কবিতা: অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (Ostrer Biruddhe Gaan)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

কবিতার সারসংক্ষেপ

জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিরোধী কবিতা। কবি এখানে অস্ত্রের আস্ফালনের বিরুদ্ধে গানকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি যুদ্ধবাজ পৃথিবীকে 'অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে' বলে আহ্বান জানিয়েছেন।

কবি নিজে 'গানের বর্ম' পরেছেন, যা তাঁকে হিংসার বুলেট থেকে রক্ষা করে। তিনি জানেন, তাঁর সম্বল সামান্য 'একটা দুটো' গান, কিন্তু সেই 'খড়কুটো'-ই তাঁর বেঁচে থাকার আশ্রয়। যুদ্ধের প্রতীক 'শকুন বা চিল'-এর বিপরীতে তাঁর 'একটা কোকিল' জীবনের সহস্র সুর বেঁধে তোলে। কবিতাটিতে 'গান' এক 'ঋষিবালক'-এর প্রতীকে উন্নীত হয়েছে, যার মাথায় ময়ূরপালক গোঁজা। এই পবিত্র গানই পারে হিংসাদীর্ণ মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নদীর ও দেশগাঁয়ের শান্তিময় জীবনে। তাই কবির চূড়ান্ত আবেদন, সমস্ত অস্ত্র যেন এই পবিত্র 'গানের দুটি পায়ে' সমর্পণ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)

  1. কবি কীসের বর্ম গায়ে পরেছেন?

    • (ক) লোহার
    • (খ) গানের
    • (গ) পাতার
    • (ঘ) বুলেটপ্রুফ

    উত্তর: (খ) গানের ("গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে")

  2. "মাথায় কত শকুন বা চিল / আমার শুধু একটা..." - কী?

    • (ক) পায়রা
    • (খ) চড়ুই
    • (গ) কোকিল
    • (ঘ) ময়ূর

    উত্তর: (গ) কোকিল ("আমার শুধু একটা কোকিল")

  3. "গান দাঁড়াল..." - কী রূপে?

    • (ক) দেবদূত
    • (খ) ঋষিবালক
    • (গ) সৈনিক
    • (ঘ) রাজা

    উত্তর: (খ) ঋষিবালক ("গান দাঁড়াল ঋষিবালক")

  4. ঋষিবালকের মাথায় কী গোঁজা?

    • (ক) ফুলের তোড়া
    • (খ) পাখির পালক
    • (গ) ময়ূরপালক
    • (ঘ) খড়কুটো

    উত্তর: (গ) ময়ূরপালক ("মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক")

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

  1. "আঁকড়ে ধরে সে-খড়কুটো" - 'সে-খড়কুটো' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (MADHYAMIK - 2024 External)

    উত্তর: 'সে-খড়কুটো' বলতে কবি তাঁর জানা 'একটা দুটো' গানকে বুঝিয়েছেন, যা যুদ্ধের হিংসা ও রক্তের মধ্যে তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন বা আশ্রয়।

  2. অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি কোকিল কীভাবে গান বাঁধবে? (MADHYAMIK - 2025)

    উত্তর: 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতা অনুসারে, কোকিলটি 'সহস্র উপায়ে' বা হাজারো সুরে গান বাঁধবে, যা হিংসা ও মৃত্যুর (শকুন বা চিল) ঊর্ধ্বে জীবনের জয়গান গাইবে।

  3. কবি 'হাত নাড়িয়ে' কী তাড়ান?

    উত্তর: কবি 'হাত নাড়িয়ে' হিংস্র বুলেটকে তাড়ান ("হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই")।

  4. "রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে" - কথাটির অর্থ কী?

    উত্তর: যুদ্ধের হিংসায় যে রক্তপাত হয়, কবি তা গানের স্নিগ্ধ প্রলেপ দিয়ে মুছে ফেলতে চান। অর্থাৎ, তিনি সংগীতের মাধ্যমে হিংসা ও যুদ্ধের ক্ষত নিরাময় করতে চান।

প্রসঙ্গ নির্দেশ করে কমবেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর

  1. "গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে" - 'গানের বর্ম' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

    উত্তর: 'গানের বর্ম' হলো কবির আত্মরক্ষার কবচ। কবি জয় গোস্বামী বিশ্বাস করেন, বুলেট বা অস্ত্রের হিংস্রতা গানের শক্তির কাছে পরাজিত হয়। গান হলো শান্তি, জীবন, সৃষ্টি ও মানবিকতার প্রতীক। যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে এই মানবিকতার বর্ম পরেই কবি প্রতিবাদে নেমেছেন এবং বুলেটকে প্রতিহত করার সাহস দেখিয়েছেন।

  2. "গান দাঁড়াল ঋষিবালক" - গানকে 'ঋষিবালক' বলার তাৎপর্য কী?

    উত্তর: 'ঋষিবালক' শব্দটি পবিত্রতা, সরলতা ও শান্তির প্রতীক। কবি গানকে 'ঋষিবালক' বলে তাকে এক শান্তিময়, পবিত্র রূপদান করেছেন। ঋষিবালকের মাথায় যেমন হিংসার চিহ্ন থাকে না, থাকে 'ময়ূরপালক', তেমনই গানও হিংসামুক্ত। এই ঋষিবালকরূপী গানই পারে যুদ্ধবাজ মানুষকে 'নদীতে, দেশগাঁয়ে' অর্থাৎ প্রকৃতির শান্তিময় কোলে ফিরিয়ে আনতে।

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

  1. 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতার মূলবক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো। (Important)

    উত্তর: জয় গোস্বামীর 'অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান' কবিতাটি যুদ্ধবিরোধী এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। বর্তমান পৃথিবীর অস্ত্রের আস্ফালন ও হিংস্রতার বিরুদ্ধে কবি গানকে একমাত্র আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    কবি যুদ্ধবাজ পৃথিবীকে 'অস্ত্র ফ্যালো' বলে আহ্বান জানান। তিনি হিংসার বুলেটকে প্রতিহত করার জন্য 'গানের বর্ম' পরিধান করেন। তিনি জানেন, তাঁর সম্বল সামান্য 'একটা দুটো' গান, কিন্তু সেই 'খড়কুটো'-ই তাঁর বেঁচে থাকার আশ্রয়। যুদ্ধের আবহে যখন 'শকুন বা চিল' রূপী মৃত্যু হানা দেয়, তখন কবির 'একটা কোকিল' অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টিশীল সত্তা 'সহস্র উপায়ে' জীবনের গান বেঁধে তোলে।

    এই গানই এক পবিত্র 'ঋষিবালক'-এর রূপ ধরে মানুষকে হিংসা ত্যাগ করে 'নদীতে, দেশগাঁয়ে'-র শান্তিময় জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই কবির চূড়ান্ত আবেদন, সমস্ত ধ্বংসাত্মক অস্ত্র যেন এই পবিত্র 'গানের দুটি পায়ে' সমর্পণ করা হয় এবং পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসে।

  2. "অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে" - কবি কেন এই আহ্বান জানিয়েছেন? 'অস্ত্র' ও 'গান' শব্দদুটি কবিতায় কী কী ব্যঞ্জনায় ব্যবহৃত হয়েছে?

    উত্তর: কবি জয় গোস্বামী যুদ্ধ-হিংসাদীর্ণ পৃথিবীর মানুষকে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনার জন্য এই আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, গানই পারে অস্ত্রের আস্ফালনকে প্রতিহত করতে। তাই সমস্ত হিংসা ও ধ্বংসের প্রতীক অস্ত্রকে জীবনের প্রতীক গানের পায়ে সমর্পণ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

    অস্ত্রের ব্যঞ্জনা: কবিতায় 'অস্ত্র' শব্দটি শুধুমাত্র যুদ্ধের হাতিয়ার নয়, এটি হিংসা, ধ্বংস, মৃত্যু, অমানবিকতা এবং যান্ত্রিকতার প্রতীক। 'বুলেট', 'শকুন বা চিল' এই শব্দগুলিও অস্ত্রের অনুষঙ্গ বহন করে।

    গানের ব্যঞ্জনা: 'গান' শব্দটি এখানে শান্তি, জীবন, সৃষ্টিশীলতা, মানবিকতা ও পবিত্রতার প্রতীক। গান হলো 'বর্ম' যা হিংসাকে প্রতিহত করে। গান হলো 'খড়কুটো' যা আশ্রয় দেয়। গান হলো 'কোকিল' যা নতুন সুর সৃষ্টি করে এবং 'ঋষিবালক' যা পবিত্র ও শান্তিময় জীবনের পথ দেখায়।