অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির মানবাধিকার ও মূল্যবোধ অধ্যায়ে শিশুদের মৌলিক অধিকার, সমাজে আমাদের কর্তব্য, এবং পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. শিশুদের অধিকার: প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকার, খাদ্য ও পানীয় জল পাওয়ার, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার, এবং অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। শিশুদের নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার এবং মানসিক পীড়ন থেকে সুরক্ষার অধিকারও রয়েছে।
২. শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ: ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের কাজে লাগানো বেআইনি। একইভাবে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে দেওয়া (বাল্যবিবাহ) আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
৩. আমাদের মূল্যবোধ ও কর্তব্য: সাবিনা যেমন রাস্তায় খোলা কল বন্ধ করে জল অপচয় রোধ করেছিল, তেমনই আমাদের চারপাশের পরিবেশ (জল, মাটি, বাতাস) রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
৪. কাজী নজরুলের বাণী: "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে..." —এই কবিতার মাধ্যমে কবি আমাদের সমাজ ও পরিবেশের প্রতি সচেতন হতে এবং মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
মূল বিষয়বস্তু:
১. শিশুদের অধিকার: প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকার, খাদ্য ও পানীয় জল পাওয়ার, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার, এবং অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। শিশুদের নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার এবং মানসিক পীড়ন থেকে সুরক্ষার অধিকারও রয়েছে।
২. শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ: ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের কাজে লাগানো বেআইনি। একইভাবে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে দেওয়া (বাল্যবিবাহ) আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
৩. আমাদের মূল্যবোধ ও কর্তব্য: সাবিনা যেমন রাস্তায় খোলা কল বন্ধ করে জল অপচয় রোধ করেছিল, তেমনই আমাদের চারপাশের পরিবেশ (জল, মাটি, বাতাস) রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
৪. কাজী নজরুলের বাণী: "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে..." —এই কবিতার মাধ্যমে কবি আমাদের সমাজ ও পরিবেশের প্রতি সচেতন হতে এবং মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ একজন শিশুর নিজের মত প্রকাশ করার অধিকার কি আছে?
উত্তর: খ) হ্যাঁ, নিজের মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা শিশুর অধিকার
২ কত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অবৈতনিক (বিনামূল্যে) এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে?
উত্তর: খ) ১৪ বছর
৩ ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে জোর করে কাজ করানোকে কী বলে?
উত্তর: গ) শিশুশ্রম
৪ নীচের কোনটি শিশুর একটি মৌলিক অধিকার?
উত্তর: খ) স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও অসুখ হলে চিকিৎসা পাওয়া
৫ মেয়েদের বিয়ের জন্য ন্যূনতম আইনি বয়স কত?
উত্তর: গ) ১৮ বছর
৬ ছেলেদের বিয়ের জন্য ন্যূনতম আইনি বয়স কত?
উত্তর: গ) ২১ বছর
৭ আইনি বয়সের আগে ছেলে বা মেয়েদের বিয়ে দেওয়াকে কী বলে?
উত্তর: খ) বাল্যবিবাহ
৮ শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহ— এই দুটি কাজই সমাজের চোখে কেমন?
উত্তর: খ) আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বা বেআইনি
৯ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সাবিনা কী দেখেছিল?
উত্তর: ক) রাস্তার ধারে একটা জলের কল খোলা অবস্থায় জল পড়ছে
১০ সাবিনা খোলা জলের কল দেখে কী করেছিল?
উত্তর: খ) নিজে গিয়ে জলের কলটা বন্ধ করে দিয়েছিল
১১ সাবিনার মা প্রথমদিকে সাবিনাকে জলের কল বন্ধ করতে দেখে কী বলেছিলেন?
উত্তর: খ) বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, সবাই খুলে রাখবে আর তুমি একা সব বন্ধ করবে?
১২ সাবিনা কেন জলের কল বন্ধ করছিল?
উত্তর: ক) কারণ জল নষ্ট হলে ভবিষ্যতে খাবার জল পাওয়া কঠিন হবে
১৩ ভাঙা জলের কল দেখলে সাবিনা কী করত?
উত্তর: খ) স্কুলের বড়দিকে জানাত, যাতে তিনি পৌরসভায় খবর দেন
১৪ সাবিনার জেদ দেখে শেষে কে প্রভাবিত হয়েছিলেন?
উত্তর: ক) তার মা নিজে গিয়ে শেষ কলটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন
১৫ "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে" —এই বিখ্যাত লাইনটি কার লেখা?
উত্তর: খ) কাজী নজরুল ইসলাম
১৬ কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় 'জাগা' বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: খ) সমাজ ও পরিবেশের প্রতি মানুষের সচেতন হওয়া বা মূল্যবোধ জাগানো
১৭ প্রতিটি শিশুর একটি পরিচয় পাওয়ার অধিকার আছে। এটি কী?
উত্তর: ক) নিজের নাম ও পরিচয় জানা এবং প্রকাশ করার অধিকার
১৮ শিশুদের মানসিক পীড়ন বা মারধোর করা সম্পর্কে আইনে কী বলা আছে?
উত্তর: গ) শিশুদের মারধোর বা মানসিক পীড়ন করা দণ্ডনীয় অপরাধ (তাদের সুরক্ষার অধিকার আছে)
১৯ জল, মাটি ও বাতাস কার সম্পদ?
উত্তর: গ) এগুলো প্রকৃতির সম্পদ এবং সকলের সমান অধিকার
২০ আমাদের সকলের প্রধান নাগরিক কর্তব্য কী?
উত্তর: খ) সকলে মিলে পরিবেশের সম্পদ রক্ষা করা এবং সুস্থ সমাজ গড়া
২১ অবৈতনিক শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ক) বিনা বেতনে বা বিনা খরচে স্কুলে পড়াশোনা করার সুযোগ
২২ পানীয় জলের অপচয় বন্ধ করা কেন জরুরি?
উত্তর: খ) পৃথিবীতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের পরিমাণ খুব সীমিত বলে
২৩ তোমার বয়সি কোনো শিশুকে দোকানে কাজ করতে দেখলে তোমার কী করা উচিত?
উত্তর: খ) শিক্ষক বা বড়োদের জানিয়ে শিশুটিকে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা
২৪ শিশুদের অধিকারগুলি রক্ষিত না হলে কী হবে?
উত্তর: ক) শিশুরা সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না, ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে
২৫ পৌরসভা বা পঞ্চায়েতের কাজ কী?
উত্তর: খ) এলাকার রাস্তাঘাট, জল, আলো এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা
২৬ সমাজে কোনোরকম বিভেদ বা বৈষম্য থাকা উচিত কি?
উত্তর: খ) না, সকল মানুষের অধিকার সমান, বিভেদ থাকা অনুচিত
২৭ পরিবেশের যত্ন নেওয়ার অর্থ কী?
উত্তর: খ) গাছ লাগানো, জল ও সম্পদ অপচয় না করা এবং দূষণ কমানো
২৮ সাবিনার গল্পটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
উত্তর: ক) একা হলেও ভালো কাজের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, তা দেখে অন্যেরাও শিখবে
২৯ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে একজন নাগরিক কোথায় যেতে পারে?
উত্তর: খ) বিচার পাওয়ার জন্য আদালত বা মানবাধিকার কমিশনের কাছে
৩০ মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ক) ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বিচার করার ক্ষমতা এবং দায়িত্ববোধ ✓
৩১ ছেলে-মেয়েদের সমান সুযোগ দেওয়া উচিত, কথাটি কি সঠিক?
উত্তর: ক) হ্যাঁ, ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই সমান অধিকার আছে
৩২ "তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে"— এই কথার অর্থ কী?
উত্তর: খ) নতুন প্রজন্ম সচেতন হলে তবেই সমাজের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর হবে
৩৩ ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের কোন অধিকারটি সংবিধানে দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: গ) অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা লাভের অধিকার
৩৪ পরিবেশের সম্পদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: খ) জল, মাটি, বাতাস, বনজঙ্গল, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি
৩৫ একটি ভাঙা কল দিয়ে জল নষ্ট হচ্ছে, এর দায়িত্ব কার?
উত্তর: খ) সকলের, কারণ জল বাঁচানো প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য
৩৬ মানবাধিকার বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: খ) প্রতিটি মানুষের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার
৩৭ শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও খাদ্যের অধিকার কেন দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: খ) শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার অপরিহার্য বলে
৩৮ আমাদের দেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার আছে, এই নীতিটি কোথায় বলা আছে?
উত্তর: ক) ভারতের সংবিধানে
৩৯ শিশুদের ওপর মানসিক পীড়ন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: খ) তাদের ভয় দেখালে, অপমান করলে বা জোর করে কিছু করালে
৪০ সমাজ কীভাবে উন্নত হয়?
উত্তর: খ) যখন মানুষ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং মূল্যবোধ মেনে চলে
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ মানবাধিকার কী?
উত্তর: মানুষ হিসেবে সমাজে সম্মান, স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য জন্মগতভাবে যেসব অধিকার পাওয়া যায়, তাকেই মানবাধিকার বলে।
২ শিশুদের দুটি মৌলিক অধিকার লেখো।
উত্তর: শিশুদের দুটি মৌলিক অধিকার হলো— পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয় জল পাওয়া এবং ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা লাভ করা।
৩ শিশুর মত প্রকাশের অধিকার বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পরিবারে বা স্কুলে যেকোনো বিষয়ে শিশুর নিজের ভালোলাগা, খারাপ লাগা বা চিন্তাভাবনা বড়োদের সামনে স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারাই হলো তার মত প্রকাশের অধিকার।
৪ মানসিক পীড়ন কী?
উত্তর: শিশুদের কোনো কারণে অতিরিক্ত বকাঝকা করা, অকারণে অপমান করা, বা ভয় দেখিয়ে জোর করে কোনো কাজ করানোকে মানসিক পীড়ন বলা হয়। এটি অপরাধ।
৫ শিশুশ্রম কাকে বলে? এটি কেন অপরাধ?
উত্তর: ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে অভাবের তাড়নায় টাকার বিনিময়ে জোর করে কাজ করানোকে শিশুশ্রম বলে। এটি শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে, তাই এটি আইনত অপরাধ।
৬ বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আইন অনুসারে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর। এর কম বয়সে ছেলে বা মেয়েদের বিয়ে দেওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে, যা বেআইনি।
৭ সাবিনা রাস্তায় কী দেখেছিল?
উত্তর: সাবিনা তার মায়ের সাথে যাওয়ার সময় দেখেছিল যে রাস্তার ধারে একটি পানীয় জলের কল খোলা অবস্থায় পড়ে আছে এবং সেখান থেকে প্রচুর জল অকারণে নষ্ট হচ্ছে।
৮ খোলা জলের কল দেখে সাবিনা কী করল?
উত্তর: সাবিনা একটুও দেরি না করে নিজের উদ্যোগেই রাস্তার ধারে গিয়ে ওই খোলা জলের কলটিকে ভালোভাবে বন্ধ করে দিল, যাতে আর জল নষ্ট না হয়।
৯ জলের কল বন্ধ করতে দেখে সাবিনার মা কী বলেছিলেন?
উত্তর: সাবিনার মা প্রথমে বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন যে, সবাই যদি কল খোলা রেখে যায়, তবে সাবিনা একা আর কটা কল বন্ধ করে জল বাঁচাবে!
১০ সাবিনা কেন জল বাঁচাতে চেয়েছিল?
উত্তর: সাবিনা জানত যে পানীয় জল খুবই মূল্যবান। এভাবে রোজ জল নষ্ট হতে থাকলে তারা যখন বড়ো হবে, তখন খাওয়ার জলের তীব্র অভাব দেখা দেবে। তাই সে জল বাঁচাতে চেয়েছিল।
১১ রাস্তার ভাঙা কল দেখলে সাবিনা কী করত?
উত্তর: রাস্তার ভাঙা কল দেখলে সাবিনা স্কুলে এসে তার বড়দিকে জানাত। বড়দি তখন পৌরসভায় ফোন করে সেই কলটি সারানোর ব্যবস্থা করতেন।
১২ সাবিনার কাজ দেখে শেষে তার মায়ের কী পরিবর্তন হলো?
উত্তর: সাবিনার জেদ এবং জল বাঁচানোর ঐকান্তিক ইচ্ছা দেখে তার মা তার ভুল বুঝতে পারলেন এবং নিজেই এগিয়ে গিয়ে রাস্তার শেষের দিকের একটি খোলা কল বন্ধ করে দিলেন।
১৩ "আমরা যদি না জাগি মা..." কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে..."— এই বিখ্যাত এবং প্রেরণাদায়ক কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা।
১৪ কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় 'জাগা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে 'জাগা' বলতে শুধু ঘুম থেকে ওঠা বোঝায়নি। এর অর্থ হলো মানুষের মনের অন্ধকার ও কুসংস্কার দূর করে সমাজ, পরিবেশ ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
১৫ পরিবেশের সম্পদ কোনগুলি?
উত্তর: আমাদের চারপাশের বাতাস, পানীয় জল, মাটি, গাছপালা, নদীনালা এবং খনিজ পদার্থ— এ সবই হলো আমাদের অমূল্য প্রাকৃতিক ও পরিবেশের সম্পদ।
১৬ পরিবেশের সম্পদের যত্ন নেওয়া কেন আমাদের কর্তব্য?
উত্তর: পরিবেশের সম্পদ ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও বাঁচতে পারব না। এগুলো অপচয় করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংকটে পড়বে, তাই এগুলোর যত্ন নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক কর্তব্য।
১৭ মূল্যবোধ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সমাজে কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ, কোনটি উচিত আর কোনটি অনুচিত— তা বিচার করার ক্ষমতা এবং সেই অনুযায়ী সৎপথে চলার দায়িত্ববোধকেই মূল্যবোধ বলে।
১৮ শিশুশ্রম দেখলে তুমি কী করবে?
উত্তর: আমার বয়সি কোনো শিশুকে কাজে বাধ্য হতে দেখলে আমি আমার অভিভাবক বা স্কুলের শিক্ষককে জানাব, যাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়।
১৯ সমাজে নারী ও পুরুষের অধিকার কি আলাদা?
উত্তর: না, আমাদের সমাজে এবং সংবিধানে নারী ও পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার রয়েছে। ছেলে-মেয়ে সবারই শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কাজের সমান অধিকার প্রাপ্য।
২০ শিশুর পরিচয়ের অধিকার বলতে কী বোঝো?
উত্তর: প্রতিটি শিশুর জন্মের পর তার একটি নির্দিষ্ট নাম পাওয়ার এবং পিতা-মাতা তথা নাগরিক হিসেবে তার সঠিক পরিচয় জানার ও তা প্রকাশ করার আইনি অধিকার রয়েছে।
২১ শিশুদের অবৈতনিক শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত দেশের প্রতিটি শিশুকে বিনা বেতনে অর্থাৎ কোনো খরচ ছাড়াই সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করার যে সুযোগ দেওয়া হয়, তাকে অবৈতনিক শিক্ষা বলে।
২২ পানীয় জল অপচয় করলে ভবিষ্যতে কী বিপদ হতে পারে?
উত্তর: পৃথিবীতে মানুষের ব্যবহারযোগ্য পানীয় জলের পরিমাণ খুবই কম। এভাবে জল অপচয় করলে ভবিষ্যতে চরম জলসংকট দেখা দেবে এবং মানুষ তৃষ্ণায় মারা যাবে।
২৩ তুমি কীভাবে পরিবেশের যত্ন নিতে পারো তার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: আমি প্লাস্টিক ব্যবহার না করে, অকারণে জলের কল খোলা না রেখে এবং বাড়ির চারপাশে গাছ লাগিয়ে পরিবেশের যত্ন নিতে পারি।
২৪ আমাদের সমাজে কোনোরকম বিভেদ থাকা উচিত নয় কেন?
উত্তর: সকল মানুষই রক্ত-মাংসে গড়া এবং সবারই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে। বিভেদ বা বৈষম্য থাকলে সমাজের উন্নতি ও শান্তি কখনোই সম্ভব নয়।
২৫ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে কী করা উচিত?
উত্তর: কোনো মানুষের মৌলিক অধিকার বা মানবাধিকার কেউ কেড়ে নিলে বা লঙ্ঘন করলে, তার বিচারের জন্য আদালত বা মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো উচিত।
২৬ শিশুদের সুরক্ষার অধিকার কী?
উত্তর: শিশুদের কোনো ভারী বা বিপজ্জনক কাজ করতে বাধ্য না করা এবং শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন থেকে তাদের সবসময় নিরাপদ রাখাই হলো শিশুর সুরক্ষার অধিকার।
২৭ সাবিনার মতো সচেতনতা সমাজে কী পরিবর্তন আনতে পারে?
উত্তর: সাবিনার মতো প্রতিটি মানুষ যদি নিজের ছোটো ছোটো কাজ দিয়ে পরিবেশ ও সমাজের প্রতি সচেতন হয়, তবে সামগ্রিকভাবে একটি সুন্দর ও সুস্থ দেশ গড়ে উঠবে।
২৮ পৌরসভা বা পঞ্চায়েতের কাছে আমরা কখন সাহায্য চাইতে পারি?
উত্তর: এলাকার পানীয় জলের কল খারাপ হলে, রাস্তাঘাটে আলো না জ্বললে বা ময়লা আবর্জনা জমে পরিবেশ নোংরা হলে আমরা পৌরসভা বা পঞ্চায়েতকে খবর দিতে পারি।
২৯ "তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে"— এখানে 'ছেলে' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে 'ছেলে' বলতে দেশের নতুন প্রজন্ম বা আজকের শিশু-কিশোরদের বোঝানো হয়েছে, যাদের হাত ধরেই ভবিষ্যতে দেশের উন্নতি সম্ভব।
৩০ একজন সুনাগরিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: একজন সুনাগরিক দেশের আইন মেনে চলেন, নিজের অধিকারের পাশাপাশি অন্যের অধিকারকে সম্মান করেন এবং পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হন।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ শিশুদের কয়েকটি প্রধান অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর:
শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য সংবিধানে বেশ কিছু মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অধিকারগুলি হলো:
১) খাদ্য ও স্বাস্থ্যের অধিকার: প্রতিটি শিশুর পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং অসুখ হলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে।
২) শিক্ষার অধিকার: ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করা সব শিশুর অধিকার।
৩) মত প্রকাশের অধিকার: বড়োদের পাশাপাশি শিশুদেরও যেকোনো বিষয়ে নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার অধিকার আছে।
৪) সুরক্ষার অধিকার: কোনো শিশুকে শারীরিক মারধোর বা মানসিক পীড়ন করা যাবে না। তাদের স্নেহ ও নিরাপত্তার মধ্যে বেড়ে ওঠার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
১) খাদ্য ও স্বাস্থ্যের অধিকার: প্রতিটি শিশুর পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং অসুখ হলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে।
২) শিক্ষার অধিকার: ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করা সব শিশুর অধিকার।
৩) মত প্রকাশের অধিকার: বড়োদের পাশাপাশি শিশুদেরও যেকোনো বিষয়ে নিজের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার অধিকার আছে।
৪) সুরক্ষার অধিকার: কোনো শিশুকে শারীরিক মারধোর বা মানসিক পীড়ন করা যাবে না। তাদের স্নেহ ও নিরাপত্তার মধ্যে বেড়ে ওঠার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
২ শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝো? এগুলো বন্ধ করা কেন সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি?
উত্তর:
শিশুশ্রম: ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে অভাবের তাড়নায় বা জোর করে কোনো শ্রমে বা কাজে লাগানোকে শিশুশ্রম বলে।
বাল্যবিবাহ: ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে দেওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে।
বন্ধ করার কারণ: এই দুটিই মারাত্মক সামাজিক অপরাধ। শিশুশ্রমের ফলে একটি শিশুর শৈশব, খেলাধুলা ও পড়াশোনা নষ্ট হয়ে যায়। বাল্যবিবাহের ফলে অল্প বয়সি মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়। একটি সুস্থ সমাজ ও দেশের উন্নতির স্বার্থে এই দুটি কুপ্রথা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়া দরকার।
শিশুশ্রম: ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে অভাবের তাড়নায় বা জোর করে কোনো শ্রমে বা কাজে লাগানোকে শিশুশ্রম বলে।
বাল্যবিবাহ: ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে দেওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে।
বন্ধ করার কারণ: এই দুটিই মারাত্মক সামাজিক অপরাধ। শিশুশ্রমের ফলে একটি শিশুর শৈশব, খেলাধুলা ও পড়াশোনা নষ্ট হয়ে যায়। বাল্যবিবাহের ফলে অল্প বয়সি মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়। একটি সুস্থ সমাজ ও দেশের উন্নতির স্বার্থে এই দুটি কুপ্রথা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়া দরকার।
৩ সাবিনার জলের কল বন্ধ করার গল্পের মাধ্যমে আমরা কী শিক্ষা পাই?
উত্তর:
সাবিনার গল্পের মাধ্যমে আমরা নাগরিক দায়িত্ব ও পরিবেশ সচেতনতার এক বিরাট শিক্ষা পাই।
রাস্তায় খোলা কল দিয়ে জল পড়ে নষ্ট হতে দেখে সাধারণ মানুষ পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কিন্তু সাবিনা বোঝে যে, আজ জল অপচয় করলে ভবিষ্যতে খাওয়ার জল পাওয়া যাবে না। তাই তার মায়ের বকুনি খাওয়া সত্ত্বেও সে নিজের উদ্যোগে সেই জলের কল বন্ধ করে। এমনকি ভাঙা কল থাকলে সে স্কুলে জানিয়ে পৌরসভায় খবর দেয়।
এই গল্প আমাদের শেখায় যে, সমাজের কোনো খারাপ কাজ বা সম্পদের অপচয় দেখলে আমাদের চুপ করে থাকা উচিত নয়। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজে নিজে ছোটো ছোটো দায়িত্ব পালন করি, তবেই বড়ো কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সাবিনার গল্পের মাধ্যমে আমরা নাগরিক দায়িত্ব ও পরিবেশ সচেতনতার এক বিরাট শিক্ষা পাই।
রাস্তায় খোলা কল দিয়ে জল পড়ে নষ্ট হতে দেখে সাধারণ মানুষ পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কিন্তু সাবিনা বোঝে যে, আজ জল অপচয় করলে ভবিষ্যতে খাওয়ার জল পাওয়া যাবে না। তাই তার মায়ের বকুনি খাওয়া সত্ত্বেও সে নিজের উদ্যোগে সেই জলের কল বন্ধ করে। এমনকি ভাঙা কল থাকলে সে স্কুলে জানিয়ে পৌরসভায় খবর দেয়।
এই গল্প আমাদের শেখায় যে, সমাজের কোনো খারাপ কাজ বা সম্পদের অপচয় দেখলে আমাদের চুপ করে থাকা উচিত নয়। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজে নিজে ছোটো ছোটো দায়িত্ব পালন করি, তবেই বড়ো কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব।
৪ কাজী নজরুল ইসলামের "আমরা যদি না জাগি মা..." কবিতাটি আমাদের কী বার্তা দেয়?
উত্তর:
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে..." কবিতাটি আসলে একটি গভীর জাগরণের বার্তা দেয়।
এখানে 'সকাল হওয়া' মানে শুধু রোদ ওঠা নয়, এর অর্থ হলো সমাজের কুসংস্কার, অন্যায় ও অবিচারের অন্ধকার দূর হয়ে নতুন সভ্যতার আলো ফুটে ওঠা। কবি বলতে চেয়েছেন, আমরা বা আজকের নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের অধিকার, কর্তব্য এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন না হই (না জাগি), তবে সমাজ থেকে কোনোদিনও অন্যায়ের অন্ধকার দূর হবে না। আমাদের নিজেদেরই উদ্যোগ নিয়ে সমাজকে বদলাতে হবে।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে..." কবিতাটি আসলে একটি গভীর জাগরণের বার্তা দেয়।
এখানে 'সকাল হওয়া' মানে শুধু রোদ ওঠা নয়, এর অর্থ হলো সমাজের কুসংস্কার, অন্যায় ও অবিচারের অন্ধকার দূর হয়ে নতুন সভ্যতার আলো ফুটে ওঠা। কবি বলতে চেয়েছেন, আমরা বা আজকের নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের অধিকার, কর্তব্য এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন না হই (না জাগি), তবে সমাজ থেকে কোনোদিনও অন্যায়ের অন্ধকার দূর হবে না। আমাদের নিজেদেরই উদ্যোগ নিয়ে সমাজকে বদলাতে হবে।
৫ মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়? ছাত্রজীবনে মূল্যবোধের শিক্ষা কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর:
মূল্যবোধ: মূল্যবোধ হলো মানুষের ভেতরের সেই নৈতিক গুণ, যা তাকে ভালো আর মন্দের, ঠিক আর ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়। সততা, দয়া, পরোপকার, সত্যবাদিতা এবং অন্যের প্রতি সম্মান— এগুলো সবই মূল্যবোধের অংশ।
ছাত্রজীবনে গুরুত্ব: ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি। এই সময়ে যদি শিশুদের মধ্যে সঠিক মূল্যবোধ তৈরি না হয়, তবে বড়ো হয়ে তারা কখনোই ভালো মানুষ বা সুনাগরিক হতে পারবে না। মূল্যবোধের শিক্ষাই একজন ছাত্রকে স্বার্থপরতার গণ্ডি থেকে বের করে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করতে শেখায় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।
মূল্যবোধ: মূল্যবোধ হলো মানুষের ভেতরের সেই নৈতিক গুণ, যা তাকে ভালো আর মন্দের, ঠিক আর ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়। সততা, দয়া, পরোপকার, সত্যবাদিতা এবং অন্যের প্রতি সম্মান— এগুলো সবই মূল্যবোধের অংশ।
ছাত্রজীবনে গুরুত্ব: ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি। এই সময়ে যদি শিশুদের মধ্যে সঠিক মূল্যবোধ তৈরি না হয়, তবে বড়ো হয়ে তারা কখনোই ভালো মানুষ বা সুনাগরিক হতে পারবে না। মূল্যবোধের শিক্ষাই একজন ছাত্রকে স্বার্থপরতার গণ্ডি থেকে বের করে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করতে শেখায় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।
৬ পরিবেশের সম্পদ বলতে কী বোঝায়? এগুলো রক্ষা করতে আমাদের কী কী করা উচিত?
উত্তর:
পরিবেশের সম্পদ: আমাদের চারপাশের বাতাস, নদীর জল, ভূগর্ভস্থ পানীয় জল, মাটি, গাছপালা, বনজঙ্গল এবং খনিজ সম্পদ— এগুলিই হলো পরিবেশের সম্পদ। এই সম্পদগুলো প্রকৃতির দান এবং এর ওপর সবার সমান অধিকার।
আমাদের কর্তব্য:
১) জলের কল খোলা দেখলে বন্ধ করতে হবে এবং জলের অপচয় রুখতে হবে।
২) যথেচ্ছভাবে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
৩) প্লাস্টিক ব্যবহার করে বা যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলে মাটি ও জল দূষিত করা যাবে না।
৪) বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে, কারণ বিদ্যুৎ তৈরি করতে মূল্যবান কয়লা পোড়াতে হয়।
পরিবেশের সম্পদ: আমাদের চারপাশের বাতাস, নদীর জল, ভূগর্ভস্থ পানীয় জল, মাটি, গাছপালা, বনজঙ্গল এবং খনিজ সম্পদ— এগুলিই হলো পরিবেশের সম্পদ। এই সম্পদগুলো প্রকৃতির দান এবং এর ওপর সবার সমান অধিকার।
আমাদের কর্তব্য:
১) জলের কল খোলা দেখলে বন্ধ করতে হবে এবং জলের অপচয় রুখতে হবে।
২) যথেচ্ছভাবে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
৩) প্লাস্টিক ব্যবহার করে বা যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলে মাটি ও জল দূষিত করা যাবে না।
৪) বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে, কারণ বিদ্যুৎ তৈরি করতে মূল্যবান কয়লা পোড়াতে হয়।
৭ "সবাই সমান সুযোগ নিয়ে জন্মায় না, কিন্তু সবার সমান অধিকার আছে"— কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
আমাদের সমাজে কেউ ধনী পরিবারে জন্মায়, আবার কেউ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মায়। কেউ জন্মের পর থেকে অনেক সুবিধা পায়, আবার অনেক শিশু দু-বেলা ঠিকমতো খাবারও পায় না। অর্থাৎ জন্মগতভাবে সবাই সমান সুযোগ পায় না।
কিন্তু আমাদের সংবিধান ও মানবাধিকার অনুযায়ী, সুযোগের পার্থক্য থাকলেও প্রতিটি মানুষের বাঁচার, শিক্ষার এবং স্বাস্থ্যের সমান অধিকার আছে। গরিব বলে কাউকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বা তার প্রতি কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমান সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখাই হলো সুস্থ সমাজের লক্ষণ।
আমাদের সমাজে কেউ ধনী পরিবারে জন্মায়, আবার কেউ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মায়। কেউ জন্মের পর থেকে অনেক সুবিধা পায়, আবার অনেক শিশু দু-বেলা ঠিকমতো খাবারও পায় না। অর্থাৎ জন্মগতভাবে সবাই সমান সুযোগ পায় না।
কিন্তু আমাদের সংবিধান ও মানবাধিকার অনুযায়ী, সুযোগের পার্থক্য থাকলেও প্রতিটি মানুষের বাঁচার, শিক্ষার এবং স্বাস্থ্যের সমান অধিকার আছে। গরিব বলে কাউকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বা তার প্রতি কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমান সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখাই হলো সুস্থ সমাজের লক্ষণ।
৮ নারী ও পুরুষের সমান অধিকার বলতে কী বোঝো? সমাজে এই অধিকারের প্রয়োজন কেন?
উত্তর:
সমান অধিকার: আগেকার দিনে মনে করা হতো মেয়েরা শুধু ঘরের কাজ করবে আর ছেলেরা বাইরের কাজ করবে। কিন্তু নারী ও পুরুষের সমান অধিকার বলতে বোঝায় যে, ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করা যাবে না। শিক্ষা, চাকরি, রাজনীতি, খেলাধুলা— সব ক্ষেত্রেই মেয়েদেরও ছেলেদের মতো সমান সুযোগ ও অধিকার প্রাপ্য।
প্রয়োজনীয়তা: সমাজের অর্ধেক অংশ হলো নারী। নারীদের যদি পর্দার আড়ালে বা অশিক্ষায় আটকে রাখা হয়, তবে সমাজ বা দেশ কখনোই উন্নতির পথে এগোতে পারবে না। নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই একটি দেশ শক্তিশালী ও উন্নত হয়।
সমান অধিকার: আগেকার দিনে মনে করা হতো মেয়েরা শুধু ঘরের কাজ করবে আর ছেলেরা বাইরের কাজ করবে। কিন্তু নারী ও পুরুষের সমান অধিকার বলতে বোঝায় যে, ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করা যাবে না। শিক্ষা, চাকরি, রাজনীতি, খেলাধুলা— সব ক্ষেত্রেই মেয়েদেরও ছেলেদের মতো সমান সুযোগ ও অধিকার প্রাপ্য।
প্রয়োজনীয়তা: সমাজের অর্ধেক অংশ হলো নারী। নারীদের যদি পর্দার আড়ালে বা অশিক্ষায় আটকে রাখা হয়, তবে সমাজ বা দেশ কখনোই উন্নতির পথে এগোতে পারবে না। নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই একটি দেশ শক্তিশালী ও উন্নত হয়।
৯ তোমার সামনে যদি কারও মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়, তবে একজন নাগরিক হিসেবে তুমি কী পদক্ষেপ নেবে?
উত্তর:
আমার চোখের সামনে যদি কারও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়, যেমন— কোনো ছোটো শিশুকে জোর করে কাজে লাগানো হয়, কাউকে বিনা কারণে মারধোর করা হয় বা কোনো মেয়েকে জোর করে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়, তবে আমি চুপ করে থাকব না।
১) প্রথমে আমি আমার বাবা-মা বা স্কুলের শিক্ষকদের বিষয়টি জানাব।
২) তাদের সাহায্যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বা পঞ্চায়েত/পৌরসভাকে খবর দেব।
৩) প্রয়োজনে মানবাধিকার কমিশন বা শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে সেই অসহায় মানুষ বা শিশুটির আইনি অধিকার পাইয়ে দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
আমার চোখের সামনে যদি কারও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়, যেমন— কোনো ছোটো শিশুকে জোর করে কাজে লাগানো হয়, কাউকে বিনা কারণে মারধোর করা হয় বা কোনো মেয়েকে জোর করে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়, তবে আমি চুপ করে থাকব না।
১) প্রথমে আমি আমার বাবা-মা বা স্কুলের শিক্ষকদের বিষয়টি জানাব।
২) তাদের সাহায্যে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বা পঞ্চায়েত/পৌরসভাকে খবর দেব।
৩) প্রয়োজনে মানবাধিকার কমিশন বা শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে সেই অসহায় মানুষ বা শিশুটির আইনি অধিকার পাইয়ে দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
১০ একজন সুনাগরিক হতে গেলে ছাত্রাবস্থায় তোমার কী কী গুণ থাকা প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো?
উত্তর:
ভবিষ্যতের একজন সুনাগরিক হতে গেলে ছাত্রাবস্থাতেই কয়েকটি গুণের বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন:
১) দায়িত্ববোধ: নিজের কাজ নিজে করা এবং পরিবেশের সম্পদ (যেমন- জল, বিদ্যুৎ) নষ্ট না করা।
২) সততা ও শৃঙ্খলা: সবসময় সত্য কথা বলা এবং স্কুলের ও দেশের নিয়মকানুন মেনে চলা।
৩) পরোপকার ও সম্মান: বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানো, দুর্বলকে সাহায্য করা এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমান সম্মান দেওয়া।
৪) সচেতনতা: নিজের অধিকার সম্পর্কে যেমন সচেতন থাকতে হবে, তেমনই অন্যের অধিকার যাতে খর্ব না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
ভবিষ্যতের একজন সুনাগরিক হতে গেলে ছাত্রাবস্থাতেই কয়েকটি গুণের বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন:
১) দায়িত্ববোধ: নিজের কাজ নিজে করা এবং পরিবেশের সম্পদ (যেমন- জল, বিদ্যুৎ) নষ্ট না করা।
২) সততা ও শৃঙ্খলা: সবসময় সত্য কথা বলা এবং স্কুলের ও দেশের নিয়মকানুন মেনে চলা।
৩) পরোপকার ও সম্মান: বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানো, দুর্বলকে সাহায্য করা এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমান সম্মান দেওয়া।
৪) সচেতনতা: নিজের অধিকার সম্পর্কে যেমন সচেতন থাকতে হবে, তেমনই অন্যের অধিকার যাতে খর্ব না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
Sponsored Links