কবিতা: প্রলয়োল্লাস (Proloyollas)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

কবিতার সারসংক্ষেপ

কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এটি একটি উদ্দীপনামূলক কবিতা, যেখানে কবি পরাধীন ভারতের বুকে প্রলয় বা ধ্বংসের আহ্বানের মাধ্যমে নূতনের বা স্বাধীনতার আগমনকে উল্লাসের সাথে বরণ করে নিয়েছেন।

কবি 'কালবোশেখি' ঝড়ের মতো প্রলয়ংকর শক্তিকে 'জয়ধ্বনি' করতে বলেছেন, কারণ এই ধ্বংসাত্মক রূপেই 'নূতনের কেতন' উড়ছে। এই 'ভয়ংকর' শক্তিই মহাকালের 'চণ্ড-রূপে' মৃত্যুরূপী অন্ধকূপ থেকে মশাল জ্বেলে আসছে। কবি এই প্রলয়কে ভয় পেতে বারণ করেছেন, কারণ এই ধ্বংসই হলো 'নূতন সৃজন-বেদন' বা নতুন সৃষ্টির যন্ত্রণা। যে 'নবীন' বা নতুন শক্তি আসছে, তা পুরাতন, জরাজীর্ণ, অসুন্দরকে ('জীবনহারা অ-সুন্দরে') ধ্বংস ('ছেদন') করার জন্যই আসছে। এই ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টির আশ্বাস, যেমন 'দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর'। তাই কবি বধূদের প্রদীপ তুলে এই 'চিরসুন্দর'-কে বরণ করে নিতে বলেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)

  1. "অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ" - (MADHYAMIK - 2022)

    • (ক) চরাচর
    • (খ) মহাকাল
    • (গ) গগনতল
    • (ঘ) গিরিশিখর

    উত্তর: (ক) চরাচর

  2. "ক্ষুরের দাপট তারায় লেগে উল্কা ছুটায়।" - (MADHYAMIK - 2024)

    • (ক) পাষাণ স্তূপে
    • (খ) নীল খিলানে
    • (গ) গগন তলে
    • (ঘ) ঝড় তুফানে

    উত্তর: (খ) নীল খিলানে

  3. "ওই নূতনের কেতন ওড়ে" -

    • (ক) কালবোশেখির ঝড়
    • (খ) ধূমকেতু
    • (গ) বজ্রশিখার মশাল
    • (ঘ) সিন্ধুপারের সিংহদ্বার

    উত্তর: (ক) কালবোশেখির ঝড়

  4. "আসছে নবীন - জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে" -

    • (ক) ভস্ম
    • (খ) বন্ধ
    • (গ) ছেদন
    • (ঘ) সৃজন

    উত্তর: (গ) ছেদন

  5. "কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে" -

    • (ক) মহাকাল
    • (খ) সুন্দর
    • (গ) ভয়ংকর
    • (ঘ) ঊষা

    উত্তর: (খ) সুন্দর

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

  1. "এবার মহানিশার শেষে"- কে আসবে? (MADHYAMIK - 2022)

    উত্তর: 'মহানিশার শেষে' অর্থাৎ পরাধীনতার অন্ধকার রাত্রির অবসানে, 'ঊষা অরুণ হেসে' অর্থাৎ স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হবে।

  2. "আসছে নবীন" - নবীন কেন আসছে?

    উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতা অনুসারে, 'নবীন' আসছে 'জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন' অর্থাৎ পুরাতন, জরাজীর্ণ, পরাধীন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নতুন যুগ বা স্বাধীনতার সূচনা করতে।

  3. "ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?" - কবি ভয় পেতে বারণ করেছেন কেন?

    উত্তর: কবি ভয় পেতে বারণ করেছেন কারণ এই প্রলয় বা ধ্বংসই হলো 'নূতন সৃজন-বেদন' বা নতুন সৃষ্টির যন্ত্রণা। এই ধ্বংসের মধ্যেই নূতনের আগমন ও সৃষ্টির সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।

  4. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর!" - কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?

    উত্তর: কবি পরাধীন ভারতের আপামর দেশবাসীকে, যারা নূতনের আগমনে ভীত না হয়ে উল্লাসিত, তাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।

  5. "বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর!" - 'ভয়ংকর' কীভাবে আসছে?

    উত্তর: 'ভয়ংকর' মহাকালের 'চণ্ড-রূপে' মৃত্যুরূপী অন্ধকার কূপে ('মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে') বজ্রের শিখার মশাল জ্বেলে আসছে।

প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর

  1. "দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর" - এখানে 'দিগম্বর' ও 'শিশু-চাঁদ' কিসের প্রতীক? উদ্ধৃতিটির অর্থ কী? (MADHYAMIK - 2024)

    উত্তর: এখানে 'দিগম্বর' হলেন ধ্বংসের দেবতা শিব বা মহাকাল, যিনি প্রলয়ের প্রতীক। আর 'শিশু-চাঁদ' হলো ধ্বংসের মধ্যে থেকে উদিত নতুন স্নিগ্ধ সৃষ্টির প্রতীক।
    অর্থ: উদ্ধৃতিটির অর্থ হলো, যে মহাকাল ধ্বংসের তাণ্ডব ঘটাচ্ছেন, তাঁর মধ্যেই নতুন সৃষ্টির আশ্বাস বা সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। অর্থাৎ, পরাধীনতার ধ্বংসের মধ্যেই স্বাধীনতার নতুন আলো ('শিশু-চাঁদের কর') দেখা যাচ্ছে।

  2. "অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর" - উদ্ধৃতিটির অর্থ কী? (MADHYAMIK - 2022)

    উত্তর: 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায়, নূতনের আগমনের প্রতীক মহাকাল বা প্রলয়ংকর শক্তি যখন আবির্ভূত হয়, তখন তার ভয়ংকর অট্টহাসি ('অট্টরোল') ও প্রচণ্ড কোলাহলে ('হট্টগোল') সমগ্র বিশ্ব বা 'চরাচর' ভয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি প্রলয়ের তীব্রতা ও তার সর্বব্যাপী প্রভাবকে বোঝাতে চেয়েছেন।

  3. "ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর!" - 'সে' কে? 'ভেঙে আবার গড়া' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

    উত্তর: এখানে 'সে' বলতে 'নবীন' বা সেই প্রলয়ংকর শক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে 'চিরসুন্দর'।
    'ভেঙে আবার গড়া' বলতে কবি বুঝিয়েছেন যে, এই নবীন শক্তি বা মহাকাল কেবল ধ্বংসই করে না, সে গড়তেও জানে। সে পুরাতন, জরাজীর্ণ, অসুন্দর ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ('ভেঙে') তার জায়গায় এক নতুন, সুন্দর ব্যবস্থা বা যুগ ('গড়তে') প্রতিষ্ঠা করে। পরাধীনতার ধ্বংসের মধ্যেই সে স্বাধীনতার সৃষ্টি করে।

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

  1. "তোরা সব জয়ধ্বনি কর।"- কবির এই কথা বলার কারণ সংক্ষেপে লেখো। (MADHYAMIK - 2022)

    উত্তর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী জনতাকে উদ্দেশ্য করে বারবার 'জয়ধ্বনি' করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    এই জয়ধ্বনি প্রলয় বা ধ্বংসের নয়, বরং ধ্বংসের বেশে নূতনের আগমনের উল্লাস। কবি দেখেছেন, 'কালবোশেখি' ঝড়ের মতো যে 'ভয়ংকর' প্রলয় আসছে, তা আসলে ধ্বংসের মুখোশ পরা 'সুন্দর'। এই প্রলয় আসছে পরাধীনতার অন্ধকার ('মহানিশা'), জরাজীর্ণ পুরাতন ('জরায়-মরা মুমূর্ষু') এবং অসুন্দরকে ('অ-সুন্দরে') ধ্বংস করতে। এই ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুন সৃষ্টির যন্ত্রণা ('সৃজন-বেদন') এবং স্বাধীনতার নতুন ভোরের ('ঊষা') আশ্বাস। তাই কবি এই প্রলয়কে ভয় না পেয়ে, তাকে উল্লাসের সাথে বরণ করে নেওয়ার জন্য দেশবাসীকে 'জয়ধ্বনি' করতে বলেছেন।

  2. "ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? - প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!" - 'প্রলয়' কীভাবে 'নূতন সৃজন-বেদন' হয়ে ওঠে, তা কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো। (Important)

    উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় প্রলয় বা ধ্বংসকে গতানুগতিক অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। কবির চোখে, প্রলয় হলো নতুন সৃষ্টিরই পূর্বাভাস।

    কবি পরাধীনতার জরাজীর্ণ, 'অ-সুন্দর' ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য 'মহাকাল'-এর 'চণ্ড-রূপ'-কে আহ্বান জানিয়েছেন। এই ধ্বংস আপাতদৃষ্টিতে 'ভয়ংকর' মনে হলেও, এর মধ্যেই নতুন সৃষ্টির যন্ত্রণা বা 'সৃজন-বেদন' লুকিয়ে আছে। কবি বুঝিয়েছেন, নতুন কোনো কিছু সৃষ্টি করতে গেলে পুরাতনকে ভাঙতেই হয়। যেমন, 'মহানিশা' বা অন্ধকার রাতের অবসানের পরই 'ঊষা' বা নতুন ভোরের আগমন ঘটে।

    যে 'নবীন' শক্তি প্রলয়ের বেশে আসছে, সে 'ভেঙে আবার গড়তে জানে'। সে 'জীবনহারা অ-সুন্দরে' ছেদন করে 'চিরসুন্দর'-কে প্রতিষ্ঠা করে। তাই এই প্রলয় বা ধ্বংসকে দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কারণ এই ধ্বংসই হলো নতুন সৃষ্টির আগমনী বার্তা।