অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির 'ভৌত পরিবেশ' অধ্যায়ে প্রধানত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে— মাটি, জল এবং জীববৈচিত্র্য।
মূল বিষয়বস্তু:
১. মাটি: মাটির প্রকারভেদ (এঁটেল, বেলে, দোআঁশ) ও তাদের বৈশিষ্ট্য। এঁটেল মাটিতে জল বেশি জমে। বেলে মাটি দিয়ে জল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। মাটির সজীব উপাদান (যেমন কেঁচো) মাটিকে উর্বর করে। প্লাস্টিক, পলিথিন মাটির চরম ক্ষতি করে। ভূমিকম্প, বৃষ্টি ও রোদের তাপে পাথর ফেটে কীভাবে মাটি তৈরি হয় তা বলা হয়েছে।
২. জলাশয় ও জল: পুকুর, বিল, বাঁওড়, ঝোরা ইত্যাদি জলাশয়ের পরিচয়। প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক (যেমন- পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট) উপায়ে জল শোধন। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং মাটির নীচের জল কমে যাওয়ার বিপদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পূর্ব কলকাতার জলাভূমির ইতিহাস এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৩. জীববৈচিত্র্য: উদ্ভিদ ও প্রাণীদের প্রকারভেদ। মেরুদণ্ডী প্রাণী (যাদের শিরদাঁড়া আছে, যেমন- রুই মাছ, সাপ, মানুষ) এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণী (যাদের শিরদাঁড়া নেই, যেমন- কেঁচো, চিংড়ি, শামুক)। এছাড়া লতানো গাছের আকর্ষ এবং পালিত ও বন্য প্রাণীদের পার্থক্য বোঝানো হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. মাটি: মাটির প্রকারভেদ (এঁটেল, বেলে, দোআঁশ) ও তাদের বৈশিষ্ট্য। এঁটেল মাটিতে জল বেশি জমে। বেলে মাটি দিয়ে জল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। মাটির সজীব উপাদান (যেমন কেঁচো) মাটিকে উর্বর করে। প্লাস্টিক, পলিথিন মাটির চরম ক্ষতি করে। ভূমিকম্প, বৃষ্টি ও রোদের তাপে পাথর ফেটে কীভাবে মাটি তৈরি হয় তা বলা হয়েছে।
২. জলাশয় ও জল: পুকুর, বিল, বাঁওড়, ঝোরা ইত্যাদি জলাশয়ের পরিচয়। প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক (যেমন- পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট) উপায়ে জল শোধন। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং মাটির নীচের জল কমে যাওয়ার বিপদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পূর্ব কলকাতার জলাভূমির ইতিহাস এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৩. জীববৈচিত্র্য: উদ্ভিদ ও প্রাণীদের প্রকারভেদ। মেরুদণ্ডী প্রাণী (যাদের শিরদাঁড়া আছে, যেমন- রুই মাছ, সাপ, মানুষ) এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণী (যাদের শিরদাঁড়া নেই, যেমন- কেঁচো, চিংড়ি, শামুক)। এছাড়া লতানো গাছের আকর্ষ এবং পালিত ও বন্য প্রাণীদের পার্থক্য বোঝানো হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ মাটির সজীব জৈব উপাদান কোনটি?
উত্তর: ক) কেঁচো
২ কোন মাটিতে কাদা ও বালি প্রায় সমান সমান থাকে?
উত্তর: গ) দোআঁশ মাটি
৩ নদীর বাঁকে খানিকটা জায়গা নদী থেকে আলাদা হয়ে বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হলে তাকে কী বলে?
উত্তর: গ) বাঁওড়
৪ পাহাড়ি অঞ্চলের ছোটো ঝরনাকে কী বলা হয়?
উত্তর: ক) ঝোরা
৫ দুধে লেবুর রস দিলে দুধ কেটে ছানা হয়ে যায়— এটি কীসের উদাহরণ?
উত্তর: খ) রাসায়নিক বিক্রিয়া
৬ মাছের ঘা সারাতে বা জল শোধন করতে জলে কী দেওয়া হয়?
উত্তর: গ) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট
৭ পূর্ব কলকাতার জলাভূমি মূলত কীসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: খ) নোংরা জলে মাছ চাষের জন্য
৮ লতানো গাছ (যেমন লাউ, কুমড়ো) মাচায় ওঠার জন্য সুতোর মতো কী তৈরি করে?
উত্তর: গ) আকর্ষ
৯ গন্ধগোকুল প্রাণীটিকে আর কী নামে ডাকা হয়?
উত্তর: ক) ভাম-বেড়াল
১০ নীচে দেওয়া প্রাণীগুলির মধ্যে কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
উত্তর: গ) চিংড়ি
১১ কোন প্রাণীটি বুনো হাঁস থেকে পোষ মেনেছে?
উত্তর: খ) পোষা হাঁস
১২ কোন ঔষধি গাছটি আজ হারিয়ে যাওয়ার মুখে?
উত্তর: গ) সর্পগন্ধা
১৩ টিউবওয়েল বসানোর সময় পাইপের মুখ দিয়ে প্রথমে কী ওঠে?
উত্তর: ঘ) মিহি মাটি
১৪ গ্লাসের জলে মাটি গুললে কোনটি সবার নীচে থিতিয়ে পড়ে?
উত্তর: ক) ভারি নুড়ি-কাঁকর
১৫ মাটির দানাগুলো বড়ো করে দেখার জন্য কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: গ) আতশকাচ বা লেন্স
১৬ কোন মাটির কণাগুলি সবচেয়ে মিহি এবং জল শুকোলে সিমেন্টের মতো শক্ত হয়ে যায়?
উত্তর: খ) এঁটেল মাটি
১৭ এদেশে সিমেন্টের ব্যবহার কবে থেকে জনপ্রিয় হয়েছে?
উত্তর: ক) প্রায় ৭০-৮০ বছর আগে
১৮ মাটির একটি ক্ষতিকারক ও অস্বাভাবিক উপাদান হলো—
উত্তর: ঘ) পলিথিনের কুচি
১৯ কোন মাটির মধ্য দিয়ে জল সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়?
উত্তর: খ) বেলে মাটি
২০ কোন মাটি সবচেয়ে বেশি জল ধরে রাখতে পারে?
উত্তর: ক) এঁটেল মাটি
২১ মাটির সজীব জৈব উপাদান কেঁচো পরিবেশের কী উপকার করে?
উত্তর: খ) মাটিকে উর্বর করে
২২ ধান রোয়ার জন্য জমিতে কী করতে হয়?
উত্তর: গ) জল দাঁড় করিয়ে কাদা করতে হয়
২৩ কোন ধানের চাষের জন্য আলাদা করে বীজতলা তৈরি করার দরকার হয় না?
উত্তর: ক) আউশ ধান
২৪ দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে কোন ফসলের চাষ খুব ভালো হয়?
উত্তর: খ) চা
২৫ পাহাড়ি অঞ্চলে কীভাবে চাষবাস করা হয়?
উত্তর: গ) ধাপ কেটে বা সিঁড়ির মতো জমি তৈরি করে
২৬ পাথর ফেটে প্রাকৃতিক উপায়ে মাটি তৈরি হতে কত সময় লাগে?
উত্তর: ঘ) হাজার হাজার বছর
২৭ মাটির উপরের কণা ধুয়ে বা ধসে যাওয়াকে কী বলে?
উত্তর: খ) ভূমিক্ষয়
২৮ পাহাড়ে বা পুকুরপাড়ে ভূমিক্ষয় রোধ করতে পারে কোনটি?
উত্তর: গ) গাছের শিকড় ও ঘাসের চাপড়া
২৯ সাহেববাঁধ জলাভূমিটি পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত?
উত্তর: ক) পুরুলিয়া
৩০ সাঁতরাগাছি ঝিল কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: খ) হাওড়া
৩১ রসিক বিল কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: গ) কোচবিহার
৩২ কত বছর আগে কলকাতার সব নোংরা গঙ্গায় ফেলা হতো?
উত্তর: ঘ) ৩০০ বছর আগে
৩৩ সুন্দরবনের অঞ্চলে মাটির নীচের জল কেমন হয়?
উত্তর: খ) নোনতা
৩৪ বৃষ্টির জলের প্রথম দিকে সাধারণত কী মিশে থাকে?
উত্তর: ক) সামান্য অ্যাসিড
৩৫ প্রথম কোন প্রাণী মানুষের পোষ মেনেছিল?
উত্তর: গ) কুকুর
৩৬ জলদাপাড়ার জঙ্গলে থাকা বড়ো কালো গোরুর মতো জন্তুটির নাম কী?
উত্তর: ক) গৌর বা বাইসন
৩৭ বটগাছ তার মোটা ডালের ভার সামলানোর জন্য ডাল থেকে কী নামায়?
উত্তর: গ) ঝুরি
৩৮ নিম্নলিখিত কোন মাছটি শিকারি মাছের উদাহরণ?
উত্তর: ঘ) শোল
৩৯ অমেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি?
উত্তর: খ) কেঁচো
৪০ গোরুদের ব্যথার ওষুধের কারণে বিষাক্ত মাংস খেয়ে কোন পাখি আজ প্রায় বিলুপ্ত?
উত্তর: ক) শকুন
৪১ টিকটিকি ভয় পেলে বা বিপদে পড়লে কী করে?
উত্তর: গ) লেজ খসিয়ে পালায়
৪২ বৃষ্টির আসার সম্ভাবনা বুঝতে পেরে কোন প্রাণী নিজেদের ডিম নিরাপদ উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়?
উত্তর: খ) পিঁপড়ে
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ মাটি কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: ভূমিকম্প, সূর্যের তাপ এবং প্রবল বৃষ্টিতে পাথর ফেটে গুঁড়ো হয়। হাজার হাজার বছর ধরে মস, ফার্ন ও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশে সেই গুঁড়ো পাথর মাটি তৈরি করে।
২ পলিথিন বা প্লাস্টিককে মাটির শত্রু বলা হয় কেন?
উত্তর: পলিথিন বা প্লাস্টিক মাটিতে মেশে না। এরা মাটিকে আলো-হাওয়া পেতে দেয় না এবং গাছের শিকড়গুলোকে মাটিতে সহজে ঢুকতে বাধা দেয়, তাই এদের মাটির শত্রু বলা হয়।
৩ ভূমিক্ষয় বা ধস কাকে বলে?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টি, ঝড় বা ভূমিকম্পের ফলে পাহাড়ের গায়ের বা পুকুর পাড়ের মাটি ধসে পড়ে বা সরে যায়, একেই ভূমিক্ষয় বা ধস বলে।
৪ ভূমিক্ষয় রোধ করার একটি উপায় লেখো।
উত্তর: পাহাড়ে বা নদীর পাড়ে বেশি করে গাছ লাগালে গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, ফলে ভূমিক্ষয় রোধ হয়।
৫ বাঁওড় কাকে বলে?
উত্তর: নদীর বাঁকে খানিকটা জায়গা মূল নদী থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে যে বদ্ধ জলাশয় তৈরি করে, তাকে বাঁওড় বলা হয়।
৬ রাসায়নিক বিক্রিয়া বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যখন এক বা একাধিক পদার্থ মিলে সম্পূর্ণ নতুন বৈশিষ্ট্যের কোনো পদার্থ তৈরি করে, তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। যেমন— দুধে লেবুর রস দিলে দুধ কেটে ছানা হয়ে যাওয়া।
৭ পুকুরের জলে থাকা নোংরা কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে শোধন হয়?
উত্তর: বাতাস থেকে অক্সিজেন জলে গুলে যায়। সেই অক্সিজেন জলের নোংরার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে নোংরা ভেঙে দেয় এবং জলকে কিছুটা পরিষ্কার করে।
৮ আকর্ষ কী?
উত্তর: লাউ, কুমড়োর মতো লতানো গাছ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাই অন্য কোনো অবলম্বনকে জড়িয়ে ধরার জন্য গাছের গা থেকে যে সুতোর মতো অংশ বের হয়, তাকে আকর্ষ বলে। এটি আসলে পাতারই রূপান্তরিত অংশ।
৯ বটগাছ ঝুরি নামায় কেন?
উত্তর: বটগাছের মোটা ডালগুলো যাতে নিজেদের ভারে ভেঙে না যায়, তাই ডালগুলিকে ভর দেওয়ার জন্য বটগাছ ডাল থেকে ঝুরি নামায়।
১০ মেরুদণ্ডী প্রাণী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে?
উত্তর: যেসব প্রাণীর শরীরের ভিতরে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত লম্বা হাড় বা শিরদাঁড়া (মেরুদণ্ড) থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে (যেমন- মানুষ, রুই মাছ)। আর যাদের শিরদাঁড়া থাকে না, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে (যেমন- কেঁচো, চিংড়ি)।
১১ কোনো প্রাণী বুনো বা বন্য প্রাণী কিনা তা কীভাবে বুঝবে?
উত্তর: যেসব প্রাণী পোষ মানে না, মানুষ দেখলে দূরে পালায় বা মানুষের থেকে খাবার নিয়ে মানুষের বাড়িতেই মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে থাকে (যেমন- আরশোলা, ইঁদুর, সাপ), তারাই বুনো বা বন্য প্রাণী।
১২ টিউবওয়েল বসানোর সময় কীভাবে বোঝা যায় তলার মাটি কেমন?
উত্তর: টিউবওয়েল বসানোর জন্য খোঁড়া গর্ত থেকে জল ও যে মাটি (মিহি, বালি বা কাঁকর) ওপরে উঠে আসে, তা দেখেই তলার মাটির ধরন বোঝা যায়।
১৩ গ্লাসে জল নিয়ে মাটি গুললে কী দেখা যায়?
উত্তর: মাটির ভারি অংশ যেমন নুড়ি-কাঁকর নীচে থিতিয়ে পড়ে এবং হালকা অংশ যেমন শুকনো পাতা, মরা পোকা বা ফুলের পাপড়ি জলের ওপর ভেসে ওঠে।
১৪ আতশকাচ বা লেন্স কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: খুব ছোটো জিনিসকে বড়ো করে দেখার জন্য আতশকাচ বা লেন্স ব্যবহার করা হয়। যেমন- মাটির ছোটো ছোটো দানা বা উপাদান দেখতে এটি কাজে লাগে।
১৫ কোন মাটিকে গুঁড়ো করে জল দিলে তা সিমেন্টের মতো শক্ত হয়ে যায়?
উত্তর: শুকনো এঁটেল মাটিকে মিহি করে গুঁড়ো করে জল দিলে তা শুকিয়ে সিমেন্টের মতো শক্ত হয়ে যায়।
১৬ এদেশে সিমেন্টের ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে?
উত্তর: এদেশে সিমেন্ট তৈরি শুরু হয়েছে প্রায় একশো কুড়ি বছর আগে, আর এর বহুল ব্যবহার শুরু হয়েছে প্রায় সত্তর-আশি বছর ধরে।
১৭ দোআঁশ মাটিতে কাদা ও বালির ভাগ কেমন থাকে?
উত্তর: দোআঁশ মাটিতে কাদা আর বালির পরিমাণ প্রায় সমান সমান থাকে।
১৮ দোআঁশ মাটিতে থাকা দুটি স্বাভাবিক জৈব উপাদানের নাম লেখো।
উত্তর: গোবর এবং পচা পাতার কুচি হলো দোআঁশ মাটিতে থাকা স্বাভাবিক জৈব উপাদান।
১৯ মাটির দুটি অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকারক উপাদানের নাম লেখো।
উত্তর: পলিথিনের কুচি এবং পেনের রিফিলের টুকরো হলো মাটির অস্বাভাবিক ও ক্ষতিকারক উপাদান।
২০ বীজতলা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: চাষের জমিতে ধান রোপণের আগে একটি ছোটো জায়গায় ঘন করে বীজ ছড়িয়ে যে ছোটো চারাগাছ (বীজধান) তৈরি করা হয়, সেই জায়গাকেই বীজতলা বলে।
২১ আউশ আর আমন ধানের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: আমন ধানের চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করে চারাগাছ বড়ো জমিতে রোয়া করতে হয়, কিন্তু আউশ ধানের জন্য আলাদা করে বীজতলা দরকার হয় না।
২২ ধান চাষের জন্য কোন মাটি সবচেয়ে উপযোগী এবং কেন?
উত্তর: যে মাটি সহজে কাদা করা যায় এবং যেখানে সহজে জল জমে থাকে (যেমন- এঁটেল বা দোআঁশ মাটি), সেই মাটিই ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
২৩ দার্জিলিং-এর পাহাড়ে কীভাবে চাষ করা হয়?
উত্তর: পাহাড়ের ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে ছোটো জমি তৈরি করে সেখানে জল আটকে ধান, শাকসবজি এবং চা চাষ করা হয়।
২৪ পাহাড়ে পলিথিন বা প্লাস্টিক ফেলা উচিত নয় কেন?
উত্তর: পলিথিনের কারণে মাটির কণাগুলির মধ্যে সংযোগ নষ্ট হয়, ফলে অল্প বৃষ্টিতেই মাটি ধসে গিয়ে পাহাড়ের প্রবল ভূমিক্ষয় বা ধস নামার সম্ভাবনা থাকে।
২৫ ঝোরা কী?
উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলে যে ছোটো ছোটো ঝরনা দেখতে পাওয়া যায়, সেগুলিকে স্থানীয় ভাষায় ঝোরা বলা হয়।
২৬ পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিখ্যাত জলাভূমির নাম লেখো।
উত্তর: পূর্ব কলকাতার জলাভূমি, পুরুলিয়ার সাহেববাঁধ, হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিল এবং কোচবিহারের রসিক বিল হলো কয়েকটি বিখ্যাত জলাভূমি।
২৭ সুন্দরবন অঞ্চলে মাটির নীচের জল নোনতা হয় কেন?
উত্তর: সুন্দরবন সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সাগরের নোনা জল বালি-মাটির ভেতর দিয়ে চুঁইয়ে মাটির নীচে মিশেছে, তাই সেখানকার ভূগর্ভস্থ জল নোনতা।
২৮ বৃষ্টির জল ধরার সময় প্রথম দিকের জলটা ফেলে দেওয়া উচিত কেন?
উত্তর: বৃষ্টি শুরুর পর প্রথম দিকের জলে সামান্য অ্যাসিড এবং বাতাসের বিভিন্ন দূষিত নোংরা পদার্থ মিশে থাকে, তাই ওই জল ফেলে দেওয়া উচিত।
২৯ মানুষ প্রথম কোন প্রাণীকে পোষ মানিয়েছিল?
উত্তর: মানুষ আদিম যুগে সর্বপ্রথম কুকুরকে পোষ মানিয়েছিল।
৩০ একটি লতানো গাছের নাম লেখো যার আকর্ষ আছে।
উত্তর: লাউ, কুমড়ো বা করলা গাছ হলো লতানো গাছ, যাদের আকর্ষ থাকে।
৩১ টিকটিকির কোন বিশেষ আচরণ দেখা যায়?
উত্তর: টিকটিকি ভয় পেলে বা অন্য প্রাণীর দ্বারা আক্রান্ত হলে নিজেদের লেজ খসিয়ে দিয়ে পালায়। কিছুদিন পর সেই লেজ আবার নতুন করে গজায়।
৩২ শিকারি মাছ কাদের বলা হয়? দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যেসব মাছ জলের অন্যান্য ছোটো মাছ বা জলজ প্রাণীদের শিকার করে খায়, তাদের শিকারি মাছ বলে। যেমন: শোল, শাল, বোয়াল, ল্যাটা।
৩৩ শকুনরা আজ হারিয়ে যাওয়ার মুখে কেন?
উত্তর: অসুস্থ গোরুদের ব্যথা কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। সেই গোরু মারা গেলে তার মাংসে বিষাক্ত রাসায়নিক থেকে যায়। সেই মরা গোরুর মাংস খেয়েই শকুনরা আজ প্রায় বিলুপ্ত।
৩৪ সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরি গাছগুলি কমে যাচ্ছে কেন?
উত্তর: বনজঙ্গল এবং ফাঁকা জায়গা পরিষ্কার করে প্রচুর পরিমাণে চাষবাস এবং বসতি গড়ে ওঠার কারণে সর্পগন্ধার মতো বিভিন্ন ঔষধি গাছগুলি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
৩৫ জীববৈচিত্র্য কী?
উত্তর: আমাদের চারপাশে থাকা নানা প্রকার উদ্ভিদ, প্রাণী এবং অণুজীবের যে বিপুল বৈচিত্র্য বা সমাহার দেখা যায়, তাকেই সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য বলা হয়।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ মাটির প্রধান উপাদানগুলি কী কী? এঁটেল মাটি, বেলে মাটি ও দোআঁশ মাটির বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:
মাটির প্রধান উপাদানগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সজীব উপাদান (যেমন- কেঁচো, ছোটো জীবাণু) এবং নির্জীব উপাদান বা জৈব-অজৈব পদার্থ (যেমন- বালির কণা, কাদার কণা, পচা পাতা, গোবর ইত্যাদি)।
মাটির বৈশিষ্ট্য:
১) এঁটেল মাটি: এই মাটিতে কাদার ভাগ বেশি থাকে। জল দিলে কণাগুলো গায়ে গায়ে লেগে শক্ত হয়ে যায়। এই মাটি খুব সহজে জল ধরে রাখতে পারে এবং জল সহজে বেরিয়ে যায় না।
২) বেলে মাটি: এই মাটিতে বালির কণা বেশি থাকে। বেলে মাটি সহজে জল ধরে রাখতে পারে না, জল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়।
৩) দোআঁশ মাটি: এই মাটিতে কাদা ও বালি প্রায় সমান সমান থাকে। এর মধ্যে জৈব পদার্থ মেশানো থাকে বলে এই মাটি ফসল চাষের জন্য সবথেকে উপযোগী।
মাটির বৈশিষ্ট্য:
১) এঁটেল মাটি: এই মাটিতে কাদার ভাগ বেশি থাকে। জল দিলে কণাগুলো গায়ে গায়ে লেগে শক্ত হয়ে যায়। এই মাটি খুব সহজে জল ধরে রাখতে পারে এবং জল সহজে বেরিয়ে যায় না।
২) বেলে মাটি: এই মাটিতে বালির কণা বেশি থাকে। বেলে মাটি সহজে জল ধরে রাখতে পারে না, জল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়।
৩) দোআঁশ মাটি: এই মাটিতে কাদা ও বালি প্রায় সমান সমান থাকে। এর মধ্যে জৈব পদার্থ মেশানো থাকে বলে এই মাটি ফসল চাষের জন্য সবথেকে উপযোগী।
২ মাটি কীভাবে সৃষ্টি হয় তা বিস্তারিত লেখো এবং ভূমিক্ষয় রোধে গাছপালার ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর:
মাটি সৃষ্টির প্রক্রিয়া: পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকেই সূর্যের প্রচণ্ড তাপ, প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বারবার ভূমিকম্পের ফলে বড়ো বড়ো পাথর ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে গুঁড়ো হতে থাকে। হাজার হাজার বছর ধরে সেই পাথরের গুঁড়োর সাথে মস, ফার্ন জাতীয় আদিম উদ্ভিদ, পচা পাতা এবং প্রাণীদের মৃতদেহ মিশে ধীরে ধীরে মাটির সৃষ্টি হয়।
ভূমিক্ষয় রোধে গাছপালার ভূমিকা: প্রবল বৃষ্টি বা ঝড়ের কারণে মাটির উপরের স্তর ধুয়ে বা উড়ে গেলে তাকে ভূমিক্ষয় বলে। পাহাড়ের ঢালে বা পুকুরের পাড়ে বড়ো গাছপালা এবং ঘাস থাকলে, তাদের শিকড় মাটির কণাগুলিকে জালের মতো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। ফলে বৃষ্টির জলে সহজে মাটি ধুয়ে যেতে পারে না এবং ভূমিক্ষয় বা ধস রোধ হয়।
ভূমিক্ষয় রোধে গাছপালার ভূমিকা: প্রবল বৃষ্টি বা ঝড়ের কারণে মাটির উপরের স্তর ধুয়ে বা উড়ে গেলে তাকে ভূমিক্ষয় বলে। পাহাড়ের ঢালে বা পুকুরের পাড়ে বড়ো গাছপালা এবং ঘাস থাকলে, তাদের শিকড় মাটির কণাগুলিকে জালের মতো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। ফলে বৃষ্টির জলে সহজে মাটি ধুয়ে যেতে পারে না এবং ভূমিক্ষয় বা ধস রোধ হয়।
৩ ধান চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
আমাদের রাজ্যে মূলত আমন, আউশ এবং বোরো ধানের চাষ হয়। ধান চাষের প্রধান ধাপগুলি হলো:
১) বীজতলা তৈরি: প্রথমে একটি ছোটো জমিতে কাদা করে সেখানে ধানবীজ ঘন করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর সেখান থেকে ছোটো ছোটো চারাগাছ বের হয়, একেই বীজধান বা বীজতলা বলে (আউশ ধানে এটি লাগে না)।
২) জমি প্রস্তুতকরণ: মূল জমিটিকে লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে চষে এবং প্রচুর জল দিয়ে ভালোভাবে কাদা করে তৈরি করা হয়, কারণ ধানের জন্য জল দাঁড়ানো জমি প্রয়োজন।
৩) রোয়া বা রোপণ: বীজতলা থেকে চারাগাছগুলি সাবধানে তুলে এনে মূল জমিতে বিঘতখানেক দূরত্ব রেখে সারিবদ্ধভাবে পুঁতে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিকেই ‘রোয়া’ বলা হয়।
১) বীজতলা তৈরি: প্রথমে একটি ছোটো জমিতে কাদা করে সেখানে ধানবীজ ঘন করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর সেখান থেকে ছোটো ছোটো চারাগাছ বের হয়, একেই বীজধান বা বীজতলা বলে (আউশ ধানে এটি লাগে না)।
২) জমি প্রস্তুতকরণ: মূল জমিটিকে লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে চষে এবং প্রচুর জল দিয়ে ভালোভাবে কাদা করে তৈরি করা হয়, কারণ ধানের জন্য জল দাঁড়ানো জমি প্রয়োজন।
৩) রোয়া বা রোপণ: বীজতলা থেকে চারাগাছগুলি সাবধানে তুলে এনে মূল জমিতে বিঘতখানেক দূরত্ব রেখে সারিবদ্ধভাবে পুঁতে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিকেই ‘রোয়া’ বলা হয়।
৪ পূর্ব কলকাতার জলাভূমির ইতিহাস সংক্ষেপে লেখো। এই জলাভূমির গুরুত্ব কী?
উত্তর:
তিনশো বছর আগে কলকাতার সব নোংরা গঙ্গায় ফেলা হতো। পরে উইলিয়াম ক্লার্কের পরিকল্পনায় ১৮৫৭ সাল থেকে শহরের নোংরা জল পাম্প করে পূর্বদিকে বিদ্যাধরী নদীতে পাঠানো শুরু হয়। এর ফলে বিদ্যাধরীর স্রোত কমে গিয়ে সেটি একটি বিশাল বদ্ধ জলাভূমিতে পরিণত হয়। ১৮৬০ সাল থেকে এই নোংরা জলেই মাছ চাষ শুরু হয়।
গুরুত্ব:
১) এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ এলাকা যেখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে শহরের নোংরা জলে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হয়।
২) এই জলাভূমিতে মাছ ছাড়াও সাপ, বেজি, ভাম-বিড়াল এবং প্রচুর জল-পাখির দেখা মেলে যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করে।
গুরুত্ব:
১) এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ এলাকা যেখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে শহরের নোংরা জলে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হয়।
২) এই জলাভূমিতে মাছ ছাড়াও সাপ, বেজি, ভাম-বিড়াল এবং প্রচুর জল-পাখির দেখা মেলে যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করে।
৫ প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপায়ে কীভাবে জল শোধন করা যায় তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রাকৃতিক উপায়: পুকুর বা জলাশয়ের জলের ওপর দিয়ে যখন বাতাস বয়ে যায়, তখন বাতাসের অক্সিজেন জলে গুলে যায়। এই অক্সিজেন জলের ভেতরে থাকা নোংরা বা বর্জ্যের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে সেগুলিকে ভেঙে দেয় এবং জলকে দূষণমুক্ত করে। এছাড়া জলের অনেক মাছ এবং অণুজীব নোংরা খেয়ে জল পরিষ্কার রাখে।
রাসায়নিক উপায়: অনেক সময় পুকুরের জল দ্রুত পরিষ্কার করতে বা মাছেদের ঘা সারাতে জলে নির্দিষ্ট মাপে রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। যেমন— পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিলে তা জলের দূষিত জিনিসগুলিকে তাড়াতাড়ি ভেঙে জলকে শোধন করে।
প্রাকৃতিক উপায়: পুকুর বা জলাশয়ের জলের ওপর দিয়ে যখন বাতাস বয়ে যায়, তখন বাতাসের অক্সিজেন জলে গুলে যায়। এই অক্সিজেন জলের ভেতরে থাকা নোংরা বা বর্জ্যের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে সেগুলিকে ভেঙে দেয় এবং জলকে দূষণমুক্ত করে। এছাড়া জলের অনেক মাছ এবং অণুজীব নোংরা খেয়ে জল পরিষ্কার রাখে।
রাসায়নিক উপায়: অনেক সময় পুকুরের জল দ্রুত পরিষ্কার করতে বা মাছেদের ঘা সারাতে জলে নির্দিষ্ট মাপে রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। যেমন— পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিলে তা জলের দূষিত জিনিসগুলিকে তাড়াতাড়ি ভেঙে জলকে শোধন করে।
৬ বৃষ্টির জল কেন সংরক্ষণ করা উচিত এবং কীভাবে তা করা যেতে পারে?
উত্তর:
সংরক্ষণের কারণ: মাটির নীচের পানীয় জলের স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় জল দূষিত হয়ে পড়ছে। এই জলসংকট মেটাতে এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য বৃষ্টির মিষ্টি ও পরিষ্কার জল সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সংরক্ষণের উপায়:
১) বাড়ির টিনের চাল বা ছাদের পাইপের মুখে বালতি বা ড্রাম বসিয়ে বৃষ্টির জল ধরে রাখা যায়। (তবে বৃষ্টি শুরুর প্রথম দিকের জল বাদ দিতে হবে, কারণ তাতে ধুলো ও অ্যাসিড থাকতে পারে)।
২) বড়ো বহুতল বাড়িগুলিতে পাইপের সাহায্যে ছাদের জল সরাসরি একটি বড়ো ট্যাঙ্কে জমানোর ব্যবস্থা করা যায়। এই জল কাপড় কাচা, ঘর মোছা বা বাগানের কাজে ব্যবহার করা যায়।
সংরক্ষণের কারণ: মাটির নীচের পানীয় জলের স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় জল দূষিত হয়ে পড়ছে। এই জলসংকট মেটাতে এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য বৃষ্টির মিষ্টি ও পরিষ্কার জল সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সংরক্ষণের উপায়:
১) বাড়ির টিনের চাল বা ছাদের পাইপের মুখে বালতি বা ড্রাম বসিয়ে বৃষ্টির জল ধরে রাখা যায়। (তবে বৃষ্টি শুরুর প্রথম দিকের জল বাদ দিতে হবে, কারণ তাতে ধুলো ও অ্যাসিড থাকতে পারে)।
২) বড়ো বহুতল বাড়িগুলিতে পাইপের সাহায্যে ছাদের জল সরাসরি একটি বড়ো ট্যাঙ্কে জমানোর ব্যবস্থা করা যায়। এই জল কাপড় কাচা, ঘর মোছা বা বাগানের কাজে ব্যবহার করা যায়।
৭ পালিত প্রাণী ও বন্য প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য কী? মানুষ কেন পশু-পাখিদের পোষ মানিয়েছিল?
উত্তর:
পার্থক্য:
১) পালিত প্রাণী: মানুষ যাদের নিজেদের প্রয়োজনে বাড়িতে থাকতে দেয়, খেতে দেয় এবং বিপদ থেকে বাঁচায়, তারাই পালিত প্রাণী। যেমন- গোরু, ছাগল, কুকুর, পোষা হাঁস।
২) বন্য প্রাণী: যারা স্বাধীনভাবে জঙ্গলে থাকে বা মানুষের বাড়িতে মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের খাবার নিজেরা জোগাড় করে বেঁচে থাকে, তারা বন্য প্রাণী। যেমন- সাপ, ইঁদুর, বাঘ, আরশোলা।
পোষ মানানোর কারণ:
আগে সব প্রাণীই বুনো ছিল। কুকুর প্রথম পোষ মানে। এরপর মানুষ বুঝতে পারে যে গোরু, ছাগল, ঘোড়াকে পোষ মানালে অনেক সুবিধা। তাদের চাষের কাজে এবং যানবাহন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। হাঁস, মুরগির থেকে ডিম-মাংস এবং গোরুর থেকে দুধ পাওয়ার জন্য মানুষ এদের পোষ মানিয়েছিল।
পার্থক্য:
১) পালিত প্রাণী: মানুষ যাদের নিজেদের প্রয়োজনে বাড়িতে থাকতে দেয়, খেতে দেয় এবং বিপদ থেকে বাঁচায়, তারাই পালিত প্রাণী। যেমন- গোরু, ছাগল, কুকুর, পোষা হাঁস।
২) বন্য প্রাণী: যারা স্বাধীনভাবে জঙ্গলে থাকে বা মানুষের বাড়িতে মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের খাবার নিজেরা জোগাড় করে বেঁচে থাকে, তারা বন্য প্রাণী। যেমন- সাপ, ইঁদুর, বাঘ, আরশোলা।
পোষ মানানোর কারণ:
আগে সব প্রাণীই বুনো ছিল। কুকুর প্রথম পোষ মানে। এরপর মানুষ বুঝতে পারে যে গোরু, ছাগল, ঘোড়াকে পোষ মানালে অনেক সুবিধা। তাদের চাষের কাজে এবং যানবাহন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। হাঁস, মুরগির থেকে ডিম-মাংস এবং গোরুর থেকে দুধ পাওয়ার জন্য মানুষ এদের পোষ মানিয়েছিল।
৮ লতানো গাছ কীভাবে উপরে ওঠে এবং বটগাছ কীভাবে নিজের ডালের ভার সামলায়?
উত্তর:
লতানো গাছ: লাউ, কুমড়ো বা করলার মতো লতানো গাছগুলির কাণ্ড নরম হওয়ায় তারা খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাই উপরের দিকে ওঠার জন্য এদের কাণ্ড থেকে সবুজ সুতোর মতো এক বিশেষ অংশ বের হয়, যা দিয়ে এরা শক্ত কোনো বাঁশ বা ডালকে পেঁচিয়ে ধরে মাচায় ওঠে। একে আকর্ষ বলে। এটি পাতারই পরিবর্তিত রূপ।
বটগাছ: বটগাছের চারদিকে প্রচুর বড়ো বড়ো ও মোটা ডাল ছড়িয়ে থাকে। এই ডালগুলি যাতে নিজেদের অত্যধিক ভারে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য বটগাছ ওই ডালগুলি থেকে একধরনের মূল বা শিকড় নিচের দিকে নামিয়ে দেয়, যা মাটিতে প্রবেশ করে খুঁটির মতো কাজ করে। এদের ঝুরি বলা হয়।
লতানো গাছ: লাউ, কুমড়ো বা করলার মতো লতানো গাছগুলির কাণ্ড নরম হওয়ায় তারা খাড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাই উপরের দিকে ওঠার জন্য এদের কাণ্ড থেকে সবুজ সুতোর মতো এক বিশেষ অংশ বের হয়, যা দিয়ে এরা শক্ত কোনো বাঁশ বা ডালকে পেঁচিয়ে ধরে মাচায় ওঠে। একে আকর্ষ বলে। এটি পাতারই পরিবর্তিত রূপ।
বটগাছ: বটগাছের চারদিকে প্রচুর বড়ো বড়ো ও মোটা ডাল ছড়িয়ে থাকে। এই ডালগুলি যাতে নিজেদের অত্যধিক ভারে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য বটগাছ ওই ডালগুলি থেকে একধরনের মূল বা শিকড় নিচের দিকে নামিয়ে দেয়, যা মাটিতে প্রবেশ করে খুঁটির মতো কাজ করে। এদের ঝুরি বলা হয়।
৯ মেরুদণ্ডী প্রাণী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য কী? এদের উদাহরণ দাও।
উত্তর:
মেরুদণ্ডী প্রাণী: যেসব প্রাণীর শরীরের ভিতরে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত একটি শক্ত লম্বা হাড় বা শিরদাঁড়া থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। এদের কঙ্কালতন্ত্র থাকে যা শরীরকে নির্দিষ্ট আকার দেয়।
উদাহরণ: মানুষ, গোরু, পাখি, ব্যাঙ, সাপ, রুই মাছ ইত্যাদি।
অমেরুদণ্ডী প্রাণী: যেসব প্রাণীর শরীরে কোনো শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড থাকে না, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। এদের অনেকের শরীর নরম হয়, আবার অনেকের শরীরের বাইরে শক্ত খোলস থাকে।
উদাহরণ: কেঁচো, কেন্নো, প্রজাপতি, মশা, শামুক, চিংড়ি ইত্যাদি।
মেরুদণ্ডী প্রাণী: যেসব প্রাণীর শরীরের ভিতরে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত একটি শক্ত লম্বা হাড় বা শিরদাঁড়া থাকে, তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। এদের কঙ্কালতন্ত্র থাকে যা শরীরকে নির্দিষ্ট আকার দেয়।
উদাহরণ: মানুষ, গোরু, পাখি, ব্যাঙ, সাপ, রুই মাছ ইত্যাদি।
অমেরুদণ্ডী প্রাণী: যেসব প্রাণীর শরীরে কোনো শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ড থাকে না, তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। এদের অনেকের শরীর নরম হয়, আবার অনেকের শরীরের বাইরে শক্ত খোলস থাকে।
উদাহরণ: কেঁচো, কেন্নো, প্রজাপতি, মশা, শামুক, চিংড়ি ইত্যাদি।
১০ বর্তমানে জীববৈচিত্র্য কেন নষ্ট হচ্ছে? শকুন ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর:
বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে গাছ কাটা, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং জলাশয় ভরাটের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এর ফলে বহু উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান এবং খাদ্য নষ্ট হচ্ছে, যার জেরে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শকুন হারিয়ে যাওয়ার কারণ: অসুস্থ গোরুদের ব্যথা কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক ওষুধ দেওয়া হয়। সেই গোরু মারা গেলে, ওই রাসায়নিক বিষযুক্ত মাংস খেয়ে শকুনের দল আজ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
ঔষধি গাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ: আগে ফাঁকা জায়গায় সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরির মতো প্রচুর ভেষজ ও ঔষধি গাছ জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে সেইসব বনজঙ্গল পরিষ্কার করে চাষবাস ও আধুনিক বসতি গড়ে ওঠার কারণেই এই মহামূল্যবান গাছগুলি হারিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে গাছ কাটা, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং জলাশয় ভরাটের কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এর ফলে বহু উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান এবং খাদ্য নষ্ট হচ্ছে, যার জেরে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শকুন হারিয়ে যাওয়ার কারণ: অসুস্থ গোরুদের ব্যথা কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক ওষুধ দেওয়া হয়। সেই গোরু মারা গেলে, ওই রাসায়নিক বিষযুক্ত মাংস খেয়ে শকুনের দল আজ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
ঔষধি গাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ: আগে ফাঁকা জায়গায় সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরির মতো প্রচুর ভেষজ ও ঔষধি গাছ জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে সেইসব বনজঙ্গল পরিষ্কার করে চাষবাস ও আধুনিক বসতি গড়ে ওঠার কারণেই এই মহামূল্যবান গাছগুলি হারিয়ে যাচ্ছে।
Sponsored Links