পরিবেশ ও বনভূমি Class 5 Poribesh O Bigyan Chapter 6

Complete Chapter Summary, 40 MCQs, 30 Short Questions, and 10 Broad Explanatory Questions for WBBSE Class 5 Amader Poribesh Chapter 6 (পরিবেশ ও বনভূমি)।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 16 December 2025 Last Update: 05 June 2026

অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)

পঞ্চম শ্রেণির "পরিবেশ ও বনভূমি" অধ্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের বনভূমি, সেখানকার গাছপালা, বন্যপ্রাণী এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

মূল বিষয়বস্তু:
১. উত্তরের পাহাড়ি বনভূমি: দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর পাহাড়ে পাইন, ওক, ফার, বার্চ ও রডোডেনড্রন গাছ দেখা যায়। এখানকার প্রধান প্রাণী হলো রেড পান্ডা, কালো ভালুক এবং চিতাবাঘ।
২. তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চল: জলদাপাড়া ও গরুমারার জঙ্গলে চাপ, চিলোনি, লালি গাছ থাকে। এখানকার বিখ্যাত প্রাণী হলো একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, বাইসন এবং চিতাবাঘ।
৩. সুন্দরবন অঞ্চল: এখানে সুন্দরী, গরান, হেতাল ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ গাছ জন্মায়। বিখ্যাত বন্যপ্রাণী হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, বুনো শুয়োর এবং মেছোবিড়াল।
৪. পশ্চিমের মালভূমি: এই অঞ্চলের জঙ্গলে শাল, সেগুন, পলাশ ও ইউক্যালিপটাস গাছ দেখা যায়।
৫. লুপ্তপ্রায় প্রাণী: মানুষ নিজেদের স্বার্থে বন্যপ্রাণীদের শিকার করেছে। ফলে ভারত থেকে চিতা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। সুন্দর পালকের লোভে মানুষ হুইয়া পাখিকে ধ্বংস করেছে। হাতি তার দাঁতের জন্য এবং গন্ডার তার খড়্গের জন্য শিকারিদের হাতে মারা পড়ছে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আজ অত্যন্ত জরুরি।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

দার্জিলিং-এর পাহাড়ি জঙ্গলে কোন গাছ বেশি দেখা যায়?

ক) শাল ও সেগুন খ) পাইন, ওক ও ফার ✓ গ) সুন্দরী ও গরান ঘ) বট ও অশ্বত্থ
উত্তর: খ) পাইন, ওক ও ফার

পাহাড়ি অঞ্চলে কোন গাছে খুব সুন্দর ফুল ফোটে?

ক) বার্চ খ) মেহগনি গ) রডোডেনড্রন ✓ ঘ) শিমুল
উত্তর: গ) রডোডেনড্রন

রেড পান্ডা এবং কালো ভালুক পশ্চিমবঙ্গের কোন অঞ্চলে দেখা যায়?

ক) উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলে ✓ খ) সুন্দরবনে গ) পশ্চিমের মালভূমিতে ঘ) পূর্বের সমভূমিতে
উত্তর: ক) উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলে

সুন্দরবনের জঙ্গলের প্রধান গাছ কোনগুলি?

ক) শাল, পলাশ খ) সুন্দরী, গরান, হেতাল ✓ গ) পাইন, ফার ঘ) চাপ, চিলোনি
উত্তর: খ) সুন্দরী, গরান, হেতাল

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ কোথায় থাকে?

ক) জলদাপাড়ায় খ) বক্সায় গ) সুন্দরবনে ✓ ঘ) দার্জিলিং-এ
উত্তর: গ) সুন্দরবনে

সুন্দরবনের নদী ও জলাভূমিতে কোন ভয়ংকর প্রাণী থাকে?

ক) হাঙ্গর খ) কুমির ও কামট ✓ গ) নীল তিমি ঘ) অ্যানাকোন্ডা
উত্তর: খ) কুমির ও কামট

ডুয়ার্স বা তরাই অঞ্চলের জঙ্গলে (যেমন- জলদাপাড়া) কোন বিশেষ প্রাণী দেখা যায়?

ক) একশৃঙ্গ গন্ডার ✓ খ) সিংহ গ) উট ঘ) রেড পান্ডা
উত্তর: ক) একশৃঙ্গ গন্ডার

চাপ, চিলোনি, লালি ইত্যাদি গাছ পশ্চিমবঙ্গের কোথায় বেশি জন্মায়?

ক) সুন্দরবনে খ) রাঢ় অঞ্চলে গ) উত্তরের ডুয়ার্স অঞ্চলে ✓ ঘ) কলকাতায়
উত্তর: গ) উত্তরের ডুয়ার্স অঞ্চলে

পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের জঙ্গলে কোন গাছ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়?

ক) ওক খ) শাল ✓ গ) সুন্দরী ঘ) বাঁশ
উত্তর: খ) শাল

১০ পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের বনাঞ্চলে আর কী কী গাছ দেখা যায়?

ক) সেগুন, পলাশ, ইউক্যালিপটাস ✓ খ) পাইন, ফার গ) গরান, গেঁওয়া ঘ) নারকেল, সুপারি
উত্তর: ক) সেগুন, পলাশ, ইউক্যালিপটাস

১১ পশ্চিমের বনাঞ্চলে কোন বন্যপ্রাণী মাঝেমধ্যেই দলবেঁধে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে?

ক) বাঘ খ) হাতি ✓ গ) গন্ডার ঘ) বাইসন
উত্তর: খ) হাতি

১২ আগেকার দিনে বীরত্ব দেখানোর জন্য মানুষ কী করত?

ক) বন্দুক দিয়ে বাঘ মারত ✓ খ) গাছ লাগাত গ) কুমির পুষত ঘ) পাহাড় চড়ত
উত্তর: ক) বন্দুক দিয়ে বাঘ মারত

১৩ বর্তমানে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ কী?

ক) খাদ্যাভাব খ) মানুষের দ্বারা যথেচ্ছ শিকার বা চোরাশিকার ✓ গ) রোগব্যাধি ঘ) জলবায়ু পরিবর্তন
উত্তর: খ) মানুষের দ্বারা যথেচ্ছ শিকার বা চোরাশিকার

১৪ সুন্দরবনে বাঘ আছে বলে মানুষের কী সুবিধা হয়েছে?

ক) মানুষ বেশি কাঠ পায় খ) বাঘের ভয়ে মানুষ জঙ্গল কাটে না, তাই সুন্দরবন বেঁচে আছে ✓ গ) মাছ ধরতে সুবিধা হয় ঘ) যাতায়াতে সুবিধা হয়
উত্তর: খ) বাঘের ভয়ে মানুষ জঙ্গল কাটে না, তাই সুন্দরবন বেঁচে আছে

১৫ কোন বড়ো জন্তুটি শিকারের কারণে আজ ভারত থেকে পুরোপুরি হারিয়ে গেছে?

ক) সিংহ খ) চিতা ✓ গ) গন্ডার ঘ) জলহস্তী
উত্তর: খ) চিতা

১৬ কোন পাখিকে তার সুন্দর পালকের লোভে মানুষ মেরে ধ্বংস করে দিয়েছে?

ক) হুইয়া পাখি ✓ খ) ময়ূর গ) ডোডো পাখি ঘ) ঈগল
উত্তর: ক) হুইয়া পাখি

১৭ চোরাশিকারিরা হাতি মারে কেন?

ক) মাংসের জন্য খ) চামড়ার জন্য গ) মূল্যবান দাঁতের জন্য ✓ ঘ) শিংয়ের জন্য
উত্তর: গ) মূল্যবান দাঁতের জন্য

১৮ গন্ডারকে কেন শিকার করা হয়?

ক) তার খড়্গের জন্য ✓ খ) তার দাঁতের জন্য গ) তার পালকের জন্য ঘ) তার নখের জন্য
উত্তর: ক) তার খড়্গের জন্য

১৯ গন্ডারের খড়্গ আসলে কী?

ক) হাড় খ) মাংস গ) জমাট বাঁধা চুল ✓ ঘ) নখ
উত্তর: গ) জমাট বাঁধা চুল

২০ বন্যপ্রাণীরা কেন লোকালয়ে বা মানুষের গ্রামে চলে আসে?

ক) মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে খ) জঙ্গলে খাবারের অভাব হলে বা জঙ্গল কমে গেলে ✓ গ) খেলা করতে ঘ) রাস্তা ভুলে গিয়ে
উত্তর: খ) জঙ্গলে খাবারের অভাব হলে বা জঙ্গল কমে গেলে

২১ মেছোবিড়াল মূলত কোথায় থাকতে ভালোবাসে?

ক) উঁচু পাহাড়ে খ) শুকনো মরুভূমিতে গ) নদী বা জলাভূমির ধারের জঙ্গলে ✓ ঘ) লোকালয়ে
উত্তর: গ) নদী বা জলাভূমির ধারের জঙ্গলে

২২ সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘ ছাড়া আর কোন প্রাণী প্রায়ই দেখা যায়?

ক) চিত্রা হরিণ ও বুনো শুয়োর ✓ খ) হাতি ও গন্ডার গ) রেড পান্ডা ও ভালুক ঘ) শিম্পাঞ্জি ও গরিলা
উত্তর: ক) চিত্রা হরিণ ও বুনো শুয়োর

২৩ বনের পরিবেশের ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে?

ক) শুধু গাছপালা থাকলে খ) শুধু বাঘ থাকলে গ) উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে সঠিক খাদ্যশৃঙ্খল বজায় থাকলে ✓ ঘ) জঙ্গল পরিষ্কার করলে
উত্তর: গ) উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে সঠিক খাদ্যশৃঙ্খল বজায় থাকলে

২৪ কোন প্রাণীটিকে আমরা আর কখনও পৃথিবীতে দেখতে পাব না?

ক) গন্ডার খ) বাঘ গ) ডোডো পাখি ✓ ঘ) হাতি
উত্তর: গ) ডোডো পাখি

২৫ ডোডো পাখি কোথায় পাওয়া যেত?

ক) ভারতে খ) মরিশাস দ্বীপে ✓ গ) আফ্রিকায় ঘ) অস্ট্রেলিয়ায়
উত্তর: খ) মরিশাস দ্বীপে

২৬ বাঘ সাধারণত অকারণে মানুষ শিকার করে না। কথাটি কি সত্যি?

ক) হ্যাঁ, বনে খাবার পেলে বাঘ লোকালয়ে আসে না বা মানুষ খায় না ✓ খ) না, বাঘ সবসময় মানুষ শিকার করে গ) বাঘ শুধু মানুষই খায় ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর: ক) হ্যাঁ, বনে খাবার পেলে বাঘ লোকালয়ে আসে না বা মানুষ খায় না

২৭ বাইসন বা গৌর নামক প্রাণীটি পশ্চিমবঙ্গের কোথায় বেশি দেখা যায়?

ক) সুন্দরবনে খ) রাঢ় অঞ্চলে গ) জলদাপাড়ার জঙ্গলে ✓ ঘ) কলকাতায়
উত্তর: গ) জলদাপাড়ার জঙ্গলে

২৮ বাঘ সংরক্ষণ করার জন্য সরকার কোন বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে?

ক) হাতি প্রকল্প খ) ব্যাঘ্র প্রকল্প (Project Tiger) ✓ গ) গন্ডার প্রকল্প ঘ) জলপ্রকল্প
উত্তর: খ) ব্যাঘ্র প্রকল্প (Project Tiger)

২৯ পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের জঙ্গলে কোন বন্যপ্রাণী সাধারণত দেখা যায়?

ক) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার খ) খরগোশ, শিয়াল, হাতি ✓ গ) রেড পান্ডা ঘ) একশৃঙ্গ গন্ডার
উত্তর: খ) খরগোশ, শিয়াল, হাতি

৩০ বনজঙ্গল বাঁচানো কেন প্রয়োজন?

ক) শুধুমাত্র কাঠ পাওয়ার জন্য খ) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে ✓ গ) শুধু বাড়ি তৈরির জন্য ঘ) শিকার করার জন্য
উত্তর: খ) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে

৩১ আমাদের রাজ্যের কোন অংশে ম্যানগ্রোভ বনভূমি দেখা যায়?

ক) উত্তরের পাহাড়ে খ) দক্ষিণের সুন্দরবনে ✓ গ) পশ্চিমের মালভূমিতে ঘ) পূর্বের সমভূমিতে
উত্তর: খ) দক্ষিণের সুন্দরবনে

৩২ "বনে থাকে বাঘ"— এই সাধারণ প্রবাদটি ছাড়াও বনে আর কারা থাকে?

ক) শুধু সাপ খ) শুধু পাখি গ) হাতি, শিয়াল, খরগোশ, হরিণ সহ অসংখ্য প্রাণী ও কীটপতঙ্গ ✓ ঘ) শুধু কুমির
উত্তর: গ) হাতি, শিয়াল, খরগোশ, হরিণ সহ অসংখ্য প্রাণী ও কীটপতঙ্গ

৩৩ সুন্দরবনের জলে কোন প্রাণী মানুষের ভয়ের কারণ?

ক) ডলফিন খ) কুমির ও কামট ✓ গ) নীল তিমি ঘ) জেলিফিশ
উত্তর: খ) কুমির ও কামট

৩৪ পাইন ও ফার গাছ কেমন আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়?

ক) গরম ও শুষ্ক খ) খুব ঠান্ডা পাহাড়ি আবহাওয়া ✓ গ) নোনা আবহাওয়া ঘ) আর্দ্র সমভূমি
উত্তর: খ) খুব ঠান্ডা পাহাড়ি আবহাওয়া

৩৫ পলাশ গাছে কী রঙের ফুল ফোটে, যা জঙ্গলকে রাঙিয়ে দেয়?

ক) লাল বা কমলা ✓ খ) সাদা গ) নীল ঘ) হলুদ
উত্তর: ক) লাল বা কমলা

৩৬ কোন প্রাণীর চামড়া দিয়ে আগেকার দিনে মানুষের নানা শৌখিন জিনিস তৈরি হতো বলে তাদের হত্যা করা হতো?

ক) বাঘ ও কুমির ✓ খ) গোরু ও ছাগল গ) হাঁস ও মুরগি ঘ) কুকুর ও বিড়াল
উত্তর: ক) বাঘ ও কুমির

৩৭ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য আমাদের কী করা উচিত?

ক) বন্যপ্রাণী শিকার করা খ) বনজঙ্গল রক্ষা করা এবং চোরাশিকার বন্ধ করা ✓ গ) বন্যপ্রাণী বাড়িতে পোষা ঘ) জঙ্গল কেটে ফেলা
উত্তর: খ) বনজঙ্গল রক্ষা করা এবং চোরাশিকার বন্ধ করা

৩৮ আমাদের দেশে এখন বাঘের সংখ্যা কেমন?

ক) অনেক বেশি, বাড়ছে খ) আগে চল্লিশ হাজার ছিল, এখন খুব কমে গেছে ✓ গ) একেবারেই নেই ঘ) অপরিবর্তিত আছে
উত্তর: খ) আগে চল্লিশ হাজার ছিল, এখন খুব কমে গেছে

৩৯ কস্তুরী মৃগ বা হরিণকে মানুষ কেন শিকার করে?

ক) চামড়ার জন্য খ) সুগন্ধি নাভির জন্য ✓ গ) শিংয়ের জন্য ঘ) মাংসের জন্য
উত্তর: খ) সুগন্ধি নাভির জন্য

৪০ সুন্দরবনের জঙ্গলে কোন গাছটি দেখা যায় না?

ক) সুন্দরী খ) গরান গ) পাইন ✓ ঘ) হেতাল
উত্তর: গ) পাইন

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

দার্জিলিং বা উত্তরের পাহাড়ি বনাঞ্চলে কী কী গাছ দেখা যায়?

উত্তর: দার্জিলিং ও উত্তরের পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রধানত পাইন, ওক, ফার, বার্চ এবং রডোডেনড্রন গাছ দেখা যায়।

উত্তরের পাহাড়ি জঙ্গলে কী কী প্রাণী থাকে?

উত্তর: উত্তরের পাহাড়ি জঙ্গলে রেড পান্ডা, কালো ভালুক, চিতাবাঘ এবং নানারকম পাহাড়ি পাখি ও প্রজাপতি থাকে।

তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের জঙ্গলের দুটি বিখ্যাত গাছের নাম লেখো।

উত্তর: তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের জঙ্গলের বিখ্যাত গাছ হলো চাপ, চিলোনি এবং লালি।

জলদাপাড়া ও গরুমারা অভয়ারণ্য কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: জলদাপাড়া ও গরুমারা অভয়ারণ্য মূলত একশৃঙ্গ গন্ডারের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। এছাড়া এখানে হাতি ও বাইসনও প্রচুর দেখা যায়।

সুন্দরবনের কয়েকটি বিখ্যাত গাছের নাম লেখো।

উত্তর: সুন্দরবনের বিখ্যাত গাছগুলি হলো সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, কেওড়া এবং হেতাল।

সুন্দরবন অঞ্চলে কোন ভয়ংকর প্রাণী দেখা যায়?

উত্তর: সুন্দরবন অঞ্চলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ এবং নদী-খাড়িতে কুমির ও কামট দেখা যায়।

পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের জঙ্গলে কী কী গাছ থাকে?

উত্তর: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলে প্রধানত শাল, সেগুন, পলাশ, মহুয়া এবং ইউক্যালিপটাস গাছ বেশি দেখা যায়।

পশ্চিমের জঙ্গলে কোন বড়ো বন্যপ্রাণী দেখা যায়?

উত্তর: পশ্চিমের জঙ্গলে মাঝেমধ্যেই দলবেঁধে বুনো হাতির পাল দেখা যায়, যারা অনেক সময় খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসে।

মেছোবিড়াল কোথায় থাকতে ভালোবাসে?

উত্তর: মেছোবিড়াল মূলত জলাভূমি বা নদীর ধারের ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে থাকতে ভালোবাসে এবং মাছ শিকার করে খায়।

১০ রডোডেনড্রন কী?

উত্তর: রডোডেনড্রন হলো পাহাড়ি এলাকার একটি বিখ্যাত গাছ, যাতে অত্যন্ত সুন্দর লাল, গোলাপি বা সাদা রঙের ফুল ফোটে।

১১ আগেকার দিনে মানুষ বাঘ শিকার করত কেন?

উত্তর: আগেকার দিনে বন্দুক দিয়ে বাঘ মারাকে সাহসিকতা বা বীরত্বের কাজ বলে মনে করা হতো। শিকারিরা শখ মেটাতে এবং চামড়ার লোভে বাঘ শিকার করত।

১২ কোন প্রাণীটি শিকারের কারণে ভারত থেকে পুরোপুরি হারিয়ে গেছে?

উত্তর: শিকারিদের অত্যাচারে চিতা বাঘ বা চিতা নামক দ্রুতগামী প্রাণীটি ভারত থেকে পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।

১৩ মানুষ হুইয়া পাখিকে কেন ধ্বংস করেছে?

উত্তর: হুইয়া পাখির পালক অত্যন্ত সুন্দর ছিল। সেই পালক ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে বা সাজিয়ে রাখার লোভে মানুষ তাদের মেরে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।

১৪ ডোডো পাখি কোথায় থাকত এবং তাদের পরিণতি কী হয়েছে?

উত্তর: ডোডো পাখি মরিশাস দ্বীপে থাকত। তারা উড়তে পারত না বলে মানুষ খুব সহজেই তাদের শিকার করে মেরে ফেলেছে, ফলে আজ তারা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত।

১৫ হাতিকে কেন শিকার করা হয়?

উত্তর: হাতির মহামূল্যবান দুটি বড়ো দাঁত (Tusk) বা গজদন্তের লোভে চোরাশিকারিরা হাতি শিকার করে।

১৬ গন্ডার শিকারের প্রধান কারণ কী?

উত্তর: গন্ডারের নাকের ওপরে থাকা খড়্গ (যা আসলে জমাট বাঁধা চুল) থেকে দামি ওষুধ তৈরি হয় বলে চোরাশিকারিরা গন্ডার শিকার করে।

১৭ বন্যপ্রাণীরা কখন লোকালয়ে ঢুকে পড়ে?

উত্তর: জঙ্গল কেটে ফেলার কারণে যখন বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান ও খাদ্যের অভাব দেখা দেয়, তখনই তারা বাধ্য হয়ে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে বা গ্রামে ঢুকে পড়ে।

১৮ সুন্দরবন আজ পর্যন্ত কেন টিকে আছে?

উত্তর: সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে বলে বাঘের ভয়ে মানুষ সহজে জঙ্গল কাটতে সাহস পায় না। তাই বাঘের কারণেই সুন্দরবন আজও টিকে আছে।

১৯ বাঘ কি অকারণে মানুষ শিকার করে?

উত্তর: না, বাঘ অকারণে মানুষ শিকার করে না। বনে পর্যাপ্ত খাবার ও শিকার থাকলে বাঘ কখনোই লোকালয়ে আসে না বা মানুষ খায় না।

২০ কস্তুরী মৃগ কেন মারা হয়?

উত্তর: কস্তুরী মৃগ বা বিশেষ একধরনের হরিণ শিকার করা হয় তাদের নাভিতে থাকা সুগন্ধি কস্তুরীর লোভে, যা দিয়ে দামি সুগন্ধি বা পারফিউম তৈরি হয়।

২১ জীববৈচিত্র্য বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আমাদের চারপাশে জলে ও স্থলে নানা ধরনের যে অসংখ্য ছোটো-বড়ো উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সমাহার দেখা যায়, তাকেই সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য বলে।

২২ বনজঙ্গল ধ্বংস হলে পরিবেশের কী ক্ষতি হয়?

উত্তর: বনজঙ্গল ধ্বংস হলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, বৃষ্টিপাত কমে খরা দেখা দেয় এবং বন্যপ্রাণীরা বাসস্থান হারিয়ে বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যায়।

২৩ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন জরুরি?

উত্তর: প্রতিটি প্রাণীই পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো একটি প্রাণী বিলুপ্ত হলে পুরো বাস্তুতন্ত্র বা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জরুরি।

২৪ আমাদের দেশে এখন বাঘের সংখ্যা কেমন?

উত্তর: আগে আমাদের দেশে চল্লিশ হাজারের বেশি বাঘ ছিল। কিন্তু চোরাশিকার এবং জঙ্গল কমার ফলে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা অত্যন্ত কমে গেছে।

২৫ বাঘ সংরক্ষণের জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

উত্তর: বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে সরকার "ব্যাঘ্র প্রকল্প" (Project Tiger) চালু করেছে এবং বাঘ মারাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে।

২৬ সুন্দরী গাছের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: সুন্দরী গাছ লোনা ও কর্দমাক্ত মাটিতে জন্মায় বলে শ্বাস নেওয়ার জন্য এই গাছের মূল মাটির ওপরে উঠে আসে, যাদের শ্বাসমূল বলে।

২৭ দার্জিলিং-এর জঙ্গলে দেখা যায় এমন একটি পাখির নাম লেখো।

উত্তর: দার্জিলিং-এর জঙ্গলে নানা রকম পাহাড়ি পাখি দেখা যায়, যার মধ্যে হর্নবিল বা ধনেশ পাখি উল্লেখযোগ্য।

২৮ পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের একটি গাছের নাম লেখো যার কাঠ খুব শক্ত।

উত্তর: শাল গাছের কাঠ খুব শক্ত এবং টেকসই হয়। এই গাছ পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলে প্রচুর দেখা যায়।

২৯ বাইসন কী?

উত্তর: বাইসন বা গৌর হলো জঙ্গলে থাকা বিশাল আকারের বুনো গোরু বা মোষের মতো একটি শক্তিশালী প্রাণী, যা ডুয়ার্স অঞ্চলে দেখা যায়।

৩০ কুমির কোথায় থাকে এবং কেন তাদের শিকার করা হতো?

উত্তর: কুমির মূলত সুন্দরবনের নদী ও খাড়িতে থাকে। তাদের দামি ও শক্ত চামড়ার জন্য চোরাশিকারিরা তাদের নির্বিচারে শিকার করত।

রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের বনভূমি এবং সেখানকার প্রধান গাছপালার বিবরণ দাও।

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে এর বনভূমি ও গাছপালা বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন প্রকৃতির হয়:
১) উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল: দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর পাহাড়ে খুব ঠান্ডা থাকায় এখানে পাইন, ওক, ফার, বার্চ এবং রডোডেনড্রন গাছ বেশি দেখা যায়।
২) তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চল: পাহাড়ের নিচে প্রচুর বৃষ্টিপাত যুক্ত এই স্যাঁতসেঁতে জঙ্গলে চাপ, চিলোনি, লালি, শাল ও সেগুন গাছ দেখা যায়।
৩) পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল: পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার লালমাটির জঙ্গলে মূলত শাল, সেগুন, পলাশ, মহুয়া এবং ইউক্যালিপটাস গাছ জন্মায়।
৪) দক্ষিণের সুন্দরবন অঞ্চল: গঙ্গার মোহনার নোনা মাটিতে সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া ও হেতাল গাছের বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্য গড়ে উঠেছে।

উত্তরের পাহাড়ি জঙ্গল এবং সুন্দরবনের জঙ্গলের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।

উত্তর:
উত্তরের পাহাড়ি ও ডুয়ার্স অঞ্চলের বন্যপ্রাণী: এই অঞ্চলে প্রচুর ঘাস এবং গভীর জঙ্গল থাকায় এখানে বিশাল আকারের নিরামিষাশী প্রাণী যেমন— হাতি, একশৃঙ্গ গন্ডার এবং বাইসন প্রচুর দেখা যায়। পাহাড়ি অংশে রেড পান্ডা, কালো ভালুক এবং চিতাবাঘের বাস।

সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী: সুন্দরবন নদী ও খাড়ি দিয়ে ঘেরা কাদাময় বনাঞ্চল। এখানকার সবথেকে বিখ্যাত এবং ভয়ংকর প্রাণী হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ। এছাড়া এখানকার নদীগুলোতে কুমির ও কামট দেখা যায়। ডাঙ্গায় থাকে চিত্রা হরিণ, বুনো শুয়োর এবং নানা জাতের বিষধর সাপ।

মানুষ কেন বন্যপ্রাণী শিকার করত বা করে? এর ফলে কী ক্ষতি হয়েছে?

উত্তর:
মানুষ নানা কারণে বন্যপ্রাণী শিকার করে:
১) আগেকার দিনে রাজা-মহারাজা বা ধনী ব্যক্তিরা নিজেদের সাহসিকতা বা বীরত্ব প্রদর্শনের শখে বাঘ, সিংহ শিকার করতেন।
২) বন্যপ্রাণীর শরীরের বিভিন্ন বহুমূল্য অংশের লোভে চোরাশিকারিরা প্রাণী হত্যা করে। যেমন— হাতির দাঁতের জন্য, গন্ডারের খড়্গের জন্য, বাঘ ও কুমিরের চামড়ার জন্য, কস্তুরী মৃগের নাভির জন্য এবং হুইয়া পাখির সুন্দর পালকের জন্য।

ক্ষতি: এই নির্বিচার শিকারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে। চিতা, ডোডো, হুইয়া পাখির মতো অনেক প্রাণী আজ পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। বাঘ, গন্ডার ও হাতির সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

বাঘের সংখ্যা এত কমে গেল কীভাবে? বাঘ বাঁচানো কেন জরুরি?

উত্তর:
বাঘ কমে যাওয়ার কারণ: আগে আমাদের দেশে চল্লিশ হাজারের বেশি বাঘ ছিল। কিন্তু মানুষ নিজেদের বীরত্ব দেখাতে এবং বাঘের চামড়া ও হাড় চড়া দামে বিক্রি করার লোভে যথেচ্ছভাবে বাঘ শিকার করেছে। এছাড়া জঙ্গল কেটে ফেলার ফলে বাঘের বাসস্থান ও শিকারের (হরিণ, শুয়োর) অভাব দেখা দিয়েছে। তাই বাঘের সংখ্যা আজ দুই হাজারের নিচে নেমে এসেছে।

বাঘ বাঁচানোর গুরুত্ব: বাঘ হলো জঙ্গলের খাদ্যশৃঙ্খলের একেবারে শীর্ষ স্তরের প্রাণী। বাঘ থাকলে তবেই জঙ্গলে তৃণভোজী প্রাণীদের (যেমন হরিণ) সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে তারা সব গাছপালা খেয়ে শেষ করতে পারে না। এছাড়া বাঘের ভয়ে কাঠুরিয়ারা জঙ্গল কাটে না। অর্থাৎ বাঘ বেঁচে থাকলেই জঙ্গল বেঁচে থাকবে, আর জঙ্গল বাঁচলেই পরিবেশ বাঁচবে।

বন্যপ্রাণীরা কেন লোকালয়ে বা গ্রামে ঢুকে পড়ে? এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর কী ধরনের সংঘাত হয়?

উত্তর:
বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে ঢুকে পড়ার প্রধান কারণ হলো জঙ্গল ধ্বংস। মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে ক্রমাগত জঙ্গল কেটে চাষের জমি বা বসতি তৈরি করছে। ফলে বন্যপ্রাণীদের থাকার জায়গা ও খাবারের প্রবল অভাব দেখা দিচ্ছে। খিদের জ্বালাতেই হাতি, বাঘ বা চিতাবাঘের মতো প্রাণীরা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে।

সংঘাত: বন্যপ্রাণীরা গ্রামে ঢুকে পড়লে তারা খেতের ফসল নষ্ট করে (যেমন হাতি), গবাদি পশু এমনকি মানুষকেও আক্রমণ করে (যেমন বাঘ বা চিতাবাঘ)। এতে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামের মানুষজন অনেক সময় বন্যপ্রাণীদের পিটিয়ে বা বিষ দিয়ে মেরে ফেলে। একেই মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বলা হয়।

হারিয়ে যাওয়া বা বিলুপ্ত প্রাণী বলতে কী বোঝায়? কয়েকটি বিলুপ্ত প্রাণীর উদাহরণ দাও এবং তাদের বিলুপ্তির কারণ লেখো।

উত্তর:
যেসব প্রাণী একসময় পৃথিবীতে প্রচুর সংখ্যায় থাকলেও, বর্তমানে পৃথিবীর বুকে যাদের আর কোনো অস্তিত্ব নেই, তাদের হারিয়ে যাওয়া বা বিলুপ্ত প্রাণী বলা হয়।

উদাহরণ ও কারণ:
১) চিতা: একসময় ভারতে প্রচুর চিতা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত শিকার এবং জঙ্গল কমার ফলে ভারত থেকে চিতা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।
২) হুইয়া পাখি: এই পাখির পালক খুব সুন্দর ছিল। মানুষ ঘর সাজানোর লোভে পালকের জন্য এদের এত বেশি শিকার করেছে যে এরা পৃথিবী থেকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
৩) ডোডো পাখি: মরিশাস দ্বীপের এই পাখিরা উড়তে পারত না। সেখানে মানুষ যাওয়ার পর মাংসের লোভে তাদের এত সহজে শিকার করেছে যে আজ ডোডো পাখির কোনো অস্তিত্ব নেই।

সুন্দরবন কীভাবে আজও টিকে আছে? সুন্দরবন রক্ষার প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর:
সুন্দরবন আজও তার বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্য নিয়ে টিকে আছে তার প্রধান কারণ হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বাঘের আতঙ্কে সাধারণ মানুষ বা কাঠ পাচারকারীরা সহজে সুন্দরবনের গহীন জঙ্গলে ঢুকে গাছ কাটতে সাহস পায় না। বাঘই হলো সুন্দরবনের আসল রক্ষক।

রক্ষার প্রয়োজনীয়তা: সুন্দরবন শুধু বাঘ বা কুমিরের আস্তানা নয়, এটি পরিবেশের একটি বিরাট ভারসাম্য রক্ষাকারী। সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের মারাত্মক দাপট থেকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যই ঢাল হয়ে আমাদের শহর ও গ্রামগুলোকে রক্ষা করে। সুন্দরবন ধ্বংস হলে দক্ষিণবঙ্গের একটা বড়ো অংশ সমুদ্রের জলে তলিয়ে যাবে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তুমি মনে করো?

উত্তর:
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি:
১) আইন প্রয়োগ: চোরাশিকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য সরকারকে আরও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং বনরক্ষীদের নজরদারি বাড়াতে হবে।
২) বনসৃজন: জঙ্গল কাটা বন্ধ করে আরও বেশি করে গাছ লাগিয়ে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ বাসস্থান ও খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে হবে।
৩) জনসচেতনতা: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে এলে মানুষ তাদের না মেরে বনদপ্তরে খবর দেয়।
৪) অভয়ারণ্য স্থাপন: ব্যাঘ্র প্রকল্প বা হাতি প্রকল্পের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের জন্য আরও বেশি জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য তৈরি করতে হবে।

পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের বনভূমির বিবরণ দাও এবং এই বনভূমির গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:
বিবরণ: পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লালমাটির মালভূমি অঞ্চলে বেশ বড়ো বড়ো জঙ্গল রয়েছে। এখানকার মাটি কাঁকুরে ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এখানে মূলত শাল, সেগুন, পলাশ, মহুয়া এবং ইউক্যালিপটাস গাছ বেশি জন্মায়। বসন্তকালে যখন পলাশ ফুল ফোটে, তখন পুরো জঙ্গল লাল রঙে রাঙিয়ে যায়। এখানে হাতি, খরগোশ, শিয়ালের মতো প্রাণী দেখা যায়।

গুরুত্ব: এই জঙ্গলের শাল গাছের কাঠ খুব শক্ত হওয়ায় তা ঘরবাড়ি ও আসবাব তৈরিতে কাজে লাগে। এছাড়া এই বনের গাছপালা ও পাতা স্থানীয় আদিবাসী ও সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস।

১০ জীববৈচিত্র্য কী? পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:
জীববৈচিত্র্য: আমাদের পৃথিবীতে জলে, স্থলে, বনজঙ্গলে বা পাহাড়ে হাজার হাজার প্রজাতির যে ছোটো-বড়ো উদ্ভিদ এবং প্রাণী বসবাস করে, তাদের সামগ্রিক বৈচিত্র্য বা সমাহারকেই জীববৈচিত্র্য বলা হয়।

ভূমিকা: প্রকৃতির প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণী খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। উদাহরণস্বরূপ, ঘাস খায় হরিণ, আর হরিণকে খায় বাঘ। যদি কোনো কারণে বাঘ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে হরিণের সংখ্যা এত বেড়ে যাবে যে তারা জঙ্গলের সব ঘাস ও গাছপালা খেয়ে শেষ করে ফেলবে। ফলে একসময় পুরো জঙ্গলই ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য এবং পৃথিবীর স্বাভাবিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিটি প্রাণী ও উদ্ভিদের (জীববৈচিত্র্যের) সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Sponsored Links

পরিবেশ ও বনভূমি - FAQs

রেড পান্ডা পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পাহাড়ি জঙ্গলে (দার্জিলিং অঞ্চলে) দেখা যায়।

মানুষের অতিরিক্ত শিকারের কারণে চিতা ভারত থেকে পুরোপুরি হারিয়ে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সুন্দরবনের প্রধান ম্যানগ্রোভ গাছগুলি হলো সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হেতাল এবং কেওড়া

চোরাশিকারিরা হাতির মূল্যবান দাঁতের (গজদন্ত) জন্য এবং গন্ডারের খড়্গের জন্য তাদের শিকার করে।

মানুষ নিজেদের শখে এবং চামড়ার লোভে যথেচ্ছভাবে বাঘ শিকার করার ফলেই বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।