কবিতা: অসুখী একজন (Osukhi Ekjon)
কবিতার সারসংক্ষেপ
পাবলো নেরুদার (অনুবাদক: নবারুণ ভট্টাচার্য) 'অসুখী একজন' কবিতাটি এক গভীর বিচ্ছেদ ও ধ্বংসের কাহিনী। কবিতার কথক তার প্রিয়তমাকে দরজায় অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দূরদেশে চলে যান, এই কথা না জানিয়ে যে তিনি আর ফিরবেন না। সময় বয়ে যায়, কথকের স্মৃতি মুছে যেতে থাকে (বৃষ্টিতে পায়ের দাগ ধুয়ে যায়, রাস্তায় ঘাস জন্মায়)।
বছরগুলো পাথরের মতো মেয়েটির মাথার ওপর নেমে আসে। তারপর আসে যুদ্ধ—'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো'। এই যুদ্ধ সব ধ্বংস করে দেয়: শিশু, বাড়ি, প্রাচীন মন্দির, শান্ত হলুদ দেবতা, কথকের স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, গোলাপি গাছ—সবকিছু চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে যায়। আস্ত শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। কিন্তু এত ধ্বংসের পরেও সেই মেয়েটির মৃত্যু হয় না। সে ভালোবাসা ও অপেক্ষার শাশ্বত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)
-
'অসুখী একজন' কবিতার অনুবাদক কে?
উত্তর: (গ) নবারুণ ভট্টাচার্য
-
"তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।" - 'তারা' কারা? (MADHYAMIK - 2022)
উত্তর: (খ) শান্ত হলুদ দেবতারা
-
যুদ্ধ এসেছিল -
উত্তর: (গ) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো
-
'অসুখী একজন' কবিতাটির মূল কবি কোন দেশের?
উত্তর: (খ) চিলি (পাবলো নেরুদা চিলির কবি ছিলেন)
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
-
'অসুখী একজন' কবিতার বাংলা অনুবাদ কে করেন? (MADHYAMIK - 2025 External)
উত্তর: ‘অসুখী একজন' কবিতাটির বাংলা অনুবাদ করেন নবারুণ ভট্টাচার্য।
-
"আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়" - কোন্ মেয়েটি? (MADHYAMIK - 2022 External)
উত্তর: কবিতার কথক তার যে প্রিয়জন বা ভালোবাসার মানুষকে দরজায় অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রেখে দূরদেশে চলে গিয়েছিলেন, এটি সেই মেয়েটি।
-
"ঘাস জন্মালো রাস্তায়" - কখন রাস্তায় ঘাস জন্মালো? (MADHYAMIK - 2024)
উত্তর: কবিতার কথক চলে যাওয়ার পর একটা সপ্তাহ ও একটা বছর কেটে যায়। সময়প্রবাহে বৃষ্টিতে তার পায়ের দাগ ধুয়ে যায় এবং সেই পরিত্যক্ত রাস্তায় ঘাস জন্মায়।
-
"তারপর যুদ্ধ এলো" - যুদ্ধ কেমনভাবে এলো? (MADHYAMIK - 2022)
উত্তর: যুদ্ধ এসেছিল 'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো'—অর্থাৎ, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতোই বিধ্বংসী এবং রক্তক্ষয়ী রূপে।
প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর
-
"সব চূর্ণ হয়ে গেল," - কী চূর্ণ হয়ে গেল? (MADHYAMIK - 2025)
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধের বিধ্বংসী আগুনে কথকের 'মিষ্টি বাড়ি', 'বারান্দা' যেখানে তিনি ঝুলন্ত বিছানায় ঘুমাতেন, 'গোলাপি গাছ', 'চিমনি', 'প্রাচীন জলতরঙ্গ'—অর্থাৎ তার স্মৃতিবিজড়িত সমস্ত কিছুই চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
-
"তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।"- 'তারা' কারা? কেন স্বপ্ন দেখতে পারল না? (MADHYAMIK - 2022)
উত্তর: উদ্ধৃত অংশে 'তারা' বলতে সেই 'শান্ত হলুদ দেবতা'দের বোঝানো হয়েছে, যাঁরা হাজার বছর ধরে মন্দিরে ধ্যানে ডুবে ছিলেন।
যুদ্ধের আক্রমণে মন্দিরগুলি উল্টে পড়ে এবং দেবতারা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যায়। এই ধ্বংসের কারণেই তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
-
'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধের যে ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলার চিত্র ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো। (Important)
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায় যুদ্ধ 'রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের মতো' বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হয়। এই যুদ্ধের আক্রমণে 'শিশু আর বাড়িরা খুন হলো'। হাজার বছরের প্রাচীন মন্দির থেকে 'শান্ত হলুদ দেবতারা' উল্টে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
কথকের স্মৃতিবিজড়িত মিষ্টি বাড়ি, বারান্দা, ঝুলন্ত বিছানা, গোলাপি গাছ, চিমনি—সবই চূর্ণ হয়ে আগুনে জ্বলে গেল। আস্ত একটা শহর পুড়ে 'কাঠকয়লা', 'দোমড়ানো লোহা' আর 'মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা'র ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। সর্বত্র শুধু রক্তের কালো দাগ ছড়িয়ে রইল। এভাবেই কবি এক ভয়াবহ ধ্বংসচিত্র এঁকেছেন, যা যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতাকে তুলে ধরে। -
"সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না।" - কোন্ মেয়েটির কথা বলা হয়েছে? যুদ্ধের ভয়ঙ্করতা সত্ত্বেও কেন তার মৃত্যু হলো না, তা বিশ্লেষণ করো। (Important)
উত্তর: পাবলো নেরুদার 'অসুখী একজন' কবিতায়, কথকের অপেক্ষায় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা তার প্রিয়তমা 'মেয়েটি'র কথা বলা হয়েছে।
মৃত্যু না হওয়ার কারণ: যুদ্ধ সমস্ত শহর, বাড়ি, শিশু এবং এমনকি দেবতাদেরও ধ্বংস করতে পেরেছিল, কিন্তু সেই মেয়েটির মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। কারণ এই 'মেয়েটি' কেবল একজন নারী নয়, সে ভালোবাসা, আশা এবং অপেক্ষার এক শাশ্বত প্রতীক। যুদ্ধ भौतिक জিনিসপত্র ধ্বংস করতে পারে, সভ্যতাকে চূর্ণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ের এই চিরন্তন আবেগগুলিকে সে ধ্বংস করতে পারে না। তাই সমস্ত ধ্বংসলীলার মধ্যেও সেই মেয়েটি অমর হয়ে কথকের জন্য অপেক্ষা করে। তার এই অপেক্ষা ধ্বংসের বিরুদ্ধে জীবনের, ভালোবাসার চিরন্তন জয় ঘোষণা করে।