অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ (Chapter Summary)
পঞ্চম শ্রেণির পরিবেশ, খনিজ ও শক্তি সম্পদ অধ্যায়ে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত নানা প্রকার খনিজ সম্পদ এবং শক্তির উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. কয়লা ও খনিজ তেল: মাটির নিচে হাজার হাজার বছর ধরে গাছপালা চাপা পড়ে কয়লা তৈরি হয়। রানিগঞ্জ ও আসানসোলে কয়লাখনি আছে। খনি দু-রকমের হয়— খোলামুখ খনি এবং সুড়ঙ্গ খনি। একইভাবে মাটির নিচে প্রাণীর মৃতদেহ চাপা পড়ে পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল তৈরি হয়।
২. প্রচলিত শক্তি: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, রান্নার গ্যাস ইত্যাদি হলো প্রচলিত শক্তি। এগুলো বেশি ব্যবহার করলে একসময় ফুরিয়ে যাবে। জলবিদ্যুৎও প্রচলিত শক্তি, তবে এটি বারবার ব্যবহার করা যায় এবং ফুরিয়ে যায় না।
৩. অপ্রচলিত শক্তি: যেসব শক্তি এখনও বেশি ব্যবহার হয় না, কিন্তু অফুরন্ত, তাদের অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তি বলে। যেমন— সোলার প্যানেলের সাহায্যে সৌরশক্তি, বায়ুকলের সাহায্যে বায়ুশক্তি, জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস এবং জোয়ারের জল থেকে তৈরি শক্তি।
৪. ভবিষ্যতের শক্তি: কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পুড়লে পরিবেশ দূষণ হয়। তাই দূষণ কমাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তি বাঁচাতে আমাদের অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
মূল বিষয়বস্তু:
১. কয়লা ও খনিজ তেল: মাটির নিচে হাজার হাজার বছর ধরে গাছপালা চাপা পড়ে কয়লা তৈরি হয়। রানিগঞ্জ ও আসানসোলে কয়লাখনি আছে। খনি দু-রকমের হয়— খোলামুখ খনি এবং সুড়ঙ্গ খনি। একইভাবে মাটির নিচে প্রাণীর মৃতদেহ চাপা পড়ে পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল তৈরি হয়।
২. প্রচলিত শক্তি: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, রান্নার গ্যাস ইত্যাদি হলো প্রচলিত শক্তি। এগুলো বেশি ব্যবহার করলে একসময় ফুরিয়ে যাবে। জলবিদ্যুৎও প্রচলিত শক্তি, তবে এটি বারবার ব্যবহার করা যায় এবং ফুরিয়ে যায় না।
৩. অপ্রচলিত শক্তি: যেসব শক্তি এখনও বেশি ব্যবহার হয় না, কিন্তু অফুরন্ত, তাদের অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তি বলে। যেমন— সোলার প্যানেলের সাহায্যে সৌরশক্তি, বায়ুকলের সাহায্যে বায়ুশক্তি, জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস এবং জোয়ারের জল থেকে তৈরি শক্তি।
৪. ভবিষ্যতের শক্তি: কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পুড়লে পরিবেশ দূষণ হয়। তাই দূষণ কমাতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তি বাঁচাতে আমাদের অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১ ইটখোলায় ইট পোড়ানোর জন্য প্রধানত কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: খ) কয়লা
২ পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ শহরটি কীসের জন্য বিখ্যাত?
উত্তর: গ) কয়লাখনি
৩ যেসব খনির মুখ ওপরের দিকে খোলা থাকে, তাদের কী বলে?
উত্তর: ক) খোলামুখ খনি
৪ বড়ো এবং গভীর কয়লাখনিগুলিতে ঢোকার জন্য কী থাকে?
উত্তর: খ) সুড়ঙ্গ
৫ গভীর কয়লাখনির ভেতরের ছাদ ও দেওয়াল কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: গ) কয়লা
৬ হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে গাছপালা চাপা পড়ে কী তৈরি হয়?
উত্তর: ক) কয়লা
৭ মাটির নিচে প্রাণীদের মৃতদেহ চাপা পড়ে প্রাকৃতিক উপায়ে কী তৈরি হয়?
উত্তর: খ) পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল
৮ কয়লা এবং পেট্রোলিয়ামকে একসাথে কী বলা হয়?
উত্তর: ক) জীবাশ্ম জ্বালানি
৯ পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল মাটির নিচে কী অবস্থায় থাকে?
উত্তর: খ) তরল
১০ গাড়ি, বাস বা লরি চালাতে প্রধানত কোন জ্বালানি লাগে?
উত্তর: খ) পেট্রোল বা ডিজেল
১১ নীচের কোনটি পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল থেকে পাওয়া যায় না?
উত্তর: ঘ) কয়লা
১২ রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের গ্যাসে (LPG) কী থাকে?
উত্তর: গ) পেট্রোলিয়াম গ্যাস
১৩ যেসব শক্তির উৎস আমরা প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করি এবং যা একদিন ফুরিয়ে যাবে, তাদের কী বলে?
উত্তর: ক) প্রচলিত শক্তি
১৪ কোনটি একটি প্রচলিত শক্তির উদাহরণ?
উত্তর: খ) কয়লা থেকে পাওয়া শক্তি
১৫ কোনটি একটি অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তির উদাহরণ?
উত্তর: গ) সৌরশক্তি
১৬ সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয় কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
উত্তর: খ) সোলার প্যানেল
১৭ সূর্যের তাপ ব্যবহার করে রান্না করা যায় কোন যন্ত্রে?
উত্তর: ক) সোলার কুকার
১৮ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পচা বা আধ-পচা বর্জ্য থেকে কোন গ্যাস তৈরি হয়?
উত্তর: গ) জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস
১৯ নদীর তীব্র স্রোত বা জলের গতিকে কাজে লাগিয়ে যে বিদ্যুৎ তৈরি হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: খ) জলবিদ্যুৎ
২০ জলবিদ্যুৎ কী ধরনের শক্তি?
উত্তর: খ) এটি প্রচলিত শক্তি কিন্তু বারবার ব্যবহার করা যায় এবং ফুরোয় না
২১ বায়ুপ্রবাহের শক্তি কাজে লাগিয়ে পাখা ঘুরিয়ে কী তৈরি করা হয়?
উত্তর: ক) বিদ্যুৎ (বায়ুশক্তি)
২২ সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার জলকে কাজে লাগিয়ে কোন শক্তি উৎপন্ন করা যায়?
উত্তর: গ) জোয়ার-ভাটার শক্তি বা বিদ্যুৎ
২৩ অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার এখনও কম কেন?
উত্তর: খ) এগুলির শুরুতে খরচ বেশি এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাব আছে
২৪ কয়লা ও পেট্রোলিয়াম বেশি ব্যবহার করলে প্রধান সমস্যা কী হবে?
উত্তর: খ) এগুলি একসময় ফুরিয়ে যাবে এবং পরিবেশ দূষিত হবে
২৫ কয়লা পোড়ালে পরিবেশে কী ছড়ায়?
উত্তর: ক) বিষাক্ত ধোঁয়া ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
২৬ নীচের কোনটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব শক্তি (যাতে দূষণ হয় না)?
উত্তর: গ) সৌরশক্তি
২৭ খনিজ তেল শোধন করে বা পরিষ্কার করে আমরা কী পাই?
উত্তর: খ) পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন
২৮ কয়লাখনির সুড়ঙ্গের ভেতরে আলো কেমন থাকে?
উত্তর: খ) ইলেকট্রিকের আলো থাকলেও চারপাশ কালো কয়লার জন্য বেশ অন্ধকার থাকে
২৯ কয়লাখনির ভেতরে দেওয়াল চুঁইয়ে কী পড়ে?
উত্তর: গ) জল
৩০ বর্তমানে মানুষের সবথেকে বেশি ব্যবহার করা শক্তির উৎস কোনটি?
উত্তর: গ) জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা ও পেট্রোলিয়াম)
৩১ আমাদের কেন অকারণে ফ্যান বা আলো চালিয়ে রাখা উচিত নয়?
উত্তর: খ) বিদ্যুৎ তৈরি করতে কয়লা পোড়াতে হয়, তাই বিদ্যুৎ বাঁচালে কয়লা বাঁচবে
৩২ অপ্রচলিত শক্তির একটি বড়ো সুবিধা কী?
উত্তর: খ) এগুলো অফুরন্ত এবং এগুলোতে পরিবেশ দূষণ হয় না
৩৩ সাইকেল চালালে কোন শক্তির খরচ বাঁচে?
উত্তর: খ) খনিজ তেলের বা জ্বালানি শক্তি
৩৪ খনিজ সম্পদ সাধারণত কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: গ) মাটির অনেক গভীরে খনিতে
৩৫ রোদ ব্যবহার করে যে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাকে কী বলে?
উত্তর: ক) সৌরবিদ্যুৎ
৩৬ বিজ্ঞানীরা কেন অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন?
উত্তর: খ) কারণ কয়লা-পেট্রোলিয়াম ফুরিয়ে আসছে এবং দূষণ বাড়ছে
৩৭ কয়লা থেকে যে বিদ্যুৎ তৈরি হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: খ) তাপবিদ্যুৎ
৩৮ রাস্তায় সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা উচিত কেন?
উত্তর: খ) খনিজ তেল বা জ্বালানি বাঁচানোর জন্য
৩৯ রাস্তার ধারে বা বাড়ির ছাদে লাগানো ছোটো সোলার প্যানেলে কোন শক্তি জমা হয়?
উত্তর: খ) সূর্যের আলো বা সৌরশক্তি
৪০ জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস কোথায় সবচেয়ে সহজে তৈরি করা যায়?
উত্তর: ক) গ্রামে, যেখানে প্রচুর গোবর ও উদ্ভিদের বর্জ্য পাওয়া যায়
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
১ ইটখোলায় কী কাজ হয়?
উত্তর: ইটখোলায় কাঁচা মাটির ইট সাজিয়ে রেখে প্রচুর কয়লার সাহায্যে আগুন জ্বালিয়ে সেই কাঁচা ইটকে পুড়িয়ে শক্ত ও লাল ইটে পরিণত করা হয়।
২ রানিগঞ্জ ও আসানসোল অঞ্চল কেন বিখ্যাত?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ ও আসানসোল অঞ্চল প্রচুর বড়ো বড়ো কয়লাখনির জন্য বিখ্যাত। এখান থেকে সারা রাজ্যে কয়লা সরবরাহ করা হয়।
৩ খোলামুখ খনি কাকে বলে?
উত্তর: মাটির খুব গভীরে না গিয়ে, পুকুর বা বিশাল গর্ত কাটার মতো মাটি খুঁড়ে যে খনি থেকে কয়লা বা অন্য খনিজ তোলা হয়, যার মুখ ওপরের দিকে খোলা থাকে, তাকে খোলামুখ খনি বলে।
৪ গভীর খনি বা সুড়ঙ্গ খনি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যেসব খনিতে খনিজ পদার্থ মাটির অনেক গভীরে থাকে, সেখানে মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ বা টানেল কেটে খনির ভেতরে ঢুকে খনিজ পদার্থ তোলা হয়, একেই গভীর বা সুড়ঙ্গ খনি বলে।
৫ গভীর কয়লাখনির ভেতরের পরিবেশ কেমন হয়?
উত্তর: গভীর কয়লাখনির ভেতর পুরোটাই অন্ধকার। সেখানে মেঝে, দেওয়াল, ছাদ সবই কয়লার তৈরি। অনেক সময় দেওয়াল থেকে জল চুঁইয়ে পড়ে। ইলেকট্রিক আলো থাকলেও চারিদিক কালো হওয়ায় আলোর জোর কম মনে হয়।
৬ জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল কাকে বলে?
উত্তর: হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ প্রচণ্ড তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে যে জ্বালানি তৈরি করে, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। যেমন- কয়লা ও পেট্রোলিয়াম।
৭ কয়লা কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিশাল বনভূমির গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। সেখানে বাতাসের অভাব এবং মাটির প্রচণ্ড তাপ ও চাপে সেই গাছপালাই ধীরে ধীরে কয়লায় পরিণত হয়।
৮ পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: মাটির নিচে বা সমুদ্রের তলদেশে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মৃত প্রাণীদের দেহ চাপা পড়ে থাকে। ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে সেই প্রাণীদেহ গলে গিয়ে ধীরে ধীরে তরল খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামে পরিণত হয়।
৯ খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম থেকে কী কী পাওয়া যায়?
উত্তর: মাটির নিচ থেকে পাওয়া অপরিশোধিত খনিজ তেলকে কারখানায় শোধন করে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, পিচ, ন্যাফথা এবং রান্নার গ্যাস (LPG) পাওয়া যায়।
১০ প্রচলিত শক্তি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব শক্তির উৎস আমরা বহুকাল ধরে প্রাত্যহিক জীবনে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করে আসছি এবং যেগুলোর ভাণ্ডার সীমিত, তাদের প্রচলিত শক্তি বলে। যেমন- কয়লা ও পেট্রোলিয়াম।
১১ দুটি প্রচলিত শক্তির নাম লেখো।
উত্তর: কয়লা এবং পেট্রোলিয়াম (বা খনিজ তেল) হলো দুটি প্রধান প্রচলিত শক্তি।
১২ অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব শক্তির উৎস অফুরন্ত, বারবার ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না এবং যেগুলোর ব্যবহার এখনও তেমনভাবে প্রচলিত হয়নি, তাদের অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তি বলে। যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।
১৩ দুটি অপ্রচলিত শক্তির নাম লেখো।
উত্তর: সৌরশক্তি (সূর্যের আলো) এবং বায়ুশক্তি (বাতাসের গতি) হলো দুটি অপ্রচলিত শক্তি।
১৪ সোলার প্যানেল কী কাজে লাগে?
উত্তর: সোলার প্যানেল হলো এমন একটি যন্ত্র যা সরাসরি সূর্যের আলোকে বা সৌরশক্তিকে গ্রহণ করে তাকে বিদ্যুতে (সৌরবিদ্যুৎ) রূপান্তরিত করে।
১৫ সোলার কুকার কী?
উত্তর: সোলার কুকার হলো এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে কোনো গ্যাস বা কয়লা ছাড়াই শুধুমাত্র সূর্যের প্রচণ্ড তাপকে কাজে লাগিয়ে রান্নাবান্নার কাজ করা যায়।
১৬ জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: গবাদি পশুর গোবর, মরা গাছপালা, আনাজের খোসা এবং প্রাণীদের অন্যান্য বর্জ্য পদার্থকে একটি বায়ুশূন্য ট্যাঙ্কে পচিয়ে যে গ্যাস তৈরি করা হয়, তাকে জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস বলে। এটি রান্নার কাজে লাগে।
১৭ বায়ুশক্তি কীভাবে কাজে লাগানো হয়?
উত্তর: সমুদ্রের ধারে বা ফাঁকা মাঠে যেখানে প্রবল বাতাস বয়, সেখানে বড়ো বড়ো পাখা বা টারবাইন লাগিয়ে বাতাসের শক্তিতে সেই পাখা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ (বায়ুবিদ্যুৎ) তৈরি করা হয়।
১৮ জলবিদ্যুৎ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: নদীর প্রবল জলের স্রোত বা জলপ্রপাতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন বা বড়ো চাকা ঘুরিয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা গঠন করা যায়, তাকেই জলবিদ্যুৎ বলে।
১৯ জলবিদ্যুৎ প্রচলিত শক্তি হওয়া সত্ত্বেও এর সুবিধা কী?
উত্তর: জলবিদ্যুৎ প্রচলিত শক্তি হলেও এটি পরিবেশবান্ধব এবং এর উৎস (নদীর জল) অফুরন্ত হওয়ায় এটি বারবার ব্যবহার করা যায়, কখনোই ফুরিয়ে যায় না।
২০ কয়লা বা খনিজ তেলের একটি বড়ো অসুবিধা লেখো।
উত্তর: কয়লা বা খনিজ তেলের সবচেয়ে বড়ো অসুবিধা হলো এগুলো পোড়ালে প্রচুর বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গত হয়, যা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। এছাড়া এগুলো একদিন ফুরিয়ে যাবে।
২১ অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার এখনও আমাদের দেশে কম কেন?
উত্তর: অপ্রচলিত শক্তি (যেমন- সোলার প্যানেল বা বায়ুকল) বসাতে শুরুতে অনেক বেশি টাকা খরচ হয় এবং সঠিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে, তাই এদের ব্যবহার এখনও কম।
২২ জোয়ারের জল কাজে লাগিয়ে কী করা যায়?
উত্তর: সমুদ্রের জোয়ারের সময় জলের যে বিশাল জলোচ্ছ্বাস বা স্রোত তৈরি হয়, সেই প্রবল গতিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়।
২৩ শক্তির সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: শক্তির অপচয় না করে, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই শক্তি (বিদ্যুৎ, জ্বালানি) ব্যবহার করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখাকেই শক্তির সংরক্ষণ বলে।
২৪ আমাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা উচিত কেন?
উত্তর: আমাদের দেশের বেশিরভাগ বিদ্যুৎ তৈরি হয় কয়লা পুড়িয়ে (তাপবিদ্যুৎ)। তাই আমরা যদি অকারণে ফ্যান বা আলো না জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ বাঁচাই, তবে পরোক্ষভাবে মূল্যবান কয়লা বাঁচানো হবে এবং দূষণও কমবে।
২৫ তাপবিদ্যুৎ কাকে বলে?
উত্তর: কয়লা পুড়িয়ে যে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়, সেই তাপকে কাজে লাগিয়ে জল ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করে তার সাহায্যে জেনারেটর চালিয়ে যে বিদ্যুৎ তৈরি হয়, তাকে তাপবিদ্যুৎ বলে।
২৬ পেট্রোল ও ডিজেল মূলত কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: পেট্রোল ও ডিজেল মূলত বাইক, গাড়ি, বাস, লরি, ট্রেন ইত্যাদি যানবাহন চালানোর জ্বালানি হিসেবে এবং কারখানায় বড়ো বড়ো জেনারেটর ও মেশিন চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৭ রান্নার গ্যাসে (LPG) কী থাকে এবং এটি কোথা থেকে আসে?
উত্তর: রান্নার গ্যাসে লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) থাকে। খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামকে শোধন করার সময়ই উপজাত হিসেবে এই গ্যাস পাওয়া যায়।
২৮ কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের ভাণ্ডার সীমিত কেন?
উত্তর: কয়লা ও পেট্রোলিয়াম তৈরি হতে প্রাকৃতিক উপায়ে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগে। কিন্তু মানুষ এগুলো খুব দ্রুত তুলে খরচ করে ফেলছে, তাই এদের ভাণ্ডার সীমিত ও ফুরিয়ে যাওয়ার মুখে।
২৯ খনিজ তেল তোলার জন্য কী করতে হয়?
উত্তর: খনিজ তেল তোলার জন্য মাটির গভীরে বা সমুদ্রের নিচে ড্রিলিং মেশিনের সাহায্যে খুব গভীর গর্ত বা নলকূপ খনন করতে হয়, তারপর পাম্প করে সেই তেল তোলা হয়।
৩০ তুমি কীভাবে শক্তি সংরক্ষণ করতে পারো তার দুটি উপায় লেখো।
উত্তর: ১) দিনের বেলা ঘরে সূর্যের আলো ঢুকলে অকারণে লাইট না জ্বালিয়ে এবং ঘর থেকে বেরোনোর সময় লাইট-ফ্যান বন্ধ করে বিদ্যুৎ বা শক্তি সংরক্ষণ করা যায়। ২) কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য বাইকের বদলে সাইকেল ব্যবহার করে।
রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions)
১ কয়লা কীভাবে সৃষ্টি হয় তা বিস্তারিত লেখো।
উত্তর:
কয়লা হলো একপ্রকার জীবাশ্ম জ্বালানি। আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে ছিল ঘন জঙ্গল। নানা রকম প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা প্রবল ভূমিকম্পের ফলে সেই বিশাল বনভূমির বড়ো বড়ো গাছপালা মাটির অনেক গভীরে চাপা পড়ে যায়।
মাটির নিচে কোনো বাতাস থাকে না। সেখানে ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ এবং ওপরের মাটির প্রবল চাপে সেই চাপা পড়া গাছপালাগুলি ধীরে ধীরে রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে কঠিন, কালো রঙের পাথরের মতো পদার্থে পরিণত হয়। একেই আমরা কয়লা বলি। তাই কয়লাকে আসলে সঞ্চিত সৌরশক্তিও বলা যেতে পারে।
মাটির নিচে কোনো বাতাস থাকে না। সেখানে ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ এবং ওপরের মাটির প্রবল চাপে সেই চাপা পড়া গাছপালাগুলি ধীরে ধীরে রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে কঠিন, কালো রঙের পাথরের মতো পদার্থে পরিণত হয়। একেই আমরা কয়লা বলি। তাই কয়লাকে আসলে সঞ্চিত সৌরশক্তিও বলা যেতে পারে।
২ কয়লাখনি কয় প্রকার ও কী কী? একটি গভীর কয়লাখনির ভেতরের পরিবেশ কেমন হয় তা বর্ণনা করো।
উত্তর:
কয়লাখনি মূলত দু-প্রকার হয়: ১) খোলামুখ খনি (যেখানে ওপর থেকে বিশাল গর্ত করে কয়লা তোলা হয়) এবং ২) সুড়ঙ্গ খনি বা গভীর খনি (যেখানে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে কয়লা তোলা হয়)।
গভীর খনির ভেতরের পরিবেশ: গভীর খনির ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে যেন এক আলাদা অন্ধকার জগৎ। চারদিকের দেওয়াল, ছাদ এবং মেঝে পুরোটাই কালো কয়লা দিয়ে ঘেরা। মাটি চুঁইয়ে মাঝে মাঝেই দেওয়াল ও ছাদ থেকে জল পড়ে। ইলেকট্রিকের আলোর ব্যবস্থা থাকলেও চারিদিক কুচকুচে কালো কয়লা থাকায় সেই আলোর জোর খুব একটা বোঝা যায় না। খনিশ্রমিকরা মাথায় আলো লাগানো হেলমেট পরে খুব সাবধানে সেখানে কাজ করেন।
কয়লাখনি মূলত দু-প্রকার হয়: ১) খোলামুখ খনি (যেখানে ওপর থেকে বিশাল গর্ত করে কয়লা তোলা হয়) এবং ২) সুড়ঙ্গ খনি বা গভীর খনি (যেখানে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ কেটে কয়লা তোলা হয়)।
গভীর খনির ভেতরের পরিবেশ: গভীর খনির ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে যেন এক আলাদা অন্ধকার জগৎ। চারদিকের দেওয়াল, ছাদ এবং মেঝে পুরোটাই কালো কয়লা দিয়ে ঘেরা। মাটি চুঁইয়ে মাঝে মাঝেই দেওয়াল ও ছাদ থেকে জল পড়ে। ইলেকট্রিকের আলোর ব্যবস্থা থাকলেও চারিদিক কুচকুচে কালো কয়লা থাকায় সেই আলোর জোর খুব একটা বোঝা যায় না। খনিশ্রমিকরা মাথায় আলো লাগানো হেলমেট পরে খুব সাবধানে সেখানে কাজ করেন।
৩ পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল কীভাবে তৈরি হয় এবং এই খনিজ তেল থেকে আমরা কী কী পাই?
উত্তর:
পেট্রোলিয়াম তৈরির পদ্ধতি: কয়লার মতোই পেট্রোলিয়ামও একপ্রকার জীবাশ্ম জ্বালানি। লক্ষ লক্ষ বছর আগে মাটির নিচে বা সমুদ্রের তলদেশে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী বা অন্যান্য প্রাণীদের মৃতদেহ চাপা পড়ে যায়। ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ এবং ওপরের প্রবল চাপে সেই মৃতদেহগুলি গলে গিয়ে ধীরে ধীরে তরল খনিজ তেলে বা পেট্রোলিয়ামে পরিণত হয়।
পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার: মাটির নিচ থেকে তোলা এই কালো রঙের অপরিশোধিত তেল কারখানায় শোধন বা রিফাইন করা হয়। শোধন করার পর আমরা এখান থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, পিচ, মোম এবং রান্নার গ্যাস (LPG) পেয়ে থাকি। এগুলো পরিবহন ও রান্নার কাজে প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পেট্রোলিয়াম তৈরির পদ্ধতি: কয়লার মতোই পেট্রোলিয়ামও একপ্রকার জীবাশ্ম জ্বালানি। লক্ষ লক্ষ বছর আগে মাটির নিচে বা সমুদ্রের তলদেশে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী বা অন্যান্য প্রাণীদের মৃতদেহ চাপা পড়ে যায়। ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ এবং ওপরের প্রবল চাপে সেই মৃতদেহগুলি গলে গিয়ে ধীরে ধীরে তরল খনিজ তেলে বা পেট্রোলিয়ামে পরিণত হয়।
পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার: মাটির নিচ থেকে তোলা এই কালো রঙের অপরিশোধিত তেল কারখানায় শোধন বা রিফাইন করা হয়। শোধন করার পর আমরা এখান থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, পিচ, মোম এবং রান্নার গ্যাস (LPG) পেয়ে থাকি। এগুলো পরিবহন ও রান্নার কাজে প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪ প্রচলিত ও অপ্রচলিত শক্তির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
প্রচলিত শক্তি:
১) যেসব শক্তির উৎস মানুষ বহুকাল ধরে ব্যবহার করে আসছে, তাদের প্রচলিত শক্তি বলে। যেমন- কয়লা, পেট্রোলিয়াম।
২) এই শক্তিগুলির ভাণ্ডার পৃথিবীতে সীমিত। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে এরা একদিন ফুরিয়ে যাবে।
৩) এগুলি ব্যবহার করলে বাতাসে ধোঁয়া ছড়ায় এবং পরিবেশ খুব বেশি দূষিত হয়।
অপ্রচলিত শক্তি:
১) যেসব শক্তির উৎস এখনও সেভাবে ব্যবহার হয় না কিন্তু অফুরন্ত, তাদের অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তি বলে। যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।
২) এই শক্তিগুলি বারবার ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না।
৩) এগুলি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, অর্থাৎ এগুলোতে কোনো পরিবেশ দূষণ হয় না।
প্রচলিত শক্তি:
১) যেসব শক্তির উৎস মানুষ বহুকাল ধরে ব্যবহার করে আসছে, তাদের প্রচলিত শক্তি বলে। যেমন- কয়লা, পেট্রোলিয়াম।
২) এই শক্তিগুলির ভাণ্ডার পৃথিবীতে সীমিত। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে এরা একদিন ফুরিয়ে যাবে।
৩) এগুলি ব্যবহার করলে বাতাসে ধোঁয়া ছড়ায় এবং পরিবেশ খুব বেশি দূষিত হয়।
অপ্রচলিত শক্তি:
১) যেসব শক্তির উৎস এখনও সেভাবে ব্যবহার হয় না কিন্তু অফুরন্ত, তাদের অপ্রচলিত বা নবীকরণযোগ্য শক্তি বলে। যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।
২) এই শক্তিগুলি বারবার ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না।
৩) এগুলি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, অর্থাৎ এগুলোতে কোনো পরিবেশ দূষণ হয় না।
৫ অপ্রচলিত শক্তির (যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) সুবিধাগুলি কী কী এবং এগুলো এখনও বেশি ব্যবহার হয় না কেন?
উত্তর:
অপ্রচলিত শক্তির সুবিধা:
১) এগুলো অফুরন্ত। সূর্য বা বাতাস কোনোদিনই শেষ হয়ে যাবে না। তাই এই শক্তিগুলি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত।
২) এই শক্তিগুলো থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া বেরোয় না, তাই এগুলো সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব।
ব্যবহার কম হওয়ার কারণ:
১) সোলার প্যানেল বা বড়ো বায়ুকল বসানোর জন্য শুরুতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়, যা সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
২) আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এই খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন।
অপ্রচলিত শক্তির সুবিধা:
১) এগুলো অফুরন্ত। সূর্য বা বাতাস কোনোদিনই শেষ হয়ে যাবে না। তাই এই শক্তিগুলি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত।
২) এই শক্তিগুলো থেকে কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া বেরোয় না, তাই এগুলো সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব।
ব্যবহার কম হওয়ার কারণ:
১) সোলার প্যানেল বা বড়ো বায়ুকল বসানোর জন্য শুরুতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়, যা সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
২) আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এই খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন।
৬ শক্তির সংরক্ষণ কেন অত্যন্ত জরুরি এবং আমরা দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে শক্তি সংরক্ষণ করতে পারি?
উত্তর:
শক্তির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: আমরা রোজ যে কয়লা, পেট্রোল বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, তার ভাণ্ডার সীমিত। এগুলো তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর লাগে। আমরা যে হারে এগুলো পুড়িয়ে শেষ করছি, তাতে খুব তাড়াতাড়ি এগুলো ফুরিয়ে যাবে। তখন পৃথিবীতে মানবসভ্যতা বিপদে পড়বে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে শক্তি সংরক্ষণ করা জরুরি।
সংরক্ষণের উপায়:
১) দিনের বেলা অকারণে আলো না জ্বালিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহার করা।
২) ঘর থেকে বেরোনোর সময় ফ্যান, লাইট বা এসি বন্ধ করে দেওয়া।
৩) সিগন্যালে দাঁড়ালে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখা এবং কাছাকাছি যাওয়ার জন্য বাইকের বদলে সাইকেল ব্যবহার করা।
শক্তির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: আমরা রোজ যে কয়লা, পেট্রোল বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, তার ভাণ্ডার সীমিত। এগুলো তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর লাগে। আমরা যে হারে এগুলো পুড়িয়ে শেষ করছি, তাতে খুব তাড়াতাড়ি এগুলো ফুরিয়ে যাবে। তখন পৃথিবীতে মানবসভ্যতা বিপদে পড়বে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে শক্তি সংরক্ষণ করা জরুরি।
সংরক্ষণের উপায়:
১) দিনের বেলা অকারণে আলো না জ্বালিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহার করা।
২) ঘর থেকে বেরোনোর সময় ফ্যান, লাইট বা এসি বন্ধ করে দেওয়া।
৩) সিগন্যালে দাঁড়ালে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখা এবং কাছাকাছি যাওয়ার জন্য বাইকের বদলে সাইকেল ব্যবহার করা।
৭ জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস কী এবং এর সুবিধাগুলি কী কী?
উত্তর:
জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস: গ্রামগঞ্জে গবাদি পশুর প্রচুর গোবর, মরা গাছপালা, পাতা, আনাজের খোসা এবং অন্যান্য কৃষিজ বর্জ্য পদার্থ পাওয়া যায়। এই বর্জ্য পদার্থগুলিকে একটি বড়ো বায়ুশূন্য গর্ত বা ট্যাঙ্কের মধ্যে পচিয়ে যে বিশেষ গ্যাস উৎপন্ন করা হয়, তাকেই জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস বলে।
সুবিধা:
১) এটি একটি চমৎকার অপ্রচলিত শক্তি, যা রান্নার কাজে বা আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে কাঠ বা কয়লা বাঁচে।
২) এটি থেকে কোনো ধোঁয়া হয় না।
৩) ট্যাঙ্ক থেকে গ্যাস তৈরি হওয়ার পর যে অবশিষ্ট বর্জ্য পড়ে থাকে, তা জমির খুব ভালো জৈব সার হিসেবে কাজ করে।
জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস: গ্রামগঞ্জে গবাদি পশুর প্রচুর গোবর, মরা গাছপালা, পাতা, আনাজের খোসা এবং অন্যান্য কৃষিজ বর্জ্য পদার্থ পাওয়া যায়। এই বর্জ্য পদার্থগুলিকে একটি বড়ো বায়ুশূন্য গর্ত বা ট্যাঙ্কের মধ্যে পচিয়ে যে বিশেষ গ্যাস উৎপন্ন করা হয়, তাকেই জৈব গ্যাস বা বায়ো গ্যাস বলে।
সুবিধা:
১) এটি একটি চমৎকার অপ্রচলিত শক্তি, যা রান্নার কাজে বা আলো জ্বালানোর কাজে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে কাঠ বা কয়লা বাঁচে।
২) এটি থেকে কোনো ধোঁয়া হয় না।
৩) ট্যাঙ্ক থেকে গ্যাস তৈরি হওয়ার পর যে অবশিষ্ট বর্জ্য পড়ে থাকে, তা জমির খুব ভালো জৈব সার হিসেবে কাজ করে।
৮ সোলার প্যানেল ও সোলার কুকারের কাজ ও সুবিধা বর্ণনা করো।
উত্তর:
সোলার প্যানেল: এটি সিলিকন দিয়ে তৈরি একটি আয়তকার বোর্ড, যা বাড়ির ছাদে বা রোদে রাখা হয়। এর কাজ হলো সূর্যের আলোকে শোষণ করে তাকে সরাসরি বিদ্যুতে (সৌরবিদ্যুৎ) রূপান্তরিত করা। এই বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমিয়ে রেখে লাইট, ফ্যান চালানো যায়।
সোলার কুকার: এটি একটি আয়না ও কাঁচ লাগানো বিশেষ ধরনের বাক্স। এর কাজ হলো সূর্যের প্রখর তাপকে বাক্সের ভেতরে আটকে রাখা। সেই তাপে বাক্সের ভেতরে থাকা খাবার কোনো গ্যাস বা কয়লা ছাড়াই সেদ্ধ হয়ে যায় বা রান্না হয়ে যায়।
সুবিধা: এই দুটি যন্ত্রই বিনামূল্যে অফুরন্ত সৌরশক্তি ব্যবহার করে এবং এগুলোতে একটুও দূষণ হয় না।
সোলার প্যানেল: এটি সিলিকন দিয়ে তৈরি একটি আয়তকার বোর্ড, যা বাড়ির ছাদে বা রোদে রাখা হয়। এর কাজ হলো সূর্যের আলোকে শোষণ করে তাকে সরাসরি বিদ্যুতে (সৌরবিদ্যুৎ) রূপান্তরিত করা। এই বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমিয়ে রেখে লাইট, ফ্যান চালানো যায়।
সোলার কুকার: এটি একটি আয়না ও কাঁচ লাগানো বিশেষ ধরনের বাক্স। এর কাজ হলো সূর্যের প্রখর তাপকে বাক্সের ভেতরে আটকে রাখা। সেই তাপে বাক্সের ভেতরে থাকা খাবার কোনো গ্যাস বা কয়লা ছাড়াই সেদ্ধ হয়ে যায় বা রান্না হয়ে যায়।
সুবিধা: এই দুটি যন্ত্রই বিনামূল্যে অফুরন্ত সৌরশক্তি ব্যবহার করে এবং এগুলোতে একটুও দূষণ হয় না।
৯ পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে কয়লা ও খনিজ তেলের ভূমিকা কী?
উত্তর:
কয়লা এবং খনিজ তেল (পেট্রোল, ডিজেল) হলো আমাদের প্রধান জ্বালানি। কিন্তু পরিবেশ দূষণের জন্য এগুলোই সবচেয়ে বেশি দায়ী:
১) কলকারখানা বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া এবং ক্ষতিকারক কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস বাতাসে মেশে। এতে বায়ুদূষণ হয় এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে (গ্লোবাল ওয়ার্মিং)।
২) রাস্তায় চলা হাজার হাজার বাস, লরি, বাইকের পেট্রোল-ডিজেলের ধোঁয়া আমাদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি এবং ফুসফুসের নানা রোগের সৃষ্টি করে।
৩) অনেক সময় সমুদ্রে খনিজ তেলবাহী জাহাজ লিক করে তেল ছড়িয়ে পড়ে, যা সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছেদের মেরে ফেলে এবং মারাত্মক জলদূষণ ঘটায়।
কয়লা এবং খনিজ তেল (পেট্রোল, ডিজেল) হলো আমাদের প্রধান জ্বালানি। কিন্তু পরিবেশ দূষণের জন্য এগুলোই সবচেয়ে বেশি দায়ী:
১) কলকারখানা বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া এবং ক্ষতিকারক কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস বাতাসে মেশে। এতে বায়ুদূষণ হয় এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে (গ্লোবাল ওয়ার্মিং)।
২) রাস্তায় চলা হাজার হাজার বাস, লরি, বাইকের পেট্রোল-ডিজেলের ধোঁয়া আমাদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি এবং ফুসফুসের নানা রোগের সৃষ্টি করে।
৩) অনেক সময় সমুদ্রে খনিজ তেলবাহী জাহাজ লিক করে তেল ছড়িয়ে পড়ে, যা সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছেদের মেরে ফেলে এবং মারাত্মক জলদূষণ ঘটায়।
১০ জলবিদ্যুৎ কীভাবে তৈরি হয় এবং এটি কেন অন্যান্য প্রচলিত শক্তির চেয়ে ভালো?
উত্তর:
জলবিদ্যুৎ তৈরির পদ্ধতি: পাহাড়ি খরস্রোতা নদী বা নদীর ওপর বিশাল বাঁধ (Dam) তৈরি করে জলকে আটকে রাখা হয়। তারপর সেই জলকে প্রবল বেগে নিচের দিকে ফেলে বড়ো বড়ো চাকা বা টারবাইন ঘোরানো হয়। টারবাইনের সাথে যুক্ত জেনারেটর ঘুরলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। একে জলবিদ্যুৎ বলে।
অন্যান্য শক্তির চেয়ে ভালো কেন: জলবিদ্যুৎ কয়লা বা পেট্রোলিয়ামের মতোই একটি প্রচলিত শক্তি। কিন্তু কয়লা পোড়ালে যেমন ধোঁয়া হয়, জলবিদ্যুৎ তৈরিতে সেরকম কোনো ধোঁয়া বা দূষণ হয় না। এছাড়া কয়লা একদিন ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু নদীর জলপ্রবাহ অফুরন্ত। তাই জলবিদ্যুৎ বারবার ব্যবহার করা যায় এবং এটি পরিবেশবান্ধব।
জলবিদ্যুৎ তৈরির পদ্ধতি: পাহাড়ি খরস্রোতা নদী বা নদীর ওপর বিশাল বাঁধ (Dam) তৈরি করে জলকে আটকে রাখা হয়। তারপর সেই জলকে প্রবল বেগে নিচের দিকে ফেলে বড়ো বড়ো চাকা বা টারবাইন ঘোরানো হয়। টারবাইনের সাথে যুক্ত জেনারেটর ঘুরলেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। একে জলবিদ্যুৎ বলে।
অন্যান্য শক্তির চেয়ে ভালো কেন: জলবিদ্যুৎ কয়লা বা পেট্রোলিয়ামের মতোই একটি প্রচলিত শক্তি। কিন্তু কয়লা পোড়ালে যেমন ধোঁয়া হয়, জলবিদ্যুৎ তৈরিতে সেরকম কোনো ধোঁয়া বা দূষণ হয় না। এছাড়া কয়লা একদিন ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু নদীর জলপ্রবাহ অফুরন্ত। তাই জলবিদ্যুৎ বারবার ব্যবহার করা যায় এবং এটি পরিবেশবান্ধব।
Sponsored Links