Sponsored Links
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি (শঙ্খ ঘোষ)
শঙ্খ ঘোষ রচিত 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক কবিতা শঙ্খ ঘোষ রচিত 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি'-এর লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ, এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. কবিতার বিষয়সংক্ষেপ
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতাটি শঙ্খ ঘোষের 'জলই পাষাণ হয়ে আছে' (২০০৪) কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক যুগের যুদ্ধদীর্ণ, হিংস্র এবং মূল্যবোধহীন পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের চরম বিপন্নতার চিত্র এবং সেই বিপন্নতা থেকে মুক্তির উপায় এই কবিতায় বর্ণিত হয়েছে।
কবিতার শুরুতেই এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ডানে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে হিমানীর (বরফের) বাঁধ। অর্থাৎ, তাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাজদের আগ্রাসনে তাদের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে এবং শিশুদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে আছে। এই ভয়াবহ মৃত্যুর আবহে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ে ভীত।
শুধু ভৌগোলিক বা শারীরিক বিপন্নতা নয়, এই সাধারণ মানুষদের কোনো ইতিহাস নেই। থাকলেও তা বিকৃত, যা তাদের চোখ-মুখ ঢেকে রাখে। তারা সবসময় ভিখারির মতো অবহেলিত। পৃথিবী বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, সে বিষয়েও তারা সন্দিহান, কারণ তাদের কথা কেউ ভাবে না। এই চরম অসহায়তা এবং সর্বনাশের মুখে দাঁড়িয়েও কবি আশা হারাননি। তিনি বিশ্বাস করেন, যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, তাদের উচিত সব ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাত রেখে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে থাকা। কারণ, ঐক্যবদ্ধ বা 'বেঁধে বেঁধে' থাকাই হলো এই প্রতিকূল পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র পথ।
কবিতার শুরুতেই এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ডানে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে হিমানীর (বরফের) বাঁধ। অর্থাৎ, তাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাজদের আগ্রাসনে তাদের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে এবং শিশুদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে আছে। এই ভয়াবহ মৃত্যুর আবহে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ে ভীত।
শুধু ভৌগোলিক বা শারীরিক বিপন্নতা নয়, এই সাধারণ মানুষদের কোনো ইতিহাস নেই। থাকলেও তা বিকৃত, যা তাদের চোখ-মুখ ঢেকে রাখে। তারা সবসময় ভিখারির মতো অবহেলিত। পৃথিবী বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, সে বিষয়েও তারা সন্দিহান, কারণ তাদের কথা কেউ ভাবে না। এই চরম অসহায়তা এবং সর্বনাশের মুখে দাঁড়িয়েও কবি আশা হারাননি। তিনি বিশ্বাস করেন, যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, তাদের উচিত সব ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাত রেখে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে থাকা। কারণ, ঐক্যবদ্ধ বা 'বেঁধে বেঁধে' থাকাই হলো এই প্রতিকূল পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র পথ।
২. কবি পরিচিতি
শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১): আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি, প্রাবন্ধিক এবং অধ্যাপক। তাঁর প্রকৃত নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তিনি অধুনা বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দিনগুলি রাতগুলি'। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- 'নিহিত পাতাল ছায়া', 'বাবরের প্রার্থনা', 'পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ', 'জলই পাষাণ হয়ে আছে', 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে' ইত্যাদি। ছোটোদের জন্যও তিনি অনেক বই লিখেছেন। প্রবন্ধ সাহিত্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি সাহিত্য অকাদেমি, রবীন্দ্র পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং পদ্মভূষণ সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আলোচ্য কবিতাটি তাঁর 'জলই পাষাণ হয়ে আছে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
৩. কবিতার লাইনভিত্তিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা
আমাদের ডান পাশে ধ্বস
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
ব্যাখ্যা: এখানে 'আমাদের' বলতে পৃথিবীর অবহেলিত, শ্রমজীবী, সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে। ডানপাশে ধ্বস (পাহাড় ধসে পড়া) এবং বাঁপাশে গিরিখাদ (গভীর গর্ত) বলতে কবি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চরম বিপন্নতা ও বিপদসংকুল অবস্থাকে বুঝিয়েছেন। তাদের দুই দিকেই নিশ্চিত মৃত্যুর ফাঁদ পাতা।
আমাদের মাথায় বোমারু
পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ
পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ
ব্যাখ্যা: মাথার ওপর বোমারু বিমান চক্কর দিচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বোমা ফেলে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে (যুদ্ধ ও রাষ্ট্রশক্তির আগ্রাসন)। অন্যদিকে, পায়ে পায়ে হিমানীর (বরফের) বাঁধ, অর্থাৎ প্রতি পদক্ষেপে জমে থাকা বরফের মতো দুর্লঙ্ঘ্য বাধা। আকাশ ও পাতাল, সব দিক থেকেই সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন।
আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
ব্যাখ্যা: চারদিকে বিপদের কারণে সাধারণ মানুষের সামনে বেঁচে থাকার বা এগোনোর আর কোনো পথ খোলা নেই। যুদ্ধ এবং ধ্বংসের তাণ্ডবে তাদের মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় বা ঘরবাড়িও ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা আজ সম্পূর্ণ গৃহহীন ও আশ্রয়হীন।
আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!
ব্যাখ্যা: এটি কবিতার অন্যতম মর্মান্তিক পঙ্ক্তি। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে বা দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিরীহ শিশুরা। এখানে চারদিকে শিশুদের মৃতদেহ (শব) ছড়িয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের মৃত্যু মানে হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৃত্যু, মানবতা ও স্বপ্নের অপমৃত্যু।
আমরাও তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
ব্যাখ্যা: শিশুদের এই মর্মান্তিক পরিণতি এবং চারদিকের ধ্বংসলীলা দেখে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষদের মনে এক গভীর সংশয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ভাবছে, তাদেরও হয়তো এইভাবেই এই মুহূর্তে মৃত্যু অবধারিত। জীবনের প্রতি তাদের আর কোনো ভরসা নেই।
আমাদের পথ নেই আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
ব্যাখ্যা: কবি বুঝতে পেরেছেন যে একা থাকলে এই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই তিনি ডাক দিয়েছেন 'বেঁধে বেঁধে' অর্থাৎ সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে থাকার জন্য। সাধারণ মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবেই তারা এই চরম প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে।
আমাদের ইতিহাস নেই
অথবা এমনই ইতিহাস
আমাদের চোখমুখ ঢাকা
অথবা এমনই ইতিহাস
আমাদের চোখমুখ ঢাকা
ব্যাখ্যা: ইতিহাসে সাধারণত রাজা-মহারাজা বা ক্ষমতাশালীদের কথাই লেখা থাকে। সেখানে সাধারণ, শ্রমজীবী মানুষের কোনো স্থান বা ইতিহাস নেই। আর যদি তাদের কথা লেখাও থাকে, তবে তা বিকৃতভাবে লেখা থাকে, যা তাদের 'চোখমুখ ঢাকা' করে রাখে, অর্থাৎ তাদের প্রকৃত সত্য ও আত্মপরিচয়কে লুকিয়ে রাখে। ক্ষমতাশালীরা নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষের ইতিহাসকে মুছে দেয় বা বিকৃত করে।
আমরা ভিখারি বারোমাস
ব্যাখ্যা: সাধারণ মানুষ সভ্যতার চাকা ঘোরালেও তারা চিরকাল শোষিত ও বঞ্চিত। তাদের অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। তাই তারা নিজেদের দেশে, নিজেদের পৃথিবীতে চিরকাল 'ভিখারি'র মতো বা অবহেলিত হয়েই দিন কাটায়।
পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে
পৃথিবী হয়তো গেছে মরে
আমাদের কথা কে-বা জানে
আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।
পৃথিবী হয়তো গেছে মরে
আমাদের কথা কে-বা জানে
আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।
ব্যাখ্যা: সাধারণ মানুষের কাছে পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়ার কোনো পার্থক্য নেই, কারণ পৃথিবী তাদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। তাদের দুর্দশা, কান্না বা বিপন্নতার কথা কেউ মনে রাখে না বা জানতে চায় না। বেঁচে থাকার তাগিদে, একটু আশ্রয়ের বা সহানুভূতির আশায় তারা মানুষের দোরে দোরে ঘুরে ফিরেছে, কিন্তু কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।
কিছুই কোথাও যদি নেই
তবু তো কজন আছি বাকি
আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
তবু তো কজন আছি বাকি
আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।
ব্যাখ্যা: কবিতার শেষে এক চরম আশাবাদ ধ্বনিত হয়েছে। চারদিকে সব ধ্বংস হয়ে গেলেও, যদি কিছুই অবশিষ্ট না থাকে, তবুও যে কজন সাধারণ মানুষ বেঁচে আছে, কবি তাদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হাতে হাত রেখে, একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমেই মানবতা ও সভ্যতাকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব। এই ঐক্যের মন্ত্রই হলো কবিতার মূল সুর।
৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন
১. 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) শঙ্খ ঘোষ (খ) জয় গোস্বামী (গ) বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (ঘ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
উত্তর: (ক) শঙ্খ ঘোষ
২. শঙ্খ ঘোষের প্রকৃত নাম কী?
(ক) বৈদ্যনাথ ঘোষ (খ) চিত্তপ্রিয় ঘোষ (গ) সমীর ঘোষ (ঘ) শঙ্খদীপ ঘোষ
উত্তর: (খ) চিত্তপ্রিয় ঘোষ
৩. 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) বাবরের প্রার্থনা (খ) পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ (গ) জলই পাষাণ হয়ে আছে (ঘ) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
উত্তর: (গ) জলই পাষাণ হয়ে আছে
৪. আমাদের ডান পাশে কী?
(ক) গিরিখাদ (খ) ধ্বস (গ) হিমানীর বাঁধ (ঘ) বোমারু
উত্তর: (খ) ধ্বস
৫. আমাদের বাঁয়ে কী?
(ক) ধ্বস (খ) সাগর (গ) গিরিখাদ (ঘ) বোমারু
উত্তর: (গ) গিরিখাদ
৬. আমাদের মাথায় কী?
(ক) আকাশ (খ) বোমারু (গ) ছাদ (ঘ) বাজ
উত্তর: (খ) বোমারু
৭. পায়ে পায়ে কীসের বাঁধ?
(ক) পাথরের (খ) নদীর (গ) হিমানীর (ঘ) বালির
উত্তর: (গ) হিমানীর
৮. 'হিমানী' শব্দের অর্থ কী?
(ক) পাহাড় (খ) বরফ (গ) আগুন (ঘ) মেঘ
উত্তর: (খ) বরফ
৯. আমাদের কী নেই?
(ক) ঘর (খ) অর্থ (গ) পথ (ঘ) খাবার
উত্তর: (গ) পথ
১০. আমাদের কী উড়ে গেছে?
(ক) স্বপ্ন (খ) ঘর (গ) ছাদ (ঘ) ঘুম
উত্তর: (খ) ঘর
১১. কাছে দূরে কী ছড়ানো রয়েছে?
(ক) ফুল (খ) খেলনা (গ) আমাদের শিশুদের শব (ঘ) অস্ত্র
উত্তর: (গ) আমাদের শিশুদের শব
১২. 'শব' শব্দের অর্থ কী?
(ক) মৃতদেহ (খ) শব্দ (গ) রাত (ঘ) ঘুম
উত্তর: (ক) মৃতদেহ
১৩. শিশুদের শব দেখে সাধারণ মানুষের মনে কী জেগেছে?
(ক) রাগ (খ) মৃত্যুভয় বা সংশয় (গ) আনন্দ (ঘ) প্রতিশোধস্পৃহা
উত্তর: (খ) মৃত্যুভয় বা সংশয়
১৪. "আমরাও তবে এইভাবে..." - কী হওয়ার কথা বলা হয়েছে?
(ক) হারিয়ে যাব (খ) এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি? (গ) ঘুমিয়ে পড়ব (ঘ) পালিয়ে যাব
উত্তর: (খ) এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
১৫. "আমাদের পথ নেই আর" - তাই কবি কী করতে বলেছেন?
(ক) লুকিয়ে পড়তে (খ) পালিয়ে যেতে (গ) আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি (ঘ) যুদ্ধ করতে
উত্তর: (গ) আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
১৬. 'বেঁধে বেঁধে থাকি' কথাটির অর্থ কী?
(ক) দড়ি দিয়ে বাঁধা (খ) সঙ্ঘবদ্ধ বা একজোট হয়ে থাকা (গ) আটকে থাকা (ঘ) থেমে থাকা
উত্তর: (খ) সঙ্ঘবদ্ধ বা একজোট হয়ে থাকা
১৭. আমাদের কী নেই বলে কবি জানিয়েছেন?
(ক) অর্থ (খ) ভবিষ্যৎ (গ) ইতিহাস (ঘ) ভূগোল
উত্তর: (গ) ইতিহাস
১৮. যদি ইতিহাস থাকেও, তবে তা কেমন?
(ক) গৌরবময় (খ) আমাদের চোখমুখ ঢাকা (গ) সোনালী অক্ষরে লেখা (ঘ) মিথ্যে
উত্তর: (খ) আমাদের চোখমুখ ঢাকা
১৯. 'চোখমুখ ঢাকা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) ঘুমিয়ে থাকা (খ) অন্ধ হয়ে যাওয়া (গ) আত্মপরিচয়হীনতা বা প্রকৃত সত্য গোপন (ঘ) লজ্জা পাওয়া
উত্তর: (গ) আত্মপরিচয়হীনতা বা প্রকৃত সত্য গোপন
২০. আমরা বারোমাস কী?
(ক) দুঃখী (খ) মজুর (গ) ভিখারি (ঘ) শ্রমিক
উত্তর: (গ) ভিখারি
২১. ভিখারি বারোমাস বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) ভিক্ষে করে (খ) চরম দারিদ্র্য ও বঞ্চনা (গ) অলস (ঘ) গরিব
উত্তর: (খ) চরম দারিদ্র্য ও বঞ্চনা
২২. পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে, পৃথিবী হয়তো কী?
(ক) ধ্বংস হয়েছে (খ) গেছে মরে (গ) হারিয়ে গেছে (ঘ) ঘুমিয়ে আছে
উত্তর: (খ) গেছে মরে
২৩. আমাদের কথা কে-বা জানে? - কেন?
(ক) আমরা কথা বলি না (খ) সাধারণ মানুষের খোঁজ কেউ রাখে না (গ) আমরা লুকিয়ে থাকি (ঘ) আমরা বোবা
উত্তর: (খ) সাধারণ মানুষের খোঁজ কেউ রাখে না
২৪. আমরা কোথায় কোথায় ফিরেছি?
(ক) দ্বারে দ্বারে বা দোরে দোরে (খ) পথে পথে (গ) বনে জঙ্গলে (ঘ) দেশে দেশে
উত্তর: (ক) দ্বারে দ্বারে বা দোরে দোরে
২৫. দোরে দোরে ঘোরা বলতে কী বোঝায়?
(ক) ভিক্ষে করা (খ) আশ্রয় ও সহানুভূতির খোঁজ করা (গ) চুরি করা (ঘ) পালিয়ে বেড়ানো
উত্তর: (খ) আশ্রয় ও সহানুভূতির খোঁজ করা
২৬. "কিছুই কোথাও যদি নেই" - তবু কী আছে?
(ক) ভগবান আছেন (খ) তো কজন আছি বাকি (গ) আশা আছে (ঘ) ভবিষ্যৎ আছে
উত্তর: (খ) তো কজন আছি বাকি
২৭. কবি কীভাবে থাকতে বলেছেন?
(ক) লুকিয়ে (খ) হাতে হাত রেখে (গ) দূরে দূরে (ঘ) অস্ত্র হাতে
উত্তর: (খ) হাতে হাত রেখে
২৮. 'হাতে হাত রাখা' কীসের প্রতীক?
(ক) বন্ধুত্বের ও সঙ্ঘবদ্ধতার (খ) শক্তির (গ) ভয়ের (ঘ) প্রেমের
উত্তর: (ক) বন্ধুত্বের ও সঙ্ঘবদ্ধতার
২৯. কবিতাটিতে 'আমরা' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
(ক) কবি ও তাঁর বন্ধুদের (খ) সমাজের ক্ষমতাশালী শ্রেণিকে (গ) যুদ্ধক্লান্ত, বিপন্ন, অবহেলিত সাধারণ মানুষকে (ঘ) শিশুদের
উত্তর: (গ) যুদ্ধক্লান্ত, বিপন্ন, অবহেলিত সাধারণ মানুষকে
৩০. 'বোমারু' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) যে বোমা তৈরি করে (খ) বোমাবর্ষণকারী যুদ্ধবিমান (গ) বাজিপোড়ানো (ঘ) বন্দুক
উত্তর: (খ) বোমাবর্ষণকারী যুদ্ধবিমান
৩১. শঙ্খ ঘোষের ছদ্মনাম কী ছিল?
(ক) কালপেঁচা (খ) কুন্তক (গ) নীললোহিত (ঘ) ভানুসিংহ
উত্তর: (খ) কুন্তক
৩২. 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটি কোন পটভূমিতে রচিত?
(ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (গ) আধুনিক যুদ্ধদীর্ণ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের পটভূমি (ঘ) ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
উত্তর: (গ) আধুনিক যুদ্ধদীর্ণ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের পটভূমি
৩৩. 'গিরিখাদ' কীসের প্রতীক?
(ক) সৌন্দর্যের (খ) গভীর বিপদের (গ) শান্তির (ঘ) মৃত্যুর
উত্তর: (খ) গভীর বিপদের
৩৪. "আমাদের চোখমুখ ঢাকা" - কেন?
(ক) শীতে (খ) ঘুমে (গ) নিজেদের ইতিহাস ও পরিচয় বিকৃত বলে (ঘ) লজ্জায়
উত্তর: (গ) নিজেদের ইতিহাস ও পরিচয় বিকৃত বলে
৩৫. 'ভিখারি বারোমাস' কথাটিতে কী প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) পেশা (খ) চিরন্তন বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা (গ) আনন্দ (ঘ) দুঃখ
উত্তর: (খ) চিরন্তন বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা
৩৬. পৃথিবী মরে গেছে বলে সংশয় কেন?
(ক) ভূমিকম্প হয়েছে বলে (খ) সাধারণ মানুষের চরম বিপন্নতায় পৃথিবীর কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই বলে (গ) সূর্য উঠবে না বলে (ঘ) বন্যা হয়েছে বলে
উত্তর: (খ) সাধারণ মানুষের চরম বিপন্নতায় পৃথিবীর কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই বলে
৩৭. "তবু তো কজন আছি বাকি" - এখানে কীসের ইঙ্গিত আছে?
(ক) হতাশার (খ) মৃত্যুর (গ) আশাবাদের (ঘ) পরাজয়ের
উত্তর: (গ) আশাবাদের
৩৮. 'আয়' শব্দটি কবিতায় কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
(ক) রোজগার (খ) আসা (গ) আহ্বান বা ডাক (ঘ) আয়ু
উত্তর: (গ) আহ্বান বা ডাক
৩৯. 'ধ্বনি' বা 'সুর' হিসেবে কবিতাটি কেমন?
(ক) আনন্দের (খ) মিলনের ও বিপন্নতা থেকে মুক্তির আহ্বানের (গ) কান্নার (ঘ) হতাশার
উত্তর: (খ) মিলনের ও বিপন্নতা থেকে মুক্তির আহ্বানের
৪০. 'হিমানীর বাঁধ' কোথায় রয়েছে?
(ক) পাহাড়ে (খ) নদীতে (গ) মাথায় (ঘ) পায়ে পায়ে
উত্তর: (ঘ) পায়ে পায়ে
৪১. "আমরা ফিরেছি দোরে দোরে" - কেন?
(ক) ভিক্ষে চাইতে (খ) আশ্রয় ও বাঁচার পথ খুঁজতে (গ) চাকরি খুঁজতে (ঘ) পথ হারিয়ে
উত্তর: (খ) আশ্রয় ও বাঁচার পথ খুঁজতে
৪২. শিশুদের শব কোথায় ছড়ানো রয়েছে?
(ক) মাঠে (খ) নদীতে (গ) কাছে দূরে (ঘ) ঘরে
উত্তর: (গ) কাছে দূরে
৪৩. 'দিনগুলি রাতগুলি' কার লেখা?
(ক) শঙ্খ ঘোষ (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গ) নজরুল ইসলাম (ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: (ক) শঙ্খ ঘোষ
৪৪. শঙ্খ ঘোষ কোন পুরস্কার পাননি?
(ক) রবীন্দ্র পুরস্কার (খ) জ্ঞানপীঠ (গ) সাহিত্য অকাদেমি (ঘ) নোবেল পুরস্কার
উত্তর: (ঘ) নোবেল পুরস্কার
৪৫. "অথবা এমনই ইতিহাস" - 'এমনই' বলতে কেমন ইতিহাস?
(ক) বিকৃত ও আত্মপরিচয়হীন ইতিহাস (খ) প্রাচীন ইতিহাস (গ) আধুনিক ইতিহাস (ঘ) মিথ্যে গল্প
উত্তর: (ক) বিকৃত ও আত্মপরিচয়হীন ইতিহাস
৪৬. 'বেঁধে বেঁধে থাকি' - কবিতাটির মূল উপজীব্য কী?
(ক) যুদ্ধ (খ) প্রকৃতি (গ) বিপন্ন মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার ডাক (ঘ) রাজনীতি
উত্তর: (গ) বিপন্ন মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার ডাক
৪৭. 'শব' শব্দের সমার্থক শব্দ কী?
(ক) লাস বা মৃতদেহ (খ) জীবিত (গ) শিশু (ঘ) মানুষ
উত্তর: (ক) লাস বা মৃতদেহ
৪৮. 'বোমারু' শব্দটি কোন পদ?
(ক) বিশেষ্য (খ) বিশেষণ (গ) সর্বনাম (ঘ) ক্রিয়া
উত্তর: (ক) বিশেষ্য (যে বোমা ফেলে)
৪৯. কবিতাটিতে কোন স্তবকে আশার কথা বলা হয়েছে?
(ক) প্রথম (খ) দ্বিতীয় (গ) শেষ স্তবকে (ঘ) সব স্তবকে
উত্তর: (গ) শেষ স্তবকে
৫০. 'হিমানী' শব্দের মূল উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে?
(ক) হিম (খ) হিমালয় (গ) হেমন্ত (ঘ) হিমাচল
উত্তর: (ক) হিম
৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতাটি কার লেখা এবং কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি আধুনিক কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা এবং এটি তাঁর 'জলই পাষাণ হয়ে আছে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
২. কবিতায় 'আমাদের' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় 'আমাদের' বলতে সাম্রাজ্যবাদী ও যুদ্ধবাজদের দ্বারা আক্রান্ত, অবহেলিত, বিপন্ন এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে বোঝানো হয়েছে।
৩. সাধারণ মানুষের ডান পাশে ও বাঁয়ে কী রয়েছে?
উত্তর: সাধারণ মানুষের ডান পাশে রয়েছে ধ্বস এবং বাঁয়ে রয়েছে গভীর গিরিখাদ, অর্থাৎ তাদের দুই দিকেই নিশ্চিত মৃত্যুর ফাঁদ পাতা।
৪. "আমাদের মাথায় বোমারু" - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো সাধারণ মানুষের মাথার ওপর মৃত্যুভয় নিয়ে বোমাবর্ষণকারী যুদ্ধবিমান ঘুরছে, যা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধের প্রতীক।
৫. পায়ে পায়ে কীসের বাঁধ রয়েছে?
উত্তর: সাধারণ মানুষের পায়ে পায়ে হিমানীর বা বরফের বাঁধ রয়েছে, যা তাদের পদে পদে দুর্লঙ্ঘ্য বাধার প্রতীক।
৬. "আমাদের পথ নেই কোনো" - পথ নেই কেন?
উত্তর: ডানদিকে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বোমারু এবং পায়ে বরফের বাঁধ থাকায় সাধারণ মানুষের সামনে বাঁচার বা এগোনোর আর কোনো পথ খোলা নেই।
৭. আমাদের ঘর কেন উড়ে গেছে?
উত্তর: যুদ্ধ, বোমাবর্ষণ এবং প্রবল রাষ্ট্রশক্তির নির্মম আগ্রাসনের কারণে সাধারণ মানুষের মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় বা ঘর উড়ে গেছে।
৮. কাছে দূরে কী ছড়ানো রয়েছে?
উত্তর: কাছে দূরে সাধারণ মানুষের মৃত শিশুদের শব বা মৃতদেহ ছড়ানো রয়েছে।
৯. শিশুদের শব ছড়ানো থাকা কীসের ইঙ্গিত দেয়?
উত্তর: শিশুদের শব ছড়ানো থাকা মানবতা ও সভ্যতার চূড়ান্ত বিনাশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মম অপমৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।
১০. "আমরাও তবে এইভাবে / এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?" - এমন সংশয়ের কারণ কী?
উত্তর: চারদিকে শিশুদের মৃতদেহ এবং ধ্বংসলীলা দেখে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষের মনে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে তীব্র আশঙ্কা ও মৃত্যুভয় দেখা দেওয়ায় এমন সংশয় জেগেছে।
১১. "আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি" - বেঁধে বেঁধে থাকা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'বেঁধে বেঁধে থাকা' বলতে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাত রেখে একজোট বা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে থাকাকে বোঝায়।
১২. আমাদের ইতিহাস নেই কেন?
উত্তর: ইতিহাসে কেবল ক্ষমতাবানদের কথা লেখা থাকে। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কথা সেখানে উপেক্ষিত হয়, তাই তাদের নিজস্ব কোনো ইতিহাস নেই।
১৩. "অথবা এমনই ইতিহাস" - কেমন ইতিহাস?
উত্তর: যদি সাধারণ মানুষের ইতিহাস থেকে থাকে, তবে তা বিকৃত এবং তাদের প্রকৃত আত্মপরিচয়হীনতার ইতিহাস।
১৪. "আমাদের চোখমুখ ঢাকা" - চোখমুখ ঢাকা থাকার অর্থ কী?
উত্তর: চোখমুখ ঢাকা থাকার অর্থ হলো সাধারণ মানুষের নিজস্ব পরিচয় বা সত্যকে আড়াল করে রাখা এবং তাদের অন্ধ বা অজ্ঞান করে রাখা।
১৫. আমরা বারোমাস ভিখারি কেন?
উত্তর: যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষ ক্ষমতাবানদের দ্বারা শোষিত ও নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বলেই তারা চিরকাল ভিখারি।
১৬. "পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে" - এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: সাধারণ মানুষের চরম বিপন্নতা ও দুঃখে পৃথিবীর কোনো ভ্রূক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া নেই বলে তাদের কাছে পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়া সমান।
১৭. "আমাদের কথা কে-বা জানে" - আমাদের কথা কেউ জানে না কেন?
উত্তর: কারণ সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোতে অবহেলিত, ক্ষমতাহীন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ বা বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কোনো মূল্য নেই।
১৮. "আমরা ফিরেছি দোরে দোরে" - দোরে দোরে ফেরার কারণ কী?
উত্তর: যুদ্ধদীর্ণ গৃহহীন মানুষ বাঁচার তাগিদে, একটু আশ্রয় ও সহানুভূতির আশায় মানুষের দোরে দোরে বা দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরেছে।
১৯. "কিছুই কোথাও যদি নেই" - এই কথার মধ্য দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: চারদিকের ধ্বংসস্তূপ, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সাধারণ মানুষের সহায়সম্বলহীন চরম নিঃস্ব অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
২০. "তবু তো কজন আছি বাকি" - এই পঙ্ক্তিতে কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: চরম ধ্বংসের মাঝেও যে কজন মানুষ বেঁচে আছে, তাদের নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক গভীর আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে।
২১. কবি কীভাবে থাকতে বলেছেন?
উত্তর: কবি একে অপরের হাতে হাত রেখে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বা বেঁধে বেঁধে থাকতে বলেছেন।
২২. 'হাতে হাত রাখা' কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: 'হাতে হাত রাখা' হলো গভীর বন্ধুত্ব, একতা, এবং বিপদের দিনে একে অপরের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর তাৎপর্যপূর্ণ প্রতীক।
২৩. শঙ্খ ঘোষের লেখা দুটি প্রবন্ধের বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের লেখা দুটি প্রবন্ধের বই হলো 'কালের মাত্রা ও রবীন্দ্র নাটক' এবং 'ছন্দোময় জীবন'।
২৪. শঙ্খ ঘোষ ছোটোদের জন্য কী কী বই লিখেছেন? (যে কোনো দুটি)
উত্তর: 'ছোট্ট একটা স্কুল' এবং 'অল্পবয়স কল্পবয়স'।
২৫. 'কুন্তক' কার ছদ্মনাম ছিল?
উত্তর: 'কুন্তক' আধুনিক বাঙালি কবি শঙ্খ ঘোষের ছদ্মনাম ছিল।
২৬. ডান পাশে ধ্বস এবং বাঁয়ে গিরিখাদ - এই জোড়া বিপদের অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো সাধারণ মানুষের জীবনে দুদিক থেকেই বিপদ ধেয়ে আসছে, তারা যেন শাখের করাতের মতো উভয় সংকটে বা মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
২৭. 'হিমানী' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: 'হিমানী' কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো বরফ বা তুষার। কবিতায় এটি জমাট বাঁধা তীব্র বিপদের প্রতীক।
২৮. 'শব' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: 'শব' কথাটির অর্থ হলো মৃতদেহ বা লাশ।
২৯. 'গিরিখাদ' কী?
উত্তর: 'গিরিখাদ' হলো দুটি পাহাড় বা পর্বতের মাঝখানের অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকা বা গর্ত।
৩০. কবিতাটিতে কোন্ মানবিক মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটিতে চরম বিপদের দিনে একে অপরকে ছেড়ে না গিয়ে, ঐক্যবদ্ধ বা সঙ্ঘবদ্ধ থাকার মানবিক মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে।
৩১. কাদের ইতিহাস নেই?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী সমাজে চিরকাল শোষিত, লাঞ্ছিত এবং অবহেলিত সাধারণ মানুষের কোনো প্রকৃত ইতিহাস নেই।
৩২. সাধারণ মানুষের শিশুদের কী পরিণতি হয়েছে?
উত্তর: যুদ্ধের নির্মম আগ্রাসনে সাধারণ মানুষের শিশুদের প্রাণ গেছে এবং তাদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে আছে।
৩৩. 'বোমারু' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'বোমারু' বলতে সেইসব যুদ্ধবিমানকে বোঝায় যা আকাশ থেকে নিচে ধ্বংসাত্মক বোমা নিক্ষেপ করে।
৩৪. সাধারণ মানুষের পথ নেই কেন?
উত্তর: চারদিকে যুদ্ধ ও ধ্বংসের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের সামনে বেঁচে থাকার সমস্ত পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
৩৫. 'দোরে দোরে' ঘোরা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: গৃহহীন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরে আশ্রয় ও করুণা ভিক্ষা করাকে বুঝিয়েছেন।
৩৬. 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' - 'আরো' শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী?
উত্তর: 'আরো' শব্দটি ব্যবহার করে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমানের বিপন্নতার মোকাবিলা করতে আগে যতটা একতা ছিল, এখন তার চেয়েও অনেক বেশি সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে।
৩৭. কবিতার শেষে কবি কাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন?
উত্তর: চরম ধ্বংসের পরেও যে অল্প কয়েকজন সাধারণ মানুষ বেঁচে আছেন, কবি তাঁদের প্রতি একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
৩৮. "পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে" - 'হয়তো' শব্দটির মাধ্যমে কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: 'হয়তো' শব্দটির মাধ্যমে পৃথিবীর অস্তিত্ব এবং মানবিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া চরম সংশয় প্রকাশ পেয়েছে।
৩৯. শঙ্খ ঘোষ কোন কোন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন? (যে কোনো দুটি)
উত্তর: সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং জ্ঞানপীঠ পুরস্কার।
৪০. কবিতাটি মূলত কেমন ধরনের কবিতা?
উত্তর: কবিতাটি মূলত যুদ্ধবিরোধী এবং শোষিত সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদী কবিতা।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন
১. 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, চরিত্র বা ব্যঞ্জনার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। শঙ্খ ঘোষের এই কবিতাটির নামকরণ বিষয়বস্তু ও মূল সুরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
কবিতায় কবি এমন এক সময়ের কথা বলেছেন যখন সাধারণ মানুষের জীবন চরম বিপন্ন। তাদের ডানে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে বরফের বাঁধ। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও হিংসার কারণে তাদের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে এবং শিশুদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে আছে। ইতিহাসে তাদের কোনো জায়গা নেই, থাকলেও তা বিকৃত। তারা চিরকাল শোষিত হয়ে ভিখারির মতো মানুষের দোরে দোরে ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবী তাদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন।
এই চরম নৈরাশ্য ও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কবি মুক্তির পথ খুঁজেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, একা থাকলে এই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, কবি তাদের সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাত রেখে 'বেঁধে বেঁধে' অর্থাৎ সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমেই মানবতা ও সভ্যতাকে রক্ষা করা সম্ভব। বিপন্নতা থেকে মুক্তির এই চরম বার্তাটিই কবিতার মূল উপজীব্য হওয়ায় 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়।
কবিতায় কবি এমন এক সময়ের কথা বলেছেন যখন সাধারণ মানুষের জীবন চরম বিপন্ন। তাদের ডানে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে বরফের বাঁধ। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও হিংসার কারণে তাদের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে এবং শিশুদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে আছে। ইতিহাসে তাদের কোনো জায়গা নেই, থাকলেও তা বিকৃত। তারা চিরকাল শোষিত হয়ে ভিখারির মতো মানুষের দোরে দোরে ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবী তাদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন।
এই চরম নৈরাশ্য ও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কবি মুক্তির পথ খুঁজেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, একা থাকলে এই ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই। তাই যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, কবি তাদের সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাত রেখে 'বেঁধে বেঁধে' অর্থাৎ সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমেই মানবতা ও সভ্যতাকে রক্ষা করা সম্ভব। বিপন্নতা থেকে মুক্তির এই চরম বার্তাটিই কবিতার মূল উপজীব্য হওয়ায় 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়।
২. "আমাদের ডান পাশে ধ্বস / আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ" - এই পঙ্ক্তিগুলির মধ্য দিয়ে কবি সাধারণ মানুষের কোন পরিস্থিতির কথা বুঝিয়েছেন?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় উদ্ধৃত পঙ্ক্তিগুলির মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনের চরম বিপন্নতা ও উভয় সংকটের কথা বোঝানো হয়েছে।
পাহাড়ি রাস্তায় চলার সময় একদিকে যদি ধ্বস বা ধস নামে এবং অন্যদিকে যদি গভীর গিরিখাদ বা খাদ থাকে, তবে মানুষের যেমন সামনে এগোনোর বা বাঁচার কোনো পথ থাকে না, ঠিক তেমনি আধুনিক যুদ্ধদীর্ণ পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের অবস্থাও সংকটাপন্ন। রাষ্ট্রশক্তি, সাম্রাজ্যবাদ এবং হিংস্র রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষের বাঁচার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। মাথার ওপর বোমারু বিমান এবং পায়ের নীচে বরফের দুর্লঙ্ঘ্য বাধা তাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, শিশুদের মৃতদেহ ছড়িয়ে আছে। সাধারণ মানুষের এই চারদিক থেকে ঘিরে ধরা অস্তিত্বের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্রটিকেই কবি এই প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার রূপকে তুলে ধরেছেন।
পাহাড়ি রাস্তায় চলার সময় একদিকে যদি ধ্বস বা ধস নামে এবং অন্যদিকে যদি গভীর গিরিখাদ বা খাদ থাকে, তবে মানুষের যেমন সামনে এগোনোর বা বাঁচার কোনো পথ থাকে না, ঠিক তেমনি আধুনিক যুদ্ধদীর্ণ পৃথিবীতে সাধারণ মানুষের অবস্থাও সংকটাপন্ন। রাষ্ট্রশক্তি, সাম্রাজ্যবাদ এবং হিংস্র রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষের বাঁচার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। মাথার ওপর বোমারু বিমান এবং পায়ের নীচে বরফের দুর্লঙ্ঘ্য বাধা তাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, শিশুদের মৃতদেহ ছড়িয়ে আছে। সাধারণ মানুষের এই চারদিক থেকে ঘিরে ধরা অস্তিত্বের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্রটিকেই কবি এই প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার রূপকে তুলে ধরেছেন।
৩. "আমাদের ইতিহাস নেই / অথবা এমনই ইতিহাস" - আমাদের বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের ইতিহাস নেই কেন?
উত্তর: কাদের কথা: এখানে 'আমাদের' বলতে পৃথিবীর ক্ষমতাহীন, অবহেলিত, শ্রমজীবী এবং সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যারা যুগে যুগে সাম্রাজ্যবাদ ও রাষ্ট্রশক্তির দ্বারা শোষিত হয়ে আসছে।
ইতিহাস না থাকার কারণ: ইতিহাস মূলত লেখে বিজয়ীরা বা ক্ষমতাবানরা। সেখানে রাজা-মহারাজা, সম্রাট বা ক্ষমতাশালীদের বীরত্ব, যুদ্ধজয় এবং রাজত্বের কথাই বড়ো করে লেখা থাকে। সভ্যতার রথ যারা চালায়, সেই সাধারণ কৃষক, শ্রমিক বা মেহনতি মানুষের রক্ত-ঘামের কোনো স্বীকৃতি ইতিহাসে থাকে না। তাই সাধারণ মানুষের নিজস্ব কোনো ইতিহাস নেই। আর যদি তাদের কথা ইতিহাসে স্থান পায়ও, তবে তা ক্ষমতাবানদের স্বার্থে বিকৃত করে লেখা হয়। সেই ইতিহাস তাদের প্রকৃত আত্মপরিচয় বা সত্যকে তুলে ধরার বদলে তাদের 'চোখমুখ ঢাকা' করে রাখে। এই বঞ্চনার কথাই কবি গভীর আক্ষেপের সঙ্গে ব্যক্ত করেছেন।
ইতিহাস না থাকার কারণ: ইতিহাস মূলত লেখে বিজয়ীরা বা ক্ষমতাবানরা। সেখানে রাজা-মহারাজা, সম্রাট বা ক্ষমতাশালীদের বীরত্ব, যুদ্ধজয় এবং রাজত্বের কথাই বড়ো করে লেখা থাকে। সভ্যতার রথ যারা চালায়, সেই সাধারণ কৃষক, শ্রমিক বা মেহনতি মানুষের রক্ত-ঘামের কোনো স্বীকৃতি ইতিহাসে থাকে না। তাই সাধারণ মানুষের নিজস্ব কোনো ইতিহাস নেই। আর যদি তাদের কথা ইতিহাসে স্থান পায়ও, তবে তা ক্ষমতাবানদের স্বার্থে বিকৃত করে লেখা হয়। সেই ইতিহাস তাদের প্রকৃত আত্মপরিচয় বা সত্যকে তুলে ধরার বদলে তাদের 'চোখমুখ ঢাকা' করে রাখে। এই বঞ্চনার কথাই কবি গভীর আক্ষেপের সঙ্গে ব্যক্ত করেছেন।
৪. "আমরাও তবে এইভাবে / এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?" - এমন সংশয় কেন তৈরি হয়েছে? এই সংশয় দূর করতে কবি কী পথ নির্দেশ করেছেন?
উত্তর: সংশয়ের কারণ: 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় দেখা যায়, সাধারণ মানুষের চারপাশে কেবল মৃত্যু আর ধ্বংসের হাতছানি। ডানে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, মাথায় বোমারু বিমান। যুদ্ধবাজদের আগ্রাসনে তাদের আশ্রয়স্থল উড়ে গেছে এবং চারদিকে নিষ্পাপ শিশুদের মৃতদেহ ছড়িয়ে আছে। শিশুদের এই মর্মান্তিক পরিণতি এবং চারদিকের এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলা দেখে বেঁচে থাকা গুটিকয়েক সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা বুঝতে পারছে না এই ধ্বংস থেকে তারা কীভাবে বাঁচবে। তাই তাদের মনে সংশয় জেগেছে যে, তাদেরও হয়তো এভাবেই এই মুহূর্তে মৃত্যু অবধারিত।
পথ নির্দেশ: এই চরম সংশয় ও মৃত্যুভয় থেকে মুক্তির জন্য কবি ঐক্যের পথ নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, একা থাকলে বাঁচার কোনো আশা নেই। তাই যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, তাদের হাতে হাত রেখে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বা 'বেঁধে বেঁধে' থাকতে হবে। মানুষের একতাই হলো এই ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার।
পথ নির্দেশ: এই চরম সংশয় ও মৃত্যুভয় থেকে মুক্তির জন্য কবি ঐক্যের পথ নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, একা থাকলে বাঁচার কোনো আশা নেই। তাই যে কজন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, তাদের হাতে হাত রেখে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বা 'বেঁধে বেঁধে' থাকতে হবে। মানুষের একতাই হলো এই ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার।
৫. "পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে" - পৃথিবী সম্পর্কে এই অনিশ্চয়তার কারণ কী?
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় সাধারণ মানুষের চরম দুর্দশা ও বিপন্নতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই সাধারণ মানুষের কাছে পৃথিবীর বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়ার কোনো মূল্য নেই, তাই এই অনিশ্চয়তা।
সাধারণ মানুষের চারদিকে যখন বোমাবর্ষণ চলছে, তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, শিশুদের মৃতদেহ ছড়িয়ে আছে, তখন পৃথিবী নামক গ্রহটি বা সমাজের বাকি মানুষেরা তাদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। কেউ তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ায় না, কেউ তাদের কথা ভাবে না। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা যখন মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরেছে, তখন কোথাও তারা সাহায্য বা সহানুভূতি পায়নি। যে পৃথিবী সাধারণ মানুষের এই হাহাকার শুনতে পায় না, তাদের রক্ষা করতে পারে না, সেই পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকা না থাকা তাদের কাছে সমান। পৃথিবীর এই অমানবিক ও অনুভূতিহীন রূপটি দেখেই কবির মনে সংশয় জেগেছে যে, পৃথিবী সত্যিই বেঁচে আছে, নাকি মনুষ্যত্ব হারিয়ে সে আগেই মরে গেছে।
সাধারণ মানুষের চারদিকে যখন বোমাবর্ষণ চলছে, তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, শিশুদের মৃতদেহ ছড়িয়ে আছে, তখন পৃথিবী নামক গ্রহটি বা সমাজের বাকি মানুষেরা তাদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। কেউ তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ায় না, কেউ তাদের কথা ভাবে না। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা যখন মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরেছে, তখন কোথাও তারা সাহায্য বা সহানুভূতি পায়নি। যে পৃথিবী সাধারণ মানুষের এই হাহাকার শুনতে পায় না, তাদের রক্ষা করতে পারে না, সেই পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকা না থাকা তাদের কাছে সমান। পৃথিবীর এই অমানবিক ও অনুভূতিহীন রূপটি দেখেই কবির মনে সংশয় জেগেছে যে, পৃথিবী সত্যিই বেঁচে আছে, নাকি মনুষ্যত্ব হারিয়ে সে আগেই মরে গেছে।
৬. "আমরা ভিখারি বারোমাস" - বক্তা কারা? তারা নিজেদের 'ভিখারি' বলেছেন কেন?
উত্তর: বক্তা: 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন সমাজের অবহেলিত, শোষিত ও সাধারণ মানুষ, কবির ভাষায় যারা 'আমাদের' দলের প্রতিনিধি।
ভিখারি বলার কারণ: যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষই নিজেদের শ্রম দিয়ে সভ্যতাকে তিল তিল করে গড়ে তোলে। কিন্তু যখন সম্পদের বা অধিকারের ভাগাভাগি আসে, তখন ক্ষমতাশালীরা তাদের সবকিছু কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব কোনো ইতিহাস নেই, তাদের আত্মপরিচয় বিকৃত করা হয়। যুদ্ধের মতো চরম পরিস্থিতিতেও তাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়, তাদের ঘরবাড়ি উড়ে যায়, সন্তানরা মারা যায়। বাঁচার ন্যূনতম অধিকার থেকে তারা চিরকাল বঞ্চিত। রাষ্ট্র বা সমাজের কাছে তাদের সর্বদা করুণা ভিক্ষা করতে হয় এবং আশ্রয়ের খোঁজে দোরে দোরে ঘুরতে হয়। অধিকারহীন, শোষিত ও সর্বস্বান্ত এই চরম দরিদ্র অবস্থাকে বোঝাতেই তারা নিজেদের বারোমাস অর্থাৎ চিরকালের 'ভিখারি' বলে আক্ষেপ করেছেন।
ভিখারি বলার কারণ: যুগ যুগ ধরে সাধারণ মানুষই নিজেদের শ্রম দিয়ে সভ্যতাকে তিল তিল করে গড়ে তোলে। কিন্তু যখন সম্পদের বা অধিকারের ভাগাভাগি আসে, তখন ক্ষমতাশালীরা তাদের সবকিছু কেড়ে নেয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব কোনো ইতিহাস নেই, তাদের আত্মপরিচয় বিকৃত করা হয়। যুদ্ধের মতো চরম পরিস্থিতিতেও তাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়, তাদের ঘরবাড়ি উড়ে যায়, সন্তানরা মারা যায়। বাঁচার ন্যূনতম অধিকার থেকে তারা চিরকাল বঞ্চিত। রাষ্ট্র বা সমাজের কাছে তাদের সর্বদা করুণা ভিক্ষা করতে হয় এবং আশ্রয়ের খোঁজে দোরে দোরে ঘুরতে হয়। অধিকারহীন, শোষিত ও সর্বস্বান্ত এই চরম দরিদ্র অবস্থাকে বোঝাতেই তারা নিজেদের বারোমাস অর্থাৎ চিরকালের 'ভিখারি' বলে আক্ষেপ করেছেন।
৭. "তবু তো কজন আছি বাকি" - এই 'বাকি' থাকা মানুষের প্রতি কবির কী আহ্বান? এই আহ্বানের তাৎপর্য কী?
উত্তর: আহ্বান: শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতায় চরম ধ্বংসলীলার পর যে কজন মানুষ বেঁচে আছেন, তাঁদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের হাতে হাত রেখে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বা 'বেঁধে বেঁধে' থাকেন।
তাৎপর্য: আধুনিক পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন। তাদের আশ্রয় নেই, ইতিহাস নেই, আর চারদিকে শুধু মৃতদেহ ছড়ানো। এমন এক নিরাশার অন্ধকারে মানুষ যখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে, তখন কবি আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, যতক্ষণ কয়েকজন মানুষও বেঁচে আছে, ততক্ষণ মানবতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এই বেঁচে থাকা মানুষেরা যদি একা না থেকে একে অপরের পরিপূরক হয়, তবে এক অদম্য শক্তির সৃষ্টি হবে। এই ঐক্যের জোরেই তারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে পাবে এবং হারানো সভ্যতাকে পুনর্নির্মাণ করতে পারবে। তাই কবির এই আহ্বান অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
তাৎপর্য: আধুনিক পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও যুদ্ধের ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন। তাদের আশ্রয় নেই, ইতিহাস নেই, আর চারদিকে শুধু মৃতদেহ ছড়ানো। এমন এক নিরাশার অন্ধকারে মানুষ যখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে, তখন কবি আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, যতক্ষণ কয়েকজন মানুষও বেঁচে আছে, ততক্ষণ মানবতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এই বেঁচে থাকা মানুষেরা যদি একা না থেকে একে অপরের পরিপূরক হয়, তবে এক অদম্য শক্তির সৃষ্টি হবে। এই ঐক্যের জোরেই তারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে পাবে এবং হারানো সভ্যতাকে পুনর্নির্মাণ করতে পারবে। তাই কবির এই আহ্বান অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৮. কবিতায় শিশুদের শব ছড়ানো থাকার মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কীভাবে পড়েছে?
উত্তর: কী বোঝাতে চেয়েছেন: 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় "আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে" পঙ্ক্তিটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। যুদ্ধ, দাঙ্গা বা রাজনৈতিক সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিরীহ শিশুরা, যাদের এই সংঘাতের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। শিশুরা হলো সমাজের ভবিষ্যৎ, মানবতা এবং স্বপ্নের প্রতীক। চারদিকে তাদের মৃতদেহ ছড়িয়ে থাকার অর্থ হলো, সাম্রাজ্যবাদী লালসা শুধু বর্তমানকেই ধ্বংস করছে না, তারা মানুষের ভবিষ্যৎ এবং সভ্যতার নিষ্পাপ স্বপ্নগুলোকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে।
প্রভাব: চোখের সামনে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষ চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের মনে বাঁচার আর কোনো আশা নেই। তারা আতঙ্কে ও সংশয়ে ভাবতে শুরু করেছে যে, তাদেরও হয়তো এইভাবেই অবধারিত মৃত্যু ঘটবে। এই ঘটনা তাদের মনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।
প্রভাব: চোখের সামনে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষ চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের মনে বাঁচার আর কোনো আশা নেই। তারা আতঙ্কে ও সংশয়ে ভাবতে শুরু করেছে যে, তাদেরও হয়তো এইভাবেই অবধারিত মৃত্যু ঘটবে। এই ঘটনা তাদের মনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।
৯. 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় বিপন্নতার যে ছবি ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: শঙ্খ ঘোষের 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতায় আধুনিক পৃথিবীর এক চরম বিপন্নতার ছবি নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।
কবিতায় দেখা যায়, সাধারণ মানুষ চারদিক থেকে বিপদে ঘেরা। তাদের ডানে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, অর্থাৎ তাদের চলার পথ অবরুদ্ধ। মাথার ওপর ঘুরছে মৃত্যুভয় স্বরূপ বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে রয়েছে বরফের মতো দুর্লঙ্ঘ্য বাধা। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ফলে তাদের নিরাপদ আশ্রয় বা ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য হলো, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অর্থাৎ শিশুদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। এই মৃত্যুমিছিল দেখে তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও সংশয়ে ভুগছে। তাদের কোনো গৌরবময় ইতিহাস নেই, তারা আত্মপরিচয়হীন এবং চিরকাল ভিখারির মতো শোষিত। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা দোরে দোরে ঘুরেও কোথাও সাহায্য পায়নি। রাষ্ট্র ও সমাজ তাদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। এভাবেই শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে এক সম্পূর্ণ বিপন্ন ও অসহায় মানবসমাজের চিত্র কবিতায় ধরা পড়েছে।
কবিতায় দেখা যায়, সাধারণ মানুষ চারদিক থেকে বিপদে ঘেরা। তাদের ডানে ধ্বস, বাঁয়ে গিরিখাদ, অর্থাৎ তাদের চলার পথ অবরুদ্ধ। মাথার ওপর ঘুরছে মৃত্যুভয় স্বরূপ বোমারু বিমান এবং পায়ে পায়ে রয়েছে বরফের মতো দুর্লঙ্ঘ্য বাধা। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ফলে তাদের নিরাপদ আশ্রয় বা ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য হলো, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অর্থাৎ শিশুদের মৃতদেহ চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। এই মৃত্যুমিছিল দেখে তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও সংশয়ে ভুগছে। তাদের কোনো গৌরবময় ইতিহাস নেই, তারা আত্মপরিচয়হীন এবং চিরকাল ভিখারির মতো শোষিত। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা দোরে দোরে ঘুরেও কোথাও সাহায্য পায়নি। রাষ্ট্র ও সমাজ তাদের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন। এভাবেই শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে এক সম্পূর্ণ বিপন্ন ও অসহায় মানবসমাজের চিত্র কবিতায় ধরা পড়েছে।
১০. "কিছুই কোথাও যদি নেই / তবু তো কজন আছি বাকি" - কবিতাটির শেষ স্তবকে নিরাশার মাঝেও আশার যে সুর ধ্বনিত হয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি' কবিতার প্রথম থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত এক গভীর নিরাশা ও বিপন্নতার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের পথ নেই, ঘর নেই, ইতিহাস নেই, এবং চারদিকে কেবল শিশুদের মৃতদেহ ছড়ানো। তারা একপ্রকার নিশ্চিত মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছে।
কিন্তু কবিতার শেষ স্তবকে এসে কবি এই নিরাশার অন্ধকার চিরকাল স্থায়ী হতে দেননি। তিনি বলেছেন, যদিও সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে, যদিও সাহায্য করার মতো 'কিছুই কোথাও' নেই, তবুও যে অল্প কয়েকজন মানুষ অবশিষ্ট আছে, তাদের মধ্যেই বেঁচে থাকার বীজ লুকিয়ে আছে। এই বেঁচে থাকাটাই এক বড়ো আশা। কবি এই অবশিষ্ট মানুষদের হতাশা ঝেড়ে ফেলে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের হাতে হাত রাখার শক্তি অনেক বড়ো। সঙ্ঘবদ্ধ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই পারে যুদ্ধবাজদের ধ্বংসলীলা থামিয়ে নতুন এক মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে। তাই চরম সর্বনাশের মুখে দাঁড়িয়েও কবিতাটি শেষ হয়েছে এক অদম্য আশাবাদ ও মিলনের মন্ত্র দিয়ে।
কিন্তু কবিতার শেষ স্তবকে এসে কবি এই নিরাশার অন্ধকার চিরকাল স্থায়ী হতে দেননি। তিনি বলেছেন, যদিও সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে, যদিও সাহায্য করার মতো 'কিছুই কোথাও' নেই, তবুও যে অল্প কয়েকজন মানুষ অবশিষ্ট আছে, তাদের মধ্যেই বেঁচে থাকার বীজ লুকিয়ে আছে। এই বেঁচে থাকাটাই এক বড়ো আশা। কবি এই অবশিষ্ট মানুষদের হতাশা ঝেড়ে ফেলে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের হাতে হাত রাখার শক্তি অনেক বড়ো। সঙ্ঘবদ্ধ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই পারে যুদ্ধবাজদের ধ্বংসলীলা থামিয়ে নতুন এক মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে। তাই চরম সর্বনাশের মুখে দাঁড়িয়েও কবিতাটি শেষ হয়েছে এক অদম্য আশাবাদ ও মিলনের মন্ত্র দিয়ে।
৭. ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar & Composition) সিলেবাস অনুযায়ী
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- আমাদের ডান পাশে ধ্বস - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- আমাদের মাথায় বোমারু - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি (বীপ্সা)।
- আমাদের শিশুদের শব - সম্বন্ধ পদে 'দের' বিভক্তি (অকারক)।
- আমরা ভিখারি বারোমাস - কর্ম কারকে 'শূন্য' বিভক্তি (বিধেয় কর্ম)।
- আমরা ফিরেছি দোরে দোরে - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
সমাস নির্ণয়
- গিরিখাদ: গিরির খাদ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
- বোমারু: বোমা মারে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- চোখমুখ: চোখ ও মুখ (দ্বন্দ্ব সমাস)।
- বারোমাস: বারো মাসের সমাহার (দ্বিগু সমাস)।
- ইতিহাস: ইতি (এমনই) হাস (ছিল) যা (বহুব্রীহি সমাস) অথবা, ইতিহাসকে জানেন যিনি = ঐতিহাসিক (উপপদ)। এখানে ইতিহাস শব্দটি রূঢ়ি শব্দ।
বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন
- বাক্য: কিছুই কোথাও যদি নেই, তবু তো কজন আছি বাকি। (সরল বাক্যে)
উত্তর: কিছুই কোথাও না থাকলেও কজন বাকি আছি। - বাক্য: আমাদের ইতিহাস নেই। (অস্ত্যর্থক বাক্যে)
উত্তর: আমরা ইতিহাসহীন। - বাচ্য: আয় আরো হাতে হাত রেখে বেঁধে বেঁধে থাকি। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: আয় আরো হাতে হাত রেখে বেঁধে বেঁধে থাকা হোক। - বাচ্য: আমরা ফিরেছি দোরে দোরে। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: আমাদের দোরে দোরে ফেরা হয়েছে।
নির্মিতি (অনুশীলনের জন্য)
- কাল্পনিক সংলাপ: "যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই" - এই বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
- প্রতিবেদন রচনা: "শহরে হঠাৎ বোমাবর্ষণ, বিধ্বস্ত সাধারণ জনজীবন" - এই শিরোনামে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
- প্রবন্ধ রচনা: "বিশ্বশান্তি ও মানবতা" অথবা "যুদ্ধ ও সাধারণ মানুষের বিপন্নতা"।
- বঙ্গানুবাদ: War brings nothing but destruction. It ruins homes, kills innocent children, and forces people into extreme poverty. History shows that only the powerful gain from wars, while the common people suffer the most. Therefore, unity among ordinary people is the only way to resist this aggression.
(অনুবাদ: যুদ্ধ ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই আনে না। এটি ঘরবাড়ি ধ্বংস করে, নিরীহ শিশুদের হত্যা করে এবং মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। ইতিহাস দেখায় যে যুদ্ধ থেকে কেবল ক্ষমতাশালীরাই লাভবান হয়, আর সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়। তাই, এই আগ্রাসন রুখতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একতাই হলো একমাত্র পথ।)
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
কবিতাটি প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন এবং এটি তাঁর 'জলই পাষাণ হয়ে আছে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবিতায় 'বেঁধে বেঁধে থাকি' কথাটির অর্থ হলো সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাত রেখে সঙ্ঘবদ্ধ বা একজোট হয়ে থাকা, যাতে বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়।
ইতিহাসে কেবল রাজা বা ক্ষমতাশালীদের কথা লেখা থাকে। সমাজ ও সভ্যতা গড়া সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কথা সেখানে উপেক্ষিত হয় বা বিকৃত করে লেখা হয়, তাই কবি বলেছেন তাদের কোনো ইতিহাস নেই।
সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধের ফলে বিপন্ন সাধারণ মানুষের হতাশা ঝেড়ে ফেলে, বেঁচে থাকার তাগিদে ঐক্যবদ্ধ বা সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার ডাক দেওয়াই হলো এই কবিতার মূল বার্তা।