সহায়ক পাঠ: কোনি (Koni)
উপন্যাসের সারসংক্ষেপ
মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসটি এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে ওঠার লড়াইয়ের কাহিনি। শ্যামপুকুর বস্তির এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কনি (কনকচাঁপা পাল)। তার জীবনে লড়াই ছিল নিত্যসঙ্গী। তার এই লড়াইয়ের পথে সে সঙ্গী হিসেবে পায় সাঁতারের প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহকে (ক্ষিদ্দা)।
ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন একজন সৎ, একরোখা এবং আদর্শবাদী প্রশিক্ষক, যিনি ক্লাবের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে বিতাড়িত হন। তিনি কোনির মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা আবিষ্কার করেন এবং তাকে চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করেন। দারিদ্র্য, বঞ্চনা, অপমান এবং প্রতিকূলতাকে জয় করে কোনি কীভাবে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে, সেই emocionante যাত্রাপথই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। "ফাইট, কোনি ফাইট" - এই মন্ত্রটি শুধু কোনির নয়, সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা মানুষের জয়গান।
গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)
-
ক্লান্ত হাত কোনির পিঠে চাপড় দিয়ে গেল।-ক্লান্ত হাতটি হল- (RAIGANJ GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - 2017)
উত্তর: (গ) রমার
-
"অত হিংসা ভালো নয়"-কথাটি বলেছিল- (RAIGANJ GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - 2017)
উত্তর: (ঘ) হিয়া
-
"এমন সময় খুশি ঘর থেকে বেরিয়ে এল"-খুশি হল- (RAIGANJ GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - 2017)
উত্তর: (গ) বিড়াল
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
-
"আজ বারুণী"-বারুণী কী? ঐ দিনটিতে কী কী হয়েছিল? (KAMALPUR NETAJI HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: বারুণী হল একটি হিন্দু তিথি, যেদিন গঙ্গাস্নান করা পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়। উপন্যাসের শুরুতে বারুণীর দিনে গঙ্গার ঘাটে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। পুণ্যার্থীরা কাঁচা আম মাথায় ধরে ডুব দিয়ে তা গঙ্গায় ভাসিয়ে দিচ্ছিল। ছেলের দল সেই আম সংগ্রহের জন্য জলে অপেক্ষা করছিল। এই দিনেই প্রথম ক্ষিতীশ সিংহের সঙ্গে বিষ্টু ধরের এবং পরে কোনির পরিচয় হয়।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
-
দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই, তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (BANKURA ZILLA SCHOOL / BURDWAN MUNICIPAL GIRLS' HIGH SCHOOL / হাবড়া হাই স্কুল (উঃ মাঃ) / হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন - 2017)
উত্তর: 'কোনি' উপন্যাসে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা ছিল কোনির জীবনের নিত্যসঙ্গী। শ্যামপুকুরের এক বস্তিতে তার বাস। অভাবের সংসারে দুবেলা ঠিকমতো খাবার জুটত না। তার দাদা কমল অসুস্থতার কারণে মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
সাঁতার শেখার পথেও তাকে পদে পদে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। প্রথমত, জুপিটার ক্লাবে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। পরে অ্যাপোলো ক্লাবে ভর্তি হলেও অন্যান্য সাঁতারুরা তাকে হেয় করত। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে চক্রান্ত করে ডিসকোয়ালিফাই করা হয় এবং জিতিয়ে দেওয়া হয় অমিয়াকে। মাদ্রাজে জাতীয় প্রতিযোগিতায় তার নাম প্রথমে পাঠানোই হয়নি। চুরির অপবাদও তাকে সহ্য করতে হয়েছে।
কিন্তু কোনো কিছুই কোনিকে দমাতে পারেনি। প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের তত্ত্বাবধানে সে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে। তার এই লড়াই শুধু সাঁতারের ট্র্যাকে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। শেষ পর্যন্ত রিলে রেসে নেমে সে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করে এবং নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। -
"রবীন্দ্র সরোবরে এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতা।"-এই সাঁতার প্রতিযোগিতার বর্ণনা দাও। (BANKURA ZILLA SCHOOL - 2017)
উত্তর: ঢাকুরিয়া স্পোর্টস ক্লাব আয়োজিত রবীন্দ্র সরোবরে এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় মোট পঁচিশজন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি মেয়ে ছিল। ক্ষিতীশ সিংহ এই প্রতিযোগিতার রেফারি ছিলেন।
প্রতিযোগিতার শুরুতেই ন্যাশনাল জুনিয়র রেকর্ডধারী সুবীর সহ বেশ কিছু ছেলে এগিয়ে যায়। মেয়েদের মধ্যে বালিগঞ্জ ক্লাবের হিয়া মিত্র প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিল। কোনি এবং অন্য একটি মেয়ে তার থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। কোনির দাদা কমল পাড় থেকে "কোনি, কোনি" বলে চিৎকার করে তাকে উৎসাহ দিচ্ছিল।
কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা এবং অনুশীলনের অভাবে কোনি ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে এবং শেষ প্রতিযোগী হিসেবে সাঁতার শেষ করে। এই প্রতিযোগিতায় হারার পর অপমানিত ও ক্লান্ত কোনিকে দেখে ক্ষিতীশ তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা জেদ এবং সম্ভাবনাকে খুঁজে পায় এবং তাকে সাঁতার শেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এখানেই কোনির সাঁতারু জীবনের প্রকৃত সূচনা হয়। -
"অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।"-কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল? (BANKURA ZILLA SCHOOL / KRISHNANAGAR COLLEGIATE SCHOOL / বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ (বয়েজ) - 2017)
উত্তর: বাংলা সাঁতার দলে কোনির জায়গা পাওয়াটা সহজ ছিল না। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে চক্রান্ত করে হারিয়ে দেওয়ার পর জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তা ধীরেন ঘোষ এবং অন্যরা চায়নি যে অ্যাপোলোর কোনো সাঁতারু, বিশেষ করে কোনি, বাংলা দলে সুযোগ পাক।
সিলেকশন কমিটিতে এই নিয়ে প্রবল বিরোধিতা শুরু হয়। জুপিটারের সদস্যরা যুক্তি দেখায় যে, কোনি স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফল করতে পারেনি, তাই তাকে দলে নেওয়া উচিত নয়।
এই সময় অপ্রত্যাশিতভাবে কোনির পাশে দাঁড়ান বালিগঞ্জ ক্লাবের প্রশিক্ষক এবং কোনির প্রতিদ্বন্দ্বী হিয়া মিত্রর কোচ প্রণবেন্দু বিশ্বাস। তিনি বলেন, "বেঙ্গলের স্বার্থেই কনকচাঁপা পালকে টিমে রাখতে হবে।" তিনি আরও বলেন যে, মহারাষ্ট্রের সাঁতারু রমা যোশিকে হারানোর ক্ষমতা একমাত্র কোনিরই আছে। প্রণবেন্দুর জোরালো যুক্তির কাছে এবং তার নিজস্ব সাঁতারুদের দল থেকে তুলে নেওয়ার হুমকির মুখে অবশেষে নির্বাচকরা কোনিকে বাংলা দলে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হন। -
‘তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্ব জলে।’ কোনির কোন্ কথার পরিপ্রেক্ষিতে একথা বলা হয়েছে? তার 'আসল লজ্জা' ও 'আসল গর্ব' জলে বলার কারণ কী? (BURDWAN MUNICIPAL GIRLS' HIGH SCHOOL / হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন / KAMALPUR NETAJI HIGH SCHOOL / নাকতলা হাই স্কুল - 2017)
উত্তর: ক্ষিতীশ সিংহ (ক্ষিদ্দা) এই কথাটি কোনিকে বলেছিল। দোকানে অমিয়া তাকে 'ঝি' বলে অপমান করলে কোনি খুব কষ্ট পায় এবং ক্ষিদ্দাকে জানায় যে, হাতের লেখা ভালো হলে সে কাউন্টারে মাপ লেখার কাজ করতে পারত। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষিতীশ তাকে বোঝাতে চেয়েছিল যে, বাইরের জগতের অপমান বা লজ্জার চেয়ে বড় হলো তার নিজের জগৎ, অর্থাৎ সাঁতারের জগৎ।
'আসল লজ্জা' জলে বলার কারণ হলো, একজন সাঁতারু হিসেবে তার সবচেয়ে বড় লজ্জা হবে সাঁতারে হেরে যাওয়া বা নিজের সেরাটা দিতে না পারা। সমাজের চোখে সে গরিব বা অশিক্ষিত—এটা তার আসল লজ্জা নয়।
একইভাবে, 'আসল গর্ব' জলে বলার কারণ হলো, তার পরিচয় এবং গর্ব তৈরি হবে সাঁতারের মাধ্যমে। যখন সে প্রতিযোগিতায় জিতবে, রেকর্ড করবে, তখন সেই সাফল্যই তার সমস্ত সামাজিক অপমানকে ঢেকে দেবে। তার সমস্ত পরিচয়, গর্ব এবং সম্মান নির্ভর করছে জলের মধ্যে তার পারফরম্যান্সের উপর। -
জুপিটার ক্লাবে ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কী ছিল? এগুলির উত্তরে ক্ষিতীশের বক্তব্য কী ছিল? (BARISHA HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: জুপিটার ক্লাবে প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের বিরুদ্ধে সাঁতারুরা একাধিক অভিযোগ এনেছিল। প্রধান অভিযোগগুলি ছিল:
১. তিনি সাঁতারুদের, বিশেষ করে সিনিয়রদের, জুনিয়রদের সামনে অপমান করেন। যেমন, শ্যামলের টাইমের সঙ্গে আমেরিকার ১২ বছরের মেয়েদের টাইমের তুলনা করা।
২. তিনি গোবিন্দর মতো বেঙ্গল রেকর্ডধারীকে কান ধরে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
৩. অসুস্থতার কারণে ক্লাবে আসতে না পারায় তিনি সুহাসের বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে অপমানজনক কথা বলেন।
৪. তার কঠোর ব্যবহারের জন্যই অমিয়া এবং বেলার মতো ভালো সাঁতারু ক্লাব ছেড়ে অ্যাপোলোতে চলে গেছে।
৫. তিনি নিজে কখনও বড় সাঁতারু ছিলেন না, তাই তার কোচিং পদ্ধতি নিয়ে সাঁতারুদের আস্থা নেই।
উত্তরে ক্ষিতীশের বক্তব্য: ক্ষিতীশ সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন যে, ক্লাবের গৌরব বাড়ানোর জন্যই তিনি কঠোর হয়েছিলেন। তার মতে, শ্যামল বা গোবিন্দের মতো সাঁতারুদের উন্নতি থেমে গেছে, তাদের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। সঠিক অনুশীলন এবং শৃঙ্খলার অভাবে তারা নিজেদের প্রতিভাকে নষ্ট করছে। তিনি আরও বলেন যে, ভালো কোচ হওয়ার জন্য নিজে চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হওয়ার প্রয়োজন নেই, যেমন পৃথিবীর বিখ্যাত কোচেরা অনেকেই চ্যাম্পিয়ন ছিলেন না। তার মতে, চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা যায় না, তাদের খুঁজে বের করতে হয় এবং সঠিক পথে চালনা করতে হয়। -
‘আপনারা ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করার জন্য ওকে ভিক্টিমাইজ করলেন।’ বক্তা কে? ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করার জন্য কাকে কীভাবে ভিক্টিমাইজ করা হয়েছে? (BARISHA HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: এই উক্তিটির বক্তা হলেন বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাস।
ক্ষিতীশ সিংহকে জব্দ করার জন্য কোনিকে ভিক্টিমাইজ (নির্যাতন বা অন্যায়ের শিকার) করা হয়েছিল। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তা ধীরেন ঘোষ, হরিচরণ এবং অন্যরা একজোট হয়ে কোনিকে হারানোর জন্য চক্রান্ত করে।
যেভাবে ভিক্টিমাইজ করা হয়:
১. ব্রেস্ট স্ট্রোকে: টার্নিংয়ের সময় ভুল কিকের মিথ্যা অভিযোগে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করা হয়।
২. ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে: কোনি প্রথমে ফিনিশিং বোর্ড স্পর্শ করলেও তাকে দ্বিতীয় ঘোষণা করে অমিয়াকে জয়ী করা হয়।
৩. ২০০ মিটার মেডলিতে: ব্যাক স্ট্রোক থেকে টার্ন নেওয়ার সময় ভুল পদ্ধতির অভিযোগে তাকে আবার ডিসকোয়ালিফাই করা হয়।
৪. ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে: জুপিটারের সাঁতারু ইলাকে ব্যবহার করে záměrně কোনির লেনে পাঠিয়ে তার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটানো হয়, যাতে সে পিছিয়ে পড়ে।
এই সমস্ত ঘটনাগুলি ছিল ক্ষিতীশ সিংহের বিরুদ্ধে জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল, যার শিকার হয়েছিল কোনি। -
বাংলা সাঁতার দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোনিকে কী ধরনের নোংরা রাজনীতির স্বীকার হতে হয়েছিল লেখো। শেষ পর্যন্ত কার প্রচেষ্টায় কোনি বাংলা দলে সুযোগ পেল? (দেবীশ্বরী বিদ্যানিকেতন - 2017)
উত্তর: বাংলা সাঁতার দলে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোনিকে নোংরা রাজনীতির শিকার হতে হয়েছিল। যেহেতু কোনি ক্ষিতীশ সিংহের ছাত্রী ছিল এবং অ্যাপোলো ক্লাবের হয়ে সাঁতার কাটত, তাই জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তারা, বিশেষ করে ধীরেন ঘোষ, তাকে বাংলা দলে নিতে চায়নি।
সিলেকশন কমিটিতে তারা যুক্তি দেখায় যে, কোনি স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফল করেনি এবং দুটি ইভেন্টে ডিসকোয়ালিফাই হয়েছে, তাই তাকে দলে নেওয়া যায় না। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষিতীশ সিংহকে অপমান করা এবং অ্যাপোলো ক্লাবকে সুযোগ না দেওয়া। এই দলাদলির কারণে কোনির মতো একজন প্রতিভাবান সাঁতারুর জাতীয় স্তরে অংশ নেওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত, বালিগঞ্জ ক্লাবের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাসের প্রচেষ্টায় কোনি বাংলা দলে সুযোগ পায়। তিনি সভায় জোরালোভাবে বলেন যে, বাংলার স্বার্থে এবং মহারাষ্ট্রের রমা যোশিকে হারানোর জন্য কোনিকে দলে রাখা প্রয়োজন। তিনি তার নিজের সাঁতারুদের দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিলে নির্বাচকরা কোনিকে দলে নিতে বাধ্য হন। -
'এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক'-কী বুকের মধ্যে পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে এবং কেন? (ELITE CO-ED. (H.S.) / SPRINGDALE HIGH SCHOOL (H.S.) / তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবন - 2017)
উত্তর: এখানে কোনির প্রতিদ্বন্দ্বী হিয়া মিত্রের প্রতি তার হিংস্র আক্রোশ বা রাগ বুকের মধ্যে পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় একটি ঘটনায় হিয়া জল দিতে এলে কোনি তা প্রত্যাখ্যান করে এবং অপমানজনক আচরণ করে। এই ঘটনার পর ক্ষিতীশ যখন বুঝতে পারেন যে হিয়াই কোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চলেছে, তখন তিনি কোনির এই রাগ বা জেদকে নিভিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি।
কারণ: ক্ষিতীশ একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে জানতেন যে, একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্যের জন্য তার মধ্যে প্রচণ্ড জেদ এবং জয়ের খিদে থাকা দরকার। প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি এই রাগ বা আক্রোশ কোনিকে অনুশীলনে আরও বেশি মনোযোগী করে তুলবে এবং প্রতিযোগিতার সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য ভেতর থেকে তাড়না জোগাবে। এই মানসিক শক্তিকে তিনি কোনির সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি ভেবেছিলেন, এই আক্রোশটা "বোমার মতো ফেটে পড়বে আসল সময়ে", অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মাঠে। -
'ফাইট কোনি ফাইট'-এই উক্তিটি উপন্যাসের মূলমন্ত্র কীভাবে হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো। (ELITE CO-ED. (H.S.) / JALPAIGURI ZILLA SCHOOL / মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম বিবেকানন্দ বিদ্যালয় / নাকতলা হাই স্কুল - 2017)
উত্তর: 'ফাইট কোনি ফাইট' - এই উক্তিটি মতি নন্দীর 'কোনি' উপন্যাসের মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে, কারণ এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক কিশোরীর অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক।
১. জীবনের লড়াই: শ্যামপুকুরের বস্তিতে বেড়ে ওঠা কোনির জীবনটাই ছিল একটা লড়াই। দারিদ্র্য, খিদে এবং সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাকে প্রতিদিন লড়তে হয়েছে। "ফাইট" শব্দটি তার এই জীবন সংগ্রামেরই প্রতিধ্বনি।
২. প্রশিক্ষকের মন্ত্র: প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ এই মন্ত্রটি কোনির মনে গেঁথে দিয়েছিলেন। তিনি শিখিয়েছিলেন যে, সাঁতারের লড়াইটা শুধু শারীরিক শক্তির নয়, মানসিক জেদেরও। যন্ত্রণা, ক্লান্তি এবং হতাশার মুহূর্তে এই মন্ত্রই কোনিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।
৩. প্রতিযোগিতার লড়াই: উপন্যাসের ক্লাইম্যাক্সে, জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় যখন বাংলাকে জেতানোর সমস্ত আশা শেষ হয়ে যাচ্ছিল, তখন ক্ষিতীশের এই চিৎকারই কোনিকে অসাধ্য সাধন করতে উদ্বুদ্ধ করে। এই স্লোগান শুনেই সে শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্যভাবে রমা যোশিকে হারিয়ে দেয়।
৪. সর্বজনীন আবেদন: 'কোনি' শুধু একজন সাঁতারুর গল্প নয়। এটি সমস্ত প্রান্তিক মানুষের লড়াইয়ের গল্প। তাই "ফাইট কোনি ফাইট" স্লোগানটি সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার এক সর্বজনীন মন্ত্রে পরিণত হয়েছে। -
'ওই জলের নীচে লুকিয়েছিলুম।' -কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এমন উক্তি করেছেন? তাঁর এই কথা বলার কারণ কী? (BURDWAN MUNICIPAL GIRLS' HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় রিলে রেসে রমা যোশিকে হারিয়ে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করার পর কোনি যখন তার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহকে জিজ্ঞাসা করে যে তিনি কোথায় ছিলেন, সেই প্রসঙ্গে ক্ষিতীশ এই উক্তিটি করেন।
এই কথা বলার কারণ হলো, ক্ষিতীশ বোঝাতে চেয়েছিলেন যে তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও মানসিকভাবে এবং তার আদর্শের মাধ্যমে তিনি সব সময় কোনির সঙ্গে ছিলেন। কোনির লড়াইটা আসলে ছিল ক্ষিতীশেরই লড়াই। সাঁতারের সময় কোনি যে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করছিল, সেই যন্ত্রণার রূপ ধরেই ক্ষিতীশ তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, "ওইটেই তো আমি রে, যন্ত্রণাটাই তো আমি।" অর্থাৎ, যন্ত্রণাকে জয় করার যে শিক্ষা তিনি কোনিকে দিয়েছিলেন, সেই শিক্ষাই তার অদৃশ্য উপস্থিতি হিসেবে কাজ করেছে। -
'কাজটা থেকে বরখাস্ত হলে চল্লিশটা টাকা থেকে তাদের সংসার বঞ্চিত হবে।'- কোন্ কাজের কথা এখানে বলা হয়েছে? কাজ থেকে বরখাস্ত হওয়ার আশংকার কারণ কী ছিল? (BARISHA HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: এখানে ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতীর 'প্রজাপতি' নামক দর্জির দোকানে কোনির কাজের কথা বলা হয়েছে।
একদিন সকালে প্রশিক্ষণের সময় ক্ষিতীশ কোনিকে তার ক্ষমতার বাইরে গিয়েও অতিরিক্ত অনুশীলন করতে বাধ্য করেন। এর ফলে কোনি অত্যন্ত ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। এরপর দোকানে গিয়ে সে কাজে মন দিতে পারছিল না, ক্লান্তিতে ঝিমোচ্ছিল এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ঘুমিয়ে পড়ছিল। তার এই অবস্থা দেখে লীলাবতী অত্যন্ত বিরক্ত হন এবং তাকে দোকান থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এই কারণে কোনির মনে কাজ থেকে বরখাস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কারণ ওই চল্লিশটি টাকা তার দরিদ্র সংসারের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। -
'ঠিক সেই সময়েই কোনি ছুটে এসে ওকে চড় মারল!' ঘটনাটা কী ঘটেছিল, নিজের ভাষায় লেখো। (দেবীশ্বরী বিদ্যানিকেতন - 2017)
উত্তর: ঘটনাটি ঘটেছিল মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা চলাকালীন। বেলার ক্রিমের কৌটো থেকে ক্রিম কমে যাওয়ায় সে কোনিকে চোর সন্দেহ করে। কোনি সত্যি কথা বললেও কেউ তাকে বিশ্বাস করে না এবং বেলা তাকে চড় মারে।
পরে হিয়া ফিরে এসে স্বীকার করে যে, সেই ক্রিম নিয়েছিল এবং কোনির মুখেও মাখিয়ে দিয়েছিল। সত্যিটা প্রকাশ পাওয়ার পর সবাই চুপ করে যায়। কিন্তু বেলা তখন নিজের দোষ ঢাকার জন্য হিয়ার ওপর বিরক্ত হয়ে বলে যে, পরের জিনিস না বলে ব্যবহার করা অন্যায়। হিয়া তখন হাসিমুখে বেলাকে একটি নতুন ক্রিমের কৌটো কিনে দেওয়ার কথা বলে।
ঠিক সেই সময়েই, নিজের অপমানের প্রতিশোধ নিতে কোনি ছুটে এসে হিয়াকে একটি চড় মারে এবং বলে যে, হিয়ার জন্যই তাকে চড় খেতে ও চোর বদনাম পেতে হয়েছে। -
'কোনি ঘুরে দাঁড়াল'-কার কোন কথায় কোনি ঘুরে দাঁড়াল? ঘুরে দাঁড়িয়ে সে কী করল? আর এই ঘুরে দাঁড়ানোর অর্থ বুঝিয়ে দাও। (ELITE CO-ED. (H.S.) - 2017)
উত্তর: রবীন্দ্র সরোবরে এক মাইল সাঁতার প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়ার পর কোনি যখন তার দাদা কমলের সঙ্গে ফিরে যাচ্ছিল, তখন ক্ষিতীশ সিংহ তাকে সাঁতার শেখার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন যে, লাল কস্টিউম পরা মেয়েটি (হিয়া মিত্র) সাঁতার শিখেছে বলেই তাকে হারিয়েছে, শিখলে সেও হারাতে পারবে।
ক্ষিতীশের এই কথায় কোনি ঘুরে দাঁড়ায়। তার চোখে জল থাকলেও চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে, যা তার ভেতরের জেদ ও সংকল্পকে প্রকাশ করে।
এই 'ঘুরে দাঁড়ানো' শুধু শারীরিক ভঙ্গি ছিল না, এটি ছিল অপমান এবং পরাজয়ের বিরুদ্ধে কোনির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক। এটি তার জীবনের এক সন্ধিক্ষণ, যেখান থেকে তার সাধারণ মেয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হয়ে ওঠার লড়াই শুরু হয়েছিল। এই ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্যেই তার ভবিষ্যৎ জয়ের সংকল্প লুকিয়ে ছিল। -
'কোনি মাদ্রাজ যাওয়ার মনোনয়ন অবশেষে পেল।'-মাদ্রাজে কী ছিল? 'অবশেষে' শব্দটি ব্যবহারের যৌক্তিকতা বুঝিয়ে দাও। (হাবড়া হাই স্কুল (উঃ মাঃ) - 2017)
উত্তর: মাদ্রাজে জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
'অবশেষে' শব্দটি ব্যবহারের কারণ হলো, বাংলা সাঁতার দলে কোনির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা এবং নোংরা রাজনীতি চলছিল। স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে চক্রান্ত করে হারিয়ে দেওয়ার পর জুপিটার ক্লাবের কর্মকর্তারা তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। সিলেকশন কমিটিতে তাকে না নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রণবেন্দু বিশ্বাসের জোরালো প্রতিবাদ এবং যুক্তির কাছে কর্মকর্তারা হার মানতে বাধ্য হন। দীর্ঘ টালবাহানা, দলাদলি এবং অনিশ্চয়তার পর কোনি দলে সুযোগ পায়, তাই লেখক এখানে 'অবশেষে' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা তার মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ের তীব্রতাকে নির্দেশ করে। -
'একজন জেদি, একরোখা, অভিজ্ঞ গুরু হওয়া সত্ত্বেও ক্ষিতীশ ছিলেন স্নেহশীল পিতার মতো।' 'কোনি' রচনা অবলম্বনে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো। (হাবড়া হাই স্কুল (উঃ মাঃ) - 2017)
উত্তর: মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ। ক্ষিতীশ সিংহ বাইরে থেকে কঠোর, জেদি এবং একরোখা প্রশিক্ষক হলেও তার অন্তরে ছিল এক স্নেহশীল পিতার হৃদয়।
কঠোরতা: তিনি কোনির অনুশীলনে কোনো রকম আপস করতেন না। রুটিনমাফিক কঠোর অনুশীলনের জন্য তিনি কোনিকে শাসন করতেন, এমনকি মারতেও উদ্যত হতেন। তার লক্ষ্য ছিল কোনির মধ্য থেকে সেরাটা বের করে আনা।
স্নেহশীলতা: এই কঠোরতার আড়ালেই ছিল তার পিতৃসুলভ স্নেহ। তিনি কোনির শুধু সাঁতারের প্রশিক্ষক ছিলেন না, তার অভিভাবকও ছিলেন। তিনি কোনির খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখতেন। দাদার মৃত্যুর পর যখন কোনি অসহায় হয়ে পড়ে, তখন ক্ষিতীশই তার পাশে দাঁড়ান। কোনির অপমানে তিনি নিজে অপমানিত বোধ করতেন এবং তার সাফল্যে শিশুর মতো আনন্দে লাফিয়ে উঠতেন। তার শাসন ও স্নেহ—উভয়েরই লক্ষ্য ছিল একটাই: কোনিকে একজন সফল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। -
'দাঁড়া তোর ওষুধ আমি পেয়েছি'- এখানে কাকে ওষুধ বলা হয়েছে? তাকে ওষুধের সঙ্গে তুলনা করার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়? (হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন - 2017)
উত্তর: এখানে হিয়া মিত্রকে 'ওষুধ' বলা হয়েছে।
কোনি অনুশীলনের সময় প্রায়ই ফাঁকি দিত এবং কঠোর পরিশ্রমে আপত্তি করত। ক্ষিতীশ বুঝতে পারছিলেন যে, কোনিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি শক্তিশালী প্রেরণা বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রয়োজন। যখন তিনি জানতে পারেন যে, রবীন্দ্র সরোবরের প্রতিযোগিতায় হিয়া মিত্রের কাছে হেরেই কোনি অপমানিত বোধ করেছিল এবং চিড়িয়াখানায় তার প্রতি তীব্র বিদ্বেষ প্রকাশ করেছিল, তখন তিনি হিয়াকে কোনির 'ওষুধ' হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তাকে 'ওষুধ' বলার কারণ হলো, ক্ষিতীশ মনে করেছিলেন, হিয়াকে হারানোর জেদটাই হবে কোনির আসল চালিকাশক্তি। যেমন তেতো ওষুধ রোগ সারায়, তেমনই হিয়ার প্রতি এই বিদ্বেষই কোনির আলস্য এবং ফাঁকিবাজির 'রোগ' সারিয়ে তুলবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব তাকে অনুশীলনে আরও বেশি কঠোর এবং মনোযোগী করে তুলবে, যা তার সাফল্যের জন্য অপরিহার্য ছিল।