Sponsored Links
আফ্রিকা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আফ্রিকা' কবিতার লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কবিতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আফ্রিকা'-এর লাইনভিত্তিক সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সারাংশ, এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. কবিতার বিষয়সংক্ষেপ
আফ্রিকা কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পত্রপুট' (১৯৩৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। আদিম যুগের ভৌগোলিক পরিবর্তন, আফ্রিকার আত্মগোপন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির নির্মম অত্যাচার এবং পরিশেষে মানবতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার এক মর্মস্পর্শী দলিল এই কবিতা।
কবিতার শুরুতে বলা হয়েছে, আদিম যুগে স্রষ্টা যখন নিজের সৃষ্টি নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে বারবার তা ভাঙছিলেন, তখন রুদ্র সমুদ্রের ঢেউ পূর্ব দিকের ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়। বনস্পতির নিবিড় পাহারায়, কৃপণ আলোর নীচে আফ্রিকা নিজেকে গুটিয়ে রাখে। সেখানে নির্জনে সে প্রকৃতির রহস্য এবং জাদুর মন্ত্র আয়ত্ত করতে থাকে। নিজের ভয়কে জয় করার জন্য সে উগ্র ও ভীষণ রূপ ধারণ করে।
দীর্ঘকাল ধরে আফ্রিকার এই 'মানবরূপ' বাকি বিশ্বের কাছে অপরিচিত ছিল। কিন্তু তারপর সেখানে এল 'লোহার হাতকড়ি' পরা সাম্রাজ্যবাদী মানুষ-ধরার দল। তাদের লোভ এবং অহংকার আফ্রিকার অরণ্যের অন্ধকারের চেয়েও বেশি ছিল। তারা আফ্রিকার নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করল। আফ্রিকার মাটি তাদের রক্ত ও অশ্রুতে মিশে পঙ্কিল বা কাদায় পরিণত হলো। সাম্রাজ্যবাদীদের কাঁটা-মারা জুতোর ছাপ আফ্রিকার ইতিহাসে চিরস্থায়ী অপমানের চিহ্ন এঁকে দিল।
আফ্রিকায় যখন এই পাশবিক অত্যাচার চলছিল, তখন কিন্তু সমুদ্রপারে সাম্রাজ্যবাদীদের দেশে সভ্যতার শান্ত ছবি দেখা যাচ্ছিল—মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল এবং কবিরা সুন্দরের বন্দনা করছিল। কবিতার শেষে, যখন পশ্চিম দিগন্তে ঝড়ের আভাষ এবং পশুরা বেরিয়ে এসে প্রলয়ের ঘোষণা করছে, তখন কবি 'যুগান্তের কবি' বা নতুন যুগের কবিকে সেই মানহারা বা অপমানিত আফ্রিকার দ্বারে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, সমস্ত হিংসা ও প্রলাপের মধ্যে মানবতার কাছে 'ক্ষমা করো' বলাই হোক সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।
কবিতার শুরুতে বলা হয়েছে, আদিম যুগে স্রষ্টা যখন নিজের সৃষ্টি নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে বারবার তা ভাঙছিলেন, তখন রুদ্র সমুদ্রের ঢেউ পূর্ব দিকের ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়। বনস্পতির নিবিড় পাহারায়, কৃপণ আলোর নীচে আফ্রিকা নিজেকে গুটিয়ে রাখে। সেখানে নির্জনে সে প্রকৃতির রহস্য এবং জাদুর মন্ত্র আয়ত্ত করতে থাকে। নিজের ভয়কে জয় করার জন্য সে উগ্র ও ভীষণ রূপ ধারণ করে।
দীর্ঘকাল ধরে আফ্রিকার এই 'মানবরূপ' বাকি বিশ্বের কাছে অপরিচিত ছিল। কিন্তু তারপর সেখানে এল 'লোহার হাতকড়ি' পরা সাম্রাজ্যবাদী মানুষ-ধরার দল। তাদের লোভ এবং অহংকার আফ্রিকার অরণ্যের অন্ধকারের চেয়েও বেশি ছিল। তারা আফ্রিকার নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করল। আফ্রিকার মাটি তাদের রক্ত ও অশ্রুতে মিশে পঙ্কিল বা কাদায় পরিণত হলো। সাম্রাজ্যবাদীদের কাঁটা-মারা জুতোর ছাপ আফ্রিকার ইতিহাসে চিরস্থায়ী অপমানের চিহ্ন এঁকে দিল।
আফ্রিকায় যখন এই পাশবিক অত্যাচার চলছিল, তখন কিন্তু সমুদ্রপারে সাম্রাজ্যবাদীদের দেশে সভ্যতার শান্ত ছবি দেখা যাচ্ছিল—মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল এবং কবিরা সুন্দরের বন্দনা করছিল। কবিতার শেষে, যখন পশ্চিম দিগন্তে ঝড়ের আভাষ এবং পশুরা বেরিয়ে এসে প্রলয়ের ঘোষণা করছে, তখন কবি 'যুগান্তের কবি' বা নতুন যুগের কবিকে সেই মানহারা বা অপমানিত আফ্রিকার দ্বারে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, সমস্ত হিংসা ও প্রলাপের মধ্যে মানবতার কাছে 'ক্ষমা করো' বলাই হোক সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।
২. কবি পরিচিতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১): বাঙালির গর্ব এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ দিকপাল। দীর্ঘ জীবনে তিনি অজস্র কবিতা, গান, ছোটোগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক লিখেছেন। এশিয়ার মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' (Song Offerings) কাব্যের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ভারত এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—'মানসী', 'সোনার তরী', 'চিত্রা', 'গীতাঞ্জলি', 'বলাকা', 'পুনশ্চ', 'পত্রপুট', 'শ্যামলী', 'রোগশয্যায়', 'আরোগ্য' ইত্যাদি। আলোচ্য 'আফ্রিকা' কবিতাটি প্রথমে 'প্রবাসী' পত্রিকায় (চৈত্র ১৩৪৩) এবং পরে 'পত্রপুট' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়।
৩. কবিতার লাইনভিত্তিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা
উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে
স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে
স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে
নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত,
তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর সৃষ্টির আদিম যুগের কথা বলা হয়েছে, যখন সবকিছুই ছিল অস্থির ও পরিবর্তনশীল (উদ্ভ্রান্ত)। মনে করা হয়, সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর তাঁর নতুন সৃষ্টি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাই তিনি বারবার তা ভাঙছিলেন আর গড়ছিলেন। তাঁর এই অসন্তোষ ও অধৈর্য যেন ঘন ঘন মাথা নাড়ার মতো ভূমিকম্প বা প্রবল ভৌগোলিক আলোড়নের রূপ নিয়েছিল।
রুদ্র সমুদ্রের বাহু
প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা-
প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে
ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা-
ব্যাখ্যা: সেই ভৌগোলিক আলোড়নের ফলেই ভয়ংকর (রুদ্র) সমুদ্রের ঢেউ পূর্বদিকের মূল ভূখণ্ড (প্রাচী ধরিত্রী বা এশিয়া) থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করে দিল। এটি প্যানজিয়া (Pangea) ভেঙে মহাদেশ সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক তত্ত্বেরই একটি কাব্যিক রূপ।
বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।
কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে।
ব্যাখ্যা: মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আফ্রিকা গভীর অরণ্যে (বনস্পতি) ঢেকে গেল। গাছপালার এতই ভিড় ছিল যে সেখানে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারত না। তাই আফ্রিকাকে 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুর' বা অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ (Dark Continent) বলা হয়েছে।
সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি
সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,
চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,
সংগ্রহ করছিলে দুর্গমের রহস্য,
চিনছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত,
ব্যাখ্যা: সেই গভীর ও অন্ধকার অরণ্যের নির্জনে (নিভৃত অবকাশে) আফ্রিকা প্রকৃতির দুর্গম ও অজানা রহস্যগুলিকে নিজের আয়ত্তে আনছিল। সে জল, স্থল এবং আকাশের প্রকৃতি ও তাদের দুর্বোধ্য সংকেত বা আচরণগুলি চিনে নিচ্ছিল।
প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু
মন্ত্র জাগাচ্ছিল, তোমার চেতনাতীত মনে।
মন্ত্র জাগাচ্ছিল, তোমার চেতনাতীত মনে।
ব্যাখ্যা: মানুষের চোখের আড়ালে থাকা প্রকৃতির এক অদ্ভুত জাদু বা ঐন্দ্রজালিক শক্তি আফ্রিকার অরণ্যপ্রকৃতি এবং সেখানকার আদিম অধিবাসীদের অবচেতন মনে এক নতুন মন্ত্র বা শক্তির সঞ্চার করছিল।
বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে
বিরূপের ছদ্মবেশে,
শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে
আপনাকে উগ্র ক'রে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে।।
বিরূপের ছদ্মবেশে,
শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে
আপনাকে উগ্র ক'রে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়
তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে।।
ব্যাখ্যা: আফ্রিকা নিজের ভয় ও শঙ্কাকে জয় করার জন্য নিজেই এক ভয়ংকর বা ভীষণ রূপ ধারণ করেছিল। বন্য প্রাণী, প্রতিকূল প্রকৃতি এবং উগ্র নৃত্যের (তাণ্ডব) উদ্দাম শব্দে (দুন্দুভিনিনাদ) সে নিজেকে এমনই ভয়ংকর করে তুলেছিল যে, স্বয়ং ভয় বা বিভীষিকাও যেন তার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। এটি ছিল প্রতিকূল পরিবেশে আফ্রিকার টিকে থাকার লড়াই।
হায় ছায়াবৃতা,
কালো ঘোমটার নীচে
অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ
উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।
কালো ঘোমটার নীচে
অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ
উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে।
ব্যাখ্যা: কবি আফ্রিকাকে 'ছায়াবৃতা' বা ছায়ায় ঢাকা বলেছেন। ঘন অরণ্যের অন্ধকার রূপ কালো ঘোমটার আড়ালে থাকার কারণে সভ্য দেশগুলির কাছে আফ্রিকার মানুষের প্রকৃত রূপ বা 'মানবরূপ' দীর্ঘদিন অজানা ও অপরিচিত ছিল। তথাকথিত সভ্য জগৎ আফ্রিকাকে অবজ্ঞা ও উপেক্ষার অস্বচ্ছ (আবিল) চোখে দেখত।
এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,
নখ যাদের তীক্ষ্ম তোমার নেকড়ের চেয়ে,
এল মানুষ-ধরার দল
গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
নখ যাদের তীক্ষ্ম তোমার নেকড়ের চেয়ে,
এল মানুষ-ধরার দল
গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে।
ব্যাখ্যা: এরপর আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদী বা ঔপনিবেশিক ইউরোপীয় শক্তিগুলোর আগমন ঘটে। তারা আফ্রিকার মানুষকে দাস হিসেবে বিক্রি করার জন্য লোহার হাতকড়ি নিয়ে আসে। তাদের বলা হয়েছে 'মানুষ-ধরার দল'। আফ্রিকার বন্য নেকড়ে বাঘের চেয়েও এই সভ্য মানুষের লোভের নখ অনেক বেশি ধারালো ও ভয়ংকর ছিল। আফ্রিকার অন্ধকার অরণ্যের চেয়েও এই সাম্রাজ্যবাদীদের অহংকার ও গর্ব ছিল অনেক বেশি অন্ধ।
সভ্যের বর্বর লোভ
নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।
ব্যাখ্যা: যারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করত, তাদের সেই তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম লোভ এবং পাশবিকতা বা অমানুষিকতা আফ্রিকার মাটিতে নির্লজ্জভাবে ধরা পড়ল।
তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
পঙ্কিল হলো ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে,
দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
বীভৎস কাদার পিন্ড
চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।।
পঙ্কিল হলো ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে,
দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়
বীভৎস কাদার পিন্ড
চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।।
ব্যাখ্যা: দাস ব্যবসায়ীদের নির্মম অত্যাচারে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের বোবা কান্নায় অরণ্যের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তাদের রক্ত এবং চোখের জলে মিশে আফ্রিকার পবিত্র মাটি কাদায় (পঙ্কিল) পরিণত হয়। সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের পায়ে থাকা পেরেক বা কাঁটা-মারা জুতোর দাগ সেই রক্তমাখা কাদার ওপর যে বীভৎস চিহ্ন এঁকে দিয়ে যায়, তা আফ্রিকার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী অপমানের কলঙ্ক হিসেবে রয়ে গেল।
সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়
মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা
সকালে সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে;
শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;
কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল
সুন্দরের আরাধনা ।।
মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা
সকালে সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে;
শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে;
কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল
সুন্দরের আরাধনা ।।
ব্যাখ্যা: এটি একটি বৈপরীত্যের চিত্র। আফ্রিকায় যখন রক্তের বন্যা বইছে এবং চরম অমানবিক অত্যাচার চলছে, ঠিক সেই সময়েই সমুদ্রের ওপারে ইউরোপের তথাকথিত সভ্য দেশগুলোতে শান্ত ও স্বাভাবিক জীবনযাপন চলছিল। সেখানে দয়াময় দেবতার নামে সকালে-সন্ধ্যায় পূজার ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা নিরাপদে মায়ের কোলে খেলছিল এবং কবিরা সৌন্দর্য ও প্রেমের গান রচনা করছিল। অর্থাৎ, তারা নিজেদের দেশে সভ্যতা ও শান্তির বুলি আওড়ালেও, আফ্রিকার মাটিতে ছিল ঠিক তার বিপরীত।
আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে
প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,
যখন গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল-
অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,
প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,
যখন গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল-
অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,
ব্যাখ্যা: কবি এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালের বিশ্বপরিস্থিতির কথা বলেছেন। পশ্চিম দিগন্ত বা ইউরোপের আকাশে আজ যুদ্ধের ঘনঘটা (ঝঞ্ঝাবাতাস) এবং সভ্যতা আজ ধ্বংসের মুখে (রুদ্ধশ্বাস প্রদোষকাল বা সন্ধ্যাবেলা)। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা হিংস্র পশুর মতো নিজেদের নখদাঁত বের করেছে এবং তাদের অস্ত্রের অশুভ ঝনঝনানি বিশ্বসভ্যতার ধ্বংসের (দিনের অন্তিমকাল) আভাষ দিচ্ছে।
এসো যুগান্তের কবি,
আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;
বলো 'ক্ষমা করো'-
হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী ।।
আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;
বলো 'ক্ষমা করো'-
হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী ।।
ব্যাখ্যা: কবিতার শেষে রবীন্দ্রনাথ এক গভীর মানবিক বার্তা দিয়েছেন। সভ্যতা যখন ধ্বংসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, তখন কবি 'যুগান্তের কবি' বা নতুন যুগের বার্তাবাহী কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আসন্ন সন্ধ্যার শেষ আলোয় (সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগে) সেই চরম অপমানিত, লাঞ্ছিত এবং 'মানহারা মানবী' অর্থাৎ আফ্রিকার দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে। পশ্চিমা সভ্যতার এই হিংস্রতা ও প্রলাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আফ্রিকার কাছে কৃতকর্মের জন্য 'ক্ষমা করো' বলাই হোক সভ্য দুনিয়ার সর্বশেষ পুণ্যকাজ বা প্রায়শ্চিত্ত। ক্ষমার মাধ্যমেই মানবতা মুক্তি পেতে পারে।
৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন
১. 'আফ্রিকা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) শঙ্খ ঘোষ (খ) জীবনানন্দ দাশ (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. 'আফ্রিকা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) মানসী (খ) পত্রপুট (গ) বলাকা (ঘ) সোনার তরী
উত্তর: (খ) পত্রপুট
৩. 'আফ্রিকা' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
(ক) ভারতী (খ) সাধনা (গ) প্রবাসী (ঘ) সবুজপত্র
উত্তর: (গ) প্রবাসী (চৈত্র, ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ)
৪. স্রষ্টা নিজের প্রতি কী ছিলেন?
(ক) সন্তুষ্ট (খ) অসন্তোষ (গ) রাগান্বিত (ঘ) আনন্দিত
উত্তর: (খ) অসন্তোষ
৫. স্রষ্টা কীসে ঘন ঘন মাথা নাড়ছিলেন?
(ক) আনন্দে (খ) রাগে (গ) অধৈর্যে (ঘ) কষ্টে
উত্তর: (গ) অধৈর্যে
৬. প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে কে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?
(ক) ঈশ্বর (খ) রুদ্র সমুদ্রের বাহু (গ) ভূমিকম্প (ঘ) ঝড়
উত্তর: (খ) রুদ্র সমুদ্রের বাহু
৭. 'প্রাচী' শব্দের অর্থ কী?
(ক) পশ্চিম (খ) প্রাচীন (গ) পূর্ব দিক (ঘ) প্রাচীর
উত্তর: (গ) পূর্ব দিক
৮. আফ্রিকাকে কে পাহারায় বাঁধল?
(ক) পাহাড় (খ) নদী (গ) বনস্পতি (ঘ) সমুদ্র
উত্তর: (গ) বনস্পতি
৯. আফ্রিকার অন্তঃপুরটি কেমন আলোর ছিল?
(ক) উজ্জ্বল (খ) মায়াবী (গ) কৃপণ (ঘ) অন্ধ
উত্তর: (গ) কৃপণ
১০. নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা কী সংগ্রহ করছিল?
(ক) খাদ্য (খ) দুর্গমের রহস্য (গ) অস্ত্র (ঘ) রত্ন
উত্তর: (খ) দুর্গমের রহস্য
১১. আফ্রিকা কী চিনছিল?
(ক) জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত (খ) পশুদের (গ) শত্রুদের (ঘ) মেঘেদের
উত্তর: (ক) জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত
১২. প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু কোথায় মন্ত্র জাগাচ্ছিল?
(ক) আকাশে (খ) বাতাসে (গ) তোমার চেতনাতীত মনে (ঘ) অরণ্যে
উত্তর: (গ) তোমার চেতনাতীত মনে
১৩. আফ্রিকা ভীষণকে কী করছিল?
(ক) ভয় পাচ্ছিল (খ) বিদ্রূপ করছিল (গ) ডাকছিল (ঘ) তাড়াচ্ছিল
উত্তর: (খ) বিদ্রূপ করছিল
১৪. আফ্রিকা কাকে হার মানাতে চাচ্ছিল?
(ক) মৃত্যুকে (খ) শঙ্কাকে (গ) প্রকৃতিকে (ঘ) ঈশ্বরকে
উত্তর: (খ) শঙ্কাকে
১৫. আফ্রিকা নিজেকে কী করে তুলেছিল?
(ক) শান্ত (খ) দুর্বল (গ) উগ্র (ঘ) মায়াবী
উত্তর: (গ) উগ্র
১৬. আফ্রিকাকে কীসে আবৃতা বলা হয়েছে?
(ক) মেঘে (খ) ছায়াবৃতা (গ) রোদে (ঘ) অন্ধকারে
উত্তর: (খ) ছায়াবৃতা
১৭. আফ্রিকার মানবরূপ কীসের নীচে অপরিচিত ছিল?
(ক) কালো ঘোমটার নীচে (খ) মেঘের নীচে (গ) পাহাড়ের নীচে (ঘ) মাটির নীচে
উত্তর: (ক) কালো ঘোমটার নীচে
১৮. আফ্রিকার মানবরূপ কোন দৃষ্টিতে অপরিচিত ছিল?
(ক) ভালোবাসার (খ) ঘৃণার (গ) উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে (ঘ) অন্ধ
উত্তর: (গ) উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে
১৯. 'আবিল' শব্দের অর্থ কী?
(ক) স্বচ্ছ (খ) আবোল-তাবোল (গ) কলুষিত বা অস্বচ্ছ (ঘ) আকাশ
উত্তর: (গ) কলুষিত বা অস্বচ্ছ
২০. এল ওরা কী নিয়ে?
(ক) বন্দুক (খ) লোহার হাতকড়ি (গ) তলোয়ার (ঘ) চাবুক
উত্তর: (খ) লোহার হাতকড়ি
২১. মানুষ-ধরার দলের নখ কার চেয়ে তীক্ষ্ম?
(ক) সিংহের (খ) তোমার নেকড়ের চেয়ে (গ) চিলের (ঘ) বাঘের
উত্তর: (খ) তোমার নেকড়ের চেয়ে
২২. মানুষ-ধরার দল কীসে অন্ধ ছিল?
(ক) লোভে (খ) গর্বে (গ) অহংকারে (ঘ) রাগে
উত্তর: (খ) গর্বে
২৩. তাদের গর্ব আফ্রিকার কীসের চেয়ে বেশি অন্ধ ছিল?
(ক) সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে (খ) কালো রাতের চেয়ে (গ) নদীর চেয়ে (ঘ) মেঘের চেয়ে
উত্তর: (ক) সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে
২৪. সভ্যের বর্বর লোভ কী নগ্ন করল?
(ক) আপন নির্লজ্জ অমানুষতা (খ) আপন নিষ্ঠুরতা (গ) আপন পশুত্ব (ঘ) আপন দুর্বলতা
উত্তর: (ক) আপন নির্লজ্জ অমানুষতা
২৫. আফ্রিকার ক্রন্দন কেমন ছিল?
(ক) সরব (খ) ভাষাহীন (গ) তীক্ষ্ণ (ঘ) চাপা
উত্তর: (খ) ভাষাহীন
২৬. অরণ্যপথ কীসে বাষ্পাকুল ছিল?
(ক) কুয়াশায় (খ) মেঘে (গ) ভাষাহীন ক্রন্দনে (ঘ) ধোঁয়ায়
উত্তর: (গ) ভাষাহীন ক্রন্দনে
২৭. আফ্রিকার ধূলি কী মিশে পঙ্কিল হলো?
(ক) জল ও মাটি (খ) রক্তে অশ্রুতে (গ) ঘামে (ঘ) বৃষ্টিতে
উত্তর: (খ) রক্তে অশ্রুতে
২৮. 'পঙ্কিল' শব্দের অর্থ কী?
(ক) পঙ্কজ (খ) কাদা বা কর্দমাক্ত (গ) জলময় (ঘ) শুষ্ক
উত্তর: (খ) কাদা বা কর্দমাক্ত
২৯. দস্যু-পায়ের জুতোর তলায় কী ছিল?
(ক) লোহা (খ) কাঁটা-মারা (গ) কাদা (ঘ) পাথর
উত্তর: (খ) কাঁটা-মারা
৩০. জুতোর তলায় কী চিরচিহ্ন দিয়ে গেল?
(ক) রক্তের দাগ (খ) বীভৎস কাদার পিন্ড (গ) পদচিহ্ন (ঘ) ঘামের দাগ
উত্তর: (খ) বীভৎস কাদার পিন্ড
৩১. চিরচিহ্ন কোথায় দিয়ে গেল?
(ক) মাটিতে (খ) অরণ্যে (গ) তোমার অপমানিত ইতিহাসে (ঘ) পর্বতে
উত্তর: (গ) তোমার অপমানিত ইতিহাসে
৩২. সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই কী বাজছিল?
(ক) সাইরেন (খ) পূজার ঘণ্টা (গ) শাঁখ (ঘ) বাঁশি
উত্তর: (খ) পূজার ঘণ্টা
৩৩. পূজার ঘণ্টা কোথায় বাজছিল?
(ক) মসজিদে (খ) গির্জায় (গ) মন্দিরে (ঘ) পথে
উত্তর: (গ) মন্দিরে
৩৪. কার নামে পূজার ঘণ্টা বাজছিল?
(ক) দেবতার (খ) দয়াময় দেবতার (গ) ঈশ্বরের (ঘ) ভগবানের
উত্তর: (খ) দয়াময় দেবতার
৩৫. শিশুরা কোথায় খেলছিল?
(ক) মাঠে (খ) মায়ের কোলে (গ) রাস্তায় (ঘ) নদীর ধারে
উত্তর: (খ) মায়ের কোলে
৩৬. কবির সংগীতে কী বেজে উঠেছিল?
(ক) সুন্দরের আরাধনা (খ) ভালোবাসার গান (গ) বিপ্লবের গান (ঘ) প্রকৃতির গান
উত্তর: (ক) সুন্দরের আরাধনা
৩৭. আজ কোথায় প্রদোষকাল রুদ্ধশ্বাস?
(ক) পূর্ব দিগন্তে (খ) পশ্চিম দিগন্তে (গ) উত্তর দিগন্তে (ঘ) দক্ষিণ দিগন্তে
উত্তর: (খ) পশ্চিম দিগন্তে
৩৮. 'প্রদোষকাল' শব্দের অর্থ কী?
(ক) সকাল (খ) দুপুর (গ) সন্ধ্যাবেলা (ঘ) রাত
উত্তর: (গ) সন্ধ্যাবেলা
৩৯. প্রদোষকাল কীসে রুদ্ধশ্বাস?
(ক) ঝঞ্ঝাবাতাসে (খ) ধোঁয়ায় (গ) কুয়াশায় (ঘ) মেঘে
উত্তর: (ক) ঝঞ্ঝাবাতাসে
৪০. গুপ্ত গহ্বর থেকে কারা বেরিয়ে এল?
(ক) মানুষেরা (খ) সাপেরা (গ) পশুরা (ঘ) পাখিরা
উত্তর: (গ) পশুরা
৪১. পশুরা কী ঘোষণা করল?
(ক) দিনের অন্তিমকাল (খ) যুদ্ধের শুরু (গ) নতুন ভোর (ঘ) রক্তের বন্যা
উত্তর: (ক) দিনের অন্তিমকাল
৪২. পশুরা কেমন ধ্বনিতে ঘোষণা করল?
(ক) তীব্র (খ) অশুভ (গ) মায়াবী (ঘ) ভীতিজনক
উত্তর: (খ) অশুভ
৪৩. কবি কাকে আসতে বলেছেন?
(ক) ভগবানকে (খ) যুগান্তের কবিকে (গ) নতুন সূর্যকে (ঘ) দেবতাকে
উত্তর: (খ) যুগান্তের কবিকে
৪৪. যুগান্তের কবিকে কোথায় দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
(ক) সমুদ্রের ধারে (খ) মানহারা মানবীর দ্বারে (গ) পর্বতের চূড়ায় (ঘ) মন্দিরের দ্বারে
উত্তর: (খ) মানহারা মানবীর দ্বারে
৪৫. 'মানহারা মানবী' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) নারীকে (খ) দেশমাতৃকাকে (গ) আফ্রিকাকে (ঘ) প্রকৃতিকে
উত্তর: (গ) আফ্রিকাকে
৪৬. যুগান্তের কবিকে কী বলতে বলা হয়েছে?
(ক) ভালোবাসি (খ) ক্ষমা করো (গ) বিদায় (ঘ) এসো
উত্তর: (খ) ক্ষমা করো
৪৭. 'ক্ষমা করো' - এটি কীসের মধ্যে বলতে হবে?
(ক) নীরবতার মধ্যে (খ) হিংস্র প্রলাপের মধ্যে (গ) ঝড়ের মধ্যে (ঘ) যুদ্ধের মধ্যে
উত্তর: (খ) হিংস্র প্রলাপের মধ্যে
৪৮. সেই 'ক্ষমা করো' বাণীটি কী হবে?
(ক) সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী (খ) নতুন দিনের গান (গ) শেষ আশা (ঘ) শেষ প্রার্থনা
উত্তর: (ক) সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী
৪৯. 'বনস্পতি' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ছোটো গাছ (খ) লতাগুল্ম (গ) ফুল ও ফলহীন বিশাল গাছ বা বড়ো গাছ (ঘ) জঙ্গল
উত্তর: (গ) ফুল ও ফলহীন বিশাল গাছ বা বড়ো গাছ
৫০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
(ক) ১৯১০ (খ) ১৯১১ (গ) ১৯১২ (ঘ) ১৯১৩
উত্তর: (ঘ) ১৯১৩
৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'আফ্রিকা' কবিতাটি কে লিখেছেন এবং এটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
উত্তর: 'আফ্রিকা' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন এবং এটি তাঁর 'পত্রপুট' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
২. স্রষ্টা কখন নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন?
উত্তর: উদ্ভ্রান্ত আদিম যুগে স্রষ্টা যখন নিজের সৃষ্টির প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন, তখন তিনি বারবার নতুন সৃষ্টিকে ভাঙছিলেন বা বিধ্বস্ত করছিলেন।
৩. রুদ্র সমুদ্রের বাহু কী করল?
উত্তর: রুদ্র বা ভয়ংকর সমুদ্রের ঢেউ প্রাচী ধরিত্রীর (পূর্ব দিকের ভূখণ্ডের) বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল বা বিচ্ছিন্ন করে দিল।
৪. প্রাচী ধরিত্রী বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'প্রাচী' শব্দের অর্থ পূর্ব দিক। প্রাচী ধরিত্রী বলতে মূলত পূর্ব গোলার্ধের মূল ভূখণ্ড বা এশিয়া মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
৫. আফ্রিকাকে কে, কোথায় পাহারায় বাঁধল?
উত্তর: প্রকৃতির রুদ্র সমুদ্রের ঢেউ আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় এবং কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে বেঁধে রাখল।
৬. 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুর' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশ গভীর অরণ্যে ঢাকা থাকায় সেখানে সূর্যের আলো খুব কম প্রবেশ করতে পারত, তাই সেই অন্ধকার পরিবেশকে 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুর' বলা হয়েছে।
৭. নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা কী সংগ্রহ করছিল?
উত্তর: নিভৃত অবকাশে বা অরণ্যের নির্জনে আফ্রিকা দুর্গম প্রকৃতির অজানা রহস্যগুলি সংগ্রহ করছিল।
৮. আফ্রিকা কী কী চিনে নিচ্ছিল?
উত্তর: আফ্রিকা জল, স্থল এবং আকাশের দুর্বোধ বা রহস্যময় সংকেতগুলি চিনে নিচ্ছিল।
৯. আফ্রিকার চেতনাতীত মনে কে মন্ত্র জাগাচ্ছিল?
উত্তর: প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু বা মানুষের চোখের আড়ালে থাকা প্রকৃতির ঐন্দ্রজালিক শক্তি আফ্রিকার অবচেতন মনে মন্ত্র জাগাচ্ছিল।
১০. আফ্রিকা কীভাবে ভীষণকে বিদ্রূপ করছিল?
উত্তর: নিজের ভয় বা শঙ্কাকে জয় করার জন্য আফ্রিকা নিজেই উগ্র ও বিরূপ ছদ্মবেশ ধারণ করে ভীষণকে বিদ্রূপ করছিল।
১১. "শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে" - আফ্রিকা কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল?
উত্তর: নিজেকে উগ্র করে এবং তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমা সৃষ্টি করে আফ্রিকা শঙ্কা বা ভয়কে হার মানাতে চেয়েছিল।
১২. আফ্রিকাকে 'ছায়াবৃতা' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশ গভীর অরণ্যের অন্ধকারে বা গাছের ছায়ায় ঢেকে ছিল বলে তাকে 'ছায়াবৃতা' বলা হয়েছে।
১৩. আফ্রিকার মানবরূপ কেমন ছিল?
উত্তর: কালো ঘোমটার নীচে বা অরণ্যের অন্ধকারে সভ্য দুনিয়ার উপেক্ষার অস্বচ্ছ দৃষ্টির আড়ালে আফ্রিকার মানবরূপ দীর্ঘদিন অপরিচিত ছিল।
১৪. "এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে" - 'ওরা' কারা?
উত্তর: এখানে 'ওরা' বলতে সাম্রাজ্যবাদী, ঔপনিবেশিক ইউরোপীয় মানুষ-ধরার দলকে বা দাস ব্যবসায়ীদের বোঝানো হয়েছে।
১৫. মানুষ-ধরার দলের নখ কেমন ছিল?
উত্তর: মানুষ-ধরার দলের নখ আফ্রিকার জঙ্গলের হিংস্র নেকড়ে বাঘের নখের চেয়েও বেশি তীক্ষ্ণ এবং ভয়ংকর ছিল।
১৬. মানুষ-ধরার দল কীসে অন্ধ ছিল?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদী মানুষ-ধরার দল নিজেদের তথাকথিত সভ্যতার গর্বে এবং অহংকারে অন্ধ ছিল, যা আফ্রিকার সূর্যহারা অরণ্যের অন্ধকারের চেয়েও বেশি ছিল।
১৭. "সভ্যের বর্বর লোভ" কী করল?
উত্তর: সভ্যতার মুখোশ পরা সাম্রাজ্যবাদীদের বর্বর লোভ আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের ওপর তাদের আপন নির্লজ্জ অমানুষতা বা পাশবিকতাকে নগ্ন করে দিল।
১৮. আফ্রিকার অরণ্যপথ কীসে বাষ্পাকুল ছিল?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদীদের নির্মম অত্যাচারে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের ভাষাহীন বা বোবা ক্রন্দনে অরণ্যপথ বাষ্পাকুল বা ভারী হয়ে উঠেছিল।
১৯. আফ্রিকার ধূলি কীভাবে পঙ্কিল হলো?
উত্তর: আফ্রিকার মানুষের রক্ত এবং চোখের জল মাটিতে মিশে সেখানকার পবিত্র ধূলি পঙ্কিল বা কাদায় পরিণত হলো।
২০. দস্যু-পায়ের জুতোর তলায় কী ছিল?
উত্তর: দস্যু বা সাম্রাজ্যবাদীদের পায়ের জুতোর তলায় কাঁটা বা লোহা মারা ছিল।
২১. জুতোর তলায় কাদার পিণ্ড কী করল?
উত্তর: কাঁটা-মারা জুতোর তলায় লেগে থাকা রক্তমাখা বীভৎস কাদার পিণ্ড আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী অপমানের চিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল।
২২. আফ্রিকায় যখন অত্যাচার চলছিল, তখন সমুদ্রপারে কী হচ্ছিল?
উত্তর: সমুদ্রপারে সাম্রাজ্যবাদীদের নিজেদের দেশে তখন দয়াময় দেবতার নামে সকালে-সন্ধ্যায় মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল।
২৩. সমুদ্রপারে শিশুরা কোথায় খেলছিল?
উত্তর: আফ্রিকায় যখন রক্ত গঙ্গা বইছে, তখন সমুদ্রপারে নিরাপদ পরিবেশে শিশুরা শান্তিতে মায়ের কোলে খেলছিল।
২৪. কবির সংগীতে তখন কী বেজে উঠেছিল?
উত্তর: সমুদ্রপারে তখন কবির সংগীতে সুন্দরের আরাধনা বা সৌন্দর্য ও প্রেমের বন্দনা বেজে উঠেছিল।
২৫. "আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে" - পশ্চিম দিগন্তে কী হচ্ছিল?
উত্তর: পশ্চিম দিগন্তে অর্থাৎ ইউরোপে তখন রুদ্ধশ্বাস প্রদোষকাল বা ঝঞ্ঝাবাতাসে ঘেরা যুদ্ধের এক ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
২৬. গুপ্ত গহ্বর থেকে কারা বেরিয়ে এল?
উত্তর: যুদ্ধের প্রাক্কালে গুপ্ত গহ্বর থেকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি হিংস্র পশুর মতো তাদের আসল রূপ নিয়ে বেরিয়ে এল।
২৭. পশুরা কী ঘোষণা করল?
উত্তর: পশুরা বা হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি তাদের অস্ত্রের অশুভ ধ্বনিতে বিশ্বসভ্যতার দিনের অন্তিমকাল বা ধ্বংসের আভাষ ঘোষণা করল।
২৮. কবি কাকে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন?
উত্তর: কবি নতুন যুগের বার্তাবাহী 'যুগান্তের কবি'কে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন।
২৯. যুগান্তের কবিকে কখন দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
উত্তর: সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগে, আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে যুগান্তের কবিকে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।
৩০. যুগান্তের কবিকে কোথায় দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
উত্তর: যুগান্তের কবিকে সেই চরম লাঞ্ছিত, অপমানিত এবং 'মানহারা মানবী' অর্থাৎ আফ্রিকার দরজায় দাঁড়াতে বলা হয়েছে।
৩১. যুগান্তের কবিকে কী বলতে বলা হয়েছে?
উত্তর: যুগান্তের কবিকে আফ্রিকার কাছে কৃতকর্মের জন্য 'ক্ষমা করো' বলতে বলা হয়েছে।
৩২. এই 'ক্ষমা করো' বাণীটিকে কবি কী বলেছেন?
উত্তর: কবি এই বাণীটিকে হিংস্র প্রলাপের মধ্যে মানবতার বা সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী বলেছেন।
৩৩. 'মানহারা মানবী' বলতে আফ্রিকাকে কেন বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সাম্রাজ্যবাদীদের নির্মম অত্যাচারে এবং দাসে পরিণত করার ফলে আফ্রিকার সম্মান, মানবতা ও আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল, তাই তাকে মানহারা মানবী বলা হয়েছে।
৩৪. 'দুন্দুভিনিনাদ' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'দুন্দুভিনিনাদ' শব্দের অর্থ হলো রণডঙ্কা বা যুদ্ধের দামামা বাজানোর ভয়ংকর শব্দ।
৩৫. 'প্রদোষকাল' শব্দের অর্থ কী এবং এখানে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: 'প্রদোষকাল' শব্দের সাধারণ অর্থ সন্ধ্যাবেলা। কবিতায় এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগের এক অন্ধকার ও রুদ্ধশ্বাস বিশ্বপরিস্থিতিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
৩৬. 'বাষ্পাকুল' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'বাষ্পাকুল' শব্দের অর্থ হলো বাষ্প বা কান্নার আবেগে ঘেরা বা ভারী হয়ে ওঠা।
৩৭. 'অন্তঃপুর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'অন্তঃপুর' শব্দের অর্থ হলো অন্দরমহল বা ভেতরের ঘর, যেখানে সহজে প্রবেশ করা যায় না।
৩৮. রবীন্দ্রনাথের লেখা দুটি প্রবন্ধের বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের লেখা দুটি প্রবন্ধের বই হলো 'কালান্তর' এবং 'সভ্যতার সংকট'।
৩৯. 'আফ্রিকা' কবিতাটি কোন পটভূমিতে রচিত?
উত্তর: ১৯৩৫ সালে ইতালির ফ্যাসিস্ট শাসক মুসোলিনির আফ্রিকা (আবিসিনিয়া) আক্রমণের নির্মম পটভূমিতে কবিতাটি রচিত।
৪০. 'আফ্রিকা' কবিতাটি প্রথমে কোন কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছিল?
উত্তর: কবিতাটি প্রথমে 'পত্রপুট' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণে এবং পরে 'সঞ্চয়িতা' কাব্য সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন
১. 'আফ্রিকা' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, চরিত্র বা মূল ব্যঞ্জনার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোচ্য কবিতাটির নামকরণ বিষয়বস্তু ও ব্যঞ্জনা উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সার্থক।
কবিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশই হলো মূল কেন্দ্রবিন্দু। প্রথম স্তবকে দেখানো হয়েছে কীভাবে ভৌগোলিক আলোড়নে আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিবিড় অরণ্যের অন্ধকারে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল। দ্বিতীয় স্তবকে দুর্গম প্রকৃতির মাঝে আফ্রিকার স্বনির্ভর হয়ে ওঠার লড়াই বর্ণিত হয়েছে। তৃতীয় স্তবকে ধরা পড়েছে সভ্যতার নামে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের আফ্রিকায় প্রবেশ এবং সেখানকার নিরীহ মানুষদের ওপর তাদের নির্মম অত্যাচার ও দাসব্যবসার পাশবিক চিত্র। আফ্রিকার মাটি রক্ত আর চোখের জলে কর্দমাক্ত হয়েছে। চতুর্থ স্তবকে বৈপরীত্যের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, যারা আফ্রিকায় এই রক্তবন্যা বইয়ে দিচ্ছে, তাদের নিজেদের দেশেই শান্তির পূজার ঘণ্টা বাজছে। শেষ স্তবকে এসে বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে কবি এই রক্তলোলুপ ইউরোপীয় সভ্যতার ধ্বংসের আভাষ দিয়েছেন এবং মানবতাকে রক্ষা করার জন্য সেই লাঞ্ছিত ও 'মানহারা মানবী' আফ্রিকার কাছেই ক্ষমা চাওয়ার ডাক দিয়েছেন।
সমগ্র কবিতা জুড়ে আফ্রিকার জন্ম, তার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শোষণ এবং অবশেষে তার কাছেই সভ্যতার শেষ প্রায়শ্চিত্তের কথা আবর্তিত হয়েছে। তাই 'আফ্রিকা' নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়।
কবিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশই হলো মূল কেন্দ্রবিন্দু। প্রথম স্তবকে দেখানো হয়েছে কীভাবে ভৌগোলিক আলোড়নে আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিবিড় অরণ্যের অন্ধকারে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল। দ্বিতীয় স্তবকে দুর্গম প্রকৃতির মাঝে আফ্রিকার স্বনির্ভর হয়ে ওঠার লড়াই বর্ণিত হয়েছে। তৃতীয় স্তবকে ধরা পড়েছে সভ্যতার নামে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের আফ্রিকায় প্রবেশ এবং সেখানকার নিরীহ মানুষদের ওপর তাদের নির্মম অত্যাচার ও দাসব্যবসার পাশবিক চিত্র। আফ্রিকার মাটি রক্ত আর চোখের জলে কর্দমাক্ত হয়েছে। চতুর্থ স্তবকে বৈপরীত্যের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে, যারা আফ্রিকায় এই রক্তবন্যা বইয়ে দিচ্ছে, তাদের নিজেদের দেশেই শান্তির পূজার ঘণ্টা বাজছে। শেষ স্তবকে এসে বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে কবি এই রক্তলোলুপ ইউরোপীয় সভ্যতার ধ্বংসের আভাষ দিয়েছেন এবং মানবতাকে রক্ষা করার জন্য সেই লাঞ্ছিত ও 'মানহারা মানবী' আফ্রিকার কাছেই ক্ষমা চাওয়ার ডাক দিয়েছেন।
সমগ্র কবিতা জুড়ে আফ্রিকার জন্ম, তার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শোষণ এবং অবশেষে তার কাছেই সভ্যতার শেষ প্রায়শ্চিত্তের কথা আবর্তিত হয়েছে। তাই 'আফ্রিকা' নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়।
২. "ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা" - কে, কাকে, কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল? এরপর আফ্রিকার কী পরিস্থিতি হয়েছিল?
উত্তর: ছিনিয়ে নেওয়ার কথা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায়, সৃষ্টির আদিম যুগে রুদ্র বা ভয়ংকর সমুদ্রের ঢেউ প্রাচী ধরিত্রী বা পূর্ব দিকের মূল ভূখণ্ড (এশিয়া) থেকে আফ্রিকা মহাদেশকে ছিনিয়ে বা বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে গিয়েছিল।
আফ্রিকার পরিস্থিতি: মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আফ্রিকা এক গভীর ও নিবিড় অরণ্যে (বনস্পতি) ঢাকা পড়ে যায়। গাছের পাতা এতই ঘন ছিল যে সেখানে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারত না, তাই কবি একে 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুর' বলেছেন। এই নিভৃত ও অন্ধকার পরিবেশে আফ্রিকা দুর্গমের রহস্য এবং জল, স্থল ও আকাশের দুর্বোধ্য সংকেতগুলি চিনে নিচ্ছিল। প্রকৃতির এক অদৃশ্য ঐন্দ্রজালিক শক্তি তার অবচেতন মনে মন্ত্র বা শক্তির সঞ্চার করছিল। নিজের ভয় ও শঙ্কাকে জয় করার জন্য এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার তাগিদে আফ্রিকা নিজেকে উগ্র ও ভীষণ রূপ দিয়ে বিভীষিকাময় করে তুলেছিল। এভাবেই সে এক রহস্যময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশে পরিণত হয়।
আফ্রিকার পরিস্থিতি: মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আফ্রিকা এক গভীর ও নিবিড় অরণ্যে (বনস্পতি) ঢাকা পড়ে যায়। গাছের পাতা এতই ঘন ছিল যে সেখানে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারত না, তাই কবি একে 'কৃপণ আলোর অন্তঃপুর' বলেছেন। এই নিভৃত ও অন্ধকার পরিবেশে আফ্রিকা দুর্গমের রহস্য এবং জল, স্থল ও আকাশের দুর্বোধ্য সংকেতগুলি চিনে নিচ্ছিল। প্রকৃতির এক অদৃশ্য ঐন্দ্রজালিক শক্তি তার অবচেতন মনে মন্ত্র বা শক্তির সঞ্চার করছিল। নিজের ভয় ও শঙ্কাকে জয় করার জন্য এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার তাগিদে আফ্রিকা নিজেকে উগ্র ও ভীষণ রূপ দিয়ে বিভীষিকাময় করে তুলেছিল। এভাবেই সে এক রহস্যময় ও অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশে পরিণত হয়।
৩. "এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে" - 'ওরা' কারা? তাদের আগমনের ফলে আফ্রিকার কী পরিণতি হয়েছিল তা কবিতা অবলম্বনে লেখো।
উত্তর: 'ওরা' বলতে: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায় 'ওরা' বলতে সভ্যতার মুখোশ পরা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোকে বোঝানো হয়েছে, যারা আফ্রিকায় মানুষ-ধরার দল বা দাস ব্যবসায়ী হিসেবে এসেছিল।
আফ্রিকার পরিণতি: সাম্রাজ্যবাদীরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে আফ্রিকায় প্রবেশ করে। তাদের লোভের নখ আফ্রিকার জঙ্গলের হিংস্র নেকড়ের চেয়েও ধারালো ছিল এবং তাদের অহংকার আফ্রিকার অন্ধকার অরণ্যের চেয়েও অন্ধ ছিল। তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করলেও আফ্রিকার বুকে তাদের সেই তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম অমানুষিকতা বা পাশবিক রূপ নগ্ন হয়ে পড়ে। তারা আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের দাসে পরিণত করে এবং নির্মম অত্যাচার চালায়। তাদের অত্যাচারে আফ্রিকার বোবা কান্নায় অরণ্যের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আফ্রিকার মানুষদের রক্ত এবং চোখের জলে মিশে সেখানকার পবিত্র মাটি কাদায় (পঙ্কিল) পরিণত হয়। সাম্রাজ্যবাদীদের কাঁটা-মারা জুতোর দাগ সেই রক্তমাখা কাদার ওপর যে বীভৎস চিহ্ন এঁকে দিয়ে যায়, তা আফ্রিকার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী অপমানের কলঙ্ক হিসেবে রয়ে যায়। এভাবেই আফ্রিকার সম্মান ও মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়।
আফ্রিকার পরিণতি: সাম্রাজ্যবাদীরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে আফ্রিকায় প্রবেশ করে। তাদের লোভের নখ আফ্রিকার জঙ্গলের হিংস্র নেকড়ের চেয়েও ধারালো ছিল এবং তাদের অহংকার আফ্রিকার অন্ধকার অরণ্যের চেয়েও অন্ধ ছিল। তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করলেও আফ্রিকার বুকে তাদের সেই তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম অমানুষিকতা বা পাশবিক রূপ নগ্ন হয়ে পড়ে। তারা আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের দাসে পরিণত করে এবং নির্মম অত্যাচার চালায়। তাদের অত্যাচারে আফ্রিকার বোবা কান্নায় অরণ্যের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আফ্রিকার মানুষদের রক্ত এবং চোখের জলে মিশে সেখানকার পবিত্র মাটি কাদায় (পঙ্কিল) পরিণত হয়। সাম্রাজ্যবাদীদের কাঁটা-মারা জুতোর দাগ সেই রক্তমাখা কাদার ওপর যে বীভৎস চিহ্ন এঁকে দিয়ে যায়, তা আফ্রিকার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী অপমানের কলঙ্ক হিসেবে রয়ে যায়। এভাবেই আফ্রিকার সম্মান ও মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়।
৪. "সভ্যের বর্বর লোভ / নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।" - 'সভ্য' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের লোভকে 'বর্বর' বলা হয়েছে কেন? কীভাবে তারা তাদের অমানুষতাকে নগ্ন করেছিল?
উত্তর: 'সভ্য' বলতে: এখানে 'সভ্য' বলতে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোকে বোঝানো হয়েছে, যারা নিজেদের আধুনিক ও সভ্য বলে দাবি করত।
বর্বর বলার কারণ: তারা সভ্যতার অহংকার করলেও তাদের ভেতরের লোভ ছিল পাশবিক ও আদিম। তারা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং নিরীহ মানুষদের নিজেদের স্বার্থে শোষণ করার জন্য বন্য পশুর চেয়েও হিংস্র হয়ে উঠেছিল। তাই তাদের এই সীমাহীন ও নিষ্ঠুর লোভকে 'বর্বর' বলা হয়েছে।
অমানুষতাকে নগ্ন করা: ইউরোপীয়রা লোহার হাতকড়ি নিয়ে মানুষ-ধরার দল হিসেবে আফ্রিকায় প্রবেশ করে। তারা আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের ধরে দাস হিসেবে বিক্রি করতে থাকে। তাদের ওপর এমন পাশবিক অত্যাচার চালায় যে, আফ্রিকার মাটি রক্ত আর চোখের জলে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। তাদের কাঁটা-মারা জুতোর আঘাতে আফ্রিকার মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়। সভ্যতার দোহাই দিয়ে দুর্বল মানুষের ওপর এই চরম নিষ্ঠুর ও অমানবিক শোষণ চালিয়েই তারা তাদের ভেতরের নির্লজ্জ অমানুষতাকে বিশ্বের সামনে নগ্ন করে দিয়েছিল।
বর্বর বলার কারণ: তারা সভ্যতার অহংকার করলেও তাদের ভেতরের লোভ ছিল পাশবিক ও আদিম। তারা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং নিরীহ মানুষদের নিজেদের স্বার্থে শোষণ করার জন্য বন্য পশুর চেয়েও হিংস্র হয়ে উঠেছিল। তাই তাদের এই সীমাহীন ও নিষ্ঠুর লোভকে 'বর্বর' বলা হয়েছে।
অমানুষতাকে নগ্ন করা: ইউরোপীয়রা লোহার হাতকড়ি নিয়ে মানুষ-ধরার দল হিসেবে আফ্রিকায় প্রবেশ করে। তারা আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের ধরে দাস হিসেবে বিক্রি করতে থাকে। তাদের ওপর এমন পাশবিক অত্যাচার চালায় যে, আফ্রিকার মাটি রক্ত আর চোখের জলে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। তাদের কাঁটা-মারা জুতোর আঘাতে আফ্রিকার মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়। সভ্যতার দোহাই দিয়ে দুর্বল মানুষের ওপর এই চরম নিষ্ঠুর ও অমানবিক শোষণ চালিয়েই তারা তাদের ভেতরের নির্লজ্জ অমানুষতাকে বিশ্বের সামনে নগ্ন করে দিয়েছিল।
৫. "চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে" - কার, কোন ইতিহাসে এবং কীভাবে চিরচিহ্ন মুদ্রিত হলো?
উত্তর: কার ইতিহাসে: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতায়, সাম্রাজ্যবাদীদের শোষণের শিকার আফ্রিকা মহাদেশের অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন মুদ্রিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কীভাবে মুদ্রিত হলো: দীর্ঘকাল ধরে আফ্রিকা গভীর অরণ্যের আড়ালে সভ্য দুনিয়ার কাছে অপরিচিত ও অবহেলিত ছিল। কিন্তু যখন ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী বা মানুষ-ধরার দল সেখানে প্রবেশ করল, তখন শুরু হলো চরম শোষণ। তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের দাসে পরিণত করল। তাদের বর্বর লোভ ও পাশবিক অত্যাচারে আফ্রিকার মানুষের বোবা কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠল। নিরীহ মানুষের রক্ত এবং অশ্রুতে মিশে আফ্রিকার পবিত্র মাটি পঙ্কিল বা কাদায় পরিণত হলো। সেই রক্তমাখা কাদার ওপর সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের কাঁটা-মারা জুতোর যে বীভৎস পদচিহ্ন বা দাগ পড়েছিল, তা সাধারণ কোনো দাগ ছিল না। সেটি ছিল যুগ যুগ ধরে চলা শোষণের, লাঞ্ছনার এবং একটি মহাদেশের মানবতাকে লুণ্ঠন করার অমোঘ প্রমাণ। এই অমানবিক অত্যাচারের কলঙ্কই আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী চিহ্ন হিসেবে মুদ্রিত হয়ে গেল।
কীভাবে মুদ্রিত হলো: দীর্ঘকাল ধরে আফ্রিকা গভীর অরণ্যের আড়ালে সভ্য দুনিয়ার কাছে অপরিচিত ও অবহেলিত ছিল। কিন্তু যখন ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী বা মানুষ-ধরার দল সেখানে প্রবেশ করল, তখন শুরু হলো চরম শোষণ। তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের দাসে পরিণত করল। তাদের বর্বর লোভ ও পাশবিক অত্যাচারে আফ্রিকার মানুষের বোবা কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠল। নিরীহ মানুষের রক্ত এবং অশ্রুতে মিশে আফ্রিকার পবিত্র মাটি পঙ্কিল বা কাদায় পরিণত হলো। সেই রক্তমাখা কাদার ওপর সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের কাঁটা-মারা জুতোর যে বীভৎস পদচিহ্ন বা দাগ পড়েছিল, তা সাধারণ কোনো দাগ ছিল না। সেটি ছিল যুগ যুগ ধরে চলা শোষণের, লাঞ্ছনার এবং একটি মহাদেশের মানবতাকে লুণ্ঠন করার অমোঘ প্রমাণ। এই অমানবিক অত্যাচারের কলঙ্কই আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী চিহ্ন হিসেবে মুদ্রিত হয়ে গেল।
৬. "সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়" - 'সেই মুহূর্ত' বলতে কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে? তখন সমুদ্রপারে কী ঘটছিল এবং এই বর্ণনার মাধ্যমে কবি কী বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন?
উত্তর: 'সেই মুহূর্ত' বলতে: আফ্রিকায় যখন ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা নিরীহ মানুষদের ওপর চরম পাশবিক অত্যাচার, রক্তপাত এবং দাসব্যবসা চলছিল, এখানে সেই মুহূর্তের কথাই বলা হয়েছে।
সমুদ্রপারে যা ঘটছিল: আফ্রিকায় যখন রক্তগঙ্গা বইছে, ঠিক সেই সময়েই সমুদ্রের ওপারে ইউরোপের তথাকথিত সভ্য দেশগুলোতে শান্ত ও স্বাভাবিক জীবনযাপন চলছিল। সেখানে দয়াময় দেবতার নামে সকালে-সন্ধ্যায় মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা নিরাপদে মায়ের কোলে খেলছিল এবং কবিরা সৌন্দর্য ও প্রেমের গান রচনা করছিল।
বৈপরীত্য: এই বর্ণনার মাধ্যমে কবি সাম্রাজ্যবাদীদের চরম ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী রূপের এক তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন। যারা নিজেদের দেশে ভগবানকে ডাকে, শিশুদের ভালোবাসে এবং সুন্দরের আরাধনা করে বলে দাবি করে, তারাই আবার সমুদ্র পেরিয়ে আফ্রিকায় গিয়ে নিরীহ মানুষদের ওপর পশুর চেয়েও জঘন্য অত্যাচার করে। তাদের এই সভ্যতার মুখোশের আড়ালে থাকা নিষ্ঠুরতাকে স্পষ্ট করার জন্যই কবি এই বৈপরীত্যের আশ্রয় নিয়েছেন।
সমুদ্রপারে যা ঘটছিল: আফ্রিকায় যখন রক্তগঙ্গা বইছে, ঠিক সেই সময়েই সমুদ্রের ওপারে ইউরোপের তথাকথিত সভ্য দেশগুলোতে শান্ত ও স্বাভাবিক জীবনযাপন চলছিল। সেখানে দয়াময় দেবতার নামে সকালে-সন্ধ্যায় মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা নিরাপদে মায়ের কোলে খেলছিল এবং কবিরা সৌন্দর্য ও প্রেমের গান রচনা করছিল।
বৈপরীত্য: এই বর্ণনার মাধ্যমে কবি সাম্রাজ্যবাদীদের চরম ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী রূপের এক তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন। যারা নিজেদের দেশে ভগবানকে ডাকে, শিশুদের ভালোবাসে এবং সুন্দরের আরাধনা করে বলে দাবি করে, তারাই আবার সমুদ্র পেরিয়ে আফ্রিকায় গিয়ে নিরীহ মানুষদের ওপর পশুর চেয়েও জঘন্য অত্যাচার করে। তাদের এই সভ্যতার মুখোশের আড়ালে থাকা নিষ্ঠুরতাকে স্পষ্ট করার জন্যই কবি এই বৈপরীত্যের আশ্রয় নিয়েছেন।
৭. "এসো যুগান্তের কবি" - 'যুগান্তের কবি' কে? কবি তাঁকে কী আহ্বান জানিয়েছেন এবং কেন?
উত্তর: যুগান্তের কবি: 'যুগান্তের কবি' হলেন সেই নতুন যুগের বার্তাবাহী কবি বা মানবতাবাদী স্রষ্টা, যিনি পুরানো হিংস্র যুগের অবসান ঘটিয়ে নতুন এক প্রেম ও শান্তির যুগের সূচনা করবেন।
আহ্বান ও কারণ: কবিতার শেষে বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে পশ্চিম দিগন্তে যখন ঝড়ের ঘনঘটা এবং গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা সাম্রাজ্যবাদী পশুরা সভ্যতার ধ্বংস বা অন্তিমকাল ঘোষণা করছে, তখন রবীন্দ্রনাথ এই 'যুগান্তের কবি'কে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগে, আসন্ন সন্ধ্যার শেষ আলোয় সেই চরম অপমানিত, লাঞ্ছিত এবং 'মানহারা মানবী' অর্থাৎ আফ্রিকার দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে।
কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন কারণ, পশ্চিমা সভ্যতার লোভ, হিংসা এবং অস্ত্রের ঝনঝনানির ফলে আজ সমগ্র বিশ্ব ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই ধ্বংস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো প্রায়শ্চিত্ত। আর এই প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে সেই মহাদেশের কাছে, যার ওপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করা হয়েছে। তাই হিংস্র প্রলাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আফ্রিকার কাছে 'ক্ষমা করো' বলাই হবে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী। এই ক্ষমার মাধ্যমেই মানবতা তার হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।
আহ্বান ও কারণ: কবিতার শেষে বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে পশ্চিম দিগন্তে যখন ঝড়ের ঘনঘটা এবং গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা সাম্রাজ্যবাদী পশুরা সভ্যতার ধ্বংস বা অন্তিমকাল ঘোষণা করছে, তখন রবীন্দ্রনাথ এই 'যুগান্তের কবি'কে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগে, আসন্ন সন্ধ্যার শেষ আলোয় সেই চরম অপমানিত, লাঞ্ছিত এবং 'মানহারা মানবী' অর্থাৎ আফ্রিকার দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে।
কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন কারণ, পশ্চিমা সভ্যতার লোভ, হিংসা এবং অস্ত্রের ঝনঝনানির ফলে আজ সমগ্র বিশ্ব ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই ধ্বংস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো প্রায়শ্চিত্ত। আর এই প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে সেই মহাদেশের কাছে, যার ওপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করা হয়েছে। তাই হিংস্র প্রলাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আফ্রিকার কাছে 'ক্ষমা করো' বলাই হবে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী। এই ক্ষমার মাধ্যমেই মানবতা তার হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।
৮. "বলো 'ক্ষমা করো'- / হিংস্র প্রলাপের মধ্যে / সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী" - কাকে, কাদের কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: কাকে, কাদের কাছে: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'যুগান্তের কবি'কে (যিনি সভ্য মানবতার প্রতীক) আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি যেন চরম লাঞ্ছিত ও অপমানিত 'মানহারা মানবী' অর্থাৎ আফ্রিকার কাছে গিয়ে ক্ষমা চান। মূলত, অত্যাচারী ইউরোপীয় সভ্যতার হয়েই এই ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে।
তাৎপর্য: ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের সভ্য ও উন্নত বলে দাবি করলেও, তারা আফ্রিকায় গিয়ে যে বর্বর লোভ ও অমানুষিকতা দেখিয়েছে, তা মানবতার চরম অবমাননা। তারা আফ্রিকার সম্পদ লুটেছে এবং মানুষকে দাসে পরিণত করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সেই ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেরাই আজ বিশ্বযুদ্ধের (হিংস্র প্রলাপ) উন্মাদনায় মেতে উঠেছে এবং তাদের সভ্যতাই আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। কবি বিশ্বাস করেন, এই চরম সংকটের মুহূর্তে অহংকার বা অস্ত্রের আস্ফালন দিয়ে শান্তি আসবে না। শান্তি আসবে একমাত্র অনুশোচনা ও প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমে। যেহেতু আফ্রিকার ওপরেই তারা সবচেয়ে বড়ো পাপ করেছে, তাই সেই মানহারা আফ্রিকার দরজায় দাঁড়িয়ে সব অহংকার ভুলে 'ক্ষমা করো' বলাটাই হবে তাদের শেষ পুণ্যকাজ। এই ক্ষমা প্রার্থনাই ধ্বংসোন্মুখ সভ্যতার শুভবুদ্ধির জাগরণ ঘটাতে পারে।
তাৎপর্য: ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের সভ্য ও উন্নত বলে দাবি করলেও, তারা আফ্রিকায় গিয়ে যে বর্বর লোভ ও অমানুষিকতা দেখিয়েছে, তা মানবতার চরম অবমাননা। তারা আফ্রিকার সম্পদ লুটেছে এবং মানুষকে দাসে পরিণত করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। বর্তমানে সেই ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেরাই আজ বিশ্বযুদ্ধের (হিংস্র প্রলাপ) উন্মাদনায় মেতে উঠেছে এবং তাদের সভ্যতাই আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। কবি বিশ্বাস করেন, এই চরম সংকটের মুহূর্তে অহংকার বা অস্ত্রের আস্ফালন দিয়ে শান্তি আসবে না। শান্তি আসবে একমাত্র অনুশোচনা ও প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমে। যেহেতু আফ্রিকার ওপরেই তারা সবচেয়ে বড়ো পাপ করেছে, তাই সেই মানহারা আফ্রিকার দরজায় দাঁড়িয়ে সব অহংকার ভুলে 'ক্ষমা করো' বলাটাই হবে তাদের শেষ পুণ্যকাজ। এই ক্ষমা প্রার্থনাই ধ্বংসোন্মুখ সভ্যতার শুভবুদ্ধির জাগরণ ঘটাতে পারে।
৯. 'আফ্রিকা' কবিতা অবলম্বনে আফ্রিকার মানবরূপ কীভাবে ধীরে ধীরে উপেক্ষিত থেকে অপমানিত অবস্থায় পৌঁছাল তা বর্ণনা করো।
উত্তর: সৃষ্টির আদিতে ভৌগোলিক আলোড়নের ফলে আফ্রিকা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গভীর অরণ্যের অন্ধকারে আত্মগোপন করেছিল। সেখানে সে প্রকৃতির রহস্য আয়ত্ত করে নিজেকে উগ্র ও ভীষণ রূপ দিয়ে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। এই দীর্ঘকাল ধরে সভ্য দুনিয়ার কাছে কালো ঘোমটার আড়ালে থাকা আফ্রিকার প্রকৃত মানবরূপ সম্পূর্ণ অপরিচিত এবং উপেক্ষিত ছিল।
কিন্তু এই উপেক্ষিত অবস্থা চিরকাল থাকেনি। একসময় সেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আফ্রিকায় প্রবেশ করে লোহার হাতকড়ি পরা ইউরোপীয় মানুষ-ধরার দল। তাদের আগমন আফ্রিকার জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। এই সাম্রাজ্যবাদীদের বর্বর লোভ আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের ওপর তাদের নির্লজ্জ অমানুষতাকে নগ্ন করে দেয়। তারা আফ্রিকার মানুষকে দাসে পরিণত করে। তাদের নির্মম অত্যাচারে আফ্রিকার বাতাস বোবা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে। নিরীহ মানুষের রক্ত এবং চোখের জলে মিশে আফ্রিকার মাটি কাদায় পরিণত হয় এবং সাম্রাজ্যবাদীদের কাঁটা-মারা জুতোর দাগ সেই মাটিতে চিরস্থায়ী অপমানের চিহ্ন এঁকে দেয়। এভাবেই নিভৃত ও উপেক্ষিত আফ্রিকা সাম্রাজ্যবাদের শিকার হয়ে চরম অপমানিত ও লাঞ্ছিত অবস্থায় পৌঁছায়।
কিন্তু এই উপেক্ষিত অবস্থা চিরকাল থাকেনি। একসময় সেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আফ্রিকায় প্রবেশ করে লোহার হাতকড়ি পরা ইউরোপীয় মানুষ-ধরার দল। তাদের আগমন আফ্রিকার জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। এই সাম্রাজ্যবাদীদের বর্বর লোভ আফ্রিকার নিরীহ মানুষদের ওপর তাদের নির্লজ্জ অমানুষতাকে নগ্ন করে দেয়। তারা আফ্রিকার মানুষকে দাসে পরিণত করে। তাদের নির্মম অত্যাচারে আফ্রিকার বাতাস বোবা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে। নিরীহ মানুষের রক্ত এবং চোখের জলে মিশে আফ্রিকার মাটি কাদায় পরিণত হয় এবং সাম্রাজ্যবাদীদের কাঁটা-মারা জুতোর দাগ সেই মাটিতে চিরস্থায়ী অপমানের চিহ্ন এঁকে দেয়। এভাবেই নিভৃত ও উপেক্ষিত আফ্রিকা সাম্রাজ্যবাদের শিকার হয়ে চরম অপমানিত ও লাঞ্ছিত অবস্থায় পৌঁছায়।
১০. 'আফ্রিকা' কবিতাটিতে সাম্রাজ্যবাদীদের নির্মমতা ও বিশ্বমানবতার প্রতি কবির যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে, তা আলোচনা করো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আফ্রিকা' কবিতাটি কেবল একটি মহাদেশের ভৌগোলিক বর্ণনা নয়, এটি সাম্রাজ্যবাদীদের নির্মমতার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ এবং বিশ্বমানবতার প্রতি এক গভীর আস্থার দলিল।
কবিতায় কবি তীব্র ভাষায় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের 'মানুষ-ধরার দল' এবং তাদের লোভকে 'বর্বর' বলেছেন। তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করলেও, আফ্রিকার বুকে তারা যে পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে, রক্তবন্যা বইয়ে দিয়েছে এবং মানুষকে দাসে পরিণত করেছে, তা তাদের 'নির্লজ্জ অমানুষতা'কেই বিশ্বের সামনে নগ্ন করেছে। কবি তাদের দ্বিমুখী চরিত্রেরও মুখোশ খুলে দিয়েছেন—একদিকে তারা আফ্রিকায় দস্যুর মতো আচরণ করে, অন্যদিকে নিজেদের দেশে দয়াময় দেবতার পূজা করে।
তবে কবি এই ধ্বংস ও নৈরাশ্যের মাঝেই থেমে থাকেননি। বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে যখন এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেরাই ধ্বংসের মুখে, তখন কবি মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, অস্ত্রের অহংকার দিয়ে শান্তি আসে না, শান্তি আসে বিনয় ও ক্ষমার মাধ্যমে। তাই তিনি যুগান্তের কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকার দরজায় গিয়ে 'ক্ষমা করো' বলার জন্য। এই ক্ষমা প্রার্থনাই হলো বিশ্বমানবতার প্রতি কবির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং ধ্বংসোন্মুখ সভ্যতার একমাত্র পরিত্রাণের উপায়।
কবিতায় কবি তীব্র ভাষায় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের 'মানুষ-ধরার দল' এবং তাদের লোভকে 'বর্বর' বলেছেন। তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করলেও, আফ্রিকার বুকে তারা যে পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে, রক্তবন্যা বইয়ে দিয়েছে এবং মানুষকে দাসে পরিণত করেছে, তা তাদের 'নির্লজ্জ অমানুষতা'কেই বিশ্বের সামনে নগ্ন করেছে। কবি তাদের দ্বিমুখী চরিত্রেরও মুখোশ খুলে দিয়েছেন—একদিকে তারা আফ্রিকায় দস্যুর মতো আচরণ করে, অন্যদিকে নিজেদের দেশে দয়াময় দেবতার পূজা করে।
তবে কবি এই ধ্বংস ও নৈরাশ্যের মাঝেই থেমে থাকেননি। বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে যখন এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো নিজেরাই ধ্বংসের মুখে, তখন কবি মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, অস্ত্রের অহংকার দিয়ে শান্তি আসে না, শান্তি আসে বিনয় ও ক্ষমার মাধ্যমে। তাই তিনি যুগান্তের কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন আফ্রিকার দরজায় গিয়ে 'ক্ষমা করো' বলার জন্য। এই ক্ষমা প্রার্থনাই হলো বিশ্বমানবতার প্রতি কবির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং ধ্বংসোন্মুখ সভ্যতার একমাত্র পরিত্রাণের উপায়।
৭. ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar & Composition) সিলেবাস অনুযায়ী
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে... - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুকের থেকে... - অপাদান কারকে 'থেকে' অনুসর্গ।
- এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে - কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- পঙ্কিল হলো ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে - করণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- সকালে সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে - সম্বন্ধ পদে 'র' বিভক্তি (অকারক)।
সমাস নির্ণয়
- অন্তঃপুর: অন্তঃস্থিত পুর (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
- দৃষ্টি-অতীত: দৃষ্টিকে অতীত (কর্ম তৎপুরুষ সমাস) / দৃষ্টির অতীত (ষষ্ঠী তৎপুরুষ)।
- ছায়াবৃতা: ছায়া দ্বারা আবৃতা (করণ তৎপুরুষ সমাস)।
- সূর্যহারা: সূর্যকে হারা (কর্ম তৎপুরুষ সমাস)।
- মানহারা: মান হারিয়েছে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস) / মানকে হারা (কর্ম তৎপুরুষ)।
- যুগান্ত: যুগের অন্ত (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন
- বাক্য: স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত... (সরল বাক্যে)
উত্তর: স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তোষে নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন। - বাক্য: এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যারা এল তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এল। - বাচ্য: সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে পূজার ঘণ্টা বাজা হচ্ছিল। - বাচ্য: শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: শিশুদের মায়ের কোলে খেলা হচ্ছিল।
নির্মিতি (অনুশীলনের জন্য)
- কাল্পনিক সংলাপ: "সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্বশান্তি" - এই বিষয়ে দুই সমবয়সী বন্ধুর মধ্যে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
- প্রতিবেদন রচনা: "বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সাধারণ মানুষের বিপন্নতা" - এই শিরোনামে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
- প্রবন্ধ রচনা: "বিশ্বশান্তি ও মানবতা" অথবা "যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই"।
- বঙ্গানুবাদ: Africa is the second largest continent in the world. For a long time, it was known as the 'Dark Continent' because much of it remained unexplored by the rest of the world. However, the continent is rich in natural resources and possesses a unique beauty. The history of Africa is filled with the painful memory of European colonization and the slave trade.
(অনুবাদ: আফ্রিকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। দীর্ঘকাল ধরে এটি 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' নামে পরিচিত ছিল কারণ এর বেশিরভাগ অংশই বিশ্বের বাকি মানুষের কাছে অনাবিষ্কৃত ছিল। তবে, মহাদেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং এর এক অনন্য সৌন্দর্য রয়েছে। আফ্রিকার ইতিহাস ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ এবং দাস ব্যবসায়ের বেদনাদায়ক স্মৃতিতে ভরা।)
আফ্রিকা কবিতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এবং এটি তাঁর 'পত্রপুট' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তির নির্মম অত্যাচার এবং দাস ব্যবসার ফলে আফ্রিকার সম্মান, মানবতা ও আত্মমর্যাদা চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল, তাই তাকে 'মানহারা মানবী' বলা হয়েছে।
যারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে আফ্রিকায় প্রবেশ করে সেখানকার নিরীহ মানুষদের দাসে পরিণত করেছিল, সেই ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী ও দাস ব্যবসায়ীদের 'মানুষ-ধরার দল' বলা হয়েছে।
সভ্যতার শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে মানবতাকে রক্ষা করার জন্য যুগান্তের কবিকে আফ্রিকার দরজায় গিয়ে 'ক্ষমা করো' বলতে বলা হয়েছে।