অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির 'আমাদের পরিবেশ' বইয়ের প্রথম অধ্যায় 'মানবদেহ'-তে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, তাদের কাজ এবং যত্ন নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. শরীরের বর্ম: ত্বক বা চামড়াকে শরীরের বর্ম বলা হয়, কারণ এটি ভিতরের মাংসপেশি, নার্ভ ও শিরা-ধমনিকে বাইরের আঘাত ও রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে। চামড়া কারখানার দূষণ এবং আগেকার দিনে পশুর চামড়ার ব্যবহারের কথাও এখানে বলা হয়েছে।
২. ত্বকের মেলানিন: ত্বকে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিয়ে ক্যানসার থেকে বাঁচায়। চামড়ায় রোদ লাগলে ভিটামিন ডি তৈরি হয়।
৩. স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার: ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেক কীভাবে বাচ্চাদের খেলা দেখে মোটা কাগজ পেঁচিয়ে প্রথম স্টেথোস্কোপ তৈরি করেছিলেন, সেই অসাধারণ গল্পটি বলা হয়েছে।
৪. হাড় ও লিগামেন্ট: শরীরের কাঠামো তৈরি করে হাড় এবং দুটি হাড়কে একসঙ্গে বেঁধে রাখে লিগামেন্ট নামক সুতোর মতো অংশ।
৫. যক্ষ্মা রোগ ও চিকিৎসা: যক্ষ্মা (TB) রোগ, এর লক্ষণ, যক্ষ্মার চিকিৎসা (DOTS) এবং পাতলা পায়খানা হলে বাড়িতে ও.আর.এস (ORS) তৈরির নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. শরীরের বর্ম: ত্বক বা চামড়াকে শরীরের বর্ম বলা হয়, কারণ এটি ভিতরের মাংসপেশি, নার্ভ ও শিরা-ধমনিকে বাইরের আঘাত ও রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে। চামড়া কারখানার দূষণ এবং আগেকার দিনে পশুর চামড়ার ব্যবহারের কথাও এখানে বলা হয়েছে।
২. ত্বকের মেলানিন: ত্বকে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নিয়ে ক্যানসার থেকে বাঁচায়। চামড়ায় রোদ লাগলে ভিটামিন ডি তৈরি হয়।
৩. স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার: ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেক কীভাবে বাচ্চাদের খেলা দেখে মোটা কাগজ পেঁচিয়ে প্রথম স্টেথোস্কোপ তৈরি করেছিলেন, সেই অসাধারণ গল্পটি বলা হয়েছে।
৪. হাড় ও লিগামেন্ট: শরীরের কাঠামো তৈরি করে হাড় এবং দুটি হাড়কে একসঙ্গে বেঁধে রাখে লিগামেন্ট নামক সুতোর মতো অংশ।
৫. যক্ষ্মা রোগ ও চিকিৎসা: যক্ষ্মা (TB) রোগ, এর লক্ষণ, যক্ষ্মার চিকিৎসা (DOTS) এবং পাতলা পায়খানা হলে বাড়িতে ও.আর.এস (ORS) তৈরির নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) - 30+ Questions
১ শরীরের বর্ম বা আচ্ছাদন কাকে বলা হয়?
উত্তর: গ) চামড়া বা ত্বককে
২ সুজয়ের মতে কোন প্রাণীর চামড়া সবচেয়ে পুরু (মোটা) হয়?
উত্তর: গ) গন্ডার
৩ আগেকার দিনে মানুষ জল বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কীসের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করত?
উত্তর: খ) চামড়ার
৪ চামড়া কারখানা থেকে কী ছড়ায় যা পরিবেশকে দূষিত করে?
উত্তর: গ) দুর্গন্ধ ও দূষিত জল
৫ চামড়া বা ত্বকের ঠিক নীচে কী কী থাকে?
উত্তর: খ) মাংসপেশি, নার্ভ, শিরা-ধমনি
৬ ত্বকের রং কালো বা শ্যামবর্ণ হয় কোন উপাদানের জন্য?
উত্তর: ক) মেলানিন
৭ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে আমাদের কে বাঁচায়?
উত্তর: গ) মেলানিন
৮ ত্বকে রোদ লাগলে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?
উত্তর: ঘ) ভিটামিন ডি
৯ ত্বকের ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করে কোনটি?
উত্তর: ক) মেলানিন
১০ ঘামের সাথে শরীর থেকে কী বেরিয়ে যায়?
উত্তর: খ) নুন ও শরীরের বর্জ্য পদার্থ
১১ বয়স বাড়লে বা বয়স্কদের চুল সাদা হয়ে যায় কেন?
উত্তর: গ) মেলানিন তৈরি কমে গেলে
১২ গন্ডারের খড়্গ আসলে কী?
উত্তর: খ) জমাট বাঁধা চুল
১৩ কোন প্রাণীর গা ভর্তি শক্ত কাঁটা থাকে?
উত্তর: গ) সজারু
১৪ নখ কাটলে আমরা ব্যথা পাই না কেন?
উত্তর: খ) নখ মৃত কোশ দিয়ে তৈরি, এতে নার্ভ নেই বলে
১৫ নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যায় বা নখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় কোন রোগে?
উত্তর: খ) রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া)
১৬ মানুষের শরীরে হাড়গুলোর মিলনস্থল বা জোড়কে কী বলে?
উত্তর: খ) অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট
১৭ দুটি হাড়কে একে অপরের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে কে?
উত্তর: খ) লিগামেন্ট
১৮ আমাদের শরীরে মূল কাঠামো তৈরি করে কে?
উত্তর: ক) কঙ্কাল বা হাড়
১৯ প্রথম স্টেথোস্কোপ (Stethoscope) কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: গ) রেনে লিনেক
২০ রেনে লিনেক কোন দেশের ডাক্তার ছিলেন?
উত্তর: খ) ফ্রান্স
২১ রেনে লিনেক প্রথম স্টেথোস্কোপটি কী দিয়ে বানিয়েছিলেন?
উত্তর: গ) মোটা কাগজ
২২ স্টেথোস্কোপের সাহায্যে ডাক্তারবাবুরা কী শোনেন?
উত্তর: খ) হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ
২৩ যক্ষ্মা (TB) প্রধানত শরীরের কোন অংশের রোগ?
উত্তর: ক) ফুসফুস
২৪ যক্ষ্মা রোগের প্রধান লক্ষণ কী?
উত্তর: গ) একটানা কাশি ও কাশির সাথে রক্ত ওঠা
২৫ যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: খ) ডটস (DOTS)
২৬ যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধের জন্য শিশুদের কোন টিকা দেওয়া হয়?
উত্তর: খ) বিসিজি (BCG)
২৭ ডটস (DOTS) চিকিৎসা কত দিন ধরে করতে হয়?
উত্তর: গ) ৬ থেকে ৮ মাস
২৮ বারবার পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে কী পান করতে হয়?
উত্তর: গ) ও.আর.এস (ORS)
২৯ বাড়িতে ORS বানাতে এক গ্লাস জলে কতটা চিনি লাগে?
উত্তর: খ) এক চামচ
৩০ বাড়িতে ORS বানাতে এক গ্লাস জলে কতটা নুন মেশাতে হয়?
উত্তর: গ) তিন আঙুলের এক চিমটে
৩১ যক্ষ্মার জীবাণু সাধারণত কীভাবে ছড়ায়?
উত্তর: গ) রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ) - 20+ Questions
১ ব্যাগ, জুতো, বেল্ট সাধারণত কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: ব্যাগ, জুতো ও বেল্ট সাধারণত পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি হয়, যদিও আজকাল চামড়ার বিকল্পও ব্যবহার করা হয়।
২ সুজয়ের মতে কোন প্রাণীর চামড়া সবচেয়ে পুরু?
উত্তর: সুজয়ের মতে গন্ডারের চামড়া সবচেয়ে পুরু বা মোটা।
৩ ত্বক বা চামড়ার ঠিক নীচেই কী কী থাকে?
উত্তর: ত্বক বা চামড়ার ঠিক নীচে থাকে মাংসপেশি, নার্ভ এবং শিরা-ধমনি।
৪ আগেকার দিনে মানুষ পশুর চামড়া দিয়ে কী কী কাজ করত?
উত্তর: আগেকার দিনে মানুষ পশুর চামড়া শুকিয়ে তাতে লিখত, চামড়ার পোশাক ও জুতো পরত এবং জল বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চামড়ার তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করত।
৫ চামড়ার কারখানা থেকে পরিবেশের কী কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: চামড়ার কারখানা থেকে প্রচুর দূষিত নোংরা জল বেরিয়ে নদী বা জলাশয় নষ্ট করে এবং হাওয়ায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়ায়। এছাড়া চামড়ার প্রয়োজনে অনেক পশু মারা পড়ে।
৬ ত্বক বা চামড়াকে শরীরের বর্ম বলা হয় কেন?
উত্তর: ত্বক আমাদের শরীরের ভেতরের নরম মাংসপেশি, নার্ভ ও রক্তনালীকে বাইরের আঘাত ও জীবাণু থেকে রক্ষা করে বলে একে শরীরের বর্ম বলা হয়।
৭ ত্বকের রং কালো বা ফর্সা হয় কেন?
উত্তর: ত্বকে উপস্থিত মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ত্বকের রং কালো, শ্যামবর্ণ বা ফর্সা হয়।
৮ ত্বকে মেলানিন থাকার সুবিধা কী?
উত্তর: ত্বকের মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয় এবং আমাদের স্কিন ক্যানসারের হাত থেকে রক্ষা করে।
৯ রোদ লাগলে ত্বকে কোন ভিটামিন তৈরি হয়?
উত্তর: চামড়ায় রোদ লাগলে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়।
১০ ঘাম হওয়া শরীরের পক্ষে ভালো কেন?
উত্তর: ঘামের সাথে শরীরের ভেতর থেকে জল, নুন এবং ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থ বাইরে বেরিয়ে যায়, তাই ঘাম হওয়া শরীরের পক্ষে ভালো।
১১ বয়স বাড়লে মানুষের চুল সাদা হয়ে যায় কেন?
উত্তর: বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে মেলানিন তৈরি হওয়া কমে যায়, তাই বয়স্কদের চুল সাদা হয়ে যায়।
১২ গন্ডারের খড়্গ বা সজারুর কাঁটা আসলে কী?
উত্তর: গন্ডারের খড়্গ হলো জমাট বাঁধা চুল এবং সজারুর কাঁটাও একধরনের শক্ত চুল। এগুলি আসলে রূপান্তরিত ত্বক।
১৩ নখ দেখে কীভাবে বোঝা যায় যে কারও রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) হয়েছে?
উত্তর: রক্তাল্পতা হলে নখের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং অনেক সময় নখের মাঝখানটা চামচের মতো গর্ত হয়ে যায়।
১৪ অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট কাকে বলে?
উত্তর: আমাদের শরীরে যেখানে দুটি বা তার বেশি হাড় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই হাড়ের মিলনস্থলকে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট বলা হয়।
১৫ লিগামেন্ট কী? এর কাজ কী?
উত্তর: লিগামেন্ট হলো সুতোর মতো একধরনের অংশ যা অস্থিসন্ধিতে দুটি হাড়কে একে অপরের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে।
১৬ রেনে লিনেক পেশায় কী ছিলেন?
উত্তর: রেনে লিনেক পেশায় একজন ফরাসি ডাক্তার ছিলেন যিনি স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেছিলেন।
১৭ প্রথম স্টেথোস্কোপটি কী দিয়ে বানানো হয়েছিল?
উত্তর: ডাক্তার রেনে লিনেক লম্বা একটুকরো মোটা কাগজকে গোল করে পেঁচিয়ে, আঠা দিয়ে জুড়ে প্রথম স্টেথোস্কোপ বানিয়েছিলেন।
১৮ কাগজের তৈরি স্টেথোস্কোপের প্রধান অসুবিধা কী ছিল?
উত্তর: কাগজের তৈরি নল সহজে ভিজে বা দুমড়ে নষ্ট হয়ে যায় এবং কাগজের ভিতর দিয়ে বুকের ধুকপুক শব্দ পুরোপুরি পরিষ্কারভাবে শোনা যায় গঠন করা যায় না।
১৯ যক্ষ্মা (TB) রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ লেখো।
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ হলো— একটানা অনেকদিন কাশি হওয়া এবং কাশির সঙ্গে রক্ত ওঠা।
২০ যক্ষ্মা রোগ কীভাবে ছড়ায়?
উত্তর: যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি বা থুতুর মাধ্যমে যক্ষ্মার জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সুস্থ মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করলে এই রোগ ছড়ায়।
২১ ডটস (DOTS) কী?
উত্তর: ডটস (DOTS) হলো যক্ষ্মা বা টিবি রোগের বিনামূল্যে হওয়া আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা টানা ৬ থেকে ৮ মাস ধরে করতে হয়।
২২ বাড়িতে কীভাবে সহজে ও.আর.এস (ORS) তৈরি করা যায়?
উত্তর: এক গ্লাস ফোটানো ঠান্ডা জলে এক চামচ চিনি এবং তিন আঙুলের এক প্রান্ত নুন ভালোভাবে গুলে নিলেই বাড়িতে সহজে ও.আর.এস (ORS) তৈরি হয়ে যায়।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ ত্বক বা চামড়াকে শরীরের বর্ম বলা হয় কেন? ত্বকের কাজগুলি লেখো।
উত্তর:
যুদ্ধে আঘাত থেকে বাঁচার জন্য যোদ্ধারা যেমন লোহার তৈরি বর্ম বা পোশাক পরে, তেমনি ত্বক আমাদের পুরো শরীরকে ঢেকে রাখে বলে একে শরীরের বর্ম বলা হয়।
ত্বকের কাজগুলি হলো:
১) ত্বক আমাদের শরীরের ভেতরের নরম মাংসপেশি, নার্ভ এবং রক্তনালী (শিরা-ধমনি)-কে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২) বাইরের ক্ষতিকর রোগজীবাণুকে সহজে শরীরের ভেতর ঢুকতে দেয় না।
৩) ঘামের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের দূষিত পদার্থ বা বর্জ্য বাইরে বের করে দেয়।
৪) ত্বকে থাকা মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে আমাদের শরীরকে বাঁচায় এবং স্কিন ক্যানসার হতে দেয় না।
ত্বকের কাজগুলি হলো:
১) ত্বক আমাদের শরীরের ভেতরের নরম মাংসপেশি, নার্ভ এবং রক্তনালী (শিরা-ধমনি)-কে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২) বাইরের ক্ষতিকর রোগজীবাণুকে সহজে শরীরের ভেতর ঢুকতে দেয় না।
৩) ঘামের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের দূষিত পদার্থ বা বর্জ্য বাইরে বের করে দেয়।
৪) ত্বকে থাকা মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে আমাদের শরীরকে বাঁচায় এবং স্কিন ক্যানসার হতে দেয় না।
২ ডাক্তার রেনে লিনেক কীভাবে প্রথম স্টেথোস্কোপ আবিষ্কার করেছিলেন? গল্পটি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর:
আজ থেকে দুশো বছরেরও বেশি আগেকার কথা। ফরাসি ডাক্তার রেনে লিনেকের সবকিছু খুব খুঁটিয়ে দেখার অভ্যাস ছিল। তিনি ফুসফুস ও বুকের শব্দ শোনা নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তা করতেন।
তেমন একসময় একদিন বিকেলবেলা বাগানে পায়চারি করার সময় তিনি দেখলেন যে, দুটি ছোটো ছেলে একটা মজার খেলা খেলছে। একটা ধাতুর নলে একদিকে একটা ধাতুর জিনিস দিয়ে আঁচড় কাটছে একজন। অন্যজন সেই ধাতুর নলটার অন্যদিকে কান লাগিয়ে সেই আঁচড়ের আওয়াজ শুনছে। এভাবে দুজনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই খেলাটা খেলতে লাগল। একমনে ওদের খেলা দেখছিলেন লিনেক। হঠাৎ তাঁর মাথায় একটা ভাবনা এল।
দৌড়ে নিজের ঘরে ফিরে এলেন তিনি। টেবিলের ওপর পড়েছিল লম্বা একটুকরো মোটা কাগজ। কাগজটাকে গোল করে পেঁচালেন লিনেক। তা দিয়ে লম্বা, সরু একটা নল বানালেন এবং জুড়লেন আঠা দিয়ে। এভাবেই তৈরি হলো প্রথম স্টেথোস্কোপ। তবে কাগজের নল সহজে নষ্ট হয়ে যায় এবং শব্দ ভালো শোনা যায় না বলে পরে তিনি ছুতোর ডেকে নিজের আঁকা নকশা দিয়ে কাঠের উন্নত স্টেথোস্কোপ তৈরি করেছিলেন।
তেমন একসময় একদিন বিকেলবেলা বাগানে পায়চারি করার সময় তিনি দেখলেন যে, দুটি ছোটো ছেলে একটা মজার খেলা খেলছে। একটা ধাতুর নলে একদিকে একটা ধাতুর জিনিস দিয়ে আঁচড় কাটছে একজন। অন্যজন সেই ধাতুর নলটার অন্যদিকে কান লাগিয়ে সেই আঁচড়ের আওয়াজ শুনছে। এভাবে দুজনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই খেলাটা খেলতে লাগল। একমনে ওদের খেলা দেখছিলেন লিনেক। হঠাৎ তাঁর মাথায় একটা ভাবনা এল।
দৌড়ে নিজের ঘরে ফিরে এলেন তিনি। টেবিলের ওপর পড়েছিল লম্বা একটুকরো মোটা কাগজ। কাগজটাকে গোল করে পেঁচালেন লিনেক। তা দিয়ে লম্বা, সরু একটা নল বানালেন এবং জুড়লেন আঠা দিয়ে। এভাবেই তৈরি হলো প্রথম স্টেথোস্কোপ। তবে কাগজের নল সহজে নষ্ট হয়ে যায় এবং শব্দ ভালো শোনা যায় না বলে পরে তিনি ছুতোর ডেকে নিজের আঁকা নকশা দিয়ে কাঠের উন্নত স্টেথোস্কোপ তৈরি করেছিলেন।
৩ মেলানিন কী? এর কাজ ও গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর:
মেলানিন (Melanin) হলো আমাদের ত্বক বা চামড়ার মধ্যে থাকা এক বিশেষ ধরনের রঞ্জক পদার্থ। এই মেলানিনের অণুগুলির কারণেই আমাদের চামড়ার রং কালো, শ্যামবর্ণ বা ফর্সা হয়। যার ত্বকে মেলানিন বেশি থাকে, তার গায়ের রং তত কালো হয়।
কাজ ও গুরুত্ব:
১) মেলানিন সূর্যের প্রখর অতিবেগুনি রশ্মিকে (Ultraviolet rays) শুষে নেয়।
২) এটি আমাদের শরীরকে ত্বকের ক্যানসারের (Skin Cancer) হাত থেকে রক্ষা করে। তাই ফর্সা মানুষদের তুলনায় কালো বা শ্যামবর্ণ মানুষদের ত্বকের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
৩) শরীরে মেলানিন তৈরি কমে গেলে বয়স্কদের চুল সাদা হয়ে যায়।
কাজ ও গুরুত্ব:
১) মেলানিন সূর্যের প্রখর অতিবেগুনি রশ্মিকে (Ultraviolet rays) শুষে নেয়।
২) এটি আমাদের শরীরকে ত্বকের ক্যানসারের (Skin Cancer) হাত থেকে রক্ষা করে। তাই ফর্সা মানুষদের তুলনায় কালো বা শ্যামবর্ণ মানুষদের ত্বকের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
৩) শরীরে মেলানিন তৈরি কমে গেলে বয়স্কদের চুল সাদা হয়ে যায়।
৪ আমাদের শরীরে হাড় (Bones) এবং পেশির (Muscles) কাজ কী? লিগামেন্ট কী কাজ করে?
উত্তর:
হাড়ের কাজ:
১) হাড় আমাদের শরীরের মূল কাঠামো বা কঙ্কালতন্ত্র তৈরি করে। হাড় না থাকলে আমাদের শরীরটা মাংসের দলার মতো লুটিয়ে পড়ত।
২) হাড় শরীরের নরম ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে (যেমন- মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস) সুরক্ষিত রাখে।
৩) হাড় আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও হাঁটতে সাহায্য করে।
পেশির কাজ:
১) পেশি হাড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচড়া করতে সাহায্য করে।
২) আমরা যে হাঁটাচলা করি, দৌড়াই, জিনিসপত্র তুলি বা কথাবার্তা বলি— এই সব কাজই পেশির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সম্ভব হয়।
লিগামেন্টের কাজ:
লিগামেন্ট হলো সুতোর মতো অংশ, যা অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টগুলোতে দুটি হাড়কে একে অপরের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে।
হাড়ের কাজ:
১) হাড় আমাদের শরীরের মূল কাঠামো বা কঙ্কালতন্ত্র তৈরি করে। হাড় না থাকলে আমাদের শরীরটা মাংসের দলার মতো লুটিয়ে পড়ত।
২) হাড় শরীরের নরম ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে (যেমন- মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস) সুরক্ষিত রাখে।
৩) হাড় আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও হাঁটতে সাহায্য করে।
পেশির কাজ:
১) পেশি হাড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচড়া করতে সাহায্য করে।
২) আমরা যে হাঁটাচলা করি, দৌড়াই, জিনিসপত্র তুলি বা কথাবার্তা বলি— এই সব কাজই পেশির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে সম্ভব হয়।
লিগামেন্টের কাজ:
লিগামেন্ট হলো সুতোর মতো অংশ, যা অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টগুলোতে দুটি হাড়কে একে অপরের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে।
৫ যক্ষ্মা বা টিবি (TB) রোগ কীভাবে ছড়ায় এবং এই রোগ হলে কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত?
উত্তর:
যক্ষ্মা রোগ ছড়ানোর কারণ:
যক্ষ্মা বা টিবি মূলত বায়ুবাহিত রোগ। যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি বা থুতুর মাধ্যমে যক্ষ্মার জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই বাতাস সুস্থ মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করলে এই রোগ ছড়ায়।
যক্ষ্মা হলে করণীয় নিয়মাবলি:
১) এই রোগ নির্ণয়ের জন্য অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কফ ও থুতু পরীক্ষা করানো উচিত।
২) ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ডটস (DOTS - Directly Observed Treatment, Short-course) পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৬ থেকে ৮ মাস নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করা একেবারেই উচিত নয়।
৩) রোগীর যেখানে-সেখানে থুতু বা কফ ফেলা উচিত নয় এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল চাপা দেওয়া উচিত।
৪) রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে।
যক্ষ্মা রোগ ছড়ানোর কারণ:
যক্ষ্মা বা টিবি মূলত বায়ুবাহিত রোগ। যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি বা থুতুর মাধ্যমে যক্ষ্মার জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া) বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই বাতাস সুস্থ মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করলে এই রোগ ছড়ায়।
যক্ষ্মা হলে করণীয় নিয়মাবলি:
১) এই রোগ নির্ণয়ের জন্য অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কফ ও থুতু পরীক্ষা করানো উচিত।
২) ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ডটস (DOTS - Directly Observed Treatment, Short-course) পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৬ থেকে ৮ মাস নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করা একেবারেই উচিত নয়।
৩) রোগীর যেখানে-সেখানে থুতু বা কফ ফেলা উচিত নয় এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল চাপা দেওয়া উচিত।
৪) রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে।
Sponsored Links