Chapter 8: ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 40 MCQ | 30 SAQ | 10 Broad Questions
SAARC
১৯৮৫ সালে গঠিত, ৮টি সদস্য
মাউন্ট এভারেস্ট
নেপালের উচ্চতম শৃঙ্গ
ক্যারেজ প্রথা
পাকিস্তানের সুড়ঙ্গ সেচ ব্যবস্থা
শ্রীলঙ্কার চা
অর্থনীতির মূল ভিত্তি ও বিশ্ববিখ্যাত
একনজরে ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ
প্রতিবেশী দেশগুলির রাজধানী, প্রধান নদী, উচ্চতম শৃঙ্গ এবং ভাষার একটি নিখুঁত তালিকা
| দেশের নাম | রাজধানী | প্রধান নদী | উচ্চতম শৃঙ্গ | প্রধান ভাষা |
|---|---|---|---|---|
| নেপাল | কাঠমাণ্ডু | কালীগণ্ডকী | মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮.৮৬ মি) | নেপালি |
| ভুটান | থিম্পু | মানস | কুলাকাংড়ি (৭৫৫৩ মি) | জংখা |
| বাংলাদেশ | ঢাকা | মেঘনা | কেওক্রাডং (১২৩০ মি) | বাংলা |
| মায়ানমার | নেপাইদাউ | ইরাবতী | কাকাবোরাজি (৫৮৮১ মি) | বর্মি |
| শ্রীলঙ্কা | শ্রীজয়বর্ধনেপুরা কোট্টে | মহাবলী গঙ্গা | পেড্রোতালাগালা (২৫২৪ মি) | সিংহলি |
| পাকিস্তান | ইসলামাবাদ | সিন্ধু | তিরিচমির (৭৬৯০ মি) | উর্দু |
| আফগানিস্তান | কাবুল | হেলমন্দ | নোশাক (৭৪৯২ মি) | পশতু, দারি |
| চিন | বেজিং | ইয়াংসি | মাউন্ট এভারেস্ট (সীমান্তে) | ম্যান্ডারিন |
| মালদ্বীপ | মালে | (নদী নেই) | (উচ্চতা খুব কম) | দিভেহি |
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
40 টিSAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
30 টিকোনো দেশের সীমারেখা সংলগ্ন বা আশেপাশে অবস্থিত দেশগুলোকে সেই দেশের প্রতিবেশী দেশ (Neighboring Countries) বলা হয়। যেমন ভারতের আশেপাশে থাকা নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান হলো ভারতের প্রতিবেশী দেশ।
ভারতের মোট প্রতিবেশী দেশ ৯টি।
এর মধ্যে ৭টি স্থলবেষ্টিত দেশ হলো: নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, চিন, পাকিস্তান, ও আফগানিস্তান।
এবং ২টি দ্বীপরাষ্ট্র বা জলবেষ্টিত দেশ হলো: শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ।
ভারত একটি উপদ্বীপ। এর তিন দিকে জলভাগ রয়েছে:
- পূর্ব দিকে: বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)
- পশ্চিম দিকে: আরব সাগর (Arabian Sea)
- দক্ষিণ দিকে: ভারত মহাসাগর (Indian Ocean)
সার্ক (SAARC) হলো দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য গঠিত একটি আঞ্চলিক সংগঠন। ১৯৮৫ সালে এটি গঠিত হয়।
এর পুরো নাম: South Asian Association for Regional Cooperation.
সার্কের ৮টি সদস্য দেশ হলো: ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান (২০০৭ সালে যুক্ত হয়)।
এর সদর দপ্তর: নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত।
| সীমানা | দেশের নাম | সীমানার দৈর্ঘ্য (প্রায়) |
|---|---|---|
| দীর্ঘতম সীমানা | বাংলাদেশ | ৪০৯৬ কিমি |
| ক্ষুদ্রতম সীমানা | আফগানিস্তান | ১০৬ কিমি |
উচ্চতম শৃঙ্গ: মাউন্ট এভারেস্ট বা সাগরমাথা (৮৮৪৮.৮৬ মিটার)।
প্রধান নদী: কালীগণ্ডকী (এছাড়া বাগমতী, কোশী, কর্ণালী)।
ভুটানের রাজধানীর নাম থিম্পু (Thimphu)। এখানকার অধিবাসীদের প্রধান ভাষার নাম জংখা (Dzongkha)।
পক প্রণালী ভারতের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, যা ভারতকে শ্রীলঙ্কা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। পক প্রণালী এবং মান্নার উপসাগর ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঝে একটি জলসীমানা তৈরি করেছে।
প্রধান নদী: মেঘনা (পদ্মা, যমুনা অন্যান্য বড়ো নদী)।
উচ্চতম শৃঙ্গ: কেওক্রাডং (১২৩০ মিটার)।
পাকিস্তানের পশ্চিম ভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বেশ শুষ্ক। সেখানে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে যাতে জল শুকিয়ে না যায়, তার জন্য মাটির নীচে সুড়ঙ্গ কেটে কৃষিক্ষেত্রে জল নিয়ে যাওয়ার প্রথা প্রচলিত আছে। একেই ক্যারেজ প্রথা বলে।
প্রধান নদী: ইরাবতী (Irrawaddy)।
উচ্চতম শৃঙ্গ: কাকাবোরাজি (৫৮৮১ মিটার)।
মালদ্বীপের রাজধানীর নাম মালে (Male) এবং এখানকার প্রধান ভাষার নাম দিভেহি (Dhivehi)।
উচ্চতম শৃঙ্গ: নোশাক (Noshaq)।
রাজধানী: কাবুল (Kabul)।
রপ্তানি (ভারত যা পাঠায়): ইস্পাত, কয়লা, মোটরগাড়ি, যন্ত্রপাতি, ওষুধ, চিনি।
আমদানি (ভারত যা কেনে): কাঁচাপাট, চামড়া, ইলিশ মাছ, জামদানি শাড়ি, প্রাকৃতিক গ্যাস।
চিনের দীর্ঘতম এবং প্রধান নদীর নাম ইয়াংসি (Yangtze)। এটি এশিয়া মহাদেশেরও দীর্ঘতম নদী।
ভুটানের খরস্রোতা নদীর ওপর অবস্থিত 'চুখা' (Chukha) হলো একটি বিখ্যাত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রচুর জলবিদ্যুৎ ভুটান ভারতে রপ্তানি করে।
শ্রীলঙ্কার প্রধান কৃষিজ ফসল হলো চা, দারুচিনি, লবঙ্গ, নারকেল, রবার এবং ধান। শ্রীলঙ্কার চা তার স্বাদ ও গন্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।
ভারত নেপাল থেকে মূলত বড়ো এলাচ, বিভিন্ন ফল, জ্যাম, জেলি, পশম এবং পশমজাত দ্রব্য আমদানি করে।
মায়ানমার থেকে ভারত প্রধানত সেগুন কাঠ (Teak), মূল্যবান পাথর (রুবি), টিন, সিসা এবং রূপো আমদানি করে।
প্রধান নদী: সিন্ধু (Indus)।
রাজধানী: ইসলামাবাদ (Islamabad)।
নেপালের অধিবাসীদের প্রধান ভাষার নাম নেপালি (Nepali)।
পারস্পরিক শান্তি, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্যই প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ভারত তার প্রতিবেশী ভুটানকে পেট্রোপণ্য, কয়লা, ইস্পাত, রাসায়নিক সার, মোটরগাড়ি এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রপ্তানি করে।
উর্বর পলিমাটি ও পর্যাপ্ত জলের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। পাট, ধান, চা হলো এখানকার প্রধান কৃষিজ সম্পদ।
শ্রীলঙ্কার উচ্চতম শৃঙ্গের নাম পেড্রোতালাগালা বা পিদুরুতালাগালা (২৫২৪ মিটার)।
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ভারতের দুটি প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র হলো শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপ।
মায়ানমার জুড়েই রয়েছে অসংখ্য সুন্দর ও প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির, যেগুলোকে প্যাগোডা বলা হয়। প্যাগোডার আধিক্যের জন্যই মায়ানমারকে 'প্যাগোডার দেশ' বলা হয়।
রপ্তানি: লোহা ও ইস্পাত, ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য।
আমদানি: তুলো, চামড়া, শুকনো ফল (Dry fruits)।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং একে অপরের বিপদে সাহায্য করাই হলো সার্কের (SAARC) মূল উদ্দেশ্য।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
10 টিভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহের তালিকা (India's Neighboring Countries)
ভারতের ৯টি প্রতিবেশী দেশের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নীচের তালিকায় দেওয়া হলো:
| দেশের নাম | রাজধানী | প্রধান নদী | উচ্চতম শৃঙ্গ | প্রধান ভাষা |
|---|---|---|---|---|
| নেপাল | কাঠমাণ্ডু | কালীগণ্ডকী | মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮.৮৬ মি) | নেপালি |
| ভুটান | থিম্পু | মানস | কুলাকাংড়ি (৭৫৫৩ মি) | জংখা |
| বাংলাদেশ | ঢাকা | মেঘনা | কেওক্রাডং (১২৩০ মি) | বাংলা |
| মায়ানমার | নেপাইদাউ | ইরাবতী | কাকাবোরাজি (৫৮৮১ মি) | বর্মি |
| শ্রীলঙ্কা | শ্রীজয়বর্ধনেপুরা কোট্টে | মহাবলী গঙ্গা | পেড্রোতালাগালা (২৫২৪ মি) | সিংহলি |
| পাকিস্তান | ইসলামাবাদ | সিন্ধু | তিরিচমির (৭৬৯০ মি) | উর্দু |
| আফগানিস্তান | কাবুল | হেলমন্দ | নোশাক (৭৪৯২ মি) | পশতু, দারি |
| চিন | বেজিং | ইয়াংসি | মাউন্ট এভারেস্ট (সীমান্তে) | ম্যান্ডারিন |
| মালদ্বীপ | মালে | (নদী নেই) | (উচ্চতা খুব কম) | দিভেহি |
সার্ক (SAARC):
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ১৯৮৫ সালে South Asian Association for Regional Cooperation (SAARC) গঠিত হয়। এর সদর দপ্তর নেপালের কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত।
সদস্য দেশ (৮টি):
১) ভারত, ২) বাংলাদেশ, ৩) নেপাল, ৪) ভুটান, ৫) শ্রীলঙ্কা, ৬) পাকিস্তান, ৭) মালদ্বীপ এবং ৮) আফগানিস্তান।
সার্ক গঠনের মূল উদ্দেশ্য:
- দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা।
- পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়া বাড়ানো এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
- কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করা।
পাকিস্তানের কৃষিকাজের উন্নতির কারণ:
পাকিস্তানে গড় বৃষ্টিপাত খুব কম হলেও কৃষি ক্ষেত্রে দেশটি যথেষ্ট উন্নত। এর প্রধান কারণ হলো উন্নত জলসেচ ব্যবস্থা।
- সিন্ধু ও উপনদী: পাকিস্তানের প্রধান নদী সিন্ধু এবং তার ৫টি উপনদীর (শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা, ঝিলম) জলে বাঁধ দিয়ে বিশাল জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।
- খাল খনন: এই জলাধারগুলো থেকে অজস্র সেচ খাল (Canals) কাটা হয়েছে, যা সারা দেশে জলের জোগান দেয়। এই কারণেই পাকিস্তানকে 'খালের দেশ' বলা হয়। গম, ধান, তুলো, আখ হলো প্রধান ফসল।
ক্যারেজ প্রথা (Karez System):
পাকিস্তানের পশ্চিম ভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল চরম শুষ্ক। খোলা খালে জল নিয়ে গেলে অতিরিক্ত গরমে তা বাষ্প হয়ে উবে যায়। তাই বাষ্পীভবন রোধ করার জন্য মাটির নীচে সুড়ঙ্গ কেটে পাহাড়ের জল কৃষিক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার এক অভিনব প্রথা এখানে প্রচলিত আছে, একেই ক্যারেজ প্রথা বলে।
নেপালের অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্প (Tourism Industry):
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপাল পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর এবং উচ্চতম দেশ। এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিকাজ এবং পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
- নৈসর্গিক সৌন্দর্য: পৃথিবীর ১০টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে ৮টিই নেপালে অবস্থিত (মাউন্ট এভারেস্ট, অন্নপূর্ণা, ধবলগিরি ইত্যাদি)। এই সুউচ্চ বরফাবৃত শৃঙ্গ এবং সবুজ উপত্যকা দেখতে সারা বিশ্ব থেকে মানুষ ছুটে আসে।
- পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং: অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী মানুষজন পর্বতারোহণ (Mountaineering) এবং ট্রেকিংয়ের জন্য নেপালকে স্বর্গরাজ্য মনে করে। এর জন্য প্রচুর গাইড ও পোর্টার (শেরপা) কর্মসংস্থান পায়।
- ধর্মীয় স্থান: পশুপতিনাথ মন্দির এবং লুম্বিনী (গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান) দর্শন করতে অসংখ্য পুণ্যার্থী নেপালে আসেন।
এই পর্যটকদের থাকার জন্য হোটেল, যাতায়াতের জন্য ট্রান্সপোর্ট এবং হস্তশিল্প বিক্রির মাধ্যমে নেপাল প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা তাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক:
ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। স্থল ও জলপথে দুই দেশের মধ্যে প্রচুর পণ্য আদানপ্রদান হয়।
ভারত যা রপ্তানি করে (Bangladesh Imports from India):
- ভারী শিল্পজাত দ্রব্য যেমন— লোহা ও ইস্পাত, কয়লা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।
- যানবাহন (মোটরগাড়ি, ট্রাক, বাইক) ও তার যন্ত্রাংশ।
- রাসায়নিক দ্রব্য, সার, ওষুধ এবং চিনি।
ভারত যা আমদানি করে (Bangladesh Exports to India):
- বাংলাদেশ পাটে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, তাই ভারত প্রচুর পরিমাণে কাঁচাপাট ও পাটজাত দ্রব্য আমদানি করে।
- উচ্চমানের চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য।
- সুস্বাদু ইলিশ মাছ, জামদানি শাড়ি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস।
দুই দেশের এই বাণিজ্যের ফলে উভয় দেশের অর্থনীতিই সমৃদ্ধ হচ্ছে।
ভুটানের অর্থনীতি:
ভুটান একটি ছোট, পাহাড়ি এবং অরণ্য ঘেরা দেশ। এখানকার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় কৃষিকাজ বা ভারী শিল্প তেমন গড়ে ওঠেনি।
- জলবিদ্যুৎ: ভুটানের নদীগুলো অত্যন্ত খরস্রোতা। এই স্রোত কাজে লাগিয়ে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় (যেমন- চুখা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র)। এই জলবিদ্যুৎ বিক্রি করেই ভুটান সবচেয়ে বেশি আয় করে।
- হস্তশিল্প ও পর্যটন: পশমের তৈরি গরম পোশাক, কাঠের কাজ এবং পর্যটন শিল্প ভুটানের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।
ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক:
ভুটানের সবচেয়ে বড়ো বাণিজ্যিক অংশীদার হলো ভারত।
- ভারত আমদানি করে: জলবিদ্যুৎ, বড়ো এলাচ, পশম ও পশমজাত দ্রব্য, ফলের জ্যাম ও জেলি।
- ভারত রপ্তানি করে: পেট্রোপণ্য, মোটরগাড়ি, রাসায়নিক সার, পোশাক, কয়লা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী।
শ্রীলঙ্কার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি:
ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি মূলত কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
- চা ও মশলা: শ্রীলঙ্কার মধ্যভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর চা উৎপাদিত হয়, যা স্বাদে ও গন্ধে বিশ্ববিখ্যাত। এছাড়া দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচের মতো মশলার প্রচুর ফলন হয়।
- উপকূলীয় কৃষি: সমুদ্র উপকূলে প্রচুর নারকেল এবং রবারের চাষ হয়। এই সমস্ত কৃষিজ দ্রব্য রপ্তানি করে শ্রীলঙ্কা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা লাভ করে।
ভারতের সাথে বাণিজ্য:
- ভারত আমদানি করে: শ্রীলঙ্কা থেকে ভারত উৎকৃষ্ট মানের চা, দারুচিনি, লবঙ্গ, নারকেল, রবার এবং মূল্যবান খনিজ গ্রাফাইট আমদানি করে।
- ভারত রপ্তানি করে: ভারত শ্রীলঙ্কায় ইস্পাত, কয়লা, মোটরগাড়ি, ওষুধ, চিনি এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রপ্তানি করে।
মায়ানমারের প্রাকৃতিক সম্পদ:
ভারতের পূর্বদিকের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার বনজ এবং খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
- বনজ সম্পদ: মায়ানমারে বিস্তীর্ণ পর্ণমোচী অরণ্য রয়েছে। এখানকার সেগুন কাঠ (Teak wood) গুণমানে পৃথিবীর সেরা। এছাড়া প্যাডক, পিনকাডো কাঠ পাওয়া যায়।
- খনিজ সম্পদ: মায়ানমার মূল্যবান রত্নপাথরের খনি। এখানকার রুবি (Ruby) ও স্যাফায়ার পাথর বিশ্ববিখ্যাত। এছাড়া টিন, সিসা, রূপো প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
ভারতের সাথে বাণিজ্য:
- ভারত আমদানি করে: সেগুন কাঠ, মূল্যবান রত্নপাথর, টিন, সিসা, ডাল ও কৃষিজাত পণ্য।
- ভারত রপ্তানি করে: ইস্পাত, কয়লা, সুতিবস্ত্র, পাটজাত দ্রব্য, পরিবহনের সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক দ্রব্য।
প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা:
একটি দেশের উন্নতি ও শান্তির জন্য তার প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা অপরিহার্য। এর কারণগুলো হলো:
- শান্তি ও নিরাপত্তা: সীমান্তে উত্তেজনা ও যুদ্ধ এড়াতে প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক দরকার, যা দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখে।
- অর্থনৈতিক উন্নতি ও বাণিজ্য: প্রতিবেশী দেশের সাথে সহজে ও কম খরচে ব্যবসা-বাণিজ্য করা যায়। একে অপরের উদ্বৃত্ত পণ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়।
- সন্ত্রাসবাদ ও চোরাচালান দমন: প্রতিবেশীর সাহায্য ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদ এবং চোরাচালান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়।
- বিপদে সাহায্য: বন্যা, ভূমিকম্প বা সুনামির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রতিবেশী দেশই সবার আগে উদ্ধারকার্য ও ত্রাণ নিয়ে পাশে দাঁড়াতে পারে।
- সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান: প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের মিল থাকে। সুসম্পর্ক থাকলে পর্যটন ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।
সার্কভুক্ত দেশ ও রাজধানী:
১) ভারত (নয়াদিল্লি), ২) বাংলাদেশ (ঢাকা), ৩) নেপাল (কাঠমাণ্ডু), ৪) ভুটান (থিম্পু), ৫) শ্রীলঙ্কা (শ্রীজয়বর্ধনেপুরা কোট্টে), ৬) পাকিস্তান (ইসলামাবাদ), ৭) মালদ্বীপ (মালে), ৮) আফগানিস্তান (কাবুল)।
ভারত থেকে রপ্তানি বাণিজ্য (নেপাল ও ভুটান):
| প্রতিবেশী দেশ | ভারত থেকে রপ্তানিকৃত দ্রব্য (Exported from India) |
|---|---|
| নেপাল | পেট্রোপণ্য, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, তুলো, রাসায়নিক সার, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি। |
| ভুটান | পেট্রোপণ্য, কয়লা, ইস্পাত, মোটরগাড়ি, রাসায়নিক সার, প্লাস্টিক দ্রব্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। |
মনে রেখো! (Key Points)
১) SAARC (সার্ক): ১৯৮৫ সালে গঠিত। সদস্য ৮টি দেশ। সদর দপ্তর: কাঠমাণ্ডু।
২) দীর্ঘতম সীমানা: বাংলাদেশের সাথে (৪০৯৬ কিমি)। ক্ষুদ্রতম: আফগানিস্তানের সাথে (১০৬ কিমি)।
৩) ভুটানের চুখা: বিখ্যাত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
৪) মায়ানমার: প্যাগোডার দেশ এবং মূল্যবান রুবি ও সেগুন কাঠের জন্য বিখ্যাত।