Chapter 5: মেঘ-বৃষ্টি (Clouds & Rain)
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 29 MCQ | 18 SAQ | 7 Broad Questions
মেঘ
অধঃক্ষেপণ
বজ্রমেঘ
ঘূর্ণবৃষ্টি
☁️
মেঘ
স্ট্রাটাস | নিম্বোস্ট্রাটাস | কিউমুলোনিম্বাস
🌧️
পরিচলন বৃষ্টি
নিরক্ষীয় | দুপুরের ঝড়বৃষ্টি
⛰️
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
প্রতিবাত-অনুবাত | চেরাপুঞ্জি
🌀
ঘূর্ণবৃষ্টি
সাইক্লোন | নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণিঝড়
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
29 টি
1. বায়ুমন্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা ভূপৃষ্ঠে নেমে এলে তাকে কী বলে?
ক) ক) বাষ্পীভবন
খ) খ) অধঃক্ষেপণ
গ) গ) ঘনীভবন
ঘ) ঘ) ঊর্ধ্বপতন
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে বায়ুমন্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা (তরল বা কঠিন অবস্থায়) ভূপৃষ্ঠে নেমে এলে তাকে অধঃক্ষেপণ (Precipitation) বলে। বৃষ্টি, তুষার, শিলা, শিশির, কুয়াশা সবই অধঃক্ষেপণের বিভিন্ন রূপ।
2. সবচেয়ে পরিচিত অধঃক্ষেপণ কোনটি?
ক) ক) তুষারপাত
খ) খ) কুয়াশা
গ) গ) বৃষ্টিপাত
ঘ) ঘ) শিশির
ব্যাখ্যা: আমাদের সবচেয়ে পরিচিত অধঃক্ষেপণ হল বৃষ্টিপাত (Rainfall)। আকাশে ভেসে থাকা মেঘ মূলত ধূলিকণাকে আশ্রয় করে থাকা ছোটো ছোটো জলকণার সমষ্টি। মেঘের জলকণাগুলো বড়ো হলে ও ভারী হলে অভিকর্ষের টানে বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
3. স্ট্রাটাস মেঘের বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) গম্বুজের মতো ও বজ্রপাত হয়
খ) খ) সাদা-ধূসর, সারা আকাশ কুয়াশার মতো ঢেকে রাখে
গ) গ) খুব উঁচুতে পক্ষীর পালকের মতো
ঘ) ঘ) কালো ও বড় বৃদ্ধি হয়
ব্যাখ্যা: স্ট্রাটাস (Stratus): সাদা থেকে ধূসর রঙের এই মেঘ সারা আকাশকে কুয়াশার মতো ঢেকে রাখে। পাহাড়ের উঁচু অংশে এই মেঘ জমলে পর্বতারোহী ও বিমান চালকদের জন্য অসুবিধা হয়। এই মেঘে মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়।
4. নিম্বোস্ট্রাটাস মেঘ কেমন?
ক) ক) সাদা ও তুলতুলে
খ) খ) ঘন, পুরু, ধূসর থেকে কালো, একটানা বৃষ্টিপাত হয়
গ) গ) গম্বুজাকৃতির ও সাদা
ঘ) ঘ) খুব উঁচু বরফের মেঘ
ব্যাখ্যা: নিম্বোস্ট্রাটাস (Nimbostratus): ঘন, পুরু, ধূসর থেকে কালো রঙের এই মেঘ খারাপ আবহাওয়াকে নির্দেশ করে। এর কোনো নির্দিষ্ট আকার থাকে না, একটানা বৃষ্টিপাত হয়। স্ট্রাটাসের চেয়ে এটি বেশি ঘন ও বৃষ্টিপ্রবণ।
5. কিউমুলোনিম্বাস মেঘের অপর নাম কী?
ক) ক) পক্ষীর পালকের মেঘ
খ) খ) কুয়াশা মেঘ
গ) গ) বজ্রমেঘ (Thunder Cloud)
ঘ) ঘ) তুষার মেঘ
ব্যাখ্যা: কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘের অপর নাম বজ্রমেঘ (Thunder Cloud)। এটি গম্বুজের মতো দেখতে, সাদা-ধূসর ও কালো রঙের হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২,০০০ ফুট পর্যন্ত এর উল্লম্ব বিস্তার দেখা যায়। এই মেঘে বজ্রপাতসহ ভীষণ বড় বৃষ্টি ও অনেক সময় শিলাবৃষ্টি হয়।
6. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) কোথায় সবচেয়ে বেশি হয়?
ক) ক) মেরু অঞ্চলে
খ) খ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
গ) গ) ক্রান্তীয় মরুভূমিতে
ঘ) ঘ) পাহাড়ি অঞ্চলে
ব্যাখ্যা: পরিচলন বৃষ্টিপাত নিরক্ষীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হয়। এখানে সারা বছর সূর্যের তাপ লম্বভাবে পড়ে, ফলে জলভাগের বিস্তার বেশি বলে বাষ্পীভবনের পরিমাণ বেশি হয়। উষ্ণ ও হালকা বায়ু ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে দুপুরের পর বা বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।
7. পরিচলন বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
ক) ক) দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তীর্ণ
খ) খ) অল্প জায়গায় সীমাবদ্ধ ও ক্ষণস্থায়ী
গ) গ) সারা বছর হয় না
ঘ) ঘ) শুধু শীতকালে হয়
ব্যাখ্যা: পরিচলন বৃষ্টিপাত অল্প জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং ক্ষণস্থায়ী হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে এটি প্রায় সারা বছরই দুপুরের পর বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রচন্ড বেগে হয় এবং দ্রুত থেমে যায়। কঙ্গো বেসিন, আমাজন বেসিন, ইন্দোনেশিয়ায় এই বৃষ্টি বেশি হয়।
8. পরিচলন বৃষ্টিপাতের ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে কী সৃষ্টি হয়েছে?
ক) ক) মরুভূমি
খ) খ) তৃণভূমি
গ) গ) চিরহরিৎ ঘন অরণ্য
ঘ) ঘ) তুন্দ্রা
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রচুর পরিমাণে পরিচলন বৃষ্টিপাতের কারণেই চিরহরিৎ ঘন অরণ্য (Tropical Rainforest) সৃষ্টি হয়েছে। যেমন— আমাজন (দক্ষিণ আমেরিকা), কঙ্গো (আফ্রিকা), ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার অরণ্য।
9. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) কীভাবে হয়?
ক) ক) বায়ু গরম হয়ে উপরে ওঠে
খ) খ) সমুদ্র থেকে আসা বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে উপরে ওঠে
গ) গ) ঘূর্ণিঝড়ের কারণে
ঘ) ঘ) দুটি বায়ুর মিলনে
ব্যাখ্যা: সমুদ্রের দিক থেকে আসা জলীয়বাষ্পযুক্ত আর্দ্র বায়ু প্রবাহ পথে কোনো পর্বত বা উচ্চভূমি অবস্থান করলে, বায়ু পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে বাধ্য হয়। ঊর্ধ্বগামী এই বায়ু ক্রমশ প্রসারিত ও শীতল হয়, সম্পৃক্ত হয় এবং ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। একে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) বলে।
10. পর্বতের যে ঢাল বরাবর বায়ু ওপরে ওঠে ও বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে কী বলে?
ক) ক) অনুবাত ঢাল
খ) খ) প্রতিবাত ঢাল
গ) গ) বৃষ্টিচ্ছায় ঢাল
ঘ) ঘ) খাড়া ঢাল
ব্যাখ্যা: পর্বতের যে ঢাল বরাবর আর্দ্র বায়ু ওপরে ওঠে এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে প্রতিবাত ঢাল (Windward Slope) বলে। এর বিপরীতে, যে ঢাল দিয়ে শুষ্ক বায়ু নীচে নেমে আসে, তাকে অনুবাত ঢাল (Leeward Slope) বলে। অনুবাত ঢাল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow Region) নামে পরিচিত।
11. অনুবাত ঢালে বৃষ্টিপাত কম হয় কেন?
ক) ক) বায়ু গরম হয়ে যায়
খ) খ) প্রতিবাত ঢালে জলীয়বাষ্প হারিয়ে বায়ু শুষ্ক হয় এবং নীচে নামলে উষ্ণ হয়ে অসম্পৃক্ত হয়
গ) গ) মেঘ তৈরি হয় না
ঘ) ঘ) বাতাসের চাপ বেশি
ব্যাখ্যা: প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর বায়ু শুষ্ক হয়ে পড়ে। উপরন্তু বায়ু যত অনুবাত ঢাল দিয়ে নীচের দিকে নামতে শুরু করে, বায়ুর উষ্ণতা তত বাড়তে থাকে। উষ্ণতা বাড়ায় বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় → বায়ু অসম্পৃক্ত হয়ে পড়ে → বৃষ্টিপাত হয় না। তাই অনুবাত ঢাল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।
12. চেরাপুঞ্জি ও শিলং-এর মধ্যে বৃষ্টিপাতের এত তারতম্য কেন?
ক) ক) দূরত্বের কারণে
খ) খ) চেরাপুঞ্জি প্রতিবাত ঢালে ও শিলং অনুবাত ঢালে অবস্থিত
গ) গ) উচ্চতার জন্য
ঘ) ঘ) মাটির ভিন্নতায়
ব্যাখ্যা: মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে অবস্থিত চেরাপুঞ্জি প্রতিবাত ঢালে, আর উত্তর ঢালে অবস্থিত শিলং অনুবাত ঢালে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয়বাষ্প নিয়ে প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টি ঘটায় (চেরাপুঞ্জির বার্ষিক গড় ১১,৭৭৭ মিমি)। অনুবাত ঢালের শিলং-এ বৃষ্টি মাত্র ২,২০৭ মিমি। দূরত্ব মাত্র ৫৬ কিমি হলেও ঢালের অবস্থানই এই তারতম্যের মূল কারণ।
13. পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টি ও পূর্ব ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কেন?
ক) ক) পশ্চিমঘাট বেশি উঁচু
খ) খ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিম ঢালে বাধা পায়
গ) গ) পূর্ব ঢালে নদী নেই
ঘ) ঘ) সমুদ্র দূরে
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে পর্বতের পশ্চিম ঢালে (প্রতিবাত ঢাল) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। কিন্তু পর্বতের পূর্ব ঢালে (অনুবাত ঢাল) অবস্থিত দাক্ষিণাত্য মালভূমির অংশ বিশেষে বায়ু শুষ্ক হয়ে যায়, ফলে বৃষ্টিপাত কম হয়— এই অঞ্চল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow) নামে পরিচিত।
14. ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic Rainfall) কী?
ক) ক) পাহাড়ের বৃষ্টি
খ) খ) ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে নিম্নচাপে বায়ু কুন্ডলাকারে ছুটে এসে উপরে ওঠায় সৃষ্ট বৃষ্টি
গ) গ) গ্রীষ্মের বৃষ্টি
ঘ) ঘ) শীতকালীন গুঁড়ি গুঁড়ি
ব্যাখ্যা: কোনো স্থানে তীব্র নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল গতিতে কুন্ডলাকারে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। কেন্দ্রে এই বায়ু উষ্ণ হয়ে ঘুরতে ঘুরতে ওপরে ওঠে, শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটায়— একে ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic Rainfall) বলে।
15. ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের শান্ত অংশকে কী বলা হয়?
ক) ক) কেন্দ্রবিন্দু
খ) খ) টোকো/চক্ষু (Eye of Cyclone)
গ) গ) নিম্নচাপ
ঘ) ঘ) অভিসরণ
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের একেবারে কেন্দ্রে বায়ুর চাপ সবচেয়ে কম থাকে এবং এই অঞ্চলে আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া শান্ত থাকে। এই কেন্দ্রস্থলকে ঘূর্ণিঝড়ের টোকো বা চক্ষু (Eye of Cyclone) বলে। চক্ষুর চারিদিকে সবচেয়ে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টি হয় (Eye Wall)।
16. ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় কখন ও কোথায় বেশি শক্তিশালী হয়?
ক) ক) স্থলভাগে, গ্রীষ্মকালে
খ) খ) জলভাগের ওপর, শীতকালে
গ) গ) জলভাগের ওপর, শরৎকালে
ঘ) ঘ) পাহাড়ে, বর্ষাকালে
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সাধারণত ৫°-২০° অক্ষাংশের মধ্যে উৎপন্ন হয় এবং জলভাগের ওপর বেশি শক্তিশালী হয়, স্থলভাগে এসে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। সাধারণত শরৎকালে (অক্টোবর-নভেম্বর) বঙ্গোপসাগরে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। যেমন— আয়লা (২০০৯), ফণী (২০১৯), আমফান (২০২০), ইয়াস (২০২১)।
17. বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত?
ক) ক) টাইফুন
খ) খ) হ্যারিকেন
গ) গ) সাইক্লোন
ঘ) ঘ) টর্নেডো
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে পরিচিত: বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে 'সাইক্লোন' (Cyclone), প্রশান্ত মহাসাগরে 'টাইফুন' (Typhoon), ক্যারিবিয়ান সাগর ও আটলান্টিকে 'হ্যারিকেন' (Hurricane), এবং পূর্ব চীন সাগরে 'টাইফুন' নামে পরিচিত।
18. নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবৃষ্টি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) ক) একটি মাত্র বায়ুর প্রভাবে
খ) খ) উষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিলনে
গ) গ) পাহাড়ের কারণে
ঘ) ঘ) সমুদ্রস্রোতে
ব্যাখ্যা: নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে কোনো স্থানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বায়ু এবং মেরু অঞ্চলের শীতল শুষ্ক বায়ু এই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। উভয় বায়ু পরস্পর মুখোমুখি হলে উষ্ণ বায়ু হালকা হওয়ায় শীতল বায়ুর ওপর ধীরে ধীরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
19. নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবৃষ্টির বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) অল্পক্ষণের জন্য ও অল্প জায়গায় হয়
খ) খ) বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি হয় না, দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে
গ) গ) শুধু গ্রীষ্মে হয়
ঘ) ঘ) বজ্রবিদ্যুৎসহ হয়
ব্যাখ্যা: নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হলো— এই বৃষ্টি বড় বড় ফোঁটায় হয় না, বিরতিহীনভাবে অনেকক্ষণ ধরে চলে এবং মাঝারি থেকে হালকা প্রকৃতির হয়। মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে শীতকালে এই ঘূর্ণবৃষ্টি হতে দেখা যায়।
20. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বলতে কী বোঝো?
ক) ক) বাতাসে জলীয়বাষ্পের মোট পরিমাণ
খ) খ) নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প ও সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয়বাষ্পের অনুপাত
গ) গ) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ
ঘ) ঘ) বাষ্পীভবনের হার
ব্যাখ্যা: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বাতাসে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং সেই উষ্ণতায় বাতাসকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন— এই দুইয়ের অনুপাতই হলো আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity)। এটি শতাংশে প্রকাশ করা হয়। ১০০% আপেক্ষিক আর্দ্রতা মানে বাতাস সম্পৃক্ত— অর্থাৎ আর জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না।
21. বৃষ্টিপাতের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি প্রক্রিয়া কী কী?
ক) ক) তাপ ও চাপ
খ) খ) বাতাসের শীতল হওয়া ও বাতাসে জলীয়বাষ্প যুক্ত হওয়া
গ) গ) বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত
ঘ) ঘ) উচ্চতা ও ঢাল
ব্যাখ্যা: বৃষ্টিপাতের জন্য দুটি প্রক্রিয়া একসাথে কাজ করে: (১) বাতাসের শীতল হওয়া— যাতে বাতাসের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা কমে, (২) বাতাসে জলীয়বাষ্প যুক্ত হওয়া— যাতে বাতাস সম্পৃক্ত হয়। এই দুই শর্ত পূরণ হলেই ঘনীভবন ঘটে এবং বৃষ্টিপাত সম্ভব হয়।
22. কিউমুলোনিম্বাস মেঘের ওপরদিক ও তলদেশ কেমন?
ক) ক) ওপরদিক গোল ও তলদেশ চ্যাপ্টা
খ) খ) ওপরদিক চ্যাপ্টা ও তলদেশ প্রায় সমতল
গ) গ) পুরোটাই গোলাকার
ঘ) ঘ) পুরোটাই ঢেউ খেলানো
ব্যাখ্যা: কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘের ওপরদিক চ্যাপ্টা (অ্যাভিল আকৃতির) এবং তলদেশ প্রায় সমতল। সাধারণত ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর থেকে প্রায় ১২,০০০ ফুট পর্যন্ত এই মেঘের উল্লম্ব বিস্তার দেখা যায়। এটি বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির জন্য দায়ী।
23. মেঘ কী?
ক) ক) ধূলিকণা
খ) খ) ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম জলকণার সমষ্টি
গ) গ) বাষ্প
ঘ) ঘ) বরফখন্ড
ব্যাখ্যা: মেঘ (Cloud) বাস্তবে ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ভেসে থাকা অসংখ্য অতি সূক্ষ্ম জলকণার সমষ্টি। এই জলকণাগুলো এতই ছোটো যে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। এগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে বড়ো জলকণায় পরিণত হলে তা ভারী হয়ে বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
24. পরিচলন বৃষ্টিপাতের সময় বায়ু কোন প্রক্রিয়ায় শীতল হয়?
ক) ক) ভূমির সংস্পর্শে
খ) খ) প্রসারণের (Adiabatic) মাধ্যমে
গ) গ) বরফের সংস্পর্শে
ঘ) ঘ) সমুদ্রের জলে
ব্যাখ্যা: পরিচলন বৃষ্টিপাতের সময় উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠতে থাকে। উপরে উঠে বায়ুর ওপর চাপ কমায় বায়ু প্রসারিত হয় (Adiabatic Expansion)। প্রসারণের জন্য বায়ুকে নিজের তাপ ব্যয় করতে হয়, ফলে বায়ু শীতল হয় এবং ঘনীভবনের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
25. দাক্ষিণাত্যের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টির কারণ কোন পর্বত?
ক) ক) হিমালয়
খ) খ) পশ্চিমঘাট
গ) গ) পূর্বঘাট
ঘ) ঘ) বিন্ধ্য
ব্যাখ্যা: পশ্চিমঘাট পর্বতের অনুবাত ঢালে দাক্ষিণাত্য মালভূমির উল্লেখযোগ্য অংশ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow Region) হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাটের প্রতিবাত ঢালে (পশ্চিম উপকূলে) প্রচুর বৃষ্টি ঘটানোর পর পূর্ব দিকে (অনুবাতে) শুষ্ক হয়ে যায়।
26. নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত দিনের কোন সময় হয়?
ক) ক) সকালে
খ) খ) দুপুরের পর বা বিকেলে
গ) গ) রাতে
ঘ) ঘ) গভীর রাতে
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সকাল থেকে সূর্যের তাপে জলভাগ থেকে প্রচুর বাষ্পীভবন হয় এবং মধ্যাহ্নের পর বায়ু সর্বোচ্চ উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। ফলে দুপুরের পর বা বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টিকে 'চারটের বৃষ্টি' (4 o'clock rain)-ও বলা হয়।
27. ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের গঠন ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত কী?
ক) ক) ঠান্ডা সমুদ্রপৃষ্ঠ
খ) খ) উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ (২৭°C-এর বেশি)
গ) গ) পর্বতের উপস্থিতি
ঘ) ঘ) স্থলভাগ
ব্যাখ্যা: ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৭°C বা তার বেশি হওয়া প্রয়োজন। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প উপরে উঠে ঘনীভূত হওয়ার সময় লীন তাপ (Latent Heat) নির্গত করে, যা ঘূর্ণিঝড়কে শক্তি জোগায়। স্থলভাগের ওপর এলে জলীয়বাষ্পের অভাবে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে।
28. 'Troposphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?
ক) ক) সমতাপমন্ডল
খ) খ) ক্ষুব্ধমন্ডল
গ) গ) আয়নমন্ডল
ঘ) ঘ) বহির্মন্ডল
ব্যাখ্যা: বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরটি হলো ক্ষুব্ধমন্ডল (Troposphere)। এই স্তরেই মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রপাত— সমস্ত আবহাওয়াগত ঘটনা ঘটে। বিষুবীয় অঞ্চলে এটি প্রায় ১৮ কিমি এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
29. 'শৈল' শব্দের অর্থ কী? 'শৈলোৎক্ষেপ' বলতে কী বোঝো?
ক) ক) নদী থেকে ওঠা
খ) খ) পর্বত দ্বারা উৎক্ষিপ্ত বা উপরে ওঠা
গ) গ) সমুদ্র থেকে ওঠা
ঘ) ঘ) মরুভূমি থেকে ওঠা
ব্যাখ্যা: 'শৈল' শব্দের অর্থ হলো পর্বত। আর 'উৎক্ষেপ' মানে ওপরে ওঠা। পর্বত দ্বারা বাধা পেয়ে আর্দ্র বায়ু যখন উৎক্ষিপ্ত (উপরে ওঠে) হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তখন তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) বলা হয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
18 টি
1. অধঃক্ষেপণ (Precipitation) কাকে বলে? এর কয়েকটি রূপের নাম লেখো।
অধঃক্ষেপণ (Precipitation): পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে বায়ুমন্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা (তরল বা কঠিন অবস্থায়) ভূপৃষ্ঠে নেমে আসার প্রক্রিয়াকে অধঃক্ষেপণ বলে। রূপ: (১) বৃষ্টিপাত (Rainfall)— তরল জলবিন্দু, (২) তুষারপাত (Snowfall)— কঠিন বরফকণা, (৩) শিলাবৃষ্টি (Hail)— বড় বরফের টুকরো, (৪) শিশির (Dew)— রাতে ঘাসের ওপর জলকণা, (৫) কুয়াশা (Fog)— ভাসমান জলকণা। বৃষ্টিপাত হল সবচেয়ে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ অধঃক্ষেপণ।
2. মেঘ কী? বৃষ্টিপাত কীভাবে ঘটে?
মেঘ (Cloud): আকাশে ভেসে থাকা মেঘ আসলে ধূলিকণাকে আশ্রয় করে থাকা অসংখ্য অতি সূক্ষ্ম জলকণার সমষ্টি। এই জলকণাগুলো এতই ছোটো যে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। বৃষ্টিপাত সৃষ্টি: মেঘের জলকণাগুলো ক্রমশ ওপরে উঠতে শুরু করলে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আরও ঘনীভূত হয়। ছোটো ছোটো জলকণা পরস্পর যুক্ত হয়ে বড়ো জলকণায় পরিণত হয়। বড়ো জলকণা তুলনায় ভারী হওয়ায় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না এবং পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে। বৃষ্টিপাতের জন্য দুটি শর্ত: (১) বাতাসের শীতল হওয়া, (২) বাতাসে জলীয়বাষ্প যুক্ত হওয়া।
3. স্ট্রাটাস ও নিম্বোস্ট্রাটাস মেঘের মধ্যে পার্থক্য কী?
স্ট্রাটাস (Stratus): সাদা থেকে ধূসর রঙের তুলনামূলক পাতলা মেঘ, যা সারা আকাশ কুয়াশার মতো ঢেকে রাখে। পাহাড়ের উঁচু অংশে জমলে দৃষ্টি ও বিমান চলাচলে সমস্যা হয়। এতে মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। নিম্বোস্ট্রাটাস (Nimbostratus): ঘন, পুরু, ধূসর থেকে কালো রঙের ভারী মেঘ, যা খারাপ আবহাওয়া নির্দেশ করে। এর কোনো নির্দিষ্ট আকার থাকে না। একটানা ও তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
4. কিউমুলোনিম্বাস মেঘকে কেন 'বজ্রমেঘ' বলা হয়? এর বৈশিষ্ট্য কী?
কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘকে 'বজ্রমেঘ' (Thunder Cloud) বলা হয় কারণ এই মেঘ থেকে বজ্রপাতসহ ভীষণ বড় বৃষ্টি এবং অনেক সময় শিলাবৃষ্টি হয়। বৈশিষ্ট্য: (১) দেখতে গম্বুজের মতো, সাদা-ধূসর ও কালো রঙের, (২) ওপরদিক চ্যাপ্টা ও তলদেশ প্রায় সমতল, (৩) ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২,০০০ ফুট পর্যন্ত উল্লম্ব বিস্তার থাকে, (৪) গ্রীষ্মকালে উত্তপ্ত বিকেলে এই মেঘ থেকে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়।
5. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall) কী? এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী?
পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall): উষ্ণ ও স্যাঁতস্যাঁতে অঞ্চলে সূর্যের তীব্র তাপে বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে সোজা উপরে উঠতে থাকে। এই ঊর্ধ্বগামী বায়ু প্রসারিত ও শীতল হয়ে ঘনীভূত হয় এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটায়— একে পরিচলন বৃষ্টিপাত বলে। বৈশিষ্ট্য: (১) নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছরই দুপুরের পর বা বিকেলে হয়, (২) অল্প জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ ও ক্ষণস্থায়ী, (৩) প্রচন্ড বেগে বড় ফোঁটার বৃষ্টি হয়, বজ্রপাত সাধারণ, (৪) এর ফলে নিরক্ষীয় চিরহরিৎ ঘন অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে। যেমন— আমাজন, কঙ্গো বেসিন, ইন্দোনেশিয়া।
6. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) বলতে কী বোঝো? প্রতিবাত ঢাল ও অনুবাত ঢাল কী?
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall): সমুদ্র বা জলভাগ থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু প্রবাহপথে পর্বত বা উচ্চভূমির বাধা পেলে পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। ঊর্ধ্বগামী এই বায়ু প্রসারিত, শীতল ও সম্পৃক্ত হয়ে ঘনীভূত হয়ে পর্বতের ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটায়। প্রতিবাত ঢাল (Windward Slope): পর্বতের যে ঢাল বরাবর আর্দ্র বায়ু উপরে ওঠে ও বৃষ্টিপাত ঘটায়। এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। যেমন— পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢাল। অনুবাত ঢাল (Leeward Slope): এর বিপরীত দিকের ঢাল, যেখানে বায়ু নীচে নামে। বায়ু শুষ্ক, উষ্ণ ও অসম্পৃক্ত হয় বলে বৃষ্টিপাত হয় না বা খুব কম হয়। একে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow Zone) বলে। যেমন— দাক্ষিণাত্যের পূর্ব দিক।
7. চেরাপুঞ্জিতে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণ কী?
মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে চেরাপুঞ্জির অবস্থান। এটি পাহাড়ের প্রতিবাত ঢাল (Windward Slope) অংশে পড়ে। বঙ্গোপসাগর থেকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ হয়ে সরাসরি চেরাপুঞ্জির খাসি পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে এই বায়ু দ্রুত উপরে উঠতে বাধ্য হয় এবং শীতল ও ঘনীভূত হয়ে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত ঘটায়। চেরাপুঞ্জির গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ১১,৭৭৭ মিমি।
8. শিলং-এ চেরাপুঞ্জির এত কাছে হয়েও বৃষ্টিপাত কম কেন?
মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের উত্তর ঢালে অবস্থিত শিলং। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ ঢালের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে জলীয়বাষ্প হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায়। এরপর বায়ু যখন উত্তর ঢালের (অনুবাত ঢাল) দিকে নামতে শুরু করে, তখন বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বেড়ে যায়, ফলে বায়ু অসম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং বৃষ্টিপাত হয় না বা অত্যন্ত কম হয়। শিলং-এর বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত মাত্র ২,২০৭ মিমি, অথচ চেরাপুঞ্জির দূরত্ব মাত্র ৫৬ কিমি।
9. পশ্চিমঘাট পর্বতের অনুবাত ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে (প্রতিবাত ঢাল) বাধা পেয়ে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই বৃষ্টির ফলে বায়ু তার বেশিরভাগ জলীয়বাষ্প হারিয়ে ফেলে। পর্বত অতিক্রম করে পূর্ব ঢালে (অনুবাত ঢাল) নামার সময় বায়ুর উষ্ণতা বাড়তে থাকে, জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু জলীয়বাষ্পের অভাবে বায়ু অসম্পৃক্ত হয় এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দাক্ষিণাত্যের উল্লেখযোগ্য অংশ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow Zone) হিসেবে পরিণত হয়। ফলে এই অঞ্চল তুলনামূলকভাবে শুষ্ক।
10. ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic Rainfall) কাকে বলে? এটি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic Rainfall): কোনো স্থানে প্রবল নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হলে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল গতিতে পেঁচিয়ে (কুন্ডলাকারে) নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর এই বায়ু উষ্ণ হয়ে ঘুরতে ঘুরতে ওপরে ওঠে। ঊর্ধ্বগামী এই বায়ু শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। এটিই ঘূর্ণবৃষ্টি। ক্রান্তীয় অঞ্চলে (Cyclone) ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে (Temperate Cyclone) দুই প্রকার ঘূর্ণবৃষ্টি দেখা যায়।
11. ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণিঝড়ের পার্থক্য কী?
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়: (১) উৎপত্তি ৫°-২০° অক্ষাংশের উষ্ণ সমুদ্রে, (২) একটিমাত্র উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর উৎক্ষেপণে হয়, (৩) শরৎকালে বেশি, (৪) ব্যাপ্তি অপেক্ষাকৃত ছোটো, কেন্দ্রে 'চক্ষু' (Eye) থাকে, (৫) খুব শক্তিশালী, ধ্বংসাত্মক, ভারী বৃষ্টি। নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণিঝড়: (১) উৎপত্তি ৩০°-৬০° অক্ষাংশে, (২) উষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিলনে সৃষ্ট, (৩) শীতকালে বেশি, (৪) ব্যাপ্তি বিশাল, কোনো চক্ষু নেই, (৫) বড় ফোঁটার বৃষ্টি হয় না, অনেকক্ষণ ধরে সমান তালে বৃষ্টি হয়।
12. ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের 'চক্ষু' (Eye) বা 'টোকো' কী? এর বৈশিষ্ট্য কী?
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের একেবারে কেন্দ্রস্থলে বায়ুর চাপ সর্বনিম্ন হয়। এই কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে ঘূর্ণিঝড়ের চক্ষু বা টোকো (Eye of Cyclone) বলে। বৈশিষ্ট্য: (১) চক্ষুর ব্যাস ৩০-৬০ কিমি হতে পারে, (২) এখানে আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া শান্ত থাকে— বাতাস স্তব্ধ, (৩) কোনো বৃষ্টি বা ঝড় থাকে না, (৪) চক্ষুর চারপাশে (Eye Wall) সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ও দ্রুতগামী বাতাস (২৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত) ও বৃষ্টি হয়। এই শান্ত কেন্দ্রই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ংকর সুন্দর বৈশিষ্ট্য।
13. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বলতে কী বোঝো? ১০০% আপেক্ষিক আর্দ্রতার অর্থ কী?
আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity): কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বাতাসে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ওই একই উষ্ণতায় সেই বাতাসকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন— এই দুইয়ের অনুপাতই হল আপেক্ষিক আর্দ্রতা। এটি শতাংশে প্রকাশ করা হয়। ১০০% আপেক্ষিক আর্দ্রতার অর্থ: বাতাস সম্পৃক্ত (Saturated) হয়ে গেছে, অর্থাৎ বাতাস ওই উষ্ণতায় সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে, তা ধারণ করে ফেলেছে। এর বেশি জলীয়বাষ্প গ্রহণের ক্ষমতা নেই। এই অবস্থায় বাষ্পীভবন হয় না এবং জলীয়বাষ্প অতিরিক্ত হলেই ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হয় (মেঘ-কুয়াশা সৃষ্টি)।
14. ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় কেন স্থলভাগের ওপর দুর্বল হয়ে পড়ে?
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি ও শক্তি বজায় রাখার জন্য উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ (২৭°C-এর বেশি) থেকে অবিরাম জলীয়বাষ্পের জোগান প্রয়োজন। স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে এই জলীয়বাষ্পের জোগান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে ঘূর্ণিঝড় দুর্বল ও ধীর হতে থাকে। উপরন্তু স্থলভাগের অসমতলতা ও ঘর্ষণ (জঙ্গল, পাহাড়, বাড়িঘর) বায়ুর বেগ কমিয়ে দেয়। তৃতীয়ত, স্থলভাগ থেকে আসা শীতল শুষ্ক বাতাসও ঘূর্ণিঝড়ের তাপীয় গঠন নষ্ট করে ফেলে। তাই উপকূলবর্তী অঞ্চলে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ভেতরে এলে ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ বিলীন হয়ে যায়।
15. শীতকালে মধ্য ইউরোপে কেন ঘূর্ণবৃষ্টি হয়?
শীতকালে মধ্য ইউরোপে ঘূর্ণবৃষ্টি (Temperate Cyclonic Rainfall) সংঘটিত হওয়ার কারণ হল নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের নিজস্ব ঘূর্ণিঝড়। এই সময় আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আগত উষ্ণ আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু ও উত্তর-পূর্বের শীতল মেরু বায়ু মধ্য ইউরোপের ওপর মিলিত হয়। উষ্ণ বায়ু হালকা বলে শীতল বায়ুর ওপর উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে হালকা ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত ঘটায়। তাই মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে (ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড) শীতকালে ঘূর্ণবৃষ্টি হয়।
16. বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ কী কী? প্রত্যেকটির একটি করে বৈশিষ্ট্য লেখো।
বৃষ্টিপাত প্রধানত তিন প্রকার: (১) পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional): অল্প জায়গায় সীমাবদ্ধ, ক্ষণস্থায়ী, বড় ফোঁটায় বজ্রবিদ্যুৎসহ — নিরক্ষীয় অঞ্চলে দুপুরে। (২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic): পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রবল বৃষ্টি ও অনুবাত ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় — চেরাপুঞ্জি। (৩) ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic): ক্রান্তীয়— প্রবল ধ্বংসাত্মক ও চক্ষুযুক্ত (সাইক্লোন); নাতিশীতোষ্ণ— মৃদু, দীর্ঘক্ষণ ধরে ও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে (মধ্য ইউরোপে শীতকালে)।
17. পৃথিবীর কোন কোন দেশে সারা বছর পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়? সেখানকার উদ্ভিদ কেমন?
নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত দেশগুলোতে প্রায় সারা বছরই নিয়মিত পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। এরূপ দুটি দেশের উদাহরণ: (১) ইন্দোনেশিয়া— দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জ, (২) কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র— মধ্য আফ্রিকা। এছাড়াও ব্রাজিলের আমাজন বেসিন এবং মালয়েশিয়াতেও সারাবছর এই বৃষ্টি হয়। এই সকল দেশে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে চিরহরিৎ ঘন অরণ্য (Equatorial Evergreen Forest) দেখা যায়, যাকে পৃথিবীর 'ফুসফুস' বলা হয়। কঠিন কাঠের গাছ, অর্কিড, লিয়ানা এখানকার বৈশিষ্ট্য।
18. পরিচলন বৃষ্টিপাতের সময় বাষ্পীভবন ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার ভূমিকা কী?
পরিচলন বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে সকাল থেকে উষ্ণ সূর্যরশ্মিতে জলভাগ থেকে প্রচুর বাষ্পীভবনের ফলে বাতাসের নিম্নস্তরে প্রচুর জলীয়বাষ্প জমা হয় এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। দুপুরের মধ্যে বায়ু অত্যন্ত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উপরে উঠলে প্রসারণের ফলে শীতল হতে থাকে। ঠান্ডা বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% ছুঁয়ে যায় এবং বাতাস সম্পৃক্ত হয়। অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ধূলিকণার গায়ে ঘনীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে এবং পরস্পর মিলিত হয়ে বড় ফোঁটায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
7 টি
1. বৃষ্টিপাত কাকে বলে? বৃষ্টিপাতের প্রধান তিনটি প্রকারের নাম করে প্রত্যেকটির সৃষ্টি প্রক্রিয়া, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করো।
বৃষ্টিপাত (Rainfall)
বায়ুমন্ডলে ভাসমান মেঘের জলকণাগুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে বড়ো ও ভারী হয়ে পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে তরল জলবিন্দু রূপে ভূপৃষ্ঠে নেমে এলে তাকে বৃষ্টিপাত বলে। বৃষ্টিপাত প্রধানত তিন প্রকার: পরিচলন, শৈলোৎক্ষেপ ও ঘূর্ণবৃষ্টি।
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rainfall):
প্রক্রিয়া: উষ্ণ অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের তীব্র তাপে বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে সোজা উপরে উঠে যায়। উপরে উঠে প্রসারিত ও শীতল হলে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত ঘটায়। বৈশিষ্ট্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর দুপুরের পর/বিকেলে; বড় ফোঁটায়, অল্প জায়গায় সীমাবদ্ধ, ক্ষণস্থায়ী। উদাহরণ: আমাজন, কঙ্গো, ইন্দোনেশিয়া। এখানে চিরহরিৎ বনভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall):
প্রক্রিয়া: সমুদ্র থেকে আগত আর্দ্র বায়ু পর্বতের বাধা পেয়ে ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে বাধ্য হয় → প্রসারিত, শীতল, সম্পৃক্ত, ঘনীভূত → প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টি; অনুবাত ঢালে নামার সময় উষ্ণ ও অসম্পৃক্ত হয়ে শুষ্ক থাকে → বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল। বৈশিষ্ট্য: প্রতিবাতে বেশি, অনুবাতে কম। উদাহরণ: চেরাপুঞ্জি (প্রতিবাত) বনাম শিলং (অনুবাত); পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢাল বনাম দাক্ষিণাত্য।
৩. ঘূর্ণবৃষ্টি (Cyclonic Rainfall):
প্রক্রিয়া: নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে চারদিক থেকে বায়ু কুন্ডলাকারে ছুটে এসে কেন্দ্রে উষ্ণ হয়ে ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি ঘটায়। প্রকার: (ক) ক্রান্তীয়— উষ্ণ সমুদ্রে, শরৎকালে, চক্ষুযুক্ত, ধ্বংসাত্মক (সাইক্লোন-আমফান)। (খ) নাতিশীতোষ্ণ— উষ্ণ ও শীতল বায়ুর মিলনে, শীতকালে, বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী (মধ্য ইউরোপ)।
2. মেঘ কী? উল্লম্ব বিস্তারযুক্ত ও স্তরীভূত মেঘের মধ্যে পার্থক্য কী? কিউমুলোনিম্বাস মেঘের বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা করো।
মেঘ (Cloud)
মেঘ হলো আকাশে ভেসে থাকা ধূলিকণাকে আশ্রয় করে থাকা অসংখ্য সূক্ষ্ম জলকণা বা বরফকণার সমষ্টি। বায়ুমন্ডলের ক্ষুব্ধমন্ডলে (Troposphere) এদের অবস্থান।
উল্লম্ব বিস্তারযুক্ত বনাম স্তরীভূত মেঘ:
| বিষয় | উল্লম্ব মেঘ (Cumulus/Cumulonimbus) | স্তরীভূত মেঘ (Stratus/Nimbostratus) |
| আকৃতি | গম্বুজ, ফুলকপির মতো, ওপর চ্যাপ্টা | স্তরে স্তরে বিস্তৃত, চাদরের মতো |
| উচ্চতা | নীচ থেকে শুরু, ওপরে অনেক ওঠে (১২,০০০ ফুট+) | অনুভূমিক বিস্তার বেশি, উল্লম্ব কম |
| বৃষ্টি | প্রবল বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি | একটানা হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি |
| আবহাওয়া | ক্ষণস্থায়ী ভয়াবহ ঝড় ও বন্যার ইঙ্গিত | দীর্ঘস্থায়ী বিষন্ন ও বৃষ্টির আবহাওয়া |
কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘের বৈশিষ্ট্য:
- গঠন ও রং: গম্বুজাকৃতির, ওপরে চ্যাপ্টা (অ্যাভিল), নীচে প্রায় সমতল। রং সাদা-ধূসর থেকে কালো।
- উল্লম্ব বিস্তার: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২,০০০ ফুট (প্রায় ৩.৬ কিমি) বা তারও বেশি উচ্চতা পর্যন্ত প্রসারিত।
- অপর নাম: 'বজ্রমেঘ' (Thunder Cloud)— কারণ এতে প্রবল বজ্রপাত হয়।
- ঘটনা: প্রচন্ড বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি (Hail), দমকা হাওয়া, টর্নেডোর সৃষ্টি করতে পারে। বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
3. পরিচলন বৃষ্টিপাত, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণবৃষ্টিপাতের মধ্যে পার্থক্যগুলি টেবিলের সাহায্যে আলোচনা করো। কোন ধরনের বৃষ্টি ভারতে সবচেয়ে বেশি হয়?
তিন প্রকার বৃষ্টিপাতের তুলনা
| তুলনার বিষয় | পরিচলন বৃষ্টিপাত | শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত | ঘূর্ণবৃষ্টি |
| মূল কারণ | তাপীয় পরিচলন ও উল্লম্ব উৎক্ষেপণ | পর্বতের বাধায় বায়ুর ঊর্ধ্বগমন | নিম্নচাপ কেন্দ্রে কুন্ডলী বায়ুপ্রবাহ |
| প্রধান অঞ্চল | নিরক্ষীয় অঞ্চল (কঙ্গো, আমাজন) | পর্বতের প্রতিবাত ঢাল (চেরাপুঞ্জি) | ক্রান্তীয় (সাইক্লোন) ও নাতিশীতোষ্ণ |
| সময় | সারাবছর (বিকেলে) | মৌসুমি বায়ুতে (গ্রীষ্ম-বর্ষা) | শরৎ (ক্রান্তীয়) ও শীত (নাতিশীতোষ্ণ) |
| প্রকৃতি | মুষলধারে, ক্ষণস্থায়ী | প্রতিবাতে মুষলধারে, অনুবাতে কম | ক্রান্তীয়: ধ্বংসাত্মক; নাতিশীতোষ্ণ: হালকা ও দীর্ঘস্থায়ী |
| বিস্তার | অল্প এলাকা | পর্বতের নির্দিষ্ট ঢাল | বিস্তীর্ণ এলাকা |
| বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল | নেই | আছে (অনুবাত ঢাল) | নেই |
ভারতে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত:
ভারতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায়। গ্রীষ্মকালীন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয়বাষ্প নিয়ে এসে পশ্চিমঘাট পর্বত, হিমালয়ের পাদদেশ এবং খাসি-জয়ন্তিয়া পাহাড়ের প্রতিবাত ঢালে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। চেরাপুঞ্জি ও মৌলিনরাম এর জ্বলন্ত উদাহরণ। উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিমঘাটে এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে পড়ে।
4. ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় কী? এর সৃষ্টি প্রক্রিয়া, চক্ষু এবং ভারত ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব আলোচনা করো। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য ঘূর্ণিঝড়ের উদাহরণ দাও।
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় (Tropical Cyclone)
গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে (৫°-২০° অক্ষাংশ) উষ্ণ সমুদ্রের ওপর সৃষ্ট প্রবল নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ুর প্রচন্ড কুন্ডলীপ্রবাহ ও বৃষ্টিকে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় বলে। বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে একে সাইক্লোন (Cyclone) বলা হয়।
সৃষ্টি প্রক্রিয়া:
- সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৭°C-এর ওপরে উঠলে প্রচুর বাষ্পীভবন ও পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়।
- জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সময় বিপুল লীন তাপ নির্গত করে, যা কেন্দ্রীয় নিম্নচাপকে শক্তিশালী করে।
- কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু কুন্ডলী আকারে কেন্দ্রে ছুটতে থাকে।
- কেন্দ্রে চক্ষু (Eye) এবং চারপাশে সর্বোচ্চ বেগের বায়ুপ্রাচীর (Eye Wall) গঠিত হয়।
প্রভাব:
প্রবল বাতাস (১৫০-২৫০ কিমি/ঘণ্টা), জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge), ভারী বৃষ্টি ও বন্যা ভারতের পূর্ব উপকূল (ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ) ও বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। কৃষি, মৎস্যজীবী, গ্রামীণ ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়।
উল্লেখযোগ্য উদাহরণ:
- আয়লা (২০০৯): পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত, বিশাল জলোচ্ছ্বাস।
- আমফান (২০২০): সুপার সাইক্লোন, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ।
- ইয়াস (২০২১): ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস।
5. আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) কী? বৃষ্টিপাতের সাথে আপেক্ষিক আর্দ্রতার সম্পর্ক কী? শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির বেলায় প্রতিবাত ও অনুবাত ঢালে আর্দ্রতার পার্থক্যটি বুঝিয়ে দাও।
আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity - RH)
কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় বাতাসে বিদ্যমান জলীয়বাষ্পের পরিমাণ এবং সেই একই উষ্ণতায় বাতাসকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয়বাষ্পের পরিমাণের অনুপাতকে শতাংশে প্রকাশ করলে তাকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। RH = (প্রকৃত জলীয়বাষ্প / সম্পৃক্ত জলীয়বাষ্প) × ১০০%।
বৃষ্টিপাতের সাথে সম্পর্ক:
RH ১০০% ছোঁয়ার অর্থ বাতাস সম্পৃক্ত— অর্থাৎ আর জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে না। অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টি সৃষ্টি করে। RH যত কম, বাতাসের জলীয়বাষ্প ধারণের অতিরিক্ত ক্ষমতা তত বেশি— বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
প্রতিবাত বনাম অনুবাত ঢাল:
- প্রতিবাত ঢালে (Windward Side): আর্দ্র বায়ু পর্বতের ঢাল ধরে উপরে উঠতে থাকে। উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা কমে → ঠান্ডা বাতাসের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা কমে → যেহেতু জলীয়বাষ্পের পরিমাণ একই, RH দ্রুত বেড়ে ১০০% হয় → ঘনীভবন → বৃষ্টি।
- অনুবাত ঢালে (Leeward Side): বৃষ্টির পর জলীয়বাষ্প কমে যাওয়া বায়ু নীচে নামতে থাকে। নীচে নামলে উষ্ণতা বাড়ে → উষ্ণ বাতাসের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বেড়ে যায় → RH কমতে থাকে (অসম্পৃক্ত) → বৃষ্টি হয় না → বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।
6. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow Zone) কী? দাক্ষিণাত্যের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল ও শিলং-এর বৃষ্টিচ্ছায় প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো। এই অঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার ওপর প্রভাব কী?
বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow Zone)
পর্বতের অনুবাত ঢালে, যেখানে আর্দ্র বাতাস প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টি ঘটিয়ে শুষ্ক হয়ে গিয়ে নীচে নামার সময় উষ্ণ ও অসম্পৃক্ত হয় এবং বৃষ্টিপাত আর ঘটাতে পারে না, সেই অপেক্ষাকৃত শুষ্ক অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।
দাক্ষিণাত্যের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল:
আরব সাগর থেকে আগত মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাটের পশ্চিম ঢালে (প্রতিবাত) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর পূর্ব ঢালে (অনুবাত) নেমে দাক্ষিণাত্য মালভূমির অভ্যন্তরীণ অংশে প্রবেশ করে। এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত খুবই কম (বার্ষিক ৫০০-৭৫০ মিমি)। তাই মহারাষ্ট্রের পুণে, কর্ণাটকের বিজয়পুর, তেলেঙ্গানার অংশবিশেষ বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পড়ে।
শিলং-এর বৃষ্টিচ্ছায় প্রকৃতি:
মেঘালয়ের শিলং পাহাড়ের উত্তর ঢালে (অনুবাত) অবস্থিত। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রতিবাত ঢালের চেরাপুঞ্জিতে প্রায় ১১,৭৭৭ মিমি বৃষ্টি দিয়ে শিলং-এ পৌঁছে সম্পূর্ণ শুষ্ক হয়ে যায়। শিলং-এর বার্ষিক বৃষ্টিপাত মাত্র ২,২০৭ মিমি।
কৃষি ও জীবিকায় প্রভাব:
বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে স্বল্প ও অনিশ্চিত বৃষ্টিপাতের জন্য কৃষি সমস্যার মুখোমুখি। ধানের বদলে জোয়ার, বাজরা, ডাল জাতীয় খরা-সহিষ্ণু ফসল চাষ করতে হয়। সেচের গুরুত্ব এখানে অপরিসীম। পশুচারণ, দুগ্ধশিল্প (ডেয়ারি) ও মৌসুমি শুকনো চাষাবাদ এখানকার প্রধান জীবিকা। দাক্ষিণাত্যে বড় বড় জলাধার ও সেচ প্রকল্প (যেমন— কৃষ্ণা, গোদাবরী প্রকল্প) বৃষ্টিচ্ছায়ের সমস্যা লাঘব করার চেষ্টা করছে।
7. নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত এবং তার ফলে সৃষ্ট চিরহরিৎ অরণ্যের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। পৃথিবীর এই ধরণের দুটি অঞ্চলের নাম করে তাদের জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের বর্ণনা দাও।
নিরক্ষীয় পরিচলন বৃষ্টিপাত
নিরক্ষীয় অঞ্চলে (০°-১০° উত্তর ও দক্ষিণ) সারাবছর ধরে সূর্যের লম্বরশ্মির কারণে প্রতিদিন বিকেলে প্রবল পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। প্রতিদিনের এই নিয়মিত বৃষ্টিকে নাবিকরা 4 o'clock Rain বলে অভিহিত করে। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০০ মিমি-র বেশি, উষ্ণতা সারাবছর ২৫°-৩০°C।
চিরহরিৎ অরণ্যের বৈশিষ্ট্য:
- ঘন, বহুস্তরী (Canopy, Understory, Forest Floor), চির সবুজ চওড়া পাতার গাছ (মেহগনি, রোজউড, রাবার)।
- অর্কিড, ফার্ন, লিয়ানা (আরোহী লতা), এপিফাইট প্রচুর।
- আফ্রিকান হাতি, গরিলা, ওকাপি, জাগুয়ার, ট্যাপির, টুকান ও পিরানহা বিচরণ করে।
- মাটিতে দ্রুত পচন ও পুনঃচক্রায়নের ফলে গাছপালা সতেজ— কিন্তু কৃষির জন্য মাটি খুব উর্বর নয় (Laterization)।
- এই বনভূমিকে 'পৃথিবীর ফুসফুস' (Lungs of the Earth) বলা হয়।
দুটি অঞ্চলের বর্ণনা:
১. আমাজন বেসিন (দক্ষিণ আমেরিকা): পৃথিবীর বৃহত্তম রেইনফরেস্ট, ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়ায় বিস্তৃত। আমাজন নদীর অববাহিকা। প্রায় ২ মিলিয়ন বর্গকিমি। বিচিত্র আদিবাসী সম্প্রদায়, স্লথ, অ্যানাকোন্ডা, পিরানহা এখানকার বাসিন্দা।
২. কঙ্গো বেসিন (আফ্রিকা): দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট, কঙ্গো নদীর অববাহিকায় মধ্য আফ্রিকায় অবস্থিত। গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বন হাতি ও ওকাপির আবাস। এখানকার পিগমি (Pygmy) আদিবাসীরা বনজীবী।
মনে রেখো!
অধঃক্ষেপণ (Precipitation): জলকণা/বরফকণা ভূপৃষ্ঠে নামা। মেঘ: ধূলিকণাকে আশ্রয় করে ভাসমান জলকণার সমষ্টি। কিউমুলোনিম্বাস = বজ্রমেঘ: শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত। পরিচলন: তাপে বায়ু উপরে → নিরক্ষীয় বৃষ্টি। শৈলোৎক্ষেপ: পর্বতে বাধায় বৃষ্টি → প্রতিবাতে বেশি, অনুবাতে বৃষ্টিচ্ছায়। ঘূর্ণবৃষ্টি: নিম্নচাপে কুন্ডলীপ্রবাহ → সাইক্লোন। RH: আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
PDF ডাউনলোড
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।
PDF ডাউনলোড