গল্প: বহুরূপী (Bohurupi)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

গল্পের সারসংক্ষেপ

সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা একজন অতি দরিদ্র মানুষ। ধরাবাঁধা চাকরির পরিবর্তে নিজের খেয়ালখুশিমতো বহুরূপী সেজে মানুষকে আনন্দ দিয়ে সামান্য রোজগার করাই তার পছন্দ। কখনো পাগল, কখনো বাইজি, আবার কখনো পুলিশ সেজে তিনি সকলকে চমকে দেন।

গল্পের এক পর্যায়ে হরিদা শহরের ধনী ও কৃপণ ব্যক্তি জগদীশবাবুকে এক অভিনব খেলা দেখানোর পরিকল্পনা করেন। জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা এক হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর কথা শুনে হরিদা ঠিক করেন, তিনি এমন এক নিখুঁত 'বিরাগী' সাজবেন যা জগদীশবাবুকেও মুগ্ধ করবে। এক মায়াবী সন্ধ্যায় বিরাগীর বেশে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন। তার জ্ঞানগর্ভ কথা ও নির্লোভ আচরণে মুগ্ধ হয়ে জগদীশবাবু তাকে ১০১ টাকা প্রণামী দিতে চাইলে, হরিদা তা স্পর্শও না করে চলে আসেন। অভাবী হয়েও শিল্পের মর্যাদাকে টাকার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে হরিদা প্রমাণ করেন তিনি এক প্রকৃত শিল্পী।

গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)

  1. নকল পুলিশ সেজে হরিদা মাস্টারমশায়ের কাছ থেকে কত ঘুষ নিয়েছিলেন? (MADHYAMIK - 2024)

    • (ক) চার আনা
    • (খ) আট আনা
    • (গ) এক টাকা
    • (ঘ) দু'টাকা

    উত্তর: (খ) আট আনা

  2. জগদীশবাবু বিরাগীকে প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন- (MADHYAMIK - 2022)

    • (ক) এক হাজার টাকা
    • (খ) পাঁচশো টাকা
    • (গ) একশো এক টাকা
    • (ঘ) একশো টাকা

    উত্তর: (গ) একশো এক টাকা

  3. হরিদার কাছে আগত সন্ন্যাসী সারা বছরে কী খেতেন? (পাঠ্যবই)

    • (ক) একটি বেল
    • (খ) একটি আমলকী
    • (গ) একটি হরীতকী
    • (ঘ) কিছুই খেতেন না

    উত্তর: (গ) একটি হরীতকী

  4. সন্ন্যাসীর বয়স কত ছিল বলে অনেকে মনে করেন? (পাঠ্যবই)

    • (ক) একশো বছরের বেশি
    • (খ) পাঁচশো বছরের বেশি
    • (গ) হাজার বছরের বেশি
    • (ঘ) দু'হাজার বছর

    উত্তর: (গ) হাজার বছরের বেশি

  5. বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল- (পাঠ্যবই)

    • (ক) আট টাকা
    • (খ) আট টাকা দশ আনা
    • (গ) দশ টাকা
    • (ঘ) পাঁচ টাকা

    উত্তর: (খ) আট টাকা দশ আনা

  6. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী কোথায় থাকতেন? (পাঠ্যবই)

    • (ক) মন্দিরে
    • (খ) হিমালয়ের গুহাতে
    • (গ) পাহাড়ের চূড়ায়
    • (ঘ) জঙ্গলে

    উত্তর: (খ) হিমালয়ের গুহাতে

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

  1. "পরম সুখ কাকে বলে জানেন?" - বক্তা কাকে 'পরম সুখ' বলেছেন? (MADHYAMIK - 2025)

    উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে বলেছিলেন যে, সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াকেই 'পরম সুখ' বলে।

  2. "আক্ষেপ করেন হরিদা।" - হরিদার আক্ষেপের কারণ কী? (MADHYAMIK - 2025)

    উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা উঁচু দরের সন্ন্যাসী চলে যাওয়ার পর হরিদা খবরটি শোনেন। তাই সেই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিতে না পারার জন্য হরিদা আক্ষেপ করেছিলেন।

  3. "কিন্তু ওই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয়।" - কী ধরনের কাজ হরিদার অপছন্দ? (MADHYAMIK - 2022)

    উত্তর: কোনো অফিসে বা দোকানে ঘড়ির কাঁটার সামনে সময় বেঁধে দিয়ে আর নিয়ম করে রোজই একঘেয়ে চাকরির কাজ করা হরিদার একেবারেই অপছন্দ।

  4. 'সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।' - 'দুর্লভ জিনিস'টি কী? (MADHYAMIK - 2017)

    উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে অতিথি হয়ে আসা হিমালয়বাসী হাজার বছরের বৃদ্ধ সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে এখানে 'দুর্লভ জিনিস' বলা হয়েছে, যা জগদীশবাবু ছাড়া আর কেউ পাননি।

  5. "বাহ্, এ তো বেশ মজার ব্যাপার!" - মজার ব্যাপারটি কী? (পাঠ্যবই)

    উত্তর: জগদীশবাবু কাঠের খড়মে সোনার বোল লাগিয়ে সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরলে সন্ন্যাসী বাধ্য হয়ে পা এগিয়ে দেন, আর সেই ফাঁকে জগদীশবাবু তার পায়ের ধুলো নিয়ে নেন—এটাই ছিল হরিদার কাছে মজার ব্যাপার।

প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর

  1. "বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা।" - 'এই সন্ধ্যার' পরিচয় দাও। (MADHYAMIK - 2024)

    উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পে যে সন্ধ্যায় হরিদা বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলেন, সেই সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে।
    সেদিন সন্ধ্যায় বাতাস বইছিল এবং চাঁদের স্নিগ্ধ, শান্ত ও উজ্জ্বল আলোয় চারপাশ ভেসে যাচ্ছিল। বাগানের গাছের পাতা ঝিরিঝিরি শব্দ করছিল। জগদীশবাবুর বারান্দায় জ্বলছিল মস্ত বড় আলো। সব মিলিয়ে এক মায়াবী ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

  2. "সেদিকে ভুলেও একবার তাকালেন না বিরাগী।" - বিরাগী কোন্ দিকে তাকালেন না? (MADHYAMIK - 2022)

    উত্তর: 'বহুরূপী' গল্পে বিরাগীবেশী হরিদার পায়ের কাছে জগদীশবাবু ১০১ টাকার একটি থলি রেখে প্রণাম করেছিলেন। নির্লোভ বিরাগী সেই টাকার থলির দিকে ভুলেও একবার তাকালেন না; তিনি অনায়াসে সিঁড়ি দিয়ে নেমে চলে গেলেন, যেন ধুলোর মতোই টাকাকেও তুচ্ছ করলেন।

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

  1. "অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন?" - কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কীভাবে 'খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো' ব্যবহার করেছিলেন সংক্ষেপে আলোচনা করো। (MADHYAMIK - 2022)

    উত্তর: উদ্ধৃত উক্তিটিতে বহুরূপী হরিদার কথা বলা হয়েছে।

    খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো ব্যবহার: হরিদা পেশায় একজন বহুরূপী এবং অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। কিন্তু জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে তিনি যে অভিনয় করেছিলেন, তা ছিল নিখুঁত। তিনি জগদীশবাবুকে পরমার্থের উপদেশ দিয়েছিলেন এবং বুঝিয়েছিলেন যে ধন-জন-যৌবন সবই বঞ্চনা। জগদীশবাবু মুগ্ধ হয়ে তাকে ১০১ টাকার তোড়া প্রণামী হিসেবে দিতে চাইলে, হরিদা তা স্পর্শও করেননি। তিনি বলেছিলেন, টাকা স্পর্শ করলে তার 'ঢং' নষ্ট হয়ে যাবে। অভাবের দিনেও এই বিপুল অর্থ প্রত্যাখ্যান করে তিনি এক নির্লোভ, ত্যাগী ও খাঁটি সন্ন্যাসীর মতোই আচরণ করেছিলেন।

  2. 'বহুরূপী' গল্প অবলম্বনে হরিদার চরিত্র বিশ্লেষণ করো। (Important)

    উত্তর: সুবোধ ঘোষের 'বহুরূপী' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা একজন সামান্য মানুষ হয়েও অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

    ১. পেশাগত নিষ্ঠা: হরিদা পেশায় বহুরূপী। তিনি তার এই পেশাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ, পাগল বা বিরাগী—যখন যে সাজ নিতেন, তা এতটাই নিখুঁত হতো যে দর্শক বিভ্রান্ত হয়ে যেত।

    ২. স্বাধীনচেতা মনোভাব: দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও হরিদা ধরাবাঁধা ছকের জীবন পছন্দ করতেন না। কারো অধীনে চাকরির চেয়ে স্বাধীনভাবে বহুরূপী সেজে সামান্য আয় করাকেই তিনি শ্রেয় মনে করতেন।

    ৩. নির্লোভ মানসিকতা: গল্পের শেষে হরিদার চরিত্রের মহান দিকটি ফুটে ওঠে। জগদীশবাবুর দেওয়া ১০১ টাকা তিনি অনায়াসে প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ বিরাগীর সাজে টাকা নিলে তার শিল্পের অপমান হতো। অভাবের চেয়ে শিল্পসত্তাকে তিনি বড় করে দেখেছিলেন।

  3. "খাঁটি মানুষ তো নয়, এই বহুরূপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?" - বক্তা কে? তার এমন আক্ষেপের কারণ কী? (Important)

    উত্তর: উক্তিটির বক্তা হলেন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা।

    আক্ষেপের কারণ: বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে নিখুঁত অভিনয় করার পর হরিদা ১০১ টাকা প্রণামী প্রত্যাখ্যান করে চলে আসেন। শিল্পের মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি টাকা নেননি। কিন্তু বাড়ি ফিরে বাস্তব পৃথিবীর কঠোর দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়ে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। তিনি জানেন, পরদিন জগদীশবাবুর কাছে গিয়ে হয়তো বকশিশ হিসেবে আট আনা বা দশ আনার বেশি পাবেন না। একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়েও তাকে যে সামান্য বকশিশের ওপর নির্ভর করে বাঁচতে হয়—এই চরম বাস্তবতাই তার আক্ষেপের মূল কারণ।