Sponsored Links
কোনি (মতি নন্দী)
মতি নন্দী রচিত 'কোনি' উপন্যাসের (সহায়ক পাঠ) সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পাঠ মতি নন্দী রচিত 'কোনি' উপন্যাসের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং আগামী মাধ্যমিক (Madhyamik 2027) পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও Broad Questions) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. উপন্যাসের বিষয়সংক্ষেপ
কোনি উপন্যাসটি প্রখ্যাত ক্রীড়াসাহিত্যিক মতি নন্দীর লেখা একটি অসামান্য প্রেরণাদায়ক কাহিনি। এটি একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে কনকচাঁপা পাল বা কোনির জীবনসংগ্রাম এবং জলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের কাহিনি।
গল্পের শুরু গঙ্গার ঘাটে, যেখানে বারুণী স্নানের দিনে আম কুড়োনোর লড়াইয়ে কোনি তার অদম্য জেদ ও লড়াইয়ের মনোভাব দেখায়। সেখানে জুপিটার সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার ক্ষিতীশ সিংহের নজরে পড়ে সে। ক্ষিতীশ, যিনি ক্লাবের রাজনীতি ও দলাদলির কারণে জুপিটার থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তিনি কোনির মধ্যে এক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মশলা দেখতে পান। কোনির দাদা কমলের মৃত্যুর পর চরম দারিদ্র্য নেমে আসে তাদের পরিবারে। ক্ষিতীশ কোনির পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং জুপিটারের শত্রু ক্লাব 'অ্যাপোলো'তে যোগ দিয়ে কোনিকে সাঁতার শেখাতে শুরু করেন।
ক্ষিতীশের ট্রেনিং ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি কোনিকে যন্ত্রণার সাথে লড়াই করতে শেখান। দারিদ্র্য, খিদে, ক্লাবের বড়োলোক মেয়েদের (যেমন- হিয়া মিত্র, অমিয়া, বেলা) দ্বারা লাঞ্ছনা এবং জুপিটারের ট্রেনার হরিচরণ ও ধীরেন ঘোষদের চক্রান্ত— সবকিছু পেরিয়ে কোনি নিজেকে প্রস্তুত করে। বাংলা সাঁতার দলের হয়ে মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে গিয়েও সে প্রথমে চক্রান্তের শিকার হয় এবং তাকে রিজার্ভে বসিয়ে রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলার মান বাঁচাতে রিলে রেসে নামতে বাধ্য হয় কোনি। জলে নেমে সমস্ত অপমান, বঞ্চনা আর যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সে মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে হারিয়ে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে। "ফাইট কোনি, ফাইট"— ক্ষিতীশের এই মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে কোনি শুধু সাঁতারেই জেতে না, জয়ী হয় জীবনের লড়াইয়েও।
গল্পের শুরু গঙ্গার ঘাটে, যেখানে বারুণী স্নানের দিনে আম কুড়োনোর লড়াইয়ে কোনি তার অদম্য জেদ ও লড়াইয়ের মনোভাব দেখায়। সেখানে জুপিটার সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার ক্ষিতীশ সিংহের নজরে পড়ে সে। ক্ষিতীশ, যিনি ক্লাবের রাজনীতি ও দলাদলির কারণে জুপিটার থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তিনি কোনির মধ্যে এক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মশলা দেখতে পান। কোনির দাদা কমলের মৃত্যুর পর চরম দারিদ্র্য নেমে আসে তাদের পরিবারে। ক্ষিতীশ কোনির পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং জুপিটারের শত্রু ক্লাব 'অ্যাপোলো'তে যোগ দিয়ে কোনিকে সাঁতার শেখাতে শুরু করেন।
ক্ষিতীশের ট্রেনিং ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি কোনিকে যন্ত্রণার সাথে লড়াই করতে শেখান। দারিদ্র্য, খিদে, ক্লাবের বড়োলোক মেয়েদের (যেমন- হিয়া মিত্র, অমিয়া, বেলা) দ্বারা লাঞ্ছনা এবং জুপিটারের ট্রেনার হরিচরণ ও ধীরেন ঘোষদের চক্রান্ত— সবকিছু পেরিয়ে কোনি নিজেকে প্রস্তুত করে। বাংলা সাঁতার দলের হয়ে মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে গিয়েও সে প্রথমে চক্রান্তের শিকার হয় এবং তাকে রিজার্ভে বসিয়ে রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলার মান বাঁচাতে রিলে রেসে নামতে বাধ্য হয় কোনি। জলে নেমে সমস্ত অপমান, বঞ্চনা আর যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সে মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে হারিয়ে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে। "ফাইট কোনি, ফাইট"— ক্ষিতীশের এই মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে কোনি শুধু সাঁতারেই জেতে না, জয়ী হয় জীবনের লড়াইয়েও।
২. লেখক পরিচিতি
মতি নন্দী (১৯৩১ – ২০১০): আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম খ্যাতনামা লেখক। জন্ম ১৯৩১ সালে, উত্তর কলকাতায়। খেলাধুলোর সঙ্গে তাঁর আশৈশব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে বাংলা সাম্মানিকের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫৭ সালে 'দেশ' পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয়। বাংলা 'ক্রীড়াসাহিত্য' তাঁর হাতেই প্রাণ পেয়েছে। নিজস্ব ভাষাভঙ্গী, তীব্র বিদ্রুপ আর অবিস্মরণীয় শিল্পদৃষ্টি তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। বড়োদের এবং শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি বহু জনপ্রিয় গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে 'স্ট্রাইকার', 'স্টপার', 'কোনি', 'ননীদা নট আউট', 'অপরাজিত আনন্দ', 'কলাবতী' প্রভৃতি সাহিত্যে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছে। ১৯৭৪ সালের আনন্দ পুরস্কার, ১৯৯১ সালে 'সাদা খাম' উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা আকাদেমি পুরস্কার (২০০০) পেয়েছেন।
৩. উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশের তাৎপর্য
"ফাইট কোনি ফাইট।"
তাৎপর্য: এটি উপন্যাসের মূল মন্ত্র। প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ তাঁর শিষ্যা কোনিকে জীবনের প্রতিটি পদে এই মন্ত্রটি শিখিয়েছেন। জল বা ডাঙা, দারিদ্র্য বা বঞ্চনা—সবকিছুর বিরুদ্ধে হার না মেনে লড়াই করার এবং নিজেকে প্রমাণ করার অবিরাম অনুপ্রেরণাই হলো "ফাইট কোনি ফাইট"। যন্ত্রণাকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক এই উক্তি।
"যন্ত্রণা কী জিনিস সেটা শেখ। যন্ত্রণার সঙ্গে পরিচয় না হলে, তাকে ব্যবহার করতে না শিখলে, লড়াই করে তাকে হারাতে না পারলে কোনোদিনই তুই উঠতে পারবি না।"
তাৎপর্য: ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে চরম পরিশ্রম করানোর সময় এই কথা বলতেন। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে জয় করতে হয়। যন্ত্রণায় হাল ছেড়ে দিলে চলে না, বরং সেই যন্ত্রণাকেই নিজের শক্তিতে পরিণত করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এটি কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে সাফল্য লাভের দর্শন।
"চ্যাম্পিয়নরা জন্মায়, ওদের তৈরি করা যায় না।"
তাৎপর্য: জুপিটার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বিনোদ ভড় যখন বলেন যে চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায় না, তখন ক্ষিতীশ এর প্রতিবাদ করে বলেন যে চ্যাম্পিয়নরা জন্মায় না, তাদের চিনে নিতে হয় এবং সঠিক প্রশিক্ষণ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিলে তিলে তাদের গড়ে তুলতে হয়। কোনির মতো সুবিধাবঞ্চিত একটি মেয়েকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ক্ষিতীশ এই সত্যটিই প্রমাণ করেছেন।
"খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?" (বহুরূপীর লাইন, তবে জীবনের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তুলনীয়) - কোনির ক্ষেত্রে: "আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।" (অদল বদল) - কোনির ক্ষেত্রে: "ক্ষিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?"
তাৎপর্য: দাদার মৃত্যুর পর কোনির এই হাহাকার তার পরিবারের চরম দারিদ্র্য ও অসহায়তাকে তুলে ধরে। যে মেয়েটি জলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তাকে প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকার মৌলিক চাহিদা অর্থাৎ খাদ্যের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। এটি এক নিদারুণ সামাজিক বাস্তবতার চিত্র।
"ওই জলের নীচে লুকিয়ে ছিলুম আর বলছিলুম সব পারে, মানুষ সব পারে... ফাইট কোনি, ফাইট।"
তাৎপর্য: ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রিলে রেসে জেতার পর কোনি যখন ক্ষিতীশকে খুঁজে পায়, তখন ক্ষিতীশ এই কথা বলেন। ক্ষিতীশ শারীরিক ভাবে জলের নীচে ছিলেন না, কিন্তু মানসিক ভাবে তিনি কোনির প্রতিটি স্ট্রোকের সাথে ছিলেন। মানুষের ইচ্ছাশক্তি যে অসীম এবং মানুষ যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে, ক্ষিতীশের এই উক্তি তারই চরম স্বীকারোক্তি।
৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন (Madhyamik Suggestion)
১. 'কোনি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
(ক) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (খ) মতি নন্দী (গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ঘ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) মতি নন্দী
২. কোনির পুরো নাম কী?
(ক) কনকলতা পাল (খ) কনকচাঁপা পাল (গ) কনক পাল (ঘ) করবী পাল
উত্তর: (খ) কনকচাঁপা পাল
৩. উপন্যাসের শুরুতে গঙ্গার ঘাটে কীসের ছড়াছড়ি ছিল?
(ক) কাঁচা আমের (খ) ফুলের (গ) নারকোলের (ঘ) কয়েনের
উত্তর: (ক) কাঁচা আমের
৪. গঙ্গার ঘাটে উপুড় হয়ে কে দলাই-মালাই করাচ্ছিল?
(ক) ক্ষিতীশ সিংহ (খ) বিষ্ণুচরণ ধর (গ) নকুল মুখুজ্জে (ঘ) ধীরেন ঘোষ
উত্তর: (খ) বিষ্টুচরণ ধর
৫. বিষ্ণুচরণ ধরের ওজন কত ছিল?
(ক) আড়াই মণ (খ) তিন মণ (গ) সাড়ে তিন মণ (ঘ) চার মণ
উত্তর: (গ) সাড়ে তিন মণ
৬. বিষ্টু ধরের কারবার কীসের ছিল?
(ক) কাপড়ের (খ) ঝাড়ন মশলার (গ) লোহার (ঘ) সোনার
উত্তর: (খ) ঝাড়ন মশলার
৭. ক্ষিতীশ সিংহের গায়ের রং কেমন ছিল?
(ক) ফর্সা (খ) ধুলোমাখা পোড়ামাটির মতো (গ) কালো (ঘ) তামাটে
উত্তর: (খ) ধুলোমাখা পোড়ামাটির মতো
৮. ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রীর নাম কী?
(ক) মালতী (খ) লীলাবতী (গ) প্রভাবতী (ঘ) সরস্বতী
উত্তর: (খ) লীলাবতী
৯. লীলাবতীর টেইলারিং দোকানের নাম কী ছিল?
(ক) সিনহা টেলারিং (খ) প্রজাপতি (গ) আধুনিক (ঘ) ফ্যাশন
উত্তর: (খ) প্রজাপতি
১০. কোনির দাদার নাম কী?
(ক) কমল (খ) ভেলো (গ) ভাদু (ঘ) চণ্ডু
উত্তর: (ক) কমল
১১. কমল কোথায় কাজ করত?
(ক) চটকলে (খ) সুতোর কারখানায় (গ) রাজাবাজারে একটা মোটর গ্যারেজে (ঘ) দোকানে
উত্তর: (গ) রাজাবাজারে একটা মোটর গ্যারেজে
১২. ক্ষিতীশ সিংহ কোন ক্লাবের চিফ ট্রেনার ছিলেন?
(ক) অ্যাপোলো (খ) জুপিটার (গ) বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাব (ঘ) ঢাকুরিয়া স্পোর্টস ক্লাব
উত্তর: (খ) জুপিটার
১৩. জুপিটার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
(ক) ধীরেন ঘোষ (খ) বদু চাটুজ্জে (গ) বিনোদ ভড় (ঘ) হরিচরণ
উত্তর: (গ) বিনোদ ভড়
১৪. ক্ষিতীশকে জুপিটার ক্লাব থেকে তাড়ানোর চক্রান্তে মূল পান্ডা কে ছিল?
(ক) প্রফুল্ল (খ) হরিচরণ (গ) ধীরেন ঘোষ (ঘ) যজ্ঞেশ্বর
উত্তর: (খ) হরিচরণ
১৫. ক্ষিতীশ জুপিটার ছেড়ে কোন ক্লাবে যোগ দেন?
(ক) অ্যাপোলো (খ) বালিগঞ্জ (গ) ন্যাশনাল (ঘ) ঢাকুরিয়া
উত্তর: (ক) অ্যাপোলো
১৬. অ্যাপোলো ক্লাবের অন্যতম ভাইস-প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
(ক) নকুল মুখুজ্জে (খ) বিনোদ ভড় (গ) বিষ্টু ধর (ঘ) ধীরেন ঘোষ
উত্তর: (ক) নকুল মুখুজ্জে
১৭. নেতাজি বালক সঙ্ঘের প্রতিযোগিতায় কত ঘণ্টা অবিরাম হাঁটার কথা ছিল?
(ক) ১০ ঘণ্টা (খ) ১৫ ঘণ্টা (গ) ২০ ঘণ্টা (ঘ) ২৪ ঘণ্টা
উত্তর: (গ) ২০ ঘণ্টা
১৮. হাঁটা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণের সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) বিনোদ ভড় (খ) বিষ্টুচরণ ধর (গ) ক্ষিতীশ সিংহ (ঘ) অমূল্যবাবু
উত্তর: (খ) বিষ্টুচরণ ধর
১৯. বিষ্টু ধর ক্ষিতীশকে কী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন?
(ক) ক্লাবের ট্রেনার (খ) ইস্পিচ-রাইটার (বক্তৃতা লেখক) (গ) দোকানের ম্যানেজার (ঘ) ড্রাইভার
উত্তর: (খ) ইস্পিচ-রাইটার (বক্তৃতা লেখক)
২০. রবীন্দ্র সরোবরে এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় কে প্রথম হয়েছিল?
(ক) অমিয়া (খ) বেলা (গ) হিয়া মিত্র (ঘ) কোনি
উত্তর: (গ) হিয়া মিত্র
২১. হিয়া মিত্র কোন ক্লাবের সাঁতারু?
(ক) জুপিটার (খ) অ্যাপোলো (গ) বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাব (ঘ) বেলেঘাটা ক্লাব
উত্তর: (গ) বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাব
২২. হিয়ার ট্রেনারের নাম কী?
(ক) ক্ষিতীশ (খ) হরিচরণ (গ) প্রণবেন্দু বিশ্বাস (ঘ) ধীরেন
উত্তর: (গ) প্রণবেন্দু বিশ্বাস
২৩. কোনির বাবা কীসে মারা গিয়েছিলেন?
(ক) কলেরায় (খ) ক্যান্সারে (গ) টি বি-তে (ঘ) হার্ট অ্যাটাকে
উত্তর: (গ) টি বি-তে
২৪. কোনির দাদা কমল কী রোগে মারা যান?
(ক) ম্যালেরিয়ায় (খ) রক্তবমি করে (টি বি) (গ) এক্সিডেন্টে (ঘ) জ্বরে
উত্তর: (খ) রক্তবমি করে (টি বি)
২৫. ক্ষিতীশ কোনিকে খাওয়ার জন্য রোজ কত টাকা দিতেন?
(ক) এক টাকা (খ) দুই টাকা (গ) পাঁচ টাকা (ঘ) দশ টাকা
উত্তর: (ক) এক টাকা
২৬. কোনি সেই টাকা দিয়ে কী করত?
(ক) নিজে খেত (খ) বাবার জন্য ওষুধ কিনত (গ) চাল কিনে সংসারের খরচ চালাত (ঘ) কস্ট্যুম কিনত
উত্তর: (গ) চাল কিনে সংসারের খরচ চালাত
২৭. কোনি কোথায় কাজ শুরু করেছিল?
(ক) সুতোর কারখানায় (খ) ক্ষিতীশের বাড়িতে (গ) 'প্রজাপতি' দোকানে (ঘ) অন্যের বাড়িতে
উত্তর: (গ) 'প্রজাপতি' দোকানে
২৮. 'প্রজাপতি' দোকানে কোনির মাইনে কত ছিল?
(ক) কুড়ি টাকা (খ) চল্লিশ টাকা (গ) ষাট টাকা (ঘ) একশো টাকা
উত্তর: (খ) চল্লিশ টাকা
২৯. জুপিটার ক্লাবের সাঁতারু অমিয়া কোনিকে কী বলে অপমান করেছিল?
(ক) ভিখারি (খ) চোর (গ) পা ধোয়া জল খাওয়াবে (ঘ) সাঁতার জানে না
উত্তর: (গ) পা ধোয়া জল খাওয়াবে
৩০. মহারাষ্ট্রের সেরা মেয়ে সাঁতারুর নাম কী?
(ক) সাধনা দেশপান্ডে (খ) রমা যোশি (গ) ইলা (ঘ) লিন্ডা ডিসুজা
উত্তর: (খ) রমা যোশি
৩১. ক্ষিতীশ ক্লাবের দেওয়ালে লাল কালিতে কত সংখ্যা লিখে রেখেছিলেন?
(ক) ৬০ (খ) ৭০ (গ) ৮০ (ঘ) ১০০
উত্তর: (খ) ৭০ (১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল ৭০ সেকেন্ডে কাটতে হবে)
৩২. ক্ষিতীশের মতে কোনির আসল শত্রু কে?
(ক) হিয়া (খ) অমিয়া (গ) সময় বা ঘড়ি (ঘ) হরিচরণ
উত্তর: (গ) সময় বা ঘড়ি
৩৩. কোনি চিড়িয়াখানায় কার কাছে জল চাইতে গিয়ে অপমানিত হয়েছিল?
(ক) অমিয়ার কাছে (খ) বড়োলোকদের মেয়েদের স্কুলের টিচারের কাছে (গ) হিয়ার কাছে (ঘ) বেলার কাছে
উত্তর: (খ) বড়োলোকদের মেয়েদের স্কুলের টিচারের কাছে
৩৪. হিয়া যখন কোনিকে জল দিতে আসে, কোনি কী করেছিল?
(ক) খেয়েছিল (খ) ধন্যবাদ জানিয়েছিল (গ) হাত দিয়ে গ্লাসে আঘাত করে ফেলে দিয়েছিল (ঘ) কেঁদে ফেলেছিল
উত্তর: (গ) হাত দিয়ে গ্লাসে আঘাত করে ফেলে দিয়েছিল
৩৫. জুপিটার ক্লাবের প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে কে জিতেছিল?
(ক) অমিয়া (খ) হিয়া (গ) কোনি (ঘ) বেলা
উত্তর: (গ) কোনি
৩৬. স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে কেন বাতিল (Disqualify) করা হয়েছিল?
(ক) দেরিতে জলে নামার জন্য (খ) ফলটি টার্ন (Faulty Turn) নেওয়ার অভিযোগে (গ) অন্যকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য (ঘ) কস্ট্যুম ঠিক না থাকায়
উত্তর: (খ) ফলটি টার্ন (Faulty Turn) নেওয়ার অভিযোগে
৩৭. ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
(ক) কলকাতায় (খ) বোম্বেতে (গ) দিল্লিতে (ঘ) মাদ্রাজে
উত্তর: (ঘ) মাদ্রাজে
৩৮. বাংলা দলের ম্যানেজার কে ছিলেন?
(ক) হরিচরণ (খ) ধীরেন ঘোষ (গ) প্রণবেন্দু (ঘ) ক্ষিতীশ
উত্তর: (খ) ধীরেন ঘোষ
৩৯. মেয়েদের দলের কোচ কে ছিলেন?
(ক) ক্ষিতীশ (খ) প্রণতি ভাদুড়ি (গ) হরিচরণ মিত্র (ঘ) বদু চাটুজ্জে
উত্তর: (গ) হরিচরণ মিত্র
৪০. মাদ্রাজ যাওয়ার সময় ক্ষিতীশ কোন স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন?
(ক) হাওড়া (খ) শিয়ালদহ (গ) খড়্গপুর (ঘ) বহরমপুর
উত্তর: (গ) খড়্গপুর
৪১. মাদ্রাজে মেয়েদের ঘরে কে চুরির অপবাদ পেয়েছিল?
(ক) হিয়া (খ) অমিয়া (গ) বেলা (ঘ) কোনি
উত্তর: (ঘ) কোনি (ক্রিম চুরির অপবাদ)
৪২. কোনির গালে কে চড় মেরেছিল?
(ক) অমিয়া (খ) প্রণতি (গ) বেলা (ঘ) হিয়া
উত্তর: (গ) বেলা
৪৩. কোনি কাকে চড় মেরেছিল?
(ক) বেলাকে (খ) অমিয়াকে (গ) হিয়াকে (ঘ) কাউকে নয়
উত্তর: (গ) হিয়াকে
৪৪. রিলে রেসের আগে কার ক্রাম্প (পেশিতে টান) ধরেছিল?
(ক) হিয়ার (খ) বেলার (গ) অমিয়ার (ঘ) পুষ্পিতার
উত্তর: (গ) অমিয়ার
৪৫. অমিয়ার জায়গায় রিলেতে কাকে নামানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়?
(ক) অঞ্জুকে (খ) কোনিকে (গ) বেলাকে (ঘ) পুষ্পিতাকে
উত্তর: (খ) কোনিকে
৪৬. "তুমি আনস্পোরটিং।" - কে, কাকে বলেছিল?
(ক) বেলা কোনিকে (খ) হিয়া কোনিকে (গ) ক্ষিতীশ হরিচরণকে (ঘ) অমিয়া কোনিকে
উত্তর: (খ) হিয়া কোনিকে
৪৭. রিলে রেসের শেষ ল্যাপে কোনির প্রতিপক্ষ কে ছিল?
(ক) সাধনা (খ) মঞ্জিত (গ) রমা যোশি (ঘ) লিন্ডা ডিসুজা
উত্তর: (গ) রমা যোশি
৪৮. "ফাইট, কোনি ফাইট।" - মাদ্রাজে কে চিৎকার করে উঠেছিল?
(ক) ধীরেন ঘোষ (খ) প্রণবেন্দু (গ) ক্ষিতীশ (ঘ) হিয়া
উত্তর: (গ) ক্ষিতীশ
৪৯. কোনির শেষ সাঁতারকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছিল?
(ক) ডলফিনের মতো (খ) কালো প্যান্থারের মতো শিকার তাড়া করার সাথে (গ) হাঙরের মতো (ঘ) তিরের মতো
উত্তর: (খ) কালো প্যান্থারের মতো শিকার তাড়া করার সাথে
৫০. রিলে রেসে কে জিতেছিল এবং বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিল?
(ক) হিয়া (খ) অমিয়া (গ) কোনি (ঘ) রমা
উত্তর: (গ) কোনি
৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'কোনি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
উত্তর: 'কোনি' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত ক্রীড়াসাহিত্যিক মতি নন্দী।
২. গঙ্গার ঘাটে কোনিদের আম কুড়োনোর দৃশ্য দেখে ক্ষিতীশের কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: কোনির হার না মানা জেদ এবং মারামারি করে আম কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা দেখে ক্ষিতীশের মনে হয়েছিল এই মেয়েটির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মশলা আছে।
৩. "আপনি একটা ন্যুইসেন্স।" - কে, কাকে বলেছিল?
উত্তর: গঙ্গার ঘাটে বিষ্ণুচরণ ধর (বিষ্টু ধর), ক্ষিতীশ সিংহকে বিরক্ত হয়ে এ কথা বলেছিল।
৪. ক্ষিতীশ কীভাবে বিষ্টু ধরকে চমকে দিয়েছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ নিজের হাতটা সোজা করে বাড়িয়ে বিষ্টু ধরকে তা নীচের দিকে নামাতে বলে। বিষ্টু ধর সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও ক্ষিতীশের হাত এক ইঞ্চিও নামাতে না পারায় চমকে যায়।
৫. "ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শরীরের দুর্বলতা ঢাকা দেওয়া যায়।" - কে বলেছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ সিংহ, বিষ্টু ধরের ব্যর্থতার পর নিজের ইচ্ছাশক্তির জোর বোঝাতে এ কথা বলেছিল।
৬. ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী কী ব্যবসা করতেন?
উত্তর: লীলাবতী 'প্রজাপতি' নামে মেয়েদের এবং বাচ্চাদের পোশাক তৈরির একটি টেইলারিং বা দর্জির দোকান চালাতেন।
৭. ক্ষিতীশ কেন যজ্ঞিবাড়ির নিমন্ত্রণে যেত না?
উত্তর: ক্ষিতীশ বিশ্বাস করত যে রিচ বা মশলাদার খাবার শরীরের ক্ষতি করে এবং আয়ু কমিয়ে দেয়, তাই সে স্বাস্থ্য রক্ষার্থে নিমন্ত্রণ বাড়িতে যেত না।
৮. জুপিটার ক্লাবের চিফ ট্রেনারের পদ থেকে ক্ষিতীশকে কেন সরানো হয়েছিল?
উত্তর: হরিচরণ ও ধীরেন ঘোষদের চক্রান্তে এবং সাঁতারুদের প্রতি ক্ষিতীশের কড়া শাসনের অজুহাত দেখিয়ে তাকে জুপিটার ক্লাব থেকে তাড়ানো হয়েছিল।
৯. "চ্যাম্পিয়নরা জন্মায়, ওদের তৈরি করা যায় না।" - এই উক্তির প্রতিবাদে ক্ষিতীশ কী বলেছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ বলেছিল, চ্যাম্পিয়নরা জন্মায় না, তাদের খুঁজে বের করতে হয় এবং কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিলে তিলে তৈরি করতে হয়।
১০. অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় কোনিকে দেখে ক্ষিতীশের কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: রৌদ্রতপ্ত দুপুরে ক্লান্ত কোনিকে মাথা উঁচু করে হাঁটতে দেখে ক্ষিতীশের মনে হয়েছিল যে আকাশ থেকে আগুন ঝরলেও এই মেয়েটির চলা থামবে না, ওর মধ্যে প্রবল জেদ আছে।
১১. রবীন্দ্র সরোবরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় কে প্রথম হয়েছিল?
উত্তর: রবীন্দ্র সরোবরের এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের হিয়া মিত্র প্রথম হয়েছিল।
১২. কমল কীভাবে মারা যায়?
উত্তর: কোনির দাদা কমল যক্ষ্মা বা টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে মুখ দিয়ে রক্তবমি করে মারা যায়।
১৩. কমলের মৃত্যুর পর ক্ষিতীশ কোনির দায়িত্ব নিতে চাইলে কমল কী বলেছিল?
উত্তর: মৃত্যুর আগে কমল বলেছিল যে তাদের সাঁতার শেখার খরচ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। সে চেয়েছিল কোনি বড়ো সাঁতারু হোক এবং ইন্ডিয়া রেকর্ড ভাঙুক।
১৪. "ক্ষিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?" - কমলের মৃত্যুর পর কোনির এই হাহাকারের কারণ কী?
উত্তর: কমলই ছিল পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তার মৃত্যুতে পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দারিদ্র্য ও অনাহারের ভয়ে কোনি এই কথা বলেছিল।
১৫. ক্ষিতীশ কোনিকে কোথায় চাকরি জুটিয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ কোনিকে তার স্ত্রী লীলাবতীর 'প্রজাপতি' টেইলারিং দোকানে চল্লিশ টাকা মাইনের চাকরি জুটিয়ে দিয়েছিল।
১৬. ক্ষিতীশ জুপিটার ছেড়ে কোন ক্লাবে যোগ দেয়?
উত্তর: জুপিটার থেকে অপমানিত হয়ে বিতাড়িত হওয়ার পর ক্ষিতীশ জুপিটারেরই ঘোরতর শত্রু ক্লাব 'অ্যাপোলো'তে যোগ দেয়।
১৭. অ্যাপোলো ক্লাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
উত্তর: অ্যাপোলো ক্লাবের অন্যতম ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন নকুল মুখুজ্জে।
১৮. ক্ষিতীশ অ্যাপোলোতে যোগ দেওয়ার জন্য কী শর্ত রেখেছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ শর্ত রেখেছিল যে সে কোনো টাকা নেবে না, শুধু কোনিকে অ্যাপোলোতে সম্পূর্ণ ট্রেনিং করার সুবিধা দিতে হবে।
১৯. ক্ষিতীশ কীভাবে বিষ্টু ধরকে অ্যাপোলোর প্রেসিডেন্ট করেছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ বিষ্টু ধরকে দিয়ে অ্যাপোলো ক্লাবে মোটা অঙ্কের ডোনেশন (চাঁদা) দেওয়ানোর ব্যবস্থা করে তাকে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট পদে বসিয়েছিল।
২০. "যন্ত্রণা কী জিনিস সেটা শেখ।" - ক্ষিতীশ কেন কোনিকে এ কথা বলেছিল?
উত্তর: চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফলে সৃষ্ট শারীরিক যন্ত্রণাকে জয় করতে হয়। সেই যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে শেখানোর জন্যই ক্ষিতীশ এ কথা বলেছিল।
২১. "লজ্জা কখনো পুরোটো জিততে পারবি না... ক্ষমতা দিয়ে জিততে হয়।" - ক্ষিতীশ কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছিল?
উত্তর: অমিয়া কোনিকে ঝি বলে অপমান করায় কোনি লজ্জিত হয়েছিল। তখন ক্ষিতীশ বোঝায় যে দারিদ্র্যের লজ্জা মুছে ফেলতে হলে সাঁতারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও ক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।
২২. জুপিটার ক্লাবের প্রতিযোগিতায় অমিয়াকে কে হারিয়েছিল?
উত্তর: জুপিটার ক্লাবের প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে কোনি অমিয়াকে হারিয়ে প্রথম হয়েছিল।
২৩. "কোও-ও-নিইই!" - এই চিৎকারটি কার ছিল?
উত্তর: এই উৎসাহব্যঞ্জক দীর্ঘ চিৎকারটি মূলত কোনির দাদা কমলের ছিল, যা পরে ক্ষিতীশ এবং অন্যান্যরা কোনির মনোবল বাড়াতে ব্যবহার করত।
২৪. স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে কেন ডিসকোয়ালিফাই করা হয়েছিল?
উত্তর: জুপিটার ক্লাবের বিচারকরা চক্রান্ত করে ফলটি টার্ন (নিয়মভঙ্গ করে ঘোরা) নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই বা বাতিল করেছিল।
২৫. ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলা দলে কোনির নাম কে প্রস্তাব করেছিল?
উত্তর: হিয়ার কোচ, বালিগঞ্জ ক্লাবের প্রণবেন্দু বিশ্বাস, মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে হারানোর জন্য বাংলা দলে কোনির নাম প্রস্তাব করেছিল।
২৬. মাদ্রাজ যাওয়ার সময় কোনি কেন কেঁদেছিল?
উত্তর: প্রথমবার একা এত দূরে যাওয়া এবং তার প্রধান সহায় ও গুরু ক্ষিতীশ তার সঙ্গে মাদ্রাজে যাচ্ছে না বুঝতে পেরে কোনি ভয়ে ও অভিমানে কেঁদে ফেলেছিল।
২৭. ক্ষিতীশ কীভাবে মাদ্রাজে পৌঁছেছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ বিনা টিকিটে খড়্গপুর থেকে ট্রেনে উঠে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নানা ভোগান্তি সহ্য করে শেষ পর্যন্ত মাদ্রাজে পৌঁছেছিল।
২৮. মাদ্রাজে মেয়েদের ঘরে কোনিকে কী অপবাদ দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: বেলার ক্রিমের কৌটো থেকে ক্রিম চুরি করে মাখার মিথ্যা অপবাদ কোনিকে দেওয়া হয়েছিল।
২৯. কোনি কার গালে চড় মেরেছিল এবং কেন?
উত্তর: হিয়া কোনির গালে জোর করে ক্রিম মাখিয়ে দেওয়ায় কোনি চোর অপবাদ ও বেলার চড় খেয়েছিল। এই অপমানের শোধ নিতে কোনি হিয়ার গালে চড় মেরেছিল।
৩০. ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মহারাষ্ট্রের সেরা সাঁতারু কে ছিল?
উত্তর: মহারাষ্ট্রের সেরা সাঁতারু ছিল রমা যোশি, যে ফ্রি স্টাইল এবং বাটারফ্লাইয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।
৩১. রিলে রেসে বাংলার জেতার সম্ভাবনা কেন ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: রিলে রেস শুরু হওয়ার ঠিক আগে বাংলার সেরা ফ্রি স্টাইলার অমিয়ার পেটে ক্রাম্প (পেশিতে টান) ধরায় সে নামতে পারেনি, ফলে জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।
৩২. অমিয়ার জায়গায় কাকে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়?
উত্তর: অমিয়ার জায়গায় রিজার্ভে থাকা কোনিকে (কনকচাঁপা পাল) নামানোর সিদ্ধান্ত হয়।
৩৩. কোনি প্রথমে রিলে রেসে নামতে অস্বীকার করেছিল কেন?
উত্তর: দলের মেয়েদের দুর্ব্যবহার, চোর অপবাদ, তাকে এতদিন বসিয়ে রাখা এবং চরম অবহেলার অভিমানে কোনি প্রথমে নামতে অস্বীকার করেছিল।
৩৪. "তুমি আনস্পোরটিং।" - হিয়া কেন কোনিকে এ কথা বলেছিল?
উত্তর: ব্যক্তিগত অভিমান ও রাগের বশে কোনি যখন বাংলার হয়ে রিলে রেসে নামতে অস্বীকার করে, তখন তার এই খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবের অভাব দেখেই হিয়া তাকে আনস্পোরটিং বলেছিল।
৩৫. রিলে রেসের শেষ ল্যাপে কোনির সঙ্গে কার লড়াই হয়েছিল?
উত্তর: রিলে রেসের শেষ ল্যাপে (১০০ মিটারে) কোনির সঙ্গে মহারাষ্ট্রের রমা যোশির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল।
৩৬. কোনি যখন জলে নামতে যাবে, তখন গ্যালারি থেকে কার চিৎকার শোনা যায়?
উত্তর: কোনি যখন জলে নামতে যাবে, তখন গ্যালারির ভিড় ঠেলে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করতে করতে ক্ষিতীশ সিংহের "কোও-ও-নিইই!" চিৎকার শোনা যায়।
৩৭. ক্ষিতীশের চিৎকার শুনে কোনির কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশের চিৎকার শুনে কোনির শরীরের সমস্ত জড়তা ও ক্লান্তি কেটে যায়। সে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো আট সিলিন্ডার ইঞ্জিনের শক্তিতে জ্বলে ওঠে এবং জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
৩৮. কোনির সাঁতারকে কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল?
উত্তর: জলে কোনির সাঁতারকে একটি কালো প্যান্থারের শিকার তাড়া করার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল।
৩৯. রিলে রেসের ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর: রমা যোশির চেয়ে পিছিয়ে শুরু করেও, শেষ মুহূর্তে আপ্রাণ চেষ্টায় রমা যোশিকে হারিয়ে কোনি ফিনিশিং বোর্ড স্পর্শ করে এবং বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে।
৪০. "সব পারে, মানুষ সব পারে..." - এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে উপন্যাসে কী বার্তা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে উপন্যাসে মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর অধ্যবসায় এবং হার না মানা মানসিকতার জয়গান গাওয়া হয়েছে, যা দিয়ে মানুষ যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০+ টি প্রশ্ন (Madhyamik Suggestion)
১. 'কোনি' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে কোনি চরিত্রটির সংগ্রাম ও উত্তরণের পরিচয় দাও।
উত্তর: মতি নন্দী রচিত 'কোনি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কনকচাঁপা পাল বা কোনি। সে শ্যামপুকুর বস্তির এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার জীবনসংগ্রাম ও উত্তরণের কাহিনি সত্যিই প্রেরণাদায়ক।
দারিদ্র্য ও সংগ্রাম: কোনির জীবনের প্রধান বাধা ছিল চরম দারিদ্র্য। বাবা আগেই মারা গিয়েছিলেন। যে দাদা (কমল) সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছিল, সেও যক্ষ্মায় মারা যায়। অনাহার ও অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে কোনিকে 'প্রজাপতি' দোকানে ফাইফরমাশ খাটার কাজ নিতে হয়। একদিকে হাড়ভাঙা খাটুনি, অন্যদিকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাব—এই দুইয়ের বিরুদ্ধে তাকে লড়তে হয়েছে।
অপমান ও বঞ্চনা: সাঁতারের জগতে পা রেখেও কোনিকে পদে পদে অপমানিত হতে হয়েছে। বড়োলোকদের মেয়েদের স্কুলে জল চাইতে গিয়ে অপমান, অমিয়ার 'পা ধোয়া জল' খাওয়ার কটূক্তি, স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে জুপিটারের চক্রান্তে ডিসকোয়ালিফাই হওয়া এবং ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে চোর অপবাদ—কোনি এই সবকিছু নীরবে সহ্য করেছে।
জেদ ও উত্তরণ: কোনির সবচেয়ে বড়ো গুণ ছিল তার জেদ এবং হার না মানা মানসিকতা। ক্ষিতীশের কঠোর অনুশাসনে সে যন্ত্রণাকে সহ্য করতে শেখে। সমস্ত অপমান ও রাগ সে জমিয়ে রাখে বুকের ভেতর। মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে যখন বাংলার মান বাঁচানোর আর কোনো উপায় ছিল না, তখন সেই জমে থাকা অভিমান ও জেদকে হাতিয়ার করেই সে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভারতের সেরা সাঁতারু রমা যোশিকে হারিয়ে সে প্রমাণ করে দেয় যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে দারিদ্র্য বা কোনো চক্রান্তই মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারে না।
দারিদ্র্য ও সংগ্রাম: কোনির জীবনের প্রধান বাধা ছিল চরম দারিদ্র্য। বাবা আগেই মারা গিয়েছিলেন। যে দাদা (কমল) সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছিল, সেও যক্ষ্মায় মারা যায়। অনাহার ও অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে কোনিকে 'প্রজাপতি' দোকানে ফাইফরমাশ খাটার কাজ নিতে হয়। একদিকে হাড়ভাঙা খাটুনি, অন্যদিকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অভাব—এই দুইয়ের বিরুদ্ধে তাকে লড়তে হয়েছে।
অপমান ও বঞ্চনা: সাঁতারের জগতে পা রেখেও কোনিকে পদে পদে অপমানিত হতে হয়েছে। বড়োলোকদের মেয়েদের স্কুলে জল চাইতে গিয়ে অপমান, অমিয়ার 'পা ধোয়া জল' খাওয়ার কটূক্তি, স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে জুপিটারের চক্রান্তে ডিসকোয়ালিফাই হওয়া এবং ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে চোর অপবাদ—কোনি এই সবকিছু নীরবে সহ্য করেছে।
জেদ ও উত্তরণ: কোনির সবচেয়ে বড়ো গুণ ছিল তার জেদ এবং হার না মানা মানসিকতা। ক্ষিতীশের কঠোর অনুশাসনে সে যন্ত্রণাকে সহ্য করতে শেখে। সমস্ত অপমান ও রাগ সে জমিয়ে রাখে বুকের ভেতর। মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে যখন বাংলার মান বাঁচানোর আর কোনো উপায় ছিল না, তখন সেই জমে থাকা অভিমান ও জেদকে হাতিয়ার করেই সে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভারতের সেরা সাঁতারু রমা যোশিকে হারিয়ে সে প্রমাণ করে দেয় যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে দারিদ্র্য বা কোনো চক্রান্তই মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারে না।
২. "ফাইট কোনি ফাইট।" - সাধারণ এই কথাটি কীভাবে উপন্যাসের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: 'ফাইট কোনি ফাইট'—এই তিনটি সাধারণ শব্দ মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসে নিছক একটি উৎসাহব্যঞ্জক ধ্বনি নয়, এটি হয়ে উঠেছে জীবনসংগ্রামের এক অমোঘ মন্ত্র।
প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে চ্যাম্পিয়ন তৈরি করার লক্ষ্যে এই মন্ত্রটি তার কানে জপে দিয়েছিলেন। কোনির জীবনের প্রতিটি পদেই ছিল লড়াই। খিদের সঙ্গে লড়াই, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, সমাজের উঁচু তলার মানুষদের অবজ্ঞার সঙ্গে লড়াই এবং সাঁতারের পুলে প্রবল শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই। ক্ষিতীশ জানতেন যে, শুধু সাঁতারের কৌশল দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় না, তার জন্য চাই ইস্পাতের মতো মানসিকতা। তাই যখনই কোনি পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ত, যন্ত্রণায় ছটফট করত, ক্ষিতীশ পাড় থেকে চিৎকার করে উঠতেন, "ফাইট কোনি ফাইট"।
এই মন্ত্র কোনিকে শিখিয়েছিল যন্ত্রণাকে জয় করতে, নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে যখন কোনি চরম অপমানে বিধ্বস্ত, তখন জলে নামার মুহূর্তে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ক্ষিতীশের এই "ফাইট কোনি ফাইট" চিৎকারই তার মৃতপ্রায় শিরায় শিরায় বিদ্যুতের প্রবাহ জাগিয়ে তুলেছিল। এই মন্ত্রের শক্তিতেই সে রমা যোশিকে হারিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল। তাই এটি শুধু সাঁতারের নয়, জীবনের প্রতিটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর এক সার্বজনীন মন্ত্র হয়ে উঠেছে।
প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে চ্যাম্পিয়ন তৈরি করার লক্ষ্যে এই মন্ত্রটি তার কানে জপে দিয়েছিলেন। কোনির জীবনের প্রতিটি পদেই ছিল লড়াই। খিদের সঙ্গে লড়াই, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, সমাজের উঁচু তলার মানুষদের অবজ্ঞার সঙ্গে লড়াই এবং সাঁতারের পুলে প্রবল শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই। ক্ষিতীশ জানতেন যে, শুধু সাঁতারের কৌশল দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় না, তার জন্য চাই ইস্পাতের মতো মানসিকতা। তাই যখনই কোনি পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ত, যন্ত্রণায় ছটফট করত, ক্ষিতীশ পাড় থেকে চিৎকার করে উঠতেন, "ফাইট কোনি ফাইট"।
এই মন্ত্র কোনিকে শিখিয়েছিল যন্ত্রণাকে জয় করতে, নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে মাদ্রাজে যখন কোনি চরম অপমানে বিধ্বস্ত, তখন জলে নামার মুহূর্তে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ক্ষিতীশের এই "ফাইট কোনি ফাইট" চিৎকারই তার মৃতপ্রায় শিরায় শিরায় বিদ্যুতের প্রবাহ জাগিয়ে তুলেছিল। এই মন্ত্রের শক্তিতেই সে রমা যোশিকে হারিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল। তাই এটি শুধু সাঁতারের নয়, জীবনের প্রতিটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর এক সার্বজনীন মন্ত্র হয়ে উঠেছে।
৩. 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ চরিত্রটির বৈশিষ্ট্যগুলি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: মতি নন্দী রচিত 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ বা 'ক্ষিদ্দা' চরিত্রটি একজন আদর্শ শিক্ষক বা কোচের মূর্ত প্রতীক। তাঁর চরিত্রের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো:
১. অদম্য সাঁতার-প্রেমী ও স্বপ্নদর্শী: ক্ষিতীশের জীবনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান হলো সাঁতার। নিজে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও তিনি স্বপ্ন দেখেন একজন বিশ্বমানের চ্যাম্পিয়ন তৈরি করার। জুপিটার ক্লাব থেকে বিতাড়িত হয়েও তিনি দমে যাননি, বরং কোনির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মশলা দেখে তাকে গড়ে তোলার ব্রত নেন।
২. কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ: কোচ হিসেবে ক্ষিতীশ অত্যন্ত কঠোর। তিনি বিশ্বাস করেন "চ্যাম্পিয়নরা জন্মায়, ওদের তৈরি করা যায় না" এবং এর জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি প্রয়োজন। কোনিকে তিনি যন্ত্রণার সাথে লড়াই করতে শিখিয়েছেন, কোনো মায়াদয়া দেখাননি।
৩. মানবদরদি ও দায়িত্বশীল: বাইরে থেকে কঠোর মনে হলেও ভেতরে তিনি অত্যন্ত কোমল ও মানবদরদি। কোনির দাদার মৃত্যুর পর তিনি কোনির পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। স্ত্রীর অবাধ্য হয়েও তিনি কোনির খাওয়ার খরচ জোগান এবং তাকে চাকরি দেন।
৪. আপসহীন ও দৃঢ়চেতা: ক্লাবের নোংরা রাজনীতি, ধীরেন ঘোষ বা হরিচরণের চক্রান্তের কাছে তিনি কখনও মাথা নত করেননি। চরম প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে একা লড়াই করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সততা ও নিষ্ঠার জয় অনিবার্য।
১. অদম্য সাঁতার-প্রেমী ও স্বপ্নদর্শী: ক্ষিতীশের জীবনের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান হলো সাঁতার। নিজে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও তিনি স্বপ্ন দেখেন একজন বিশ্বমানের চ্যাম্পিয়ন তৈরি করার। জুপিটার ক্লাব থেকে বিতাড়িত হয়েও তিনি দমে যাননি, বরং কোনির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মশলা দেখে তাকে গড়ে তোলার ব্রত নেন।
২. কঠোর ও শৃঙ্খলাপরায়ণ: কোচ হিসেবে ক্ষিতীশ অত্যন্ত কঠোর। তিনি বিশ্বাস করেন "চ্যাম্পিয়নরা জন্মায়, ওদের তৈরি করা যায় না" এবং এর জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি প্রয়োজন। কোনিকে তিনি যন্ত্রণার সাথে লড়াই করতে শিখিয়েছেন, কোনো মায়াদয়া দেখাননি।
৩. মানবদরদি ও দায়িত্বশীল: বাইরে থেকে কঠোর মনে হলেও ভেতরে তিনি অত্যন্ত কোমল ও মানবদরদি। কোনির দাদার মৃত্যুর পর তিনি কোনির পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। স্ত্রীর অবাধ্য হয়েও তিনি কোনির খাওয়ার খরচ জোগান এবং তাকে চাকরি দেন।
৪. আপসহীন ও দৃঢ়চেতা: ক্লাবের নোংরা রাজনীতি, ধীরেন ঘোষ বা হরিচরণের চক্রান্তের কাছে তিনি কখনও মাথা নত করেননি। চরম প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে একা লড়াই করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সততা ও নিষ্ঠার জয় অনিবার্য।
৪. "যন্ত্রণা কী জিনিস সেটা শেখ। যন্ত্রণার সঙ্গে পরিচয় না হলে... কোনোদিনই তুই উঠতে পারবি না।" - উক্তিটির আলোকে ক্ষিতীশের প্রশিক্ষণ দর্শনের পরিচয় দাও।
উত্তর: উক্তিটির প্রসঙ্গ: 'কোনি' উপন্যাসে অ্যাপোলো ক্লাবের পুলে ক্ষিতীশ সিংহ যখন কোনিকে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করাচ্ছিলেন এবং কোনি ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছিল, তখন কোনিকে মানসিক ভাবে শক্ত করার জন্য ক্ষিতীশ এই কথাগুলো বলেছিলেন।
প্রশিক্ষণ দর্শন: ক্ষিতীশ সিংহের প্রশিক্ষণ দর্শন ছিল অত্যন্ত বাস্তব এবং কঠোর। তিনি জানতেন, একজন সাধারণ সাঁতারু থেকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শরীরকে তার সীমার বাইরে নিয়ে যেতে হয়। আর সেই সীমার বাইরে গেলেই শুরু হয় প্রবল শারীরিক যন্ত্রণা বা পেশির কষ্ট। সাধারণ মানুষ এই যন্ত্রণাকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসে। কিন্তু ক্ষিতীশের মতে, চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে যন্ত্রণাকে ভয় পেলে চলবে না। যন্ত্রণার সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। যখন শরীর বলবে 'আর পারছি না', তখন মনের জোর দিয়ে সেই যন্ত্রণাকে অতিক্রম করতে হবে। যন্ত্রণাকে হারিয়েই সময়কে (রেকর্ড) হারানো যায়। তাই তিনি কোনিকে শিখিয়েছিলেন, এই যন্ত্রণা আসলে সাফল্যের সোপান। যন্ত্রণার আগুন পুড়ে ইস্পাত না হলে কেউ কখনও সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছাতে পারে না।
প্রশিক্ষণ দর্শন: ক্ষিতীশ সিংহের প্রশিক্ষণ দর্শন ছিল অত্যন্ত বাস্তব এবং কঠোর। তিনি জানতেন, একজন সাধারণ সাঁতারু থেকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শরীরকে তার সীমার বাইরে নিয়ে যেতে হয়। আর সেই সীমার বাইরে গেলেই শুরু হয় প্রবল শারীরিক যন্ত্রণা বা পেশির কষ্ট। সাধারণ মানুষ এই যন্ত্রণাকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসে। কিন্তু ক্ষিতীশের মতে, চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে যন্ত্রণাকে ভয় পেলে চলবে না। যন্ত্রণার সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। যখন শরীর বলবে 'আর পারছি না', তখন মনের জোর দিয়ে সেই যন্ত্রণাকে অতিক্রম করতে হবে। যন্ত্রণাকে হারিয়েই সময়কে (রেকর্ড) হারানো যায়। তাই তিনি কোনিকে শিখিয়েছিলেন, এই যন্ত্রণা আসলে সাফল্যের সোপান। যন্ত্রণার আগুন পুড়ে ইস্পাত না হলে কেউ কখনও সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছাতে পারে না।
৫. 'কোনি' উপন্যাসে ক্লাব-রাজনীতির যে নোংরা রূপটি ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো।
উত্তর: মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসটি শুধু একটি মেয়ের লড়াইয়ের গল্প নয়, এর পটভূমিতে রয়েছে ময়দানের ক্লাব-রাজনীতির এক অত্যন্ত নোংরা ও কলুষিত চিত্র।
উপন্যাসটিতে দেখা যায়, জুপিটার সুইমিং ক্লাবের কর্মকর্তারা (ধীরেন ঘোষ, হরিচরণ, বদু চাটুজ্জে প্রমুখ) সাঁতারের উন্নতির চেয়ে নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত। ক্ষিতীশ সিংহ যখন সাঁতারুদের কঠোর শৃঙ্খলায় আনতে চান, তখন হরিচরণ নিজের চিফ ট্রেনার হওয়ার লোভে সাঁতারুদের উসকে দিয়ে ক্ষিতীশকে ক্লাব থেকে বিতাড়িত করে।
এই নোংরা রাজনীতির সবচেয়ে নির্মম শিকার হয় কোনি। শুধুমাত্র ক্ষিতীশের শিষ্যা হওয়ার অপরাধে জুপিটার ক্লাব স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে মিথ্যা 'ফলটি টার্ন'-এর অজুহাতে ডিসকোয়ালিফাই করে। এমনকি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলা দলেও তারা কোনিকে নিতে চায়নি, বালিগঞ্জের প্রণবেন্দু বিশ্বাসের জোরালো প্রতিবাদে বাধ্য হয়ে নিয়েছিল। মাদ্রাজে গিয়েও তারা কোনিকে কোনো ইভেন্টে নামায়নি, তাকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের মুখ বাঁচাতে এবং অমিয়ার অসুস্থতার কারণে বাধ্য হয়েই তারা কোনিকে রিলে রেসে নামায়। অর্থাৎ, খেলার জগতে প্রতিভার চেয়ে দলাদলি ও চক্রান্ত যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, উপন্যাসে তা অত্যন্ত নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে।
উপন্যাসটিতে দেখা যায়, জুপিটার সুইমিং ক্লাবের কর্মকর্তারা (ধীরেন ঘোষ, হরিচরণ, বদু চাটুজ্জে প্রমুখ) সাঁতারের উন্নতির চেয়ে নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত। ক্ষিতীশ সিংহ যখন সাঁতারুদের কঠোর শৃঙ্খলায় আনতে চান, তখন হরিচরণ নিজের চিফ ট্রেনার হওয়ার লোভে সাঁতারুদের উসকে দিয়ে ক্ষিতীশকে ক্লাব থেকে বিতাড়িত করে।
এই নোংরা রাজনীতির সবচেয়ে নির্মম শিকার হয় কোনি। শুধুমাত্র ক্ষিতীশের শিষ্যা হওয়ার অপরাধে জুপিটার ক্লাব স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে মিথ্যা 'ফলটি টার্ন'-এর অজুহাতে ডিসকোয়ালিফাই করে। এমনকি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বাংলা দলেও তারা কোনিকে নিতে চায়নি, বালিগঞ্জের প্রণবেন্দু বিশ্বাসের জোরালো প্রতিবাদে বাধ্য হয়ে নিয়েছিল। মাদ্রাজে গিয়েও তারা কোনিকে কোনো ইভেন্টে নামায়নি, তাকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের মুখ বাঁচাতে এবং অমিয়ার অসুস্থতার কারণে বাধ্য হয়েই তারা কোনিকে রিলে রেসে নামায়। অর্থাৎ, খেলার জগতে প্রতিভার চেয়ে দলাদলি ও চক্রান্ত যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, উপন্যাসে তা অত্যন্ত নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে।
৬. মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে কোনির অভিজ্ঞতার বিবরণ দাও।
উত্তর: মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ কোনির জীবনে এক চূড়ান্ত পরীক্ষা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার অধ্যায় ছিল।
মাদ্রাজে পৌঁছেই কোনি চরম একাকিত্ব ও বঞ্চনার শিকার হয়। বাংলা দলের অন্যান্য মেয়েরা (অমিয়া, বেলা প্রমুখ) তাকে ব্রাত্য করে রাখে এবং তার সঙ্গে কথা বলে না। চরম অপমানজনক ঘটনা ঘটে যখন বেলার ক্রিম চুরির মিথ্যা অপবাদ কোনির ওপর চাপানো হয়। হিয়া মিত্র সেই ক্রিম মাখিয়েছিল জানার পরেও, বেলা কোনিকে চড় মারে। এই ঘটনায় কোনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
তাছাড়া, জুপিটারের কর্মকর্তাদের চক্রান্তে কোনিকে কোনো ইভেন্টেই নামতে দেওয়া হয়নি। সে গ্যালারিতে বসে অন্যদের সাঁতার দেখতে বাধ্য হয়। কিন্তু শেষ দিনে, ৪x১০০ মিটার রিলে রেসের আগে অমিয়ার পেটে ক্রাম্প ধরায়, বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশায় জল ঢেলে যায়। তখন বাধ্য হয়ে কর্মকর্তারা কোনিকে নামতে অনুরোধ করে। প্রথমে অভিমানে কোনি রাজি না হলেও, হিয়ার চ্যালেঞ্জ এবং সর্বোপরি গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ক্ষিতীশের "ফাইট কোনি ফাইট" চিৎকার তাকে উদ্বুদ্ধ করে। সে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সমস্ত যন্ত্রণাকে হারিয়ে মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে পেছনে ফেলে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে। এভাবেই এক চরম যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা শেষে এক গৌরবান্বিত জয়ে রূপান্তরিত হয়।
মাদ্রাজে পৌঁছেই কোনি চরম একাকিত্ব ও বঞ্চনার শিকার হয়। বাংলা দলের অন্যান্য মেয়েরা (অমিয়া, বেলা প্রমুখ) তাকে ব্রাত্য করে রাখে এবং তার সঙ্গে কথা বলে না। চরম অপমানজনক ঘটনা ঘটে যখন বেলার ক্রিম চুরির মিথ্যা অপবাদ কোনির ওপর চাপানো হয়। হিয়া মিত্র সেই ক্রিম মাখিয়েছিল জানার পরেও, বেলা কোনিকে চড় মারে। এই ঘটনায় কোনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
তাছাড়া, জুপিটারের কর্মকর্তাদের চক্রান্তে কোনিকে কোনো ইভেন্টেই নামতে দেওয়া হয়নি। সে গ্যালারিতে বসে অন্যদের সাঁতার দেখতে বাধ্য হয়। কিন্তু শেষ দিনে, ৪x১০০ মিটার রিলে রেসের আগে অমিয়ার পেটে ক্রাম্প ধরায়, বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশায় জল ঢেলে যায়। তখন বাধ্য হয়ে কর্মকর্তারা কোনিকে নামতে অনুরোধ করে। প্রথমে অভিমানে কোনি রাজি না হলেও, হিয়ার চ্যালেঞ্জ এবং সর্বোপরি গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ক্ষিতীশের "ফাইট কোনি ফাইট" চিৎকার তাকে উদ্বুদ্ধ করে। সে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সমস্ত যন্ত্রণাকে হারিয়ে মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে পেছনে ফেলে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে। এভাবেই এক চরম যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা শেষে এক গৌরবান্বিত জয়ে রূপান্তরিত হয়।
৭. "সব পারে, মানুষ সব পারে।" - উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে এবং কেন তিনি এ কথা বলেছেন?
উত্তর: বক্তা: 'কোনি' উপন্যাসের একেবারে শেষে উদ্ধৃত কথাটি বলেছেন কোনির প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ।
প্রসঙ্গ ও কারণ: মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রিলে রেসে কোনি অসাধ্য সাধন করে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে। জল থেকে ওঠার পর সে ভিড়ের মধ্যে ক্ষিতীশকে খুঁজে পায়। কোনি ক্ষিতীশকে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করে যে তিনি কোথায় লুকিয়ে ছিলেন। ক্ষিতীশ তখন পুলের জলের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন যে তিনি জলের নীচে লুকিয়ে ছিলেন এবং বলছিলেন, "সব পারে, মানুষ সব পারে... ফাইট কোনি, ফাইট।"
ক্ষিতীশ এই কথাটি বলেছেন মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়গান গাইতে। কোনি এক চরম দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, যে ঠিকমতো খেতে পায় না। তার ওপর তাকে পদে পদে অপমানিত ও বঞ্চিত হতে হয়েছে। মাদ্রাজে সে ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। কিন্তু যখন সে জলে নামল, তখন তার ভেতরের সমস্ত যন্ত্রণা ও জেদ এক অবিশ্বাস্য শক্তিতে পরিণত হলো। সে ভারতের সেরা সাঁতারুকে হারিয়ে দিল। ক্ষিতীশ বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষের মনের জোর যদি প্রবল হয়, তবে দারিদ্র্য, চক্রান্ত বা শারীরিক ক্লান্তি কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। মানুষ চাইলে তার ইচ্ছাশক্তি দিয়ে সত্যিই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
প্রসঙ্গ ও কারণ: মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে রিলে রেসে কোনি অসাধ্য সাধন করে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে। জল থেকে ওঠার পর সে ভিড়ের মধ্যে ক্ষিতীশকে খুঁজে পায়। কোনি ক্ষিতীশকে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করে যে তিনি কোথায় লুকিয়ে ছিলেন। ক্ষিতীশ তখন পুলের জলের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন যে তিনি জলের নীচে লুকিয়ে ছিলেন এবং বলছিলেন, "সব পারে, মানুষ সব পারে... ফাইট কোনি, ফাইট।"
ক্ষিতীশ এই কথাটি বলেছেন মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়গান গাইতে। কোনি এক চরম দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, যে ঠিকমতো খেতে পায় না। তার ওপর তাকে পদে পদে অপমানিত ও বঞ্চিত হতে হয়েছে। মাদ্রাজে সে ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। কিন্তু যখন সে জলে নামল, তখন তার ভেতরের সমস্ত যন্ত্রণা ও জেদ এক অবিশ্বাস্য শক্তিতে পরিণত হলো। সে ভারতের সেরা সাঁতারুকে হারিয়ে দিল। ক্ষিতীশ বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষের মনের জোর যদি প্রবল হয়, তবে দারিদ্র্য, চক্রান্ত বা শারীরিক ক্লান্তি কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। মানুষ চাইলে তার ইচ্ছাশক্তি দিয়ে সত্যিই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
৮. "লজ্জা কখনো পুরোটো জিততে পারবি না... ক্ষমতা দিয়ে জিততে হয়।" - এই উপদেশটি কে, কাকে, কখন দিয়েছিল? এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: প্রসঙ্গ: 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ তার শিষ্যা কোনিকে এই উপদেশটি দিয়েছিলেন। লীলাবতীর 'প্রজাপতি' দোকানে কোনি ফাইফরমাশ খাটার কাজ করত। একদিন জুপিটার ক্লাবের সাঁতারু অমিয়া সেখানে ব্লাউজ বানাতে এসে কোনিকে 'ঝি' বলে কটাক্ষ করে। এতে কোনি অত্যন্ত লজ্জিত ও অপমানিত হয় এবং ক্ষিতীশকে অনুরোধ করে যাতে তাকে কাউন্টারে বসে লেখার কাজ দেওয়া হয়। তখন ক্ষিতীশ এই কথাটি বলেন।
তাৎপর্য: ক্ষিতীশ অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষ ছিলেন। তিনি জানতেন, সমাজে গরিব মানুষের কোনো সম্মান নেই এবং পদে পদে তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়। কেবল কাউন্টারে বসে কাজ করলেই বা নিজের পরিচয় লুকালেই দারিদ্র্যের এই লজ্জা বা অপমান থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। সমাজ তাকে বারবার নিচু করে দেখাবে। এই অপমান থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ হলো নিজের 'ক্ষমতা' বা যোগ্যতাকে প্রমাণ করা। কোনি যদি সাঁতারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে অমিয়াদের মতো অহংকারী মেয়েদের হারিয়ে দিতে পারে, তবে সমাজ বাধ্য হবে তাকে সম্মান করতে। অর্থাৎ, কর্ম ও সাফল্যের মাধ্যমেই নিজের সম্মান আদায় করে নিতে হয়, পালিয়ে গিয়ে নয়।
তাৎপর্য: ক্ষিতীশ অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষ ছিলেন। তিনি জানতেন, সমাজে গরিব মানুষের কোনো সম্মান নেই এবং পদে পদে তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়। কেবল কাউন্টারে বসে কাজ করলেই বা নিজের পরিচয় লুকালেই দারিদ্র্যের এই লজ্জা বা অপমান থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। সমাজ তাকে বারবার নিচু করে দেখাবে। এই অপমান থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ হলো নিজের 'ক্ষমতা' বা যোগ্যতাকে প্রমাণ করা। কোনি যদি সাঁতারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে অমিয়াদের মতো অহংকারী মেয়েদের হারিয়ে দিতে পারে, তবে সমাজ বাধ্য হবে তাকে সম্মান করতে। অর্থাৎ, কর্ম ও সাফল্যের মাধ্যমেই নিজের সম্মান আদায় করে নিতে হয়, পালিয়ে গিয়ে নয়।
৯. প্রণবেন্দু বিশ্বাস চরিত্রটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও এবং কোনির জীবনে তার ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: 'কোনি' উপন্যাসে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার প্রণবেন্দু বিশ্বাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক চরিত্র। তিনি ছিলেন হিয়ার প্রশিক্ষক।
চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ও ভূমিকা: প্রণবেন্দু ছিলেন একজন প্রকৃত খেলোয়াড়সুলভ ও নিরপেক্ষ মানুষ। জুপিটার ক্লাবের ট্রেনার হরিচরণ বা ধীরেন ঘোষের মতো তাঁর মধ্যে কোনো দলাদলি বা নোংরা রাজনীতি ছিল না। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার সাঁতারের উন্নতি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে ফ্রি স্টাইলে হারাতে গেলে বাংলার একমাত্র ভরসা হলো কোনি। তাই বি.এ.এস.এ-র সিলেকশন মিটিংয়ে যখন জুপিটারের কর্মকর্তারা কোনিকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছিল, তখন প্রণবেন্দুই রুখে দাঁড়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনিকে দলে না নিলে তিনি তাঁর মেয়েদের (হিয়াকে) প্রত্যাহার করে নেবেন। তাঁর এই দৃঢ়তার জন্যই কোনি বাংলা দলে সুযোগ পায়।
এছাড়া, মাদ্রাজে রিলে রেসের সময় যখন অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখনও প্রণবেন্দুই এগিয়ে এসে কোনিকে নামানোর জন্য ধীরেন ঘোষদের বাধ্য করেন। তাঁর এই নিরপেক্ষতা এবং প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধাই কোনিকে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দিয়েছিল।
চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ও ভূমিকা: প্রণবেন্দু ছিলেন একজন প্রকৃত খেলোয়াড়সুলভ ও নিরপেক্ষ মানুষ। জুপিটার ক্লাবের ট্রেনার হরিচরণ বা ধীরেন ঘোষের মতো তাঁর মধ্যে কোনো দলাদলি বা নোংরা রাজনীতি ছিল না। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার সাঁতারের উন্নতি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে ফ্রি স্টাইলে হারাতে গেলে বাংলার একমাত্র ভরসা হলো কোনি। তাই বি.এ.এস.এ-র সিলেকশন মিটিংয়ে যখন জুপিটারের কর্মকর্তারা কোনিকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছিল, তখন প্রণবেন্দুই রুখে দাঁড়ান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনিকে দলে না নিলে তিনি তাঁর মেয়েদের (হিয়াকে) প্রত্যাহার করে নেবেন। তাঁর এই দৃঢ়তার জন্যই কোনি বাংলা দলে সুযোগ পায়।
এছাড়া, মাদ্রাজে রিলে রেসের সময় যখন অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখনও প্রণবেন্দুই এগিয়ে এসে কোনিকে নামানোর জন্য ধীরেন ঘোষদের বাধ্য করেন। তাঁর এই নিরপেক্ষতা এবং প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধাই কোনিকে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ করে দিয়েছিল।
১০. 'কোনি' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু বা প্রধান চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। মতি নন্দী রচিত এই উপন্যাসটির নামকরণ 'কোনি' সম্পূর্ণ সার্থক ও যুক্তিসংগত।
উপন্যাসটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবর্তিত হয়েছে কনকচাঁপা পাল বা 'কোনি' নামক এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোরীকে কেন্দ্র করে। গঙ্গার ঘাটে আম কুড়োনোর লড়াই থেকে শুরু করে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার মেডেল জয়—সবটাই কোনির জীবনসংগ্রামের কাহিনি। উপন্যাসে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র যেমন ক্ষিতীশ সিংহ, লীলাবতী, কমল, ধীরেন ঘোষ বা হিয়া মিত্র—এরা প্রত্যেকেই কোনির জীবনকে কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত করেছে, কিন্তু মূল ফোকাস সর্বদাই কোনির ওপর নিবদ্ধ থেকেছে।
কোনির দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, ক্ষুধা, সমাজের উঁচু তলার মানুষদের অপমান সহ্য করা এবং অবশেষে জলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা—এই সবকিছুই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। "ফাইট কোনি ফাইট" মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সে যেভাবে সমস্ত বাধা জয় করেছে, তা পাঠককে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। যেহেতু সমগ্র উপন্যাসের আখ্যানভাগ, দ্বন্দ্ব এবং পরিণতি কোনির চরিত্রকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয়েছে, তাই 'কোনি' নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক।
উপন্যাসটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবর্তিত হয়েছে কনকচাঁপা পাল বা 'কোনি' নামক এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কিশোরীকে কেন্দ্র করে। গঙ্গার ঘাটে আম কুড়োনোর লড়াই থেকে শুরু করে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার মেডেল জয়—সবটাই কোনির জীবনসংগ্রামের কাহিনি। উপন্যাসে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র যেমন ক্ষিতীশ সিংহ, লীলাবতী, কমল, ধীরেন ঘোষ বা হিয়া মিত্র—এরা প্রত্যেকেই কোনির জীবনকে কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত করেছে, কিন্তু মূল ফোকাস সর্বদাই কোনির ওপর নিবদ্ধ থেকেছে।
কোনির দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, ক্ষুধা, সমাজের উঁচু তলার মানুষদের অপমান সহ্য করা এবং অবশেষে জলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা—এই সবকিছুই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। "ফাইট কোনি ফাইট" মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সে যেভাবে সমস্ত বাধা জয় করেছে, তা পাঠককে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। যেহেতু সমগ্র উপন্যাসের আখ্যানভাগ, দ্বন্দ্ব এবং পরিণতি কোনির চরিত্রকে কেন্দ্র করেই বিকশিত হয়েছে, তাই 'কোনি' নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক।
কোনি উপন্যাস সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
কোনি উপন্যাসটি প্রখ্যাত বাঙালি ক্রীড়াসাহিত্যিক মতি নন্দীর লেখা।
কোনির প্রশিক্ষকের নাম ছিল ক্ষিতীশ সিংহ, যাকে কোনি ভালোবেসে 'ক্ষিদ্দা' বলে ডাকত।
এটি উপন্যাসের মূল মন্ত্র। এর অর্থ হলো জীবন ও সাঁতারের পুলে দারিদ্র্য, অপমান ও শারীরিক যন্ত্রণার কাছে হার না মেনে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের রিলে রেসের শেষ ল্যাপে কোনি মহারাষ্ট্রের সেরা সাঁতারু রমা যোশিকে হারিয়ে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিল।
উপন্যাসে মূলত 'জুপিটার সুইমিং ক্লাব'-এর কর্মকর্তাদের (হরিচরণ, ধীরেন ঘোষ) নোংরা রাজনীতি ও কোনির বিরুদ্ধে চক্রান্তের কথা বলা হয়েছে।