অসুখী একজন (পাবলো নেরুদা)

পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতার লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর। তরজমা: নবারুণ ভট্টাচার্য।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন'-এর লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ, এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

১. কবিতার বিষয়সংক্ষেপ

অসুখী একজন কবিতাটি চিলির প্রখ্যাত কবি পাবলো নেরুদার লেখা। স্পেনের গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এই কবিতায় যুদ্ধ, ধ্বংস এবং শাশ্বত ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।

কবিতার কথক তাঁর প্রিয়তমাকে দরজায় অপেক্ষায় রেখে বহুদূরে চলে যান। মেয়েটি জানত না যে তিনি আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। সময় বয়ে যায়, দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কেটে যায়। বৃষ্টিতে কথকের পায়ের দাগ ধুয়ে যায়, রাস্তায় ঘাস জন্মায়। প্রতীক্ষারত মেয়েটির মাথার ওপর বছরগুলো পাথরের মতো ভারী হয়ে নেমে আসে।

এরপর আসে ভয়ংকর যুদ্ধ। আগ্নেয়গিরির লাভার মতো সেই যুদ্ধে শিশু থেকে শুরু করে শান্ত দেবতারা, এমনকি কথকের ফেলে আসা মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ সব ধ্বংস হয়ে যায়। আস্ত শহরটা পরিণত হয় কাঠকয়লা আর দোমড়ানো লোহার এক শ্মশানে। রক্তের কালো দাগ ছড়িয়ে থাকে চারদিকে। কিন্তু এত ধ্বংসলীলা, মৃত্যু এবং বিপর্যয়ের মাঝেও একটি জিনিসের মৃত্যু হয় না—তা হলো সেই মেয়েটির ভালোবাসা এবং প্রতীক্ষা। সে তখনও কথকের ফেরার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। যুদ্ধ সবকিছু ধ্বংস করতে পারলেও মানুষের শাশ্বত ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে ধ্বংস করতে পারে না, এটাই কবিতার মূল উপজীব্য।

২. কবি পরিচিতি

পাবলো নেরুদা (১৯০৪-১৯৭৩): প্রখ্যাত কবি, কূটনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা চিলির পাররাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম 'নেকতালি রিকার্দো রেয়েন্স বাসোয়ালতো'। তিনি মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে কবিতা লিখেছেন, পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিবাদও ধ্বনিত হয়েছে তাঁর লেখায়। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে- 'কুড়িটা প্রেমের কবিতা এবং একটি হতাশার গান', 'এ পৃথিবীর আবাসভূমি', 'প্রাণের স্পেন' ইত্যাদি। আলোচ্য 'অসুখী একজন' কবিতাটি বাংলায় তরজমা করেছেন নবারুণ ভট্টাচার্য।

৩. কবিতার লাইনভিত্তিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা

আমি তাকে ছেড়ে দিলাম
অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দরজায়
আমি চলে গেলাম দূর... দূরে।
ব্যাখ্যা: কথক (যিনি সম্ভবত একজন দেশপ্রেমিক বা বিপ্লবী) তাঁর প্রিয়তমাকে বাড়ির দরজায় অপেক্ষায় রেখে নিজের মাতৃভূমি ও ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে বহুদূরে চলে যাচ্ছেন। কর্তব্যের ডাকে এই বিদায় অত্যন্ত বেদনার।
সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না।
ব্যাখ্যা: দরজায় অপেক্ষারত মেয়েটি ভেবেছিল তার প্রিয় মানুষটি হয়তো কিছুদিনের জন্য যাচ্ছে এবং আবার ফিরে আসবে। কিন্তু কথক জানেন যে যুদ্ধের ভয়াবহতা বা তাঁর কর্তব্যের পথ তাঁকে আর কখনো ফিরে আসতে দেবে না। এই না-জানাটাই মেয়েটির অপেক্ষাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
একটা কুকুর চলে গেল, হেঁটে গেল গির্জার এক নান
একটা সপ্তাহ আর একটা বছর কেটে গেল।
ব্যাখ্যা: এখানে সময়ের বহমানতাকে বোঝানো হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত বিচ্ছেদে প্রকৃতির বা পৃথিবীর সময় থেমে থাকে না। সাধারণ দৈনন্দিন জীবনের ছন্দে (কুকুরের ছুটে যাওয়া বা সন্ন্যাসিনীর হেঁটে যাওয়া) দিন, সপ্তাহ এবং একসময় বছর পার হয়ে গেল।
বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ
ঘাস জন্মালো রাস্তায়
ব্যাখ্যা: সময়ের প্রলেপে স্মৃতি ম্লান হওয়ার ইঙ্গিত। কথকের চলে যাওয়ার পথ বা পায়ের চিহ্ন বৃষ্টির জলে ধুয়ে মুছে গেল এবং সেখানে নতুন ঘাস জন্মালো। অর্থাৎ, তাঁর অস্তিত্বের বাহ্যিক চিহ্নগুলো প্রকৃতি গ্রাস করে নিল।
আর একটার পর একটা, পাথরের মতো
পর পর পাথরের মতো, বছরগুলো
নেমে এল তার মাথার ওপর।
ব্যাখ্যা: অপেক্ষারত মেয়েটির কাছে সময় কাটানো অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। প্রিয়জনের অপেক্ষায় প্রতিটি বছর তার কাছে এক-একটি ভারী পাথরের মতো মনে হয়েছে। বিরহের এই কষ্ট তার কাছে অসহ্য ও ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে।
তারপর যুদ্ধ এল
রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো।
শিশু আর বাড়িরা খুন হলো।
ব্যাখ্যা: এরপর এল সর্বনাশা যুদ্ধ। আগ্নেয়গিরি যেমন চারদিকে জ্বলন্ত লাভা ছড়িয়ে ধ্বংস ডেকে আনে, তেমনি যুদ্ধও চারদিকে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিল। এই নিষ্ঠুর যুদ্ধে নিরীহ শিশুরাও রেহাই পেল না, আর ধ্বংস হলো মানুষের আশ্রয়স্থল (বাড়ি)।
সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।
ব্যাখ্যা: যুদ্ধের এই প্রবল ধ্বংসলীলায় চারদিকে মৃত্যুমিছিল চললেও সেই অপেক্ষারত মেয়েটির মৃত্যু হলো না। কারণ মেয়েটি এখানে কেবল একজন ব্যক্তি নয়, সে হলো শাশ্বত ভালোবাসা ও মানবিক প্রতীক্ষার প্রতীক। অস্ত্র দিয়ে মানুষকে মারা যায়, কিন্তু ভালোবাসাকে মারা যায় না।
সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন
শান্ত হলুদ দেবতারা
যারা হাজার বছর ধরে
ডুবে ছিল ধ্যানে
উল্টে পড়ল মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে
তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।
ব্যাখ্যা: যুদ্ধের আগুন সমতলের সবকিছু পুড়িয়ে দিল। মন্দিরে থাকা দেবতারা, যারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে মগ্ন ছিল এবং মানুষের শান্তির প্রতীক ছিল, তারাও বোমার আঘাতে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। দেবতারা নিজেদেরই রক্ষা করতে পারল না, তাই তারা আর মানুষের মঙ্গলের স্বপ্নও দেখতে পারল না। মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও ঈশ্বর নির্ভরতা যুদ্ধের সামনে অসহায় হয়ে পড়ল।
সেই মিষ্টি বাড়ি, সেই বারান্দা
যেখানে আমি ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমিয়েছিলাম,
গোলাপি গাছ, ছড়ানো করতলের মতো পাতা
চিমনি, প্রাচীন জলতরঙ্গ
সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে।
ব্যাখ্যা: কথকের ব্যক্তিগত জীবনের সব সুখস্মৃতি যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। তাঁর প্রিয় বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা (হ্যামক), বাগানের গোলাপি গাছ, চিমনি এবং প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র জলতরঙ্গ—সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেল। যুদ্ধ মানুষের ব্যক্তিগত সুখ ও আশ্রয়কে কেড়ে নেয়।
যেখানে ছিল শহর
সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা
দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা
রক্তের একটা কালো দাগ।
ব্যাখ্যা: আস্ত শহরটা পরিণত হলো এক মৃত্যুপুরী বা শ্মশানে। শহরের চিহ্ন বলতে পড়ে রইল কেবল পোড়া কাঠকয়লা, বাঁকা লোহা এবং টুকরো হয়ে যাওয়া পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা। আর পড়ে রইল জমাট বাঁধা রক্তের কালো দাগ, যা মানুষের ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচারের নীরব সাক্ষী।
আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।
ব্যাখ্যা: কবিতার শেষ লাইনে এক চরম আশাবাদের কথা বলা হয়েছে। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও, শহর শ্মশান হয়ে গেলেও, সেই মেয়েটি আজও কথকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। কারণ, যুদ্ধ মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু মানুষের ভেতরের শাশ্বত প্রেম, ভালোবাসা ও মানবিক প্রতীক্ষাকে ধ্বংস করতে পারে না। প্রেমের মৃত্যু নেই।

৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন

১. 'অসুখী একজন' কবিতার রচয়িতা কে?
(ক) গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ (খ) পাবলো নেরুদা (গ) টি. এস. এলিয়ট (ঘ) অক্টাভিও পাজ
উত্তর: (খ) পাবলো নেরুদা
২. কবিতাটি বাংলায় কে তরজমা করেছেন?
(ক) মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (খ) শঙ্খ ঘোষ (গ) নবারুণ ভট্টাচার্য (ঘ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) নবারুণ ভট্টাচার্য
৩. পাবলো নেরুদা কোন দেশের মানুষ ছিলেন?
(ক) স্পেন (খ) আর্জেন্টিনা (গ) চিলি (ঘ) ব্রাজিল
উত্তর: (গ) চিলি
৪. পাবলো নেরুদা কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
(ক) ১৯১৩ (খ) ১৯৭১ (গ) ১৯৭৩ (ঘ) ১৯৪৫
উত্তর: (খ) ১৯৭১
৫. "আমি তাকে ছেড়ে দিলাম"- এখানে 'আমি' কে?
(ক) ঈশ্বর (খ) মৃত্যু (গ) কবি বা কথক (ঘ) সৈনিক
উত্তর: (গ) কবি বা কথক
৬. কথক কাকে ছেড়ে দূরে চলে গেলেন?
(ক) দেশকে (খ) বন্ধুকে (গ) প্রিয়তমাকে (ঘ) দেবতাকে
উত্তর: (গ) প্রিয়তমাকে
৭. মেয়েটি কোথায় অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিল?
(ক) স্টেশনে (খ) বারান্দায় (গ) দরজায় (ঘ) নদীর ধারে
উত্তর: (গ) দরজায়
৮. "সে জানত না..." - সে কী জানত না?
(ক) যুদ্ধ আসবে (খ) আমি আর কখনো ফিরে আসব না (গ) শহর ধ্বংস হবে (ঘ) বৃষ্টি আসবে
উত্তর: (খ) আমি আর কখনো ফিরে আসব না
৯. রাস্তা দিয়ে কে হেঁটে গেল?
(ক) এক শিশু (খ) গির্জার এক নান (গ) একজন সৈনিক (ঘ) একজন সন্ন্যাসী
উত্তর: (খ) গির্জার এক নান
১০. কী চলে গেল?
(ক) একটা বিড়াল (খ) একটা কুকুর (গ) একটা ঘোড়া (ঘ) একটা গাড়ি
উত্তর: (খ) একটা কুকুর
১১. বৃষ্টিতে কী ধুয়ে দিল?
(ক) শহরের ধুলো (খ) রক্তের দাগ (গ) কবির পায়ের দাগ (ঘ) পুরোনো স্মৃতি
উত্তর: (গ) কবির পায়ের দাগ
১২. রাস্তায় কী জন্মালো?
(ক) ফুল (খ) ঘাস (গ) কাঁটা (ঘ) গাছ
উত্তর: (খ) ঘাস
১৩. বছরগুলো কার মতো মেয়েটির মাথার ওপর নেমে এল?
(ক) বৃষ্টির মতো (খ) পাহাড়ের মতো (গ) পাথরের মতো (ঘ) বর্শার মতো
উত্তর: (গ) পাথরের মতো
১৪. তারপর কী এল?
(ক) ঝড় (খ) ভূমিকম্প (গ) মহামারি (ঘ) যুদ্ধ
উত্তর: (ঘ) যুদ্ধ
১৫. যুদ্ধকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
(ক) রক্তের সমুদ্রের মতো (খ) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো (গ) কালবৈশাখীর মতো (ঘ) দাবানলের মতো
উত্তর: (খ) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো
১৬. যুদ্ধে কারা খুন হলো?
(ক) সৈন্য আর সেনাপতি (খ) শিশু আর বাড়িরা (গ) নারী আর বৃদ্ধরা (ঘ) দেবতারা
উত্তর: (খ) শিশু আর বাড়িরা
১৭. যুদ্ধে কার মৃত্যু হলো না?
(ক) কবির (খ) দেবতার (গ) সেই মেয়েটির (ঘ) শিশুদের
উত্তর: (গ) সেই মেয়েটির
১৮. কোথায় আগুন ধরে গেল?
(ক) পাহাড়ে (খ) সমস্ত সমতলে (গ) সাগরে (ঘ) আকাশে
উত্তর: (খ) সমস্ত সমতলে
১৯. দেবতারা কেমন ছিলেন?
(ক) শান্ত হলুদ (খ) ক্রুদ্ধ লাল (গ) শ্বেতশুভ্র (ঘ) কালো
উত্তর: (ক) শান্ত হলুদ
২০. শান্ত হলুদ দেবতারা কত বছর ধরে ধ্যানে ডুবে ছিল?
(ক) একশো বছর (খ) পাঁচশো বছর (গ) হাজার বছর (ঘ) দুই হাজার বছর
উত্তর: (গ) হাজার বছর
২১. দেবতারা কোথা থেকে উল্টে পড়ল?
(ক) পাহাড় থেকে (খ) সিংহাসন থেকে (গ) মন্দির থেকে (ঘ) আকাশ থেকে
উত্তর: (গ) মন্দির থেকে
২২. দেবতারা কীরূপে উল্টে পড়ল?
(ক) টুকরো টুকরো হয়ে (খ) অক্ষত অবস্থায় (গ) পুড়ে ছাই হয়ে (ঘ) ধুলোয় মিশে
উত্তর: (ক) টুকরো টুকরো হয়ে
২৩. দেবতারা আর কী দেখতে পারল না?
(ক) মানুষের মৃত্যু (খ) ভবিষ্যৎ (গ) স্বপ্ন (ঘ) পূজার ফুল
উত্তর: (গ) স্বপ্ন
২৪. কথকের বাড়িটি কেমন ছিল?
(ক) বিশাল (খ) মিষ্টি (গ) পুরোনো (ঘ) ভয়ংকর
উত্তর: (খ) মিষ্টি
২৫. কথক কোথায় ঘুমিয়েছিলেন?
(ক) নরম বিছানায় (খ) মেঝের ওপর (গ) ঝুলন্ত বিছানায় (ঘ) ছাদে
উত্তর: (গ) ঝুলন্ত বিছানায়
২৬. গাছটির রং কেমন ছিল?
(ক) সবুজ (খ) নীল (গ) হলুদ (ঘ) গোলাপি
উত্তর: (ঘ) গোলাপি
২৭. গাছের পাতাগুলি কেমন ছিল?
(ক) সুঁচালো (খ) ছড়ানো করতলের মতো (গ) গোলাকার (ঘ) লম্বাটে
উত্তর: (খ) ছড়ানো করতলের মতো
২৮. বাড়িতে প্রাচীন কী ছিল?
(ক) বই (খ) ঘড়ি (গ) জলতরঙ্গ (ঘ) মূর্তি
উত্তর: (গ) জলতরঙ্গ
২৯. যুদ্ধে কথকের বাড়ির জিনিসগুলির কী হলো?
(ক) চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে (খ) অক্ষত রইল (গ) মাটিতে পুঁতে গেল (ঘ) জলে ভেসে গেল
উত্তর: (ক) চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে
৩০. যেখানে শহর ছিল, সেখানে কী ছড়িয়ে রইল?
(ক) ফুল (খ) কাঠকয়লা (গ) মানুষের মৃতদেহ (ঘ) সোনা-দানা
উত্তর: (খ) কাঠকয়লা
৩১. শহরে আর কী কী পড়ে রইল?
(ক) দোমড়ানো লোহা (খ) মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা (গ) রক্তের কালো দাগ (ঘ) সবকটিই
উত্তর: (ঘ) সবকটিই
৩২. মূর্তির মাথাগুলিকে কেমন বলা হয়েছে?
(ক) সুন্দর (খ) বীভৎস (গ) বিশাল (ঘ) করুণ
উত্তর: (খ) বীভৎস
৩৩. রক্তের দাগ কেমন ছিল?
(ক) লাল (খ) টাটকা (গ) কালো (ঘ) সাদা
উত্তর: (গ) কালো
৩৪. "আর সেই মেয়েটি আমার..." - শূন্যস্থানে কী হবে?
(ক) স্মৃতিতে (খ) সামনে (গ) অপেক্ষায় (ঘ) কল্পনায়
উত্তর: (গ) অপেক্ষায়
৩৫. 'অসুখী একজন' কবিতায় 'অসুখী' কে?
(ক) কথক (খ) অপেক্ষায় থাকা মেয়েটি (গ) দেবতা (ঘ) নান
উত্তর: (খ) অপেক্ষায় থাকা মেয়েটি
৩৬. 'জলতরঙ্গ' কী?
(ক) নদীর ঢেউ (খ) একপ্রকার বাদ্যযন্ত্র (গ) বৃষ্টির জল (ঘ) সমুদ্রের স্রোত
উত্তর: (খ) একপ্রকার বাদ্যযন্ত্র
৩৭. পাবলো নেরুদার প্রকৃত নাম কী?
(ক) নেকতালি রিকার্দো (খ) নেকতালি রিকার্দো রেয়েন্স বাসোয়ালতো (গ) পাবলো পিকাসো (ঘ) জাঁ নেরুদা
উত্তর: (খ) নেকতালি রিকার্দো রেয়েন্স বাসোয়ালতো
৩৮. পাবলো নেরুদা কোন দেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে ভারতে এসেছিলেন?
(ক) স্পেন (খ) চিলি (গ) আর্জেন্টিনা (ঘ) মেক্সিকো
উত্তর: (খ) চিলি
৩৯. "শিশু আর বাড়িরা খুন হলো"- এই পঙ্‌ক্তির মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) শিশুরা বাড়ি ভেঙেছে (খ) যুদ্ধের ভয়াবহতা ও সর্বনাশা রূপ (গ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঘ) দাঙ্গা
উত্তর: (খ) যুদ্ধের ভয়াবহতা ও সর্বনাশা রূপ
৪০. 'পাথরের মতো' বছরগুলো নেমে এল- কেন?
(ক) বৃষ্টি হচ্ছিল বলে (খ) অপেক্ষার সময় অত্যন্ত দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক বলে (গ) পাহাড় ধসেছিল বলে (ঘ) পাথর ছোঁড়া হচ্ছিল বলে
উত্তর: (খ) অপেক্ষার সময় অত্যন্ত দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক বলে
৪১. ঘাস জন্মালো রাস্তায় - এটি কীসের প্রতীক?
(ক) প্রকৃতির সৌন্দর্য (খ) দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও স্মৃতির বিলোপ (গ) অবহেলা (ঘ) বৃষ্টিপাত
উত্তর: (খ) দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ও স্মৃতির বিলোপ
৪২. যুদ্ধের আগুন কোথায় ধরেছিল?
(ক) পাহাড়ে (খ) নদীতে (গ) সমস্ত সমতলে (ঘ) সমুদ্রে
উত্তর: (গ) সমস্ত সমতলে
৪৩. 'শান্ত হলুদ দেবতারা'- হলুদ রং কীসের প্রতীক?
(ক) রোগ (খ) আনন্দ (গ) প্রাচীনত্ব বা জীর্ণতা (ঘ) বিপদ
উত্তর: (গ) প্রাচীনত্ব বা জীর্ণতা
৪৪. দেবতারা কেন স্বপ্ন দেখতে পারল না?
(ক) তারা ঘুমিয়ে পড়েছিল (খ) যুদ্ধের আঘাতে তারা মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছিল (গ) তারা রেগে গিয়েছিল (ঘ) তারা অন্ধ হয়ে গিয়েছিল
উত্তর: (খ) যুদ্ধের আঘাতে তারা মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছিল
৪৫. 'সেই মিষ্টি বাড়ি'- বাড়িটিকে মিষ্টি বলা হয়েছে কেন?
(ক) সেখানে মিষ্টি তৈরি হতো (খ) বাড়িটি কথকের সুখস্মৃতি ও ভালোবাসায় ঘেরা ছিল (গ) বাড়িটির রং মিষ্টি ছিল (ঘ) বাড়িটি দেখতে খুব সুন্দর ছিল
উত্তর: (খ) বাড়িটি কথকের সুখস্মৃতি ও ভালোবাসায় ঘেরা ছিল
৪৬. 'দোমড়ানো লোহা'- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) কারখানার লোহা (খ) যুদ্ধের বোমায় ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের লোহার কাঠামো (গ) লোহার আসবাবপত্র (ঘ) ভাঙা গাড়ি
উত্তর: (খ) যুদ্ধের বোমায় ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের লোহার কাঠামো
৪৭. রক্তের দাগ কালো কেন?
(ক) অনেকদিন আগের রক্ত শুকিয়ে গেছে বলে (খ) রক্ত কালো রঙের ছিল (গ) অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে না (ঘ) আগুনে পুড়ে গেছে
উত্তর: (ক) অনেকদিন আগের রক্ত শুকিয়ে গেছে বলে
৪৮. মেয়েটির মৃত্যু হলো না কেন?
(ক) সে খুব শক্তিময়ী ছিল (খ) সে লুকিয়ে ছিল (গ) শাশ্বত প্রেম ও প্রতীক্ষার কখনো মৃত্যু হয় না (ঘ) দেবতারা তাকে বাঁচিয়েছিল
উত্তর: (গ) শাশ্বত প্রেম ও প্রতীক্ষার কখনো মৃত্যু হয় না
৪৯. কবিতাটির মূল সুর কী?
(ক) যুদ্ধ ও ধ্বংস (খ) প্রকৃতির সৌন্দর্য (গ) ঈশ্বর বন্দনা (ঘ) ধ্বংসের মাঝেও প্রেমের শাশ্বত রূপ
উত্তর: (ঘ) ধ্বংসের মাঝেও প্রেমের শাশ্বত রূপ
৫০. 'অসুখী একজন' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত (বাংলা অনুবাদ)?
(ক) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে (খ) প্রাণের স্পেন (গ) ক্যাপ্টেনের কবিতা (ঘ) শীতের বাগিচা
উত্তর: (ক) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে

৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন

১. 'অসুখী একজন' কবিতাটি কে লিখেছেন এবং বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন?
উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতাটি চিলির প্রখ্যাত কবি পাবলো নেরুদা লিখেছেন এবং এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন কবি নবারুণ ভট্টাচার্য।
২. "আমি তাকে ছেড়ে দিলাম"- এখানে 'আমি' এবং 'তাকে' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে 'আমি' বলতে কবিতার কথক বা কবি স্বয়ং এবং 'তাকে' বলতে তাঁর প্রিয়তমা বা ভালোবাসার মানুষটিকে বোঝানো হয়েছে।
৩. কথক কোথায় তাঁর প্রিয়তমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে গিয়েছিলেন?
উত্তর: কথক তাঁর প্রিয়তমাকে বাড়ির দরজায় অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দূরে চলে গিয়েছিলেন।
৪. "সে জানত না..." - অপেক্ষারত মেয়েটি কী জানত না?
উত্তর: অপেক্ষারত মেয়েটি জানত না যে তার প্রিয় মানুষটি অর্থাৎ কথক আর কোনোদিন তার কাছে ফিরে আসবেন না।
৫. কথকের চলে যাওয়ার পর রাস্তা দিয়ে কে কে চলে গিয়েছিল?
উত্তর: কথকের চলে যাওয়ার পর রাস্তা দিয়ে একটি কুকুর চলে গিয়েছিল এবং গির্জার এক নান বা সন্ন্যাসিনী হেঁটে গিয়েছিলেন।
৬. বৃষ্টি এবং ঘাস দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: বৃষ্টিতে পায়ের দাগ ধুয়ে যাওয়া এবং রাস্তায় ঘাস জন্মানোর মধ্য দিয়ে কবি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া এবং কথকের স্মৃতির চিহ্ন মুছে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
৭. বছরগুলো কীভাবে মেয়েটির মাথার ওপর নেমে এল?
উত্তর: প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষায় থাকা বছরগুলো একটার পর একটা ভারী পাথরের মতো মেয়েটির মাথার ওপর নেমে এল।
৮. যুদ্ধকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: কবি সর্বনাশা যুদ্ধকে রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের বা আগ্নেয়গিরির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৯. "শিশু আর বাড়িরা খুন হলো"- এর অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের নিষ্ঠুরতায় নিরীহ শিশুদেরও প্রাণ গেল এবং মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল অর্থাৎ বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেল।
১০. "সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।" - কেন তার মৃত্যু হলো না?
উত্তর: মেয়েটি হলো শাশ্বত প্রেম ও প্রতীক্ষার প্রতীক। যুদ্ধ মানুষের শরীর বা ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তরের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে ধ্বংস করতে পারে না বলেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।
১১. যুদ্ধের আগুন কোথায় ছড়িয়ে পড়েছিল?
উত্তর: যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক আগুন সমস্ত সমতলে ছড়িয়ে পড়েছিল।
১২. শান্ত হলুদ দেবতারা কত বছর ধরে ধ্যানে ডুবে ছিল?
উত্তর: শান্ত হলুদ দেবতারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে ছিল।
১৩. দেবতাদের 'হলুদ' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: হাজার বছর ধরে মন্দিরে থাকার ফলে মূর্তিগুলিতে যে জীর্ণতা ও প্রাচীনত্বের ছাপ পড়েছিল, তা বোঝাতেই দেবতাদের 'হলুদ' বলা হয়েছে।
১৪. দেবতাদের পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: যুদ্ধের ভয়াবহ বোমাবর্ষণে শান্ত দেবতারাও মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উল্টে পড়েছিল।
১৫. "তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।" - তারা কারা এবং কেন স্বপ্ন দেখতে পারল না?
উত্তর: তারা হলো শান্ত হলুদ দেবতারা। মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে তারা আর মানুষের মঙ্গলের স্বপ্ন দেখতে পারল না।
১৬. কথকের বাড়িটিকে কেমন বলা হয়েছে?
উত্তর: কথকের বাড়িটিকে 'মিষ্টি বাড়ি' বলা হয়েছে, কারণ সেটি তাঁর সুখ ও ভালোবাসার স্মৃতিতে ঘেরা ছিল।
১৭. কথক কোথায় ঘুমিয়েছিলেন?
উত্তর: কথক তাঁর মিষ্টি বাড়ির বারান্দায় একটি ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন।
১৮. কথকের বাড়িতে কী কী গাছ ও জিনিস ছিল?
উত্তর: কথকের বাড়িতে ছড়ানো করতলের মতো পাতাযুক্ত গোলাপি গাছ, চিমনি এবং প্রাচীন জলতরঙ্গ ছিল।
১৯. গোলাপি গাছের পাতাগুলিকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: গোলাপি গাছের পাতাগুলিকে কবি মানুষের ছড়ানো করতলের বা হাতের তালুর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
২০. "সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে।" - কী চূর্ণ হয়ে গেল?
উত্তর: যুদ্ধে কথকের মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি এবং প্রাচীন জলতরঙ্গ সব চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গেল।
২১. যেখানে শহর ছিল, সেখানে কী ছড়িয়ে রইল?
উত্তর: যুদ্ধের পর আস্ত শহরটা ধ্বংস হয়ে সেখানে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা এবং রক্তের কালো দাগ ছড়িয়ে রইল।
২২. মূর্তির মাথাগুলিকে 'বীভৎস' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: বোমার আঘাতে পাথরের মূর্তিগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে বিকৃত রূপ ধারণ করেছিল বলে সেগুলিকে বীভৎস বলা হয়েছে।
২৩. রক্তের দাগকে 'কালো' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: যুদ্ধের ধ্বংসলীলার পর অনেক দিন পেরিয়ে যাওয়ায় মানুষের রক্ত শুকিয়ে কালো হয়ে গিয়েছিল, তাই রক্তের দাগকে কালো বলা হয়েছে।
২৪. "আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।" - এই পঙ্‌ক্তির তাৎপর্য কী?
উত্তর: শহর, বাড়ি, সভ্যতা সব ধ্বংস হয়ে গেলেও মেয়েটির অপেক্ষার অবসান হয়নি, যা প্রমাণ করে যে যুদ্ধ কখনও সত্যিকারের ভালোবাসা ও মানবতাকে ধ্বংস করতে পারে না।
২৫. 'অসুখী একজন' কবিতায় কাকে অসুখী বলা হয়েছে?
উত্তর: দরজায় অপেক্ষারত সেই মেয়েটিকে অসুখী বলা হয়েছে, কারণ তার অনন্ত প্রতীক্ষা এবং বিরহবেদনা তাকে অসুখী করে তুলেছে।
২৬. 'নান' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'নান' শব্দের অর্থ হলো গির্জার সন্ন্যাসিনী বা সেবিকা।
২৭. 'জলতরঙ্গ' কী?
উত্তর: জলতরঙ্গ হলো জলপূর্ণ বাটিতে আঘাত করে বাজানো একপ্রকার প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র।
২৮. 'আগ্নেয়পাহাড়' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'আগ্নেয়পাহাড়' বলতে আগ্নেয়গিরিকে বোঝায়, যার মুখ দিয়ে ফুটন্ত লাভা নির্গত হয়।
২৯. পাবলো নেরুদা কবে নোবেল পান?
উত্তর: পাবলো নেরুদা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
৩০. নবারুণ ভট্টাচার্য কে?
উত্তর: নবারুণ ভট্টাচার্য হলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও ঔপন্যাসিক, যিনি পাবলো নেরুদার এই কবিতাটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন।
৩১. কথক কেন দূরে চলে গিয়েছিলেন?
উত্তর: কবিতায় স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও, বৃহত্তর অর্থে মাতৃভূমির প্রতি কর্তব্য বা যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিতেই কথক দূরে চলে গিয়েছিলেন।
৩২. মেয়েটি দরজায় দাঁড়িয়ে কেন ছিল?
উত্তর: প্রিয় মানুষটি বিদায় নেওয়ার পর সে আবার কবে ফিরে আসবে, সেই অনন্ত প্রতীক্ষাতেই মেয়েটি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল।
৩৩. 'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়' - কথাটির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের কোন রূপ প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: কথাটির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের চরম বীভৎসতা, রক্তপাত এবং আগ্নেয়গিরির লাভার মতো সর্বগ্রাসী ধ্বংসাত্মক রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
৩৪. "একটা সপ্তাহ আর একটা বছর কেটে গেল।" - এখানে কীসের ইঙ্গিত আছে?
উত্তর: এখানে মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের তোয়াক্কা না করে সময়ের নিজস্ব ছন্দে অবিরাম বয়ে চলার বা প্রবহমানতার ইঙ্গিত আছে।
৩৫. দেবতারা কেন উল্টে পড়ল?
উত্তর: সর্বগ্রাসী যুদ্ধের শক্তিশালী বোমার আঘাতে মন্দিরগুলি ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় তার ভেতরের দেবতারাও উল্টে পড়েছিল।
৩৬. 'কাঠকয়লা' কিসের প্রতীক?
উত্তর: যুদ্ধের আগুনে একটি জীবন্ত শহর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার এবং জীবনের ধ্বংসাবশেষের প্রতীক হলো কাঠকয়লা।
৩৭. 'মৃত পাথরের মূর্তি'- কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: পাথরের মূর্তি এমনিতেই প্রাণহীন, কিন্তু যুদ্ধের আঘাতে সেই মূর্তিগুলি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ায় তাদের দেবত্ব বা পবিত্রতাও যেন মরে গেছে, তাই 'মৃত' বলা হয়েছে।
৩৮. মেয়েটিকে 'অসুখী' বলার কারণ কী?
উত্তর: তার প্রিয়জন চিরদিনের মতো চলে গেছে, শহর ধ্বংস হয়েছে, অথচ সে এই নির্মম সত্যটি না জেনে আজও তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে, এই অনন্ত যন্ত্রণার জন্যই সে অসুখী।
৩৯. কথকের ফেলে আসা জিনিসগুলি কীসের প্রতীক?
উত্তর: কথকের ফেলে আসা ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ বা জলতরঙ্গ হলো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সুখ, শান্তি ও সুন্দর স্মৃতির প্রতীক।
৪০. কবিতাটির শেষ লাইন আমাদের কী বার্তা দেয়?
উত্তর: কবিতাটির শেষ লাইন আমাদের বার্তা দেয় যে, যুদ্ধ যতই ধ্বংসাত্মক হোক না কেন, তা মানবহৃদয়ের শাশ্বত প্রেম ও বিশ্বাসকে ধ্বংস করতে পারে না। প্রেমের জয় অনিবার্য।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন

১. 'অসুখী একজন' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, চরিত্র বা ব্যঞ্জনার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতার নামকরণটি গভীর ব্যঞ্জনাবাহী।

কবিতায় আমরা দেখি, কথক তাঁর প্রিয়তমাকে দরজায় অপেক্ষায় রেখে বহুদূরে চলে যান। মেয়েটি জানে না যে তিনি আর কোনোদিন ফিরবেন না। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কেটে যায়। প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় মেয়েটির কাছে এক-একটি বছর পাথরের মতো ভারী হয়ে নেমে আসে। এরপর শুরু হয় সর্বনাশা যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে শিশু থেকে শুরু করে শান্ত দেবতারা, এমনকি কথকের ফেলে আসা শান্তির নীড়, শহর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। আস্ত শহরটা পরিণত হয় কাঠকয়লা আর রক্তের দাগ মাখা এক শ্মশানে।
কিন্তু এত মৃত্যু ও ধ্বংসের মাঝেও একটি জিনিসের মৃত্যু হয় না—তা হলো সেই মেয়েটির প্রতীক্ষা। সে তখনও তার প্রিয়জনের আসায় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। তার এই অনন্ত প্রতীক্ষা, প্রিয়জনকে হারানোর না-জানা বেদনা এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা তাকে চরম 'অসুখী' করে তুলেছে। যুদ্ধের নির্মমতার শিকার এই চিরবিরহী ও অপেক্ষারত মেয়েটির ট্র্যাজিক পরিণতিই কবিতার মূল উপজীব্য হওয়ায় 'অসুখী একজন' নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও রসোত্তীর্ণ হয়েছে।

২. "তারপর যুদ্ধ এল" - যুদ্ধকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে? যুদ্ধের ফলে কী কী ঘটেছিল?

উত্তর: তুলনা: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধকে "রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো" বলে তুলনা করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে যেমন জ্বলন্ত লাভা বেরিয়ে চারপাশ ধ্বংস করে দেয়, তেমনি যুদ্ধও চারদিকে রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিয়ে সর্বনাশা ধ্বংস ডেকে আনে।

যুদ্ধের ফলাফল: যুদ্ধের ফলে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা শুরু হয়। নিরীহ শিশু থেকে শুরু করে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাড়িরা খুন হয়। সমস্ত সমতল ভূমিতে আগুন ধরে যায়। মন্দিরে হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা শান্ত হলুদ দেবতারাও বোমার আঘাতে টুকরো টুকরো হয়ে উল্টে পড়ে। তারা আর মানুষের মঙ্গলের স্বপ্ন দেখতে পারে না। কথকের ব্যক্তিগত সুখের স্মৃতি বিজড়িত মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি আর প্রাচীন জলতরঙ্গ—সবকিছু আগুনে পুড়ে চূর্ণ হয়ে যায়। একটা আস্ত শহর ধ্বংস হয়ে সেখানে পড়ে থাকে কেবল কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা এবং রক্তের কালো দাগ। এভাবেই যুদ্ধ মানুষের সভ্যতা, ধর্ম এবং ব্যক্তিগত সুখকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।

৩. "সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।" - কোন্ মেয়েটির কথা বলা হয়েছে? তার মৃত্যু না হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: মেয়েটির পরিচয়: পাবলো নেরুদা রচিত 'অসুখী একজন' কবিতায় 'সেই মেয়েটি' বলতে কথকের প্রিয়তমা বা ভালোবাসার মানুষটিকে বোঝানো হয়েছে, যাকে কথক দরজায় অপেক্ষারত অবস্থায় রেখে বহুদূরে চলে গিয়েছিলেন।

মৃত্যু না হওয়ার কারণ: কথক চলে যাওয়ার পর বছর পার হয়ে যায়। তারপর আসে ভয়াবহ যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে রক্তের বন্যা বয়, শিশু ও বাড়িঘর ধ্বংস হয়, শান্ত দেবতারা খণ্ডিত হয় এবং আস্ত শহরটা একটা শ্মশানে পরিণত হয়। কিন্তু এত মৃত্যু ও ধ্বংসলীলার মাঝেও দরজায় অপেক্ষারত সেই মেয়েটির মৃত্যু হয় না। এর কারণ হলো, মেয়েটি এখানে রক্তমাংসের কোনো সাধারণ মানুষ নয়, সে হলো মানবহৃদয়ের শাশ্বত প্রেম ও মানবিক প্রতীক্ষার প্রতীক। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ মানুষের তৈরি বস্তুতান্ত্রিক সভ্যতা, ইমারত বা ধর্মবিশ্বাসকে ধূলিসাৎ করতে পারে, কিন্তু মানুষের ভেতরের খাঁটি ভালোবাসাকে হত্যা করার ক্ষমতা কোনো অস্ত্রের নেই। ধ্বংসের স্তূপের মাঝেও মানুষের ভালোবাসা ও আশা চিরঞ্জীব হয়ে থাকে। প্রেমের এই শাশ্বত রূপ ও অমরত্ব বোঝাতেই কবি বলেছেন যে মেয়েটির মৃত্যু হলো না।

৪. "আর একটার পর একটা, পাথরের মতো/পর পর পাথরের মতো, বছরগুলো/নেমে এল তার মাথার ওপর।" - পঙ্‌ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: তাৎপর্য: উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিটি পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে অপেক্ষারত এক নারীর দীর্ঘ বিরহবেদনা ও মানসিক যন্ত্রণার কথা ব্যক্ত হয়েছে।

কথক তাঁর প্রিয়তমাকে বাড়ির দরজায় অপেক্ষায় রেখে নিজের কর্তব্যের ডাকে বহুদূরে চলে যান। মেয়েটি জানত না যে তার প্রিয় মানুষটি আর কখনো ফিরবে না। সময় তার নিজস্ব ছন্দে বয়ে চলে। দিন গড়িয়ে সপ্তাহ, এবং সপ্তাহ গড়িয়ে বছর পার হয়ে যায়। কিন্তু যে মানুষটি কারো জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে, তার কাছে সময়ের এই গতি অত্যন্ত মন্থর ও যন্ত্রণাদায়ক মনে হয়। প্রিয়জনের বিরহে মেয়েটির কাছে প্রতিটি মুহূর্ত যেন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এক-একটি বছর অতিক্রান্ত হওয়া তার কাছে এক-একটি ভারী পাথর মাথায় চাপিয়ে দেওয়ার মতো কষ্টকর মনে হয়। 'পাথর' এখানে কাঠিন্য, ভার এবং যন্ত্রণার প্রতীক। দীর্ঘ অপেক্ষার এই অসহ্য মানসিক চাপ এবং বেদনার ভার বোঝাতেই কবি বছরগুলোকে পাথরের মতো তার মাথার ওপর নেমে আসার কথা বলেছেন।

৫. "যেখানে ছিল শহর/সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা" - শহরের এই করুণ পরিণতি কীভাবে হয়েছিল তা কবিতা অবলম্বনে লেখো।

উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধপূর্ববর্তী শহরটি ছিল শান্ত ও সুন্দর। সেখানে মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ, প্রাচীন জলতরঙ্গ এবং মন্দিরে ধ্যানে মগ্ন দেবতারা ছিল। কিন্তু যুদ্ধের করাল গ্রাসে সেই শহরের এক করুণ পরিণতি ঘটে।

রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো যখন যুদ্ধ এল, তখন সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গেল। সেই আগুনে শিশু ও বাড়িঘর খুন হলো। হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা শান্ত দেবতারা বোমার আঘাতে মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে উল্টে পড়ল। কথকের ব্যক্তিগত সুখের স্মৃতি ঘেরা বাড়ি, ঝুলন্ত বিছানা, চিমনি সবকিছু চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গেল। যুদ্ধের এই বীভৎস তাণ্ডবের পর আস্ত শহরটা একটা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলো। সভ্যতার অহংকার ধুলোয় মিশে গেল এবং শহরের চিহ্ন বলতে সেখানে ছড়িয়ে রইল কেবল পোড়া কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা এবং জমাট বাঁধা রক্তের কালো দাগ। এভাবেই একটি প্রাণবন্ত শহর যুদ্ধের আগুনে পুড়ে এক শ্মশানে পরিণত হয়েছিল।

৬. "তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।" - 'তারা' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের স্বপ্ন দেখতে না পারার কারণ কী?

উত্তর: 'তারা' বলতে: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় 'তারা' বলতে মন্দিরে হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা শান্ত হলুদ দেবতাদের বোঝানো হয়েছে।

কারণ: সাধারণ মানুষ ঈশ্বর বা দেবতাদের উপর অগাধ বিশ্বাস রাখে। তারা মনে করে দেবতারা তাদের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করবেন এবং সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাবেন। কিন্তু যখন আগ্নেয়পাহাড়ের মতো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হলো, তখন সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গেল। যুদ্ধের বোমার আঘাতে মন্দিরগুলি ধ্বংস হয়ে গেল এবং তার ভেতরে থাকা দেবতারাও টুকরো টুকরো হয়ে মাটিতে উল্টে পড়ল। যে দেবতারা নিজেদেরই রক্ষা করতে পারল না, তারা কীভাবে মানুষকে রক্ষা করবে? যুদ্ধের এই চরম বাস্তবতার সামনে মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও ঈশ্বরের প্রতি নির্ভরতা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ল। দেবতারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়, তারা মানুষের শান্তির বা মঙ্গলের আর কোনো স্বপ্ন দেখতে পারল না।

৭. 'অসুখী একজন' কবিতায় কথকের ফেলে আসা বাড়ির যে বর্ণনা আছে, তা নিজের ভাষায় লেখো। এই বর্ণনার তাৎপর্য কী?

উত্তর: বাড়ির বর্ণনা: কবিতায় কথক তাঁর যে বাড়িটি ফেলে রেখে দূরে চলে গিয়েছিলেন, সেটি ছিল অত্যন্ত শান্ত, সুন্দর ও স্মৃতির ছোঁয়ায় মাখা। বাড়িটিকে তিনি 'মিষ্টি বাড়ি' বলেছেন। সেই বাড়িতে একটি সুন্দর বারান্দা ছিল, যেখানে একটি ঝুলন্ত বিছানায় (হ্যামক) কথক ঘুমোতেন। বাড়ির আশেপাশে ছিল ছড়ানো করতলের মতো পাতাযুক্ত গোলাপি গাছ। এছাড়া বাড়িতে ছিল একটি চিমনি এবং গানবাজনার জন্য একটি প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র, জলতরঙ্গ।

তাৎপর্য: এই বর্ণনার মাধ্যমে কবি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সুখ, শান্তি, এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। গোলাপি গাছ, ঝুলন্ত বিছানা বা জলতরঙ্গ হলো শিল্পের এবং ভালোবাসার প্রতীক। কিন্তু যুদ্ধের নিষ্ঠুর আগুনে এই সমস্ত সুন্দর জিনিস চূর্ণ হয়ে যায়। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ কেবল মানুষের জীবনই কাড়ে না, মানুষের সযত্নে গড়ে তোলা ব্যক্তিগত সুখের পৃথিবী, স্বপ্ন এবং শিল্পবোধকেও নির্মমভাবে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

৮. "আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।" - কবিতার শুরুতে এবং শেষে এই পঙ্‌ক্তিটির ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতার শুরুতেই কথক তাঁর প্রিয়তমাকে দরজায় অপেক্ষায় রেখে দূরে চলে যান। মেয়েটি জানত না যে তিনি আর ফিরবেন না। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে যায়, বছরগুলো পাথরের মতো নেমে আসে। তারপর শুরু হয় ভয়ংকর যুদ্ধ। যুদ্ধে শহর, বাড়ি, দেবতা সবকিছু ধ্বংস হয়ে শ্মশানে পরিণত হয়। কিন্তু কবিতার শেষে কবি আবার লিখেছেন, "আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়।"

শুরুতে এই পঙ্‌ক্তিটি ছিল একটি সাধারণ বিদায় ও বিরহের চিত্র। কিন্তু শেষে এই পঙ্‌ক্তিটির ব্যবহার এক গভীর ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছে। চারদিকের এই বীভৎস মৃত্যু ও ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মেয়েটির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রমাণ করে যে, মানবহৃদয়ের শাশ্বত প্রেম অবিনশ্বর। যুদ্ধ মানুষের জাগতিক সবকিছু কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু ভালোবাসাকে হত্যা করতে পারে না। ধ্বংসের মাঝে এই অনন্ত প্রতীক্ষাই হলো মানবতার ও প্রেমের চিরন্তন জয়ের প্রতীক।

৯. 'অসুখী একজন' কবিতা অবলম্বনে যুদ্ধের বীভৎসতা ও সর্বনাশা রূপের বর্ণনা দাও।

উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতায় কবি পাবলো নেরুদা যুদ্ধের এক ভয়ংকর ও সর্বনাশা রূপ তুলে ধরেছেন। যুদ্ধকে তিনি 'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের' সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা থেকে কেবল মৃত্যু ও ধ্বংসের লাভা নির্গত হয়।

যুদ্ধে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে যায়। এই নিষ্ঠুর যুদ্ধে কোনো ভেদাভেদ থাকে না, নিরীহ শিশু থেকে শুরু করে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাড়িঘরও খুন হয়। এমনকি মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও শান্তির প্রতীক যে দেবতারা হাজার বছর ধরে ধ্যানে মগ্ন ছিল, তারাও বোমার আঘাতে টুকরো টুকরো হয়ে মন্দির থেকে খসে পড়ে। মানুষের ব্যক্তিগত সুখের স্মৃতি ঘেরা মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ, চিমনি, জলতরঙ্গ সব চূর্ণ হয়ে আগুনে পুড়ে যায়। আস্ত একটি শহর ধ্বংস হয়ে সেখানে পড়ে থাকে শুধু পোড়া কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, বিকৃত পাথরের মূর্তির মাথা এবং জমাট বাঁধা রক্তের কালো দাগ। এভাবেই যুদ্ধ মানবসভ্যতা ও জীবনকে এক বীভৎস শ্মশানে পরিণত করে।

১০. কবিতাটিতে 'সময়' কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তা আলোচনা করো।

উত্তর: 'অসুখী একজন' কবিতায় 'সময়' একটি নীরব কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে।

কবিতার শুরুতে কথক চলে যাওয়ার পর সময়ের স্বাভাবিক প্রবহমানতা দেখানো হয়েছে। একটি কুকুর চলে যায়, নান হেঁটে যায়—অর্থাৎ মানুষের ব্যক্তিগত বিচ্ছেদে পৃথিবীর সময় থেমে থাকে না। বৃষ্টি কথকের পায়ের দাগ ধুয়ে দেয় এবং ঘাস জন্মায়, যা সময়ের প্রলেপে স্মৃতি ম্লান হওয়ার প্রতীক। অন্যদিকে, অপেক্ষারত মেয়েটির কাছে এই সময় অত্যন্ত দীর্ঘ ও কষ্টকর। বছরগুলো তার মাথার ওপর পাথরের মতো ভারী হয়ে নেমে আসে। আবার দেবতাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে তারা 'হাজার বছর' ধরে ধ্যানে মগ্ন ছিল, যা প্রাচীনত্বের প্রতীক। এই সুদীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সভ্যতা, স্মৃতি ও বিশ্বাসকে যুদ্ধ নিমেষের মধ্যে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু এত সময় এবং ধ্বংসের পরও মেয়েটির প্রতীক্ষা শেষ হয় না, যা প্রমাণ করে যে সত্যিকারের ভালোবাসা সময়ের সীমানাকেও অতিক্রম করতে পারে।

৭. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar) ১৫+ টি প্রশ্ন

কারক ও অকারক সম্পর্ক

  • অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দরজায় - অধিকরণ কারকে 'য়' বিভক্তি।
  • একটা কুকুর চলে গেল - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ - করণ কারকে 'তে' বিভক্তি (বৃষ্টির দ্বারা)।
  • ঘাস জন্মালো রাস্তায় - অধিকরণ কারকে 'য়' বিভক্তি।
  • নেমে এল তার মাথার ওপর - সম্বন্ধ পদে 'র' বিভক্তি।
  • শিশু আর বাড়িরা খুন হলো - কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।

সমাস নির্ণয়

  • আগ্নেয়পাহাড়: আগুন উদ্গিরণকারী পাহাড় (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
  • কাঠকয়লা: কাঠের কয়লা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) অথবা কাঠ পোড়ানো কয়লা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)।
  • জলতরঙ্গ: জলের তরঙ্গ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) / (বাদ্যযন্ত্র অর্থে: মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি)।
  • অসুখী: নয় সুখী (নঞ তৎপুরুষ সমাস)।
  • শান্ত হলুদ: যা শান্ত তাই হলুদ (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।

বাক্য, বাচ্য ও নির্মিতি

  • বাক্য: আমি তাকে ছেড়ে দিলাম, অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দরজায়। (জটিল বাক্যে)
    উত্তর: যখন আমি তাকে দরজায় অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রাখলাম, তখন আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।
  • বাক্য: সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না। (সরল বাক্যে)
    উত্তর: আমার আর কখনো ফিরে না আসার বিষয়টি তার অজানা ছিল।
  • বাচ্য: আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। (কর্মবাচ্যে)
    উত্তর: আমার দ্বারা তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো।
  • বাচ্য: বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ। (কর্মবাচ্যে)
    উত্তর: বৃষ্টি কর্তৃক ধুয়ে দেওয়া হলো আমার পায়ের দাগ।
  • নির্মিতি (কাল্পনিক সংলাপ): যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও শান্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
    (শিক্ষার্থীদের নিজে অনুশীলন করার জন্য)

অসুখী একজন কবিতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)

'অসুখী একজন' কবিতাটি চিলির প্রখ্যাত নোবেলজয়ী কবি পাবলো নেরুদা লিখেছেন। এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন কবি নবারুণ ভট্টাচার্য।

কবিতায় দরজায় অপেক্ষায় থাকা মেয়েটিকে অসুখী বলা হয়েছে, কারণ তার প্রিয় মানুষটি তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং যুদ্ধের পর সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও সে না-জেনে অনন্তকাল ধরে তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে।

কবি পাবলো নেরুদা যুদ্ধকে 'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের' সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা আগ্নেয়গিরির লাভার মতো সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেয় এবং রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়।

যুদ্ধ মানুষের তৈরি সভ্যতা, বাড়িঘর ধ্বংস করতে পারলেও মানুষের ভেতরের শাশ্বত প্রেম ও ভালোবাসাকে ধ্বংস করতে পারে না। মেয়েটি এখানে সেই শাশ্বত ভালোবাসার প্রতীক, তাই তার মৃত্যু হয়নি।