অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির পরিবেশ ও পরিবহণ অধ্যায়ে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানুষের যাতায়াত বা পরিবহণ ব্যবস্থার বিবর্তন এবং তার পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. প্রাচীন যাতায়াত: অনেক আগে বাস, ট্রেন ছিল না। মানুষ হেঁটে বা ঘোড়ার পিঠে, গোরুর গাড়িতে অথবা পালকিতে চড়ে যাতায়াত করত। পালকি বইত চারজন বেয়ারা। কলকাতায় চলত ঘোড়ায় টানা গাড়ি ও ঘোড়ায় টানা ট্রাম।
২. চাকার আবিষ্কার: পরিবহণ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড়ো বিপ্লব এনেছিল চাকার আবিষ্কার। আগে কাঠের চাকা ছিল, পরে রবারের টায়ার লাগানো চাকা আসে।
৩. সাইকেল ও রিকশা: সাইকেল একটি চমৎকার পরিবেশবান্ধব যান, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না এবং দূষণ হয় না। হাতে টানা রিকশার বদলে এখন সাইকেল রিকশা বা মোটরচালিত অটো-রিকশা বেশি দেখা যায়।
৪. জলপথ: গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি ভেলা থেকে শুরু করে ডিঙি নৌকা, পালতোলা নৌকা এবং বর্তমানে স্টিমার ও লঞ্চের মাধ্যমে জলপথে যাতায়াত অনেক উন্নত হয়েছে।
৫. ট্রেন ও সিনেমা: প্রথমদিকে মানুষ ট্রেনে চড়তে ভয় পেত। পরে ট্রেনের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মেলামেশা বাড়ে এবং ভেদাভেদ কমে যায়। সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালী' সিনেমায় (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা) অপু-দুর্গার ট্রেন দেখার দৃশ্যটি বিখ্যাত। এছাড়া পৃথিবীর প্রথম সিনেমাও তৈরি হয়েছিল ট্রেন স্টেশনে আসা নিয়ে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. প্রাচীন যাতায়াত: অনেক আগে বাস, ট্রেন ছিল না। মানুষ হেঁটে বা ঘোড়ার পিঠে, গোরুর গাড়িতে অথবা পালকিতে চড়ে যাতায়াত করত। পালকি বইত চারজন বেয়ারা। কলকাতায় চলত ঘোড়ায় টানা গাড়ি ও ঘোড়ায় টানা ট্রাম।
২. চাকার আবিষ্কার: পরিবহণ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড়ো বিপ্লব এনেছিল চাকার আবিষ্কার। আগে কাঠের চাকা ছিল, পরে রবারের টায়ার লাগানো চাকা আসে।
৩. সাইকেল ও রিকশা: সাইকেল একটি চমৎকার পরিবেশবান্ধব যান, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না এবং দূষণ হয় না। হাতে টানা রিকশার বদলে এখন সাইকেল রিকশা বা মোটরচালিত অটো-রিকশা বেশি দেখা যায়।
৪. জলপথ: গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি ভেলা থেকে শুরু করে ডিঙি নৌকা, পালতোলা নৌকা এবং বর্তমানে স্টিমার ও লঞ্চের মাধ্যমে জলপথে যাতায়াত অনেক উন্নত হয়েছে।
৫. ট্রেন ও সিনেমা: প্রথমদিকে মানুষ ট্রেনে চড়তে ভয় পেত। পরে ট্রেনের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মেলামেশা বাড়ে এবং ভেদাভেদ কমে যায়। সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালী' সিনেমায় (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা) অপু-দুর্গার ট্রেন দেখার দৃশ্যটি বিখ্যাত। এছাড়া পৃথিবীর প্রথম সিনেমাও তৈরি হয়েছিল ট্রেন স্টেশনে আসা নিয়ে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ বাস, ট্রেন আবিষ্কারের আগে মানুষ কীভাবে দূরে যাতায়াত করত?
উত্তর: খ) হেঁটে বা গোরুর গাড়িতে
২ পালকি সাধারণত কতজন লোক বইত?
উত্তর: খ) চারজন
৩ যারা পালকি কাঁধে করে বইত, তাদের কী বলা হতো?
উত্তর: গ) বেয়ারা
৪ আগেকার দিনে কলকাতায় ট্রাম কীসে টানা হতো?
উত্তর: ক) ঘোড়ায়
৫ পরিবহণ ব্যবস্থায় সবচেয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কার কোনটি?
উত্তর: গ) চাকা
৬ প্রথম দিকের গোরুর গাড়ির চাকা কী দিয়ে তৈরি হতো?
উত্তর: খ) কাঠ
৭ চাকার গায়ে লোহার পাত বা বেড়ি পরানো হতো কেন?
উত্তর: খ) কাঠের চাকা যাতে তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে না যায়
৮ নীচের কোনটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব যান (যা থেকে দূষণ হয় না)?
উত্তর: গ) সাইকেল
৯ সাইকেল চালালে পরিবেশের কী সুবিধা হয়?
উত্তর: ক) কোনো জ্বালানি পোড়ে না, তাই দূষণ হয় না
১০ রিকশা প্রথমে কেমন ছিল?
উত্তর: খ) মানুষে হাতে করে টানত
১১ বর্তমানে মানুষ টানা রিকশার বদলে কোন রিকশার চল বেশি?
উত্তর: গ) সাইকেল রিকশা বা ভ্যান রিকশা
১২ জলপথে যাতায়াতের সবচেয়ে আদিম বা পুরোনো যান কোনটি?
উত্তর: খ) গাছের গুঁড়ি বাঁধা ভেলা
১৩ ডিঙি নৌকা চালাতে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: গ) দাঁড় বা লগি
১৪ বাতাসে ভর করে নৌকা চালানোর জন্য কী ব্যবহার করা হতো?
উত্তর: ক) কাপড়ের পাল
১৫ নদীতে যেসব বড়ো লঞ্চ বা স্টিমার চলে, সেগুলি কীসে চলে?
উত্তর: গ) ডিজেলে চলা ইঞ্জিনের সাহায্যে
১৬ বাষ্পচালিত বা স্টিম ইঞ্জিন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: খ) জেমস ওয়াট
১৭ প্রথম দিকে ট্রেনের ইঞ্জিন কী দিয়ে চলত?
উত্তর: গ) কয়লা পুড়িয়ে তৈরি বাষ্পের শক্তিতে
১৮ বর্তমানে বেশিরভাগ ট্রেন কীসে চলে?
উত্তর: খ) বিদ্যুতে বা ডিজেলে
১৯ প্রথম যখন ট্রেন চালু হয়, তখন মানুষ কী করত?
উত্তর: খ) ভয় পেত এবং চড়তে চাইত না
২০ সমাজ থেকে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ কমাতে কোন যানটি খুব সাহায্য করেছিল?
উত্তর: ক) ট্রেন
২১ ট্রেনে ভেদাভেদ কমল কীভাবে?
উত্তর: খ) এক বগিতে সব জাতের ও ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসে যেত বলে
২২ 'পথের পাঁচালী' নামক বিখ্যাত সিনেমাটি কে তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: খ) সত্যজিৎ রায়
২৩ 'পথের পাঁচালী' বইটির লেখক কে?
উত্তর: গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
২৪ 'পথের পাঁচালী' সিনেমায় কোন দুই ভাই-বোন কাশবনের ভেতর দিয়ে ট্রেন দেখতে ছুটেছিল?
উত্তর: খ) অপু ও দুর্গা
২৫ পৃথিবীর প্রথম সিনেমা কী বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: ক) একটি ট্রেন স্টেশনে এসে থামছে
২৬ প্রথম সিনেমা দেখে হলের লোকেরা চমকে গিয়েছিল কেন?
উত্তর: খ) তারা ভেবেছিল ট্রেনটা বুঝি পর্দা ভেঙে গায়ের ওপর উঠে আসবে
২৭ আমাদের দেশে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন কবে চালু হয়?
উত্তর: খ) ১৮৫৩ সালে
২৮ ভারতের প্রথম ট্রেন কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত চলেছিল?
উত্তর: গ) বোম্বে (মুম্বাই) থেকে থানে
২৯ পশ্চিমবঙ্গে (তৎকালীন বাংলায়) প্রথম ট্রেন কবে চালু হয়?
উত্তর: খ) ১৮৫৪ সালে
৩০ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ট্রেন কোথা থেকে কোথায় চলেছিল?
উত্তর: ক) হাওড়া থেকে হুগলি
৩১ পাতাল রেল বা মেট্রো রেল প্রথম কোথায় চালু হয়?
উত্তর: খ) কলকাতায়
৩২ কলকাতায় মেট্রো রেল কত সালে চালু হয়?
উত্তর: গ) ১৯৮৪ সালে
৩৩ আকাশে ওড়ার জন্য মানুষ প্রথম কী তৈরি করেছিল?
উত্তর: খ) গরম হাওয়ার বেলুন (Hot Air Balloon)
৩৪ প্রথম সফল এরোপ্লেন কারা তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: খ) রাইট ভ্রাতৃদ্বয় (Wright Brothers)
৩৫ হেলিকপ্টারের বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: খ) এটি আকাশে সোজা ওপরের দিকে উঠতে পারে এবং খুব কম জায়গায় নামতে পারে
৩৬ ট্রাম চালানোর জন্য রাস্তায় কী পাতা থাকে?
উত্তর: ক) লোহার লাইন বা ট্রামলাইন
৩৭ বর্তমানে কলকাতা শহরে ট্রাম কীসের সাহায্যে চলে?
উত্তর: গ) বিদ্যুতের সাহায্যে
৩৮ বাসের তুলনায় ট্রামের একটি বড়ো সুবিধা কী?
উত্তর: খ) ট্রাম বিদ্যুতে চলে বলে বায়ুদূষণ হয় না
৩৯ সাইকেল রিকশার একটি অসুবিধা কী?
উত্তর: গ) চালকের খুব শারীরিক পরিশ্রম হয়
৪০ গোরুর গাড়িতে দূরে যাওয়া কঠিন ছিল কেন?
উত্তর: খ) গোরুর গাড়ির গতি খুব ধীর ছিল এবং অনেক সময় লাগত বলে
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ বাস, ট্রেন আবিষ্কারের আগে মানুষ কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেত?
উত্তর: বাস বা ট্রেন আবিষ্কারের আগে মানুষ হেঁটে, ঘোড়ার পিঠে, গোরুর গাড়িতে অথবা পালকিতে চেপে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করত।
২ পালকি কী?
উত্তর: পালকি হলো কাঠের তৈরি ছোটো বাক্সের মতো একটি যান, যা একটি লম্বা বাঁশের দণ্ডের সাহায্যে চারজন বেয়ারা কাঁধে করে বইত। এর ভেতরে এক বা দুজন মানুষ বসতে পারত।
৩ পালকির বেয়ারা কারা?
উত্তর: পালকি একটি ভারী যান। চারজন শক্তিশালী মানুষ এই পালকিকে কাঁধে তুলে নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বয়ে নিয়ে যেতেন, তাদের পালকির বেয়ারা বলা হতো। তারা চলার সময় 'হুঁম না, হুঁম না' করে গান গাইত।
৪ কলকাতায় আগেকার দিনে ট্রাম কীভাবে চলত?
উত্তর: অনেক আগে কলকাতায় বিদ্যুৎ ছিল না, তখন ঘোড়ায় টেনে ট্রাম গাড়িগুলোকে লোহার লাইনের ওপর দিয়ে নিয়ে যেত। একে ঘোড়ায় টানা ট্রাম বলা হতো।
৫ চাকার আবিষ্কার মানুষের কী সুবিধা করেছিল?
উত্তর: চাকা আবিষ্কারের ফলে মানুষের যাতায়াত এবং ভারী মালপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক হয়ে উঠেছিল।
৬ প্রথম দিকের গোরুর গাড়ির চাকা কেমন ছিল?
উত্তর: প্রথম দিকের গোরুর গাড়ির চাকা পুরোপুরি কাঠের তৈরি ছিল। এই কাঠের চাকা যাতে পাথুরে রাস্তায় ঘষে তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে না যায়, তাই চাকার বাইরের দিকে লোহার পাত বা বেড়ি পরানো থাকত।
৭ সাইকেলকে পরিবেশবান্ধব যান বলা হয় কেন?
উত্তর: সাইকেল চালানোর জন্য কোনো পেট্রোল বা ডিজেলের মতো জ্বালানি লাগে না। ফলে সাইকেল থেকে কোনো ক্ষতিকারক বিষাক্ত ধোঁয়া বেরোয় না এবং পরিবেশ দূষণ হয় না, তাই সাইকেল হলো পরিবেশবান্ধব যান।
৮ রিকশার বিবর্তন কীভাবে হয়েছে?
উত্তর: প্রথমে মানুষে টানা রিকশা ছিল, যা চালককে হেঁটে বা ছুটে টানতে হতো। পরে মানুষের পরিশ্রম কমাতে তাতে চেইন ও প্যাডেল লাগিয়ে সাইকেল রিকশা বা ভ্যান রিকশা তৈরি হয়। এখন মোটর লাগানো অটো বা টোটো রিকশা বেশি চলে।
৯ জলের সবচেয়ে প্রাচীন বা আদিম যান কোনটি?
উত্তর: জলের সবচেয়ে প্রাচীন যান হলো ভেলা। প্রাচীনকালে মানুষ কয়েকটি গাছের গুঁড়িকে লতা দিয়ে একসঙ্গে বেঁধে এই ভেলা তৈরি করে জলে ভেসে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেত।
১০ ডিঙি নৌকা কীভাবে চালানো হয়?
উত্তর: ডিঙি নৌকা একটি ছোটো নৌকা, যা সাধারণত একজন বা দুজন মাঝি লম্বা বাঁশের লগি বা কাঠের দাঁড় বেয়ে জলে চালায়।
১১ পালতোলা নৌকা কী?
উত্তর: যে নৌকায় মাঝখানে একটি বাঁশ পুঁতে তাতে বড়ো কাপড়ের পর্দা বা 'পাল' টাঙিয়ে দেওয়া হয়, তাকে পালতোলা নৌকা বলে। এটি বাতাসের শক্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, ফলে মাঝিদের পরিশ্রম কম হয়।
১২ স্টিমার বা লঞ্চ কীভাবে চলে?
উত্তর: স্টিমার বা লঞ্চ হলো বড়ো জলযান, যেগুলি চালানোর জন্য দাঁড় বা পালের দরকার হয় না। এগুলো বড়ো ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে জলের ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে চলে।
১৩ বাষ্পচালিত বা স্টিম ইঞ্জিন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত বা স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন, যা পরে ট্রেনের ইঞ্জিন তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা নিয়েছিল।
১৪ ট্রেনের বাষ্পীয় ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করত?
উত্তর: ট্রেনের ইঞ্জিনের ভেতর কয়লা পুড়িয়ে বিশাল পাত্রে জল ফোটানো হতো। সেই ফুটন্ত জলের বাষ্পের প্রচণ্ড চাপকে কাজে লাগিয়ে ট্রেনের চাকা ঘোরানো হতো।
১৫ বর্তমানে ট্রেন কীভাবে চলে?
উত্তর: বর্তমানে কয়লার বাষ্পীয় ইঞ্জিন আর নেই। এখন বেশিরভাগ ট্রেন ওপরের তার থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনের সাহায্যে বা ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে দ্রুত গতিতে চলে।
১৬ ভারতে প্রথম ট্রেন কবে এবং কোথায় চলেছিল?
উত্তর: ভারতে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন ১৮৫৩ সালে বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) থেকে থানে পর্যন্ত চলেছিল।
১৭ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ট্রেন কবে এবং কোথায় চলেছিল?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে (তৎকালীন বাংলায়) প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত চলেছিল।
১৮ প্রথম প্রথম মানুষ ট্রেনে চড়তে চাইত না কেন?
উত্তর: ট্রেন একটি নতুন ও বিশাল যন্ত্র ছিল, যা থেকে প্রচুর ধোঁয়া ও বিকট শব্দ বেরোত। কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই ভয়ে মানুষ প্রথম দিকে ট্রেনে চড়তে ভয় পেত।
১৯ সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত সিনেমাটির নাম কী, যেখানে ট্রেন দেখানো হয়েছিল?
উত্তর: সত্যজিৎ রায়ের তৈরি সেই বিখ্যাত সিনেমাটির নাম হলো 'পথের পাঁচালী'। এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।
২০ 'পথের পাঁচালী' সিনেমায় ট্রেনের দৃশ্যটি কেমন ছিল?
উত্তর: 'পথের পাঁচালী' সিনেমায় অপু এবং তার দিদি দুর্গা জীবনে প্রথমবার ট্রেন দেখার জন্য সাদা কাশবনের ভেতর দিয়ে দৌড়ে রেললাইনের ধারে গিয়েছিল। এটি একটি অত্যন্ত বিখ্যাত দৃশ্য।
২১ পৃথিবীর প্রথম সিনেমা কী বিষয় নিয়ে ছিল?
উত্তর: পৃথিবীর একেবারে প্রথম সিনেমাটি ছিল একটি ট্রেন স্টেশনে এসে থামছে— এই দৃশ্য নিয়ে। এটি দেখে দর্শকরা ভয়ে চমকে গিয়েছিল।
২২ প্রথম সিনেমা দেখে দর্শকরা ভয় পেয়েছিল কেন?
উত্তর: আগে মানুষ কখনো সিনেমা দেখেনি। তাই পর্দায় বিশাল একটি ট্রেনকে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে তারা ভেবেছিল যে ট্রেনটি বুঝি পর্দা ভেঙে তাদের গায়ের ওপর উঠে আসবে।
২৩ মেট্রো রেল বা পাতাল রেল কী?
উত্তর: বড়ো শহরের যানজট এড়াতে মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কেটে যে ট্রেন চালানো হয়, তাকে মেট্রো রেল বা পাতাল রেল বলা হয়। এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুতে চলে।
২৪ ভারতে প্রথম মেট্রো রেল কোথায় ও কবে চালু হয়?
উত্তর: ভারতে প্রথম মেট্রো রেল ১৯৮৪ সালে আমাদের কলকাতা শহরে চালু হয়েছিল।
২৫ এরোপ্লেন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর: রাইট ভ্রাতৃদ্বয় (Wright Brothers) অর্থাৎ অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট প্রথম সফল ইঞ্জিনচালিত এরোপ্লেন তৈরি করেছিলেন।
২৬ হেলিকপ্টার এরোপ্লেনের চেয়ে আলাদা কেন?
উত্তর: এরোপ্লেন ওড়ার জন্য লম্বা রানওয়ে বা রাস্তার দরকার হয়। কিন্তু হেলিকপ্টারের মাথায় বড়ো পাখা থাকায় তা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সোজা আকাশের দিকে উঠতে পারে এবং খুব ছোটো জায়গাতেও নামতে পারে।
২৭ ট্রাম বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ট্রাম হলো একধরনের বিশেষ গণপরিবহণ, যা রাস্তার মাঝখানে পাতা লোহার লাইনের ওপর দিয়ে ধীর গতিতে চলে। বর্তমানে এটি বিদ্যুতের সাহায্যে চলে।
২৮ বাসের ধোঁয়ায় কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: বাস ডিজেলে চলে। বাসের ইঞ্জিন থেকে বেরোনো কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড থাকে, যা মারাত্মক বায়ুদূষণ ঘটায় এবং মানুষের শ্বাসকষ্টের কারণ হয়।
২৯ ট্রেন কীভাবে সমাজের ভেদাভেদ দূর করতে সাহায্য করেছিল?
উত্তর: ট্রেনে চড়ার সময় কোনো জাতপাত বা ধর্মের বাছ-বিচার করা হতো না। একটা বগিতে সব ধর্মের ও সব স্তরের মানুষ একসঙ্গে পাশাপাশি বসে যাতায়াত করত, ফলে মানুষের মধ্যে মেলামেশা বাড়ে এবং ভেদাভেদ কমে যায়।
৩০ সাইকেল রিকশার সুবিধা কী?
উত্তর: সাইকেল রিকশায় প্যাডেল এবং চেইন থাকায় রিকশাচালকের পরিশ্রম অনেক কম হয়। এছাড়া এটিতে কোনো জ্বালানি লাগে না বলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ চাকার আবিষ্কার কীভাবে পরিবহণ ব্যবস্থাকে বদলে দিল তা বিস্তারিত লেখো।
উত্তর:
চাকার আবিষ্কার হলো মানবসভ্যতার এবং পরিবহণ ব্যবস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো ও যুগান্তকারী আবিষ্কার।
চাকা আবিষ্কারের আগে মানুষকে পায়ে হেঁটে অনেক দূরে যেতে হতো এবং ভারী মালপত্র পিঠে বা পশুর পিঠে চাপিয়ে বইতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু গোল চাকা আবিষ্কার হওয়ার পর মানুষ গাছের গুঁড়ি বা কাঠ দিয়ে গাড়ি তৈরি করে তাতে চাকা লাগিয়ে নিল। চাকা মাটিতে সহজে গড়িয়ে যায় বলে খুব কম পরিশ্রমে অনেক ভারী জিনিস দূরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো। গোরু বা ঘোড়া দিয়ে এই গাড়ি টানিয়ে যাতায়াত অনেক দ্রুত ও আরামদায়ক হলো। এই চাকার ধারণার ওপর ভিত্তি করেই আজকের আধুনিক ট্রেন, বাস ও গাড়ি তৈরি হয়েছে।
চাকা আবিষ্কারের আগে মানুষকে পায়ে হেঁটে অনেক দূরে যেতে হতো এবং ভারী মালপত্র পিঠে বা পশুর পিঠে চাপিয়ে বইতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু গোল চাকা আবিষ্কার হওয়ার পর মানুষ গাছের গুঁড়ি বা কাঠ দিয়ে গাড়ি তৈরি করে তাতে চাকা লাগিয়ে নিল। চাকা মাটিতে সহজে গড়িয়ে যায় বলে খুব কম পরিশ্রমে অনেক ভারী জিনিস দূরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো। গোরু বা ঘোড়া দিয়ে এই গাড়ি টানিয়ে যাতায়াত অনেক দ্রুত ও আরামদায়ক হলো। এই চাকার ধারণার ওপর ভিত্তি করেই আজকের আধুনিক ট্রেন, বাস ও গাড়ি তৈরি হয়েছে।
২ প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত জলপথের পরিবহণ কীভাবে উন্নত হয়েছে?
উত্তর:
জলপথের পরিবহণ ধীরে ধীরে অনেক উন্নত হয়েছে:
১) ভেলা: শুরুতে মানুষ জলে ভাসার জন্য গাছের গুঁড়ি লতা দিয়ে বেঁধে ভেলা তৈরি করত।
২) ডিঙি নৌকা: পরে গাছের গুঁড়ি খোদাই করে ডিঙি নৌকা তৈরি হলো, যা কাঠের দাঁড় বা বাঁশের লগি দিয়ে চালানো হতো। এতে খাটুনি বেশি ছিল।
৩) পালতোলা নৌকা: পরিশ্রম কমাতে মানুষ নৌকায় কাপড় টাঙিয়ে 'পাল' তৈরি করল, যা বাতাসের শক্তিতে নৌকাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেত।
৪) ইঞ্জিনচালিত জলযান: সবশেষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতিতে এল স্টিম ইঞ্জিন এবং ডিজেল ইঞ্জিন। বর্তমানে এই ইঞ্জিনের সাহায্যেই বড়ো বড়ো লঞ্চ, স্টিমার ও বিশাল জাহাজ সমুদ্রে ও নদীতে দ্রুত গতিতে যাতায়াত করছে।
জলপথের পরিবহণ ধীরে ধীরে অনেক উন্নত হয়েছে:
১) ভেলা: শুরুতে মানুষ জলে ভাসার জন্য গাছের গুঁড়ি লতা দিয়ে বেঁধে ভেলা তৈরি করত।
২) ডিঙি নৌকা: পরে গাছের গুঁড়ি খোদাই করে ডিঙি নৌকা তৈরি হলো, যা কাঠের দাঁড় বা বাঁশের লগি দিয়ে চালানো হতো। এতে খাটুনি বেশি ছিল।
৩) পালতোলা নৌকা: পরিশ্রম কমাতে মানুষ নৌকায় কাপড় টাঙিয়ে 'পাল' তৈরি করল, যা বাতাসের শক্তিতে নৌকাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেত।
৪) ইঞ্জিনচালিত জলযান: সবশেষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতিতে এল স্টিম ইঞ্জিন এবং ডিজেল ইঞ্জিন। বর্তমানে এই ইঞ্জিনের সাহায্যেই বড়ো বড়ো লঞ্চ, স্টিমার ও বিশাল জাহাজ সমুদ্রে ও নদীতে দ্রুত গতিতে যাতায়াত করছে।
৩ সাইকেলকে পরিবেশবান্ধব যান বলা হয় কেন? আমাদের বেশি করে সাইকেল চালানো উচিত কেন?
উত্তর:
সাইকেল चलाने के জন্য কোনো পেট্রোল বা ডিজেলের মতো খনিজ জ্বালানি লাগে না, এটি মানুষের পেশিশক্তিতে চলে। জ্বালানি না পোড়ার কারণে সাইকেল থেকে কোনো ধোঁয়া বা বিষাক্ত গ্যাস বেরোয় না এবং এতে কোনো ইঞ্জিনের শব্দও হয় না। তাই সাইকেল বাতাস ও শব্দ কোনোটিই দূষিত করে না বলে একে পরিবেশবান্ধব যান বলা হয়।
সাইকেল চালানোর কারণ: আমাদের বেশি করে সাইকেল চালানো উচিত কারণ এটি পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে। সাইকেল চালালে শরীরের ভালো ব্যায়াম হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাছাড়া এতে খনিজ তেল বা জ্বালানির সাশ্রয় হয়।
সাইকেল चलाने के জন্য কোনো পেট্রোল বা ডিজেলের মতো খনিজ জ্বালানি লাগে না, এটি মানুষের পেশিশক্তিতে চলে। জ্বালানি না পোড়ার কারণে সাইকেল থেকে কোনো ধোঁয়া বা বিষাক্ত গ্যাস বেরোয় না এবং এতে কোনো ইঞ্জিনের শব্দও হয় না। তাই সাইকেল বাতাস ও শব্দ কোনোটিই দূষিত করে না বলে একে পরিবেশবান্ধব যান বলা হয়।
সাইকেল চালানোর কারণ: আমাদের বেশি করে সাইকেল চালানো উচিত কারণ এটি পরিবেশকে পরিষ্কার রাখে। সাইকেল চালালে শরীরের ভালো ব্যায়াম হয় এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাছাড়া এতে খনিজ তেল বা জ্বালানির সাশ্রয় হয়।
৪ বাষ্পচালিত ইঞ্জিন থেকে বর্তমানের ইলেকট্রিক ট্রেনের বিবর্তন আলোচনা করো।
উত্তর:
ট্রেন বা রেলগাড়ির ইঞ্জিন সময়ের সাথে সাথে অনেক উন্নত হয়েছে:
১) বাষ্পীয় ইঞ্জিন: শুরুতে জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চলত। ইঞ্জিনে প্রচুর কয়লা পুড়িয়ে জল ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হতো এবং সেই বাষ্পের শক্তিতে চাকা ঘুরত। এতে প্রচুর কালো ধোঁয়া ও দূষণ হতো।
২) ডিজেল ইঞ্জিন: এরপর এল ডিজেল ইঞ্জিন। এতে কয়লার বদলে ডিজেল তেল পুড়িয়ে ট্রেন চালানো শুরু হলো। এটি আগের চেয়ে দ্রুতগামী হলেও এতেও ধোঁয়া হতো।
৩) ইলেকট্রিক ইঞ্জিন: বর্তমানে প্রযুক্তির চরম উন্নতিতে তৈরি হয়েছে ইলেকট্রিক ট্রেন। এই ট্রেন রেললাইনের ওপরে থাকা তার থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে চলে। এটি সবচেয়ে দ্রুতগামী এবং এর থেকে কোনো ধোঁয়া বেরোয় না বলে পরিবেশ দূষণ হয় না।
ট্রেন বা রেলগাড়ির ইঞ্জিন সময়ের সাথে সাথে অনেক উন্নত হয়েছে:
১) বাষ্পীয় ইঞ্জিন: শুরুতে জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চলত। ইঞ্জিনে প্রচুর কয়লা পুড়িয়ে জল ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হতো এবং সেই বাষ্পের শক্তিতে চাকা ঘুরত। এতে প্রচুর কালো ধোঁয়া ও দূষণ হতো।
২) ডিজেল ইঞ্জিন: এরপর এল ডিজেল ইঞ্জিন। এতে কয়লার বদলে ডিজেল তেল পুড়িয়ে ট্রেন চালানো শুরু হলো। এটি আগের চেয়ে দ্রুতগামী হলেও এতেও ধোঁয়া হতো।
৩) ইলেকট্রিক ইঞ্জিন: বর্তমানে প্রযুক্তির চরম উন্নতিতে তৈরি হয়েছে ইলেকট্রিক ট্রেন। এই ট্রেন রেললাইনের ওপরে থাকা তার থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে চলে। এটি সবচেয়ে দ্রুতগামী এবং এর থেকে কোনো ধোঁয়া বেরোয় না বলে পরিবেশ দূষণ হয় না।
৫ ট্রেন কীভাবে মানুষের মধ্যে মেলামেশা বাড়াতে ও সমাজের ভেদাভেদ কমাতে সাহায্য করেছিল?
উত্তর:
ট্রেন আবিষ্কারের আগে মানুষ সাধারণত নিজের গ্রাম বা শহরের গণ্ডির মধ্যেই আবদ্ধ থাকত। কিন্তু ট্রেন চালু হওয়ার পর খুব কম খরচে এবং কম সময়ে মানুষ এক অঞ্চল থেকে অন্য বহু দূরবর্তী অঞ্চলে যাতায়াত করতে শুরু করল। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে মেলামেশা বাড়ল।
সবচেয়ে বড়ো কথা, আগেকার দিনে সমাজে উঁচু-নিচু জাতের বা ধর্মের প্রচুর ভেদাভেদ ছিল। কিন্তু ট্রেনের বগিতে চড়ার সময় কোনো বাছ-বিচার চলত না। একই বগিতে সব ধর্ম ও জাতের মানুষকে পাশাপাশি বসে যাত্রা করতে হতো। এর ফলে ধীরে ধীরে মানুষের মন থেকে সামাজিক ভেদাভেদ ও অস্পৃশ্যতা দূর হতে শুরু করে।
ট্রেন আবিষ্কারের আগে মানুষ সাধারণত নিজের গ্রাম বা শহরের গণ্ডির মধ্যেই আবদ্ধ থাকত। কিন্তু ট্রেন চালু হওয়ার পর খুব কম খরচে এবং কম সময়ে মানুষ এক অঞ্চল থেকে অন্য বহু দূরবর্তী অঞ্চলে যাতায়াত করতে শুরু করল। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে মেলামেশা বাড়ল।
সবচেয়ে বড়ো কথা, আগেকার দিনে সমাজে উঁচু-নিচু জাতের বা ধর্মের প্রচুর ভেদাভেদ ছিল। কিন্তু ট্রেনের বগিতে চড়ার সময় কোনো বাছ-বিচার চলত না। একই বগিতে সব ধর্ম ও জাতের মানুষকে পাশাপাশি বসে যাত্রা করতে হতো। এর ফলে ধীরে ধীরে মানুষের মন থেকে সামাজিক ভেদাভেদ ও অস্পৃশ্যতা দূর হতে শুরু করে।
৬ 'পথের পাঁচালী' সিনেমা এবং ট্রেনের সাথে তার সম্পর্ক কী?
উত্তর:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কালজয়ী উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় একটি সিনেমা তৈরি করেছিলেন। এই সিনেমায় ট্রেনকে কেন্দ্র করে একটি আইকনিক বা অবিস্মরণীয় দৃশ্য রয়েছে।
গ্রামের দুই ছোট্ট ভাইবোন অপু এবং দুর্গা জীবনে কোনোদিন রেলগাড়ি দেখেনি। তারা শুধু ট্রেনের আওয়াজ শুনেছিল। একদিন রেলগাড়ি দেখার অদম্য কৌতূহলে তারা গ্রাম ছাড়িয়ে সাদা কাশবনের ভেতর দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে রেললাইনের ধারে পৌঁছায় এবং বিশাল একটি কালো ধোঁয়া ওঠা ট্রেনকে সগর্জনে চলে যেতে দেখে। গ্রামের মানুষের কাছে আধুনিক বিজ্ঞানের এই বিশাল যন্ত্রটি যে কত বড়ো বিস্ময় ছিল, তা এই দৃশ্যে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কালজয়ী উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় একটি সিনেমা তৈরি করেছিলেন। এই সিনেমায় ট্রেনকে কেন্দ্র করে একটি আইকনিক বা অবিস্মরণীয় দৃশ্য রয়েছে।
গ্রামের দুই ছোট্ট ভাইবোন অপু এবং দুর্গা জীবনে কোনোদিন রেলগাড়ি দেখেনি। তারা শুধু ট্রেনের আওয়াজ শুনেছিল। একদিন রেলগাড়ি দেখার অদম্য কৌতূহলে তারা গ্রাম ছাড়িয়ে সাদা কাশবনের ভেতর দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে রেললাইনের ধারে পৌঁছায় এবং বিশাল একটি কালো ধোঁয়া ওঠা ট্রেনকে সগর্জনে চলে যেতে দেখে। গ্রামের মানুষের কাছে আধুনিক বিজ্ঞানের এই বিশাল যন্ত্রটি যে কত বড়ো বিস্ময় ছিল, তা এই দৃশ্যে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
৭ কলকাতা শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় ট্রাম এবং মেট্রো রেলের গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর:
কলকাতা শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় ট্রাম ও মেট্রো রেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১) ট্রাম: কলকাতার রাস্তায় লোহার লাইনের ওপর দিয়ে চলা ধীর গতির যান হলো ট্রাম। প্রথম দিকে এটি ঘোড়ায় টানা হলেও এখন বিদ্যুতে চলে। বাসের মতো এর থেকে কালো ধোঁয়া বেরোয় না, তাই কলকাতার বায়ুদূষণ রোধে ট্রাম খুব ভালো একটি পরিবেশবান্ধব যান।
২) মেট্রো রেল: ১৯৮৪ সালে কলকাতাতেই ভারতের প্রথম মেট্রো বা পাতাল রেল চালু হয়। কলকাতার রাস্তায় প্রচুর জ্যাম বা যানজট থাকে। মেট্রো রেল মাটির তলা দিয়ে বিদ্যুতের সাহায্যে দ্রুত গতিতে চলে বলে সাধারণ মানুষ যানজট এড়িয়ে খুব কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
কলকাতা শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় ট্রাম ও মেট্রো রেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১) ট্রাম: কলকাতার রাস্তায় লোহার লাইনের ওপর দিয়ে চলা ধীর গতির যান হলো ট্রাম। প্রথম দিকে এটি ঘোড়ায় টানা হলেও এখন বিদ্যুতে চলে। বাসের মতো এর থেকে কালো ধোঁয়া বেরোয় না, তাই কলকাতার বায়ুদূষণ রোধে ট্রাম খুব ভালো একটি পরিবেশবান্ধব যান।
২) মেট্রো রেল: ১৯৮৪ সালে কলকাতাতেই ভারতের প্রথম মেট্রো বা পাতাল রেল চালু হয়। কলকাতার রাস্তায় প্রচুর জ্যাম বা যানজট থাকে। মেট্রো রেল মাটির তলা দিয়ে বিদ্যুতের সাহায্যে দ্রুত গতিতে চলে বলে সাধারণ মানুষ যানজট এড়িয়ে খুব কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
৮ রিকশার ইতিহাস ও বিবর্তন সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর:
রিকশার ইতিহাস বেশ পুরোনো এবং সময়ের সাথে এর অনেক পরিবর্তন হয়েছে:
১) হাতে টানা রিকশা: শুরুতে রিকশা ছিল দু-চাকার একটি গাড়ি, যার সামনে দুটো হাতল থাকত। রিকশাচালক সেই হাতল ধরে নিজের গায়ের জোরে হেঁটে বা ছুটে যাত্রীদের বয়ে নিয়ে যেত। এতে চালকের খুব কষ্ট হতো। কলকাতাতে এখনও কিছু হাতে টানা রিকশা দেখা যায়।
২) সাইকেল রিকশা: মানুষের এই অমানুষিক পরিশ্রম কমানোর জন্য রিকশার সাথে সাইকেলের চেইন ও প্যাডেল জুড়ে দেওয়া হলো। তৈরি হলো সাইকেল রিকশা বা ভ্যান রিকশা। এতে বসে প্যাডেল করলেই রিকশা চলে।
৩) মোটর রিকশা বা টোটো: বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতিতে রিকশায় ব্যাটারি বা মোটর লাগানো হয়েছে (যেমন অটো বা টোটো), যাতে চালককে আর কোনো শারীরিক পরিশ্রমই করতে হয় না।
রিকশার ইতিহাস বেশ পুরোনো এবং সময়ের সাথে এর অনেক পরিবর্তন হয়েছে:
১) হাতে টানা রিকশা: শুরুতে রিকশা ছিল দু-চাকার একটি গাড়ি, যার সামনে দুটো হাতল থাকত। রিকশাচালক সেই হাতল ধরে নিজের গায়ের জোরে হেঁটে বা ছুটে যাত্রীদের বয়ে নিয়ে যেত। এতে চালকের খুব কষ্ট হতো। কলকাতাতে এখনও কিছু হাতে টানা রিকশা দেখা যায়।
২) সাইকেল রিকশা: মানুষের এই অমানুষিক পরিশ্রম কমানোর জন্য রিকশার সাথে সাইকেলের চেইন ও প্যাডেল জুড়ে দেওয়া হলো। তৈরি হলো সাইকেল রিকশা বা ভ্যান রিকশা। এতে বসে প্যাডেল করলেই রিকশা চলে।
৩) মোটর রিকশা বা টোটো: বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতিতে রিকশায় ব্যাটারি বা মোটর লাগানো হয়েছে (যেমন অটো বা টোটো), যাতে চালককে আর কোনো শারীরিক পরিশ্রমই করতে হয় না।
৯ পৃথিবীর প্রথম সিনেমা তৈরি হওয়ার পেছনের গল্পটি কী? মানুষ তা দেখে ভয় পেয়েছিল কেন?
উত্তর:
আজ থেকে বহু বছর আগে, যখন সদ্য সিনেমা বা চলচিত্র আবিষ্কার হয়েছে, তখন পৃথিবীর একেবারে প্রথম সিনেমাটি তৈরি হয়েছিল একটি ট্রেন নিয়ে। ল্যুমিয়ের ব্রাদার্স (Lumiere Brothers) নামক দুই ভাই একটি স্টেশনে ট্রেনের ঢুকে আসার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।
যখন অন্ধকার হলে বড়ো পর্দায় সেই সিনেমাটি দেখানো হলো, তখন দর্শকরা তা দেখে আতঙ্কে চমকে উঠেছিল। কারণ মানুষ আগে কখনো চলমান ছবি দেখেনি। পর্দায় বিশাল আকারের একটি ট্রেনকে সোজা সামনের দিকে ধেয়ে আসতে দেখে তারা ভেবেছিল যে, সত্যি সত্যিই ট্রেনটি বুঝি পর্দা ভেঙে তাদের গায়ের ওপর উঠে আসবে।
আজ থেকে বহু বছর আগে, যখন সদ্য সিনেমা বা চলচিত্র আবিষ্কার হয়েছে, তখন পৃথিবীর একেবারে প্রথম সিনেমাটি তৈরি হয়েছিল একটি ট্রেন নিয়ে। ল্যুমিয়ের ব্রাদার্স (Lumiere Brothers) নামক দুই ভাই একটি স্টেশনে ট্রেনের ঢুকে আসার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।
যখন অন্ধকার হলে বড়ো পর্দায় সেই সিনেমাটি দেখানো হলো, তখন দর্শকরা তা দেখে আতঙ্কে চমকে উঠেছিল। কারণ মানুষ আগে কখনো চলমান ছবি দেখেনি। পর্দায় বিশাল আকারের একটি ট্রেনকে সোজা সামনের দিকে ধেয়ে আসতে দেখে তারা ভেবেছিল যে, সত্যি সত্যিই ট্রেনটি বুঝি পর্দা ভেঙে তাদের গায়ের ওপর উঠে আসবে।
১০ আকাশে ওড়ার জন্য মানুষের চেষ্টার বিবর্তন সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
পাখিদের আকাশে উড়তে দেখে মানুষেরও আকাশে ওড়ার সাধ জাগে।
১) গরম হাওয়ার বেলুন: প্রথমে মানুষ একটি বিশাল বেলুনের ভেতর আগুন জ্বেলে গরম হাওয়া ভরে দেয়। গরম হাওয়া হালকা হওয়ায় সেই বেলুন (Hot Air Balloon) মানুষকে নিয়ে আকাশে ভাসতে শুরু করে।
২) এরোপ্লেন: এরপর অনেক গবেষণার পর রাইট ভ্রাতৃদ্বয় (Wright Brothers) প্রথম সফল ইঞ্জিনচালিত এরোপ্লেন তৈরি করেন, যা আকাশে বহুদূর উড়তে পারত।
৩) হেলিকপ্টার ও রকেট: এরপর তৈরি হয় হেলিকপ্টার, যা ডানার বদলে মাথার ওপরের বড়ো পাখার সাহায্যে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সোজা আকাশে উড়তে পারে। বর্তমানে রকেটের সাহায্যে মানুষ আকাশ ছাড়িয়ে মহাকাশেও পৌঁছে গেছে।
পাখিদের আকাশে উড়তে দেখে মানুষেরও আকাশে ওড়ার সাধ জাগে।
১) গরম হাওয়ার বেলুন: প্রথমে মানুষ একটি বিশাল বেলুনের ভেতর আগুন জ্বেলে গরম হাওয়া ভরে দেয়। গরম হাওয়া হালকা হওয়ায় সেই বেলুন (Hot Air Balloon) মানুষকে নিয়ে আকাশে ভাসতে শুরু করে।
২) এরোপ্লেন: এরপর অনেক গবেষণার পর রাইট ভ্রাতৃদ্বয় (Wright Brothers) প্রথম সফল ইঞ্জিনচালিত এরোপ্লেন তৈরি করেন, যা আকাশে বহুদূর উড়তে পারত।
৩) হেলিকপ্টার ও রকেট: এরপর তৈরি হয় হেলিকপ্টার, যা ডানার বদলে মাথার ওপরের বড়ো পাখার সাহায্যে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সোজা আকাশে উড়তে পারে। বর্তমানে রকেটের সাহায্যে মানুষ আকাশ ছাড়িয়ে মহাকাশেও পৌঁছে গেছে।
Sponsored Links