অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির পরিবেশ ও আকাশ অধ্যায়ে আকাশের বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক, সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ, উল্কা, ধূমকেতু এবং নক্ষত্রমণ্ডল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. গ্রহণ: দিনের বেলা চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এলে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না, একে সূর্যগ্রহণ বলে। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে তাকে পূর্ণগ্রাস এবং কিছুটা ঢাকলে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে। রাতের বেলা পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়লে চন্দ্রগ্রহণ হয়।
২. উল্কা বা খসে পড়া তারা: রাতের আকাশে হঠাৎ আলোর রেখা দেখা যায়, এদের উল্কা বলে। এগুলো আসলে মহাকাশে ভেসে বেড়ানো পাথরের টুকরো, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে বাতাসের ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
৩. ধূমকেতু: বরফ জমা পাহাড়ের মতো কিছু জ্যোতিষ্ক আকাশে ছুটে বেড়ায়, যা সূর্যের কাছাকাছি এলে ঝাঁটার মতো লেজ তৈরি হয়, এদের ধূমকেতু বলে। ১৯৯৪ সালে শ্যুমেকার-লেভি নামক একটি ধূমকেতু বৃহস্পতি গ্রহের ওপর আছড়ে পড়েছিল।
৪. নক্ষত্রমণ্ডল: রাতের আকাশে তারাদের কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করে নানা আকার পাওয়া যায়। যেমন— সপ্তর্ষিমণ্ডল (প্রশ্নবোধক চিহ্নের মতো), কালপুরুষ (শিকারির মতো), ক্যাসিওপিয়া (ইংরেজি W-এর মতো)। উত্তর আকাশে স্থির তারাটি হলো ধ্রুবতারা।
মূল বিষয়বস্তু:
১. গ্রহণ: দিনের বেলা চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এলে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না, একে সূর্যগ্রহণ বলে। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে তাকে পূর্ণগ্রাস এবং কিছুটা ঢাকলে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে। রাতের বেলা পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়লে চন্দ্রগ্রহণ হয়।
২. উল্কা বা খসে পড়া তারা: রাতের আকাশে হঠাৎ আলোর রেখা দেখা যায়, এদের উল্কা বলে। এগুলো আসলে মহাকাশে ভেসে বেড়ানো পাথরের টুকরো, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে বাতাসের ঘর্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
৩. ধূমকেতু: বরফ জমা পাহাড়ের মতো কিছু জ্যোতিষ্ক আকাশে ছুটে বেড়ায়, যা সূর্যের কাছাকাছি এলে ঝাঁটার মতো লেজ তৈরি হয়, এদের ধূমকেতু বলে। ১৯৯৪ সালে শ্যুমেকার-লেভি নামক একটি ধূমকেতু বৃহস্পতি গ্রহের ওপর আছড়ে পড়েছিল।
৪. নক্ষত্রমণ্ডল: রাতের আকাশে তারাদের কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করে নানা আকার পাওয়া যায়। যেমন— সপ্তর্ষিমণ্ডল (প্রশ্নবোধক চিহ্নের মতো), কালপুরুষ (শিকারির মতো), ক্যাসিওপিয়া (ইংরেজি W-এর মতো)। উত্তর আকাশে স্থির তারাটি হলো ধ্রুবতারা।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ দিনদুপুরে হঠাৎ করে সূর্য ঢাকা পড়লে তাকে কী বলে?
উত্তর: খ) সূর্যগ্রহণ
২ সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর ওপর কার ছায়া পড়ে?
উত্তর: ক) চাঁদের ছায়া
৩ সূর্যগ্রহণের সময় কে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে?
উত্তর: গ) চাঁদ
৪ চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়, তখন তাকে কী বলে?
উত্তর: খ) পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
৫ চাঁদ যখন সূর্যের কিছুটা অংশ ঢাকে, তখন তাকে কী বলে?
উত্তর: ক) খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ
৬ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর কার ছায়া পড়ে?
উত্তর: খ) পৃথিবীর
৭ রাতে আকাশের দিকে তাকালে হঠাৎ করে আলোর রেখা ছুটে যেতে দেখা যায়, একে সাধারণ মানুষ কী বলে?
উত্তর: গ) তারা খসা বা খসে পড়া তারা
৮ 'খসে পড়া তারা' আসলে কী?
উত্তর: ক) উল্কা
৯ উল্কা কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর: গ) পাথর বা লোহা দিয়ে
১০ উল্কা পৃথিবীতে পড়ার আগে আকাশে জ্বলে ওঠে কেন?
উত্তর: ক) বায়ুমণ্ডলে বাতাসের ঘর্ষণে
১১ বড়ো উল্কাপিন্ড পৃথিবীতে এসে পড়লে কী হয়?
উত্তর: গ) মাটিতে বড়ো গর্ত হয়ে যায়
১২ সূর্যের কাছাকাছি এলে যাকে দেখতে অনেকটা ঝাঁটার মতো লাগে, তাকে কী বলে?
উত্তর: খ) ধূমকেতু
১৩ ধূমকেতু আসলে কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর: ক) বরফ জমা পাহাড়ের মতো ধুলো আর পাথর দিয়ে
১৪ ১৯৯৪ সালে কোন গ্রহের ওপর একটি ধূমকেতু এসে পড়েছিল?
উত্তর: গ) বৃহস্পতি
১৫ বৃহস্পতি গ্রহের গায়ে আছড়ে পড়া ধূমকেতুটির নাম কী ছিল?
উত্তর: খ) শ্যুমেকার-লেভি
১৬ শ্যুমেকার ও লেভি কারা ছিলেন?
উত্তর: গ) দুজন মহাকাশ বিজ্ঞানী
১৭ মহাকাশ নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণাকে কী বলা হয়?
উত্তর: খ) মহাকাশ বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিজ্ঞান
১৮ রাতের আকাশে উত্তর দিকে যে তারাটি সবসময় স্থির থাকে, তার নাম কী?
উত্তর: ক) ধ্রুবতারা
১৯ আগেকার দিনে নাবিকরা রাতের বেলা সমুদ্রে দিক নির্ণয় করত কীসের সাহায্যে?
উত্তর: খ) ধ্রুবতারার সাহায্যে
২০ কয়েকটি কাছাকাছি থাকা তারাকে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে যে আকার তৈরি হয়, তাকে কী বলে?
উত্তর: গ) নক্ষত্রমণ্ডল
২১ আকাশে প্রশ্নবোধক চিহ্নের (?) মতো দেখতে নক্ষত্রমণ্ডলটির নাম কী?
উত্তর: ক) সপ্তর্ষিমণ্ডল
২২ সপ্তর্ষিমণ্ডলে মোট কয়টি তারা আছে?
উত্তর: গ) ৭টি
২৩ সপ্তর্ষিমণ্ডলের কোন দিকে তাকালে ধ্রুবতারাকে দেখা যায়?
উত্তর: খ) উত্তর দিকে
২৪ আকাশে কোন নক্ষত্রমণ্ডলটিকে দেখতে ঠিক একজন শিকারির মতো লাগে?
উত্তর: খ) কালপুরুষ
২৫ ইংরেজি 'W' বা 'M' অক্ষরের মতো দেখতে নক্ষত্রমণ্ডলটির নাম কী?
উত্তর: ক) ক্যাসিওপিয়া
২৬ একটি ক্রুশ চিহ্নের বা বকের মতো দেখতে নক্ষত্রমণ্ডলকে কী বলে?
উত্তর: গ) বকমণ্ডল
২৭ গ্রহণ দেখার সময় আমাদের চোখের সুরক্ষার জন্য কী করা উচিত?
উত্তর: খ) বিশেষ ফিল্টার বা স্পেশাল চশমা ব্যবহার করা উচিত
২৮ সূর্যের আলো বা গ্রহণ খালি চোখে দেখলে কী হতে পারে?
উত্তর: খ) চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা অন্ধ হয়ে যেতে পারে
২৯ মহাকাশ সম্পর্কে জানার জন্য মানুষ পৃথিবীর বাইরে কী পাঠিয়েছে?
উত্তর: খ) কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশযান
৩০ আকাশে তারা দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
উত্তর: খ) অমাবস্যার মেঘমুক্ত পরিষ্কার রাতে
৩১ চাঁদকে সবচেয়ে ভালোভাবে গোল থালার মতো দেখা যায় কখন?
উত্তর: খ) পূর্ণিমায়
৩২ শ্যুমেকার-লেভি ধূমকেতুটি বৃহস্পতির ওপর আছড়ে পড়ার ফলে কী হয়েছিল?
উত্তর: খ) বৃহস্পতির গায়ে বড়ো বড়ো গর্ত হয়ে যায়
৩৩ উল্কা পৃথিবীর কোনো ক্ষতি করে কি?
উত্তর: খ) বেশিরভাগ উল্কাই বাতাসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তাই ক্ষতি করে না
৩৪ সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাতটি তারা কাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে?
উত্তর: ক) প্রাচীন ভারতের সাতজন ঋষির নামে
৩৫ কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বল তারাটির নাম কী যা শিকারির কাঁধের কাছে থাকে?
উত্তর: খ) আর্দ্রা বা বেটেলগিউস
৩৬ সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ কোনটি?
উত্তর: গ) বৃহস্পতি
৩৭ রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা কোনটি যা কালপুরুষের পায়ের কাছে দেখা যায়?
উত্তর: খ) লুব্ধক (Sirius)
৩৮ আমাদের গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের নাম কী?
উত্তর: ক) আকাশগঙ্গা (Milky Way)
৩৯ কৃত্রিম উপগ্রহগুলি কী কাজে লাগে?
উত্তর: খ) আবহাওয়ার খবর, টিভি সম্প্রচার এবং মোবাইল ফোনের যোগাযোগের জন্য
৪০ সূর্যগ্রহণের ছবি আঁকতে গেলে চাঁদকে কোথায় আঁকতে হবে?
উত্তর: খ) সূর্য ও পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ সূর্যগ্রহণ কাকে বলে?
উত্তর: দিনের বেলায় চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন চাঁদের ছায়ায় সূর্য ঢাকা পড়ে যায়। একেই সূর্যগ্রহণ বলে।
২ চন্দ্রগ্রহণ কাকে বলে?
উত্তর: রাতের বেলায় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ ঢাকা পড়ে যায়। একেই চন্দ্রগ্রহণ বলে।
৩ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ যদি সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয় এবং পৃথিবী থেকে সূর্যকে একদমই দেখা যায় না, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
৪ খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ যদি সূর্যের মাত্র কিছুটা অংশ ঢাকে, তখন তাকে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়।
৫ সূর্যগ্রহণ কোন তিথিতে হয়?
উত্তর: সূর্যগ্রহণ সবসময় অমাবস্যা তিথিতে দিনের বেলায় হয়।
৬ চন্দ্রগ্রহণ কোন তিথিতে হয়?
উত্তর: চন্দ্রগ্রহণ সবসময় পূর্ণিমা তিথিতে রাতের বেলায় হয়।
৭ আমরা কি সরাসরি খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখতে পারি?
উত্তর: না, সরাসরি খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট বা অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ চশমা ব্যবহার করা উচিত।
৮ 'খসে পড়া তারা' আসলে কী?
উত্তর: আকাশে যাদের আমরা 'খসে পড়া তারা' বলি, তারা আসলে কোনো তারা নয়। সেগুলি হলো মহাকাশে ভেসে বেড়ানো উল্কা বা পাথরের টুকরো।
৯ উল্কা কেন জ্বলে ওঠে?
উত্তর: মহাকাশ থেকে উল্কার টুকরোগুলো যখন প্রচণ্ড বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের সাথে প্রবল ঘর্ষণের ফলে তারা জ্বলে ওঠে এবং পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
১০ ধূমকেতু কী?
উত্তর: ধূমকেতু হলো মহাকাশে ভেসে বেড়ানো বরফ, গ্যাস ও ধুলো দিয়ে তৈরি পাহাড়ের মতো জ্যোতিষ্ক। সূর্যের কাছাকাছি এলে গ্যাসীয় উপাদানের কারণে এদের পেছনে ঝাঁটার মতো একটি উজ্জ্বল লেজ তৈরি হয়।
১১ শ্যুমেকার-লেভি কী?
উত্তর: শ্যুমেকার-লেভি হলো একটি বিখ্যাত ধূমকেতুর নাম, যা ১৯৯৪ সালে সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ বৃহস্পতির ওপর আছড়ে পড়েছিল।
১২ শ্যুমেকার ও লেভি কারা ছিলেন?
উত্তর: শ্যুমেকার এবং লেভি ছিলেন দুজন বিখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানী, যাঁরা ওই ধূমকেতুটির বৃহস্পতিতে আছড়ে পড়ার কথা আগে থেকেই হিসাব করে বলেছিলেন। তাঁদের নামেই ধূমকেতুটির নামকরণ হয়।
১৩ মহাকাশ বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিজ্ঞান কাকে বলে?
উত্তর: বিজ্ঞানের যে শাখায় আকাশের গ্রহ, নক্ষত্র, চাঁদ, সূর্য, উল্কা, ধূমকেতু এবং সমগ্র মহাবিশ্ব নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা ও গবেষণা করা হয়, তাকে মহাকাশ বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিজ্ঞান বলে।
১৪ নক্ষত্রমণ্ডল কী?
উত্তর: রাতের আকাশে কাছাকাছি থাকা কয়েকটি উজ্জ্বল তারাকে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে যে বিশেষ আকার বা আকৃতি পাওয়া যায়, তাকে নক্ষত্রমণ্ডল বলে।
১৫ সপ্তর্ষিমণ্ডল দেখতে কেমন এবং এটি কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: সপ্তর্ষিমণ্ডল দেখতে ঠিক একটি বড়ো প্রশ্নবোধক চিহ্নের (?) মতো। এটি রাতের আকাশে উত্তর-পূর্ব দিকে দেখা যায়।
১৬ সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাতটি তারার নাম কাদের অনুসারে রাখা হয়েছে?
উত্তর: সপ্তর্ষিমণ্ডলের সাতটি তারার নাম প্রাচীন ভারতের সাতজন মহান ঋষির নামে রাখা হয়েছে (যেমন- ক্রতু, পুলহ, পুলস্ত্য, অত্রি, অঙ্গিরা, বশিষ্ঠ ও মরীচি)।
১৭ ধ্রুবতারা কী এবং এটি কোন দিকে থাকে?
উত্তর: ধ্রুবতারা হলো একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা রাতের আকাশে সর্বদা উত্তর দিকে স্থির থাকে। সপ্তর্ষিমণ্ডলের সামনের দুটি তারাকে সরলরেখায় বাড়ালে ধ্রুবতারাকে পাওয়া যায়।
১৮ কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডল দেখতে কেমন?
উত্তর: কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলকে আকাশের দিকে তাকালে ঠিক হাতে তির-ধনুক বা তলোয়ার ধরা একজন বিশাল বীর শিকারির মতো দেখতে লাগে।
১৯ ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডল দেখতে কেমন?
উত্তর: ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডলকে আকাশের দিকে তাকালে ইংরেজি 'W' বা উলটানো 'M' অক্ষরের মতো দেখতে লাগে।
২০ বকমণ্ডল দেখতে কেমন?
উত্তর: বকমণ্ডল নক্ষত্রমণ্ডলটিকে দেখতে অনেকটা আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা একটি বক বা ক্রুশ চিহ্নের মতো লাগে।
২১ লুব্ধক কী?
উত্তর: লুব্ধক (Sirius) হলো রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডলের পায়ের কাছাকাছি দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।
২২ অমাবস্যার রাতে তারা দেখা সহজ কেন?
উত্তর: অমাবস্যার রাতে আকাশে চাঁদের আলো থাকে না। চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকায় আকাশের তারাদের আলো খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, তাই তারা দেখা সহজ হয়।
২৩ পূর্ণিমার রাতে বেশি তারা দেখা যায় না কেন?
উত্তর: পূর্ণিমার রাতে আকাশে চাঁদের প্রবল আলো থাকে। চাঁদের সেই উজ্জ্বল আলোর দাপটে আকাশের কম উজ্জ্বল তারাগুলো ঢাকা পড়ে যায়, তাই তাদের ঠিকমতো দেখা যায় না।
২৪ কৃত্রিম উপগ্রহ কাকে বলে?
উত্তর: মানুষ মহাকাশ রকেটের সাহায্যে যেসব বৈজ্ঞানিক যন্ত্র বা স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠিয়েছে, যারা পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।
২৫ গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: নক্ষত্রদের (যেমন- সূর্য) নিজস্ব আলো ও উত্তাপ থাকে এবং তারা স্থির। কিন্তু গ্রহদের (যেমন- পৃথিবী) নিজস্ব কোনো আলো থাকে না, তারা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয় এবং নক্ষত্রের চারদিকে ঘোরে।
২৬ টেলিস্কোপ কী কাজে লাগে?
উত্তর: টেলিস্কোপ হলো এমন একটি যন্ত্র যা দিয়ে মহাকাশের বহু দূরের গ্রহ, তারা, ছায়াপথ এবং চাঁদের গর্তগুলিকে খুব স্পষ্টভাবে এবং অনেক বড়ো করে দেখা যায়।
২৭ বড়ো উল্কাপিন্ড পৃথিবীতে এসে পড়লে কী হতে পারে?
উত্তর: যদি কোনো খুব বড়ো উল্কাপিন্ড বাতাসে পুরোপুরি না পুড়ে পৃথিবীর মাটিতে আছড়ে পড়ে, তবে সেখানে বিশাল গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয় এবং আশপাশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
২৮ বৃহস্পতি গ্রহের ওপর ধূমকেতু পড়ার ফলে কী হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৯৪ সালে শ্যুমেকার-লেভি ধূমকেতুটি টুকরো টুকরো হয়ে বৃহস্পতি গ্রহের ওপর আছড়ে পড়ার ফলে বৃহস্পতির গায়ে পৃথিবীর চেয়েও বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল।
২৯ আমাদের ছায়াপথের নাম কী এবং এটি দেখতে কেমন?
উত্তর: আমাদের ছায়াপথের নাম আকাশগঙ্গা বা Milky Way। পরিষ্কার অন্ধকার রাতে আকাশগঙ্গাকে আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আবছা আলোর নদীর মতো দেখতে লাগে।
৩০ সূর্যগ্রহণের ছবি আঁকতে গেলে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থান কেমন হবে?
উত্তর: সূর্যগ্রহণের ছবি আঁকতে গেলে সূর্য এবং পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে চাঁদকে আঁকতে হবে, যাতে একটি সরলরেখায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ সূর্যগ্রহণ কীভাবে হয় তা নিজের ভাষায় বিস্তারিত বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর:
মহাকাশে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে এবং চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এই ঘোরাঘুরির সময় কোনো এক অমাবস্যা তিথিতে দিনের বেলায় চাঁদ যখন ঘুরতে ঘুরতে সূর্য এবং পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে একটি সরলরেখায় চলে আসে, তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর পথে চাঁদের দ্বারা বাধা পায়। এর ফলে পৃথিবীর ওপর চাঁদের একটি বিশাল ছায়া পড়ে।
পৃথিবীর যে অংশের ওপর চাঁদের এই ছায়া পড়ে, সেখান থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না। মনে হয় যেন দিনদুপুরে সূর্য ঢেকে গেছে বা অন্ধকার হয়ে গেছে। আলো ও ছায়ার এই খেলা বা ঘটনাকেই সূর্যগ্রহণ বলা হয়। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে পূর্ণগ্রাস এবং কিছুটা ঢাকলে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়।
পৃথিবীর যে অংশের ওপর চাঁদের এই ছায়া পড়ে, সেখান থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না। মনে হয় যেন দিনদুপুরে সূর্য ঢেকে গেছে বা অন্ধকার হয়ে গেছে। আলো ও ছায়ার এই খেলা বা ঘটনাকেই সূর্যগ্রহণ বলা হয়। চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিলে পূর্ণগ্রাস এবং কিছুটা ঢাকলে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়।
২ চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে ঘটে তা আলোচনা করো।
উত্তর:
আমরা জানি চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোতেই আলোকিত হয় এবং রাতের বেলায় সেই আলো আমাদের পৃথিবীতে এসে পড়ে।
কিন্তু ঘুরতে ঘুরতে কোনো এক পূর্ণিমা তিথিতে রাতের বেলায় যখন পৃথিবী ঠিক সূর্য এবং চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন সূর্যের আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। পৃথিবী মাঝখানে থাকার ফলে পৃথিবীর বিশাল ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। পৃথিবীর এই ছায়ায় চাঁদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ঢাকা পড়ে গেলে পৃথিবী থেকে চাঁদকে আর দেখা যায় না বা লালচে আবছা দেখায়। এই ঘটনাকেই চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।
আমরা জানি চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোতেই আলোকিত হয় এবং রাতের বেলায় সেই আলো আমাদের পৃথিবীতে এসে পড়ে।
কিন্তু ঘুরতে ঘুরতে কোনো এক পূর্ণিমা তিথিতে রাতের বেলায় যখন পৃথিবী ঠিক সূর্য এবং চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন সূর্যের আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। পৃথিবী মাঝখানে থাকার ফলে পৃথিবীর বিশাল ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। পৃথিবীর এই ছায়ায় চাঁদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ঢাকা পড়ে গেলে পৃথিবী থেকে চাঁদকে আর দেখা যায় না বা লালচে আবছা দেখায়। এই ঘটনাকেই চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।
৩ উল্কা বা 'খসে পড়া তারা' আসলে কী? এরা পৃথিবীতে পড়ার আগে জ্বলে ওঠে কেন?
উত্তর:
উল্কা কী: রাতের আকাশে আমরা অনেক সময় আলোর রেখা ছুটে যেতে দেখি, যেগুলোকে আমরা ভুল করে 'খসে পড়া তারা' বলি। আসলে মহাকাশে তারা খসে পড়ে না। সৌরজগতে গ্রহ-উপগ্রহ ছাড়াও অসংখ্য ছোটো-বড়ো পাথরের টুকরো বা মহাজাগতিক বস্তু ভেসে বেড়ায়। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এরা পৃথিবীর দিকে ছুটে এলে এদের উল্কা বলা হয়।
জ্বলে ওঠার কারণ: এই উল্কাপিন্ডগুলো যখন প্রচণ্ড বেগে (সেকেন্ডে কয়েক কিলোমিটার) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের অণুগুলোর সঙ্গে এদের প্রচণ্ড ঘর্ষণ হয়। এই প্রবল ঘর্ষণের ফলেই উল্কাপিন্ডগুলো জ্বলে ওঠে। বেশিরভাগ ছোটো উল্কাই আকাশে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, খুব কমই বড়ো উল্কা হিসেবে মাটিতে এসে পৌঁছায়।
উল্কা কী: রাতের আকাশে আমরা অনেক সময় আলোর রেখা ছুটে যেতে দেখি, যেগুলোকে আমরা ভুল করে 'খসে পড়া তারা' বলি। আসলে মহাকাশে তারা খসে পড়ে না। সৌরজগতে গ্রহ-উপগ্রহ ছাড়াও অসংখ্য ছোটো-বড়ো পাথরের টুকরো বা মহাজাগতিক বস্তু ভেসে বেড়ায়। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এরা পৃথিবীর দিকে ছুটে এলে এদের উল্কা বলা হয়।
জ্বলে ওঠার কারণ: এই উল্কাপিন্ডগুলো যখন প্রচণ্ড বেগে (সেকেন্ডে কয়েক কিলোমিটার) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের অণুগুলোর সঙ্গে এদের প্রচণ্ড ঘর্ষণ হয়। এই প্রবল ঘর্ষণের ফলেই উল্কাপিন্ডগুলো জ্বলে ওঠে। বেশিরভাগ ছোটো উল্কাই আকাশে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, খুব কমই বড়ো উল্কা হিসেবে মাটিতে এসে পৌঁছায়।
৪ ধূমকেতু কী? শ্যুমেকার-লেভি ধূমকেতু সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর:
ধূমকেতু: ধূমকেতু হলো সৌরজগতের একপ্রকার অদ্ভুত জ্যোতিষ্ক। এরা মূলত বরফ, গ্যাস, ধুলো এবং পাথর দিয়ে তৈরি বিশাল পাহাড়ের মতো হয়। এরা উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে ঘোরে। সূর্যের খুব কাছাকাছি এলে সূর্যের তাপে এদের ভেতরের গ্যাস ও বরফ বাষ্পীভূত হয়ে জ্বলতে থাকে এবং পেছন দিকে ছিটকে গিয়ে একটি বিশাল উজ্জ্বল লেজ তৈরি করে। তখন এদের দেখতে ঠিক ঝাঁটার মতো লাগে।
শ্যুমেকার-লেভি: এটি একটি বিখ্যাত ধূমকেতু। শ্যুমেকার এবং লেভি নামক দুজন বিজ্ঞানী এই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে এই ধূমকেতুটি টুকরো টুকরো হয়ে সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ বৃহস্পতির ওপর আছড়ে পড়েছিল। এর ফলে বৃহস্পতির গায়ে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই এই ঘটনার কথা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
ধূমকেতু: ধূমকেতু হলো সৌরজগতের একপ্রকার অদ্ভুত জ্যোতিষ্ক। এরা মূলত বরফ, গ্যাস, ধুলো এবং পাথর দিয়ে তৈরি বিশাল পাহাড়ের মতো হয়। এরা উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে ঘোরে। সূর্যের খুব কাছাকাছি এলে সূর্যের তাপে এদের ভেতরের গ্যাস ও বরফ বাষ্পীভূত হয়ে জ্বলতে থাকে এবং পেছন দিকে ছিটকে গিয়ে একটি বিশাল উজ্জ্বল লেজ তৈরি করে। তখন এদের দেখতে ঠিক ঝাঁটার মতো লাগে।
শ্যুমেকার-লেভি: এটি একটি বিখ্যাত ধূমকেতু। শ্যুমেকার এবং লেভি নামক দুজন বিজ্ঞানী এই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে এই ধূমকেতুটি টুকরো টুকরো হয়ে সৌরজগতের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ বৃহস্পতির ওপর আছড়ে পড়েছিল। এর ফলে বৃহস্পতির গায়ে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই এই ঘটনার কথা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
৫ নক্ষত্রমণ্ডল কী? সপ্তর্ষিমণ্ডল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর:
নক্ষত্রমণ্ডল: রাতের আকাশে আমরা অসংখ্য তারা দেখতে পাই। এর মধ্যে কাছাকাছি থাকা কয়েকটি উজ্জ্বল তারাকে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে মানুষ বিভিন্ন আকার বা আকৃতি কল্পনা করে নিয়েছে। তারাদের এই এক একটি কাল্পনিক দল বা ঝাঁককে নক্ষত্রমণ্ডল বলা হয়।
সপ্তর্ষিমণ্ডল: রাতের আকাশে উত্তর-পূর্ব দিকে সাতটি উজ্জ্বল তারা নিয়ে গঠিত সবচেয়ে পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডলটি হলো সপ্তর্ষিমণ্ডল। এই সাতটি তারাকে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে এটি দেখতে ঠিক একটি বড়ো প্রশ্নবোধক চিহ্নের (?) মতো লাগে। প্রাচীন ভারতের সাতজন মহান ঋষির (ক্রতু, পুলহ, পুলস্ত্য, অত্রি, অঙ্গিরা, বশিষ্ঠ ও মরীচি) নামানুসারে এই সাতটি তারার নামকরণ করা হয়েছে। এর সামনের দুটি তারাকে সরলরেখায় বাড়ালে ধ্রুবতারাকে পাওয়া যায়।
নক্ষত্রমণ্ডল: রাতের আকাশে আমরা অসংখ্য তারা দেখতে পাই। এর মধ্যে কাছাকাছি থাকা কয়েকটি উজ্জ্বল তারাকে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে মানুষ বিভিন্ন আকার বা আকৃতি কল্পনা করে নিয়েছে। তারাদের এই এক একটি কাল্পনিক দল বা ঝাঁককে নক্ষত্রমণ্ডল বলা হয়।
সপ্তর্ষিমণ্ডল: রাতের আকাশে উত্তর-পূর্ব দিকে সাতটি উজ্জ্বল তারা নিয়ে গঠিত সবচেয়ে পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডলটি হলো সপ্তর্ষিমণ্ডল। এই সাতটি তারাকে কাল্পনিক রেখা দিয়ে যোগ করলে এটি দেখতে ঠিক একটি বড়ো প্রশ্নবোধক চিহ্নের (?) মতো লাগে। প্রাচীন ভারতের সাতজন মহান ঋষির (ক্রতু, পুলহ, পুলস্ত্য, অত্রি, অঙ্গিরা, বশিষ্ঠ ও মরীচি) নামানুসারে এই সাতটি তারার নামকরণ করা হয়েছে। এর সামনের দুটি তারাকে সরলরেখায় বাড়ালে ধ্রুবতারাকে পাওয়া যায়।
৬ কালপুরুষ এবং ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডল দেখতে কেমন? এদের বর্ণনা দাও।
উত্তর:
কালপুরুষ: কালপুরুষ হলো আকাশের অন্যতম সুন্দর ও উজ্জ্বল একটি নক্ষত্রমণ্ডল, যা শীতকালের আকাশে খুব ভালো দেখা যায়। এর তারাগুলিকে যোগ করলে মনে হয় যেন এক বিশাল বীর শিকারি হাতে তির-ধনুক বা তলোয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর কোমরবন্ধে তিনটি উজ্জ্বল তারা এক লাইনে থাকে। এর কাঁধের কাছে থাকে 'আর্দ্রা' বা বেটেলগিউস নামক লালচে তারা এবং পায়ের নিচে থাকে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা 'লুব্ধক' (Sirius)।
ক্যাসিওপিয়া: এটি উত্তর আকাশের একটি নক্ষত্রমণ্ডল। পাঁচটি প্রধান তারা নিয়ে গঠিত এই মণ্ডলটিকে কাল্পনিক রেখায় যোগ করলে ইংরেজি 'W' বা উলটানো 'M' অক্ষরের মতো দেখতে লাগে। এটি ধ্রুবতারার ঠিক উলটো দিকে অবস্থান করে।
কালপুরুষ: কালপুরুষ হলো আকাশের অন্যতম সুন্দর ও উজ্জ্বল একটি নক্ষত্রমণ্ডল, যা শীতকালের আকাশে খুব ভালো দেখা যায়। এর তারাগুলিকে যোগ করলে মনে হয় যেন এক বিশাল বীর শিকারি হাতে তির-ধনুক বা তলোয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর কোমরবন্ধে তিনটি উজ্জ্বল তারা এক লাইনে থাকে। এর কাঁধের কাছে থাকে 'আর্দ্রা' বা বেটেলগিউস নামক লালচে তারা এবং পায়ের নিচে থাকে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা 'লুব্ধক' (Sirius)।
ক্যাসিওপিয়া: এটি উত্তর আকাশের একটি নক্ষত্রমণ্ডল। পাঁচটি প্রধান তারা নিয়ে গঠিত এই মণ্ডলটিকে কাল্পনিক রেখায় যোগ করলে ইংরেজি 'W' বা উলটানো 'M' অক্ষরের মতো দেখতে লাগে। এটি ধ্রুবতারার ঠিক উলটো দিকে অবস্থান করে।
৭ গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি কী কী?
উত্তর:
গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি হলো:
১) আলো ও তাপ: নক্ষত্রদের (যেমন সূর্য) নিজস্ব আলো এবং প্রচণ্ড তাপ থাকে। কিন্তু গ্রহদের (যেমন পৃথিবী) নিজস্ব কোনো আলো বা তাপ থাকে না, তারা নক্ষত্রের আলোতেই আলোকিত হয়।
২) অবস্থান ও গতি: নক্ষত্ররা মহাকাশে নিজেদের জায়গায় স্থির থাকে বা খুব ধীর গতিতে ঘোরে। অন্যদিকে গ্রহরা নির্দিষ্ট কক্ষপথে একটি নক্ষত্রের চারদিকে অনবরত ঘোরে।
৩) আকার ও উপাদান: নক্ষত্ররা সাধারণত গ্যাসীয় উপাদানে তৈরি এবং আকারে বিশাল হয়। গ্রহরা কঠিন পাথর, মাটি বা গ্যাসে তৈরি হতে পারে এবং নক্ষত্রের তুলনায় আকারে অনেক ছোটো হয়।
৪) মিটমিট করা: পৃথিবী থেকে দেখলে রাতের আকাশে নক্ষত্রদের আলো মিটমিট করে জ্বলতে দেখা যায়, কিন্তু গ্রহদের আলো স্থির থাকে।
গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি হলো:
১) আলো ও তাপ: নক্ষত্রদের (যেমন সূর্য) নিজস্ব আলো এবং প্রচণ্ড তাপ থাকে। কিন্তু গ্রহদের (যেমন পৃথিবী) নিজস্ব কোনো আলো বা তাপ থাকে না, তারা নক্ষত্রের আলোতেই আলোকিত হয়।
২) অবস্থান ও গতি: নক্ষত্ররা মহাকাশে নিজেদের জায়গায় স্থির থাকে বা খুব ধীর গতিতে ঘোরে। অন্যদিকে গ্রহরা নির্দিষ্ট কক্ষপথে একটি নক্ষত্রের চারদিকে অনবরত ঘোরে।
৩) আকার ও উপাদান: নক্ষত্ররা সাধারণত গ্যাসীয় উপাদানে তৈরি এবং আকারে বিশাল হয়। গ্রহরা কঠিন পাথর, মাটি বা গ্যাসে তৈরি হতে পারে এবং নক্ষত্রের তুলনায় আকারে অনেক ছোটো হয়।
৪) মিটমিট করা: পৃথিবী থেকে দেখলে রাতের আকাশে নক্ষত্রদের আলো মিটমিট করে জ্বলতে দেখা যায়, কিন্তু গ্রহদের আলো স্থির থাকে।
৮ সূর্যগ্রহণ দেখার সময় আমাদের কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং কেন?
উত্তর:
সতর্কতা: সূর্যগ্রহণ দেখার সময় কখনোই সরাসরি বা খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। সাধারণ রোদচশমা, এক্স-রে ফিল্ম বা কালো কাঁচ দিয়েও সূর্যগ্রহণ দেখা নিরাপদ নয়। সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য বিজ্ঞানীদের অনুমোদিত বিশেষ ফিল্টার বা স্পেশাল সোলার গ্লাস (Solar Viewing Glasses) ব্যবহার করা একান্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া পিনহোল ক্যামেরার সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করেও গ্রহণ দেখা যেতে পারে।
কারণ: সূর্য থেকে আলো ও তাপের সাথে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) বেরিয়ে আসে। সূর্যগ্রহণের সময় চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেলেও এই অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি আমাদের চোখের রেটিনায় আঘাত করতে পারে। খালি চোখে গ্রহণ দেখলে রেটিনা পুড়ে গিয়ে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া বা অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সতর্কতা: সূর্যগ্রহণ দেখার সময় কখনোই সরাসরি বা খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। সাধারণ রোদচশমা, এক্স-রে ফিল্ম বা কালো কাঁচ দিয়েও সূর্যগ্রহণ দেখা নিরাপদ নয়। সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য বিজ্ঞানীদের অনুমোদিত বিশেষ ফিল্টার বা স্পেশাল সোলার গ্লাস (Solar Viewing Glasses) ব্যবহার করা একান্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া পিনহোল ক্যামেরার সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করেও গ্রহণ দেখা যেতে পারে।
কারণ: সূর্য থেকে আলো ও তাপের সাথে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) বেরিয়ে আসে। সূর্যগ্রহণের সময় চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেলেও এই অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি আমাদের চোখের রেটিনায় আঘাত করতে পারে। খালি চোখে গ্রহণ দেখলে রেটিনা পুড়ে গিয়ে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া বা অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৯ মহাকাশ বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের গুরুত্ব কী? কৃত্রিম উপগ্রহ আমাদের কী কাজে লাগে?
উত্তর:
মহাকাশ বিজ্ঞানের গুরুত্ব: মহাকাশ বিজ্ঞান আমাদের পৃথিবী, সৌরজগৎ এবং সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও রহস্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে আমরা গ্রহ, নক্ষত্র, গ্রহণ, উল্কাপাত ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক ধারণা পাই এবং কুসংস্কার থেকে মুক্ত হই। এছাড়া দূরবর্তী গ্রহাণু বা উল্কা পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে তা আগে থেকে জেনে বিজ্ঞানীরা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কৃত্রিম উপগ্রহের কাজ: মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অপরিহার্য। এদের সাহায্যেই আমরা মোবাইল ফোনে কথা বলি, টিভিতে লাইভ খেলা দেখি, ইন্টারনেটের ব্যবহার করি এবং জিপিএস (GPS)-এর সাহায্যে রাস্তা খুঁজি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই স্যাটেলাইটগুলি মেঘের ছবি তুলে আমাদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের আগাম খবর দেয়, যা বহু মানুষের জীবন বাঁচায়।
মহাকাশ বিজ্ঞানের গুরুত্ব: মহাকাশ বিজ্ঞান আমাদের পৃথিবী, সৌরজগৎ এবং সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও রহস্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে আমরা গ্রহ, নক্ষত্র, গ্রহণ, উল্কাপাত ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক বৈজ্ঞানিক ধারণা পাই এবং কুসংস্কার থেকে মুক্ত হই। এছাড়া দূরবর্তী গ্রহাণু বা উল্কা পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে তা আগে থেকে জেনে বিজ্ঞানীরা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কৃত্রিম উপগ্রহের কাজ: মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অপরিহার্য। এদের সাহায্যেই আমরা মোবাইল ফোনে কথা বলি, টিভিতে লাইভ খেলা দেখি, ইন্টারনেটের ব্যবহার করি এবং জিপিএস (GPS)-এর সাহায্যে রাস্তা খুঁজি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই স্যাটেলাইটগুলি মেঘের ছবি তুলে আমাদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের আগাম খবর দেয়, যা বহু মানুষের জীবন বাঁচায়।
১০ পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার রাতে আকাশ দেখার অভিজ্ঞতার পার্থক্য আলোচনা করো।
উত্তর:
পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার রাতে আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হয়:
১) পূর্ণিমার রাতে: পূর্ণিমার রাতে আকাশে একটি গোল, উজ্জ্বল ও রুপোলি চাঁদ ওঠে। চাঁদের আলোয় চারদিক আলোকিত হয়ে যায়। কিন্তু চাঁদের এই প্রবল আলোর কারণে আকাশের তারাগুলিকে খুব একটা ভালোভাবে দেখা যায় না। অনেক তারা আলোতে ঢাকা পড়ে যায়।
২) অমাবস্যার রাতে: অমাবস্যার রাতে আকাশে কোনো চাঁদ থাকে না। চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। এই ঘোর অন্ধকারের কারণেই আকাশের ছোটো-বড়ো প্রতিটি তারা খুব স্পষ্টভাবে জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। নক্ষত্রমণ্ডল, উল্কাপাত বা আমাদের গ্যালাক্সি 'আকাশগঙ্গা' (Milky Way)-কে ভালোভাবে দেখার জন্য মেঘমুক্ত অমাবস্যার রাতই সবচেয়ে আদর্শ সময়।
পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার রাতে আকাশ দেখার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হয়:
১) পূর্ণিমার রাতে: পূর্ণিমার রাতে আকাশে একটি গোল, উজ্জ্বল ও রুপোলি চাঁদ ওঠে। চাঁদের আলোয় চারদিক আলোকিত হয়ে যায়। কিন্তু চাঁদের এই প্রবল আলোর কারণে আকাশের তারাগুলিকে খুব একটা ভালোভাবে দেখা যায় না। অনেক তারা আলোতে ঢাকা পড়ে যায়।
২) অমাবস্যার রাতে: অমাবস্যার রাতে আকাশে কোনো চাঁদ থাকে না। চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। এই ঘোর অন্ধকারের কারণেই আকাশের ছোটো-বড়ো প্রতিটি তারা খুব স্পষ্টভাবে জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। নক্ষত্রমণ্ডল, উল্কাপাত বা আমাদের গ্যালাক্সি 'আকাশগঙ্গা' (Milky Way)-কে ভালোভাবে দেখার জন্য মেঘমুক্ত অমাবস্যার রাতই সবচেয়ে আদর্শ সময়।
Sponsored Links