Sponsored Links
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (জয় গোস্বামী)
জয় গোস্বামী রচিত 'পাতালকোঁড়' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত আধুনিক কবি জয় গোস্বামী রচিত 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ, এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. কাব্যাংশের পটভূমি ও বিষয়সংক্ষেপ
পূর্বকথা (পটভূমি): আধুনিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি জয় গোস্বামীর 'পাতালকোঁড়' (১৯৯৪) কাব্যগ্রন্থ থেকে 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি গৃহীত হয়েছে। বর্তমান পৃথিবী যখন যুদ্ধ, রক্তপাত এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ধ্বংসলীলায় মত্ত, তখন কবি সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে গান বা শিল্প তথা মানবতাকে তুলে ধরেছেন।
কাব্যাংশের বিষয়: কবিতায় কবি যুদ্ধবাজদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার জন্য। তিনি নিজে কোনো মারণাস্ত্র হাতে তুলে নেননি, বরং তাঁর হাতে রয়েছে গান। তিনি গানের বর্ম পরে বুলেটের মোকাবিলা করতে চান। বর্তমান সমাজে অশুভ শক্তি বা মৃত্যুর প্রতীক শকুন ও চিলেরা মাথার ওপর ঘুরপাক খেলেও, কবির সম্বল কেবল একটি 'কোকিল' বা বসন্তের দূত, যে সহস্র উপায়ে গান বাঁধে।
কবি বিশ্বাস করেন যে, যুদ্ধ বা হিংসা দিয়ে শান্তি আনা সম্ভব নয়। একমাত্র গানই পারে মানুষের ভেতরের অহংকার ও যুদ্ধের উন্মাদনা দূর করতে। তাই তিনি যুদ্ধবাজদের বলেছেন যুদ্ধের বর্ম খুলে ফেলে আদুড় গায়ে বা অনাবৃত শরীরে দাঁড়াতে। তখন তারা দেখতে পাবে যে, গান ঠিক একজন শান্তশিষ্ট তপোবনের ঋষিবালকের মতো দাঁড়িয়ে আছে, যার মাথায় গোঁজা রয়েছে ময়ূরপালক। এই গান বা মানবতাই পারে মানুষকে যুদ্ধ থেকে ফিরিয়ে এনে শান্তিময় নদী ও গ্রামবাংলার কোলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। তাই কবির শেষ আহ্বান— গানের দুটি পায়ে যেন সব অস্ত্র সমর্পণ করা হয়।
কাব্যাংশের বিষয়: কবিতায় কবি যুদ্ধবাজদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার জন্য। তিনি নিজে কোনো মারণাস্ত্র হাতে তুলে নেননি, বরং তাঁর হাতে রয়েছে গান। তিনি গানের বর্ম পরে বুলেটের মোকাবিলা করতে চান। বর্তমান সমাজে অশুভ শক্তি বা মৃত্যুর প্রতীক শকুন ও চিলেরা মাথার ওপর ঘুরপাক খেলেও, কবির সম্বল কেবল একটি 'কোকিল' বা বসন্তের দূত, যে সহস্র উপায়ে গান বাঁধে।
কবি বিশ্বাস করেন যে, যুদ্ধ বা হিংসা দিয়ে শান্তি আনা সম্ভব নয়। একমাত্র গানই পারে মানুষের ভেতরের অহংকার ও যুদ্ধের উন্মাদনা দূর করতে। তাই তিনি যুদ্ধবাজদের বলেছেন যুদ্ধের বর্ম খুলে ফেলে আদুড় গায়ে বা অনাবৃত শরীরে দাঁড়াতে। তখন তারা দেখতে পাবে যে, গান ঠিক একজন শান্তশিষ্ট তপোবনের ঋষিবালকের মতো দাঁড়িয়ে আছে, যার মাথায় গোঁজা রয়েছে ময়ূরপালক। এই গান বা মানবতাই পারে মানুষকে যুদ্ধ থেকে ফিরিয়ে এনে শান্তিময় নদী ও গ্রামবাংলার কোলে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। তাই কবির শেষ আহ্বান— গানের দুটি পায়ে যেন সব অস্ত্র সমর্পণ করা হয়।
২. কবি পরিচিতি
জয় গোস্বামী (জন্ম ১৯৫৪ খ্রিঃ): ১৯৫৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন জয় গোস্বামী। বাংলা সাহিত্যের এক খ্যাতিমান কবি ও আধুনিক কবিতার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কবিতার বইগুলির মধ্যে রয়েছে 'প্রত্নজীব', 'উন্মাদের পাঠক্রম', 'ভুতুমভগবান', 'ঘুমিয়েছ ঝাউপাতা?', 'বজ্রবিদ্যুৎভর্তি খাতা', 'পাগলী তোমার সঙ্গে', 'সূর্য পোড়া ছাই', 'হরিণের জন্য একক', 'ভালোটি বাসিব', 'হার্মাদ শিবির', 'গরাদ! গরাদ!' প্রভৃতি।
কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস রচনাতেও তিনি সমান পারদর্শী। 'যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল' তাঁর স্মরণীয় কাব্য-উপন্যাস। এছাড়া তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'সেই সব শেয়ালেরা', 'সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা' প্রভৃতি। বাংলা কবিতার আলোচনায় তাঁর লেখা 'আকস্মিকের খেলা', 'আমার রবীন্দ্রনাথ', 'গোঁসাইবাগান (তিন খণ্ড)' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার সহ বহুবিধ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস রচনাতেও তিনি সমান পারদর্শী। 'যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল' তাঁর স্মরণীয় কাব্য-উপন্যাস। এছাড়া তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'সেই সব শেয়ালেরা', 'সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা' প্রভৃতি। বাংলা কবিতার আলোচনায় তাঁর লেখা 'আকস্মিকের খেলা', 'আমার রবীন্দ্রনাথ', 'গোঁসাইবাগান (তিন খণ্ড)' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার সহ বহুবিধ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
৩. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| বর্ম | বক্ষরক্ষক / যুদ্ধের পোশাক | শকুন বা চিল | সুযোগসন্ধানী / যুদ্ধবাজদের প্রতীক |
| খড়কুটো | শুকনো ঘাস বা খড় | কোকিল | বসন্তের দূত / আশা ও সৃষ্টির প্রতীক |
| আদুড় গায়ে | অনাবৃত শরীরে / খালি গায়ে | ঋষিবালক | তপোবনের শান্তশিষ্ট বালক |
| বুলেট | বন্দুকের গুলি | দেশগাঁয়ে | গ্রামে ও গঞ্জে / পল্লীপ্রকৃতিতে |
৪. কবিতার লাইনভিত্তিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা
অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে
আমি এখন হাজার হাতে পায়ে
এগিয়ে আসি, উঠে দাঁড়াই
হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই
গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে
আমি এখন হাজার হাতে পায়ে
এগিয়ে আসি, উঠে দাঁড়াই
হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই
গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে
ব্যাখ্যা: কবি সমাজের যুদ্ধবাজ এবং হিংসায় উন্মত্ত মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাদের হাতের অস্ত্র নিচে বা পায়ে ফেলে দেওয়ার জন্য। তিনি নিজে কোনো অস্ত্র হাতে নেননি, বরং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, যুদ্ধের বুলেট বা হিংসাকে তিনি শুধু হাত নাড়েই প্রতিহত করতে পারবেন, কারণ তিনি যুদ্ধ বা হিংসার বর্মের বদলে গায়ে পরেছেন 'গানের বর্ম'— যা আসলে শিল্প, মানবতা ও ভালোবাসার প্রতীক।
গান তো জানি একটা দুটো
আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো
রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে
মাথায় কত শকুন বা চিল
আমার শুধু একটা কোকিল
গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে
আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো
রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে
মাথায় কত শকুন বা চিল
আমার শুধু একটা কোকিল
গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে
ব্যাখ্যা: কবি বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে তিনি খুব বেশি গান জানেন না। জলে ডোবা মানুষ যেমন বাঁচার জন্য সামান্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরে, কবিও তেমনি ধ্বংসের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে এই সামান্য দু-একটি গানকেই আঁকড়ে ধরেছেন। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট চারপাশের হিংসা ও রক্তপাত তিনি গানের মাধ্যমে মুছতে চান। তাঁর মাথার ওপর ঘুরছে মৃত্যু ও ধ্বংসের প্রতীক 'শকুন বা চিল', কিন্তু কবির সম্বল হলো একটিমাত্র 'কোকিল' (আশা ও সৃষ্টির প্রতীক), যে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও হাজারো উপায়ে গান বেঁধে যাবে।
অস্ত্র রাখো, অস্ত্র ফ্যালো পায়ে
বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে
গান দাঁড়াল ঋষিবালক
মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক
তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান
নদীতে, দেশগাঁয়ে
বর্ম খুলে দ্যাখো আদুড় গায়ে
গান দাঁড়াল ঋষিবালক
মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক
তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান
নদীতে, দেশগাঁয়ে
ব্যাখ্যা: কবি পুনরায় অস্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের অহংকার এবং কৃত্রিম লোহার বর্ম খুলে ফেলে খালি বা আদুড় গায়ে তাকালে দেখা যাবে, গান সেখানে মূর্ত হয়েছে এক নিষ্পাপ 'ঋষিবালক'-এর রূপে, যার মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা (শ্রীকৃষ্ণের রূপকল্প)। এই গান বা নির্মল শিল্পসত্তাই পারে যুদ্ধক্লান্ত মানুষকে শান্তির পথ দেখাতে এবং নদীর তীরে বা গ্রামের স্নিগ্ধ প্রকৃতির বুকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।
অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে...
ব্যাখ্যা: এটি কবিতার শেষ এবং চূড়ান্ত আহ্বান। কবি চাইছেন মানুষ যেন তার সমস্ত হিংসা, রাগ এবং ধ্বংসাত্মক অস্ত্র চিরতরে নামিয়ে রাখে মানবতার প্রতীক 'গান'-এর পায়ে। শিল্পের কাছে, সংগীতের কাছে সমর্পণ করলেই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে।
৫. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন
১. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার রচয়িতা কে?
(ক) শঙ্খ ঘোষ (খ) জয় গোস্বামী (গ) শক্তি চট্টোপাধ্যায় (ঘ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) জয় গোস্বামী
২. কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) উন্মাদের পাঠক্রম (খ) পাতালকোঁড় (গ) সূর্য পোড়া ছাই (ঘ) ভুতুমভগবান
উত্তর: (খ) পাতালকোঁড়
৩. 'পাতালকোঁড়' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কোন সালে?
(ক) ১৯৯০ (খ) ১৯৯২ (গ) ১৯৯৪ (ঘ) ১৯৯৬
উত্তর: (গ) ১৯৯৪
৪. জয় গোস্বামী জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) ১৯৫০ সালে (খ) ১৯৫২ সালে (গ) ১৯৫৪ সালে (ঘ) ১৯৫৬ সালে
উত্তর: (গ) ১৯৫৪ সালে
৫. জয় গোস্বামী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) ঢাকায় (খ) কলকাতায় (গ) শান্তিনিকেতনে (ঘ) মেদিনীপুরে
উত্তর: (খ) কলকাতায়
৬. কবির লেখা একটি কাব্য-উপন্যাসের নাম কী?
(ক) সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা (খ) যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল (গ) সেই সব শেয়ালেরা (ঘ) আকস্মিকের খেলা
উত্তর: (খ) যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল
৭. কবি অস্ত্র কোথায় ফেলতে বলেছেন?
(ক) জলে (খ) মাটিতে (গ) পায়ে (ঘ) আগুনে
উত্তর: (গ) পায়ে
৮. কবি কীসের বিরুদ্ধে গান গেয়েছেন?
(ক) মানবতার (খ) সমাজের (গ) অস্ত্রের (ঘ) প্রকৃতির
উত্তর: (গ) অস্ত্রের
৯. কবি হাজার হাতে পায়ে কী করেন?
(ক) দৌড়ে পালান (খ) এগিয়ে আসেন (গ) লুকিয়ে পড়েন (ঘ) কাঁদেন
উত্তর: (খ) এগিয়ে আসেন
১০. কবি কীভাবে বুলেট তাড়ান?
(ক) ঢাল নাড়িয়ে (খ) তরবারি দিয়ে (গ) হাত নাড়িয়ে (ঘ) বন্দুক দিয়ে
উত্তর: (গ) হাত নাড়িয়ে
১১. 'বুলেট' শব্দটি কীসের প্রতীক?
(ক) শান্তি (খ) যুদ্ধ ও হিংসার (গ) প্রেমের (ঘ) শিল্পের
উত্তর: (খ) যুদ্ধ ও হিংসার
১২. কবি আজ গায়ে কী পরেছেন?
(ক) লোহার বর্ম (খ) রেশমের চাদর (গ) গানের বর্ম (ঘ) সুতির পোশাক
উত্তর: (গ) গানের বর্ম
১৩. 'বর্ম' বলতে কী বোঝায়?
(ক) বক্ষরক্ষক বা আবরণ (খ) তলোয়ার (গ) তীর (ঘ) ঢাল
উত্তর: (ক) বক্ষরক্ষক বা আবরণ
১৪. কবি কটি গান জানেন?
(ক) অসংখ্য (খ) একটা দুটো (গ) দশটা (ঘ) একশোটা
উত্তর: (খ) একটা দুটো
১৫. কবি গানকে কীসের সঙ্গে তুলনা করে আঁকড়ে ধরেছেন?
(ক) রত্নের মতো (খ) পাহাড়ের মতো (গ) খড়কুটোর মতো (ঘ) গাছের মতো
উত্তর: (গ) খড়কুটোর মতো
১৬. 'খড়কুটো' আঁকড়ে ধরে কারা?
(ক) পাখিরা (খ) ডুবন্ত বা অসহায় মানুষ (গ) শিকারিরা (ঘ) ধনীরা
উত্তর: (খ) ডুবন্ত বা অসহায় মানুষ
১৭. কবি কোথায় রক্ত মোছেন?
(ক) কাপড়ে (খ) মাটিতে (গ) নিজের হাতে (ঘ) গানের গায়ে
উত্তর: (ঘ) গানের গায়ে
১৮. 'রক্ত' এখানে কীসের প্রতীক?
(ক) জীবনের (খ) ভালোবাসার (গ) হানাহানি ও মৃত্যুর (ঘ) আবেগের
উত্তর: (গ) হানাহানি ও মৃত্যুর
১৯. মাথার ওপর কী ঘুরছে?
(ক) মেঘ (খ) পায়রা (গ) শকুন বা চিল (ঘ) কোকিল
উত্তর: (গ) শকুন বা চিল
২০. 'শকুন বা চিল' কবিতায় কাদের প্রতীক?
(ক) শান্তিকামী মানুষের (খ) যুদ্ধবাজ ও সুবিধাবাদীদের (গ) সাধারণ মানুষের (ঘ) ঋষিদের
উত্তর: (খ) যুদ্ধবাজ ও সুবিধাবাদীদের
২১. কবির সম্বল কী?
(ক) একটি বন্দুক (খ) একটা কোকিল (গ) একটি খড়্গ (ঘ) একটি ঢাল
উত্তর: (খ) একটা কোকিল
২২. 'কোকিল' কীসের প্রতীক?
(ক) শীতের (খ) অন্ধকারের (গ) বসন্ত, আশা ও নবসৃষ্টির (ঘ) হতাশার
উত্তর: (গ) বসন্ত, আশা ও নবসৃষ্টির
২৩. কোকিল কীভাবে গান বাঁধবে?
(ক) এক উপায়ে (খ) দশ উপায়ে (গ) শত উপায়ে (ঘ) সহস্র উপায়ে
উত্তর: (ঘ) সহস্র উপায়ে
২৪. 'সহস্র' শব্দের অর্থ কী?
(ক) একশো (খ) হাজার (গ) লক্ষ (ঘ) কোটি
উত্তর: (খ) হাজার
২৫. কবি কাদের বর্ম খুলতে বলেছেন?
(ক) সাধারণ মানুষের (খ) শিশুদের (গ) যুদ্ধবাজদের (ঘ) নারীদের
উত্তর: (গ) যুদ্ধবাজদের
২৬. বর্ম খুলে কোথায় তাকাতে বলা হয়েছে?
(ক) আকাশের দিকে (খ) আদুড় গায়ে (গ) পৃথিবীর দিকে (ঘ) আয়নায়
উত্তর: (খ) আদুড় গায়ে
২৭. 'আদুড়' শব্দের অর্থ কী?
(ক) আচ্ছাদিত (খ) সুন্দর (গ) অনাবৃত বা খোলা (ঘ) রঙিন
উত্তর: (গ) অনাবৃত বা খোলা
২৮. গান কার রূপ ধারণ করেছে?
(ক) রাজার (খ) সেনাপতির (গ) ঋষিবালকের (ঘ) ভিখারির
উত্তর: (গ) ঋষিবালকের
২৯. ঋষিবালকের মাথায় কী গোঁজা আছে?
(ক) ফুল (খ) পাতা (গ) মুকুট (ঘ) ময়ূরপালক
উত্তর: (ঘ) ময়ূরপালক
৩০. ময়ূরপালক গোঁজা ঋষিবালক কার কথা মনে করায়?
(ক) রামচন্দ্রের (খ) শ্রীকৃষ্ণের (গ) শিবের (ঘ) বুদ্ধদেবের
উত্তর: (খ) শ্রীকৃষ্ণের
৩১. গান তোমায় নিয়ে কোথায় বেড়াবে?
(ক) পাহাড়ে ও জঙ্গলে (খ) নদীতে, দেশগাঁয়ে (গ) শহরে ও নগরে (ঘ) স্বর্গে
উত্তর: (খ) নদীতে, দেশগাঁয়ে
৩২. 'দেশগাঁয়ে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
(ক) শহরতলি (খ) বিদেশ (গ) পল্লীপ্রকৃতির শান্ত পরিবেশ (ঘ) মরুভূমি
উত্তর: (গ) পল্লীপ্রকৃতির শান্ত পরিবেশ
৩৩. কবিতাটির মূল সুর কী?
(ক) দেশপ্রেম (খ) যুদ্ধবিরোধিতা (গ) প্রকৃতিপ্রেম (ঘ) আধ্যাত্মিকতা
উত্তর: (খ) যুদ্ধবিরোধিতা
৩৪. কবি চূড়ান্তভাবে অস্ত্র কোথায় রাখতে বলেছেন?
(ক) জাদুঘরে (খ) মাটিতে (গ) কোষাগারে (ঘ) গানের দুটি পায়ে
উত্তর: (ঘ) গানের দুটি পায়ে
৩৫. জয় গোস্বামীর লেখা একটি উপন্যাসের নাম কী?
(ক) পথের দাবী (খ) সেই সব শেয়ালেরা (গ) আরণ্যক (ঘ) গোরা
উত্তর: (খ) সেই সব শেয়ালেরা
৩৬. জয় গোস্বামীর লেখা একটি প্রবন্ধ গ্রন্থের নাম কী?
(ক) কালান্তর (খ) সভ্যতার সংকট (গ) গোঁসাইবাগান (ঘ) বাজে কথা
উত্তর: (গ) গোঁসাইবাগান
৩৭. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কোন পাখির উল্লেখ নেই?
(ক) শকুন (খ) চিল (গ) কোকিল (ঘ) পায়রা
উত্তর: (ঘ) পায়রা
৩৮. 'তাড়াই' পদটি ব্যাকরণগত দিক থেকে কী?
(ক) বিশেষ্য (খ) বিশেষণ (গ) সর্বনাম (ঘ) ক্রিয়াপদ
উত্তর: (ঘ) ক্রিয়াপদ
৩৯. 'গানের বর্ম' কোন সমাসের উদাহরণ?
(ক) কর্মধারয় (খ) বহুব্রীহি (গ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ (ঘ) দ্বিগু
উত্তর: (গ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ
৪০. 'হাতে পায়ে' পদটি কোন সমাস?
(ক) তৎপুরুষ (খ) দ্বন্দ্ব (গ) দ্বিগু (ঘ) বহুব্রীহি
উত্তর: (খ) দ্বন্দ্ব
৪১. 'শকুন' শব্দটি কোন শ্রেণির শব্দ?
(ক) তৎসম (খ) তদ্ভব (গ) দেশি (ঘ) বিদেশি
উত্তর: (খ) তদ্ভব
৪২. 'বুলেট' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
(ক) ফরাসি (খ) পর্তুগিজ (গ) ইংরেজি (ঘ) আরবি
উত্তর: (গ) ইংরেজি
৪৩. ঋষিবালক সাধারণত কোথায় থাকে?
(ক) প্রাসাদে (খ) তপোবনে (গ) শহরে (ঘ) রণক্ষেত্রে
উত্তর: (খ) তপোবনে
৪৪. 'আঁকড়ে ধরে' কথাটির অর্থ কী?
(ক) ছেড়ে দেওয়া (খ) আলতো করে ধরা (গ) শক্ত করে ধরা (ঘ) ছুঁড়ে ফেলা
উত্তর: (গ) শক্ত করে ধরা
৪৫. 'অস্ত্র রাখো' - এটি কী ধরনের বাক্য?
(ক) নির্দেশক (খ) প্রশ্নবোধক (গ) অনুজ্ঞাসূচক (ঘ) বিস্ময়বোধক
উত্তর: (গ) অনুজ্ঞাসূচক
৪৬. 'আমি এখন হাজার হাতে পায়ে' - এখানে 'হাজার' বলতে কী বোঝায়?
(ক) ঠিক ১০০০ জন (খ) অসংখ্য সাধারণ মানুষ (গ) দেবতাদের (ঘ) সৈন্যদের
উত্তর: (খ) অসংখ্য সাধারণ মানুষ
৪৭. 'রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে' - এখানে 'শুধু' শব্দটি কী?
(ক) বিশেষ্য (খ) অব্যয় (গ) ক্রিয়া (ঘ) সর্বনাম
উত্তর: (খ) অব্যয়
৪৮. 'গান দাঁড়াল ঋষিবালক' - ঋষিবালক কীসের প্রতীক?
(ক) হিংসার (খ) অহংকারের (গ) শান্তি ও পবিত্রতার (ঘ) দুর্বলতার
উত্তর: (গ) শান্তি ও পবিত্রতার
৪৯. 'অস্ত্র ফ্যালো' - ফ্যালো শব্দটি কোন ক্রিয়া?
(ক) অসমাপিকা (খ) সমাপিকা (গ) সকর্মক (ঘ) অকর্মক
উত্তর: (খ) সমাপিকা
৫০. কবির মতে যুদ্ধ থামানোর একমাত্র উপায় কী?
(ক) পাল্টা যুদ্ধ (খ) চুক্তি (গ) গান বা মানবতা (ঘ) অর্থ
উত্তর: (গ) গান বা মানবতা
৫১. 'পাতালকোঁড়' শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
(ক) ভুঁইফোঁড় বা ব্যাঙের ছাতা (খ) পাতা (গ) পাতালের দৈত্য (ঘ) ফুল
উত্তর: (ক) ভুঁইফোঁড় বা ব্যাঙের ছাতা
৬. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: কবিতাটি আধুনিক কবি জয় গোস্বামীর লেখা।
২. কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটি জয় গোস্বামীর ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত 'পাতালকোঁড়' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
৩. "অস্ত্র ফ্যালো" - কবি কাদের এই কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি যুদ্ধবাজ, সাম্রাজ্যবাদী এবং হিংসায় উন্মত্ত মানুষদের তাদের প্রাণঘাতী অস্ত্র ফেলে দিতে বলেছেন।
৪. কবি অস্ত্র কোথায় রাখতে বলেছেন?
উত্তর: কবি যুদ্ধবাজদের তাদের সমস্ত অস্ত্র নিচে বা পায়ে রাখতে বলেছেন।
৫. "আমি এখন হাজার হাতে পায়ে" - বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি এখানে একাকী নন, বরং বিশ্বের সমস্ত শান্তিকামী ও সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে হাজার হাতে-পায়ে সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার কথা বুঝিয়েছেন।
৬. কবি হাজার হাতে পায়ে কী করেন?
উত্তর: কবি হাজার হাতে পায়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন।
৭. কবি কীভাবে বুলেট তাড়াতে চান?
উত্তর: কবি যুদ্ধবাজদের ছোঁড়া ঘাতক বুলেটকে কোনো পাল্টা অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং অবলীলায় হাত নাড়িয়ে তাড়াতে চান।
৮. "গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে" - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: কবি হিংসা ও যুদ্ধের আঘাত থেকে মানবতাকে রক্ষা করার জন্য লোহার বর্মের পরিবর্তে শিল্প, সংগীত ও ভালোবাসার প্রতীক 'গানের বর্ম' গায়ে পরেছেন।
৯. কবি কটি গান জানেন?
উত্তর: কবি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছেন যে তিনি খুব বেশি গান জানেন না, মাত্র 'একটা দুটো' গান জানেন।
১০. "আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো" - এখানে খড়কুটো বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: জলে ডোবা মানুষ যেমন বাঁচার জন্য সামান্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরে, এখানে কবির জানা সামান্য 'একটা-দুটো গান'-কেই বাঁচার সম্বল বা খড়কুটো হিসেবে বোঝানো হয়েছে।
১১. কবি গানকে কেন খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছেন?
উত্তর: চারপাশের ধ্বংসলীলা ও যুদ্ধের মধ্যে মানবতা ও সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ অবলম্বন হিসেবে কবি গানকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছেন।
১২. "রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে" - রক্ত কীসের প্রতীক?
উত্তর: কবিতায় 'রক্ত' হলো যুদ্ধ, হানাহানি, মৃত্যু এবং ধ্বংসের প্রতীক।
১৩. কবি কোথায় রক্ত মুছতে চেয়েছেন?
উত্তর: যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রক্তপাত এবং যন্ত্রণার দাগ কবি গানের গায়ে অর্থাৎ শিল্পের স্নিগ্ধ স্পর্শে মুছে ফেলতে চেয়েছেন।
১৪. "মাথায় কত শকুন বা চিল" - এই পঙ্ক্তিতে 'শকুন বা চিল' কারা?
উত্তর: এই পঙ্ক্তিতে 'শকুন বা চিল' হলো সেইসব সুবিধাবাদী, সাম্রাজ্যবাদী এবং যুদ্ধবাজ মানুষের প্রতীক, যারা মৃতদেহের লোভে চক্কর দেয়।
১৫. কবির সম্বল কী?
উত্তর: মাথার ওপরে ঘুরতে থাকা অসংখ্য শকুন ও চিলের ভিড়ে কবির একমাত্র সম্বল হলো একটি 'কোকিল'।
১৬. কবিতায় 'কোকিল' কীসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় 'কোকিল' বসন্তের দূত, নবসৃষ্টি, আশা এবং মানবতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
১৭. কোকিল কীভাবে গান বাঁধবে?
উত্তর: কবির সম্বল সেই একটিমাত্র কোকিল সহস্র বা হাজারো উপায়ে নতুন নতুন গান বাঁধবে।
১৮. "বর্ম খুলে দ্যাখো" - কবি কাদের বর্ম খুলতে বলেছেন?
উত্তর: যে সমস্ত যুদ্ধবাজ মানুষ হিংসা ও অহংকারের প্রতীক লোহার বর্ম পরে আছে, কবি তাদের সেই বর্ম খুলতে বলেছেন।
১৯. "আদুড় গায়ে" কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: "আদুড় গায়ে" কথাটির অর্থ হলো অনাবৃত শরীর বা খোলা গা।
২০. গানকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: গানকে কবি তপোবনে থাকা এক শান্ত ও নিষ্পাপ 'ঋষিবালক'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
২১. ঋষিবালকের মাথায় কী গোঁজা আছে?
উত্তর: ঋষিবালকের মাথায় একটি ময়ূরপালক গোঁজা আছে।
২২. 'ময়ূরপালক গোঁজা ঋষিবালক' বলতে কবি পরোক্ষে কার কথা বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ময়ূরপালক গোঁজা ঋষিবালক বলতে কবি পরোক্ষে প্রেম ও শান্তির অবতার শ্রীকৃষ্ণের কথা বুঝিয়েছেন।
২৩. গান মানুষকে নিয়ে কোথায় বেড়াবে?
উত্তর: যুদ্ধের কলুষতা থেকে মুক্ত করে গান মানুষকে নিয়ে শান্তিময় নদীতে এবং দেশগাঁয়ে ঘুরে বেড়াবে।
২৪. "নদীতে, দেশগাঁয়ে" - এই স্থানগুলি কীসের প্রতীক?
উত্তর: নদী এবং দেশগাঁ হলো গ্রামবাংলার সহজ-সরল, শান্তিময় এবং স্নিগ্ধ পল্লীপ্রকৃতির প্রতীক।
২৫. কবিতার শেষে কবি অস্ত্র কোথায় রাখতে বলেছেন?
উত্তর: কবিতার শেষে কবি সমস্ত যুদ্ধবাজদের তাদের প্রাণঘাতী অস্ত্র 'গানের দুটি পায়ে' অর্থাৎ শিল্পের কাছে সমর্পণ করতে বলেছেন।
২৬. জয় গোস্বামীর লেখা একটি কাব্য-উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: জয় গোস্বামীর লেখা একটি বিখ্যাত কাব্য-উপন্যাস হলো 'যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল'।
২৭. জয় গোস্বামী কোন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন?
উত্তর: জয় গোস্বামী তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য আনন্দ পুরস্কার এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেছেন।
২৮. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার মূল সুর কী?
উত্তর: এই কবিতার মূল সুর হলো সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধিতা এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা।
২৯. কবি কেন গানের বর্ম পরেছেন?
উত্তর: যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং মারণাস্ত্র থেকে মানবতাকে রক্ষা করার এক অমোঘ ঢাল হিসেবে কবি গানের বর্ম পরেছেন।
৩০. "হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই" - কথাটির মধ্য দিয়ে কবির কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতি কবির অবজ্ঞা এবং মানবতার শক্তির প্রতি তাঁর দৃঢ় বিশ্বাসের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
৩১. 'গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে' - কে গান বাঁধবে?
উত্তর: কবির সম্বল সেই একটিমাত্র 'কোকিল' সহস্র উপায়ে গান বাঁধবে।
৩২. 'সহস্র উপায়ে' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: যুদ্ধের হিংসা হাজার বাধা দিলেও, শিল্প ও মানবতা হাজারো নতুন নতুন পথ বা উপায় দিয়ে তার শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
৩৩. 'বর্ম খুলে দ্যাখো' - বর্ম খুললে কী দেখা যাবে?
উত্তর: বর্ম খুললে দেখা যাবে যে, গান এক শান্তশিষ্ট ঋষিবালকের রূপ ধারণ করে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
৩৪. জয় গোস্বামীর লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: জয় গোস্বামীর লেখা দুটি কবিতার বই হলো 'উন্মাদের পাঠক্রম' এবং 'পাগলী তোমার সঙ্গে'।
৩৫. জয় গোস্বামীর লেখা একটি প্রবন্ধের বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত প্রবন্ধের বই হলো 'গোঁসাইবাগান'।
৩৬. "অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে" - 'গানের দুটি পায়ে' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো সংগীত, শিল্প ও মানবতার চরণে সমস্ত অহংকার ও মারণাস্ত্র সমর্পণ করা।
৩৭. কবিতায় 'শকুন' ও 'কোকিল' কী অর্থে বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে?
উত্তর: 'শকুন' মৃত্যুর ও ধ্বংসের প্রতীক, আর 'কোকিল' সৃষ্টি ও আশার প্রতীক হিসেবে কবিতায় এক দারুণ বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে।
৩৮. 'গান দাঁড়াল ঋষিবালক' - ঋষিবালক কেমন প্রকৃতির হয়?
উত্তর: ঋষিবালক হয় শান্ত, সমাহিত, অহংকারমুক্ত এবং সমস্ত রকম পার্থিব মোহ বা হিংসা থেকে দূরে থাকা এক পবিত্র সত্তা।
৩৯. 'বুলেট' কীসের মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: কবি মনে করেন যে, যুদ্ধের বুলেট কোনো পাল্টা অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং শিল্প, গান ও ভালোবাসার মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব।
৪০. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি আধুনিক যুগের কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
উত্তর: কবিতাটি আধুনিক যুগের বিশ্বজুড়ে চলা সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, রক্তপাত এবং মানবতার চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে রচিত।
৪১. "তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান" - 'তোমায়' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'তোমায়' বলতে সেইসব যুদ্ধক্লান্ত এবং হিংসায় মত্ত মানুষদের বোঝানো হয়েছে, যারা অবশেষে অস্ত্র সমর্পণ করে মানবতার কাছে ফিরে আসবে।
৭. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন
১. "অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান" কবিতায় কবি কীভাবে হিংসা ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে গান বা মানবতাকে দাঁড় করিয়েছেন তা আলোচনা করো।
উত্তর: আধুনিক কবি জয় গোস্বামী তাঁর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় বর্তমান পৃথিবীর যুদ্ধ, রক্তপাত এবং সাম্রাজ্যবাদী ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে এই প্রতিবাদের ভাষা কোনো পাল্টা অস্ত্র বা হিংসা নয়, বরং তা হলো 'গান' বা শিল্প ও মানবতা।
কবি মনে করেন, যুদ্ধের বুলেট এবং অস্ত্রের ঝনঝনানি কখনোই পৃথিবীতে শান্তি আনতে পারেধানে। তাই তিনি যুদ্ধবাজদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজেকে রক্ষার জন্য তিনি কোনো লোহার বর্ম পরেননি, গায়ে পরেছেন 'গানের বর্ম'। তাঁর বিশ্বাস, এই গানের বর্ম পরেই তিনি অনায়াসে হাত নাড়িয়ে ঘাতক বুলেটকে সরিয়ে দিতে পারবেন। তাঁর জানা সামান্য দু-একটি গানকেই তিনি খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছেন বাঁচার আশায়। সমাজের মাথার ওপর যখন সুযোগসন্ধানী শকুন ও চিলেরা মৃত্যুর অপেক্ষায় ঘুরছে, তখন কবির সম্বল একটিমাত্র কোকিল, যে সৃষ্টি ও আশার প্রতীক হয়ে সহস্র উপায়ে গান বাঁধে।
কবি যুদ্ধবাজদের বলেছেন যুদ্ধের অহংকার ও বর্ম খুলে ফেলতে। তখন তারা দেখতে পাবে যে, গান সেখানে মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা এক নিষ্পাপ ঋষিবালকের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এই নির্মল গানই মানুষকে যুদ্ধের উন্মাদনা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবে নদীর তীরে এবং শান্ত গ্রামের স্নিগ্ধতায়। পরিশেষে, কবি সমস্ত অস্ত্র ও হিংসাকে এই গানের দুটি পায়ে সমর্পণ করার মাধ্যমেই এক শান্তিময় পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন। এভাবেই কবিতায় অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান এক অমোঘ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
কবি মনে করেন, যুদ্ধের বুলেট এবং অস্ত্রের ঝনঝনানি কখনোই পৃথিবীতে শান্তি আনতে পারেধানে। তাই তিনি যুদ্ধবাজদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজেকে রক্ষার জন্য তিনি কোনো লোহার বর্ম পরেননি, গায়ে পরেছেন 'গানের বর্ম'। তাঁর বিশ্বাস, এই গানের বর্ম পরেই তিনি অনায়াসে হাত নাড়িয়ে ঘাতক বুলেটকে সরিয়ে দিতে পারবেন। তাঁর জানা সামান্য দু-একটি গানকেই তিনি খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছেন বাঁচার আশায়। সমাজের মাথার ওপর যখন সুযোগসন্ধানী শকুন ও চিলেরা মৃত্যুর অপেক্ষায় ঘুরছে, তখন কবির সম্বল একটিমাত্র কোকিল, যে সৃষ্টি ও আশার প্রতীক হয়ে সহস্র উপায়ে গান বাঁধে।
কবি যুদ্ধবাজদের বলেছেন যুদ্ধের অহংকার ও বর্ম খুলে ফেলতে। তখন তারা দেখতে পাবে যে, গান সেখানে মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা এক নিষ্পাপ ঋষিবালকের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এই নির্মল গানই মানুষকে যুদ্ধের উন্মাদনা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবে নদীর তীরে এবং শান্ত গ্রামের স্নিগ্ধতায়। পরিশেষে, কবি সমস্ত অস্ত্র ও হিংসাকে এই গানের দুটি পায়ে সমর্পণ করার মাধ্যমেই এক শান্তিময় পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন। এভাবেই কবিতায় অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান এক অমোঘ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
২. "গান দাঁড়াল ঋষিবালক / মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক" - উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি জয় গোস্বামী রচিত 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতা থেকে গৃহীত। এখানে কবি গানের স্বরূপ বা প্রকৃতিকে একটি সুন্দর চিত্রকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তাৎপর্য: বর্তমান পৃথিবী অস্ত্রের ঝনঝনানি ও হিংসায় মত্ত। মানুষ আত্মরক্ষার জন্য লোহার বর্ম পরে যুদ্ধক্ষেত্রে নামছে। কিন্তু কবি এই যুদ্ধবাজদের আহ্বান জানিয়েছেন তাদের যুদ্ধের বর্ম খুলে ফেলে আদুড় বা অনাবৃত গায়ে প্রকৃতির সামনে দাঁড়াতে। তখন তারা তাদের সামনে গানকে এক ভিন্ন রূপে দেখতে পাবে।
কবি গানকে একটি 'ঋষিবালক'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ঋষিবালকরা সাধারণত তপোবনে থাকে, তারা শান্ত, সমাহিত এবং সমস্ত রকম পার্থিব মোহ বা হিংসা থেকে মুক্ত। এই ঋষিবালকের মাথায় আবার ময়ূরপালক গোঁজা রয়েছে, যা শ্রীকৃষ্ণের রূপকল্পকে মনে করিয়ে দেয়। শ্রীকৃষ্ণ যেমন তাঁর বাঁশির সুরে জগৎকে মুগ্ধ করেছিলেন, গীতায় শান্তির বাণী শুনিয়েছিলেন, ঠিক তেমনই এই 'গান' রূপী ঋষিবালক তার সুর ও শিল্পের মাধ্যমে মানুষের মনের সমস্ত অন্ধকার ও হিংসা দূর করতে সক্ষম। বর্ম পরা কঠিন ও নিষ্ঠুর হৃদয়ের বিপরীতে গান হলো এক নিষ্পাপ, স্নিগ্ধ ও পবিত্র শক্তির প্রতীক, যা মানুষকে যুদ্ধের পথ থেকে সরিয়ে জীবনের সহজ-সরল পথে (নদী ও দেশগাঁয়ে) ফিরিয়ে আনতে পারে।
তাৎপর্য: বর্তমান পৃথিবী অস্ত্রের ঝনঝনানি ও হিংসায় মত্ত। মানুষ আত্মরক্ষার জন্য লোহার বর্ম পরে যুদ্ধক্ষেত্রে নামছে। কিন্তু কবি এই যুদ্ধবাজদের আহ্বান জানিয়েছেন তাদের যুদ্ধের বর্ম খুলে ফেলে আদুড় বা অনাবৃত গায়ে প্রকৃতির সামনে দাঁড়াতে। তখন তারা তাদের সামনে গানকে এক ভিন্ন রূপে দেখতে পাবে।
কবি গানকে একটি 'ঋষিবালক'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ঋষিবালকরা সাধারণত তপোবনে থাকে, তারা শান্ত, সমাহিত এবং সমস্ত রকম পার্থিব মোহ বা হিংসা থেকে মুক্ত। এই ঋষিবালকের মাথায় আবার ময়ূরপালক গোঁজা রয়েছে, যা শ্রীকৃষ্ণের রূপকল্পকে মনে করিয়ে দেয়। শ্রীকৃষ্ণ যেমন তাঁর বাঁশির সুরে জগৎকে মুগ্ধ করেছিলেন, গীতায় শান্তির বাণী শুনিয়েছিলেন, ঠিক তেমনই এই 'গান' রূপী ঋষিবালক তার সুর ও শিল্পের মাধ্যমে মানুষের মনের সমস্ত অন্ধকার ও হিংসা দূর করতে সক্ষম। বর্ম পরা কঠিন ও নিষ্ঠুর হৃদয়ের বিপরীতে গান হলো এক নিষ্পাপ, স্নিগ্ধ ও পবিত্র শক্তির প্রতীক, যা মানুষকে যুদ্ধের পথ থেকে সরিয়ে জীবনের সহজ-সরল পথে (নদী ও দেশগাঁয়ে) ফিরিয়ে আনতে পারে।
৩. "রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে" - পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির কোন মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি কবি জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে শিল্পের নিরাময় ক্ষমতা এবং মানবতার প্রতি কবির অটল বিশ্বাসের মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষণ: বর্তমান সময়ে সাম্রাজ্যবাদী লোভ এবং ক্ষমতার লড়াইয়ে পৃথিবী জুড়ে শুধু যুদ্ধ আর রক্তপাত চলছে। মানুষের সভ্যতা আজ ধ্বংসের মুখে। কবি এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজেকে অসহায় মনে করলেও হাল ছাড়েননি। জলে ডোবা মানুষ যেমন সামান্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে, কবিও তেমনি তাঁর জানা সামান্য 'একটা দুটো' গানকেই আঁকড়ে ধরেছেন।
যুদ্ধের ফলে যে রক্তের দাগ পৃথিবীতে লেগেছে, সেই রক্ত বা কলুষতাকে মুছে ফেলার জন্য কবি গানের আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে 'রক্ত মোছা' বলতে মানুষের মন থেকে হিংসা, গ্লানি ও যন্ত্রণার উপশম করাকে বোঝানো হয়েছে। গান বা শিল্প মানুষের সুকুমার বৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে, মনের ভেতরের ক্ষোভ ও পশুবৃত্তিকে শান্ত করে। গান যেন এক শুশ্রূষাকারী মায়ের মতো মানুষের সমস্ত ক্ষত ও রক্তপাত নিজ অঙ্গে মেখে নিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। কবির এই উক্তির মধ্যে দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, রক্তপাতের বদলা রক্তপাত নয়, বরং ভালোবাসা, সংগীত ও মানবতার মাধ্যমেই একমাত্র পৃথিবীকে সুস্থ ও শান্তিময় করে তোলা সম্ভব।
বিশ্লেষণ: বর্তমান সময়ে সাম্রাজ্যবাদী লোভ এবং ক্ষমতার লড়াইয়ে পৃথিবী জুড়ে শুধু যুদ্ধ আর রক্তপাত চলছে। মানুষের সভ্যতা আজ ধ্বংসের মুখে। কবি এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজেকে অসহায় মনে করলেও হাল ছাড়েননি। জলে ডোবা মানুষ যেমন সামান্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে, কবিও তেমনি তাঁর জানা সামান্য 'একটা দুটো' গানকেই আঁকড়ে ধরেছেন।
যুদ্ধের ফলে যে রক্তের দাগ পৃথিবীতে লেগেছে, সেই রক্ত বা কলুষতাকে মুছে ফেলার জন্য কবি গানের আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে 'রক্ত মোছা' বলতে মানুষের মন থেকে হিংসা, গ্লানি ও যন্ত্রণার উপশম করাকে বোঝানো হয়েছে। গান বা শিল্প মানুষের সুকুমার বৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে, মনের ভেতরের ক্ষোভ ও পশুবৃত্তিকে শান্ত করে। গান যেন এক শুশ্রূষাকারী মায়ের মতো মানুষের সমস্ত ক্ষত ও রক্তপাত নিজ অঙ্গে মেখে নিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। কবির এই উক্তির মধ্যে দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, রক্তপাতের বদলা রক্তপাত নয়, বরং ভালোবাসা, সংগীত ও মানবতার মাধ্যমেই একমাত্র পৃথিবীকে সুস্থ ও শান্তিময় করে তোলা সম্ভব।
৪. "গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে" - 'বর্ম' কী? কবি গানের বর্ম পরেছেন কেন?
উত্তর: বর্মের পরিচয়: 'বর্ম' হলো এক ধরনের ধাতব বক্ষরক্ষক বা আবরণ, যা প্রাচীনকালে ও মধ্যযুগে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর অস্ত্রের আঘাত থেকে শরীরকে রক্ষা করার জন্য সেনারা পরিধান করত।
গানের বর্ম পরার কারণ: কবি জয় গোস্বামী তাঁর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় বর্তমান সমাজের যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে এক অহিংস প্রতিবাদ জানিয়েছেন। চারিদিকে যখন অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং বুলেটের আস্ফালন, তখন কবি আত্মরক্ষার জন্য বা পাল্টা আক্রমণের জন্য কোনো লোহার বর্ম পরেননি। তিনি গায়ে পরেছেন 'গানের বর্ম'।
এখানে 'গান' হলো শিল্প, সংস্কৃতি, ভালোবাসা এবং শুভ বুদ্ধির প্রতীক। কবি মনে করেন, লোহার বর্ম শরীরকে রক্ষা করলেও মানুষের মনকে হিংসা থেকে রক্ষা করতে পারে না। একমাত্র গান বা শিল্পই পারে মানুষের অন্তরের পশুত্বকে বিনাশ করতে। গানের বর্ম গায়ে থাকলে কোনো বুলেটের আঘাত মানবতাকে ধ্বংস করতে পারবে না। যুদ্ধের ভয়াবহতাকে প্রতিহত করে পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি ও সুরক্ষার বলয় তৈরি করতেই কবি গানের বর্ম গায়ে পরেছেন।
গানের বর্ম পরার কারণ: কবি জয় গোস্বামী তাঁর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় বর্তমান সমাজের যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে এক অহিংস প্রতিবাদ জানিয়েছেন। চারিদিকে যখন অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং বুলেটের আস্ফালন, তখন কবি আত্মরক্ষার জন্য বা পাল্টা আক্রমণের জন্য কোনো লোহার বর্ম পরেননি। তিনি গায়ে পরেছেন 'গানের বর্ম'।
এখানে 'গান' হলো শিল্প, সংস্কৃতি, ভালোবাসা এবং শুভ বুদ্ধির প্রতীক। কবি মনে করেন, লোহার বর্ম শরীরকে রক্ষা করলেও মানুষের মনকে হিংসা থেকে রক্ষা করতে পারে না। একমাত্র গান বা শিল্পই পারে মানুষের অন্তরের পশুত্বকে বিনাশ করতে। গানের বর্ম গায়ে থাকলে কোনো বুলেটের আঘাত মানবতাকে ধ্বংস করতে পারবে না। যুদ্ধের ভয়াবহতাকে প্রতিহত করে পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি ও সুরক্ষার বলয় তৈরি করতেই কবি গানের বর্ম গায়ে পরেছেন।
৫. "মাথায় কত শকুন বা চিল / আমার শুধু একটা কোকিল" - পঙ্ক্তি দুটির নিহিতার্থ স্পষ্ট করো।
উত্তর: উদ্ধৃত পঙ্ক্তি দুটি আধুনিক যুগের বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী রচিত 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার অংশ। এখানে কবি দুটি বিপরীতধর্মী পাখির রূপকের সাহায্যে যুদ্ধ ও শান্তির আবহকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
নিহিতার্থ: শকুন বা চিল হলো শিকারি ও মৃতদেহভোজী পাখি। কবিতায় এরা হলো সাম্রাজ্যবাদী, যুদ্ধবাজ এবং সুযোগসন্ধানী মানুষের প্রতীক। যুদ্ধের ফলে পৃথিবীতে যে অগণিত মানুষের মৃত্যু ও রক্তপাত ঘটে, এই শকুন রূপী যুদ্ধবাজরা সেই মৃতদেহের ওপর বা ধ্বংসস্তূপের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার লোভে মাথার ওপর চক্কর দেয়। এরা সমাজের অশুভ শক্তি।
অন্যদিকে, 'কোকিল' হলো বসন্তের দূত, যা গান গায়। কবিতায় কোকিল হলো আশা, নবসৃষ্টি এবং মানবতার প্রতীক। চারপাশে যখন ধ্বংসের প্রতীক শকুন আর চিলেরা ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন কবির একমাত্র সম্বল হলো এই একটিমাত্র কোকিল। অর্থাৎ, সমস্ত অশুভ শক্তির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেও কবি মানবতার গানেই আস্থা রেখেছেন। এই একটি কোকিলই সহস্র উপায়ে গান বেঁধে একদিন সমস্ত শকুন ও চিলের আস্ফালনকে মুছে দিয়ে পৃথিবীতে আবার বসন্ত বা শান্তি ফিরিয়ে আনবে— এটাই পঙ্ক্তি দুটির নিহিতার্থ।
নিহিতার্থ: শকুন বা চিল হলো শিকারি ও মৃতদেহভোজী পাখি। কবিতায় এরা হলো সাম্রাজ্যবাদী, যুদ্ধবাজ এবং সুযোগসন্ধানী মানুষের প্রতীক। যুদ্ধের ফলে পৃথিবীতে যে অগণিত মানুষের মৃত্যু ও রক্তপাত ঘটে, এই শকুন রূপী যুদ্ধবাজরা সেই মৃতদেহের ওপর বা ধ্বংসস্তূপের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার লোভে মাথার ওপর চক্কর দেয়। এরা সমাজের অশুভ শক্তি।
অন্যদিকে, 'কোকিল' হলো বসন্তের দূত, যা গান গায়। কবিতায় কোকিল হলো আশা, নবসৃষ্টি এবং মানবতার প্রতীক। চারপাশে যখন ধ্বংসের প্রতীক শকুন আর চিলেরা ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন কবির একমাত্র সম্বল হলো এই একটিমাত্র কোকিল। অর্থাৎ, সমস্ত অশুভ শক্তির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করেও কবি মানবতার গানেই আস্থা রেখেছেন। এই একটি কোকিলই সহস্র উপায়ে গান বেঁধে একদিন সমস্ত শকুন ও চিলের আস্ফালনকে মুছে দিয়ে পৃথিবীতে আবার বসন্ত বা শান্তি ফিরিয়ে আনবে— এটাই পঙ্ক্তি দুটির নিহিতার্থ।
৬. "অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে" - কবির এই আহ্বানের কারণ কী?
উত্তর: 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় কবি জয় গোস্বামী বারংবার যুদ্ধবাজ মানুষদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কবিতার শেষে সেই অস্ত্র 'গানের দুটি পায়ে' রাখার কথা বলেছেন।
আহ্বানের কারণ: বর্তমান সভ্যতায় মানুষ ক্ষমতার লোভে এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষায় অস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। কিন্তু কবি বিশ্বাস করেন যে, অস্ত্র দিয়ে কখনো শান্তি আনা যায় না, তা কেবল ধ্বংস ও মৃত্যু ডেকে আনে। তাই তিনি মানবতার স্বার্থে অস্ত্র ত্যাগ করার কথা বলেছেন।
'গানের দুটি পায়ে' অস্ত্র রাখার অর্থ হলো— শিল্প, সংস্কৃতি এবং শুভ বুদ্ধির কাছে হিংসাকে সমর্পণ করা। গান হলো মানুষের মনের সবচেয়ে সুকুমার বৃত্তি। যখন কোনো মানুষ শিল্পের কাছে বা সংগীতের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, তখন তার ভেতরের সমস্ত অহংকার, ক্রোধ এবং পশুত্ব দূর হয়ে যায়। কবি চান যুদ্ধবাজরাও তাদের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ও অহংকারকে এই পবিত্র শিল্পের চরণে নামিয়ে রাখুক। তবেই তারা যুদ্ধের পথ ছেড়ে নদীর শান্ত তীরে ও দেশগাঁয়ের স্নিগ্ধতায় ফিরে গিয়ে এক শান্তিময় পৃথিবীর বাসিন্দা হতে পারবে।
আহ্বানের কারণ: বর্তমান সভ্যতায় মানুষ ক্ষমতার লোভে এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষায় অস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। কিন্তু কবি বিশ্বাস করেন যে, অস্ত্র দিয়ে কখনো শান্তি আনা যায় না, তা কেবল ধ্বংস ও মৃত্যু ডেকে আনে। তাই তিনি মানবতার স্বার্থে অস্ত্র ত্যাগ করার কথা বলেছেন।
'গানের দুটি পায়ে' অস্ত্র রাখার অর্থ হলো— শিল্প, সংস্কৃতি এবং শুভ বুদ্ধির কাছে হিংসাকে সমর্পণ করা। গান হলো মানুষের মনের সবচেয়ে সুকুমার বৃত্তি। যখন কোনো মানুষ শিল্পের কাছে বা সংগীতের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, তখন তার ভেতরের সমস্ত অহংকার, ক্রোধ এবং পশুত্ব দূর হয়ে যায়। কবি চান যুদ্ধবাজরাও তাদের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ও অহংকারকে এই পবিত্র শিল্পের চরণে নামিয়ে রাখুক। তবেই তারা যুদ্ধের পথ ছেড়ে নদীর শান্ত তীরে ও দেশগাঁয়ের স্নিগ্ধতায় ফিরে গিয়ে এক শান্তিময় পৃথিবীর বাসিন্দা হতে পারবে।
৭. "আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো" - 'খড়কুটো' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কবি তাকে আঁকড়ে ধরেছেন কেন?
উত্তর: খড়কুটোর পরিচয়: 'খড়কুটো' বলতে সাধারণত শুকনো ঘাস বা খড়কে বোঝায়, যা অত্যন্ত সামান্য ও তুচ্ছ বস্তু। 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় 'খড়কুটো' বলতে কবির জানা সামান্য 'একটা-দুটো গান' বা শিল্পসত্তাকে বোঝানো হয়েছে।
আঁকড়ে ধরার কারণ: প্রবাদে আছে "ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরতে চায়।" অর্থাৎ, চরম বিপদের মুহূর্তে মানুষ সামান্যতম বাঁচার অবলম্বন পেলেও তাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। বর্তমান পৃথিবীতে যুদ্ধের তাণ্ডব, রক্তপাত এবং হিংসার কারণে মানবসভ্যতা আজ খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার মধ্যে কবি একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে অত্যন্ত অসহায় মনে করেছেন।
তাঁর কাছে যুদ্ধ থামানোর মতো কোনো মারণাস্ত্র নেই, তাঁর সম্বল কেবল কয়েকটি গান। তাই ডুবে যাওয়া সভ্যতার শেষ আশা হিসেবে কবি তাঁর এই সামান্য গান বা মানবতাকেই খড়কুটোর মতো শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছেন। তাঁর বিশ্বাস, এই তুচ্ছ মনে হওয়া গানই একদিন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড়ো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং মানবসভ্যতাকে রক্ষা করবে।
আঁকড়ে ধরার কারণ: প্রবাদে আছে "ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরতে চায়।" অর্থাৎ, চরম বিপদের মুহূর্তে মানুষ সামান্যতম বাঁচার অবলম্বন পেলেও তাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। বর্তমান পৃথিবীতে যুদ্ধের তাণ্ডব, রক্তপাত এবং হিংসার কারণে মানবসভ্যতা আজ খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার মধ্যে কবি একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে অত্যন্ত অসহায় মনে করেছেন।
তাঁর কাছে যুদ্ধ থামানোর মতো কোনো মারণাস্ত্র নেই, তাঁর সম্বল কেবল কয়েকটি গান। তাই ডুবে যাওয়া সভ্যতার শেষ আশা হিসেবে কবি তাঁর এই সামান্য গান বা মানবতাকেই খড়কুটোর মতো শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছেন। তাঁর বিশ্বাস, এই তুচ্ছ মনে হওয়া গানই একদিন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড়ো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং মানবসভ্যতাকে রক্ষা করবে।
৮. "আমি এখন হাজার হাতে পায়ে / এগিয়ে আসি..." - এই 'আমি' কে? তাঁর এই এগিয়ে আসার কারণ কী?
উত্তর: 'আমি'-র পরিচয়: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতায় 'আমি' হলেন স্বয়ং কবি, যিনি এখানে শুধু একজন ব্যক্তিসত্তা নন, বরং বিশ্বের সমস্ত শান্তিকামী, সংবেদনশীল এবং সাধারণ প্রতিবাদী মানুষের প্রতিনিধি।
এগিয়ে আসার কারণ: পৃথিবীতে যখন মুষ্টিমেয় কিছু যুদ্ধবাজ মানুষ ক্ষমতার লোভে যুদ্ধ ও রক্তপাতের উন্মাদনায় মেতে ওঠে, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য কবি আর একা ঘরে বসে থাকতে রাজি নন। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে সমগ্র মানবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তাই তিনি হাজারো সাধারণ মানুষের হাত ও পা-কে নিজের সঙ্গে যুক্ত করে এক বিশাল সম্মিলিত শক্তি হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই, তাঁরা খালি হাতে বা 'হাত নাড়িয়ে' বুলেটের মতো মারণাস্ত্রকে প্রতিরোধ করতে চান। মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ মানবিক শক্তি এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসাই হলো তাঁদের এগিয়ে আসার মূল কারণ।
এগিয়ে আসার কারণ: পৃথিবীতে যখন মুষ্টিমেয় কিছু যুদ্ধবাজ মানুষ ক্ষমতার লোভে যুদ্ধ ও রক্তপাতের উন্মাদনায় মেতে ওঠে, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য কবি আর একা ঘরে বসে থাকতে রাজি নন। তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে সমগ্র মানবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তাই তিনি হাজারো সাধারণ মানুষের হাত ও পা-কে নিজের সঙ্গে যুক্ত করে এক বিশাল সম্মিলিত শক্তি হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই, তাঁরা খালি হাতে বা 'হাত নাড়িয়ে' বুলেটের মতো মারণাস্ত্রকে প্রতিরোধ করতে চান। মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ মানবিক শক্তি এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসাই হলো তাঁদের এগিয়ে আসার মূল কারণ।
৯. "তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান / নদীতে, দেশগাঁয়ে" - এই পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
উত্তর: উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি জয় গোস্বামী যুদ্ধক্লান্ত মানুষের জীবনে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা এবং শিল্পের নিরাময় শক্তির এক সুন্দর বার্তা দিয়েছেন।
বার্তা ও তাৎপর্য: যুদ্ধ মানুষকে শহর, নগর এবং যান্ত্রিক সভ্যতার কৃত্রিম আবরণের মধ্যে বন্দি করে রাখে। সেখানে শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানি আর রক্তের দাগ। কিন্তু কবি বলেছেন, মানুষ যখন যুদ্ধের সেই অহংকারের বর্ম খুলে ফেলবে এবং শিল্পের বা 'গান'-এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করবে, তখন তার জীবনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসবে।
গান তখন মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা এক নিষ্পাপ ঋষিবালকের রূপ ধরে সেই যুদ্ধক্লান্ত মানুষকে হাত ধরে নিয়ে যাবে। কোথায় নিয়ে যাবে? নিয়ে যাবে নদীর তীরে, শান্ত-স্নিগ্ধ দেশগাঁয়ে। গ্রামবাংলার এই সহজ-সরল পল্লীপ্রকৃতি হলো শান্তির চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল। সেখানে কোনো কোলাহল বা হিংসা নেই, আছে শুধু স্নিগ্ধতা। অর্থাৎ, কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে একমাত্র গান বা শিল্পই মানুষকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্ত করে প্রকৃতির নির্মল কোল ও শান্তিময় জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
বার্তা ও তাৎপর্য: যুদ্ধ মানুষকে শহর, নগর এবং যান্ত্রিক সভ্যতার কৃত্রিম আবরণের মধ্যে বন্দি করে রাখে। সেখানে শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানি আর রক্তের দাগ। কিন্তু কবি বলেছেন, মানুষ যখন যুদ্ধের সেই অহংকারের বর্ম খুলে ফেলবে এবং শিল্পের বা 'গান'-এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করবে, তখন তার জীবনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসবে।
গান তখন মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা এক নিষ্পাপ ঋষিবালকের রূপ ধরে সেই যুদ্ধক্লান্ত মানুষকে হাত ধরে নিয়ে যাবে। কোথায় নিয়ে যাবে? নিয়ে যাবে নদীর তীরে, শান্ত-স্নিগ্ধ দেশগাঁয়ে। গ্রামবাংলার এই সহজ-সরল পল্লীপ্রকৃতি হলো শান্তির চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল। সেখানে কোনো কোলাহল বা হিংসা নেই, আছে শুধু স্নিগ্ধতা। অর্থাৎ, কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে একমাত্র গান বা শিল্পই মানুষকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্ত করে প্রকৃতির নির্মল কোল ও শান্তিময় জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
১০. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এর মাধ্যমেই রচনার মূল ভাববস্তু বা অন্তর্নিহিত অর্থ পাঠকের সামনে পরিস্ফুট হয়। জয় গোস্বামী তাঁর আলোচ্য কবিতাটির নাম রেখেছেন 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান'।
কবিতাটির শুরুতেই কবি যুদ্ধবাজদের প্রতি 'অস্ত্র ফ্যালো' বলে আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান পৃথিবীতে যুদ্ধ, হিংসা এবং মৃত্যু যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তখন কবি সেই অস্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা অস্ত্র তুলে নেননি। তিনি বুলেটের মোকাবিলা করতে গায়ে পরেছেন 'গানের বর্ম'। তাঁর মাথার ওপর মৃত্যুর প্রতীক 'শকুন বা চিল' ঘুরলেও তিনি সৃষ্টির প্রতীক 'কোকিল'-এর গানের ওপরই ভরসা রেখেছেন।
কবির বিশ্বাস, অস্ত্রের আঘাত রক্তপাত বাড়ায়, কিন্তু গান বা শিল্প সেই রক্তের দাগ মুছতে পারে। গান অহংকার দূর করে মানুষকে ঋষিবালকের মতো শান্ত করে এবং প্রকৃতির বুকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই কবিতার শেষে কবি সমস্ত অস্ত্রকে গানের পায়ে সমর্পণ করতে বলেছেন। দেখা যাচ্ছে, সমগ্র কবিতা জুড়েই ধ্বংসাত্মক 'অস্ত্র'-এর বিপরীতে রক্ষাকর্তা হিসেবে 'গান'-কেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে এই গভীর সামঞ্জস্যের কারণেই বলা যায়, কবিতাটির 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' নামকরণটি সর্বাঙ্গসুন্দর ও সার্থক হয়েছে।
কবিতাটির শুরুতেই কবি যুদ্ধবাজদের প্রতি 'অস্ত্র ফ্যালো' বলে আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান পৃথিবীতে যুদ্ধ, হিংসা এবং মৃত্যু যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তখন কবি সেই অস্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা অস্ত্র তুলে নেননি। তিনি বুলেটের মোকাবিলা করতে গায়ে পরেছেন 'গানের বর্ম'। তাঁর মাথার ওপর মৃত্যুর প্রতীক 'শকুন বা চিল' ঘুরলেও তিনি সৃষ্টির প্রতীক 'কোকিল'-এর গানের ওপরই ভরসা রেখেছেন।
কবির বিশ্বাস, অস্ত্রের আঘাত রক্তপাত বাড়ায়, কিন্তু গান বা শিল্প সেই রক্তের দাগ মুছতে পারে। গান অহংকার দূর করে মানুষকে ঋষিবালকের মতো শান্ত করে এবং প্রকৃতির বুকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই কবিতার শেষে কবি সমস্ত অস্ত্রকে গানের পায়ে সমর্পণ করতে বলেছেন। দেখা যাচ্ছে, সমগ্র কবিতা জুড়েই ধ্বংসাত্মক 'অস্ত্র'-এর বিপরীতে রক্ষাকর্তা হিসেবে 'গান'-কেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে এই গভীর সামঞ্জস্যের কারণেই বলা যায়, কবিতাটির 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' নামকরণটি সর্বাঙ্গসুন্দর ও সার্থক হয়েছে।
৮. ব্যাকরণ (Grammar)
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে - কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- অস্ত্র রাখো পায়ে - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- আমি এখন হাজার হাতে পায়ে - করণ কারকে 'এ' বিভক্তি (হাতে ও পায়ের দ্বারা)।
- গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।
- রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান নদীতে - অধিকরণ কারকে 'তে' বিভক্তি।
সমাস নির্ণয়
- খড়কুটো: খড় ও কুটো (দ্বন্দ্ব সমাস)।
- ঋষিবালক: ঋষি যে বালক (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
- দেশগাঁয়ে: দেশে ও গাঁয়ে (দ্বন্দ্ব সমাস / অলুক দ্বন্দ্ব)।
- সহস্র: সহস্র সংখ্যক (সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস) বা কেবল হাজার (দ্বিগু সমাস)।
- ময়ূরপালক: ময়ূরের পালক (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন
- বাক্য: গান তো জানি একটা দুটো, আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যদিও গান একটা দুটো জানি, তবুও সে-খড়কুটোকে আঁকড়ে ধরি। - বাচ্য: গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে। (কর্মবাচ্যে)
উত্তর: গানের বর্ম আজ আমার দ্বারা গায়ে পরা হয়েছে। - বাচ্য: রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে। (কর্মবাচ্যে)
উত্তর: রক্ত মোছা হয় শুধু গানের গায়ে। - বাচ্য: গান দাঁড়াল ঋষিবালক। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: গানের ঋষিবালক হয়ে দাঁড়ানো হলো।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
কবিতাটি বিশিষ্ট বাঙালি কবি জয় গোস্বামীর লেখা এবং এটি তাঁর ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত 'পাতালকোঁড়' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবি যুদ্ধবাজদের সমস্ত অহংকার ও হিংসা ত্যাগ করে তাদের মারণাস্ত্র গানের দুটি পায়ে নামিয়ে রাখতে বা ফেলে দিতে বলেছেন।
'গানের বর্ম' বলতে কবি গান, শিল্প, সংবেদনশীলতা ও মানবতাকে বুঝিয়েছেন, যা যুদ্ধের হিংসা বা বুলেটকে প্রতিহত করার রক্ষাকবচ।
কবিতায় গানকে মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা এক শান্ত ও নিষ্পাপ 'ঋষিবালক'-এর রূপ দেওয়া হয়েছে।