অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির "পরিবেশ ও সম্পদ" অধ্যায়ে আমাদের চারপাশের প্রাকৃতিক সম্পদ, তার ব্যবহার এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং মণীষীদের অবদান সম্পর্কেও জানা যায়।
মূল বিষয়বস্তু:
১. প্রাকৃতিক সম্পদ: মাটি, জল, সূর্যরশ্মি, বাতাস, কয়লা ইত্যাদি হলো আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। পশ্চিমের লালমাটি অঞ্চলে পাথর পাওয়া যায় যা পাকা বাড়ি করতে লাগে। কার্শিয়াং-এর উঁচু পাহাড়ে চা চাষ হয়। এছাড়া কয়লাখনির কথাও বলা হয়েছে।
২. সম্পদের ব্যবহার ও সংরক্ষণ: জল একটি অমূল্য সম্পদ। জল ধরে রেখে চাষের কাজে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া বনজঙ্গল রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে কারণ বন থেকে আমরা অক্সিজেন ও কাঠ পাই এবং বন বৃষ্টি হতে সাহায্য করে।
৩. বিভিন্ন পেশার মানুষ: চাষি, কামার, কুমোর, তাঁতি, জেলে, শিক্ষক, ডাক্তার ইত্যাদি সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের কথা এবং তাদের কাজের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
৪. ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা, দিঘার ঝিনুকের কাজ, ছৌ-নাচ ইত্যাদির মতো আঞ্চলিক ঐতিহ্যের কথা বলা হয়েছে।
৫. মণীষীদের কথা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভগিনী নিবেদিতা, বেগম রোকেয়া, মহাত্মা গান্ধী, ডঃ বি. আর. আম্বেদকর প্রমুখ মণীষীদের জীবনের নানা দিক এবং সমাজের কল্যাণে তাঁদের অবদানের কথা সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. প্রাকৃতিক সম্পদ: মাটি, জল, সূর্যরশ্মি, বাতাস, কয়লা ইত্যাদি হলো আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। পশ্চিমের লালমাটি অঞ্চলে পাথর পাওয়া যায় যা পাকা বাড়ি করতে লাগে। কার্শিয়াং-এর উঁচু পাহাড়ে চা চাষ হয়। এছাড়া কয়লাখনির কথাও বলা হয়েছে।
২. সম্পদের ব্যবহার ও সংরক্ষণ: জল একটি অমূল্য সম্পদ। জল ধরে রেখে চাষের কাজে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া বনজঙ্গল রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে কারণ বন থেকে আমরা অক্সিজেন ও কাঠ পাই এবং বন বৃষ্টি হতে সাহায্য করে।
৩. বিভিন্ন পেশার মানুষ: চাষি, কামার, কুমোর, তাঁতি, জেলে, শিক্ষক, ডাক্তার ইত্যাদি সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের কথা এবং তাদের কাজের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
৪. ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা, দিঘার ঝিনুকের কাজ, ছৌ-নাচ ইত্যাদির মতো আঞ্চলিক ঐতিহ্যের কথা বলা হয়েছে।
৫. মণীষীদের কথা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভগিনী নিবেদিতা, বেগম রোকেয়া, মহাত্মা গান্ধী, ডঃ বি. আর. আম্বেদকর প্রমুখ মণীষীদের জীবনের নানা দিক এবং সমাজের কল্যাণে তাঁদের অবদানের কথা সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ লালমাটি অঞ্চলে কীসের অভাব দেখা যায়?
উত্তর: খ) জলের
২ কার্শিয়াং-এর জমি কেমন?
উত্তর: খ) উঁচু পাহাড় ও ঢালু
৩ কার্শিয়াং-এর উঁচু পাহাড়ে কীসের বাগান দেখা যায়?
উত্তর: খ) চা
৪ পাকা বাড়ি তৈরি করতে কোনটি লাগে যা লালমাটি অঞ্চল থেকে পাওয়া যায়?
উত্তর: ক) পাথর
৫ মাটির নীচ থেকে কোন খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: গ) কয়লা
৬ প্রকৃতি থেকে পাওয়া সম্পদকে কী বলে?
উত্তর: ক) প্রাকৃতিক সম্পদ
৭ নীচের কোনটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়?
উত্তর: গ) প্লাস্টিক
৮ মানুষ তার বুদ্ধি ও পরিশ্রম দিয়ে যা তৈরি করে, তাকে কী সম্পদ বলে?
উত্তর: খ) মানবসৃষ্ট সম্পদ
৯ বাঁশ দিয়ে নানা জিনিস তৈরি করেন কে?
উত্তর: গ) বাঁশশিল্পী
১০ লোহা পিটিয়ে নানা জিনিস তৈরি করেন কে?
উত্তর: ক) কামার
১১ মাটি দিয়ে হাঁড়ি, কলসি ইত্যাদি তৈরি করেন কে?
উত্তর: খ) কুমোর
১২ সুতো দিয়ে কাপড় বোনেন কে?
উত্তর: খ) তাঁতি
১৩ কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করেন কে?
উত্তর: খ) ছুতোর মিস্ত্রি
১৪ রুগিদের চিকিৎসা করেন কে?
উত্তর: খ) ডাক্তারবাবু
১৫ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেখান কে?
উত্তর: ক) শিক্ষক/শিক্ষিকা
১৬ আগেকার দিনে যাতায়াতের প্রধান উপায় কী ছিল?
উত্তর: গ) হাঁটা বা গোরুর গাড়ি
১৭ ডিভিসি (DVC) এর পুরো নাম কী?
উত্তর: ক) দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন
১৮ ডিভিসি (DVC) কেন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: খ) বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচের জল সরবরাহের জন্য
১৯ ছৌ-নাচ পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলার একটি বিখ্যাত লোকনৃত্য?
উত্তর: ক) পুরুলিয়া
২০ ছৌ-নাচে নর্তকরা মুখে কী পরে নাচ করেন?
উত্তর: খ) মুখোশ
২১ বিষ্ণুপুর কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: গ) টেরাকোটা বা পোড়ামাটির কাজ
২২ দিঘা কী দিয়ে তৈরি জিনিসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: ক) ঝিনুক
২৩ বনের গাছ আমাদের কী দেয় যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য?
উত্তর: খ) অক্সিজেন
২৪ কে কলকাতায় হিন্দু কলেজ ও আরও অনেক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর: গ) ডেভিড হেয়ার
২৫ বর্ণপরিচয় বইটি কে লিখেছিলেন?
উত্তর: গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
২৬ কে বিধবাবিবাহ আইন চালু করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন?
উত্তর: ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
২৭ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর: খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২৮ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর: ক) শান্তিনিকেতনে
২৯ কে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শিষ্য ছিলেন এবং শিকাগো ধর্ম মহাসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন?
উত্তর: গ) স্বামী বিবেকানন্দ
৩০ স্বামী বিবেকানন্দের আসল নাম কী ছিল?
উত্তর: খ) নরেন্দ্রনাথ দত্ত
৩১ কে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন?
উত্তর: খ) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
৩২ মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল ভারতে এসে কী নামে পরিচিত হয়েছিলেন?
উত্তর: খ) ভগিনী নিবেদিতা
৩৩ ভগিনী নিবেদিতা কার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে এসেছিলেন?
উত্তর: ক) স্বামী বিবেকানন্দ
৩৪ মুসলিম সমাজে নারীশিক্ষার প্রসারে কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন?
উত্তর: খ) বেগম রোকেয়া
৩৫ কে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অহিংসার পথ দেখিয়েছিলেন?
উত্তর: গ) মহাত্মা গান্ধী
৩৬ মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম কী?
উত্তর: ক) মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী
৩৭ স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন কে?
উত্তর: গ) ডঃ বি. আর. আম্বেদকর
৩৮ সাধারণ মানুষের কাছে ডঃ আম্বেদকর কী নামে পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: খ) বাবাসাহেব
৩৯ ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের পুরো নাম কী?
উত্তর: ক) ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
৪০ কে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন এবং নিজে স্কুল তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: খ) বেগম রোকেয়া
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে?
উত্তর: প্রকৃতিতে আপনা-আপনি তৈরি হওয়া যেসব উপাদান মানুষের কাজে লাগে, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। যেমন- মাটি, জল, বাতাস, সূর্যের আলো।
২ মানবসৃষ্ট সম্পদ কাকে বলে?
উত্তর: মানুষ তার বুদ্ধি, পরিশ্রম এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকৃতি থেকে পাওয়া জিনিস দিয়ে যা তৈরি করে, তাকে মানবসৃষ্ট সম্পদ বলে। যেমন- বাড়িঘর, রাস্তা, গাড়ি, কলকারখানা।
৩ খনিজ সম্পদ কী?
উত্তর: মাটির নিচ থেকে খুঁড়ে তোলা যেসব সম্পদ মানুষের কাজে লাগে, তাদের খনিজ সম্পদ বলে। যেমন- কয়লা, লোহা, তামা।
৪ বনজ সম্পদ কী?
উত্তর: বনজঙ্গল থেকে আমরা যেসব প্রয়োজনীয় জিনিস পাই, তাদের বনজ সম্পদ বলে। যেমন- কাঠ, মধু, মোম, ভেষজ উদ্ভিদ।
৫ লালমাটি অঞ্চলে জলের অভাব দেখা যায় কেন?
উত্তর: লালমাটি অঞ্চলে মাটির জল ধারণ ক্ষমতা খুব কম থাকে, তাই সেখানে জলের অভাব দেখা যায়।
৬ কার্শিয়াং-এর জমি কেমন?
উত্তর: কার্শিয়াং পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জমি খুব উঁচু ও ঢালু।
৭ কার্শিয়াং-এর উঁচু পাহাড়ে প্রধানত কী চাষ হয়?
উত্তর: কার্শিয়াং-এর উঁচু পাহাড়ে প্রধানত চা চাষ হয়।
৮ পাকা বাড়ি তৈরি করতে কী লাগে যা লালমাটি অঞ্চল থেকে পাওয়া যায়?
উত্তর: পাকা বাড়ি তৈরি করতে পাথর লাগে, যা লালমাটি অঞ্চল থেকে পাওয়া যায়।
৯ কয়লা কী কাজে লাগে?
উত্তর: কয়লা প্রধানত জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে, ইটভাটায় ইট পোড়াতে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ তৈরিতে এবং বিভিন্ন কলকারখানায় ব্যবহৃত হয়।
১০ বাঁশশিল্পী কী কাজ করেন?
উত্তর: বাঁশশিল্পী বাঁশ দিয়ে ঝুড়ি, কুলো, চালুনি, মাদুর ইত্যাদি নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করেন।
১১ কামার কী কাজ করেন?
উত্তর: কামার লোহা পুড়িয়ে ও পিটিয়ে কাস্তে, কুড়ুল, দা, বঁটি, শাবল ইত্যাদি দরকারি জিনিস তৈরি করেন।
১২ কুমোর কী কাজ করেন?
উত্তর: কুমোর কাদামাটি দিয়ে হাঁড়ি, কলসি, মাটির পাত্র, মূর্তি, টব ইত্যাদি তৈরি করেন।
১৩ তাঁতি কী কাজ করেন?
উত্তর: তাঁতি সুতো দিয়ে তাঁতযন্ত্রের সাহায্যে শাড়ি, গামছা, ধুতি ইত্যাদি বোনার কাজ করেন।
১৪ ছুতোর মিস্ত্রি কী কাজ করেন?
উত্তর: ছুতোর মিস্ত্রি কাঠ কেটে এবং পালিশ করে খাট, আলমারি, চেয়ার, টেবিল, দরজা, জানালা ইত্যাদি আসবাবপত্র তৈরি করেন।
১৫ ডাক্তারবাবু কী কাজ করেন?
উত্তর: ডাক্তারবাবু রুগিদের পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করেন এবং ওষুধ দিয়ে তাদের সুস্থ করে তোলেন।
১৬ শিক্ষক/শিক্ষিকা কী কাজ করেন?
উত্তর: শিক্ষক/শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা শেখান এবং তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন।
১৭ ডিভিসি (DVC)-এর পুরো নাম কী?
উত্তর: ডিভিসি (DVC)-এর পুরো নাম হলো দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (Damodar Valley Corporation)।
১৮ ডিভিসি (DVC) কেন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: দামোদর নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিকাজে সেচের জল সরবরাহের জন্য ডিভিসি (DVC) তৈরি করা হয়েছিল।
১৯ ছৌ-নাচ কী?
উত্তর: ছৌ-নাচ হলো পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার একটি বিখ্যাত লোকনৃত্য, যেখানে নর্তকরা নানা দেবদেবী বা রাক্ষসের মুখোশ পরে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি অবলম্বন করে নাচ করেন।
২০ টেরাকোটা বা পোড়ামাটির কাজ কী?
উত্তর: মাটি দিয়ে নানা মূর্তি বা ফলক তৈরি করে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত ও স্থায়ী করার শিল্পকে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির কাজ বলে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর এই শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
২১ দিঘায় কীসের কাজ বিখ্যাত?
উত্তর: সমুদ্রতীরবর্তী শহর দিঘায় ঝিনুক দিয়ে নানা ধরনের শৌখিন জিনিস ও মূর্তি তৈরির কাজ খুব বিখ্যাত।
২২ ডেভিড হেয়ার কে ছিলেন?
উত্তর: ডেভিড হেয়ার ছিলেন একজন স্কটল্যান্ডীয় ঘড়ি-নির্মাতা ও শিক্ষানুরাগী, যিনি বাংলায় আধুনিক শিক্ষার প্রসারের জন্য হিন্দু কলেজ (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) এবং আরও অনেক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২৩ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান লেখো।
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হিন্দু বিধবা মহিলাদের দুর্দশা দূর করতে বিধবাবিবাহ আইন প্রচলনের জন্য প্রবল আন্দোলন করেছিলেন এবং নারীশিক্ষার প্রসারে অনেক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
২৪ "বর্ণপরিচয়" বইটি কার লেখা?
উত্তর: বাংলা ভাষা শেখার অন্যতম আদি ও জনপ্রিয় বই "বর্ণপরিচয়" পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা।
২৫ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২৬ স্বামী বিবেকানন্দের আসল নাম কী ছিল এবং তিনি কার শিষ্য ছিলেন?
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং তিনি যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সুযোগ্য শিষ্য ছিলেন।
২৭ আজাদ হিন্দ ফৌজ কে গঠন করেছিলেন?
উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিদেশে গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেছিলেন।
২৮ ভগিনী নিবেদিতা কে ছিলেন?
উত্তর: ভগিনী নিবেদিতা (মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল) ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের একজন আইরিশ শিষ্যা, যিনি ভারতে এসে নারীশিক্ষা প্রসার এবং প্লেগ মহামারির সময় রুগিদের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
২৯ বেগম রোকেয়া কেন স্মরণীয় হয়ে আছেন?
উত্তর: বেগম রোকেয়া মুসলিম সমাজে নারীদের পর্দাপ্রথার অন্ধকার থেকে বের করে এনে নারীশিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
৩০ মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন কী ছিল?
উত্তর: মহাত্মা গান্ধীর প্রধান জীবনদর্শন ছিল অহিংসা ও সত্যাগ্রহ। তিনি অহিংস পথে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
৩১ ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের পুরো নাম কী এবং তিনি কেন বিখ্যাত?
উত্তর: ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের পুরো নাম ভীমরাও রামজি আম্বেদকর। তিনি ভারতের সংবিধানের প্রধান স্থপতি এবং দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য বিখ্যাত।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবসৃষ্ট সম্পদের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর:
যেসব জিনিস আমরা সরাসরি প্রকৃতি থেকে পাই এবং যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয়, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। এগুলি মানুষ তৈরি করতে পারে না। যেমন- সূর্যালোক, বাতাস, জল, মাটি, বনজঙ্গল, কয়লা ইত্যাদি।
অন্যদিকে, মানুষ তার বুদ্ধি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং পরিশ্রম কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য যেসব জিনিস তৈরি করে, তাদের মানবসৃষ্ট সম্পদ বলে। যেমন- মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা ইটের বাড়ি, লোহা দিয়ে তৈরি যন্ত্রপাতি, গাড়ি, রাস্তাঘাট, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ইত্যাদি।
অন্যদিকে, মানুষ তার বুদ্ধি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং পরিশ্রম কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য যেসব জিনিস তৈরি করে, তাদের মানবসৃষ্ট সম্পদ বলে। যেমন- মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা ইটের বাড়ি, লোহা দিয়ে তৈরি যন্ত্রপাতি, গাড়ি, রাস্তাঘাট, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ইত্যাদি।
২ বনজঙ্গলকে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলা হয় কেন? বনের উপযোগিতাগুলি লেখো।
উত্তর:
বনজঙ্গল আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এর উপযোগিতাগুলি হলো:
১) বনভূমির গাছপালা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় পরিবেশ থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বাতাসে ত্যাগ করে।
২) গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে বৃষ্টি বা বন্যায় ভূমিক্ষয় রোধ হয়।
৩) বনজঙ্গল মেঘ ডেকে এনে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে, যা কৃষিকাজ ও পানীয় জলের জন্য অপরিহার্য।
৪) বন থেকে আমরা কাঠ, মধু, মোম, রজন এবং নানা রকম জীবনদায়ী ভেষজ ওষুধ পাই।
৫) বন হলো নানা রকম বন্যপ্রাণী ও পাখিদের স্বাভাবিক বাসস্থান।
বনজঙ্গল আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এর উপযোগিতাগুলি হলো:
১) বনভূমির গাছপালা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় পরিবেশ থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন বাতাসে ত্যাগ করে।
২) গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে বৃষ্টি বা বন্যায় ভূমিক্ষয় রোধ হয়।
৩) বনজঙ্গল মেঘ ডেকে এনে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে, যা কৃষিকাজ ও পানীয় জলের জন্য অপরিহার্য।
৪) বন থেকে আমরা কাঠ, মধু, মোম, রজন এবং নানা রকম জীবনদায়ী ভেষজ ওষুধ পাই।
৫) বন হলো নানা রকম বন্যপ্রাণী ও পাখিদের স্বাভাবিক বাসস্থান।
৩ ডিভিসি (DVC) কী? এটি কেন তৈরি করা হয়েছিল এবং এর ফলে কী সুবিধা হয়েছে?
উত্তর:
ডিভিসি (DVC)-এর পুরো কথা হলো দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (Damodar Valley Corporation)। স্বাধীন ভারতের এটি একটি বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা।
আগে বর্ষাকালে দামোদর নদের বন্যায় বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া প্রভৃতি জেলায় প্রচুর ফসল ও সম্পত্তির ক্ষতি হতো, তাই দামোদরকে "বাংলার দুঃখ" বলা হতো। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ করার জন্যই ডিভিসি তৈরি করা হয়।
এর ফলে দামোদর নদের ওপর বেশ কয়েকটি বাঁধ (যেমন- মাইথন, পাঞ্চেত) নির্মাণ করে বর্ষার অতিরিক্ত জল আটকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। সেই জমানো জল দিয়ে খরা মরশুমে চাষের জমিতে সেচের জল দেওয়া হয় এবং জলের স্রোত কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎও উৎপাদন করা হয়।
ডিভিসি (DVC)-এর পুরো কথা হলো দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (Damodar Valley Corporation)। স্বাধীন ভারতের এটি একটি বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা।
আগে বর্ষাকালে দামোদর নদের বন্যায় বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া প্রভৃতি জেলায় প্রচুর ফসল ও সম্পত্তির ক্ষতি হতো, তাই দামোদরকে "বাংলার দুঃখ" বলা হতো। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ করার জন্যই ডিভিসি তৈরি করা হয়।
এর ফলে দামোদর নদের ওপর বেশ কয়েকটি বাঁধ (যেমন- মাইথন, পাঞ্চেত) নির্মাণ করে বর্ষার অতিরিক্ত জল আটকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। সেই জমানো জল দিয়ে খরা মরশুমে চাষের জমিতে সেচের জল দেওয়া হয় এবং জলের স্রোত কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎও উৎপাদন করা হয়।
৪ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
সমাজের প্রতিটি মানুষের কাজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কেউ একা সব কাজ করে বেঁচে থাকতে পারে না। একে অপরের ওপর নির্ভর করেই সমাজ চলে।
যেমন, চাষি ভাইরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলান বলেই আমরা খাবার পাই। তাঁতিরা কাপড় বোনেন বলে আমরা পোশাক পরতে পারি। কামার, কুমোর, ছুতোর মিস্ত্রিরা আমাদের রোজকার ব্যবহারের নানা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র তৈরি করেন। রাজমিস্ত্রিরা আমাদের থাকার জন্য বাড়ি তৈরি করেন। আমরা অসুস্থ হলে ডাক্তারবাবুরা চিকিৎসা করে আমাদের সুস্থ করেন। আর শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ হতে সাহায্য করেন। তাই সমাজের সব পেশার মানুষই একে অপরের পরিপূরক এবং প্রত্যেকের কাজের সমান মর্যাদা দেওয়া উচিত।
সমাজের প্রতিটি মানুষের কাজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কেউ একা সব কাজ করে বেঁচে থাকতে পারে না। একে অপরের ওপর নির্ভর করেই সমাজ চলে।
যেমন, চাষি ভাইরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলান বলেই আমরা খাবার পাই। তাঁতিরা কাপড় বোনেন বলে আমরা পোশাক পরতে পারি। কামার, কুমোর, ছুতোর মিস্ত্রিরা আমাদের রোজকার ব্যবহারের নানা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র তৈরি করেন। রাজমিস্ত্রিরা আমাদের থাকার জন্য বাড়ি তৈরি করেন। আমরা অসুস্থ হলে ডাক্তারবাবুরা চিকিৎসা করে আমাদের সুস্থ করেন। আর শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ হতে সাহায্য করেন। তাই সমাজের সব পেশার মানুষই একে অপরের পরিপূরক এবং প্রত্যেকের কাজের সমান মর্যাদা দেওয়া উচিত।
৫ আঞ্চলিক ঐতিহ্য বলতে কী বোঝায়? পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি আঞ্চলিক ঐতিহ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর:
কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিশেষ কোনো শিল্প, সংস্কৃতি, খাবার বা উৎসব যা ওই এলাকার নিজস্ব পরিচিতি বহন করে, তাকেই আঞ্চলিক ঐতিহ্য বলা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিখ্যাত আঞ্চলিক ঐতিহ্য হলো:
১) পুরুলিয়ার ছৌ-নাচ: দেবদেবী বা রাক্ষসের বিশাল মুখোশ পরে শারীরিক কসরতের মাধ্যমে এই লোকনৃত্য পরিবেশিত হয়।
২) বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা: পোড়ামাটির অপূর্ব কারুকার্য করা মন্দির এবং নানা শৌখিন জিনিস এখানকার ঐতিহ্য।
৩) পূর্ব মেদিনীপুরের মাদুর শিল্প: বিশেষ ধরনের কাঠি দিয়ে তৈরি আরামদায়ক মাদুর।
৪) কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল: অত্যন্ত নিঁখুত ও জীবন্ত মাটির পুতুল তৈরির জন্য এই জায়গা জগৎবিখ্যাত।
কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিশেষ কোনো শিল্প, সংস্কৃতি, খাবার বা উৎসব যা ওই এলাকার নিজস্ব পরিচিতি বহন করে, তাকেই আঞ্চলিক ঐতিহ্য বলা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিখ্যাত আঞ্চলিক ঐতিহ্য হলো:
১) পুরুলিয়ার ছৌ-নাচ: দেবদেবী বা রাক্ষসের বিশাল মুখোশ পরে শারীরিক কসরতের মাধ্যমে এই লোকনৃত্য পরিবেশিত হয়।
২) বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা: পোড়ামাটির অপূর্ব কারুকার্য করা মন্দির এবং নানা শৌখিন জিনিস এখানকার ঐতিহ্য।
৩) পূর্ব মেদিনীপুরের মাদুর শিল্প: বিশেষ ধরনের কাঠি দিয়ে তৈরি আরামদায়ক মাদুর।
৪) কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল: অত্যন্ত নিঁখুত ও জীবন্ত মাটির পুতুল তৈরির জন্য এই জায়গা জগৎবিখ্যাত।
৬ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে "দয়ার সাগর" বলা হয় কেন? নারীশিক্ষা ও সমাজসংস্কারে তাঁর অবদান লেখো।
উত্তর:
পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অত্যন্ত দয়ালু ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। গরিব, দুঃখী, অনাথ মানুষদের তিনি সবসময় দু-হাত ভরে সাহায্য করতেন বলে তাঁকে "দয়ার সাগর" বলা হয়।
সমাজসংস্কার ও নারীশিক্ষায় তাঁর অবদান অতুলনীয়। সেই যুগে হিন্দু সমাজে অল্পবয়সি বিধবাদের জীবন ছিল নরকযন্ত্রণার মতো। তিনি শাস্ত্র ঘেঁটে প্রমাণ করেন বিধবাবিবাহ অশাস্ত্রীয় নয় এবং প্রবল আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি বিধবাবিবাহ আইন পাস করান। এছাড়া সমাজের উন্নতি করতে হলে যে নারীদের শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন, তা তিনি বুঝেছিলেন। তাই তিনি নিজের চেষ্টায় ও খরচে গ্রামে গ্রামে প্রচুর বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অত্যন্ত দয়ালু ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। গরিব, দুঃখী, অনাথ মানুষদের তিনি সবসময় দু-হাত ভরে সাহায্য করতেন বলে তাঁকে "দয়ার সাগর" বলা হয়।
সমাজসংস্কার ও নারীশিক্ষায় তাঁর অবদান অতুলনীয়। সেই যুগে হিন্দু সমাজে অল্পবয়সি বিধবাদের জীবন ছিল নরকযন্ত্রণার মতো। তিনি শাস্ত্র ঘেঁটে প্রমাণ করেন বিধবাবিবাহ অশাস্ত্রীয় নয় এবং প্রবল আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি বিধবাবিবাহ আইন পাস করান। এছাড়া সমাজের উন্নতি করতে হলে যে নারীদের শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন, তা তিনি বুঝেছিলেন। তাই তিনি নিজের চেষ্টায় ও খরচে গ্রামে গ্রামে প্রচুর বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
৭ স্বামী বিবেকানন্দ কে ছিলেন? তাঁর আদর্শ ও বাণী কীভাবে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিল?
উত্তর:
স্বামী বিবেকানন্দ (আসল নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত) ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রধান শিষ্য এবং একজন মহান হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক ও সমাজসংস্কারক। তিনি ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় হিন্দুধর্মের মহান আদর্শ তুলে ধরে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিলেন।
তাঁর আদর্শ ছিল "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর"। তিনি যুবসমাজকে দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে শরীর ও মনকে লোহার মতো শক্ত করতে বলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে দেশের উন্নতি করতে হলে প্রথমে গরিব, অশিক্ষিত মানুষের উন্নতি করতে হবে। তাঁর তেজস্বী বাণী পরাধীন ভারতের যুবকদের মনে দেশপ্রেম ও আত্মবিশ্বাসের আগুন জ্বালিয়েছিল।
স্বামী বিবেকানন্দ (আসল নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত) ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রধান শিষ্য এবং একজন মহান হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক ও সমাজসংস্কারক। তিনি ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় হিন্দুধর্মের মহান আদর্শ তুলে ধরে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিলেন।
তাঁর আদর্শ ছিল "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর"। তিনি যুবসমাজকে দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে শরীর ও মনকে লোহার মতো শক্ত করতে বলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে দেশের উন্নতি করতে হলে প্রথমে গরিব, অশিক্ষিত মানুষের উন্নতি করতে হবে। তাঁর তেজস্বী বাণী পরাধীন ভারতের যুবকদের মনে দেশপ্রেম ও আত্মবিশ্বাসের আগুন জ্বালিয়েছিল।
৮ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর ও নির্ভীক নেতা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আপস বা ভিক্ষা করে নয়, শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে।
ইংরেজদের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি ভারত থেকে পালিয়ে প্রথমে জার্মানি এবং পরে জাপানে পৌঁছান। সেখানে তিনি রাসবিহারী বসুর তৈরি "আজাদ হিন্দ ফৌজ"-এর দায়িত্ব নেন এবং সেই সৈন্যবাহিনী নিয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হন। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ছিল, "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।" যদিও আজাদ হিন্দ ফৌজ যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি, কিন্তু নেতাজির এই বীরত্ব ও দেশপ্রেম সমগ্র ভারতবাসীকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রচণ্ডভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর ও নির্ভীক নেতা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আপস বা ভিক্ষা করে নয়, শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করেই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হবে।
ইংরেজদের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি ভারত থেকে পালিয়ে প্রথমে জার্মানি এবং পরে জাপানে পৌঁছান। সেখানে তিনি রাসবিহারী বসুর তৈরি "আজাদ হিন্দ ফৌজ"-এর দায়িত্ব নেন এবং সেই সৈন্যবাহিনী নিয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হন। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ছিল, "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।" যদিও আজাদ হিন্দ ফৌজ যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি, কিন্তু নেতাজির এই বীরত্ব ও দেশপ্রেম সমগ্র ভারতবাসীকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রচণ্ডভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
৯ ভগিনী নিবেদিতা কে ছিলেন? ভারতে তাঁর নিঃস্বার্থ সেবার কথা বর্ণনা করো।
উত্তর:
ভগিনী নিবেদিতা ছিলেন আয়ারল্যান্ডের এক মহীয়সী নারী, যাঁর আসল নাম ছিল মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। তিনি লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে এতই মুগ্ধ হন যে নিজের দেশ ও পরিবার ছেড়ে ভারতে এসে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন এবং স্বামীজির আদর্শে নিজেকে সঁপে দেন। স্বামীজি তাঁর নাম দেন "নিবেদিতা"।
ভারতে এসে তিনি নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। কলকাতায় যখন ভয়াবহ প্লেগ মহামারি দেখা দেয়, তখন তিনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে দিনরাত এক করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে রুগিদের সেবা-শুশ্রূষা করেছিলেন এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেছিলেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের জন্যই তিনি ভারতবাসীর কাছে চিরস্মরণীয়।
ভগিনী নিবেদিতা ছিলেন আয়ারল্যান্ডের এক মহীয়সী নারী, যাঁর আসল নাম ছিল মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। তিনি লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা শুনে এতই মুগ্ধ হন যে নিজের দেশ ও পরিবার ছেড়ে ভারতে এসে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন এবং স্বামীজির আদর্শে নিজেকে সঁপে দেন। স্বামীজি তাঁর নাম দেন "নিবেদিতা"।
ভারতে এসে তিনি নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। কলকাতায় যখন ভয়াবহ প্লেগ মহামারি দেখা দেয়, তখন তিনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে দিনরাত এক করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে রুগিদের সেবা-শুশ্রূষা করেছিলেন এবং রাস্তাঘাট পরিষ্কার করেছিলেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের জন্যই তিনি ভারতবাসীর কাছে চিরস্মরণীয়।
১০ বেগম রোকেয়া কীভাবে মুসলিম সমাজে নারীশিক্ষার আলো জ্বেলেছিলেন?
উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সমাজসংস্কারক ও লেখিকা। সেই সময়ে মুসলিম সমাজে মেয়েদের অবস্থা ছিল খুব শোচনীয়। তাঁদের চার দেওয়ালের মধ্যে কড়া পর্দাপ্রথায় বন্দি করে রাখা হতো এবং লেখাপড়া শেখার কোনো অধিকার ছিল কাম্য।
বেগম রোকেয়া নিজে অনেক কষ্ট করে লুকিয়ে পড়াশোনা শিখেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে শিক্ষা ছাড়া মেয়েদের মুক্তি অসম্ভব। তাই তিনি বহু বাধা-বিপত্তি ও সামাজিক গঞ্জনা সহ্য করেও বাড়ি বাড়ি ঘুরে মেয়েদের বুঝিয়ে স্কুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। তিনি মেয়েদের জন্য একটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর এই অদম্য জেদ ও প্রচেষ্টাই মুসলিম সমাজের নারীদের সামনে শিক্ষার আলো জ্বেলে দিয়েছিল।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সমাজসংস্কারক ও লেখিকা। সেই সময়ে মুসলিম সমাজে মেয়েদের অবস্থা ছিল খুব শোচনীয়। তাঁদের চার দেওয়ালের মধ্যে কড়া পর্দাপ্রথায় বন্দি করে রাখা হতো এবং লেখাপড়া শেখার কোনো অধিকার ছিল কাম্য।
বেগম রোকেয়া নিজে অনেক কষ্ট করে লুকিয়ে পড়াশোনা শিখেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে শিক্ষা ছাড়া মেয়েদের মুক্তি অসম্ভব। তাই তিনি বহু বাধা-বিপত্তি ও সামাজিক গঞ্জনা সহ্য করেও বাড়ি বাড়ি ঘুরে মেয়েদের বুঝিয়ে স্কুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। তিনি মেয়েদের জন্য একটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর এই অদম্য জেদ ও প্রচেষ্টাই মুসলিম সমাজের নারীদের সামনে শিক্ষার আলো জ্বেলে দিয়েছিল।
Sponsored Links