তর ও দক্ষিণ) 'নিরক্ষীয় শান্তবলয়' বা ডোলড্রামস (Doldrums) বলা হয়। কারণ: (১) এখানে সারা বছর সূর্যের তীব্র তাপে বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে সরাসরি উপরে উঠে যায়, (২) এর ফলে বায়ুর কোনো অনুভূমিক প্রবাহ থাকে না এবং বাতাস একেবারে স্তব্ধ, শান্ত হয়ে থাকে, (৩) পাল তোলা জাহাজ বায়ুর অভাবে এখানে আটকা পড়ে যেত। এই কারণেই নাবিকরা এই অঞ্চলের নাম দিয়েছিল Doldrums (বিষণ্ণতা/অবসাদ)।
20. মেরু অঞ্চলের বায়ু শীতল হয় কেন?
মেরু বায়ু (Polar Wind) শীতল হওয়ার কারণ: (১) মেরু অঞ্চলে সারা বছর সূর্যের তাপ অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে, ফলে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হতে পারে না— সেখানে চিরস্থায়ী বরফের আস্তরণ থাকে, (২) এই অত্যন্ত শীতল স্থান থেকে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার ফলে উৎপত্তিস্থলের শীতলতা বজায় থাকে, (৩) পথিমধ্যে সূর্যের তাপ বায়ুকে তেমন উষ্ণ করতে পারে না— কারণ মেরু থেকে মেরুবৃত্তের দিকে চলার সময় সৌর তাপের পরিমাণ খুবই কম থাকে। তাই মেরু বায়ু অত্যন্ত শীতল।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
8 টি
1. পৃথিবীর প্রধান নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলি কী কী? প্রত্যেকটির উৎপত্তি, গতিপথ ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা করো।
নিয়ত বায়ু (Planetary Wind)
সারা বছর ধরে বায়ুচাপ বলয়ের প্রায় নির্দিষ্ট অবস্থানের কারণে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে একই দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত বায়ুকে নিয়ত বায়ু বলে। নিয়ত বায়ু তিন প্রকার—
১. আয়ন বায়ু (Trade Wind):
উৎপত্তি: ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (৩০°)-তে নিমজ্জিত ভারী বায়ু। গতিপথ: নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে (০°-৫°)। উত্তর গোলার্ধে ফেরেলের সূত্রে ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু, দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁ দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু। বৈশিষ্ট্য: ৫°-২৫° অক্ষাংশে প্রবাহিত, পূর্ব উপকূলে বৃষ্টি ও পশ্চিমে মরুভূমি সৃষ্টি করে, দক্ষিণ গোলার্ধে গতি বেশি (২২-৩০ কিমি/ঘণ্টা), জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত হতো বলে 'বাণিজ্য বায়ু' নামে পরিচিত।
২. পশ্চিমা বায়ু (Westerlies):
উৎপত্তি: ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় (৩০°-৩৫°) থেকে উপমেরু নিম্নচাপ বলয় (৬০°) পর্যন্ত। গতিপথ: পশ্চিম থেকে পূর্বে। উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু, দক্ষিণে বাঁ দিকে বেঁকে উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু। বৈশিষ্ট্য: ৩৫°-৬০° অক্ষাংশ, আয়নের তুলনায় অনিয়মিত, মহাদেশের পশ্চিমে বৃষ্টিপাত ও পূর্বে তৃণভূমি, দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবল বেগ 'Roaring Forties' নামে পরিচিত।
৩. মেরু বায়ু (Polar Wind):
উৎপত্তি: মেরু উচ্চচাপ বলয় (৯০°) থেকে। গতিপথ: মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের (৬০°) দিকে। বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত শীতল ও শুষ্ক, ৭০°-৮০° অক্ষাংশে প্রবাহিত, তুষারঝড় সৃষ্টি করে (সাইবেরিয়া)।
2. মৌসুমি বায়ু কী? মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি প্রক্রিয়া, প্রকারভেদ ও ভারতের জলবায়ুতে এর প্রভাব বিস্তারিত বর্ণনা করো।
মৌসুমি বায়ু (Monsoon)
ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থলভাগ ও জলভাগের উষ্ণতার তারতম্যের ফলে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যে বায়ু একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে প্রবাহিত হয় এবং ঋতু পরিবর্তনে যার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী প্রবাহ দেখা যায়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
সৃষ্টি প্রক্রিয়া:
- স্থলভাগ ও জলভাগের তাপ গ্রহণ ও বিকিরণের হারের পার্থক্যই মৌসুমি বায়ুর প্রধান কারণ (Differential Heating)।
- গ্রীষ্মে স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয় → নিম্নচাপ; সমুদ্র অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা → উচ্চচাপ। ফলে সমুদ্র থেকে স্থলে বায়ু প্রবাহিত।
- শীতকালে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয় → উচ্চচাপ; সমুদ্র উষ্ণ → নিম্নচাপ। ফলে স্থল থেকে সমুদ্রে বায়ু প্রবাহিত।
প্রকারভেদ:
গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি (জুন-সেপ্টেম্বর): দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে, উষ্ণ ও জলীয়বাষ্পপূর্ণ, ভারতে ৭০-৮০% বৃষ্টিপাত। শীতকালীন মৌসুমি (অক্টোবর-ফেব্রুয়ারি): উত্তর-পূর্ব দিক থেকে, শীতল ও শুষ্ক, করমণ্ডল উপকূলে সামান্য বৃষ্টি।
ভারতে প্রভাব:
মৌসুমি বায়ু ভারতের কৃষি, অর্থনীতি ও জীবনের প্রাণভোমরা। খরিফ ফসল (ধান, পাট) সম্পূর্ণ মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমির খামখেয়ালিপনায় খরা বা বন্যা হয়।
3. উপত্যকা বায়ু ও পর্বত বায়ু কী? এদের মধ্যে পার্থক্যগুলি লেখো। পাহাড়ি অঞ্চলের জনবসতিতে এর প্রভাব কী?
উপত্যকা বায়ু (Anabatic Wind)
দিনের বেলা সূর্যের তাপে পাহাড়ের ঢাল উত্তপ্ত হলে সেই ঢাল সংলগ্ন বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে পাহাড়ের ঢাল ধরে উপরের দিকে উঠতে থাকে। একে উপত্যকা বায়ু বলে। উপত্যকার নীচের অংশে শীতল বায়ু জমা থাকে, যা উচ্চচাপ সৃষ্টি করে।
পর্বত বায়ু (Katabatic Wind)
রাতের বেলা পাহাড়ের ঢাল দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়। ঢাল সংলগ্ন বায়ুও ঠান্ডা ও ভারী হয়ে ঢাল বেয়ে উপত্যকার নীচের দিকে নামতে শুরু করে। একে পর্বত বায়ু বলে।
পার্থক্য:
| বিষয় | উপত্যকা বায়ু (Anabatic) | পর্বত বায়ু (Katabatic) |
| সময় | দিনের বেলা | রাতের বেলা |
| গতিপথ | নীচ থেকে ওপরে (উপরে ওঠা) | ওপর থেকে নীচে (নীচে নামা) |
| তাপমাত্রা | উষ্ণ | শীতল |
| ঘনত্ব | হালকা, কম ঘনত্ব | ভারী, বেশি ঘনত্ব |
| উপত্যকায় চাপ | উচ্চচাপ (বায়ু জমে থাকে) | নিম্নচাপ (বায়ু উপরে চলে গেছে) |
জনবসতিতে প্রভাব:
রাতের শীতল পর্বত বায়ু উপত্যকার তলদেশে জমা হয়ে তাপমাত্রা খুব কমিয়ে দেয় (তুষার রেখা নেমে আসে)। কিন্তু পাহাড়ের মাঝামাঝি উচ্চতার ঢালে (থার্মাল বেল্ট) তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি আরামদায়ক থাকে। এই কারণে হিমাচল প্রদেশের কুলু ও কাংড়া উপত্যকার তলদেশের তুলনায় পাহাড়ের উঁচু ঢালে জনবসতি কিছুটা বেশি দেখা যায়।
4. বায়ুচাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তন কেন ঘটে? এর প্রভাবে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
বায়ুচাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তনের কারণ:
পৃথিবীর অক্ষরেখার সাথে সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি (উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ন) এবং সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তনই বায়ুচাপ বলয়ের অবস্থান পরিবর্তনের মূল কারণ। ২১ জুন (কর্কটসংক্রান্তি) সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে তাপীয় প্রভাবে বায়ুচাপ বলয়গুলো তাদের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে ৫°-১০° উত্তর দিকে সরে যায়। আবার ২২ ডিসেম্বর (মকরসংক্রান্তি) সূর্য মকরক্রান্তিতে লম্বভাবে কিরণ দিলে বলয়গুলো ৫°-১০° দক্ষিণ দিকে সরে যায়।
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে প্রভাব:
এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ৩০°-৪০° অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল (যেমন— ইতালি, গ্রিস, স্পেন, পর্তুগাল, ক্যালিফোর্নিয়া) বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়:
- গ্রীষ্মকাল (জুন-আগস্ট): উচ্চচাপ বলয় উত্তর দিকে সরে আসে → এই অঞ্চল ক্রান্তীয় উচ্চচাপ ও আয়ন বায়ুর প্রভাবে আসে → আবহাওয়া উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন।
- শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি): উচ্চচাপ বলয় দক্ষিণে সরে যায় → অঞ্চলটি পশ্চিমা বায়ু বলয়ের প্রভাবে আসে → সমুদ্র থেকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, আবহাওয়া শীতল ও আর্দ্র।
এই দ্বৈত চরিত্রই ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানকার শীতকালীন বৃষ্টি জলপাই, আঙুর, সাইট্রাস ফলের চাষের জন্য আদর্শ।
5. স্থানীয় বায়ু কাকে বলে? পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় বায়ুগুলির নাম, অঞ্চল ও বৈশিষ্ট্য তালিকাভুক্ত করো। ভারতের লু ও আঁধি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে লেখো।
স্থানীয় বায়ু (Local Wind)
পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো ক্ষুদ্র অঞ্চলে স্থানীয় ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য (ভূমিরূপ, স্থল-জলের বিন্যাস) ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় বায়ু বলে।
| স্থানীয় বায়ু | অঞ্চল | প্রকৃতি |
| লু (Loo) | ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল | গ্রীষ্মকালীন উষ্ণ, শুষ্ক, ধূলিপূর্ণ |
| আঁধি (Andhi) | উত্তর ভারত | গ্রীষ্মের শেষে ধূলিঝড় সহ আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া |
| চিনুক (Chinook) | রকি পর্বত (উত্তর আমেরিকা) | শীতকালে উষ্ণ (Snow Eater) |
| ফন (Foehn) | আল্পস পর্বত (ইউরোপ) | উষ্ণ ও শুষ্ক |
| সিরক্কো (Sirocco) | ভূমধ্যসাগর (সাহারা থেকে) | উষ্ণ, ধূলিপূর্ণ |
| বোরা (Bora) | অ্যাড্রিয়াটিক সাগর উপকূল | শীতল, শুষ্ক |
লু (Loo):
মে-জুন মাসে দিনের বেলায় ভারতের রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশে বয়। পশ্চিম থেকে পূর্বে বয়, তাপমাত্রা ৪৫°C ছাড়াতে পারে। হিট স্ট্রোকের (লু লাগা) বড় কারণ। কৃষ্ণফসল ও আম-কাঁঠালের মুকুল ঝলসে যায়।
আঁধি (Andhi):
মৌসুমি বায়ুর আগমনের ঠিক আগে গ্রীষ্মের শেষে (জুন) উত্তর ভারতের সমভূমিতে বিকেলের দিকে প্রচন্ড ধূলিঝড় ও বজ্রসহ হঠাৎ ঝড় বয়— যা তাপমাত্রা নামিয়ে দেয় এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি নিয়ে আসে।
6. ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে বায়ুপ্রবাহের ফলে ক্রান্তীয় অঞ্চলের মরুভূমি কীভাবে সৃষ্টি হয়? সাহারা ও কালাহারি মরুভূমির উদাহরণ দিয়ে আলোচনা করো।
মরুভূমি সৃষ্টির প্রক্রিয়া
ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে আয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়। এই আয়ন বায়ু অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণ (ক্রান্তীয়) অঞ্চল থেকে বেশি উষ্ণ (নিরক্ষীয়) অঞ্চলের দিকে যাওয়ার সময় ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। বায়ু উত্তপ্ত হলে তার জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা (Relative Humidity) বৃদ্ধি পায়, কিন্তু নতুন জলীয়বাষ্প গ্রহণের উৎস না থাকায় বায়ু ক্রমশ শুষ্ক হয়।
মহাদেশের পূর্ব উপকূলে সমুদ্র থেকে আর্দ্রতা নিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটালেও, মহাদেশের পশ্চিমাংশে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আয়ন বায়ু সম্পূর্ণ শুষ্ক হয়ে যায় → বৃষ্টিপাত হয় না → মরুভূমি সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ ক্রান্তীয় মরুভূমি মহাদেশের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত।
সাহারা মরুভূমি (উত্তর গোলার্ধ):
আফ্রিকা মহাদেশের উত্তরাংশে কর্কটক্রান্তির কাছে অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু লোহিত সাগর থেকে পূর্ব আফ্রিকায় কিছু বৃষ্টি দিলেও সাহারায় পৌঁছে সম্পূর্ণ শুষ্ক। শীতল ক্যানারি স্রোতও উপকূলে আর্দ্রতাকে বাধা দেয়।
কালাহারি মরুভূমি (দক্ষিণ গোলার্ধ):
আফ্রিকার দক্ষিণাংশে মকরক্রান্তি অঞ্চলে অবস্থিত। দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু পূর্ব উপকূলে (মোজাম্বিক) বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে শুষ্ক হয় এবং কালাহারি মরুভূমি সৃষ্টি করেছে। বেঙ্গুয়েলা শীতল স্রোতও একে শুষ্ক রাখতে সহায়তা করে।
7. পর্বতের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে বায়ুচাপ ও উষ্ণতার কী পরিবর্তন হয়? উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে রান্না করতে অসুবিধা ও শ্বাসকষ্ট কেন হয়— এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দাও।
উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুমন্ডলীয় চাপ এবং তাপমাত্রা উভয়ই হ্রাস পায়। সাধারণভাবে প্রতি ১১০ মিটার উচ্চতায় ১ সেমি পারদস্তম্ভ বা প্রায় ১০ মিটার উচ্চতায় ১ মিলিবার হারে বায়ুচাপ কমে। প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা গড়ে ৬.৫°C হারে কমে (Normal Lapse Rate)।
১. রান্নার অসুবিধা (জলের স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস):
জলের স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) নির্ভর করে বায়ুমন্ডলীয় চাপের ওপর। সমুদ্রপৃষ্ঠের স্বাভাবিক চাপে (১০১৩ mb) জল ১০০°C-তে ফোটে। পাহাড়ি অঞ্চলে বায়ুচাপ কমার সাথে সাথে জলের স্ফুটনাঙ্কও কমে যায়। মাউন্ট এভারেস্টের ৮৮৪৮ মিটার উচ্চতায় বায়ুচাপ প্রায় ৩০০ মিলিবার— সেখানে জল মাত্র ৭০°C-তেই ফুটতে শুরু করে। এই কম তাপমাত্রায় চাল-ডাল সঠিকভাবে সিদ্ধ হয় না। তাই পর্বতারোহীরা প্রেসার কুকার ব্যবহার করেন, যা কৃত্রিমভাবে উচ্চচাপ তৈরি করে স্ফুটনাঙ্ক বাড়িয়ে দেয়।
২. শ্বাসকষ্ট (অক্সিজেনের অভাব):
উচ্চতা বাড়লে বায়ুর ঘনত্ব কমে, ফলে বাতাসে অক্সিজেনের আংশিক চাপও কমে যায় (Hypoxia)। মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে অক্সিজেনের মাত্রা সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এই অবস্থায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং জীবন সংশয় দেখা দেয়। তাই পর্বতারোহীরা অক্সিজেন সিলিন্ডার সঙ্গে নিয়ে যান।
8. বায়ুপ্রবাহ ও জলবায়ুর সম্পর্ক আলোচনা করো। কোনো অঞ্চলের জলবায়ু কীভাবে বায়ুপ্রবাহের প্রকৃতি, দিক ও বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল?
বায়ুপ্রবাহ ও জলবায়ুর সম্পর্ক
যেকোনো অঞ্চলের জলবায়ুর প্রধান দুটি উপাদান— তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত— বহুলাংশে বায়ুপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। বায়ু যে দিক থেকে, যে প্রকৃতি নিয়ে আসে, সেই অঞ্চলের জলবায়ু তেমন হয়।
নির্দিষ্ট উদাহরণ:
- আয়ন বায়ু: মহাদেশের পূর্ব উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটায় → আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ু (ব্রাজিলের পূর্ব, অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব)। পশ্চিম উপকূলে শুষ্ক → মরুভূমি (সাহারা, কালাহারি, আতাকামা)।
- পশ্চিমা বায়ু: মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে সারা বছর বা শীতে বৃষ্টিপাত → পশ্চিম ইউরোপীয় (Cfb) বা ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু (Csa)। পূর্বাংশে বৃষ্টিহীন → তৃণভূমি (স্টেপ, প্রেইরি)।
- মৌসুমি বায়ু: গ্রীষ্মের আর্দ্র বায়ু → প্রচুর বৃষ্টি (Am/ Aw); শীতের শুষ্ক স্থলবায়ু → শুষ্ক শীত। ভারত, বাংলাদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
- স্থানীয় বায়ু: চিনুক/ফন → শীতপ্রধান অঞ্চলের তাপমাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, তুষার গলায়। লু → উষ্ণতর জনিত মরু আবহাওয়া।
- উচ্চতা: পাহাড়ের উচ্চ ঢালে অ্যানাবেটিক বায়ু তাপমাত্রা সহনশীল রাখে → বসবাস উপযোগী। উপত্যকায় ক্যাটাবেটিক বায়ু তাপমাত্রা কমায় → কুয়াশা ও তুষারঝুঁকি।
এছাড়াও বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে সমুদ্রের আর্দ্রতা, উষ্ণতা এবং ধূলিকণার স্থানান্তর আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে।
মনে রেখো!
নিয়ত বায়ু ৩ প্রকার: আয়ন (ক্রান্তীয়→নিরক্ষীয়), পশ্চিমা (ক্রান্তীয়→উপমেরু), মেরু (মেরু→মেরুবৃত্ত)। ফেরেলের সূত্র: উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে, দক্ষিণে বাঁ দিকে বেঁকে যায়। ITCZ: আয়ন বায়ুর মিলন = নিরক্ষীয় শান্তবলয়। মৌসুমি: গ্রীষ্মে সমুদ্র→স্থল (বৃষ্টি), শীতে স্থল→সমুদ্র (শুষ্ক)। দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ুর গতি বেশি— জলভাগ বেশি, ঘর্ষণ কম।
PDF ডাউনলোড
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।
PDF ডাউনলোড