Sponsored Links
বহুরূপী (সুবোধ ঘোষ)
সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ, এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী'-এর সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
বহুরূপী গল্পটি সুবোধ ঘোষের লেখা একটি অনবদ্য ছোটোগল্প। গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা একজন অত্যন্ত গরিব মানুষ। কিন্তু বাঁধা ধরা নিয়মে ঘড়ির কাঁটা ধরে কোনো অফিসে বা দোকানে কাজ করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। একঘেয়ে অভাব সহ্য করতে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু একঘেয়ে কাজ করতে তাঁর প্রবল আপত্তি। তাই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন 'বহুরূপী'র জীবন। মাঝে মাঝে পাগল, বাইজি, পুলিশ, কাপালিক বা বাউল সেজে তিনি রাস্তায় বের হন এবং সামান্য যা বকশিশ পান তাতেই তাঁর ভাতের হাঁড়ির দাবি মেটানোর চেষ্টা করেন।
একদিন হরিদা তাঁর বন্ধুদের কাছে শোনেন যে, শহরের সবচেয়ে ধনী অথচ কৃপণ ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসী এসেছিলেন। জগদীশবাবু তাঁকে সোনার বোল দেওয়া কাঠের খড়ম পরিয়ে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন এবং বিদায়বেলায় একশো টাকার একটি নোট জোর করে তাঁর ঝোলায় দিয়ে দিয়েছিলেন। এই কথা শুনে হরিদার মাথায় এক নতুন মতলব চাপে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এমন এক জবর খেলা দেখাবেন যাতে তাঁর সারা বছরের রোজগার হয়ে যায়।
সেইদিন সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে এক অদ্ভূত আগন্তুকের আবির্ভাব হয়। আদুড় গা, ধবধবে সাদা উত্তরীয়, সাদা থান এবং হাতে গীতা নিয়ে আসা এই বিরাগী সন্ন্যাসী তাঁর কথায় ও আচরণে জগদীশবাবুকে এমন মুগ্ধ করেন যে জগদীশবাবু তাঁকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা প্রণামী সাধেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই বিরাগী টাকার থলিটি অবলীলায় মাটিতে ফেলে রেখে চলে আসেন। পরে হরিদার বন্ধুরা বুঝতে পারে যে ওই বিরাগী আসলে হরিদা। এত অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন টাকাটা নিলেন না, এই প্রশ্নের উত্তরে হরিদা জানান— একজন বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর বহুরূপীর 'ঢং' বা শিল্পের প্রতি অবিচার করা হতো। একজন খাঁটি শিল্পীর এই চরম আত্মমর্যাদাবোধই গল্পের মূল উপজীব্য।
একদিন হরিদা তাঁর বন্ধুদের কাছে শোনেন যে, শহরের সবচেয়ে ধনী অথচ কৃপণ ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসী এসেছিলেন। জগদীশবাবু তাঁকে সোনার বোল দেওয়া কাঠের খড়ম পরিয়ে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন এবং বিদায়বেলায় একশো টাকার একটি নোট জোর করে তাঁর ঝোলায় দিয়ে দিয়েছিলেন। এই কথা শুনে হরিদার মাথায় এক নতুন মতলব চাপে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এমন এক জবর খেলা দেখাবেন যাতে তাঁর সারা বছরের রোজগার হয়ে যায়।
সেইদিন সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে এক অদ্ভূত আগন্তুকের আবির্ভাব হয়। আদুড় গা, ধবধবে সাদা উত্তরীয়, সাদা থান এবং হাতে গীতা নিয়ে আসা এই বিরাগী সন্ন্যাসী তাঁর কথায় ও আচরণে জগদীশবাবুকে এমন মুগ্ধ করেন যে জগদীশবাবু তাঁকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকা প্রণামী সাধেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই বিরাগী টাকার থলিটি অবলীলায় মাটিতে ফেলে রেখে চলে আসেন। পরে হরিদার বন্ধুরা বুঝতে পারে যে ওই বিরাগী আসলে হরিদা। এত অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন টাকাটা নিলেন না, এই প্রশ্নের উত্তরে হরিদা জানান— একজন বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর বহুরূপীর 'ঢং' বা শিল্পের প্রতি অবিচার করা হতো। একজন খাঁটি শিল্পীর এই চরম আত্মমর্যাদাবোধই গল্পের মূল উপজীব্য।
২. লেখক পরিচিতি
সুবোধ ঘোষ (১৯১০ – ১৯৮০): প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ বিহারের হাজারিবাগে জন্মগ্রহণ করেন। আদিনিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর মহকুমার বহর গ্রামে। তিনি পেশাগত জীবনে বাসের কন্ডাক্টর থেকে শুরু করে সার্কাসের ক্লাউন, বেকারির কর্মী এবং সাংবাদিকের কাজ করেছেন। এই বিচিত্র কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো- 'পরশুরামের কুঠার', 'ফসিল', 'তিলাঞ্জলি', 'গঙ্গোত্রী', 'জতুগৃহ', 'ভারত প্রেমকথা' ইত্যাদি। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জগত্তারিণী' স্বর্ণপদক লাভ করেন।
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন
১. 'বহুরূপী' গল্পের রচয়িতা কে?
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (খ) সুবোধ ঘোষ (গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) আশাপূর্ণা দেবী
উত্তর: (খ) সুবোধ ঘোষ
২. হরিদার কাছে কারা সন্ন্যাসীর গল্প করেছিল?
(ক) পাড়ার লোকেরা (খ) জগদীশবাবু স্বয়ং (গ) গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরা (ঘ) পুলিশ
উত্তর: (গ) গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরা
৩. সন্ন্যাসী জগদীশবাবুর বাড়িতে কতদিন ছিলেন?
(ক) সাতদিন (খ) পাঁচদিন (গ) দশদিন (ঘ) এক মাস
উত্তর: (ক) সাতদিন
৪. সন্ন্যাসী সারা বছরে কী খেতেন?
(ক) শুধু ফলমূল (খ) একটি মাত্র হরীতকী (গ) এক গ্লাস দুধ (ঘ) কিছুই খেতেন না
উত্তর: (খ) একটি মাত্র হরীতকী
৫. সন্ন্যাসীর বয়স কত বলে অনেকে মনে করেন?
(ক) একশো বছর (খ) হাজার বছরের বেশি (গ) পাঁচশো বছর (ঘ) দুশো বছর
উত্তর: (খ) হাজার বছরের বেশি
৬. সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো কে পেয়েছিলেন?
(ক) হরিদা (খ) গল্পকথক (গ) জগদীশবাবু (ঘ) শহরের সব মানুষ
উত্তর: (গ) জগদীশবাবু
৭. জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে কীসের খড়ম পরিয়েছিলেন?
(ক) রুপোর বোল লাগানো (খ) সোনার বোল লাগানো (গ) সাধারণ কাঠের (ঘ) হাতির দাঁতের
উত্তর: (খ) সোনার বোল লাগানো
৮. জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর ঝোলার ভেতরে কত টাকার নোট ফেলে দিয়েছিলেন?
(ক) একশো টাকার (খ) পঞ্চাশ টাকার (গ) পাঁচশো টাকার (ঘ) দশ টাকার
উত্তর: (ক) একশো টাকার
৯. গল্প শুনে হরিদা কী করছিলেন?
(ক) হাসছিলেন (খ) খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন (গ) রেগে গেলেন (ঘ) কাঁদতে লাগলেন
উত্তর: (খ) খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন
১০. হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় কী ফোটে?
(ক) শুধু ভাত (খ) মাংস (গ) শুধু জল (ঘ) দুধ
উত্তর: (গ) শুধু জল
১১. আড্ডার জন্য চা, চিনি আর দুধ কারা নিয়ে আসত?
(ক) হরিদা (খ) জগদীশবাবু (গ) গল্পকথকরা (ঘ) পাড়ার দোকানদার
উত্তর: (গ) গল্পকথকরা
১২. হরিদার কীসে ভয়ানক আপত্তি ছিল?
(ক) একঘেয়ে অভাবে (খ) একঘেয়ে কাজে (গ) বহুরূপী সাজতে (ঘ) বন্ধুদের আড্ডায়
উত্তর: (খ) একঘেয়ে কাজে
১৩. হরিদার জীবনের পেশা কী ছিল?
(ক) অফিসের কেরানি (খ) বাসের কন্ডাক্টর (গ) বহুরূপী সাজা (ঘ) দোকানদারি
উত্তর: (গ) বহুরূপী সাজা
১৪. চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে দুপুরবেলা কীসের আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল?
(ক) এক ডাকাতের (খ) উন্মাদ পাগলের (গ) পুলিশের (ঘ) বাঘের
উত্তর: (খ) উন্মাদ পাগলের
১৫. পাগলটার কোমরে কী জড়ানো ছিল?
(ক) ছেঁড়া ধুতি (খ) ছেঁড়া কম্বল (গ) গামছা (ঘ) প্যান্ট
উত্তর: (খ) ছেঁড়া কম্বল
১৬. বাসের ড্রাইভারের নাম কী ছিল?
(ক) ভবতোষ (খ) অনাদি (গ) কাশীনাথ (ঘ) জগদীশ
উত্তর: (গ) কাশীনাথ
১৭. রূপসি বাইজি সেজে হরিদার কত টাকা রোজগার হয়েছিল?
(ক) আট টাকা দশ আনা (খ) দশ টাকা (গ) আট আনা (ঘ) আট টাকা আট আনা
উত্তর: (ক) আট টাকা দশ আনা
১৮. বাইজি সেজে হরিদা দোকানদারকে কী এগিয়ে দিচ্ছিলেন?
(ক) মিষ্টি (খ) ফুলসাজি (গ) টাকা (ঘ) চিঠি
উত্তর: (খ) ফুলসাজি
১৯. দোকানদার ফুলসাজির উপর কী ফেলে দিত?
(ক) আধুলি (খ) সিকি (গ) টাকা (ঘ) দু-আনা
উত্তর: (খ) সিকি
২০. হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন?
(ক) বাস স্ট্যান্ডে (খ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে (গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে (ঘ) ইস্কুলে
উত্তর: (খ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে
২১. পুলিশ সেজে হরিদা কটি ছেলেকে ধরেছিলেন?
(ক) দুটি (খ) তিনটি (গ) চারটে (ঘ) পাঁচটি
উত্তর: (গ) চারটে
২২. মাস্টারমশাই নকল পুলিশের কাছে কত টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন?
(ক) এক টাকা (খ) চার আনা (গ) আটআনা (ঘ) দু টাকা
উত্তর: (গ) আটআনা
২৩. "এবার মারি তো হাতি, লুঠি তো ভাণ্ডার" - কথাটি কে বলেছে?
(ক) অনাদি (খ) জগদীশবাবু (গ) হরিদা (ঘ) কাশীনাথ
উত্তর: (গ) হরিদা
২৪. জগদীশবাবু কেমন মানুষ?
(ক) গরিব (খ) ধনী কিন্তু কৃপণ (গ) খুব দয়ালু (ঘ) রাগী
উত্তর: (খ) ধনী কিন্তু কৃপণ
২৫. হরিদার মতে জগদীশবাবু খুশি হলে কত বকশিশ দিতে পারেন?
(ক) এক টাকা (খ) পাঁচ আনার বেশি নয় (গ) আট আনা (ঘ) দশ টাকা
উত্তর: (খ) পাঁচ আনার বেশি নয়
২৬. বন্ধুরা জগদীশবাবুর কাছে কেন যাবে বলেছিল?
(ক) খেলা দেখাতে (খ) স্পোর্টের চাঁদা নিতে (গ) বেড়াতে (ঘ) নিমন্ত্রণ খেতে
উত্তর: (খ) স্পোর্টের চাঁদা নিতে
২৭. জগদীশবাবুর বাড়িতে আগন্তুকের পরনে কী ছিল?
(ক) গৈরিক বসন (খ) সাদা উত্তরীয় ও ছোটো বহরের সাদা থান (গ) ছেঁড়া কম্বল (ঘ) প্যান্ট-শার্ট
উত্তর: (খ) সাদা উত্তরীয় ও ছোটো বহরের সাদা থান
২৮. আগন্তুক বিরাগীর ঝোলার ভেতরে কী বই ছিল?
(ক) রামায়ণ (খ) মহাভারত (গ) গীতা (ঘ) উপনিষদ
উত্তর: (গ) গীতা
২৯. "আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?" - আগন্তুক কাকে এ কথা বলেছেন?
(ক) হরিদাকে (খ) জগদীশবাবুকে (গ) ভবতোষকে (ঘ) কাশীনাথকে
উত্তর: (খ) জগদীশবাবুকে
৩০. জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ কত ছিল বলে বিরাগী জানান?
(ক) এগারো লক্ষ টাকা (খ) দশ লক্ষ টাকা (গ) এক লক্ষ টাকা (ঘ) পাঁচ লক্ষ টাকা
উত্তর: (ক) এগারো লক্ষ টাকা
৩১. বিরাগী জগদীশবাবুর কাছে কী সেবা চেয়েছিলেন?
(ক) গরম দুধ (খ) ঠান্ডা জল (গ) খাবার (ঘ) টাকা
উত্তর: (খ) ঠান্ডা জল
৩২. "পরম সুখ কাকে বলে জানেন?" - বক্তা পরম সুখ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
(ক) অনেক টাকা পাওয়া (খ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া (গ) ভালো খাবার পাওয়া (ঘ) সুস্থ থাকা
উত্তর: (খ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া
৩৩. জগদীশবাবু বিরাগীকে কোথায় থাকতে অনুরোধ করেছিলেন?
(ক) নিজের দালান বাড়িতে (খ) হিমালয়ে (গ) লিচু বাগানে (ঘ) মন্দিরে
উত্তর: (ক) নিজের দালান বাড়িতে
৩৪. ধন, জন, যৌবনকে বিরাগী কী বলেছেন?
(ক) আশীর্বাদ (খ) সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা (গ) অহংকার (ঘ) পরম সুখ
উত্তর: (খ) সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা
৩৫. জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য বিরাগীকে কত টাকা দিতে চেয়েছিলেন?
(ক) একশো টাকা (খ) একশো এক টাকা (গ) পাঁচশো টাকা (ঘ) হাজার টাকা
উত্তর: (খ) একশো এক টাকা
৩৬. "আমার বুকের ভিতরেই যে সব তীর্থ।" - কার উক্তি?
(ক) সন্ন্যাসীর (খ) জগদীশবাবুর (গ) বিরাগীবেশী হরিদার (ঘ) অনাদির
উত্তর: (গ) বিরাগীবেশী হরিদার
৩৭. হরিদার মতে বিরাগী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে কী হতো?
(ক) পাপ হতো (খ) ঢং নষ্ট হয়ে যেত (গ) জগদীশবাবু রেগে যেতেন (ঘ) বন্ধুরা হাসত
উত্তর: (খ) ঢং নষ্ট হয়ে যেত
৩৮. "খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?" - কীসের কথা বলা হয়েছে?
(ক) একশো টাকার (খ) স্পোর্টের চাঁদার (গ) আট আনা বা দশ আনা বকশিশের (ঘ) জগদীশবাবুর সম্পত্তির
উত্তর: (গ) আট আনা বা দশ আনা বকশিশের
৩৯. সুবোধ ঘোষ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) বাঁকুড়া (খ) হাজারিবাগ (গ) মেদিনীপুর (ঘ) কলকাতা
উত্তর: (খ) হাজারিবাগ
৪০. গল্পকথকদের স্পোর্টের চাঁদার খাতাটি কার কাছে দেওয়া হয়েছিল?
(ক) হরিদার কাছে (খ) মাস্টারমশাইয়ের কাছে (গ) জগদীশবাবুর কাছে (ঘ) কাশীনাথের কাছে
উত্তর: (গ) জগদীশবাবুর কাছে
৪১. পাগলটার গলায় কীসের মালা ছিল?
(ক) ফুলের মালা (খ) রুদ্রাক্ষের মালা (গ) টিনের কৌটার মালা (ঘ) পুঁতির মালা
উত্তর: (গ) টিনের কৌটার মালা
৪২. হরিদা সপ্তাহে কত দিন বহুরূপী সেজে পথে বের হন?
(ক) রোজ (খ) সপ্তাহে বড়োজোর একটা দিন (গ) মাসে একদিন (ঘ) দু'দিন
উত্তর: (খ) সপ্তাহে বড়োজোর একটা দিন
৪৩. হরিদার ঘরটি কোথায় ছিল?
(ক) শহরের সবচেয়ে চওড়া রাস্তায় (খ) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে (গ) গ্রামের শেষে (ঘ) জগদীশবাবুর বাড়ির পাশে
উত্তর: (খ) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে
৪৪. "আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো... আমার নেই।" শূন্যস্থান পূরণ করো।
(ক) শত্রু (খ) রিপু (গ) বন্ধু (ঘ) পাপ
উত্তর: (খ) রিপু
৪৫. বিরাগীর মতে কে জগদীশবাবুর চেয়ে কিছু কম নন?
(ক) ভগবান (খ) যার কাছে বিরাগী পড়ে আছেন (গ) সন্ন্যাসী (ঘ) হরিদা
উত্তর: (খ) যার কাছে বিরাগী পড়ে আছেন
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'বহুরূপী' গল্পের কথক এবং তাঁর বন্ধুরা কার কাছে সন্ন্যাসীর গল্প করেছিলেন?
উত্তর: গল্পকথক এবং তাঁর বন্ধুরা হরিদার কাছে সন্ন্যাসীর কাণ্ডের গল্প করেছিলেন।
২. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী কোথায় থাকতেন?
উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা উঁচু দরের সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহাতে থাকতেন।
৩. সন্ন্যাসীর খাদ্যাভ্যাস কেমন ছিল?
উত্তর: সন্ন্যাসী সারা বছরে শুধু একটিমাত্র হরীতকী খেতেন, এছাড়া আর কিছুই খেতেন না।
৪. জগদীশবাবু কীভাবে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন, সন্ন্যাসী সেই নতুন খড়ম পরতে পা এগিয়ে দিলে সেই ফাঁকে জগদীশবাবু পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন।
৫. বিদায় নেওয়ার সময় জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে কী দিয়েছিলেন?
উত্তর: বিদায় নেওয়ার সময় জগদীশবাবু একশো টাকার একটি নোট জোর করে সন্ন্যাসীর ঝোলার ভেতরে ফেলে দিয়েছিলেন।
৬. হরিদার ঘরটি কোথায় অবস্থিত ছিল?
উত্তর: শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে একটি ছোট্ট ঘরই ছিল হরিদার জীবনের ঘর এবং আড্ডার জায়গা।
৭. হরিদার কী ধরনের কাজে আপত্তি ছিল?
উত্তর: ঘড়ির কাঁটার সামনে সময় বেঁধে দিয়ে নিয়ম করে রোজ কোনো অফিসের বা দোকানের একঘেয়ে চাকরি করায় হরিদার প্রবল আপত্তি ছিল।
৮. হরিদার জীবনের পেশা কী ছিল?
উত্তর: হরিদার জীবনের পেশা ছিল মাঝে মাঝে বিচিত্র ছদ্মবেশে বহুরূপী সেজে পথে বের হওয়া এবং রোজগার করা।
৯. চকের বাস স্ট্যান্ডে হরিদা কী সেজেছিলেন?
উত্তর: চকের বাস স্ট্যান্ডের কাছে হরিদা এক উন্মাদ পাগল সেজেছিলেন, যার মুখ থেকে লালা ঝরছিল এবং চোখ দুটো কটকটে লাল ছিল।
১০. পাগল সেজে হরিদা যাত্রীদের দিকে কী নিয়ে তেড়ে যাচ্ছিলেন?
উত্তর: পাগল সেজে হরিদা একটা থান ইট হাতে তুলে নিয়ে বাসের উপরে বসা যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছিলেন।
১১. বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ পাগলবেশী হরিদাকে কী ধমক দিয়েছিল?
উত্তর: বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ধমক দিয়ে বলেছিল, "খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো। অন্যদিকে যাও।"
১২. বাইজি সেজে হরিদার মোট কত রোজগার হয়েছিল?
উত্তর: রূপসি বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার মোট আট টাকা দশ আনা রোজগার হয়েছিল।
১৩. বাইজি সেজে হরিদা দোকানদারদের কী দিচ্ছিলেন?
উত্তর: বাইজি সেজে হরিদা মুচকি হেসে এবং চোখ টিপে দোকানদারদের দিকে একটি ফুলসাজি এগিয়ে দিচ্ছিলেন।
১৪. হরিদা কোথায় পুলিশ সেজে দাঁড়িয়েছিলেন?
উত্তর: হরিদা একদিন নকল পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে দাঁড়িয়েছিলেন।
১৫. মাস্টারমশাই কেন পুলিশবেশী হরিদার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন?
উত্তর: কারণ লিচু বাগানে পুলিশবেশী হরিদা স্কুলের চারটি ছেলেকে ধরেছিলেন, তাই মাস্টারমশাই তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।
১৬. মাস্টারমশাই পুলিশবেশী হরিদাকে কত টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই ছেলেদের ছাড়ানোর জন্য পুলিশবেশী হরিদাকে আটআনা ঘুষ দিয়েছিলেন।
১৭. "এবার মারি তো হাতি, লুঠি তো ভাণ্ডার" - হরিদার এই কথার অর্থ কী?
উত্তর: হরিদা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে এবার তিনি এমন কোনো বড়ো ছদ্মবেশ ধারণ করে জগদীশবাবুর বাড়ি যাবেন, যাতে একবারে এত বেশি বকশিশ পান যা দিয়ে তাঁর সারা বছর চলে যায়।
১৮. জগদীশবাবু কেমন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু শহরের একজন ধনী ব্যক্তি হলেও তিনি ছিলেন বেশ কৃপণ প্রকৃতির মানুষ।
১৯. গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরা সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর কাছে কেন গিয়েছিলেন?
উত্তর: গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরা স্পোর্টের বা খেলাধুলোর চাঁদা নেওয়ার জন্য সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর কাছে গিয়েছিলেন।
২০. জগদীশবাবুর বাড়ির বারান্দায় আগন্তুক বিরাগীর চেহারা কেমন ছিল?
উত্তর: বিরাগীর আদুড় গা, পরনে সাদা থান ও সাদা উত্তরীয়, মাথায় শুকনো সাদা চুল, ধুলো মাখা পা এবং হাতে শুধু একটি ঝোলা ছিল।
২১. বিরাগীর ঝোলার ভেতরে কী ছিল?
উত্তর: বিরাগীর ঝোলার ভেতরে শুধুমাত্র একটি বই ছিল, আর সেটি হলো 'গীতা'।
২২. "আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?" - বিরাগী কেন একথা বলেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীকে দেখে নিচে নেমে না এসে বারান্দাতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর এই অহংকারী আচরণের জন্যই বিরাগী একথা বলেছিলেন।
২৩. জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ কত ছিল?
উত্তর: বিরাগীর কথা অনুযায়ী, জগদীশবাবুর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল এগারো লক্ষ টাকা।
২৪. জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে কী অপরাধ স্বীকার করেছিলেন?
উত্তর: আগন্তুককে দেখে তৎক্ষণাৎ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে না এসে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকাটাই জগদীশবাবু নিজের অপরাধ বলে স্বীকার করেছিলেন।
২৫. বিরাগীর মতে 'পরম সুখ' কী?
উত্তর: বিরাগীবেশী হরিদার মতে, সব রকমের জাগতিক সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াই হলো পরম সুখ।
২৬. জগদীশবাবু বিরাগীকে কী অনুরোধ করেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু দুই হাত জোড় করে বিরাগীকে তাঁর দালান বাড়িতে কয়েকটা দিন থাকার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছিলেন।
২৭. বিরাগী ধন, জন, যৌবনকে কী বলেছেন?
উত্তর: বিরাগী ধন, জন এবং যৌবনকে সুন্দর সুন্দর এক-একটি 'বঞ্চনা' বা প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন।
২৮. জগদীশবাবু বিরাগীর পায়ের কাছে কী রেখেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু বিরাগীর পায়ের কাছে একশো এক টাকার নোটের তাড়া ভরতি একটি থলি প্রণামী হিসেবে রেখেছিলেন।
২৯. "আমি অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি।" - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: বিরাগী বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি সব মায়া ত্যাগ করেছেন। রাস্তার ধুলো এবং মহামূল্যবান সোনা বা অর্থ তাঁর কাছে একই রকম তুচ্ছ।
৩০. হরিদা টাকা স্পর্শ করেননি কেন?
উত্তর: হরিদা জানান যে, একজন বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশ ধারণ করে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর বহুরূপীর শিল্পের 'ঢং' বা পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যেত, তাই তিনি টাকা নেননি।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন
১. 'বহুরূপী' গল্পে হরিদার চরিত্রটি কীভাবে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: সুবোধ ঘোষ রচিত 'বহুরূপী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন হরিদা। তাঁর চরিত্রে কয়েকটি বিশিষ্ট দিক ফুটে উঠেছে:
১. স্বাধীনচেতা ও ছকভাঙা জীবন: হরিদা অত্যন্ত গরিব হলেও ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা কোনো একঘেয়ে চাকরি তিনি পছন্দ করেন না। অভাবকে তিনি হাসিমুখে মেনে নিতে পারেন, কিন্তু পরাধীনতাকে নয়।
২. নিখুঁত শিল্পীসত্তা: পেশা হিসেবে তিনি বহুরূপীর জীবন বেছে নিয়েছেন। যখন তিনি যে চরিত্র সাজেন (পাগল, বাইজি, পুলিশ বা বিরাগী), তখন তিনি সেই চরিত্রের সাথে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে যান। তাঁর অভিনয় এতটাই নিখুঁত যে চেনা মানুষেরাও তাঁকে চিনতে পারে না।
৩. তীব্র আত্মমর্যাদাবোধ ও নির্লোভ মানসিকতা: জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে তিনি একশো এক টাকার বিশাল অঙ্ক অনায়াসে প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, সন্ন্যাসী হয়ে টাকা নিলে তাঁর শিল্পের 'ঢং' বা পবিত্রতা নষ্ট হতো। তাঁর কাছে অর্থের চেয়ে তাঁর শিল্পীসত্তার মর্যাদা অনেক বেশি। হরিদা চরিত্রটি দরিদ্র হলেও আত্মমর্যাদায় এক অসাধারণ উচ্চতায় অবস্থান করেছে।
১. স্বাধীনচেতা ও ছকভাঙা জীবন: হরিদা অত্যন্ত গরিব হলেও ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা কোনো একঘেয়ে চাকরি তিনি পছন্দ করেন না। অভাবকে তিনি হাসিমুখে মেনে নিতে পারেন, কিন্তু পরাধীনতাকে নয়।
২. নিখুঁত শিল্পীসত্তা: পেশা হিসেবে তিনি বহুরূপীর জীবন বেছে নিয়েছেন। যখন তিনি যে চরিত্র সাজেন (পাগল, বাইজি, পুলিশ বা বিরাগী), তখন তিনি সেই চরিত্রের সাথে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে যান। তাঁর অভিনয় এতটাই নিখুঁত যে চেনা মানুষেরাও তাঁকে চিনতে পারে না।
৩. তীব্র আত্মমর্যাদাবোধ ও নির্লোভ মানসিকতা: জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সন্ন্যাসী সেজে তিনি একশো এক টাকার বিশাল অঙ্ক অনায়াসে প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ, সন্ন্যাসী হয়ে টাকা নিলে তাঁর শিল্পের 'ঢং' বা পবিত্রতা নষ্ট হতো। তাঁর কাছে অর্থের চেয়ে তাঁর শিল্পীসত্তার মর্যাদা অনেক বেশি। হরিদা চরিত্রটি দরিদ্র হলেও আত্মমর্যাদায় এক অসাধারণ উচ্চতায় অবস্থান করেছে।
২. "তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।" - বক্তা কে? 'ঢং' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বক্তা কেন এমন কথা বলেছেন?
উত্তর: বক্তা: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পের প্রধান চরিত্র, বহুরূপী পেশায় যুক্ত হরিদা এই কথাটি বলেছেন।
'ঢং' শব্দের অর্থ: 'ঢং' বলতে এখানে চরিত্রের ভান বা অভিনয়ের নিখুঁত রূপকে বোঝানো হয়েছে। একজন শিল্পী যখন কোনো চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন সেই চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলাই হলো তাঁর ঢং বা শিল্পরীতি।
কারণ: হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে একজন সর্বত্যাগী বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে গিয়েছিলেন। সন্ন্যাসীরা ধন-সম্পদ, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকেন। জগদীশবাবু যখন তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী সাধেন, তখন হরিদা তা গ্রহণ করেননি। বন্ধুদের কাছে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, সন্ন্যাসীর বেশে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর অভিনয়ের পবিত্রতা বা 'ঢং' নষ্ট হয়ে যেত। পেটের খিদে থাকলেও একজন খাঁটি শিল্পীর কাছে নিজের শিল্পের প্রতি সততা রক্ষা করাই হলো সবচেয়ে বড়ো ধর্ম। এই শিল্পবোধ থেকেই তিনি টাকা নেননি।
'ঢং' শব্দের অর্থ: 'ঢং' বলতে এখানে চরিত্রের ভান বা অভিনয়ের নিখুঁত রূপকে বোঝানো হয়েছে। একজন শিল্পী যখন কোনো চরিত্রে অভিনয় করেন, তখন সেই চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলাই হলো তাঁর ঢং বা শিল্পরীতি।
কারণ: হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে একজন সর্বত্যাগী বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে গিয়েছিলেন। সন্ন্যাসীরা ধন-সম্পদ, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকেন। জগদীশবাবু যখন তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী সাধেন, তখন হরিদা তা গ্রহণ করেননি। বন্ধুদের কাছে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, সন্ন্যাসীর বেশে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর অভিনয়ের পবিত্রতা বা 'ঢং' নষ্ট হয়ে যেত। পেটের খিদে থাকলেও একজন খাঁটি শিল্পীর কাছে নিজের শিল্পের প্রতি সততা রক্ষা করাই হলো সবচেয়ে বড়ো ধর্ম। এই শিল্পবোধ থেকেই তিনি টাকা নেননি।
৩. "এবার মারি তো হাতি, লুঠি তো ভাণ্ডার।" - কথাটি কে, কোন প্রসঙ্গে বলেছেন? তাঁর এই উদ্দেশ্য কি শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল?
উত্তর: প্রসঙ্গ: কথাটি বলেছেন 'বহুরূপী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা। শহরের ধনী ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে এক উঁচু দরের সন্ন্যাসী এসেছিলেন এবং জগদীশবাবু তাঁকে একশো টাকা প্রণামী দিয়েছিলেন। এই গল্প বন্ধুদের মুখে শুনে হরিদার মাথায় এক নতুন ছদ্মবেশের পরিকল্পনা আসে। তিনি স্থির করেন যে এবার এমন এক বিরাগীর রূপ ধারণ করে জগদীশবাবুর কাছে যাবেন, যাতে তিনি একবারে এত বেশি অর্থ পান যা দিয়ে তাঁর সারা বছর অনায়াসে কেটে যায়। এই বড়ো প্রাপ্তির লক্ষ্য বোঝাতেই তিনি প্রবাদপ্রতিম এই কথাটি বলেছিলেন।
উদ্দেশ্য সফল হওয়া: আপাতদৃষ্টিতে তাঁর উদ্দেশ্য আংশিক সফল হয়েছিল, কারণ তাঁর নিখুঁত অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা সেই টাকা গ্রহণ করেননি। কারণ বিরাগীর ছদ্মবেশে টাকা নিলে তাঁর শিল্পের অবমাননা হতো। তাই আর্থিক দিক থেকে তিনি সফল না হলেও, একজন খাঁটি শিল্পী হিসেবে তিনি চূড়ান্ত সফলতা লাভ করেছিলেন।
উদ্দেশ্য সফল হওয়া: আপাতদৃষ্টিতে তাঁর উদ্দেশ্য আংশিক সফল হয়েছিল, কারণ তাঁর নিখুঁত অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা সেই টাকা গ্রহণ করেননি। কারণ বিরাগীর ছদ্মবেশে টাকা নিলে তাঁর শিল্পের অবমাননা হতো। তাই আর্থিক দিক থেকে তিনি সফল না হলেও, একজন খাঁটি শিল্পী হিসেবে তিনি চূড়ান্ত সফলতা লাভ করেছিলেন।
৪. জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীবেশী হরিদার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখো। তাঁর কথা শুনে জগদীশবাবুর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: বিরাগীবেশী হরিদার বর্ণনা: চাঁদের আলোয় স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদা এক বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে উপস্থিত হন। তাঁর গায়ে কোনো জামা ছিল না (আদুড় গা), পরনে ছিল ছোটো বহরের একটি সাদা থান এবং গায়ে জড়ানো ছিল একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। মাথায় শুকনো সাদা চুল ফুরফুর করে উড়ছিল। পা দুটি ছিল ধুলোমাখা এবং হাতে ছিল একটি ঝোলা, যার মধ্যে রাখা ছিল একটি 'গীতা'। তাঁর শরীর ছিল শীর্ণ, প্রায় অশরীরী মনে হচ্ছিল। কিন্তু তাঁর চোখে ছিল এক অদ্ভুত উদাত্ত, শান্ত ও উজ্জ্বল দৃষ্টি।
জগদীশবাবুর প্রতিক্রিয়া: এই অপরূপ ও ঐশ্বরিক চেহারার বিরাগীকে দেখে এবং তাঁর বৈরাগ্যপূর্ণ গভীর কথা শুনে জগদীশবাবু সম্পূর্ণ বিমোহিত হয়ে পড়েন। এগারো লক্ষ টাকার অহংকার ভুলে তিনি বিরাগীর পায়ের কাছে নেমে আসেন এবং ক্ষমা চান। বিরাগীর প্রতিটি কথায় তিনি মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের বাড়িতে থাকার জন্য কাকুতি-মিনতি করেন এবং শেষ পর্যন্ত তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার প্রণামী তুলে ধরেন।
জগদীশবাবুর প্রতিক্রিয়া: এই অপরূপ ও ঐশ্বরিক চেহারার বিরাগীকে দেখে এবং তাঁর বৈরাগ্যপূর্ণ গভীর কথা শুনে জগদীশবাবু সম্পূর্ণ বিমোহিত হয়ে পড়েন। এগারো লক্ষ টাকার অহংকার ভুলে তিনি বিরাগীর পায়ের কাছে নেমে আসেন এবং ক্ষমা চান। বিরাগীর প্রতিটি কথায় তিনি মুগ্ধ হয়ে তাঁকে নিজের বাড়িতে থাকার জন্য কাকুতি-মিনতি করেন এবং শেষ পর্যন্ত তীর্থভ্রমণের জন্য একশো এক টাকার প্রণামী তুলে ধরেন।
৫. "খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?" - উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: তাৎপর্য বিশ্লেষণ: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পের শেষে হরিদা এক চরম সত্য উপলব্ধি করে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন। হরিদা পেশায় একজন বহুরূপী। তিনি নানারকম ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের মনোরঞ্জন করেন এবং সামান্য কিছু বকশিশ পান। জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে তিনি একশো এক টাকার বিশাল সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু শিল্পের খাতিরে তিনি তা ত্যাগ করেন।
বন্ধুরা যখন প্রশ্ন করে যে এবার তাঁর কী হবে, তখন হরিদা জানান যে তিনি সাধারণ বেশে গিয়ে জগদীশবাবুর কাছে তাঁর প্রাপ্য বকশিশটুকু (আট-দশ আনা) চেয়ে আনবেন। হরিদা বুঝতে পারেন যে সমাজের চোখে তিনি একজন সামান্য বহুরূপী মাত্র, কোনো 'খাঁটি' বা প্রকৃত সম্মাননীয় সন্ন্যাসী নন। সমাজ একজন খাঁটি সন্ন্যাসীকে একশো টাকা দিতে পারে, কিন্তু একজন বহুরূপী শিল্পীকে মাত্র কয়েক আনা পয়সাই দেয়। সমাজের এই রূঢ় বাস্তব এবং শিল্পীর অবমূল্যায়নের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন আক্ষেপ ও অভিমান এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
বন্ধুরা যখন প্রশ্ন করে যে এবার তাঁর কী হবে, তখন হরিদা জানান যে তিনি সাধারণ বেশে গিয়ে জগদীশবাবুর কাছে তাঁর প্রাপ্য বকশিশটুকু (আট-দশ আনা) চেয়ে আনবেন। হরিদা বুঝতে পারেন যে সমাজের চোখে তিনি একজন সামান্য বহুরূপী মাত্র, কোনো 'খাঁটি' বা প্রকৃত সম্মাননীয় সন্ন্যাসী নন। সমাজ একজন খাঁটি সন্ন্যাসীকে একশো টাকা দিতে পারে, কিন্তু একজন বহুরূপী শিল্পীকে মাত্র কয়েক আনা পয়সাই দেয়। সমাজের এই রূঢ় বাস্তব এবং শিল্পীর অবমূল্যায়নের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন আক্ষেপ ও অভিমান এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar) ১০+ টি প্রশ্ন
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- হরিদার কাছে আমরাই গল্প করে বললাম - সম্বন্ধ পদে 'র' বিভক্তি।
- সন্ন্যাসী হাসলেন আর চলে গেলেন। - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- উনানের আগুন তখন বেশ গনগনে হয়ে জ্বলছে। - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।
- হরিদা তাঁর ভাতের হাঁড়িটাকে উনানে চড়ালেন। - কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি। (হাঁড়িটাকে - কর্মে 'কে' বিভক্তি)
- জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাবার উৎসাহ... - অধিকরণ কারকে 'তে' বিভক্তি (বাড়িতে)।
সমাস নির্ণয়
- বহুরূপী: বহু রূপ যার (বহুব্রীহি সমাস)
- জগদীশ: জগতের ঈশ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- মৃগচর্ম: মৃগের চর্ম (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- জলজ্যান্ত: যা জলজ্যান্ত তাই জ্যান্ত (সাধারণ কর্মধারয় সমাস) / (অথবা: জলের মতো জ্যান্ত - উপমান কর্মধারয়)
- পূর্বজন্ম: পূর্ব যে জন্ম (কর্মধারয় সমাস)
বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন
- বাক্য: খুবই গরিব মানুষ হরিদা। কিন্তু কাজ করতে হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যদিও হরিদা খুবই গরিব মানুষ, তবুও কাজ করতে তাঁর প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে। - বাক্য: যারা চিনতে পারে, তারা এক-আনা দু-আনা বকশিশ দেয়। (সরল বাক্যে)
উত্তর: চিনতে পেরে তারা এক-আনা দু-আনা বকশিশ দেয়। - বাচ্য: আমরা আমাদের স্পোর্টের চাঁদার খাতাটিকে জগদীশবাবুর হাতে তুলে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। (কর্মবাচ্যে)
উত্তর: আমাদের স্পোর্টের চাঁদার খাতাটিকে জগদীশবাবুর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের দ্বারা দাঁড়িয়ে থাকা হচ্ছে। - বাচ্য: চমকে উঠলেন জগদীশবাবু। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: জগদীশবাবুর চমকে ওঠা হলো।
বহুরূপী গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
বহুরূপী গল্পটি প্রখ্যাত বাঙালি কথাসাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের লেখা।
গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম হলো হরিদা। তিনি পেশায় একজন বহুরূপী। মাঝে মাঝে বিভিন্ন ছদ্মবেশ (পাগল, বাইজি, পুলিশ) ধারণ করে তিনি পথে বের হন এবং সামান্য বকশিশ রোজগার করেন।
জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদা একজন অত্যন্ত উঁচু দরের বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে গিয়েছিলেন, যাঁর পরনে ছিল সাদা উত্তরীয় ও সাদা থান, হাতে ছিল গীতা।
কারণ হরিদা একজন খাঁটি শিল্পী ছিলেন। বিরাগী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশ ধারণ করে টাকার প্রতি লোভ দেখালে তাঁর শিল্পের পবিত্রতা বা 'ঢং' নষ্ট হয়ে যেত, তাই তিনি টাকা গ্রহণ করেননি।