পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি Class 5 Poribesh O Bigyan Chapter 3

Complete Chapter Summary, 40+ MCQs, 30+ Short Questions, and 10 Broad Explanatory Questions for WBBSE Class 5 Amader Poribesh Chapter 3 (পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি)।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 16 December 2025 Last Update: 05 June 2026

অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)

পঞ্চম শ্রেণির "পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি" অধ্যায়ে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ভূমিরূপ, নদনদী, অরণ্য এবং ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

মূল বিষয়বস্তু:
১. ভূমির ঢাল ও নদনদী: পশ্চিমবঙ্গের ভূমির ঢাল প্রধানত উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে। উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলের নদী (তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা), পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের নদী (দামোদর, সুবর্ণরেখা) এবং দক্ষিণবঙ্গের নদী (গঙ্গা/ভাগীরথী-হুগলি, বিদ্যাধরী, মাতলা) সম্পর্কে জানা যায়।
২. ভূমিরূপের বৈচিত্র্য: উত্তরে দার্জিলিং-এর উঁচু পাহাড়, পশ্চিমে রাঢ় অঞ্চলের মালভূমি এবং লাল মাটি, পূর্বে ও দক্ষিণে গঙ্গার পলিমাটি দিয়ে তৈরি উর্বর সমভূমি এবং একেবারে দক্ষিণে সুন্দরবনের বদ্বীপ অঞ্চল।
৩. অরণ্য ও বন্যপ্রাণী: জলদাপাড়া ও গরুমারা অভয়ারণ্য (একশৃঙ্গ গন্ডার), বক্সার বাঘবন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য (রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, সুন্দরী-গরান-গেঁওয়া গাছ) এবং পশ্চিমের শালবনের কথা উল্লেখ আছে।
৪. কৃষি ও শিল্প: বিভিন্ন জেলার প্রধান ফসল (যেমন- বর্ধমানের ধান, দার্জিলিংয়ের চা, হুগলির আলু)। রাঢ় অঞ্চলে কয়লাখনি এবং দুর্গাপুরে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের কথা বলা হয়েছে।
৫. ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান: নবদ্বীপ (চৈতন্যদেবের জন্মস্থান), মুর্শিদাবাদ (হাজারদুয়ারি, নবাব সিরাজউদ্দৌলার ইতিহাস), মালদহ (গৌড়, আদিনা মসজিদ) এবং টেরাকোটার কাজের জন্য বিখ্যাত বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

পশ্চিমবঙ্গের ভূমির সাধারণ ঢাল কোন দিক থেকে কোন দিকে?

ক) উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে ✓ খ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে গ) পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘ) শুধুমাত্র উত্তর থেকে দক্ষিণে
উত্তর: ক) উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে কোন পর্বতমালা অবস্থিত?

ক) আরাবল্লী খ) নীলগিরি গ) হিমালয় ✓ ঘ) বিন্ধ্য
উত্তর: গ) হিমালয়

দামোদর নদ কোন দিক থেকে এসে গঙ্গায় মিশেছে?

ক) পশ্চিম থেকে পূর্বে ✓ খ) উত্তর থেকে দক্ষিণে গ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে ঘ) পূর্ব থেকে পশ্চিমে
উত্তর: ক) পশ্চিম থেকে পূর্বে

গঙ্গা নদীর যে শাখাটি পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে, তার নাম কী?

ক) পদ্মা খ) মেঘনা গ) যমুনা ঘ) ভাগীরথী-হুগলি ✓
উত্তর: ঘ) ভাগীরথী-হুগলি

গঙ্গা নদী কোথায় দুই ভাগে ভাগ হয়েছে?

ক) মালদহ খ) মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে ✓ গ) কলকাতা ঘ) নবদ্বীপ
উত্তর: খ) মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের কাছে

গঙ্গার যে প্রধান শাখাটি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, তার নাম কী?

ক) পদ্মা ✓ খ) রূপনারায়ণ গ) তিস্তা ঘ) জলঢাকা
উত্তর: ক) পদ্মা

কোন অঞ্চলকে "রাঢ় অঞ্চল" বলা হয়?

ক) উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলকে খ) সুন্দরবন অঞ্চলকে গ) পশ্চিমের মালভূমি থেকে ভাগীরথী-হুগলি নদী পর্যন্ত অংশকে ✓ ঘ) পূর্ব দিকের সমভূমিকে
উত্তর: গ) পশ্চিমের মালভূমি থেকে ভাগীরথী-হুগলি নদী পর্যন্ত অংশকে

রাঢ় অঞ্চলের মাটির রং কেমন হয়?

ক) কালো খ) সাদাটে গ) লালচে ✓ ঘ) হলুদ
উত্তর: গ) লালচে

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম দিকের ভূমিরূপ কেমন?

ক) সমতল খ) উঁচু পাহাড় গ) মালভূমি ও ঢেউখেলানো উঁচু-নিচু ✓ ঘ) জলাভূমি
উত্তর: গ) মালভূমি ও ঢেউখেলানো উঁচু-নিচু

১০ দার্জিলিং জেলায় কোন শৃঙ্গটি অবস্থিত যা পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ?

ক) কাঞ্চনজঙ্ঘা খ) সান্দাকফু ✓ গ) মাউন্ট এভারেস্ট ঘ) টাইগার হিল
উত্তর: খ) সান্দাকফু

১১ সান্দাকফু শৃঙ্গ থেকে কোন বিখ্যাত পাহাড়ের চূড়া দেখা যায়?

ক) নন্দাদেবী খ) কাঞ্চনজঙ্ঘা ✓ গ) কে-টু (K2) ঘ) অন্নপূর্ণা
উত্তর: খ) কাঞ্চনজঙ্ঘা

১২ বক্সা জয়ন্তী পাহাড়ে কোন বন্যপ্রাণী দেখা যায়?

ক) গন্ডার খ) বাঘ ✓ গ) সিংহ ঘ) জিরাফ
উত্তর: খ) বাঘ

১৩ জলদাপাড়া ও গরুমারা অভয়ারণ্য কীসের জন্য বিখ্যাত?

ক) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার খ) একশৃঙ্গ গন্ডার ✓ গ) বুনো মোষ ঘ) হাতি
উত্তর: খ) একশৃঙ্গ গন্ডার

১৪ তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা নদীগুলি কোথা থেকে সৃষ্টি হয়েছে?

ক) ছোটোনাগপুর মালভূমি খ) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল বা বরফগলা জল থেকে ✓ গ) বঙ্গোপসাগর ঘ) গঙ্গা নদী
উত্তর: খ) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল বা বরফগলা জল থেকে

১৫ কোন জেলাকে পশ্চিমবঙ্গের "ধানের গোলা" বলা হয়?

ক) বীরভূম খ) বর্ধমান ✓ গ) বাঁকুড়া ঘ) মেদিনীপুর
উত্তর: খ) বর্ধমান

১৬ রেশম বা সিল্কের কিটের চাষ পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় বেশি হয়?

ক) পুরুলিয়া খ) মালদহ ✓ গ) হাওড়া ঘ) হুগলি
উত্তর: খ) মালদহ

১৭ মালদহ জেলা কোন ফলের জন্য বিশ্ববিখ্যাত?

ক) লিচু খ) কলা গ) আম ✓ ঘ) আনারস
উত্তর: গ) আম

১৮ গৌড় ও আদিনা মসজিদ পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত?

ক) মালদহ ✓ খ) মুর্শিদাবাদ গ) নদিয়া ঘ) বীরভূম
উত্তর: ক) মালদহ

১৯ হাজারদুয়ারি প্রাসাদ কোথায় অবস্থিত?

ক) কোচবিহার খ) কলকাতা গ) মুর্শিদাবাদ ✓ ঘ) বর্ধমান
উত্তর: গ) মুর্শিদাবাদ

২০ বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন যাঁর রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ?

ক) মীরজাফর খ) সিরাজউদ্দৌলা ✓ গ) আলিবর্দী খান ঘ) মুর্শিদকুলি খান
উত্তর: খ) সিরাজউদ্দৌলা

২১ চৈতন্যদেবের জন্মস্থান কোথায়?

ক) মায়াপুর খ) নবদ্বীপ ✓ গ) শান্তিপুর ঘ) কৃষ্ণনগর
উত্তর: খ) নবদ্বীপ

২২ কোন নদীর তীরে নবদ্বীপ অবস্থিত?

ক) দামোদর ও রূপনারায়ণ খ) ভাগীরথী ও জলঙ্গী ✓ গ) তিস্তা ও তোর্সা ঘ) বিদ্যাধরী ও মাতলা
উত্তর: খ) ভাগীরথী ও জলঙ্গী

২৩ মাটির জিনিস পোড়ানোকে কী বলে, যার জন্য বিষ্ণুপুর বিখ্যাত?

ক) টেরাকোটা ✓ খ) পটুয়াশিল্প গ) ডোকরা ঘ) মৃৎশিল্প
উত্তর: ক) টেরাকোটা

২৪ কোন জেলাকে পশ্চিমবঙ্গের লৌহ-ইস্পাত শিল্প কেন্দ্র বলা হয়?

ক) আসানসোল খ) দুর্গাপুর (বর্ধমান জেলা) ✓ গ) চিত্তরঞ্জন ঘ) হলদিয়া
উত্তর: খ) দুর্গাপুর (বর্ধমান জেলা)

২৫ কয়লাখনি অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের কোন দিকে অবস্থিত?

ক) উত্তরের পাহাড়ে খ) দক্ষিণের সুন্দরবনে গ) পশ্চিমের রাঢ় অঞ্চলে (যেমন- রানিগঞ্জ, আসানসোল) ✓ ঘ) পূর্বের সমভূমিতে
উত্তর: গ) পশ্চিমের রাঢ় অঞ্চলে (যেমন- রানিগঞ্জ, আসানসোল)

২৬ শাল গাছের পাতা দিয়ে কী তৈরি হয়?

ক) মাদুর খ) খাওয়ার পাত বা থালা ✓ গ) দড়ি ঘ) ঝুড়ি
উত্তর: খ) খাওয়ার পাত বা থালা

২৭ সুন্দরবন অঞ্চলের বিখ্যাত গাছ কোনটি যার শ্বাসমূল থাকে?

ক) শাল খ) সেগুন গ) সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া ✓ ঘ) পাইন
উত্তর: গ) সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া

২৮ সুন্দরবন অঞ্চলের প্রধান বন্যপ্রাণী কোনটি?

ক) গন্ডার খ) সিংহ গ) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ✓ ঘ) চিতাবাঘ
উত্তর: গ) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

২৯ কোন নদীর তীরে দীঘা সমুদ্রসৈকত অবস্থিত?

ক) হুগলি খ) রূপনারায়ণ গ) বঙ্গোপসাগরের তীরে ✓ ঘ) সুবর্ণরেখা
উত্তর: গ) বঙ্গোপসাগরের তীরে

৩০ কাঁথি শহর কোন জেলায় অবস্থিত?

ক) দক্ষিণ ২৪ পরগনা খ) পশ্চিম মেদিনীপুর গ) পূর্ব মেদিনীপুর ✓ ঘ) হাওড়া
উত্তর: গ) পূর্ব মেদিনীপুর

৩১ পশ্চিমবঙ্গের কোথায় রেল ইঞ্জিন তৈরি কারখানা (লোকোমোটিভ ওয়ার্কস) আছে?

ক) খড়্গপুর খ) চিত্তরঞ্জন ✓ গ) দুর্গাপুর ঘ) কলকাতা
উত্তর: খ) চিত্তরঞ্জন

৩২ দার্জিলিং যাওয়ার পাহাড়ি রাস্তায় কোন বিশেষ ধরনের রেলগাড়ি দেখা যায়?

ক) মেট্রো রেল খ) লোকাল ট্রেন গ) টয় ট্রেন (Toy Train) ✓ ঘ) বুলেট ট্রেন
উত্তর: গ) টয় ট্রেন (Toy Train)

৩৩ সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলির জল কেমন হয়?

ক) খুব মিষ্টি খ) তুষারগলা জল গ) নোনতা, কারণ জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল ঢোকে ✓ ঘ) লাল রঙের জল
উত্তর: গ) নোনতা, কারণ জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল ঢোকে

৩৪ সুন্দরবনের নদীগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

ক) বিদ্যাধরী, মাতলা, কালিন্দী ✓ খ) তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা গ) দামোদর, রূপনারায়ণ, কংসাবতী ঘ) ভাগীরথী, জলঙ্গী, চূর্ণী
উত্তর: ক) বিদ্যাধরী, মাতলা, কালিন্দী

৩৫ শান্তিনিকেতন কোন জেলায় অবস্থিত এবং কেন বিখ্যাত?

ক) বাঁকুড়া, টেরাকোটার জন্য খ) বীরভূম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ✓ গ) মুর্শিদাবাদ, হাজারদুয়ারির জন্য ঘ) নদিয়া, তাঁতশিল্পের জন্য
উত্তর: খ) বীরভূম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য

৩৬ পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলে কোন ধরনের বন বেশি দেখা যায়?

ক) শাল গাছের বন ✓ খ) ম্যানগ্রোভ বন গ) পাইন ও ফার গাছের বন ঘ) বাঁশ বন
উত্তর: ক) শাল গাছের বন

৩৭ কোন অঞ্চলের মাটিতে বেশি ফসল হয়?

ক) পাহাড়ি অঞ্চলের কাঁকুরে মাটিতে খ) রাঢ় অঞ্চলের লাল মাটিতে গ) সমভূমি অঞ্চলের নদীর পলিমাটিতে ✓ ঘ) সুন্দরবনের নোনা মাটিতে
উত্তর: গ) সমভূমি অঞ্চলের নদীর পলিমাটিতে

৩৮ ভাগীরথী নদীর পশ্চিম দিকের উঁচু-নিচু মালভূমি অঞ্চলকে কী বলে?

ক) তরাই অঞ্চল খ) রাঢ় অঞ্চল ✓ গ) ডুয়ার্স অঞ্চল ঘ) বদ্বীপ অঞ্চল
উত্তর: খ) রাঢ় অঞ্চল

৩৯ তরাই বা ডুয়ার্স অঞ্চল বলতে কী বোঝায়?

ক) সুন্দরবনের জঙ্গল খ) মালভূমি অঞ্চল গ) উত্তরের হিমালয়ের পাদদেশের স্যাঁতসেঁতে বনাঞ্চল ✓ ঘ) গঙ্গার বদ্বীপ
উত্তর: গ) উত্তরের হিমালয়ের পাদদেশের স্যাঁতসেঁতে বনাঞ্চল

৪০ পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত কয়লাখনি অঞ্চলের নাম হলো—

ক) হলদিয়া খ) রানিগঞ্জ-আসানসোল ✓ গ) শিলিগুড়ি ঘ) ডায়মন্ড হারবার
উত্তর: খ) রানিগঞ্জ-আসানসোল

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

পশ্চিমবঙ্গের ভূমির ঢাল কোন দিক থেকে কোন দিকে তা কীভাবে বোঝা যায়?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের নদীগুলি উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল ও পশ্চিমের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। নদী যেদিকে বয় ভূমির ঢালও সেদিকে হয়, তাই বোঝা যায় ভূমির ঢাল উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে।

দামোদর নদ কোন দিকে প্রবাহিত হয়েছে?

উত্তর: দামোদর নদ পশ্চিমের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং তারপর দক্ষিণে গিয়ে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে মিশেছে।

গঙ্গা নদী পশ্চিমবঙ্গের কোথায় দুই ভাগে ভাগ হয়েছে এবং শাখা দুটির নাম কী?

উত্তর: গঙ্গা নদী মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের কাছে দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে। একটি প্রধান শাখা "পদ্মা" নামে বাংলাদেশে ঢুকেছে এবং অন্য শাখাটি "ভাগীরথী-হুগলি" নামে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

রাঢ় অঞ্চল বলতে পশ্চিমবঙ্গের কোন অংশকে বোঝায়?

উত্তর: ভাগীরথী নদীর পশ্চিম দিকে অবস্থিত উঁচু-নিচু মালভূমি এবং কিছুটা সমতল নিয়ে গঠিত লাল মাটির অঞ্চলকে রাঢ় অঞ্চল বলা হয়। বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের অংশ এই রাঢ় অঞ্চলের অন্তর্গত।

রাঢ় অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: রাঢ় অঞ্চলের মাটি লালচে রঙের হয় এবং এই মাটি খুব একটা উর্বর নয়। এখানে মাঝে মাঝে পাথর ও কাঁকর মেশানো মাটি দেখা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী এবং এটি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম হলো সান্দাকফু। এটি দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালীলা পর্বতশ্রেণিতে অবস্থিত।

উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নদীর নাম লেখো।

উত্তর: উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য নদীগুলি হলো— তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, মহানন্দা এবং কালজানি।

উত্তরের পার্বত্য নদীগুলির একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: এই নদীগুলি মূলত বরফগলা জলে পুষ্ট হওয়ায় এদের সারাবছর জল থাকে এবং এরা পাহাড়ি ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নিচে নেমে আসে।

বক্সা বাঘবন বা বক্সা টাইগার রিজার্ভ কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: বক্সা বাঘবন পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের আলিপুরদুয়ার জেলায় (বক্সা-জয়ন্তী পাহাড়ি অঞ্চলে) অবস্থিত।

১০ জলদাপাড়া ও গরুমারা জঙ্গল কীসের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জলদাপাড়া ও গরুমারা জঙ্গল মূলত একশৃঙ্গ গন্ডারের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এছাড়াও এখানে হাতি, বাইসন ও হরিণ দেখা যায়।

১১ বর্ধমান জেলাকে "ধানের গোলা" বলা হয় কেন?

উত্তর: গঙ্গা ও দামোদর নদীর পলি দিয়ে তৈরি বর্ধমান জেলার মাটি খুবই উর্বর। এই জেলায় প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদিত হয় বলে একে পশ্চিমবঙ্গের "ধানের গোলা" বলা হয়।

১২ মালদহ জেলা কোন কোন ফলের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: মালদহ জেলা উন্নত মানের আম এবং রেশম বা সিল্কের কিট চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানে প্রচুর আমবাগান দেখা যায়।

১৩ ঐতিহাসিক শহর গৌড় ও আদিনা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড় এবং ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় অবস্থিত।

১৪ হাজারদুয়ারি প্রাসাদ কে এবং কোথায় তৈরি করেছিলেন?

উত্তর: হাজারদুয়ারি প্রাসাদ নবাবদের আমলে মুর্শিদাবাদ শহরে ভাগীরথী নদীর তীরে তৈরি করা হয়েছিল। এর এক হাজারটি দরজা (যার মধ্যে অনেকগুলি নকল) থাকার কারণে এই নাম।

১৫ টেরাকোটার কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গের কোন শহর বিখ্যাত?

উত্তর: পোড়ামাটির বা টেরাকোটার চমৎকার কাজের মন্দির এবং নানা ধরনের হস্তশিল্পের জন্য বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরটি জগৎবিখ্যাত।

১৬ দুর্গাপুর শহরটি কী শিল্পের জন্য পরিচিত?

উত্তর: বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর শহরটি বিশাল লৌহ-ইস্পাত কারখানা এবং অন্যান্য বড়ো বড়ো শিল্প ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিখ্যাত। একে ভারতের রূঢ় বলা হয়।

১৭ পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলে প্রধানত কোন গাছ দেখা যায় এবং এর ব্যবহার কী?

উত্তর: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলে প্রধানত শাল গাছ দেখা যায়। শাল গাছের কাঠ খুব শক্ত হওয়ায় আসবাবপত্র তৈরি হয় এবং শালপাতা দিয়ে খাওয়ার প্লেট বা থালা-বাটি তৈরি করা হয়।

১৮ সুন্দরবন অঞ্চলের নামকরণের কারণ কী?

উত্তর: সুন্দরবন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে "সুন্দরী" নামক শ্বাসমূলযুক্ত গাছ জন্মায় বলে এই বনাঞ্চলের নাম হয়েছে সুন্দরবন।

১৯ সুন্দরবন অঞ্চলের কয়েকটি বিখ্যাত বন্যপ্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: সুন্দরবন অঞ্চলের সবচেয়ে বিখ্যাত বন্যপ্রাণী হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়া এখানে কুমির, চিত্রা হরিণ, বন্য শুয়োর এবং নানা প্রজাতির পাখি ও সাপ দেখা যায়।

২০ সুন্দরবনের কয়েকটি নদীর নাম লেখো।

উত্তর: সুন্দরবনের কয়েকটি বিখ্যাত নদী হলো— মাতলা, বিদ্যাধরী, কালিন্দী, রায়মঙ্গল এবং গোসাবা।

২১ সুন্দরবনের নদীগুলির জল নোনতা হয় কেন?

উত্তর: সুন্দরবনের নদীগুলি সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত। জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল এই নদীগুলিতে প্রবেশ করে বলে এদের জল নোনতা হয়।

২২ পশ্চিমবঙ্গের একটি বড়ো সমুদ্রসৈকতের নাম লেখো।

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত "দীঘা" হলো একটি খুব বিখ্যাত এবং বড়ো সমুদ্রসৈকত।

২৩ দার্জিলিং-এর টয় ট্রেন কেন বিখ্যাত?

উত্তর: দার্জিলিং-এর খাড়া পাহাড়ি রাস্তায় ওঠার জন্য ন্যারোগেজ লাইনে চলা বাষ্পীয় বা ডিজেল ইঞ্জিনচালিত ছোটো ট্রেন হলো টয় ট্রেন। এটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং রোমাঞ্চকর সফরের জন্য বিখ্যাত। এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পেয়েছে।

২৪ চিত্তরঞ্জন শহরটি কেন বিখ্যাত?

উত্তর: চিত্তরঞ্জন শহরটি রেল ইঞ্জিন তৈরির কারখানার (Chittaranjan Locomotive Works) জন্য বিখ্যাত। এখানে ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলার জন্য রেল ইঞ্জিন তৈরি হয়।

২৫ শান্তিনিকেতন কেন সারা পৃথিবীতে সমাদৃত?

উত্তর: বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত "বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়"-এর জন্য সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। এখানে প্রকৃতির কোলে মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার চল শুরু হয়েছিল।

২৬ তরাই বা ডুয়ার্স অঞ্চল কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয় পর্বতের ঠিক পাদদেশে অবস্থিত স্যাঁতসেঁতে, ঘন জঙ্গল ও চা-বাগানে ভরা অঞ্চলটিকে তরাই বা ডুয়ার্স অঞ্চল বলা হয়। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এই অঞ্চলের মধ্যে পড়ে।

২৭ মালভূমি অঞ্চল বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: সমভূমি থেকে কিছুটা উঁচু কিন্তু পাহাড়ের মতো অতটা উঁচু নয় এবং যার ওপরের দিকটা বেশ সমতল বা ঢেউখেলানো, তাকে মালভূমি বলে। পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ মালভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত।

২৮ পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের কয়েকটি নদীর নাম লেখো।

উত্তর: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য নদীগুলি হলো— দামোদর, কংসাবতী বা কাঁসাই, সুবর্ণরেখা, রূপনারায়ণ এবং শিলাবতী।

২৯ পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের নদীগুলিতে বর্ষাকাল ছাড়া জল কম থাকে কেন?

উত্তর: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট। বরফগলা জলে পুষ্ট না হওয়ায় বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে এই নদীগুলিতে জল খুব কম থাকে।

৩০ কলকাতা শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরটি ভাগীরথী-হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত।

৩১ হলদিয়া কেন বিখ্যাত?

উত্তর: হলদিয়া পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হুগলি ও হলদি নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি একটি বড়ো বন্দর এবং পেট্রোরসায়ন শিল্পের জন্য বিখ্যাত।

রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)

পশ্চিমবঙ্গের ভূমিরূপের বৈচিত্র্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের ভূমিরূপে বিশাল বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। একে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল: দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার উঁচু পর্বতশ্রেণি নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু।
২) পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অংশ নিয়ে এই ঢেউখেলানো লাল মাটির মালভূমি ও রাঢ় অঞ্চল গঠিত।
৩) সমভূমি অঞ্চল: গঙ্গা এবং তার উপনদীগুলির পলিমাটি জমে এই উর্বর সমভূমি তৈরি হয়েছে, যা রাজ্যের সবচেয়ে বড়ো অংশ। এখানে প্রচুর চাষবাস হয়।
৪) দক্ষিণের সুন্দরবন বদ্বীপ: গঙ্গার মোহনায় সমুদ্রের কাছাকাছি নদী ও খাড়িতে ঘেরা ম্যানগ্রোভ অরণ্যের অঞ্চল হলো সুন্দরবন।

উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলের নদী এবং পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের নদীর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?

উত্তর:
উত্তরের পাহাড়ি নদীর বৈশিষ্ট্য (যেমন- তিস্তা, তোর্সা):
১) এই নদীগুলি হিমালয় পর্বতের বরফগলা জল থেকে উৎপন্ন হয়, তাই সারা বছর এদের প্রবাহে জল থাকে।
২) খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসায় এদের স্রোত খুব প্রবল হয়।

পশ্চিমের মালভূমি নদীর বৈশিষ্ট্য (যেমন- দামোদর, কংসাবতী):
১) এই নদীগুলি পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয় এবং এরা শুধুমাত্র বৃষ্টির জলে পুষ্ট। তাই বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময়ে এদের জল খুব কমে যায় বা শুকিয়ে যায়।
২) পাহাড়ি নদীর তুলনায় এদের স্রোত কিছুটা কম হয় এবং মাঝে মাঝেই বর্ষায় বন্যা সৃষ্টি করে (যেমন দামোদর)।

সুন্দরবন অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য, গাছপালা ও প্রাণী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

উত্তর:
বৈশিষ্ট্য: সুন্দরবন হলো গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনায় সৃষ্ট পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু অরণ্য। এখানকার মাটি কর্দমাক্ত এবং নদীর জল নোনতা হয়, কারণ জোয়ারের সময় বঙ্গোপসাগরের জল এখানে প্রবেশ করে। এই অঞ্চল ছোটো ছোটো অসংখ্য বদ্বীপ দিয়ে ঘেরা।

গাছপালা: নোনা মাটি ও কাদায় টিকে থাকার জন্য এখানকার গাছেদের শ্বাসমূল (মাটির উপরে ওঠা মূল) এবং ঠেসমূল দেখা যায়। প্রধান গাছগুলি হলো সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, কেওড়া, বাইন ইত্যাদি।

বন্যপ্রাণী: সুন্দরবনের সবথেকে বিখ্যাত প্রাণী হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ। এছাড়া এখানে নদী-খাড়িতে কুমির, কামট এবং জঙ্গলে চিত্রা হরিণ, বুনো শুয়োর, বাঁদর ও নানা প্রজাতির বিষধর সাপ দেখা যায়।

রাঢ় অঞ্চল বলতে কী বোঝো? এই অঞ্চলের মাটি ও কৃষিকাজ কেমন?

উত্তর:
রাঢ় অঞ্চল: ভাগীরথী-হুগলি নদীর পশ্চিম দিকে এবং পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলের পূর্ব দিকের মধ্যবর্তী ঢেউখেলানো অংশকে রাঢ় অঞ্চল বলা হয়। বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ এর অন্তর্গত।

মাটি ও কৃষিকাজ: এখানকার মাটির রং লালচে বা ল্যাটেরাইট প্রকৃতির। এই মাটিতে লোহার ভাগ বেশি থাকে এবং এটি কিছুটা কাঁকুরে। পলিমাটির মতো উর্বর না হলেও, সেচের জলের ব্যবস্থা করে এই অঞ্চলে ধান, আলু, ভুট্টা, গম ও নানা ধরনের ডাল জাতীয় শস্যের চাষ করা হয়। বর্ধমান জেলা (যা এই অঞ্চলের প্রান্তে অবস্থিত) ধানের জন্য বিখ্যাত।

মুর্শিদাবাদ শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বর্ণনা করো।

উত্তর:
মুর্শিদাবাদ হলো পশ্চিমবঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক শহর। ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি ছিল বাংলার স্বাধীন নবাবদের রাজধানী। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এখান থেকেই রাজ্য শাসন করতেন।

মুর্শিদাবাদের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ হলো হাজারদুয়ারি প্রাসাদ। এটি একটি বিশাল রাজপ্রাসাদ, যাতে এক হাজারটি দরজা আছে (যার মধ্যে অনেকগুলো নকল দরজা, সুরক্ষার কারণে বানানো হয়েছিল)। বর্তমানে এটি একটি বিশাল মিউজিয়াম। এছাড়া এখানে কাটরা মসজিদ, মতিঝিল, খোশবাগ এবং আরও অনেক নবাব আমলের স্মৃতিসৌধ রয়েছে, যা আজও পর্যটকদের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়।

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা কেন পর্যটকদের কাছে এত আকর্ষণীয়?

উত্তর:
দার্জিলিং জেলা পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় কারণ:
১) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: এটি হিমালয়ের কোলে অবস্থিত, চারদিকে পাহাড় এবং ঘন পাইন, ফার গাছের বন। এখানকার আবহাওয়া সারা বছর মনোরম ও ঠান্ডা থাকে।
২) কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন: দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল এবং অন্যান্য জায়গা থেকে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সূর্যোদয় দেখা যায়।
৩) চা বাগান: দার্জিলিং তার উন্নত মানের সুগন্ধি চায়ের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে বিস্তৃত চা বাগান পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
৪) টয় ট্রেন: ইউনেস্কো হেরিটেজ "টয় ট্রেন"-এ করে খাড়া পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমণ পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলে শাল গাছের গুরুত্ব কী? এই অঞ্চলে আর কী কী খনিজ পাওয়া যায়?

উত্তর:
শাল গাছের গুরুত্ব: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলে (যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া) বিস্তীর্ণ শালবনের দেখা মেলে। শাল গাছের কাঠ অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই হওয়ায় তা ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র এবং রেলের স্লিপার তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া শাল পাতা দিয়ে খাওয়ার পাত্র (থালা-বাটি) তৈরি করে স্থানীয় মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন।

খনিজ সম্পদ: এই অঞ্চলের মাটির নিচে প্রচুর খনিজ সম্পদ সঞ্চিত আছে। বর্ধমান ও আসানসোল-রানিগঞ্জ অঞ্চলে প্রচুর কয়লা পাওয়া যায়। কয়লা দিয়ে তাপবিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় এবং কলকারখানা চলে। এছাড়া কিছু স্থানে লোহা, ফায়ার ক্লে ও পাথর খাদান আছে।

গঙ্গা নদীর গতিপথ পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে কীভাবে প্রবাহিত হয়েছে তা বর্ণনা করো।

উত্তর:
ভারতের প্রধান নদী গঙ্গা রাজমহল পাহাড়ের পাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। এরপর মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের কাছে নদীটি দুটি প্রধান শাখায় বিভক্ত হয়ে গেছে।

১) পদ্মা: গঙ্গার প্রধান শাখাটি পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে "পদ্মা" নাম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার সাথে মিশে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
২) ভাগীরথী-হুগলি: অপর শাখাটি দক্ষিণ দিকে পশ্চিমবঙ্গের বুকের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। ধুলিয়ান থেকে হুগলি শহর পর্যন্ত এর নাম "ভাগীরথী" এবং হুগলি থেকে মোহনা পর্যন্ত এর নাম "হুগলি নদী"। কলকাতা শহর এই নদীর পূর্ব তীরেই অবস্থিত। শেষে এই নদী সাগরদ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।

পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিখ্যাত শিল্প শহর এবং তাদের শিল্পের নাম লেখো।

উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিখ্যাত শিল্প শহর হলো:
১) দুর্গাপুর: এটি বিশাল লৌহ-ইস্পাত শিল্প (Steel Plant) এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বিখ্যাত।
২) চিত্তরঞ্জন: এখানে ভারতের বিখ্যাত রেল ইঞ্জিন তৈরির কারখানা (Locomotive Works) অবস্থিত।
৩) হলদিয়া: হুগলি ও হলদি নদীর মোহনায় অবস্থিত এই শহরে বন্দর এবং পেট্রোরসায়ন শিল্প (Petrochemicals) গড়ে উঠেছে।
৪) হাওড়া: এটি বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প ও চটকলের জন্য বিখ্যাত।
৫) কৃষ্ণনগর ও বিষ্ণুপুর: এগুলো যথাক্রমে মাটির পুতুল তৈরি এবং টেরাকোটা ও রেশম তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত।

১০ তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চল কাকে বলে? এখানকার বনভূমির ও বন্যপ্রাণীর বর্ণনা দাও।

উত্তর:
তরাই ও ডুয়ার্স: দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ের ঠিক নিচে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও শিলিগুড়ির বিস্তীর্ণ স্যাঁতসেঁতে সমতল ও বনভূমি অঞ্চলকে তরাই ও ডুয়ার্স বলা হয়। তিস্তা নদীর পশ্চিম ভাগকে তরাই এবং পূর্ব ভাগকে ডুয়ার্স বলে।

বনভূমি ও প্রাণী: এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, তাই এখানে ঘন জঙ্গল এবং বড়ো বড়ো ঘাসের প্রান্তর দেখা যায়। এখানকার শাল, সেগুন, খয়ের, শিশু গাছ বিখ্যাত। এই অঞ্চলের জলদাপাড়া এবং গরুমারা জাতীয় উদ্যান বিখ্যাত, কারণ এখানে বিখ্যাত একশৃঙ্গ গন্ডার বাস করে। এছাড়া এখানে প্রচুর হাতি, বাইসন, হরিণ এবং বক্সা জয়ন্তীর পাহাড়ে বাঘ দেখা যায়।
Sponsored Links

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি - FAQs

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম হলো সান্দাকফু। এটি দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত।

গঙ্গা নদী মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ানের কাছে দুই ভাগে (পদ্মা এবং ভাগীরথী-হুগলি) ভাগ হয়েছে।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার ইতিহাস বিজড়িত হাজারদুয়ারি প্রাসাদ মুর্শিদাবাদ শহরে অবস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জলদাপাড়া এবং গরুমারা অভয়ারণ্যে বিখ্যাত একশৃঙ্গ গন্ডার দেখা যায়।

পোড়ামাটির বা টেরাকোটার চমৎকার মন্দিরের জন্য বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহর বিখ্যাত।