অদল বদল (পান্নালাল প্যাটেল)

পান্নালাল প্যাটেল রচিত 'অদল বদল' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ, এবং প্রশ্নোত্তর। তরজমা: অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত পান্নালাল প্যাটেল রচিত 'অদল বদল' গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ

অদল বদল গল্পটি গুজরাতি লেখক পান্নালাল প্যাটেলের লেখা একটি মর্মস্পর্শী গল্প। এই গল্পের মূল বিষয়বস্তু হলো দুটি ভিন্ন ধর্মের কিশোরের মধ্যে নিখাদ ভালোবাসা এবং বন্ধুত্বের জয়গান।

অমৃত ও ইসাব অভিন্নহৃদয় দুই বন্ধু। তাদের দুজনের বাড়ি মুখোমুখি, বাবারা দুজনেই চাষি এবং তারা একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ে। দুজনের মধ্যে তফাত শুধু এই যে, অমৃতের বাবা, মা ও তিন ভাই আছে, কিন্তু ইসাবের শুধু বাবা ছাড়া আর কেউ নেই। হোলির দিন বিকেলে দুজনে একই রকম নতুন জামা পরে গ্রামের ছেলেদের সাথে খেলতে যায়। সেখানে কালিয়া নামে একটি ছেলে জোর করে অমৃতের সাথে কুস্তি লড়তে চায় এবং অমৃতকে মাটিতে ফেলে দেয়। বন্ধুকে অপমানিত হতে দেখে ইসাব রাগে কালিয়াকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়। কিন্তু এই ধস্তাধস্তিতে ইসাবের নতুন জামার পকেট ছিঁড়ে যায়।

ছেঁড়া জামা দেখে ইসাবের বাবা তাকে খুব মারবে, এই ভয়ে দুই বন্ধু আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তখন অমৃত এক অসামান্য বন্ধুত্বের পরিচয় দেয়। সে ইসাবকে জোর করে গলির আড়ালে নিয়ে গিয়ে নিজের আস্ত জামাটি ইসাবকে পরিয়ে দেয় এবং নিজে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি পরে। ইসাব যখন বলে যে এতে তো অমৃত মার খাবে, তখন অমৃত এক অদ্ভুত সুন্দর উত্তর দেয়, "আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।" এই ঘটনা ইসাবের বাবা হাসান লুকিয়ে দেখেন। তিনি অমৃতের এই বন্ধুপ্রীতি এবং মাতৃত্বের প্রতি গভীর বিশ্বাস দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সবার সামনে ঘোষণা করেন যে, অমৃতের মতো ছেলে পেলে তিনি একুশজনকেও পালন করতে রাজি। গ্রামের মানুষ তাদের এই নিখাদ ভালোবাসার কথা জানতে পেরে তাদের নাম দেয় "অদল" এবং "বদল"।

২. লেখক পরিচিতি

পান্নালাল প্যাটেল (১৯১২-১৯৮৯): গুজরাতি ভাষার প্রসিদ্ধ লেখক পান্নালাল প্যাটেল রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণ মানুষ আর গ্রামজীবন তাঁর রচনায় প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতি বিষয়েও তিনি বিশেষ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পসংগ্রহ হলো- 'সাচা সম্মান', 'জিন্দেগি কা খেল', 'লাখ চোরাসি', 'সুখ দুখনান সাথী', 'কোই দেশি কোই পরদেশি', 'আসমানি নজর' প্রভৃতি। সাহিত্যকীর্তির জন্য তিনি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে রঞ্জিত রাম সুবর্ণচন্দ্রক এবং ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান 'জ্ঞানপীঠ পুরস্কার' লাভ করেন। 'অদল বদল' গল্পটি বাংলায় তরজমা করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন

১. 'অদল বদল' গল্পটি কোন ভাষায় রচিত হয়েছিল?
(ক) হিন্দি (খ) গুজরাতি (গ) মারাঠি (ঘ) বাংলা
উত্তর: (খ) গুজরাতি
২. 'অদল বদল' গল্পের লেখক কে?
(ক) প্রেমচাঁদ (খ) পান্নালাল প্যাটেল (গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (ঘ) অমৃতা প্রীতম
উত্তর: (খ) পান্নালাল প্যাটেল
৩. গল্পটি বাংলায় কে তরজমা করেছেন?
(ক) মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (খ) নবারুণ ভট্টাচার্য (গ) অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত (ঘ) শঙ্খ ঘোষ
উত্তর: (গ) অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত
৪. হোলির দিনের পড়ন্ত বিকেলে ছেলেরা কোথায় খেলছিল?
(ক) নদীর ধারে (খ) নিম গাছের নীচে (গ) স্কুলের মাঠে (ঘ) বট গাছের নীচে
উত্তর: (খ) নিম গাছের নীচে
৫. ছেলেরা কী খেলছিল?
(ক) ফুটবল (খ) ক্রিকেট (গ) ধুলো ছোড়াছুড়ি (ঘ) লুকোচুরি
উত্তর: (গ) ধুলো ছোড়াছুড়ি
৬. হাত ধরাধরি করে কারা এল?
(ক) কালিয়া ও ইসাব (খ) অমৃত ও ইসাব (গ) হাসান ও অমৃত (ঘ) দুই ভাই
উত্তর: (খ) অমৃত ও ইসাব
৭. অমৃত ও ইসাবের গায়ে কী ছিল?
(ক) স্কুলের ইউনিফর্ম (খ) ছেঁড়া জামা (গ) সেদিনকার তৈরি নতুন জামা (ঘ) রঙিন পাঞ্জাবি
উত্তর: (গ) সেদিনকার তৈরি নতুন জামা
৮. অমৃত ও ইসাবের বাড়ি কোথায়?
(ক) রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি (খ) গ্রামের দুই প্রান্তে (গ) নদীর দুই তীরে (ঘ) শহরের মাঝে
উত্তর: (ক) রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি
৯. দুজনের বাবার পেশা কী ছিল?
(ক) দোকানদার (খ) শিক্ষক (গ) চাষি (ঘ) জেলে
উত্তর: (গ) চাষি
১০. অমৃতের পরিবারে কে কে আছে?
(ক) শুধু বাবা (খ) বাবা, মা আর এক ভাই (গ) বাবা-মা আর তিন ভাই (ঘ) বাবা-মা আর দুই বোন
উত্তর: (গ) বাবা-মা আর তিন ভাই
১১. ইসাবের পরিবারে কে আছে?
(ক) বাবা ও মা (খ) শুধু তার বাবা (গ) শুধু তার মা (ঘ) বাবা, মা ও ভাই
উত্তর: (খ) শুধু তার বাবা
১২. দলের একটি ছেলে ওদের কী করতে বলল?
(ক) দৌড়াতে (খ) ফুটবল খেলতে (গ) কুস্তি করতে (ঘ) গান গাইতে
উত্তর: (গ) কুস্তি করতে
১৩. অমৃত কুস্তি করতে কেন রাজি হলো না?
(ক) সে ভয় পায় বলে (খ) তার গায়ে জ্বর ছিল (গ) জামা ময়লা হলে মা ঠ্যাঙ্গাবে বলে (ঘ) সে কুস্তি জানে না বলে
উত্তর: (গ) জামা ময়লা হলে মা ঠ্যাঙ্গাবে বলে
১৪. অমৃত কার মতো জামা পাওয়ার জন্য ফতোয়া জারি করেছিল?
(ক) কালিয়ার মতো (খ) তার দাদার মতো (গ) ইসাবের মতো (ঘ) শহরের ছেলের মতো
উত্তর: (গ) ইসাবের মতো
১৫. ইসাবের জামা কেন ছিঁড়ে গিয়েছিল?
(ক) খেলতে গিয়ে (খ) ক্ষেতে কাজ করতে হয় বলে (গ) ইঁদুরে কেটেছে বলে (ঘ) মারামারি করে
উত্তর: (খ) ক্ষেতে কাজ করতে হয় বলে
১৬. অমৃত তার পুরোনো জামাটি কী করেছিল?
(ক) ফেলে দিয়েছিল (খ) কাঁচি দিয়ে কেটেছিল (গ) ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে আরো ছিঁড়ে দিয়েছিল (ঘ) পুড়িয়ে দিয়েছিল
উত্তর: (গ) ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে আরো ছিঁড়ে দিয়েছিল
১৭. নতুন জামা দেবার আগে ইসাবের বাবা তাকে কী করেছিলেন?
(ক) বকেছিলেন (খ) খুব মেরেছিলেন (গ) আদর করেছিলেন (ঘ) খেতে দেননি
উত্তর: (খ) খুব মেরেছিলেন
১৮. জামার দাবিতে অমৃত কী কী করা বন্ধ করে দিয়েছিল?
(ক) স্কুলে যাওয়া ও খাওয়া (খ) খেলা ও কথা বলা (গ) ঘুমানো ও পড়া (ঘ) টিভি দেখা
উত্তর: (ক) স্কুলে যাওয়া ও খাওয়া
১৯. অমৃত কোথায় লুকিয়ে ছিল?
(ক) ইসাবের বাবার গোয়ালঘরে (খ) স্কুলের ছাদে (গ) নিম গাছে (ঘ) খাটিয়ার নীচে
উত্তর: (ক) ইসাবের বাবার গোয়ালঘরে
২০. কে এসে অমৃতের গলা জড়িয়ে ধরেছিল?
(ক) ইসাব (খ) হাসান (গ) কালিয়া (ঘ) গ্রামের মোড়ল
উত্তর: (গ) কালিয়া
২১. কালিয়া অমৃতকে কী করেছিল?
(ক) আদর করেছিল (খ) ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল (গ) তাড়িয়ে দিয়েছিল (ঘ) জামা ছিঁড়ে দিয়েছিল
উত্তর: (খ) ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল
২২. কার মেজাজ চড়ে গেল?
(ক) অমৃতের (খ) কালিয়ার (গ) ইসাবের (ঘ) হাসনের
উত্তর: (গ) ইসাবের
২৩. ইসাব কালিয়াকে কী মেরে মাটিতে ফেলে দিল?
(ক) ঘুসি (খ) লাথি (গ) ল্যাং (ঘ) চড়
উত্তর: (গ) ল্যাং
২৪. কালিয়া কীভাবে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল?
(ক) ব্যাঙের মতো হাত পা ছড়িয়ে (খ) কুকুরের মতো (গ) সাপের মতো (ঘ) বিড়ালের মতো
উত্তর: (ক) ব্যাঙের মতো হাত পা ছড়িয়ে
২৫. ছেলেরা কেন পালিয়ে গেল?
(ক) বৃষ্টি আসছিল বলে (খ) রাত হয়ে গিয়েছিল বলে (গ) কালিয়ার বাবা-মা এসে পিটুতে পারে বলে (ঘ) ভূত দেখেছিল বলে
উত্তর: (গ) কালিয়ার বাবা-মা এসে পিটুতে পারে বলে
২৬. ইসাবের জামার পকেট কতটা ছিঁড়ে গিয়েছিল?
(ক) দু-ইঞ্চি (খ) চার-ইঞ্চি (গ) ছ'ইঞ্চি (ঘ) আট-ইঞ্চি
উত্তর: (গ) ছ'ইঞ্চি
২৭. ইসাবের বাবা কার কাছ থেকে টাকা ধার করে জামা কিনেছিলেন?
(ক) ব্যাংকের কাছ থেকে (খ) অমৃতের বাবার কাছ থেকে (গ) সুদখোরের কাছ থেকে (ঘ) কালিয়ার বাবার কাছ থেকে
উত্তর: (গ) সুদখোরের কাছ থেকে
২৮. ছেঁড়া জামা দেখে অমৃতের মাথায় কী বুদ্ধি এল?
(ক) পালিয়ে যাওয়ার (খ) মিথ্যা বলার (গ) জামা অদল-বদল করার (ঘ) সেলাই করার
উত্তর: (গ) জামা অদল-বদল করার
২৯. "তোর কী হবে, তুই কী পরবি?" - কে কাকে বলেছে?
(ক) অমৃত ইসাবকে (খ) ইসাব অমৃতকে (গ) কালিয়া অমৃতকে (ঘ) মা অমৃতকে
উত্তর: (খ) ইসাব অমৃতকে
৩০. "আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার..." - শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) বাবা আছে (খ) বন্ধু আছে (গ) মা আছে (ঘ) ভাই আছে
উত্তর: (গ) মা আছে
৩১. অমৃতের বাবা যখনই মারতে গেছেন, অমৃত কার পেছনে লুকিয়েছে?
(ক) ভাইয়ের (খ) ইসাবের (গ) মায়ের (ঘ) দাদির
উত্তর: (গ) মায়ের
৩২. কারা কাছেই কাউকে কাশতে শুনল?
(ক) কালিয়া ও তার বন্ধুরা (খ) অমৃত ও ইসাব (গ) হাসান ও বাহালি বৌদি (ঘ) শুধু ইসাব
উত্তর: (খ) অমৃত ও ইসাব
৩৩. দিনটা কীসের ছিল?
(ক) দীপাবলির (খ) ইদের (গ) হোলির (ঘ) দশেরার
উত্তর: (গ) হোলির
৩৪. অমৃতের মা ছেঁড়া জামা দেখে কী করলেন?
(ক) খুব মারলেন (খ) বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন (গ) ভুরু কুঁচকোলেন কিন্তু মাফ করে রিফু করে দিলেন (ঘ) নতুন জামা কিনে দিলেন
উত্তর: (গ) ভুরু কুঁচকোলেন কিন্তু মাফ করে রিফু করে দিলেন
৩৫. ওরা গ্রামের ধারে কী দেখতে গেল?
(ক) মেলা (খ) বাজি আর বুড়ির বাড়ি পোড়ানো (গ) সার্কাস (ঘ) যাত্রা
উত্তর: (খ) বাজি আর বুড়ির বাড়ি পোড়ানো
৩৬. একটি ছেলে ওদের আনন্দ মাটি করার জন্য কী বলল?
(ক) তোরা চোর (খ) তোরা অদল-বদল করেছিস, হুম্ (গ) তোরা মার খাবি (ঘ) তোরা হেরে গেছিস
উত্তর: (খ) তোরা অদল-বদল করেছিস, হুম্
৩৭. ইসাবের বাবা কোথায় বসে হুঁকো খাচ্ছিলেন?
(ক) ঘরের ভেতরে (খ) মাঠের ধারে (গ) বাড়ির সামনের দাওয়ায় খাটিয়ায় (ঘ) ছাদের ওপর
উত্তর: (গ) বাড়ির সামনের দাওয়ায় খাটিয়ায়
৩৮. ইসাবের বাবার নাম কী?
(ক) কাসেম (খ) হাসান (গ) রহিম (ঘ) আবদুল
উত্তর: (খ) হাসান
৩৯. "আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।" - কে, কাকে বলেছেন?
(ক) হাসান বাহালি বৌদিকে (খ) বাহালি বৌদি হাসানকে (গ) গ্রামের প্রধান হাসানকে (ঘ) অমৃত ইসাবকে
উত্তর: (ক) হাসান বাহালি বৌদিকে
৪০. অমৃতের মায়ের নাম কী?
(ক) ফতেমা (খ) বাহালি বৌদি (গ) রাধা (ঘ) আমিনা
উত্তর: (খ) বাহালি বৌদি
৪১. ইসাবের বাবা কী জাতীয় মানুষ ছিলেন?
(ক) রাজপুত (খ) মারাঠা (গ) পাঠান (ঘ) বাঙালি
উত্তর: (গ) পাঠান
৪২. অমৃতের বয়স কত ছিল?
(ক) আট বছর (খ) দশ বছর (গ) বারো বছর (ঘ) পনেরো বছর
উত্তর: (খ) দশ বছর
৪৩. হাসান ভাই কতজন ছেলেকে পালন করতে রাজি?
(ক) দশজন (খ) বারোজন (গ) একুশজন (ঘ) পঞ্চাশজন
উত্তর: (গ) একুশজন
৪৪. পাঠানের গল্প শোনার জন্য কারা ঘিরে দাঁড়াল?
(ক) স্কুলের শিক্ষকরা (খ) গ্রামের মোড়লরা (গ) পাড়া-পড়শি মায়ের দল (ঘ) শুধু ছেলেরা
উত্তর: (গ) পাড়া-পড়শি মায়ের দল
৪৫. "অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে।" - জবাবটি কী ছিল?
(ক) আমার জামা ছিঁড়ে গেছে (খ) আমি কুস্তি লড়ব না (গ) আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার মা আছে (ঘ) আমি ওকে ভালোবাসি
উত্তর: (গ) আমাকে বাঁচানোর জন্য আমার মা আছে
৪৬. অদল-বদলের গল্প কার কানে গেল?
(ক) পুলিশের (খ) মাস্টারের (গ) গ্রাম-প্রধানের (ঘ) সুদখোরের
উত্তর: (গ) গ্রাম-প্রধানের
৪৭. গ্রাম-প্রধান কী ঘোষণা করলেন?
(ক) ওদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে (খ) ওদের পুরস্কৃত করা হবে (গ) আজ থেকে আমরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকব (ঘ) ওদের নতুন জামা দেওয়া হবে
উত্তর: (গ) আজ থেকে আমরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকব
৪৮. ক্রমশ গ্রাম পেরিয়ে আকাশ বাতাস কোন আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠল?
(ক) হোলি হ্যায় (খ) জয় শ্রী রাম (গ) অমৃত-ইসাব অদল-বদল, অদল-বদল (ঘ) ভারত মাতা কি জয়
উত্তর: (গ) অমৃত-ইসাব অদল-বদল, অদল-বদল
৪৯. পান্নালাল প্যাটেল কোন রাজ্যের মানুষ ছিলেন?
(ক) মহারাষ্ট্র (খ) রাজস্থান (গ) গুজরাত (ঘ) পাঞ্জাব
উত্তর: (খ) রাজস্থান
৫০. পান্নালাল প্যাটেল কত খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান?
(ক) ১৯৫০ (খ) ১৯৮০ (গ) ১৯৮৫ (ঘ) ১৯৮৯
উত্তর: (গ) ১৯৮৫

৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন

১. হোলির দিন বিকেলে গ্রামের ছেলেরা কোথায় কী করছিল?
উত্তর: হোলির দিন পড়ন্ত বিকেলে গ্রামের একদল ছেলে নিম গাছের নীচে জড়ো হয়ে ধুলো ছোড়াছুড়ি করে খেলছিল।
২. অমৃত ও ইসাব কীভাবে ছেলেদের কাছে এল?
উত্তর: অমৃত ও ইসাব হাত ধরাধরি করে নিম গাছের নীচে খেলতে থাকা ছেলেদের কাছে এল।
৩. অমৃত ও ইসাবের জামার বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: দুজনে সেদিনকার তৈরি নতুন জামা পরেছিল, যাদের রং, মাপ এবং কাপড় সব দিক থেকেই হুবহু একরকম ছিল।
৪. অমৃত ও ইসাবের মধ্যে মিল কোথায় কোথায় ছিল?
উত্তর: তারা দুজনে একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ে, তাদের বাড়ি রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি, দুজনের বাবাই পেশায় চাষি এবং জমিও প্রায় সমান সমান।
৫. অমৃত ও ইসাবের পরিবারের মধ্যে একমাত্র তফাত কী ছিল?
উত্তর: অমৃতের বাবা, মা আর তিন ভাই রয়েছে, কিন্তু ইসাবের পরিবারে শুধু তার বাবা আছে, আর কেউ নেই।
৬. দলের একটি ছেলে ওদের একই রকম পোশাক দেখে কী প্রস্তাব দিল?
উত্তর: দলের একটি ছেলে প্রস্তাব দিল যে তারা দুজনে কুস্তি করুক, যাতে বোঝা যায় তারা শক্তিতেও সমান-সমান কি না।
৭. অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি হলো না কেন?
উত্তর: অমৃত জানত যে কুস্তি লড়লে তার নতুন জামা ময়লা হবে বা ছিঁড়ে যাবে, আর এমনটি হলে তার মা তাকে ভীষণ ঠ্যাঙ্গাবে বা মারবে, তাই সে রাজি হয়নি।
৮. বাড়ি থেকে বেরোবার সময় অমৃতের মা তাকে কী বলে সাবধান করেছিলেন?
উত্তর: মা সাবধান করে বলেছিলেন যে, নতুন জামার জন্য সে যা কাণ্ড করেছিল, এরপর জামা ময়লা বা ছিঁড়ে এলে তার কপালে দুঃখ আছে।
৯. অমৃত কী ফতোয়া জারি করেছিল?
উত্তর: অমৃত ফতোয়া জারি করেছিল যে, ঠিক ইসাবের মতো জামাটি না পেলে সে আর স্কুলে যাবে না।
১০. ইসাবকে কেন নতুন জামা দেওয়া হয়েছিল বলে অমৃতের মা জানিয়েছিলেন?
উত্তর: অমৃতের মা বুঝিয়েছিলেন যে, ইসাবকে বাবার সাথে ক্ষেতে কাজ করতে হয় বলে তার জামা ছিঁড়ে গেছে, তাই তাকে নতুন জামা দেওয়া হয়েছে।
১১. অমৃত নিজের পুরোনো জামাটাকে কী করেছিল?
উত্তর: ইসাবের মতো নতুন জামা পাওয়ার জেদে অমৃত কাঁদতে কাঁদতে তার জামার একটা ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে জামাটাকে আরও ছিঁড়ে দিয়েছিল।
১২. ইসাবের বাবা ইসাবকে নতুন জামা দেওয়ার আগে কী করেছিলেন?
উত্তর: ইসাবের বাবা নতুন জামা কিনে দেওয়ার আগে ইসাবকে খুব মেরেছিলেন।
১৩. মার খাওয়ার কথায় অমৃত কী জবাব দিয়েছিল?
উত্তর: অমৃত মরিয়া হয়ে বলেছিল, "ঠিক আছে, আমাকে বেঁধে রাখো! মারো! কিন্তু তোমাকে ইসাবের মতো একটা জামা আমার জন্য জোগাড় করতেই হবে।"
১৪. জামা পাওয়ার জন্য অমৃত কী কী বিদ্রোহ করেছিল?
উত্তর: অমৃত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল, খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল এবং রাত্তিরে বাড়ি ফিরতেও রাজি হয়নি।
১৫. অমৃত রাতে কোথায় লুকিয়ে ছিল?
উত্তর: অমৃত রাতে ইসাবের বাবার গোয়ালঘরে লুকিয়ে ছিল।
১৬. কে অমৃতের গলা জড়িয়ে ধরেছিল এবং কেন?
উত্তর: কালিয়া নামে একটি ছেলে এসে অমৃতের গলা জড়িয়ে ধরেছিল, জোর করে তার সাথে কুস্তি লড়ার জন্য।
১৭. কালিয়া অমৃতকে কী করল?
উত্তর: কালিয়া অমৃতকে ছাড়ল তো নাই, বরং জোর করে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দিল।
১৮. ইসাব কালিয়াকে কী বলে চ্যালেঞ্জ করেছিল?
উত্তর: বন্ধু অমৃতকে মাটিতে ফেলে দেওয়ায় ইসাবের মেজাজ চড়ে যায়, সে কালিয়ার হাত ধরে বলে, "আয়, আমি তোর সঙ্গে লড়ব।"
১৯. ইসাব ও কালিয়ার কুস্তির ফল কী হলো?
উত্তর: ইসাব ল্যাং মারায় কালিয়া ব্যাঙের মতো হাত পা ছড়িয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে চ্যাঁচাতে লাগল।
২০. সবাই কেন পালিয়ে গেল?
উত্তর: কালিয়া মাটিতে পড়ে চ্যাঁচাতে শুরু করায় সবাই বুঝতে পারল ব্যাপারটা ঘোরালো হয়ে পড়েছে এবং কালিয়ার বাবা-মা এসে পিটুতে পারে, তাই সবাই পালিয়ে গেল।
২১. ইসাবের জামার কী ক্ষতি হয়েছিল?
উত্তর: কুস্তির ধস্তাধস্তিতে ইসাবের নতুন জামার পকেট এবং তার পাশের ছ'ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গিয়েছিল।
২২. ছেঁড়া শার্ট দেখলে ইসাবের বাবা কী করবেন বলে ওরা ভাবল?
উত্তর: ওরা ভাবল যে ছেঁড়া শার্ট দেখা মাত্র ইসাবের বাবা ইসাবের চামড়া তুলে নেবেন বা প্রচণ্ড মারবেন।
২৩. ইসাবের বাবা কীভাবে জামার টাকা জোগাড় করেছিলেন?
উত্তর: ইসাবের বাবা সুদখোরের কাছ থেকে টাকা ধার করে অনেক বাছাবাছি করে কাপড় কিনে জামা সেলাই করিয়েছিলেন।
২৪. ইসাবের বাবা কীভাবে ডাকছিলেন?
উত্তর: ইসাবের বাবা চেঁচিয়ে ডাকছিলেন, "কে কাঁদছে, ইসাব কোথায়?"
২৫. অমৃতের মাথায় কী বুদ্ধি খেলে গেল?
উত্তর: অমৃতের মাথায় বুদ্ধি এল যে, সে তার আস্ত জামাটা ইসাবকে পরিয়ে দেবে এবং নিজে ইসাবের ছেঁড়া জামাটা পরবে।
২৬. ইসাব জামা বদলাতে ইতস্তত করছিল কেন?
উত্তর: ইসাব ভাবছিল ছেঁড়া জামা পরে গেলে অমৃতকে তার বাবা প্রচণ্ড পিটোবে, তাই সে বন্ধুর বিপদের কথা ভেবে ইতস্তত করছিল।
২৭. "আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।" - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, অমৃতের বাবা তাকে মারতে এলেও তার মা তাকে রক্ষা করবে, কিন্তু মাতৃৃহীন ইসাবকে রক্ষা করার কেউ নেই।
২৮. ওরা ঝটপট জামা অদল-বদল করল কেন?
উত্তর: খুব কাছে কাউকে কাশতে শুনে কেউ তাদের দেখে ফেলার ভয়ে ওরা ঝটপট জামা অদল-বদল করে নিল।
২৯. অমৃতের মা ছেঁড়া জামা দেখে কী করলেন?
উত্তর: হোলির দিন ধস্তাধস্তি হয় বলে মা ভুরু কুঁচকালেও মাফ করে দিলেন এবং একটি সুঁচ-সুতো নিয়ে ছেঁড়া জামাটা রিফু করে দিলেন।
৩০. ভয় কেটে যাওয়ার পর ওরা কী দেখতে গেল?
উত্তর: ভয় কেটে যাওয়ার পর ওরা হাত ধরাধরি করে গ্রামের ধারে হোলির সময়কার বাজি আর বুড়ির বাড়ি পোড়ানো দেখতে গেল।
৩১. একটা ছেলে ওদের আনন্দ মাটি করার জন্য কী চ্যাঁচাতে লাগল?
উত্তর: ছেলেটি চ্যাঁচাতে লাগল, "তোরা অদল-বদল করেছিস, হুম্!"
৩২. ইসাবের বাবা বাড়ির সামনের দাওয়ায় বসে কী করছিলেন?
উত্তর: ইসাবের বাবা, হাসান, বাড়ির সামনের দাওয়ায় খাটিয়ায় বসে হুঁকো খাচ্ছিলেন।
৩৩. ইসাবের বাবা ওদের ডাকলে ওরা কী ভেবেছিল?
উত্তর: ওরা ভেবেছিল যে ইসাবের বাবা আসল ঘটনাটা জেনে গেছেন এবং শুধু ভালোবাসার ভান করে তাদের ডাকছেন।
৩৪. ইসাবের বাবা অমৃতকে জড়িয়ে ধরে কী বললেন?
উত্তর: তিনি চেঁচিয়ে বললেন, "বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।"
৩৫. বাহালি বৌদি হাসতে হাসতে কী উত্তর দিলেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "হাসান ভাই, আপনি এক ছেলেকেই দেখে উঠতে পারেন না, তা দুজনকে কী করে সামলাবেন?"
৩৬. হাসান ভাই আবেগ ভরা গলায় কী বললেন?
উত্তর: তিনি বললেন, "বাহালি বৌদি, অমৃতের মতো ছেলে পেলে আমি একুশজনকেও পালন করতে রাজি আছি।"
৩৭. হাসান ভাই কীভাবে আসল ঘটনা জেনেছিলেন?
উত্তর: ছেলে দুটোকে গলিতে ঢুকতে দেখেই সন্দেহ হওয়ায় তিনি লুকিয়ে তাদের অনুসরণ করেছিলেন এবং জামা বদলের পুরো ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছিলেন ও শুনেছিলেন।
৩৮. অমৃতের কোন কথাটি হাসান ভাইকে বদলে দিয়েছিল?
উত্তর: "কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা রয়েছে" - মাতৃত্বের প্রতি নির্ভরশীলতার এই খাঁটি কথাটিই তাঁকে বদলে দিয়েছিল।
৩৯. গ্রামের প্রধান কী ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তর: গ্রামের প্রধান ঘোষণা করেছিলেন যে, আজ থেকে গ্রামের সবাই অমৃতকে 'অদল' এবং ইসাবকে 'বদল' বলে ডাকবে।
৪০. আকাশ বাতাস কোন আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠল?
উত্তর: ক্রমশ গ্রাম পেরিয়ে আকাশ বাতাসও "অমৃত-ইসাব অদল-বদল, অদল-বদল" এই আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠল।

৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন

১. 'অদল বদল' গল্পে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের যে অকৃত্রিম পরিচয় পাওয়া যায়, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

উত্তর: পান্নালাল প্যাটেল রচিত 'অদল বদল' গল্পের মূল উপজীব্য হলো অমৃত ও ইসাব নামক দুই ভিন্ন ধর্মের কিশোরের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব। তাদের বন্ধুত্বের কয়েকটি দিক হলো:

১. অভিন্ন হৃদয়: তারা একই স্কুলে পড়ে, বাড়িও মুখোমুখি। তারা পোশাকও একই রকম পরতে ভালোবাসে। অমৃতের জেদেই তার বাবা ইসাবের মতো হুবহু একই জামা কিনে দিতে বাধ্য হন। তারা সর্বদাই একে অপরের হাত ধরে ঘুরে বেড়ায়।
২. পরস্পরের রক্ষাকর্তা: হোলির দিন কালিয়া যখন অমৃতকে জোর করে মাটিতে ফেলে দেয়, তখন ইসাব বন্ধুকে অপমানিত হতে দেখে চুপ থাকেনি। সে নিজের জামা বা বাবার মারের কথা ভুলে গিয়ে কালিয়াকে ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে বন্ধুর অপমানের বদলা নেয়।
৩. ত্যাগ ও সমমর্মিতা: মারামারির জেরে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেলে, অমৃত জানে যে ইসাবের বাবা তাকে প্রচণ্ড মারবে। তখন অমৃত কোনো দ্বিধা না করে নিজের আস্ত জামাটি ইসাবকে দিয়ে দেয় এবং নিজে ছেঁড়া জামাটি পরে। সে জানে তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে, কিন্তু মাতৃহীন ইসাবকে বাঁচানোর কেউ নেই। অমৃতের এই ত্যাগ ও ইসাবের প্রতি তার ভালোবাসা তাদের বন্ধুত্বকে এক অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

২. "কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।" - উক্তিটির বক্তা কে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: বক্তা: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে উদ্ধৃত কথাটির বক্তা হলো দশ বছরের কিশোর অমৃত। সে তার অভিন্নহৃদয় বন্ধু ইসাবকে এই কথাটি বলেছিল।

তাৎপর্য: হোলির দিন কালিয়া নামক এক দামাল ছেলের সাথে ধস্তাধস্তিতে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ইসাবের বাবা অত্যন্ত দরিদ্র, তিনি অনেক কষ্টে ধারদেনা করে জামাটি কিনেছিলেন। তাই ছেঁড়া জামা দেখলে তিনি ইসাবকে প্রচণ্ড মারবেন। বন্ধুকে এই নিশ্চিত মারের হাত থেকে বাঁচাতে অমৃত নিজের আস্ত জামাটি ইসাবকে দিয়ে ছেঁড়া জামাটি নিজে পরতে চায়।
ইসাব যখন বলে যে এতে তো অমৃতের বাবা অমৃতকে মারবে, তখন অমৃত এই চরম আবেগপূর্ণ কথাটি বলে। অমৃতের বাবা, মা ও তিন ভাই আছে। সে জানে তার বাবা মারতে এলে মমতাময়ী মা তাকে ঠিক বুকে আগলে বাঁচিয়ে নেবে। কিন্তু ইসাবের সংসারে শুধু তার বাবা, তাকে বাঁচানোর জন্য কোনো মা নেই। মাতৃস্নেহের প্রতি অটুট বিশ্বাস এবং মাতৃহীন বন্ধুর প্রতি গভীর সমমর্মিতাই এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

৩. 'অদল বদল' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, চরিত্র বা ব্যঞ্জনার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। পান্নালাল প্যাটেলের এই গল্পের নামকরণ 'অদল বদল' একটি গভীর ব্যঞ্জনাবাহী নাম।

গল্পের উপরিভাগে আমরা দেখি, অমৃত ও ইসাব বিপদের মুহূর্তে নিজেদের জামা অদল বদল করেছে। ইসাবকে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচাতে অমৃত নিজের নতুন জামাটি দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি পরে নেয়। এই 'জামা বদল' গল্পের একটি অন্যতম প্রধান ঘটনা।
কিন্তু এর গভীরে রয়েছে এক বিরাট আত্মিক অদল-বদল। এই জামা বদলের মধ্য দিয়ে দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু ও মুসলিম) পরিবারের মধ্যে এক গভীর আত্মিক মেলবন্ধন ঘটেছে। ইসাবের বাবা হাসান যখন অমৃতের মাতৃভক্তি ও বন্ধুর প্রতি ভালোবাসার কথা জানতে পারেন, তখন তাঁর ধর্মান্ধ বা রূঢ় মনটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি অমৃতকে নিজের ছেলে হিসেবে স্বীকার করে নেন। শেষ পর্যন্ত গ্রামের মানুষেরাও তাদের বন্ধুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের নাম দেয় 'অদল' এবং 'বদল'। তাই বাহ্যিক জামা বদল থেকে শুরু করে হৃদয়ের এই গভীর পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই গল্পের নাম 'অদল বদল' রাখা হয়েছে, যা সর্বতোভাবে সার্থক।

৪. ইসাবের বাবা হাসান চরিত্রটির পরিচয় দাও। তাঁর চরিত্র কীভাবে বদলে গিয়েছিল?

উত্তর: 'অদল বদল' গল্পে ইসাবের বাবা হাসান পেশায় একজন দরিদ্র চাষি। তিনি একজন পাঠান। তাঁর চরিত্রে কয়েকটি বিশিষ্ট দিক লক্ষ করা যায়:

১. স্নেহশীল অথচ কঠোর পিতা: তিনি দরিদ্র হলেও ধারদেনা করে ছেলেকে ঈদের/হোলির জন্য নতুন জামা কিনে দেন। আবার ছেলে অবাধ্য হলে তাকে কঠোর হাতে শাসনও করেন (যেমন নতুন জামা কেনার আগে ইসাবকে মেরেছিলেন)।
২. হৃদয়ের পরিবর্তন: গল্পের শেষে হাসানের চরিত্রের এক বিরাট উত্তরণ ঘটে। তিনি লুকিয়ে দেখেন যে তাঁর ছেলের ছেঁড়া জামার জন্য হিন্দু প্রতিবেশী ছেলে অমৃত নিজের আস্ত জামা দিয়ে দিচ্ছে। অমৃতের সেই কথা "আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে" তাঁর পিতৃহৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করে। তাঁর ভেতরের কঠোর পাঠান সত্তা গলে গিয়ে এক পরম স্নেহশীল পিতার রূপ নেয়। তিনি অমৃতকে নিজের ছেলের মতো আপন করে নেন এবং বলেন যে এমন ছেলে পেলে তিনি একুশজনকেও পালন করতে রাজি। তাঁর এই বদল গল্পটিকে এক সম্প্রীতির বার্তায় পৌঁছে দিয়েছে।

৫. "ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।" - কে কাকে শিখিয়েছে? 'খাঁটি জিনিস' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: কে কাকে শিখিয়েছে: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে দশ বছরের কিশোর অমৃত, ইসাবের বাবা হাসানকে শিখিয়েছে খাঁটি জিনিস কাকে বলে।

খাঁটি জিনিসের অর্থ: 'খাঁটি জিনিস' বলতে এখানে নিখাদ ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব এবং মানুষের প্রতি মানুষের আত্মিক টানকে বোঝানো হয়েছে। সমাজে আমরা অনেক সময় জাতপাত, ধর্ম বা অর্থের মাপকাঠিতে মানুষকে বিচার করি। কিন্তু অমৃত এসবের ঊর্ধ্বে গিয়ে কেবল বন্ধুত্বের খাতিরে নিজের বাবার মার খাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ইসাবকে নিজের আস্ত জামাটি পরিয়ে দেয়। উপরন্তু, মাতৃহীন বন্ধুর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সে বলে, তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে। দশ বছরের একটি শিশুর মনে মাতৃস্নেহের প্রতি এই অটুট বিশ্বাস এবং বন্ধুর জন্য এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ হাসানকে হতবাক করে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন যে ধর্মের ভেদাভেদ বা বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে 'খাঁটি জিনিস'।

৬. জামা বদলের ঘটনাটি গ্রামের মানুষের মনে কী প্রভাব ফেলেছিল?

উত্তর: 'অদল বদল' গল্পে অমৃত ও ইসাবের জামা বদলের ঘটনাটি প্রথমদিকে গ্রামের ছেলেদের কাছে নিছক একটি হাসির খোরাক বা খেপানোর বিষয় ছিল। একটি ছেলে তাদের দেখে চেঁচিয়ে ওঠে "তোরা অদল-বদল করেছিস!" এবং বাকি ছেলেরাও তাদের পিছু পিছু তাড়া করে। কিন্তু যখন ইসাবের বাবা হাসান পাড়া-পড়শিদের কাছে আবেগভরা কণ্ঠে এই জামা বদলের পেছনের আসল কারণটি বর্ণনা করেন, তখন পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

হাসান যখন জানান যে অমৃত তার মাতৃহীন বন্ধুকে বাবার মার থেকে বাঁচাতে নিজের আস্ত জামাটা দিয়ে দিয়েছে এবং মাতৃস্নেহের প্রতি তার কী অগাধ বিশ্বাস, তখন উপস্থিত সকলের চোখ সজল হয়ে ওঠে। দুই কিশোরের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ গ্রামের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। হিন্দু-মুসলমান ভেদ ভুলে তারা এই বন্ধুত্বের জয়গান গাইতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত গ্রাম-প্রধান ঘোষণা করেন যে আজ থেকে তাদের নাম 'অদল' এবং 'বদল'। গ্রামের আকাশ-বাতাস তাদের বন্ধুত্বের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

৭. অমৃত কীভাবে তার বাবার কাছ থেকে নতুন জামা আদায় করেছিল তা বর্ণনা করো।

উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পে অমৃত ও ইসাব অভিন্নহৃদয় বন্ধু। ইসাব হোলির দিন পরার জন্য একটি নতুন জামা পেয়েছিল। সেই জামাটি দেখে অমৃতের জেদ চাপে যে তাকেও ঠিক ইসাবের মতো একই রঙের ও মাপের জামা কিনে দিতে হবে।

তার মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গিয়েছিল বলে সে নতুন জামা পেয়েছে। কিন্তু অমৃত তা মানতে নারাজ। সে জেদ করে তার নিজের জামার একটি ছেঁড়া অংশে আঙুল ঢুকিয়ে জামাটি আরও ছিঁড়ে দেয়। মা তখন তাকে ভয় দেখান যে ইসাবের বাবা যেমন ইসাবকে মারধর করে জামা কিনে দিয়েছে, অমৃতের বাবাও তাকে সেভাবে মারবে। অমৃত মরিয়া হয়ে জানায় যে সে মার খেতে, এমনকি বাঁধা থাকতেও রাজি, কিন্তু তার নতুন জামা চাই-ই। এরপর সে চূড়ান্ত বিদ্রোহ করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেয় এবং রাতে বাড়ি না ফিরে ইসাবদের গোয়ালঘরে লুকিয়ে থাকে। অবশেষে তার জেদের কাছে হার মেনে মা তার বাবাকে রাজি করান এবং ইসাবদের গোয়ালঘর থেকে তাকে উদ্ধার করে নতুন জামা কিনে দেন।

৮. "আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।" - উক্তিটির আলোকে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির যে চিত্র গল্পে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

উত্তর: পান্নালাল প্যাটেলের 'অদল বদল' গল্পের মূল সুর হলো হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও মানবপ্রেম। গল্পে অমৃত হিন্দু পরিবারের ছেলে এবং ইসাব মুসলিম (পাঠান) পরিবারের ছেলে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। তারা একই পোশাকে, হাতে হাত রেখে ঘুরে বেড়ায়।

এই সম্প্রীতির চূড়ান্ত রূপটি দেখা যায় গল্পের শেষে। ইসাবের পিতা হাসান যখন জানতে পারেন যে তাঁর ছেলের পিঠ বাঁচাতে অমৃত নিজের নতুন জামাটি হাসিমুখে দিয়ে দিয়েছে, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি ধর্মের গণ্ডি পার হয়ে অমৃতের মা বাহালি বৌদিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।" অর্থাৎ, মাতৃহীন ইসাব যেমন অমৃতের মায়ের কাছে সন্তানের স্নেহ পাবে, তেমনি অমৃতও পাঠানের কাছে নিজের সন্তানের মর্যাদা পেল। দুই ধর্মের দুই পরিবারের এই মানসিক মিলনই প্রমাণ করে যে সত্যিকারের ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের কাছে ধর্ম বা জাতপাতের কোনো স্থান নেই। 'খাঁটি' মানুষের ধর্ম একটাই, আর তা হলো মানবতা।

৯. হোলির দিনে অমৃত ও ইসাবের জীবনে কী কী ঘটনা ঘটেছিল তা পর্যায়ক্রমে লেখো।

উত্তর: হোলির দিনের পড়ন্ত বিকেলে অমৃত ও ইসাব একই রকম নতুন জামা পরে গ্রামের ছেলেদের সাথে খেলতে আসে।
১. কালিয়ার সাথে বিবাদ: কালিয়া জোর করে অমৃতের সাথে কুস্তি লড়তে চায় এবং অমৃতকে মাটিতে ফেলে দেয়। বন্ধুকে বাঁচাতে ইসাব কালিয়াকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়।
২. জামা ছেঁড়া ও আতঙ্ক: এই ধস্তাধস্তিতে ইসাবের নতুন জামা ছ'ইঞ্চি ছিঁড়ে যায়। বাবার মারের ভয়ে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
৩. জামা অদল বদল: ইসাবকে বাঁচাতে অমৃত তার আস্ত জামাটি ইসাবকে দিয়ে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি নিজে পরে নেয়।
৪. মায়ের কাছে ক্ষমা পাওয়া: অমৃতের মা ছেঁড়া জামা দেখে প্রথমে বিরক্ত হলেও পরে তা রিফু করে দেন।
৫. হাসানের প্রতিক্রিয়া: ইসাবের বাবা হাসান এই ঘটনাটি লুকিয়ে দেখেন এবং অমৃতের মাতৃভক্তি ও আত্মত্যাগে মুগ্ধ হয়ে অমৃতকে নিজের ছেলের মর্যাদা দেন।
৬. নতুন নামকরণ: গ্রামের মানুষ তাদের বন্ধুত্বের কথা জেনে তাদের 'অদল' এবং 'বদল' নামকরণ করে।

১০. "অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।" - কী কারণে এবং কীভাবে জ্বালিয়েছিল?

উত্তর: কারণ: অমৃতের বন্ধু ইসাব হোলি উপলক্ষে একটি নতুন জামা পেয়েছিল। সেই জামাটি দেখে অমৃতের মনেও ঠিক ওই একই রকম, একই মাপের ও রঙের একটি নতুন জামা পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা বা জেদ চাপে। এই নতুন জামা আদায়ের জন্যই সে তার বাবা-মাকে জ্বালিয়েছিল।

কীভাবে জ্বালিয়েছিল: অমৃতের মা তাকে অনেক করে বোঝান যে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গিয়েছিল বলে সে নতুন জামা পেয়েছে। কিন্তু অমৃত তা না শুনে নিজের জামা আরও ছিঁড়ে দেয়। মা তাকে বাবার মারের ভয় দেখালেও সে পিছু হটে না। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে মার খেতে রাজি, তবু তার নতুন জামা চাই। শুধু মুখে বলেই সে ক্ষান্ত হয়নি, সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেয়। এমনকি রাতে নিজের বাড়িতে না ঘুমিয়ে সে জেদ করে ইসাবের বাবার গোয়ালঘরে লুকিয়ে থাকে। ছেলের এই চূড়ান্ত অবাধ্যতা এবং জেদের কারণেই বলা হয়েছে যে সে তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।

৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar) ১৫+ টি প্রশ্ন

কারক ও অকারক সম্পর্ক

  • নিম গাছের নীচে গাঁয়ের একদল ছেলে জড়ো হয়ে ধুলো ছোড়াছুড়ি করে খেলছিল। - অধিকরণ কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • দুজনের বাবাই পেশায় চাষি। - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • সুদখোরের কাছ থেকে টাকা ধার করে... - অপাদান কারকে 'এর' বিভক্তি (কাছ থেকে অর্থে)।
  • উনি ইসাবের বাবার গোয়ালঘর থেকে লুকিয়ে থাকা অমৃতকে বাড়ি নিয়ে এলেন। - অপাদান কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • ছেলেরা খুব খুশি হলো। - কর্তৃকারকে 'রা' বিভক্তি।

সমাস নির্ণয়

  • অদল-বদল: অদল ও বদল (দ্বন্দ্ব সমাস)
  • সুদখোর: সুদ খায় যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)
  • গোয়ালঘর: গোয়ালের নিমিত্ত ঘর (নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস) / অথবা, গোয়াল রূপ ঘর (রূপক কর্মধারয়)
  • বিপদ-আপদ: বিপদ ও আপদ (দ্বন্দ্ব সমাস)
  • গ্রাম-প্রধান: গ্রামের প্রধান (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
  • মুখোমুখি: মুখে মুখে যে অবস্থা (ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস)

বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন

  • বাক্য: ও ইসাবকে টানতে টানতে বলল, 'আমার সঙ্গে আয়।' (জটিল বাক্যে)
    উত্তর: ও যখন ইসাবকে টানছিল তখন বলল যে, তার সঙ্গে আসতে।
  • বাক্য: ইসাব জামা খুলতে লাগল, যদিও অমৃত কী করতে চাইছে বুঝতে পারছিল না। (যৌগিক বাক্যে)
    উত্তর: অমৃত কী করতে চাইছে ইসাব তা বুঝতে পারছিল না, কিন্তু সে জামা খুলতে লাগল।
  • বাচ্য: মা ওকে অনেক বুঝিয়েছিল। (কর্মবাচ্যে)
    উত্তর: মায়ের দ্বারা ওকে অনেক বোঝানো হয়েছিল।
  • বাচ্য: অমৃত আর ইসাবও রণভূমি ত্যাগ করল। (কর্মবাচ্যে)
    উত্তর: অমৃত আর ইসাব কর্তৃকও রণভূমি ত্যাগ করা হলো।
  • বাচ্য: ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল। (ভাববাচ্যে)
    উত্তর: ছেলের দলের আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠা হলো।

অদল বদল গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)

অদল বদল গল্পটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক পান্নালাল প্যাটেলের লেখা এবং এটি মূলতঃ গুজরাতি ভাষায় রচিত। বাংলায় এটি তরজমা করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের প্রধান ভিত্তি ছিল নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও একে অপরের প্রতি টান। তারা জাতপাত বা ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে বিপদের দিনে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

মারামারিতে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে গিয়েছিল। ইসাবের বাবা অত্যন্ত দরিদ্র এবং কড়া ধাতের মানুষ, তিনি ছেঁড়া জামা দেখলে ইসাবকে প্রচণ্ড মারতেন। বন্ধুকে সেই মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই অমৃত নিজের নতুন জামাটি ইসাবকে দিয়ে দিয়েছিল।

বিপদের মুহূর্তে বন্ধুদের মধ্যে জামা অদল-বদলের এই নিঃস্বার্থ ঘটনা এবং তাদের গভীর আত্মিক মিলনের কথা জানতে পেরে গ্রামের মানুষ ভালোবেসে তাদের 'অদল' এবং 'বদল' নাম দিয়েছিল।