গল্প: জ্ঞানচক্ষু (Gyanchokkhu)
গল্পের সারসংক্ষেপ
আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটি তপন নামের এক কিশোরকে কেন্দ্র করে লেখা। তপন তার নতুন লেখক মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গল্প লেখে। তার ছোটোমাসি সেই গল্প মেসোকে দেখালে তিনি প্রশংসা করেন এবং 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেন।
গল্প ছাপার উত্তেজনায় তপন দিন গোনে। কিন্তু গল্পটি যখন ছাপা হয়ে আসে, তখন সে দেখে তার মেসোমশাই কাঁচা লেখাটির প্রায় পুরোটাই সংশোধন করে দিয়েছেন। নিজের লেখা পড়তে গিয়ে সে দেখে সেখানে তার কৃতিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। এই ঘটনায় তার মোহভঙ্গ হয়। তার ভেতরের লেখকসত্তা অপমানিত ও ব্যথিত হয়। এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তপনের প্রকৃত 'জ্ঞানচক্ষু' বা আত্মোপলব্ধি ঘটে। সে সংকল্প করে, যদি ভবিষ্যতে কখনও লেখে, তবে নিজে গিয়েই ছাপতে দেবে, যাতে তার লেখার কৃতিত্ব অন্য কেউ না নিতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)
-
"সূচিপত্রেও নাম রয়েছে।" নামটি হল- (BANKURA ZILLA SCHOOL - 2017)
উত্তর: (খ) প্রথম দিন
-
ছোটোমাসির ও তপনের বয়সের পার্থক্য- (BARISHA HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: (খ) আট বছর (গল্পে বলা হয়েছে "বছর আষ্টেকের বড়ো")
-
ছোটোমাসিই ওর চিরকালের বন্ধু, বয়সে বছর ______ বড়ো হলেও সমবয়সি। (দেবীশ্বরী বিদ্যানিকেতন - 2017)
উত্তর: (ক) আষ্টেকের
-
'ওমা এতো বেশ লিখেছিস রে'?- কথাটা তপনের মাসি বলে- (ELITE CO-ED. (H.S.) - 2017)
উত্তর: (ঘ) কৌতুকের সুরে
-
ছোটোমাসি ডিমভাজার সঙ্গে কী খায়? (হাবড়া হাই স্কুল (উঃ মাঃ) - 2017)
উত্তর: (ক) চা
-
'আরে বাবা খেপছিস কেন'-কথাটি বলে- (হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন - 2017)
উত্তর: (গ) ছোটোমাসি
-
"ক্রমশঃ ও কথাটা ছড়িয়ে পড়ে"- যে কথাটা ছড়িয়ে পড়ে সেটা হল- (JALPAIGURI ZILLA SCHOOL - 2017)
উত্তর: (গ) তপনের লেখা গল্প ছোটোমেসোর কারেকশান করে দেওয়ার কথা
-
'তা নইলে ফট করে একটা লিখল, আর ছাপা হল'-বক্তা কে? (KRISHNANAGAR COLLEGIATE SCHOOL - 2017)
উত্তর: (খ) তপনের বাবা
-
তপনের লেখা গল্প তার মেসোমশায়কে কে দিয়েছিলেন?- (KAMALPUR NETAJI HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: (গ) ছোটোমাসি
-
'মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা'-উপযুক্ত কাজটি হল- (মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম বিবেকানন্দ বিদ্যালয় - 2017)
উত্তর: (গ) পত্রিকায় গল্প ছাপিয়ে দেওয়া
-
তপনের লেখা গল্পটি যে পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল- (নাকতলা হাই স্কুল - 2017)
উত্তর: (খ) সন্ধ্যাতারা
-
'কীরে তোর যে দেখি পায়া ভারী হয়ে গেল'-'পায়া ভারী' কথার অর্থ- (PRAFULLANAGAR VIDYAMANDIR (H.S.) - 2017)
উত্তর: (ঘ) অহংকারী হয়ে যাওয়া
-
'ছাপা হয় হোক, না হয় না হোক'- তপনের কোন মনোভাব ফুটে উঠেছে? (SPRINGDALE HIGH SCHOOL (H.S.) - 2017)
উত্তর: (ক) অভিমান
-
"ছোটোমাসি আর মেসো একদিন বেড়াতে এল, হাতে এক সংখ্যা”- (SOUTH POINT SCHOOL - 2017)
উত্তর: (খ) সন্ধ্যাতারা
-
'সূচিপত্রেও নাম রয়েছে'-নামটি কী? (তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবন - 2017)
উত্তর: (ঘ) শ্রী তপন কুমার রায়
-
'কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল'-কথাটা হল- (বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ (বয়েজ) - 2017)
উত্তর: (গ) তপনের মেসো একজন লেখক
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
-
"রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।"-কথাটির সরল অর্থ কী? (BANKURA ZILLA SCHOOL - 2017)
উত্তর: কথাটির সরল অর্থ হলো, কোনো মূল্যবান জিনিসের প্রকৃত কদর একজন গুণী বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিই করতে পারেন। 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে, তপনের লেখা গল্পের সঠিক মূল্যায়ন তার লেখক মেসোমশাই করতে পারবেন, এই বিশ্বাসেই ছোটোমাসি কথাটি বলেছিল।
-
'সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।' 'দুর্লভ জিনিসটা' কী? (BURDWAN MUNICIPAL GIRLS' HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: এখানে 'দুর্লভ জিনিস' বলতে একজন সত্যিকারের লেখককে চাক্ষুষ দেখার সুযোগকে বোঝানো হয়েছে। তপনের কাছে লেখকরা ছিলেন এক কাল্পনিক জগতের বাসিন্দা, তাই একজন লেখককে একেবারে সামনে থেকে দেখা তার কাছে এক দুর্লভ অভিজ্ঞতা ছিল।
-
তপনের লেখা গল্পের কথা শুনে মেজোকাকু কী বলেছিল? (BARISHA HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: তপনের লেখা গল্পের কথা শুনে তার মেজোকাকু ঠাট্টা করে বলেছিলেন, "ওমা, এ তো বেশ লিখেছিস রে! কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?"
-
'গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের' কেন? (দেবীশ্বরী বিদ্যানিকেতন - 2017)
উত্তর: নিজের লেখা গল্প প্রথমবার অন্যের মুখে শোনার রোমাঞ্চকর এবং শিহরণ জাগানো অনুভূতিতেই তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।
-
'মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন'-কার, কোন্ দিনটি সবচেয়ে দুঃখের? (তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবন - 2017)
উত্তর: এই অনুভূতি গল্পের নায়ক তপনের। যেদিন 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় তার লেখা গল্পটি ছাপা হয়েছিল, সেই দিনটিই তার কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে হয়েছিল। কারণ সে দেখেছিল, তার লেখা গল্পটি মেসোমশাইয়ের সংশোধনের পর সম্পূর্ণ বদলে গেছে, যা তার আত্মসম্মানে আঘাত করেছিল।
-
তপনের সম্পূর্ণ নাম কী ছিল? (ELITE CO-ED. (H.S.) - 2017)
উত্তর: তপনের সম্পূর্ণ নাম ছিল শ্রীতপনকুমার রায়।
-
তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল কীভাবে? (হাবড়া হাই স্কুল (উঃ মাঃ) - 2017)
উত্তর: তপন যখন দেখল যে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা হওয়া তার গল্পটি তার নতুন মেসোমশাই আগাগোড়া সংশোধন করে দিয়েছেন এবং তাতে তার নিজের লেখার লেশমাত্র নেই, তখন তার মোহভঙ্গ হয়। এই উপলব্ধি তার জ্ঞানচক্ষু খুলে দেয়।
-
'এর মধ্যে তপন কোথা?' উক্তিটিতে কী বোঝানো হয়েছে? (হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন - 2017)
উত্তর: এই উক্তিটির মাধ্যমে তপনের মোহভঙ্গের যন্ত্রণা প্রকাশ পেয়েছে। 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা গল্পটি পড়তে গিয়ে তপন উপলব্ধি করে যে, তার লেখা গল্পটি মেসোমশাই এমনভাবে সংশোধন করেছেন যে সেটি আর তার নিজের লেখা বলে মনে হচ্ছে না। তাই তার মনে হয়েছিল, এই সংশোধিত লেখার মধ্যে আসল লেখক তপনের কোনো অস্তিত্বই নেই।
-
'শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন”- তপনের সংকল্প কী ছিল? (JALPAIGURI ZILLA SCHOOL - 2017)
উত্তর: তপনের সংকল্প ছিল যে, এরপর যদি কখনও লেখা ছাপাতে হয়, তবে সে নিজে গিয়ে ছাপতে দেবে। নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হোক বা না হোক, তাতে তার কোনো দুঃখ থাকবে না, কিন্তু অন্যের হাতে সংশোধনের নামে নিজের লেখার কৃতিত্ব সে আর হারাতে চায় না।
-
"এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?"-ঘটনাটি কী? (SOUTH POINT SCHOOL - 2017)
উত্তর: ঘটনাটি হলো তপনের মতো এক সাধারণ কিশোরের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হতে পারে। তার লেখক মেসো যখন গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন নিজের লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা তপনের কাছে এক অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল।
-
'ক্রমশঃ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে'- কোন কথাটা? (KAMALPUR NETAJI HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: এখানে তপনের লেখা 'প্রথম দিন' গল্পটি তার নতুন মেসোমশাই সামান্য 'কারেকশান' করে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন—এই কথাটা সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে।
-
'এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের'- তপনের কোন্ বিষয়ে সন্দেহ ছিল? (নাকতলা হাই স্কুল / SPRINGDALE HIGH SCHOOL (H.S.) - 2017)
উত্তর: তপনের সন্দেহ ছিল যে, লেখকরাও তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতোই সাধারণ মানুষ, নাকি তারা অন্য কোনো জগতের প্রাণী। তার নতুন লেখক মেসোকে কাছ থেকে দেখার পর তার সেই সন্দেহ দূর হয়।
প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর
-
'পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে।'- কোন ঘটনাকে কেন অলৌকিক বলা হয়েছে? (BURDWAN MUNICIPAL GIRLS' HIGH SCHOOL / মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম বিবেকানন্দ বিদ্যালয় - 2017)
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে, একজন লেখকের সঙ্গে তার ছোটোমাসির বিয়ে হওয়াকে তপনের কাছে 'অলৌকিক ঘটনা' বলে মনে হয়েছিল।
তপনের কাছে লেখকেরা ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরের, অন্য জগতের মানুষ। তাই তাদের মতো একজন যে তার পরিবারের সদস্য হতে পারে, এত কাছ থেকে তাকে দেখা যাবে—এই বিষয়টি তার কাছে এক অবিশ্বাস্য বা অলৌকিক ঘটনার মতোই ছিল। -
তপনের লেখা গল্পটির নাম কী? সেটি কে, কোন পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করেছিলেন? (BARISHA HIGH SCHOOL - 2017)
উত্তর: তপনের লেখা প্রথম গল্পটির নাম ছিল 'প্রথম দিন'।
তপনের ছোটোমাসি গল্পটি তার স্বামী অর্থাৎ তপনের নতুন মেসোমশাইকে দিয়েছিলেন। মেসোমশাই, যিনি ছিলেন একজন অধ্যাপক ও লেখক, গল্পটি পড়ে প্রশংসা করেন এবং 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় সেটি ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেন।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
-
'তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।'- তপনের এরূপ মনে হওয়ার কারণ কী? (BARISHA HIGH SCHOOL / তারাসুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবন - 2017)
উত্তর: তপন নামের এক কিশোরের লেখা গল্প 'প্রথম দিন' তার লেখক মেসোর দৌলতে 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। যে দিনটি তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, সেটিই সবচেয়ে দুঃখের দিনে পরিণত হয়।
কারণ: তপন যখন ছাপা গল্পটি পড়তে শুরু করে, তখন সে উপলব্ধি করে যে, তার মেসোমশাই 'কারেকশন' বা সংশোধনের নামে পুরো গল্পটিই নতুন করে লিখেছেন। সেখানে তার নিজের লেখার মৌলিকতা বা ভাষার কোনো অস্তিত্ব নেই। সবাই যখন মেসোর মহানুভবতার প্রশংসা করছিল, তখন তপনের কাছে তা অপমানের মতো মনে হচ্ছিল। নিজের কৃতিত্বের জায়গায় অন্যের কৃতিত্বের জাহির এবং তার লেখকসত্তার এই অপমান তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। এই মোহভঙ্গের কারণেই তার মনে হয়েছিল দিনটি তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। -
'এসব কী পড়ছে তপন?' এই প্রশ্ন তপনের মনে কেন জেগেছিল? (দেবীশ্বরী বিদ্যানিকেতন - 2017)
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে তপনের লেখা 'প্রথম দিন' গল্পটি তার মেসোমশাইয়ের সংশোধনের পর 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বাড়িতে সবাই যখন সেই লেখা নিয়ে উচ্ছ্বসিত, তখন তপন নিজে গল্পটি পড়তে গিয়ে চরম হতাশ হয়।
সে আবিষ্কার করে, ছাপা হওয়া লেখাটির প্রতিটি লাইন তার কাছে অপরিচিত ঠেকছে। তার লেখা কাঁচা ভাষার পরিবর্তে মেসোর পাকা হাতের কলমের ছোঁয়ায় গল্পটি সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিয়েছে। নিজের লেখার সঙ্গে ছাপা লেখার কোনো মিল খুঁজে না পেয়ে তার মনে হয়েছিল, সে যেন অন্য কারও লেখা পড়ছে। এই কারণেই তার মনে প্রশ্ন জেগেছিল, "এসব কী পড়ছে তপন?"। এই প্রশ্নের মধ্যে তার মোহভঙ্গ এবং আত্ম-অপমানের যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল। -
'গভীরভাবে সঙ্কল্প করে তপন'। তপন কে? সে কী সংকল্প করে? তার সংকল্পের কারণ কী? (ELITE CO-ED. (H.S.) - 2017)
উত্তর: তপন হল আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র, এক কিশোর ছাত্র যে প্রথমবার গল্প লিখেছিল।
সংকল্প: তপন সংকল্প করে যে, এরপর যদি কখনও লেখা ছাপাতে হয়, তবে সে নিজে গিয়ে পত্রিকার দপ্তরে জমা দেবে। তার কাঁচা লেখা যদি ছাপা না-ও হয়, তাতে তার কোনো দুঃখ নেই।
সংকল্পের কারণ: তপনের প্রথম গল্প 'প্রথম দিন' তার লেখক মেসোমশাই 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন। কিন্তু তপন পরে আবিষ্কার করে যে, মেসোমশাই সংশোধনের নামে পুরো গল্পটাই বদলে দিয়েছেন। সবাই যখন মেসোর কৃতিত্বের প্রশংসা করছিল, তখন তপনের মনে হয়েছিল এর চেয়ে বড় অপমান আর কিছু হতে পারে না। এই আত্ম-অপমান এবং মোহভঙ্গের যন্ত্রণা থেকেই সে এই গভীর সংকল্প গ্রহণ করেছিল, যাতে ভবিষ্যতে তার লেখার কৃতিত্ব অন্য কেউ নিতে না পারে। -
'তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের।'—কার এই অনুভূতি? কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার এই অনুভূতি হয়েছিল তা কাহিনি অনুসারে নিজের ভাষায় আলোচনা করো। (KRISHNANAGAR COLLEGIATE SCHOOL - 2017)
উত্তর: এই অনুভূতিটি 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপনের।
তপনের লেখা প্রথম গল্প 'প্রথম দিন' তার লেখক মেসোমশাই 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর তপন দেখে যে, তার মেসো সংশোধনের নামে গল্পটিকে আগাগোড়া বদলে দিয়েছেন। তার নিজের লেখার কোনো চিহ্নই সেখানে নেই।
বাড়িতে যখন সবাই এই কৃতিত্বের জন্য মেসোর প্রশংসা করছিল এবং ঠাট্টা করে বলছিল যে, এমন পাকা হাতের লেখা মেসোরই হতে পারে, তখন তপনের আত্মসম্মানে তীব্র আঘাত লাগে। নিজের লেখা গল্প অন্যের নামে প্রচারিত হতে দেখে তার মনে হয়েছিল যে, এর চেয়ে বড় দুঃখ বা অপমান আর কিছু হতে পারে না। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তার এমন অনুভূতি হয়েছিল। -
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা নিরূপণ করো। (নাকতলা হাই স্কুল - 2017)
উত্তর: 'জ্ঞানচক্ষু' শব্দটির অর্থ হলো অন্তরদৃষ্টি বা আত্মোপলব্ধি, যার মাধ্যমে কোনো বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ বোঝা যায়। আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে কিশোর তপনের তিনবার জ্ঞানচক্ষুর উন্মোচন ঘটেছে।
প্রথম জ্ঞানচক্ষু: তপনের ধারণা ছিল লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন, তারা অন্য জগতের প্রাণী। কিন্তু তার নতুন লেখক মেসোকে কাছ থেকে দেখে তার এই ধারণা ভাঙে। এটা ছিল তার প্রথম জ্ঞানচক্ষুর উন্মোচন।
দ্বিতীয় জ্ঞানচক্ষু: নিজের লেখা গল্প 'প্রথম দিন' যখন সে লেখে, তখন তার দ্বিতীয় জ্ঞানচক্ষু খোলে। সে বোঝে যে, গল্প লেখা খুব কঠিন কাজ নয়, যে কেউ চেষ্টা করলে লিখতে পারে।
তৃতীয় ও প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু: গল্পটি 'সন্ধ্যাতারা' পত্রিকায় মেসোর সংশোধনের পর প্রকাশিত হলে তপন তার প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু ফিরে পায়। সে উপলব্ধি করে যে, ছাপা হওয়া গল্পটি তার নিজের লেখা নয়, পুরোটাই মেসোর কৃতিত্ব। এই আত্ম-অপমানের মধ্য দিয়ে সে বাইরের জগতের কঠোর বাস্তবতাকে চিনতে পারে। সে সংকল্প করে, এরপর থেকে নিজের লেখার ভার আর কাউকে দেবে না।
যেহেতু গল্পের শেষে তপনের এই যন্ত্রণাদায়ক আত্মোপলব্ধিই প্রধান হয়ে উঠেছে, তাই গল্পের নামকরণ 'জ্ঞানচক্ষু' অত্যন্ত সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়। -
'কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের।'-কেন? (RAIGANJ GIRLS' HIGH SCHOOL (H.S.) - 2017)
উত্তর: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নায়ক কিশোর তপনের ধারণা ছিল যে, লেখকেরা আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো নন; তারা যেন আকাশ থেকে পড়া কোনো অন্য জগতের জীব। তাদের চালচলন, জীবনযাত্রা সবকিছুই সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা।
কিন্তু তার ছোটোমাসির বিয়ে হয় একজন লেখকের সঙ্গে। সেই নতুন মেসোমশাইকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় তপন। সে দেখে, তার মেসো তার বাবা বা ছোটোমামার মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, ঘুমান এবং সাধারণ মানুষের মতোই আচরণ করেন। একজন লেখককে এত কাছ থেকে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে দেখে তপনের পূর্বের ধারণা ভেঙে যায়। সে বুঝতে পারে, লেখকরাও সাধারণ মানুষ। এই উপলব্ধিকেই তার 'জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়া' বলা হয়েছে।