অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির জনবসতি ও পরিবেশ অধ্যায়ে আমাদের সামাজিক পরিবেশ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় (সুনামি, আয়লা, ভূমিকম্প), মহাকাশ বিজ্ঞান, জোয়ার-ভাটা, গ্রহণ এবং আবহাওয়া-বিজ্ঞান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. সামাজিক পরিবেশ: প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ দেশের বড়ো সম্পদ। তাঁরা গাছ বাঁচান এবং পরিবেশের যত্ন নেন। বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম সামাজিক অপরাধ।
২. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: ২০০৪ সালের সুনামির ফলে আন্দামান ও সমুদ্র উপকূলে প্রচুর ক্ষতি হয়েছিল। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় 'আয়লা' সুন্দরবনে মারাত্মক ক্ষতি করেছিল। ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
৩. বিজ্ঞান ও মহাকাশ: ভারতীয় বিজ্ঞানী আর্যভট্ট প্রথম বলেছিলেন পৃথিবী নিজের চারপাশে ঘোরে। আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম টেলিস্কোপ তৈরি করেছিলেন।
৪. গ্রহণ ও জোয়ার-ভাটা: সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হলো আলো ও ছায়ার খেলা। পৃথিবীর ওপর চাঁদের প্রবল আকর্ষণের ফলেই মূলত সমুদ্রে ও নদীতে জোয়ার-ভাটা হয়।
৫. আবহাওয়া-বিজ্ঞান: ঝড়-বৃষ্টি, বাতাসের গতি ইত্যাদি আগাম খবর দেওয়াকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে, যা আবহাওয়া বিজ্ঞানের সাহায্যে জানা যায়।
মূল বিষয়বস্তু:
১. সামাজিক পরিবেশ: প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ দেশের বড়ো সম্পদ। তাঁরা গাছ বাঁচান এবং পরিবেশের যত্ন নেন। বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম সামাজিক অপরাধ।
২. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: ২০০৪ সালের সুনামির ফলে আন্দামান ও সমুদ্র উপকূলে প্রচুর ক্ষতি হয়েছিল। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় 'আয়লা' সুন্দরবনে মারাত্মক ক্ষতি করেছিল। ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
৩. বিজ্ঞান ও মহাকাশ: ভারতীয় বিজ্ঞানী আর্যভট্ট প্রথম বলেছিলেন পৃথিবী নিজের চারপাশে ঘোরে। আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম টেলিস্কোপ তৈরি করেছিলেন।
৪. গ্রহণ ও জোয়ার-ভাটা: সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হলো আলো ও ছায়ার খেলা। পৃথিবীর ওপর চাঁদের প্রবল আকর্ষণের ফলেই মূলত সমুদ্রে ও নদীতে জোয়ার-ভাটা হয়।
৫. আবহাওয়া-বিজ্ঞান: ঝড়-বৃষ্টি, বাতাসের গতি ইত্যাদি আগাম খবর দেওয়াকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে, যা আবহাওয়া বিজ্ঞানের সাহায্যে জানা যায়।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ কারা?
উত্তর: খ) সত্যিকারের শিক্ষিত মানুষরা
২ সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কোনটি প্রয়োজন?
উত্তর: খ) সবাইকে সমান সম্মান দেওয়া ও পরিবেশের যত্ন নেওয়া
৩ ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বিয়ে দেওয়াকে কী বলে?
উত্তর: খ) বাল্যবিবাহ
৪ ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের জোর করে কাজে লাগানোকে কী বলে?
উত্তর: গ) শিশুশ্রম
৫ ২০০৪ সালের শেষের দিকে সমুদ্রের নিচে ভূমিকম্পের ফলে কী হয়েছিল?
উত্তর: খ) সুনামি
৬ ২০০৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে কোন মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল?
উত্তর: গ) আয়লা
৭ ২০০৪ সালের সুনামির ফলে ভারতের কোথায় প্রচুর ক্ষতি হয়েছিল?
উত্তর: ক) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং পূর্ব উপকূলে
৮ আয়লার ফলে পশ্চিমবঙ্গের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল?
উত্তর: গ) সুন্দরবন অঞ্চলে
৯ সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের কথা অনেক আগে থেকে কারা বলে দিতে পারেন?
উত্তর: খ) বিজ্ঞানীরা বা আবহাওয়া দপ্তর
১০ আজ থেকে প্রায় কত বছর আগে গ্যালিলিও টেলিস্কোপ তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: ক) প্রায় ৫০০ বছর আগে
১১ রাতের আকাশে তারা বা গ্রহ দেখার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: গ) টেলিস্কোপ বা দূরবীন
১২ আমাদের দেশের কোন প্রাচীন বিজ্ঞানী প্রথম বলেছিলেন যে পৃথিবী নিজের চারপাশে ঘোরে?
উত্তর: খ) আর্যভট্ট
১৩ সূর্য আসলে কী?
উত্তর: গ) একটি জ্বলন্ত গ্যাসীয় নক্ষত্র বা তারা
১৪ পৃথিবীর নিজের চারপাশে একবার ঘুরে আসতে কত সময় লাগে?
উত্তর: খ) প্রায় ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন
১৫ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
উত্তর: খ) চাঁদ
১৬ চাঁদের কি নিজস্ব আলো আছে?
উত্তর: ক) না, চাঁদ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়
১৭ পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে চাঁদের কত সময় লাগে?
উত্তর: খ) প্রায় সাড়ে উনত্রিশ দিন (২৯.৫ দিন)
১৮ পৃথিবীতে নদীতে বা সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা মূলত কার আকর্ষণে হয়?
উত্তর: গ) চাঁদের আকর্ষণে
১৯ চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশে জল সবচেয়ে বেশি ফুলে ওঠে, তাকে কী বলে?
উত্তর: খ) মুখ্য জোয়ার
২০ মুখ্য জোয়ারের ঠিক উলটো দিকে বা বিপরীত দিকে কী হয়?
উত্তর: ক) গৌণ জোয়ার
২১ জোয়ারের পর সমুদ্র বা নদীর জল নেমে যাওয়াকে কী বলে?
উত্তর: খ) ভাটা
২২ সূর্যগ্রহণ সাধারণত কখন হয়?
উত্তর: খ) অমাবস্যার দিনে (দিনের বেলায়)
২৩ চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত কখন হয়?
উত্তর: খ) পূর্ণিমার রাতে
২৪ সূর্যগ্রহণের সময় কে পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে?
উত্তর: খ) চাঁদ
২৫ চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া কার ওপর পড়ে?
উত্তর: খ) চাঁদের ওপর
২৬ চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় কত দূরে অবস্থিত?
উত্তর: ক) প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে
২৭ সূর্য পৃথিবী থেকে চাঁদের তুলনায় কত গুণ বেশি দূরে আছে?
উত্তর: গ) প্রায় ৪০০ গুণ
২৮ রোদ, ঝড়-বৃষ্টি, ঠান্ডা-গরম ইত্যাদির অবস্থাকে একসঙ্গে কী বলে?
উত্তর: খ) আবহাওয়া
২৯ আবহাওয়ার আগে থেকে খবর দেওয়াকে কী বলা হয়?
উত্তর: খ) আবহাওয়ার পূর্বাভাস
৩০ আমরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর আগে থেকে কোথা থেকে পাই?
উত্তর: খ) রেডিও, টিভি ও ইন্টারনেট থেকে
৩১ কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা আগে থেকে জানা খুব মুশকিল?
উত্তর: গ) ভূমিকম্প
৩২ ডিভিসি (DVC) এর জলাধার থেকে হঠাৎ জল ছাড়লে কোথায় বন্যা দেখা দেয়?
উত্তর: ক) হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান ইত্যাদি অঞ্চলে
৩৩ দিঘার সমুদ্রসৈকতে জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড় হলে কাদের বেশি বিপদ হয়?
উত্তর: খ) মৎস্যজীবীদের বা জেলেদের
৩৪ পরিবেশ দূষণের ফলে প্রকৃতিতে কীসের ধরন বদলে যাচ্ছে?
উত্তর: খ) আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন
৩৫ শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: খ) শিশুদের জোর করে কাজে না পাঠিয়ে স্কুলে পড়াশোনা করতে পাঠানো
৩৬ মানুষের তৈরি দূষণের ফলে চাঁদ বা সূর্যের কোনো ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: ক) না, কারণ তারা পৃথিবী থেকে অনেক দূরে থাকে
৩৭ সুস্থ সমাজ গড়তে গেলে কাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: গ) প্রকৃত শিক্ষিত মানুষদের
৩৮ নীচের কোনটি একটি মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়?
উত্তর: ঘ) সাধারণ বৃষ্টি
৩৯ চাঁদ ও সূর্য পৃথিবী থেকে অনেক দূরে থাকায় তাদের ওপর কীসের প্রভাব পড়ে না?
উত্তর: খ) পৃথিবীর পরিবেশ দূষণের
৪০ গ্রহণ আসলে কী?
উত্তর: ক) চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থানের জন্য আলো ও ছায়ার খেলা
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ সামাজিক পরিবেশ কী?
উত্তর: আমাদের চারপাশে থাকা মানুষজন, তাদের রীতিনীতি, শিক্ষাদীক্ষা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মিলেমিশে থাকার পরিবেশকেই সামাজিক পরিবেশ বলে।
২ প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ কারা?
উত্তর: যাঁদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নেই, বরং যাঁরা অন্যের কথা ভাবেন, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান, পরিবেশের যত্ন নেন এবং সবাইকে সম্মান করেন, তাঁরাই প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ।
৩ বাল্যবিবাহ কী?
উত্তর: আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সি কোনো মেয়ের এবং ২১ বছরের কম বয়সি ছেলের বিয়ে দেওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে। এটি একটি বড়ো সামাজিক অপরাধ।
৪ শিশুশ্রম কাকে বলে?
উত্তর: ১৪ বছরের কম বয়সি ছোটো শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে অর্থের লোভে জোর করে কোনো কঠিন বা বিপজ্জনক কাজে লাগানোকে শিশুশ্রম বলে। এটি আইনত দণ্ডনীয়।
৫ সুনামি কী?
উত্তর: সমুদ্রের নিচে প্রবল ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্রের জল যখন বিশাল ঢেউ হয়ে ফুলে উঠে উপকূল অঞ্চলে আছড়ে পড়ে, তখন সেই জলোচ্ছ্বাসকে সুনামি বলে।
৬ ২০০৪ সালের সুনামিতে ভারতের কোথায় বেশি ক্ষতি হয়েছিল?
উত্তর: ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে হওয়া সুনামিতে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূলে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল।
৭ আয়লা কী?
উত্তর: আয়লা হলো একটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ের নাম, যা ২০০৯ সালে সুন্দরবন-সহ পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণভাগে আছড়ে পড়েছিল।
৮ আয়লার ফলে সুন্দরবন অঞ্চলে কী ক্ষতি হয়েছিল?
উত্তর: আয়লার ফলে সুন্দরবন অঞ্চলে বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে প্রচুর ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের জমি ধ্বংস হয়েছিল এবং বহু গবাদি পশু মারা গিয়েছিল।
৯ ভূমিকম্প কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা প্লেটগুলির স্থান পরিবর্তনের ফলে বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ করে ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠাকেই ভূমিকম্প বলা হয়।
১০ টেলিস্কোপ কী?
উত্তর: টেলিস্কোপ বা দূরবীন হলো এমন এক বিশেষ যন্ত্র যার সাহায্যে মহাকাশের অনেক দূরের তারা, গ্রহ বা চাঁদকে খুব স্পষ্টভাবে এবং কাছে দেখা যায়।
১১ গ্যালিলিও গ্যালিলি কে ছিলেন?
উত্তর: গ্যালিলিও গ্যালিলি ছিলেন একজন মহান বিজ্ঞানী, যিনি আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে প্রথম আধুনিক টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেছিলেন।
১২ আর্যভট্ট কে ছিলেন?
উত্তর: আর্যভট্ট ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতজ্ঞ, যিনি প্রথম বলেছিলেন যে পৃথিবী নিজের চারপাশে ঘোরে।
১৩ গ্রহণ কাকে বলে?
উত্তর: মহাকাশে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ যখন একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন একের ছায়া অপরের ওপর পড়ে। এই ছায়ায় ঢাকা পড়ার ঘটনাকেই গ্রহণ বলে।
১৪ সূর্যগ্রহণ কখন ঘটে?
উত্তর: অমাবস্যা তিথিতে দিনের বেলায় চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে চলে আসে, তখন চাঁদের ছায়ায় সূর্য ঢাকা পড়লে সূর্যগ্রহণ ঘটে।
১৫ চন্দ্রগ্রহণ কখন ঘটে?
উত্তর: পূর্ণিমা তিথিতে রাতের বেলায় পৃথিবী যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ ঢাকা পড়লে চন্দ্রগ্রহণ ঘটে।
১৬ চাঁদ কী?
উত্তর: চাঁদ হলো পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ, যা নির্দিষ্ট কক্ষপথে অনবরত পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে।
১৭ চাঁদের নিজস্ব আলো নেই কেন?
উত্তর: চাঁদ কোনো নক্ষত্র নয়, এটি একটি উপগ্রহ এবং কঠিন পাথরের তৈরি। তাই এর নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পড়ে প্রতিফলিত হয় বলেই আমরা চাঁদকে উজ্জ্বল দেখি।
১৮ জোয়ার-ভাটা কী?
উত্তর: চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে সমুদ্র ও নদীর জল নিয়মিত ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং পরে সেই জল নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
১৯ জোয়ার-ভাটা কেন হয়?
উত্তর: পৃথিবীর ওপর মূলত চাঁদের প্রবল আকর্ষণ (মহাকর্ষ বল) এবং পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক বলের প্রভাবেই জোয়ার-ভাটা হয়।
২০ মুখ্য জোয়ার কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর যে অংশটি চাঁদের ঠিক সামনাসামনি আসে, সেখানে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি থাকে। এর ফলে ওই অংশে জল সবচেয়ে বেশি ফুলে ওঠে, একে মুখ্য জোয়ার বলে।
২১ গৌণ জোয়ার কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয়, ঠিক তার উলটো দিকের অংশে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে। কিন্তু পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সেখানেও জল ফুলে ওঠে, একে গৌণ জোয়ার বলে।
২২ ভাটা কাকে বলে?
উত্তর: যে দুটি স্থানে মুখ্য ও গৌণ জোয়ার হয়, তার সমকোণে থাকা স্থানগুলি থেকে জল নেমে গিয়ে জোয়ারের স্থানগুলিতে যায়। জল নেমে যাওয়ার এই ঘটনাকেই ভাটা বলে।
২৩ আবহাওয়া বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গার রোদ, বৃষ্টি, ঠান্ডা, গরম, বাতাসের গতি ইত্যাদি দৈনিক অবস্থাকে একসঙ্গে আবহাওয়া বলে।
২৪ আবহাওয়ার পূর্বাভাস কী?
উত্তর: আগামী কয়েক দিন বা কয়েক ঘণ্টায় আবহাওয়া কেমন থাকবে (যেমন- বৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড় হবে কিনা), তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে আগে থেকে জানানোকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে।
২৫ আবহাওয়া বিজ্ঞান কী?
উত্তর: বিজ্ঞানের যে শাখায় মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা হয়, তাকে আবহাওয়া বিজ্ঞান বলে।
২৬ চাঁদ পৃথিবী থেকে কত দূরে অবস্থিত?
উত্তর: চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার (সঠিকভাবে ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত।
২৭ সূর্য পৃথিবী থেকে কত দূরে অবস্থিত?
উত্তর: সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা চাঁদের দূরত্বের প্রায় ৪০০ গুণ।
২৮ পৃথিবীর পরিবেশ দূষণের প্রভাব চাঁদ-সূর্যের ওপর পড়ে না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা পরিবেশ ভূপৃষ্ঠ থেকে সামান্য কিছু কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। চাঁদ ও সূর্য পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার দূরে মহাশূন্যে থাকায় পৃথিবীর দূষণ সেখানে পৌঁছাতে পারে না।
২৯ ডিভিসি (DVC) থেকে জল ছাড়লে কী হয়?
উত্তর: অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ডিভিসি-র ড্যাম বা জলাধার ভরে গেলে তারা বাধ্য হয়ে জল ছাড়ে। এর ফলে দামোদর ও রূপনারায়ণ নদের জল বেড়ে হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমানের অনেক অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়।
৩০ মৎস্যজীবীদের কখন সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়?
উত্তর: আবহাওয়া দপ্তর থেকে যখন কোনো বড়ো ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা উত্তাল সমুদ্রের পূর্বাভাস দেওয়া হয়, তখন সুরক্ষার জন্য মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে বারণ করা হয়।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ সুস্থ সামাজিক পরিবেশ কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব? প্রকৃত শিক্ষিত মানুষের ভূমিকা লেখো।
উত্তর:
আমাদের চারপাশে নানা ধরনের মানুষ বসবাস করেন। কেউ ধনী, কেউ গরিব, কেউ সুবিধা পান, কেউ পান না। এই সব মানুষ যখন একে অপরকে ছোটো না ভেবে, ঘৃণা না করে সমান সম্মান দিয়ে পাশাপাশি বাঁচেন, তখনই সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
শিক্ষিত মানুষের ভূমিকা: সত্যিকারের শিক্ষিত মানুষ দেশের সম্পদ। তাঁদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যা থাকে না, তাঁরা অন্যের কথা ভাবেন। তাঁরা গাছ লাগান, চারপাশের পরিবেশ ও জল নষ্ট করেন না এবং বিপন্ন পশুপাখির কথা ভাবেন। তাঁদের এই সচেতন আচরণ দেখেই সমাজ শেখে এবং একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
শিক্ষিত মানুষের ভূমিকা: সত্যিকারের শিক্ষিত মানুষ দেশের সম্পদ। তাঁদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যা থাকে না, তাঁরা অন্যের কথা ভাবেন। তাঁরা গাছ লাগান, চারপাশের পরিবেশ ও জল নষ্ট করেন না এবং বিপন্ন পশুপাখির কথা ভাবেন। তাঁদের এই সচেতন আচরণ দেখেই সমাজ শেখে এবং একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
২ বাল্যবিবাহ এবং শিশুশ্রম কেন সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর? এগুলো বন্ধ করতে কী করা উচিত?
উত্তর:
ক্ষতিকর কারণ: ১৮ বছরের কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিলে (বাল্যবিবাহ) তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের অভাবের তাড়নায় স্কুলে না পাঠিয়ে জোর করে কাজে লাগালে (শিশুশ্রম) তাদের শৈশব হারিয়ে যায় এবং তারা সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।
প্রতিকার: এই দুটিই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এগুলো বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিটি শিশুকে স্কুলে পাঠিয়ে তাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিতে হবে।
ক্ষতিকর কারণ: ১৮ বছরের কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিলে (বাল্যবিবাহ) তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায় এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের অভাবের তাড়নায় স্কুলে না পাঠিয়ে জোর করে কাজে লাগালে (শিশুশ্রম) তাদের শৈশব হারিয়ে যায় এবং তারা সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।
প্রতিকার: এই দুটিই আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এগুলো বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং প্রতিটি শিশুকে স্কুলে পাঠিয়ে তাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিতে হবে।
৩ সুনামি কী? ২০০৪ সালের সুনামির ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর:
সুনামি: সুনামি হলো একটি জাপানি শব্দ, যার অর্থ 'বন্দরের বিশাল ঢেউ'। সমুদ্রের তলদেশে কোনো বড়ো মাপের ভূমিকম্প হলে বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে সমুদ্রের জল বিশাল ও বিধ্বংসী ঢেউয়ের আকার নিয়ে প্রবল বেগে উপকূলে আছড়ে পড়ে। একেই সুনামি বলে।
২০০৪ সালের ভয়াবহতা: ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ভারত মহাসাগরের নিচে হওয়া ভূমিকম্পের ফলে একটি প্রলয়ংকরী সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। এর ঢেউগুলো কয়েক তলা বাড়ির মতো উঁচু ছিল। এই সুনামিতে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলিতে (যেমন তামিলনাড়ু) লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায় এবং ঘরবাড়ি, সম্পত্তির অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়।
সুনামি: সুনামি হলো একটি জাপানি শব্দ, যার অর্থ 'বন্দরের বিশাল ঢেউ'। সমুদ্রের তলদেশে কোনো বড়ো মাপের ভূমিকম্প হলে বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে সমুদ্রের জল বিশাল ও বিধ্বংসী ঢেউয়ের আকার নিয়ে প্রবল বেগে উপকূলে আছড়ে পড়ে। একেই সুনামি বলে।
২০০৪ সালের ভয়াবহতা: ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ভারত মহাসাগরের নিচে হওয়া ভূমিকম্পের ফলে একটি প্রলয়ংকরী সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। এর ঢেউগুলো কয়েক তলা বাড়ির মতো উঁচু ছিল। এই সুনামিতে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলিতে (যেমন তামিলনাড়ু) লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায় এবং ঘরবাড়ি, সম্পত্তির অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়।
৪ আয়লা কী? এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে কী ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল?
উত্তর:
আয়লা: আয়লা হলো একটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও শক্তিশালী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় (Cyclone), যা ২০০৯ সালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ভাগে এবং বাংলাদেশে আছড়ে পড়েছিল।
সুন্দরবনে বিপর্যয়: আয়লার প্রভাবে সুন্দরবন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল। প্রবল ঝড়ের দাপটে মাটির বাড়িঘর সব ভেঙে পড়ে। নদীর বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমি, মিষ্টি জলের পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। প্রচুর গবাদি পশু ও বন্যপ্রাণী মারা পড়ে। সুন্দরবনের মানুষদের জীবন ও জীবিকা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
আয়লা: আয়লা হলো একটি অত্যন্ত বিধ্বংসী ও শক্তিশালী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় (Cyclone), যা ২০০৯ সালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ভাগে এবং বাংলাদেশে আছড়ে পড়েছিল।
সুন্দরবনে বিপর্যয়: আয়লার প্রভাবে সুন্দরবন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল। প্রবল ঝড়ের দাপটে মাটির বাড়িঘর সব ভেঙে পড়ে। নদীর বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমি, মিষ্টি জলের পুকুর নষ্ট হয়ে যায়। প্রচুর গবাদি পশু ও বন্যপ্রাণী মারা পড়ে। সুন্দরবনের মানুষদের জীবন ও জীবিকা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
৫ গ্যালিলিও গ্যালিলি এবং আর্যভট্টের বৈজ্ঞানিক অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর:
আর্যভট্টের অবদান: প্রাচীনকালে মানুষ ভাবত পৃথিবী স্থির এবং সূর্য তার চারপাশে ঘোরে। কিন্তু প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট প্রথম জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, সূর্য স্থির এবং পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে। একই সাথে তিনি বলেছিলেন যে পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর পাক খায়, যার ফলে দিন ও রাত হয়।
গ্যালিলিওর অবদান: আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে ইতালির মহান বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম আধুনিক টেলিস্কোপ বা দূরবীন তৈরি করেছিলেন। তিনি এই টেলিস্কোপ দিয়ে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্ররা পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে না। তাঁর এই আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
আর্যভট্টের অবদান: প্রাচীনকালে মানুষ ভাবত পৃথিবী স্থির এবং সূর্য তার চারপাশে ঘোরে। কিন্তু প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট প্রথম জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, সূর্য স্থির এবং পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে। একই সাথে তিনি বলেছিলেন যে পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর পাক খায়, যার ফলে দিন ও রাত হয়।
গ্যালিলিওর অবদান: আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে ইতালির মহান বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম আধুনিক টেলিস্কোপ বা দূরবীন তৈরি করেছিলেন। তিনি এই টেলিস্কোপ দিয়ে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণ করে প্রমাণ করেছিলেন যে মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্ররা পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে না। তাঁর এই আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
৬ গ্রহণ বলতে কী বোঝো? সূর্যগ্রহণ কীভাবে হয় তা বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর:
গ্রহণ: সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী মহাশূন্যে ঘুরতে ঘুরতে যখন একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন একটির ছায়া অন্যটির ওপর পড়ে তাকে ঢেকে দেয়। এই আলো ও ছায়ার খেলাকেই বিজ্ঞান বা ভূগোলের ভাষায় 'গ্রহণ' বলা হয়।
সূর্যগ্রহণ: সূর্যগ্রহণ সবসময় অমাবস্যা তিথিতে দিনের বেলায় ঘটে। যখন চাঁদ ঘুরতে ঘুরতে সূর্য এবং পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন সূর্যের আলো চাঁদে বাধা পেয়ে পৃথিবীর ওপর একটি ছায়া ফেলে। পৃথিবীর ওই ছায়া ঢাকা অংশ থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না। একেই সূর্যগ্রহণ বলে। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
গ্রহণ: সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী মহাশূন্যে ঘুরতে ঘুরতে যখন একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন একটির ছায়া অন্যটির ওপর পড়ে তাকে ঢেকে দেয়। এই আলো ও ছায়ার খেলাকেই বিজ্ঞান বা ভূগোলের ভাষায় 'গ্রহণ' বলা হয়।
সূর্যগ্রহণ: সূর্যগ্রহণ সবসময় অমাবস্যা তিথিতে দিনের বেলায় ঘটে। যখন চাঁদ ঘুরতে ঘুরতে সূর্য এবং পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন সূর্যের আলো চাঁদে বাধা পেয়ে পৃথিবীর ওপর একটি ছায়া ফেলে। পৃথিবীর ওই ছায়া ঢাকা অংশ থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না। একেই সূর্যগ্রহণ বলে। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
৭ চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে ঘটে তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
চন্দ্রগ্রহণ সবসময় পূর্ণিমা তিথিতে রাতের বেলায় ঘটে। আমরা জানি, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়।
পৃথিবী ও চাঁদ উভয়েই ঘুরছে। ঘুরতে ঘুরতে যখন পৃথিবী ঠিক সূর্য এবং চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে বাধা পায় এবং পৃথিবীর বিশাল ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। পৃথিবীর এই ছায়ার জন্য চাঁদ ঢাকা পড়ে যায় এবং পৃথিবী থেকে তাকে আর দেখা যায় না বা লালচে দেখায়। এই ঘটনাকেই চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।
চন্দ্রগ্রহণ সবসময় পূর্ণিমা তিথিতে রাতের বেলায় ঘটে। আমরা জানি, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়।
পৃথিবী ও চাঁদ উভয়েই ঘুরছে। ঘুরতে ঘুরতে যখন পৃথিবী ঠিক সূর্য এবং চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে বাধা পায় এবং পৃথিবীর বিশাল ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। পৃথিবীর এই ছায়ার জন্য চাঁদ ঢাকা পড়ে যায় এবং পৃথিবী থেকে তাকে আর দেখা যায় না বা লালচে দেখায়। এই ঘটনাকেই চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।
৮ জোয়ার-ভাটা কী? চাঁদের আকর্ষণে কীভাবে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা হয় তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীর সমুদ্র ও নদীর জল রোজ নির্দিষ্ট সময়ে ফুলে ওঠে এবং আবার নির্দিষ্ট সময়ে নেমে যায়। জল ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং জল নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
কীভাবে হয়: পৃথিবীর ওপর সূর্যের চেয়ে চাঁদের আকর্ষণ অনেক বেশি, কারণ চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে আছে (প্রায় ৪ লক্ষ কিমি)। পৃথিবী নিজের চারপাশে ঘোরার সময় পৃথিবীর যে দিকটা চাঁদের ঠিক সামনে আসে, সেখানে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি পড়ে। এই প্রবল আকর্ষণের কারণে ওই অংশের জল ফুলে ওঠে (মুখ্য জোয়ার)। এর ঠিক উলটো দিকের অংশে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক বলের প্রভাবে জল ফুলে ওঠে (গৌণ জোয়ার)। আর এই দুই জোয়ারের সমকোণে থাকা জায়গাগুলোর জল নেমে গিয়ে জোয়ারের জায়গায় চলে আসে, যাকে ভাটা বলে।
চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীর সমুদ্র ও নদীর জল রোজ নির্দিষ্ট সময়ে ফুলে ওঠে এবং আবার নির্দিষ্ট সময়ে নেমে যায়। জল ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং জল নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
কীভাবে হয়: পৃথিবীর ওপর সূর্যের চেয়ে চাঁদের আকর্ষণ অনেক বেশি, কারণ চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে আছে (প্রায় ৪ লক্ষ কিমি)। পৃথিবী নিজের চারপাশে ঘোরার সময় পৃথিবীর যে দিকটা চাঁদের ঠিক সামনে আসে, সেখানে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি পড়ে। এই প্রবল আকর্ষণের কারণে ওই অংশের জল ফুলে ওঠে (মুখ্য জোয়ার)। এর ঠিক উলটো দিকের অংশে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক বলের প্রভাবে জল ফুলে ওঠে (গৌণ জোয়ার)। আর এই দুই জোয়ারের সমকোণে থাকা জায়গাগুলোর জল নেমে গিয়ে জোয়ারের জায়গায় চলে আসে, যাকে ভাটা বলে।
৯ আবহাওয়া ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর:
আবহাওয়া ও পূর্বাভাস: কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার দৈনন্দিন তাপমাত্রা, রোদ, বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতি ইত্যাদির সাময়িক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। আগামী কয়েক দিনে এই আবহাওয়া কেমন থাকবে বা কোনো ঝড়-বৃষ্টি আসবে কিনা, তার আগাম বিজ্ঞানসম্মত খবর দেওয়াকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলা হয়।
গুরুত্ব: আবহাওয়ার পূর্বাভাস আমাদের খুব উপকার করে। এর ফলে চাষিরা জানতে পারেন কখন বৃষ্টি হবে বা কখন ফসল ঘরে তুলতে হবে। মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস আসার আগে খবর পেয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে পারেন। এছাড়া বড়ো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়।
আবহাওয়া ও পূর্বাভাস: কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার দৈনন্দিন তাপমাত্রা, রোদ, বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতি ইত্যাদির সাময়িক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। আগামী কয়েক দিনে এই আবহাওয়া কেমন থাকবে বা কোনো ঝড়-বৃষ্টি আসবে কিনা, তার আগাম বিজ্ঞানসম্মত খবর দেওয়াকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলা হয়।
গুরুত্ব: আবহাওয়ার পূর্বাভাস আমাদের খুব উপকার করে। এর ফলে চাষিরা জানতে পারেন কখন বৃষ্টি হবে বা কখন ফসল ঘরে তুলতে হবে। মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস আসার আগে খবর পেয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে পারেন। এছাড়া বড়ো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়।
১০ প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়) মোকাবিলায় মানুষের কী ধরনের প্রস্তুতি থাকা উচিত?
উত্তর:
প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানুষের হাতে নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি থাকলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব:
১) খবর শোনা: রেডিও, টিভি বা ইন্টারনেটে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস শুনতে হবে এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
২) নিরাপদ আশ্রয়: ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার খবর পেলে নিচু জায়গা বা কাঁচা বাড়ি ছেড়ে আগেই সরকারি ফ্লাড শেল্টার বা উঁচু পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিতে হবে।
৩) জরুরি সামগ্রী: হাতের কাছে শুকনো খাবার (চিঁড়ে, গুড়), পানীয় জল, টর্চ, দেশলাই, ফার্স্ট এইড বক্স, জরুরি ওষুধ এবং দরকারি কাগজপত্র একটি প্লাস্টিকে ভরে সাথে রাখতে হবে।
৪) ভূমিকম্পের সময়: ভূমিকম্প হলে বাড়ির বাইরে ফাঁকা মাঠে চলে যেতে হবে। বাইরে যেতে না পারলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিতে হবে এবং মাথা বাঁচাতে হবে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানুষের হাতে নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি থাকলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব:
১) খবর শোনা: রেডিও, টিভি বা ইন্টারনেটে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস শুনতে হবে এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলতে হবে।
২) নিরাপদ আশ্রয়: ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার খবর পেলে নিচু জায়গা বা কাঁচা বাড়ি ছেড়ে আগেই সরকারি ফ্লাড শেল্টার বা উঁচু পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিতে হবে।
৩) জরুরি সামগ্রী: হাতের কাছে শুকনো খাবার (চিঁড়ে, গুড়), পানীয় জল, টর্চ, দেশলাই, ফার্স্ট এইড বক্স, জরুরি ওষুধ এবং দরকারি কাগজপত্র একটি প্লাস্টিকে ভরে সাথে রাখতে হবে।
৪) ভূমিকম্পের সময়: ভূমিকম্প হলে বাড়ির বাইরে ফাঁকা মাঠে চলে যেতে হবে। বাইরে যেতে না পারলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিতে হবে এবং মাথা বাঁচাতে হবে।
Sponsored Links