অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির "পরিবেশ ও উৎপাদন" অধ্যায়ে মূলত কৃষিকাজ, মৎস্য উৎপাদন এবং এর সাথে জড়িত পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি: বর্তমানে জমি চষার জন্য ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার এবং ধান কাটা ও ঝাড়ার জন্য আধুনিক যন্ত্র 'হারভেস্টার' ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে কৃষিকাজ অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
২. মাছ ধরার পদ্ধতি: পুকুর বা জলাশয় থেকে মাছ ধরার জন্য নানা ধরনের জাল (যেমন- ফাঁদি জাল), ঘুনি, পোলো, এবং ছিপ ব্যবহার করা হয়।
৩. পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য: কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে তা বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুরে পড়ে। এর ফলে শোল, চ্যাং-এর মতো দেশি মাছ এবং জলজ প্রাণীরা মারা যাচ্ছে।
৪. হারিয়ে যাওয়া প্রাণী ও উদ্ভিদ: গোরুদের দেওয়া ব্যথা কমানোর বিষাক্ত ওষুধ যুক্ত মাংস খেয়ে শকুন আজ হারিয়ে যাওয়ার মুখে। একইভাবে জঙ্গল সাফ করে চাষবাসের ফলে সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরির মতো ঔষধি গাছও হারিয়ে যাচ্ছে।
৫. জীববৈচিত্র্য রক্ষা: আমাদের চারপাশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর যে বিপুল সমাহার রয়েছে, তা-ই হলো জীববৈচিত্র্য। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এদের সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মূল বিষয়বস্তু:
১. কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি: বর্তমানে জমি চষার জন্য ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার এবং ধান কাটা ও ঝাড়ার জন্য আধুনিক যন্ত্র 'হারভেস্টার' ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে কৃষিকাজ অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
২. মাছ ধরার পদ্ধতি: পুকুর বা জলাশয় থেকে মাছ ধরার জন্য নানা ধরনের জাল (যেমন- ফাঁদি জাল), ঘুনি, পোলো, এবং ছিপ ব্যবহার করা হয়।
৩. পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য: কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে তা বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুরে পড়ে। এর ফলে শোল, চ্যাং-এর মতো দেশি মাছ এবং জলজ প্রাণীরা মারা যাচ্ছে।
৪. হারিয়ে যাওয়া প্রাণী ও উদ্ভিদ: গোরুদের দেওয়া ব্যথা কমানোর বিষাক্ত ওষুধ যুক্ত মাংস খেয়ে শকুন আজ হারিয়ে যাওয়ার মুখে। একইভাবে জঙ্গল সাফ করে চাষবাসের ফলে সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরির মতো ঔষধি গাছও হারিয়ে যাচ্ছে।
৫. জীববৈচিত্র্য রক্ষা: আমাদের চারপাশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর যে বিপুল সমাহার রয়েছে, তা-ই হলো জীববৈচিত্র্য। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এদের সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ জমি চষার আধুনিক যন্ত্রটির নাম কী?
উত্তর: খ) পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর
২ মাঠে ধান কাটা এবং খড় থেকে ধান আলাদা করার আধুনিক যন্ত্রকে কী বলে?
উত্তর: ক) হারভেস্টার
৩ ধান কাটা এবং ঝাড়ার কাজকে একসঙ্গে ইংরেজিতে কী বলে?
উত্তর: গ) হারভেস্টিং
৪ জালের সুতো দিয়ে তৈরি খোপ বা পকেটকে কী বলা হয়?
উত্তর: খ) ফাঁদি
৫ বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি বাক্সের মতো মাছ ধরার ফাঁদকে কী বলে, যেখানে মাছ ঢুকতে পারে কিন্তু বেরোতে পারে না?
উত্তর: ক) ঘুনি
৬ কোনটি দিয়ে জলের মধ্যে মাছের চারপাশ ঘিরে ফেলতে হয়, তারপর হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরতে হয়?
উত্তর: গ) পোলো
৭ ছোটো ডোবা-পুকুরে আগে কোন মাছ বেশি দেখা যেত, যা এখন কমে গেছে?
উত্তর: গ) শোল-চ্যাং
৮ ছোটো পুকুর বা জলাশয়ে মাছেরা মারা যাওয়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: ক) মাঠ থেকে ধুয়ে আসা কীটনাশক মিশ্রিত জল
৯ মরা জন্তুর মাংস খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখত কোন প্রাণী?
উত্তর: গ) শকুন
১০ শকুন হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: খ) গোরুদের ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়া বিষাক্ত মাংস খেয়ে
১১ নীচের কোনটি একটি লুপ্তপ্রায় ঔষধি গাছ?
উত্তর: খ) সর্পগন্ধা
১২ আমাদের চারপাশের নানা রকম উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমাহারকে কী বলা হয়?
উত্তর: গ) জীববৈচিত্র্য
১৩ জমিতে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করলে মাটিতে থাকা কোন উপকারী প্রাণীর ক্ষতি হয়?
উত্তর: গ) কেঁচো
১৪ কোন মাছটি মূলত বড়ো পুকুর বা ভেড়িতে চাষ করা হয়?
উত্তর: খ) রুই-কাতলা
১৫ কোন গাছগুলি সব জায়গা পরিষ্কার করে চাষ করার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে?
উত্তর: ক) মেহেন্দি ও মুক্তোঝুরি
১৬ আগেকার দিনে মানুষ জমি চষার জন্য কী ব্যবহার করত?
উত্তর: গ) কাঠের লাঙল ও গোরু-মোষ
১৭ জমির উর্বরতা বাড়াতে এবং পরিবেশকে সুস্থ রাখতে কোন সার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: খ) জৈব সার বা কম্পোস্ট
১৮ কোন মাছটি একটি দেশি মাছের উদাহরণ?
উত্তর: ক) মাগুর
১৯ ছিপ দিয়ে মাছ ধরার জন্য বঁড়শিতে কী গাঁথতে হয়?
উত্তর: গ) টোপ (যেমন- কেঁচো বা আটা)
২০ রাসায়নিক সার বেশি ব্যবহার করলে মাটির কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: খ) মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও উপকারী অণুজীব নষ্ট হয়
২১ দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রধানত কোন পদ্ধতিতে চাষ করা হয়?
উত্তর: গ) ধাপ কেটে বা সিঁড়ির মতো জমি তৈরি করে
২২ ধান উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলাকে "ধানের গোলা" বলা হয়?
উত্তর: খ) বর্ধমান
২৩ চা গাছ কেমন ভূমিতে ভালো জন্মায়?
উত্তর: খ) পাহাড়ি ঢালু জমিতে, যেখানে জল জমে না
২৪ কোন পোকাকে "কৃষকের বন্ধু" বলা হয়?
উত্তর: গ) কেঁচো
২৫ কৃষিজমিতে পোকামাকড় মারার জন্য কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: গ) কীটনাশক
২৬ কোন দেশি মাছটি এখন খুব কম দেখা যায়?
উত্তর: খ) সরপুঁটি বা খলসে
২৭ পুরো পুকুর ঘিরে ফেলার জন্য কোন ধরনের জাল ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: গ) টানা বা বেড় জাল
২৮ মাছ ঠিকঠাক বাড়ছে কিনা তা মাঝে মাঝে দেখতে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: খ) জাল ফেলে মাছ ধরে পরীক্ষা করা হয়
২৯ কোন মাছটি একটি বিদেশি মাছ যা আমাদের দেশের পুকুরে চাষ করা হয়?
উত্তর: গ) তেলাপিয়া
৩০ আগেকার দিনে ধান কাটার জন্য কৃষকরা কী ব্যবহার করতেন?
উত্তর: খ) কাস্তে
৩১ কোন ধরনের গাছে আলাদা করে বেশি নাইট্রোজেন সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না?
উত্তর: গ) ডাল জাতীয় (সিম্বগোত্রীয়) গাছে
৩২ কোনটি জৈব কীটনাশক হিসেবে কাজ করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে না?
উত্তর: খ) নিম পাতা বা নিমের জল
৩৩ কৃষি উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান কোনটি?
উত্তর: ক) উর্বর মাটি ও পর্যাপ্ত জল
৩৪ মাছ ছাড়া জলাশয়ের আর কোন প্রাণীকে আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি?
উত্তর: গ) চিংড়ি ও কাঁকড়া
৩৫ আজকাল মাছ ধরার জালের সুতো প্রধানত কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: গ) নাইলন বা প্লাস্টিক জাতীয় সুতো
৩৬ চা পাতায় কী থাকে যা পান করলে আমাদের শরীরের ক্লান্তি দূর হয়?
উত্তর: খ) উদ্দীপক পদার্থ বা ক্যাফিন
৩৭ ভেড়ি কাকে বলে?
উত্তর: খ) মাছ চাষের জন্য তৈরি বড়ো ও অগভীর জলাশয়কে
৩৮ কোন ঋতুতে প্রধানত আমন ধানের চারা রোয়া হয়?
উত্তর: গ) বর্ষাকালে
৩৯ কোন মাছটি সাধারণত পুকুরের তলদেশ থেকে খাবার সংগ্রহ করে খায়?
উত্তর: গ) মৃগেল
৪০ জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ কী?
উত্তর: গ) যথেচ্ছভাবে বনজঙ্গল কাটা ও মাত্রাতিরিক্ত দূষণ
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ পাওয়ার টিলার কী কাজে লাগে?
উত্তর: পাওয়ার টিলার হলো ইঞ্জিনচালিত একটি আধুনিক কৃষিযন্ত্র, যা দিয়ে খুব কম সময়ে ও পরিশ্রমে মাঠের জমি চষা বা কর্ষণ করা হয়।
২ হারভেস্টার কী?
উত্তর: হারভেস্টার হলো একটি আধুনিক কৃষিযন্ত্র, যার সাহায্যে মাঠে পাকা ধান কাটা এবং খড় থেকে ধান আলাদা করা ও জড়ো করা— এই সব কাজ একসঙ্গে খুব দ্রুত করা যায়।
৩ হারভেস্টিং বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: খেতের পাকা ফসল বা ধান কাটা এবং খড় থেকে দানা আলাদা করে জড়ো করার সম্পূর্ণ পদ্ধতিকে ইংরেজিতে হারভেস্টিং বলে।
৪ কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক কী?
উত্তর: রাসায়নিক কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুর বা নদীতে পড়লে মাছ ও জলজ প্রাণীরা বিষক্রিয়ায় মারা যায়। এছাড়া এটি মাটির উপকারী অণুজীব ও কেঁচোকে মেরে ফেলে মাটির উর্বরতা কমায়।
৫ শকুন হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: গোরুদের ব্যথা কমানোর জন্য একধরনের ওষুধ দেওয়া হতো। সেই ওষুধযুক্ত মরা গোরুর বিষাক্ত মাংস খেয়ে শকুনরা ব্যাপকহারে মারা গিয়ে আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়ার মুখে।
৬ কয়েকটি লুপ্তপ্রায় ঔষধি গাছের নাম লেখো।
উত্তর: সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরি ইত্যাদি হলো কয়েকটি লুপ্তপ্রায় ঔষধি গাছ। জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষ করার ফলে এরা হারিয়ে যাচ্ছে।
৭ জীববৈচিত্র্য কাকে বলে?
উত্তর: আমাদের চারপাশে জলে, স্থলে, বনে-জঙ্গলে নানা ধরনের যে অসংখ্য উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সমাহার বা বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকেই জীববৈচিত্র্য বলে।
৮ ঘুনি কী?
উত্তর: ঘুনি হলো বাঁশের সরু শলা দিয়ে তৈরি বাক্সের মতো মাছ ধরার একটি ফাঁদ। এটি স্রোতের মুখে পেতে রাখা হয়, যাতে মাছ ঢুকতে পারে কিন্তু বেরোতে পারে না।
৯ পোলো কী কাজে লাগে?
উত্তর: পোলো হলো বাঁশের তৈরি একটি ঝুড়ির মতো ফাঁদ। কম জলে ওপর থেকে পোলো দিয়ে মাছের চারপাশ ঘিরে ফেলে, তারপর মাথার খোলা দিক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরা হয়।
১০ ফাঁদি কী?
উত্তর: ফাঁদি হলো মাছ ধরার জালের সুতো দিয়ে তৈরি ছোটো ছোটো খোপ বা পকেট, যার মধ্যে মাছের কানকো আটকে গিয়ে মাছ জালে ধরা পড়ে।
১১ মাছ ধরার কয়েকটি সরঞ্জামের নাম লেখো।
উত্তর: মাছ ধরার কয়েকটি প্রধান সরঞ্জাম হলো— নানা ধরনের জাল (যেমন খেপলা জাল, বেড় জাল), ঘুনি, পোলো এবং বঁড়শিসমেত ছিপ।
১২ জৈব সার কী?
উত্তর: গবাদি পশুর গোবর, পচা পাতা, আনাজের খোসা, পচা খৈল ইত্যাদি পচিয়ে প্রাকৃতিকভাবে যে সার তৈরি করা হয়, তাকে জৈব সার বা কম্পোস্ট সার বলে। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায় ও ক্ষতি করে না।
১৩ রাসায়নিক সার কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: অল্প সময়ে ফসলের উৎপাদন বা ফলন অনেকগুণ বৃদ্ধি করার জন্যই মূলত জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়।
১৪ দেশি মাছ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুরে মিশে জল বিষাক্ত করে দিচ্ছে, যার ফলে দেশি মাছ কমে যাচ্ছে।
১৫ কয়েকটি দেশি মাছের নাম লেখো।
উত্তর: শোল, চ্যাং, কই, মাগুর, শিঙি, পুঁটি, খলসে ইত্যাদি হলো কয়েকটি পরিচিত দেশি মাছ।
১৬ কয়েকটি বিদেশি মাছের নাম লেখো যা আমাদের পুকুরে চাষ হয়।
উত্তর: তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, আমেরিকান রুই ইত্যাদি হলো বিদেশি মাছ, যেগুলি আমাদের দেশের পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়।
১৭ চা চাষের জন্য কেমন জমির প্রয়োজন?
উত্তর: চা চাষের জন্য পাহাড়ি ঢালু জমির প্রয়োজন, যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে কিন্তু গাছের গোড়ায় একেবারেই জল জমবে না।
১৮ ধাপ চাষ কী?
উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলে ঢালু জমিকে কেটে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে সমতল করে যে চাষবাস করা হয়, তাকে ধাপ চাষ বলা হয়। এর ফলে মাটি ধুয়ে যায় না এবং জল ধরে রাখা যায়।
১৯ দার্জিলিংয়ের চা বিখ্যাত কেন?
উত্তর: দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও বিশেষ শীতল আবহাওয়ার কারণে এখানকার চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ অতুলনীয়, তাই এই চা বিশ্ববিখ্যাত।
২০ লাঙল দিয়ে চাষ করার অসুবিধা কী ছিল?
উত্তর: আগেকার দিনে গোরু-মোষ ও কাঠের লাঙল দিয়ে জমি চাষ করতে কৃষকদের অনেক বেশি সময় এবং প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম লাগত।
২১ কৃষি উৎপাদনে সেচ কেন প্রয়োজন?
উত্তর: বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে বৃষ্টি না হলে, ফসল বাঁচিয়ে রাখার জন্য নদী, খাল বা ভূগর্ভস্থ জল পাম্পের সাহায্যে জমিতে দিতে হয়, একেই সেচ বলে। ভালো ফলনের জন্য এটি অপরিহার্য।
২২ লুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণের একটি উপায় লেখো।
উত্তর: কৃষিজমিতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং পুকুরের জল দূষণমুক্ত রাখলে লুপ্তপ্রায় দেশি মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব।
২৩ নাইলনের জালের সুবিধা কী?
উত্তর: নাইলন বা প্লাস্টিক জাতীয় সুতোর তৈরি জাল সুতির জালের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত, সহজে ছেঁড়ে না এবং জলে অনেকদিন থাকলেও পচে যায় না।
২৪ মরা জন্তুর মাংস খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখত কোন প্রাণী?
উত্তর: শকুন মরা গবাদি পশুর পচা মাংস খেয়ে পরিবেশকে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণুমুক্ত রাখত। তাই একে প্রকৃতির ঝাড়ুদার বলা হতো।
২৫ রাসায়নিক সারের একটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
উত্তর: দীর্ঘকাল ধরে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে মাটির গঠন নষ্ট হয়ে যায়, মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কমে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও কেঁচো মারা যায়।
২৬ কেঁচোকে কৃষকের বন্ধু বলা হয় কেন?
উত্তর: কেঁচো মাটির নিচ দিয়ে চলাফেরা করে মাটিকে খুঁড়ে আলগা ও ঝুরঝুরে করে দেয়, যার ফলে মাটিতে সহজে আলো-হাওয়া ঢুকতে পারে এবং জমির উর্বরতা বাড়ে। তাই কেঁচো কৃষকের বন্ধু।
২৭ ছিপ দিয়ে কীভাবে মাছ ধরা হয়?
উত্তর: লম্বা ছিপের সুতোর শেষে একটি বঁড়শি বাঁধা থাকে। বঁড়শিতে কেঁচো বা আটার টোপ গেঁথে জলে ফেলা হয়। মাছ সেই টোপ গিলতে গেলেই বঁড়শিতে আটকে যায়।
২৮ ভেড়ি কাকে বলে?
উত্তর: বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমাণে মাছ চাষ করার জন্য চারদিক বাঁধ দিয়ে ঘেরা বিশাল আয়তনের অগভীর জলাশয়কে ভেড়ি বলা হয়।
২৯ মাছ ছাড়া কয়েকটি জলজ প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: মাছ ছাড়া অন্যান্য পরিচিত জলজ প্রাণী হলো— চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি।
৩০ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা কী?
উত্তর: একটি পরিবেশে নানা প্রকার উদ্ভিদ ও প্রাণী খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাই জীববৈচিত্র্য বজায় থাকলেই পরিবেশের খাদ্যশৃঙ্খল অটুট থাকে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির (যেমন- পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার) ব্যবহার আলোচনা করো।
উত্তর:
আগেকার দিনে কৃষিকাজ মূলত গবাদি পশু এবং মানুষের কায়িক পরিশ্রমের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে কৃষিকাজে আমূল পরিবর্তন এসেছে।
১) পাওয়ার টিলার/ট্রাক্টর: কাঠের লাঙল ও গোরুর বদলে এখন ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে খুব অল্প সময়ে, কম পরিশ্রমে অনেক বড়ো জমির মাটি গভীরভাবে চষা বা কর্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
২) হারভেস্টার: ধান পাকার পর তা কাস্তে দিয়ে কাটা এবং পিটিয়ে ঝাড়ার বদলে এখন হারভেস্টার নামক বিশাল আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই যন্ত্র একই সঙ্গে ধান কাটা, খড় থেকে ধানের দানা আলাদা করা এবং ধান বস্তাবন্দি করার কাজ অতি দ্রুত ও নিখুঁতভাবে করতে পারে। এর ফলে কৃষকের সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচে।
১) পাওয়ার টিলার/ট্রাক্টর: কাঠের লাঙল ও গোরুর বদলে এখন ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে খুব অল্প সময়ে, কম পরিশ্রমে অনেক বড়ো জমির মাটি গভীরভাবে চষা বা কর্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
২) হারভেস্টার: ধান পাকার পর তা কাস্তে দিয়ে কাটা এবং পিটিয়ে ঝাড়ার বদলে এখন হারভেস্টার নামক বিশাল আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই যন্ত্র একই সঙ্গে ধান কাটা, খড় থেকে ধানের দানা আলাদা করা এবং ধান বস্তাবন্দি করার কাজ অতি দ্রুত ও নিখুঁতভাবে করতে পারে। এর ফলে কৃষকের সময় ও শ্রম দুই-ই বাঁচে।
২ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলি কী কী?
উত্তর:
অধিক ফলনের আশায় কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের মারাত্মক ক্ষতিকর দিক রয়েছে:
১) মাটির ক্ষতি: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মাটির নিজস্ব গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
২) উপকারী প্রাণীর মৃত্যু: বিষাক্ত কীটনাশকের প্রভাবে মাটির নিচে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং কৃষকের বন্ধু কেঁচো মারা যায়।
৩) জলদূষণ ও মাছের মৃত্যু: বর্ষাকালে মাঠের কীটনাশক মিশ্রিত বিষাক্ত জল ধুয়ে গিয়ে পুকুর, খাল-বিলে পড়ে। এর ফলে জলাশয়ের জল দূষিত হয় এবং দেশি প্রজাতির মাছ (যেমন- শোল, কই, মাগুর) ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা মারা যায়। খাদ্যের মাধ্যমে এই বিষ মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে নানা রোগের সৃষ্টি করে।
অধিক ফলনের আশায় কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের মারাত্মক ক্ষতিকর দিক রয়েছে:
১) মাটির ক্ষতি: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মাটির নিজস্ব গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
২) উপকারী প্রাণীর মৃত্যু: বিষাক্ত কীটনাশকের প্রভাবে মাটির নিচে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং কৃষকের বন্ধু কেঁচো মারা যায়।
৩) জলদূষণ ও মাছের মৃত্যু: বর্ষাকালে মাঠের কীটনাশক মিশ্রিত বিষাক্ত জল ধুয়ে গিয়ে পুকুর, খাল-বিলে পড়ে। এর ফলে জলাশয়ের জল দূষিত হয় এবং দেশি প্রজাতির মাছ (যেমন- শোল, কই, মাগুর) ও অন্যান্য জলজ প্রাণীরা মারা যায়। খাদ্যের মাধ্যমে এই বিষ মানুষের শরীরেও প্রবেশ করে নানা রোগের সৃষ্টি করে।
৩ দেশি মাছ (যেমন- শোল, চ্যাং, কই, মাগুর) কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলি বিস্তারিত লেখো।
উত্তর:
একসময় বাংলার খাল-বিল, ডোবা ও পুকুরে প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছ যেমন- শোল, চ্যাং, কই, মাগুর, খলসে ইত্যাদি পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এরা ক্রমশ কমে যাচ্ছে বা লুপ্তপ্রায় হয়ে পড়ছে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১) জলদূষণ: কৃষিকাজে ব্যবহৃত মারাত্মক বিষাক্ত কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে এবং মাছদের মেরে ফেলছে।
২) বাসস্থান নষ্ট: মানুষ বাড়িঘর বা কারখানা তৈরির জন্য জলাশয়, ডোবা ও বিলগুলি বুজিয়ে ফেলছে, ফলে দেশি মাছেদের প্রজনন ও বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।
৩) অতিরিক্ত মৎস্য শিকার: বড়ো এবং ছোটো ফাঁসের জাল দিয়ে নির্বিচারে ছোটো পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ ধরে নেওয়ার ফলে মাছেদের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
একসময় বাংলার খাল-বিল, ডোবা ও পুকুরে প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছ যেমন- শোল, চ্যাং, কই, মাগুর, খলসে ইত্যাদি পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এরা ক্রমশ কমে যাচ্ছে বা লুপ্তপ্রায় হয়ে পড়ছে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১) জলদূষণ: কৃষিকাজে ব্যবহৃত মারাত্মক বিষাক্ত কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে এবং মাছদের মেরে ফেলছে।
২) বাসস্থান নষ্ট: মানুষ বাড়িঘর বা কারখানা তৈরির জন্য জলাশয়, ডোবা ও বিলগুলি বুজিয়ে ফেলছে, ফলে দেশি মাছেদের প্রজনন ও বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে।
৩) অতিরিক্ত মৎস্য শিকার: বড়ো এবং ছোটো ফাঁসের জাল দিয়ে নির্বিচারে ছোটো পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ ধরে নেওয়ার ফলে মাছেদের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
৪ জীববৈচিত্র্য কী? এটি নষ্ট হওয়ার কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
জীববৈচিত্র্য: আমাদের পৃথিবীতে জলে, স্থলে, পাহাড়-পর্বতে বা বনজঙ্গলে অতি ক্ষুদ্র অণুজীব থেকে শুরু করে বিশাল আকারের যে অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সমাহার দেখা যায়, তাদের সব মিলে তৈরি বৈচিত্র্যকেই 'জীববৈচিত্র্য' (Biodiversity) বলা হয়।
নষ্ট হওয়ার কারণ:
১) মানুষের বাসস্থান, কৃষিজমি এবং কলকারখানা তৈরির জন্য যথেচ্ছভাবে বনজঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে, ফলে বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান ও খাবার ধ্বংস হচ্ছে।
২) মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণ (জলদূষণ, বায়ুদূষণ) অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন বিপন্ন করে তুলছে।
৩) কৃষিতে বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং গবাদি পশুকে দেওয়া ক্ষতিকারক ওষুধের (যার ফলে শকুন মারা যাচ্ছে) কারণে অনেক প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য: আমাদের পৃথিবীতে জলে, স্থলে, পাহাড়-পর্বতে বা বনজঙ্গলে অতি ক্ষুদ্র অণুজীব থেকে শুরু করে বিশাল আকারের যে অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সমাহার দেখা যায়, তাদের সব মিলে তৈরি বৈচিত্র্যকেই 'জীববৈচিত্র্য' (Biodiversity) বলা হয়।
নষ্ট হওয়ার কারণ:
১) মানুষের বাসস্থান, কৃষিজমি এবং কলকারখানা তৈরির জন্য যথেচ্ছভাবে বনজঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে, ফলে বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান ও খাবার ধ্বংস হচ্ছে।
২) মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণ (জলদূষণ, বায়ুদূষণ) অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন বিপন্ন করে তুলছে।
৩) কৃষিতে বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং গবাদি পশুকে দেওয়া ক্ষতিকারক ওষুধের (যার ফলে শকুন মারা যাচ্ছে) কারণে অনেক প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
৫ শকুন এবং বিভিন্ন ঔষধি গাছ (যেমন- সর্পগন্ধা) হারিয়ে যাওয়ার কারণগুলি কী?
উত্তর:
শকুন হারিয়ে যাওয়ার কারণ: শকুন মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। কিন্তু ইদানীং গোরু বা গবাদি পশুকে ব্যথা কমানোর জন্য একধরনের বিশেষ রাসায়নিক ওষুধ দেওয়া হয়। সেই গোরু মারা গেলে তার মাংস বিষাক্ত হয়ে যায়। ওই বিষযুক্ত মরা গোরুর মাংস খেয়ে কিডনি নষ্ট হয়ে শকুনরা দলে দলে মারা যাচ্ছে, তাই এরা আজ বিলুপ্তির পথে।
ঔষধি গাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ: আগে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে, ঝোপঝাড়ে সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরি, কালমেঘের মতো প্রচুর মূল্যবান ঔষধি গাছ জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ফাঁকা জমি বা জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে চাষবাস ও বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলেই এই মহামূল্যবান গাছগুলি হারিয়ে যাচ্ছে।
শকুন হারিয়ে যাওয়ার কারণ: শকুন মৃত প্রাণীর মাংস খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। কিন্তু ইদানীং গোরু বা গবাদি পশুকে ব্যথা কমানোর জন্য একধরনের বিশেষ রাসায়নিক ওষুধ দেওয়া হয়। সেই গোরু মারা গেলে তার মাংস বিষাক্ত হয়ে যায়। ওই বিষযুক্ত মরা গোরুর মাংস খেয়ে কিডনি নষ্ট হয়ে শকুনরা দলে দলে মারা যাচ্ছে, তাই এরা আজ বিলুপ্তির পথে।
ঔষধি গাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ: আগে গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে, ঝোপঝাড়ে সর্পগন্ধা, মেহেন্দি, মুক্তোঝুরি, কালমেঘের মতো প্রচুর মূল্যবান ঔষধি গাছ জন্মাত। কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ফাঁকা জমি বা জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে চাষবাস ও বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলেই এই মহামূল্যবান গাছগুলি হারিয়ে যাচ্ছে।
৬ মাছ ধরার বিভিন্ন পদ্ধতি ও সরঞ্জামের (যেমন- জাল, ঘুনি, পোলো, ছিপ) বর্ণনা দাও।
উত্তর:
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই নানা উপায়ে মাছ ধরে আসছে। মাছ ধরার প্রধান পদ্ধতি ও সরঞ্জামগুলি হলো:
১) জাল: মাছ ধরার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম। সুতো বা নাইলন দিয়ে তৈরি নানা ধরনের জাল আছে। ছোটো জায়গায় ছাঁকি বা খেপলা জাল এবং বড়ো পুকুর বা নদী ঘিরতে টানা বা বেড় জাল ব্যবহৃত হয়। জালের 'ফাঁদি' বা পকেটে মাছের কানকো আটকে যায়।
২) ঘুনি: এটি বাঁশের সরু শলা দিয়ে বোনা বাক্সের মতো ফাঁদ। এটি জলের স্রোতের মুখে পেতে রাখা হয়। এর গঠন এমন হয় যে, মাছ ভেতরে ঢুকতে পারে কিন্তু বেরোতে পারে না।
৩) পোলো: এটিও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুড়ির মতো ফাঁদ। অগভীর জলে এর সাহায্যে মাছের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। তারপর ওপরের গর্ত দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরা হয়।
৪) ছিপ: লম্বা বাঁশ বা ফাইবারের ছিপের সুতোর ডগায় লোহার বঁড়শি লাগানো থাকে। বঁড়শিতে কেঁচো বা আটার টোপ গেঁথে জলে ফেলে মাছ শিকার করা হয়।
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই নানা উপায়ে মাছ ধরে আসছে। মাছ ধরার প্রধান পদ্ধতি ও সরঞ্জামগুলি হলো:
১) জাল: মাছ ধরার সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম। সুতো বা নাইলন দিয়ে তৈরি নানা ধরনের জাল আছে। ছোটো জায়গায় ছাঁকি বা খেপলা জাল এবং বড়ো পুকুর বা নদী ঘিরতে টানা বা বেড় জাল ব্যবহৃত হয়। জালের 'ফাঁদি' বা পকেটে মাছের কানকো আটকে যায়।
২) ঘুনি: এটি বাঁশের সরু শলা দিয়ে বোনা বাক্সের মতো ফাঁদ। এটি জলের স্রোতের মুখে পেতে রাখা হয়। এর গঠন এমন হয় যে, মাছ ভেতরে ঢুকতে পারে কিন্তু বেরোতে পারে না।
৩) পোলো: এটিও বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুড়ির মতো ফাঁদ। অগভীর জলে এর সাহায্যে মাছের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। তারপর ওপরের গর্ত দিয়ে হাত ঢুকিয়ে মাছ ধরা হয়।
৪) ছিপ: লম্বা বাঁশ বা ফাইবারের ছিপের সুতোর ডগায় লোহার বঁড়শি লাগানো থাকে। বঁড়শিতে কেঁচো বা আটার টোপ গেঁথে জলে ফেলে মাছ শিকার করা হয়।
৭ চা চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ এবং দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর:
চা চাষের পরিবেশ: চা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী পানীয় ফসল। চা চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং ঠান্ডা বা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার প্রয়োজন। তবে চা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছের শিকড় পচে যায়। তাই পাহাড়ি ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ সেখানে বৃষ্টি হলেও জল গড়িয়ে নিচে নেমে যায়।
দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি: পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি ঢাল, মাটি এবং বিশেষ ঠান্ডা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া চা চাষের জন্য আদর্শ। এই বিশেষ ভৌগোলিক পরিবেশের কারণেই দার্জিলিং-এর চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ পৃথিবীর আর কোনো চায়ের সাথে তুলনীয় নয়। তাই দার্জিলিং চা আজ বিশ্ববিখ্যাত।
চা চাষের পরিবেশ: চা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী পানীয় ফসল। চা চাষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং ঠান্ডা বা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার প্রয়োজন। তবে চা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছের শিকড় পচে যায়। তাই পাহাড়ি ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ সেখানে বৃষ্টি হলেও জল গড়িয়ে নিচে নেমে যায়।
দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি: পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি ঢাল, মাটি এবং বিশেষ ঠান্ডা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া চা চাষের জন্য আদর্শ। এই বিশেষ ভৌগোলিক পরিবেশের কারণেই দার্জিলিং-এর চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ পৃথিবীর আর কোনো চায়ের সাথে তুলনীয় নয়। তাই দার্জিলিং চা আজ বিশ্ববিখ্যাত।
৮ জৈব সার ও রাসায়নিক সারের মধ্যে পার্থক্য কী? কেন জৈব সার ব্যবহার করা ভালো?
উত্তর:
পার্থক্য:
১) জৈব সার প্রাকৃতিক উপাদানে (যেমন- গোবর, পচা পাতা, আনাজের খোসা) তৈরি হয়, অন্যদিকে রাসায়নিক সার কারখানায় রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়।
২) জৈব সারের ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে, কিন্তু রাসায়নিক সার দিলে খুব দ্রুত ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন হয়।
জৈব সার ব্যবহারের সুবিধা:
রাসায়নিক সার ব্যবহারে তাৎক্ষণিক ফলন বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। কিন্তু জৈব সার বা কম্পোস্ট ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি মাটির স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখে, মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির উপকারী অণুজীব ও কেঁচোদের বাঁচিয়ে রেখে প্রাকৃতিকভাবে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
পার্থক্য:
১) জৈব সার প্রাকৃতিক উপাদানে (যেমন- গোবর, পচা পাতা, আনাজের খোসা) তৈরি হয়, অন্যদিকে রাসায়নিক সার কারখানায় রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়।
২) জৈব সারের ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে, কিন্তু রাসায়নিক সার দিলে খুব দ্রুত ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন হয়।
জৈব সার ব্যবহারের সুবিধা:
রাসায়নিক সার ব্যবহারে তাৎক্ষণিক ফলন বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। কিন্তু জৈব সার বা কম্পোস্ট ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো, কারণ এটি মাটির স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখে, মাটির জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির উপকারী অণুজীব ও কেঁচোদের বাঁচিয়ে রেখে প্রাকৃতিকভাবে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
৯ পাহাড়ি অঞ্চলে কীভাবে ধাপ চাষ করা হয় এবং এর সুবিধা কী?
উত্তর:
ধাপ চাষের পদ্ধতি: পাহাড়ি অঞ্চলে সমতল জমি প্রায় থাকেই না। তাই কৃষিকাজ করার জন্য পাহাড়ের ঢালু অংশগুলোকে কেটে কেটে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে চওড়া ও সমতল টুকরো জমি তৈরি করা হয়। এই ধরনের ধাপ কাটা জমিতে যে কৃষিকাজ করা হয়, তাকেই ধাপ চাষ (Terrace Farming) বলে।
সুবিধা:
১) পাহাড়ের ঢালে এমনি বীজ বুনলে তা বৃষ্টির জলের তোড়ে ধুয়ে নিচে চলে যেতে পারে। কিন্তু ধাপ কাটা থাকলে জলের গতি বাধা পায় এবং মাটি ও ফসল ধুয়ে যায় না।
২) এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির জল বা সেচের জলকে ধাপে ধাপে আটকে রেখে সবজি, ধান ইত্যাদি ফসলের চাষ করা সম্ভব হয়। এতে ভূমিক্ষয়ও মারাত্মকভাবে কমে যায়।
ধাপ চাষের পদ্ধতি: পাহাড়ি অঞ্চলে সমতল জমি প্রায় থাকেই না। তাই কৃষিকাজ করার জন্য পাহাড়ের ঢালু অংশগুলোকে কেটে কেটে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে চওড়া ও সমতল টুকরো জমি তৈরি করা হয়। এই ধরনের ধাপ কাটা জমিতে যে কৃষিকাজ করা হয়, তাকেই ধাপ চাষ (Terrace Farming) বলে।
সুবিধা:
১) পাহাড়ের ঢালে এমনি বীজ বুনলে তা বৃষ্টির জলের তোড়ে ধুয়ে নিচে চলে যেতে পারে। কিন্তু ধাপ কাটা থাকলে জলের গতি বাধা পায় এবং মাটি ও ফসল ধুয়ে যায় না।
২) এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির জল বা সেচের জলকে ধাপে ধাপে আটকে রেখে সবজি, ধান ইত্যাদি ফসলের চাষ করা সম্ভব হয়। এতে ভূমিক্ষয়ও মারাত্মকভাবে কমে যায়।
১০ পরিবেশ ও কৃষিকাজের মধ্যে সম্পর্ক কী? পরিবেশ দূষিত হলে কৃষিকাজে কী প্রভাব পড়ে?
উত্তর:
সম্পর্ক: পরিবেশ এবং কৃষিকাজ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কৃষিকাজের মূল ভিত্তি হলো উর্বর মাটি, পরিষ্কার জল, সূর্যালোক এবং সঠিক আবহাওয়া— যার সবকটিই পরিবেশ থেকে আসে। ভালো পরিবেশ ছাড়া ভালো কৃষিকাজ সম্ভব নয়।
পরিবেশ দূষণের প্রভাব:
১) বায়ুদূষণ বা কারখানার ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে জমির মাটির অম্লত্ব বেড়ে যায় এবং উর্বরতা কমে যায়।
২) প্লাস্টিক দূষণের ফলে মাটির গঠন নষ্ট হয় এবং গাছের শিকড় গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।
৩) জলদূষণের ফলে সেচের জল বিষাক্ত হয়ে যায়, যা ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং সেই ফসল খেয়ে মানুষের নানা রোগ হয়। তাই উন্নত কৃষির জন্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা আবশ্যিক।
সম্পর্ক: পরিবেশ এবং কৃষিকাজ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কৃষিকাজের মূল ভিত্তি হলো উর্বর মাটি, পরিষ্কার জল, সূর্যালোক এবং সঠিক আবহাওয়া— যার সবকটিই পরিবেশ থেকে আসে। ভালো পরিবেশ ছাড়া ভালো কৃষিকাজ সম্ভব নয়।
পরিবেশ দূষণের প্রভাব:
১) বায়ুদূষণ বা কারখানার ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে জমির মাটির অম্লত্ব বেড়ে যায় এবং উর্বরতা কমে যায়।
২) প্লাস্টিক দূষণের ফলে মাটির গঠন নষ্ট হয় এবং গাছের শিকড় গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।
৩) জলদূষণের ফলে সেচের জল বিষাক্ত হয়ে যায়, যা ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং সেই ফসল খেয়ে মানুষের নানা রোগ হয়। তাই উন্নত কৃষির জন্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা আবশ্যিক।
Sponsored Links