Sponsored Links
এই জীবন (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
বিখ্যাত কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'এই জীবন' কবিতার সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত আধুনিক যুগের বিশিষ্ট কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'এই জীবন' কবিতার সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. কবিতার বিষয়সংক্ষেপ
পরিপূর্ণ জীবনের আকাঙ্ক্ষা: কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'এই জীবন' কবিতায় জীবনের প্রতি তীব্র ভালোবাসা এবং বাঁচার মতো বাঁচার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কবি মনে করেন, জীবন কোনো জড় পদার্থ নয়; একে পরিপূর্ণভাবে এবং মর্যাদার সঙ্গে উপভোগ করতে হবে। বেঁচে থাকতে গেলে কবি জীবনের কোনো প্রাপ্তিকেই ছাড়তে রাজি নন। তিনি বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে 'ক্ষুধার অন্ন' বা খাবার দাবি করেছেন, কিন্তু তাঁর দাবি শুধু অন্নতেই সীমাবদ্ধ নয়।
সৌন্দর্যের খোঁজ ও শোষণের প্রতিবাদ: শুধু পেট ভরে খাওয়াটাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। কবি প্রাকৃতিক রোদ, বৃষ্টি এবং জীবনের সমস্ত 'লাবণ্য' বা সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে চান। তাঁর এই ন্যায্য অধিকার ও সৌন্দর্য থেকে কেউ তাঁকে বঞ্চিত করলে তিনি 'গোটা দুনিয়া' খেয়ে ফেলার অর্থাৎ তীব্র বিদ্রোহ করার হুমকি দিয়েছেন। কবি তীব্র ভাষায় সমাজের শোষক শ্রেণির প্রতিবাদ করেছেন। তিনি কিছুতেই মানতে রাজি নন যে কেউ তাঁকে গ্রামে-গঞ্জে ভিখারি করে পালিয়ে যাবে, কিংবা তাঁকে সুতো কলে বা কামারশালায় কম মজুরির বিনিময়ে নিলামে বিক্রি করা হবে।
মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীন সত্তা: কবি তাঁর অধিকার বুঝে নিতে বদ্ধপরিকর। এখন তাঁর 'অন্য খেলা'। তিনি চান পদ্মপাতায় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো ফড়িংয়ের মতো আপনমনে জীবনের আনন্দে মেতে উঠতে। এই পৃথিবীতে তিনি 'মানুষ সেজে' অর্থাৎ মানবিক সত্তা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই সারাজীবন মানবিক মর্যাদা ও অধিকার বজায় রেখেই তিনি মৃত্যুর পরপারে 'মানুষ হয়েই' ফিরে যেতে চান।
সৌন্দর্যের খোঁজ ও শোষণের প্রতিবাদ: শুধু পেট ভরে খাওয়াটাই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। কবি প্রাকৃতিক রোদ, বৃষ্টি এবং জীবনের সমস্ত 'লাবণ্য' বা সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে চান। তাঁর এই ন্যায্য অধিকার ও সৌন্দর্য থেকে কেউ তাঁকে বঞ্চিত করলে তিনি 'গোটা দুনিয়া' খেয়ে ফেলার অর্থাৎ তীব্র বিদ্রোহ করার হুমকি দিয়েছেন। কবি তীব্র ভাষায় সমাজের শোষক শ্রেণির প্রতিবাদ করেছেন। তিনি কিছুতেই মানতে রাজি নন যে কেউ তাঁকে গ্রামে-গঞ্জে ভিখারি করে পালিয়ে যাবে, কিংবা তাঁকে সুতো কলে বা কামারশালায় কম মজুরির বিনিময়ে নিলামে বিক্রি করা হবে।
মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীন সত্তা: কবি তাঁর অধিকার বুঝে নিতে বদ্ধপরিকর। এখন তাঁর 'অন্য খেলা'। তিনি চান পদ্মপাতায় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো ফড়িংয়ের মতো আপনমনে জীবনের আনন্দে মেতে উঠতে। এই পৃথিবীতে তিনি 'মানুষ সেজে' অর্থাৎ মানবিক সত্তা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই সারাজীবন মানবিক মর্যাদা ও অধিকার বজায় রেখেই তিনি মৃত্যুর পরপারে 'মানুষ হয়েই' ফিরে যেতে চান।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| অন্ন | ভাত / খাবার | নিছক | কেবল / কেবলমাত্র |
| লাবণ্য | সৌন্দর্য / কমনীয়তা | জীবন্ত | প্রাণবন্ত / সজীব |
| নিলাম | ডাক হেঁকে বিক্রি করা | ক্ষুধা | খিদে |
| কামারশালা | যেখানে লোহা পিটিয়ে জিনিস তৈরি হয় | সুতো কল | কাপড়ের বা সুতোর কারখানা |
| ফড়িং | একপ্রকার ছোটো পতঙ্গ | দুনিয়া | পৃথিবী / জগৎ |
| ভিখারি | ভিক্ষুক / যে ভিক্ষে করে | আপনমনে | নিজের খেয়ালে / স্বাধীনভাবে |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'এই জীবন' কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায় (গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ঘ) শঙ্খ ঘোষ
উত্তর: (গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
২. কবি কীভাবে বাঁচতে চান?
(ক) রাজার মতন (খ) বাঁচার মতন (গ) অমর হয়ে (ঘ) লুকিয়ে
উত্তর: (খ) বাঁচার মতন
৩. বাঁচতে বাঁচতে কবি কী ছাড়তে রাজি নন?
(ক) অর্থ (খ) ক্ষমতা (গ) অহংকার (ঘ) কিছুই ছাড়বেন না
উত্তর: (ঘ) কিছুই ছাড়বেন না
৪. কবি প্রথমে কী দাবি করেছেন?
(ক) টাকা (খ) ক্ষুধার অন্ন (গ) বাসস্থান (ঘ) স্বাধীনতা
উত্তর: (খ) ক্ষুধার অন্ন
৫. 'এই জীবনটা গোটা একটা জীবন হয়ে...' কী হোক?
(ক) দীর্ঘায়ু হোক (খ) জীবন্ত হোক (গ) শান্ত হোক (ঘ) সুন্দর হোক
উত্তর: (খ) জীবন্ত হোক
৬. 'শুধু যা নয় নিছক অন্ন' - নিছক অন্ন ছাড়া কবির আর কী চাই?
(ক) সব লাবণ্য (খ) সব ঐশ্বর্য (গ) সব খ্যাতি (ঘ) সব জ্ঞান
উত্তর: (ক) সব লাবণ্য
৭. কবির দাবি পূরণ না হলে তিনি কী করবেন বলেছেন?
(ক) দেশ ছাড়বেন (খ) যুদ্ধ করবেন (গ) গোটা দুনিয়া খাবেন (ঘ) নীরব থাকবেন
উত্তর: (গ) গোটা দুনিয়া খাবেন
৮. কবিকে কোথায় ভিখারি করার কথা বলা হয়েছে?
(ক) হাটে-বাজারে (খ) শহরে-নগরে (গ) গ্রামে-গঞ্জে (ঘ) দেশে-বিদেশে
উত্তর: (গ) গ্রামে-গঞ্জে
৯. কবিকে কোথায় নিলাম করার কথা বলা হয়েছে?
(ক) সুতো কলে (খ) হাটে (গ) বাজারে (ঘ) মেলায়
উত্তর: (ক) সুতো কলে
১০. সুতো কল ছাড়া আর কোথায় কবিকে নিলাম করার কথা বলা হয়েছে?
(ক) ইটের ভাটায় (খ) চটকলে (গ) কামারশালায় (ঘ) কয়লাখনিতে
উত্তর: (গ) কামারশালায়
১১. "আমি কিছুই ছাড়ব না আর, এখন আমার..." কী?
(ক) অন্য রূপ (খ) অন্য খেলা (গ) অন্য পথ (ঘ) অন্য গান
উত্তর: (খ) অন্য খেলা
১২. ফড়িং কোথায় আপনমনে খেলায় মাতে?
(ক) ঘাসের ডগায় (খ) ফুলের ওপর (গ) পদ্মপাতায় (ঘ) গাছের পাতায়
উত্তর: (গ) পদ্মপাতায়
১৩. 'গোটা জীবন ... সেজে আসা হলো।' - শূন্যস্থানে কী বসবে?
(ক) দেবতা (খ) মানুষ (গ) পথিক (ঘ) রাজা
উত্তর: (খ) মানুষ
১৪. কবি কীভাবে ফিরে যেতে চান?
(ক) একা হয়ে (খ) বীর হয়ে (গ) মানুষ হয়েই (ঘ) অমর হয়ে
উত্তর: (গ) মানুষ হয়েই
১৫. "রোদ ও বৃষ্টি" - এটি কীসের প্রতীক?
(ক) দুঃখের (খ) সজীব জীবনের বৈচিত্র্যের (গ) অন্ধকারের (ঘ) ধ্বংসের
উত্তর: (খ) সজীব জীবনের বৈচিত্র্যের
১৬. 'নিলাম' বলতে কী বোঝায়?
(ক) কিনে নেওয়া (খ) দান করা (গ) ডাক হেঁকে বিক্রি করা (ঘ) চুরি করা
উত্তর: (গ) ডাক হেঁকে বিক্রি করা
১৭. 'লাবণ্য' শব্দের অর্থ কী?
(ক) লবণাক্ত (খ) সৌন্দর্য (গ) বিশালত্ব (ঘ) ঐশ্বর্য
উত্তর: (খ) সৌন্দর্য
১৮. 'নিছক' শব্দের অর্থ কী?
(ক) নিখুঁত (খ) পরিষ্কার (গ) কেবল বা খাঁটি (ঘ) নির্দিষ্ট
উত্তর: (গ) কেবল বা খাঁটি
১৯. ফড়িং কীভাবে খেলা করে?
(ক) লুকিয়ে (খ) দলবেঁধে (গ) আপনমনে (ঘ) চুপচাপ
উত্তর: (গ) আপনমনে
২০. কবিতাটিতে কবির কোন্ মনোভাব তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) হতাশা (খ) জীবনের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ও অধিকারবোধ (গ) দুঃখবোধ (ঘ) বৈরাগ্য
উত্তর: (খ) জীবনের প্রতি তীব্র ভালোবাসা ও অধিকারবোধ
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. 'বাঁচতে হবে বাঁচার মতন' - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: কথাটির অর্থ হলো, কেবল কোনোমতে টিকে থাকা নয়; বরং আত্মমর্যাদা, অধিকার এবং জীবনের সমস্ত আনন্দকে উপভোগ করে পরিপূর্ণভাবে বাঁচা।
২. কবি 'ক্ষুধার অন্ন' কেন চেয়েছেন?
উত্তর: অন্ন বা খাবার হলো মানুষের বেঁচে থাকার প্রাথমিক এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই জীবনধারণের প্রথম শর্ত হিসেবে কবি 'ক্ষুধার অন্ন' দাবি করেছেন।
৩. 'এই জীবনটা... জীবন্ত হোক' - জীবনকে জীবন্ত করার অর্থ কী?
উত্তর: জীবন যেন জড় পদার্থ বা যন্ত্রের মতো প্রাণহীন না হয়; বরং তা যেন রোদ-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক সজীবতায় এবং আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
৪. 'শুধু যা নয় নিছক অন্ন / আমার চাই সব লাবণ্য' - নিছক অন্ন ছাড়া আর কী প্রয়োজন?
উত্তর: জীবনধারণের জন্য কেবল নিছক অন্ন বা খাবারই যথেষ্ট নয়; মানুষের মন ও আত্মাকে তৃপ্ত করার জন্য জীবনের সৌন্দর্য বা লাবণ্য এবং শিল্প-সংস্কৃতিরও প্রয়োজন।
৫. 'নইলে গোটা দুনিয়া খাব!' - কবির এই হুমকির কারণ কী?
উত্তর: যদি কবিকে তাঁর বেঁচে থাকার ন্যায্য অধিকার, অন্ন এবং জীবনের লাবণ্য থেকে সমাজ বঞ্চিত করে, তবে তিনি তীব্র ক্ষোভে ও প্রতিবাদে গোটা দুনিয়া ধ্বংস বা গ্রাস করার হুমকি দিয়েছেন।
৬. 'আমাকে কেউ গ্রামে-গঞ্জে / ভিখারি করে / পালিয়ে যাবে?' - কারা কবিকে ভিখারি করে?
উত্তর: সমাজের পুঁজিপতি, শোষক ও বঞ্চনাকারীরা সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে গ্রামে-গঞ্জে ভিখারি বানিয়ে দেয়।
৭. 'আমায় কেউ নিলাম করবে সুতো কলে, কামারশালায়?' - এর অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, শিল্পপতি ও মালিকশ্রেণি কারখানায়, সুতো কলে বা কামারশালায় শ্রমিকদের অত্যন্ত কম মজুরির বিনিময়ে পণ্য বা যন্ত্রের মতো সস্তায় কিনে নিয়ে নির্দয়ভাবে শোষণ করে।
৮. 'আমি কিছুই ছাড়ব না আর, এখন আমার / অন্য খেলা' - অন্য খেলাটি কী?
উত্তর: এতদিন শোষিত হওয়ার পর কবি আর নিঃশব্দে কিছু ছাড়বেন না। এখন তাঁর 'অন্য খেলা' হলো শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নিজের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা বুঝে নেওয়ার সংগ্রাম।
৯. পদ্মপাতায় ফড়িং কী করে?
উত্তর: পদ্মপাতায় ফড়িং সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বাধাহীনভাবে আপন খেয়ালে বা আপনমনে খেলায় মেতে ওঠে।
১০. ফড়িংয়ের অনুষঙ্গটি কবিতায় কেন ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: ফড়িংয়ের মতো স্বাধীন, মুক্ত এবং প্রাকৃতিক আনন্দে পরিপূর্ণ এক সুন্দর জীবনের আকাঙ্ক্ষা বোঝাতেই কবি এই অনুষঙ্গটি ব্যবহার করেছেন।
১১. 'মানুষ সেজে আসা হলো' - বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীতে কবি বা সাধারণ মানুষ জীবশ্রেষ্ঠ 'মানুষ' রূপেই জন্মগ্রহণ করেছেন—এ কথা বোঝাতেই পঙ্ক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে।
১২. 'মানুষ হয়েই ফিরে যাব' - এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার পর সারাজীবন যেন মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা, অধিকার এবং মনুষ্যত্ব বজায় থাকে এবং মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তা অটুট থাকে, কবি সেই অঙ্গীকার করেছেন।
১৩. 'রোদ ও বৃষ্টি' কবিতায় কীসের ইঙ্গিত বহন করে?
উত্তর: 'রোদ ও বৃষ্টি' হলো প্রাকৃতিক প্রাণবন্ততার প্রতীক। মানুষের জীবনও যেন প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে এই রোদ-বৃষ্টির বৈচিত্র্যে সজীব ও প্রাণময় হয়ে ওঠে।
১৪. 'এই জীবন' কবিতায় কবির মূল দাবিগুলি কী কী?
উত্তর: কবির মূল দাবি হলো—ক্ষুধার অন্ন, জীবনের সমস্ত লাবণ্য বা সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং শোষণমুক্ত হয়ে মানুষের মতো মর্যাদা নিয়ে বাঁচা।
১৫. কবিতাটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কোন্ মানসিকতার পরিচায়ক?
উত্তর: কবিতাটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনের প্রতি তীব্র রোমান্টিক ভালোবাসা এবং একইসঙ্গে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর কড়া প্রতিবাদী মানসিকতার পরিচায়ক।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. 'বাঁচতে হবে বাঁচার মতন' - কবির এই বাঁচার আকাঙ্ক্ষার স্বরূপটি 'এই জীবন' কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর: কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর 'এই জীবন' কবিতায় শুধু কোনোমতে টিকে থাকার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, মানবজীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই এই জীবনকে 'বাঁচার মতন' বাঁচতে হবে, অর্থাৎ মাথা উঁচু করে, আত্মমর্যাদার সাথে এবং সমস্ত মানবিক অধিকার নিয়ে পরিপূর্ণভাবে বাঁচতে হবে।
বাঁচার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে কবি 'ক্ষুধার অন্ন' চেয়েছেন। কিন্তু মানুষ তো যন্ত্র নয়, তাই শুধু পেট ভরলেই তার চলে না। মনের খোরাক মেটানোর জন্য তার চাই রোদ-বৃষ্টির সজীবতা এবং জীবনের সমস্ত 'লাবণ্য' বা সৌন্দর্য। কবি এই জীবনের কোনো আনন্দ থেকেই নিজেকে বঞ্চিত রাখতে রাজি নন। তাঁর এই বাঁচার আকাঙ্ক্ষা এতটাই তীব্র যে, কেউ যদি তাঁকে তাঁর এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়, তবে তিনি 'গোটা দুনিয়া' গ্রাস করে ফেলার মতো প্রবল প্রতিবাদে ফেটে পড়ার হুমকি দিয়েছেন। পদ্মপাতায় ফড়িং যেমন স্বাধীন আনন্দে ঘুরে বেড়ায়, কবিও তেমনই শোষণহীন ও মুক্ত এক জীবনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
বাঁচার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে কবি 'ক্ষুধার অন্ন' চেয়েছেন। কিন্তু মানুষ তো যন্ত্র নয়, তাই শুধু পেট ভরলেই তার চলে না। মনের খোরাক মেটানোর জন্য তার চাই রোদ-বৃষ্টির সজীবতা এবং জীবনের সমস্ত 'লাবণ্য' বা সৌন্দর্য। কবি এই জীবনের কোনো আনন্দ থেকেই নিজেকে বঞ্চিত রাখতে রাজি নন। তাঁর এই বাঁচার আকাঙ্ক্ষা এতটাই তীব্র যে, কেউ যদি তাঁকে তাঁর এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়, তবে তিনি 'গোটা দুনিয়া' গ্রাস করে ফেলার মতো প্রবল প্রতিবাদে ফেটে পড়ার হুমকি দিয়েছেন। পদ্মপাতায় ফড়িং যেমন স্বাধীন আনন্দে ঘুরে বেড়ায়, কবিও তেমনই শোষণহীন ও মুক্ত এক জীবনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
২. "নইলে গোটা দুনিয়া খাব!" - কবির এই উক্তির মধ্যে দিয়ে যে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: উৎস: উদ্ধৃত উক্তিটি কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা 'এই জীবন' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদ ও ক্ষোভের কারণ: পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করার পর বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার এবং জীবনের সৌন্দর্য উপভোগ করার দাবি প্রতিটি মানুষের থাকে। কবি তাঁর কবিতায় নিজের জন্য 'ক্ষুধার অন্ন' এবং জীবনের সব 'লাবণ্য' দাবি করেছেন। কিন্তু আমাদের এই পুঁজিবাদী ও বৈষম্যমূলক সমাজে সাধারণ মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত করা হয়। শোষক শ্রেণি মানুষের অন্ন কেড়ে নিয়ে তাদের ভিখারি বানিয়ে দেয়।
কবি এই বঞ্চনা মেনে নিতে রাজি নন। তিনি তাঁর প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। যদি সমাজ তাঁকে তাঁর অধিকার, অন্ন এবং লাবণ্য দিতে অস্বীকার করে, তবে তিনি নীরব থাকবেন না। তাঁর ভেতরের ক্ষোভ তখন প্রলয়ের রূপ নেবে এবং তিনি গোটা দুনিয়া বা সমাজব্যবস্থাকেই গ্রাস বা ধ্বংস করে ফেলবেন। উক্তিটির মধ্য দিয়ে শোষিত মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবির এক তীব্র ও সোচ্চার প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।
প্রতিবাদ ও ক্ষোভের কারণ: পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করার পর বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার এবং জীবনের সৌন্দর্য উপভোগ করার দাবি প্রতিটি মানুষের থাকে। কবি তাঁর কবিতায় নিজের জন্য 'ক্ষুধার অন্ন' এবং জীবনের সব 'লাবণ্য' দাবি করেছেন। কিন্তু আমাদের এই পুঁজিবাদী ও বৈষম্যমূলক সমাজে সাধারণ মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত করা হয়। শোষক শ্রেণি মানুষের অন্ন কেড়ে নিয়ে তাদের ভিখারি বানিয়ে দেয়।
কবি এই বঞ্চনা মেনে নিতে রাজি নন। তিনি তাঁর প্রাপ্য অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না। যদি সমাজ তাঁকে তাঁর অধিকার, অন্ন এবং লাবণ্য দিতে অস্বীকার করে, তবে তিনি নীরব থাকবেন না। তাঁর ভেতরের ক্ষোভ তখন প্রলয়ের রূপ নেবে এবং তিনি গোটা দুনিয়া বা সমাজব্যবস্থাকেই গ্রাস বা ধ্বংস করে ফেলবেন। উক্তিটির মধ্য দিয়ে শোষিত মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবির এক তীব্র ও সোচ্চার প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।
৩. "আমায় কেউ নিলাম করবে সুতো কলে, / কামারশালায়?" - এই পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে সমাজের কোন্ বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে?
উত্তর: উৎস: আলোচ্য পঙ্ক্তিটি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'এই জীবন' কবিতা থেকে গৃহীত।
বাস্তব চিত্র: এই পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে কবি আধুনিক শিল্পনির্ভর ও পুঁজিবাদী সমাজের এক রূঢ় ও অমানবিক শোষণের চিত্র তুলে ধরেছেন। সমাজে পুঁজিপতি বা মালিকশ্রেণি সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষকে কখনোই মানুষের মর্যাদা দেয় না। তারা গরিব মানুষকে সুতো কলে, কারখানায় বা কামারশালায় একপ্রকার দাসে পরিণত করে। নিলামে যেমন জড় বস্তুকে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি করা হয়, তেমনি এখানে অভাবী মানুষদের অত্যন্ত সস্তায় বা কম মজুরির বিনিময়ে কিনে নেওয়া হয়। তাদের শ্রমকে নির্দয়ভাবে শোষণ করে মালিকরা নিজেদের মুনাফা বাড়ায়, আর শ্রমিকের জীবন পরিণত হয় এক প্রাণহীন যন্ত্রে। কবি তীব্র ভাষায় এই অমানবিক প্রথার প্রতিবাদ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি কখনোই নিজের মনুষ্যত্ব ও জীবনকে এইভাবে মালিকশ্রেণির হাতে নিলাম হতে বা বিকিয়ে যেতে দেবেন না।
বাস্তব চিত্র: এই পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে কবি আধুনিক শিল্পনির্ভর ও পুঁজিবাদী সমাজের এক রূঢ় ও অমানবিক শোষণের চিত্র তুলে ধরেছেন। সমাজে পুঁজিপতি বা মালিকশ্রেণি সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষকে কখনোই মানুষের মর্যাদা দেয় না। তারা গরিব মানুষকে সুতো কলে, কারখানায় বা কামারশালায় একপ্রকার দাসে পরিণত করে। নিলামে যেমন জড় বস্তুকে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি করা হয়, তেমনি এখানে অভাবী মানুষদের অত্যন্ত সস্তায় বা কম মজুরির বিনিময়ে কিনে নেওয়া হয়। তাদের শ্রমকে নির্দয়ভাবে শোষণ করে মালিকরা নিজেদের মুনাফা বাড়ায়, আর শ্রমিকের জীবন পরিণত হয় এক প্রাণহীন যন্ত্রে। কবি তীব্র ভাষায় এই অমানবিক প্রথার প্রতিবাদ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি কখনোই নিজের মনুষ্যত্ব ও জীবনকে এইভাবে মালিকশ্রেণির হাতে নিলাম হতে বা বিকিয়ে যেতে দেবেন না।
৪. "মানুষ সেজে আসা হলো, / মানুষ হয়েই ফিরে যাব" - পঙ্ক্তি দুটির অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উৎস: উদ্ধৃত পঙ্ক্তি দুটি কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'এই জীবন' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্নিহিত অর্থ: পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া সমস্ত জীবের মধ্যে মানুষ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। 'মানুষ সেজে আসা হলো' বলতে কবি বুঝিয়েছেন যে, এই মর্ত্যে আমরা শ্রেষ্ঠ মানবিক সত্তা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু বাস্তব সমাজে দেখা যায়, শোষক শ্রেণির অত্যাচারে এবং দারিদ্র্যের কশাঘাতে মানুষ তার মনুষ্যত্ব ও মর্যাদা হারিয়ে কখনো ভিখারিতে, আবার কখনো কারখানার দাসে পরিণত হয়।
কবি এই অবক্ষয়ের তীব্র বিরোধী। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, জীবনের কোনো অধিকার তিনি ছাড়বেন না। পদ্মপাতার ফড়িংয়ের মতো স্বাধীন সত্তায় তিনি বাঁচবেন। সারাজীবন মানুষের প্রাপ্য সম্মান, অধিকার এবং মর্যাদা তিনি মাথা উঁচু করে আদায় করে নেবেন। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তাঁর ভেতরের মানবিক সত্তা বা মনুষ্যত্বকে তিনি কিছুতেই কলঙ্কিত হতে দেবেন না। অর্থাৎ, মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে শেষদিন পর্যন্ত মানুষের মতোই মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করার দৃঢ় সংকল্পই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
অন্তর্নিহিত অর্থ: পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া সমস্ত জীবের মধ্যে মানুষ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। 'মানুষ সেজে আসা হলো' বলতে কবি বুঝিয়েছেন যে, এই মর্ত্যে আমরা শ্রেষ্ঠ মানবিক সত্তা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু বাস্তব সমাজে দেখা যায়, শোষক শ্রেণির অত্যাচারে এবং দারিদ্র্যের কশাঘাতে মানুষ তার মনুষ্যত্ব ও মর্যাদা হারিয়ে কখনো ভিখারিতে, আবার কখনো কারখানার দাসে পরিণত হয়।
কবি এই অবক্ষয়ের তীব্র বিরোধী। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, জীবনের কোনো অধিকার তিনি ছাড়বেন না। পদ্মপাতার ফড়িংয়ের মতো স্বাধীন সত্তায় তিনি বাঁচবেন। সারাজীবন মানুষের প্রাপ্য সম্মান, অধিকার এবং মর্যাদা তিনি মাথা উঁচু করে আদায় করে নেবেন। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তাঁর ভেতরের মানবিক সত্তা বা মনুষ্যত্বকে তিনি কিছুতেই কলঙ্কিত হতে দেবেন না। অর্থাৎ, মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়ে শেষদিন পর্যন্ত মানুষের মতোই মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করার দৃঢ় সংকল্পই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
৫. 'এই জীবন' কবিতায় একদিকে যেমন জীবনের প্রতি তীব্র ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদও ধ্বনিত হয়েছে - আলোচনা করো।
উত্তর: কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর 'এই জীবন' কবিতায় রোমান্টিক জীবনতৃষ্ণা এবং বাস্তববাদী সমাজসচেতনতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।
জীবনের প্রতি ভালোবাসা: কবিতার শুরুতেই কবি জীবনের প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণের কথা জানিয়েছেন। তিনি জীবনকে কেবল নিছক অন্ন বা বেঁচে থাকার গণ্ডিতে বাঁধতে চান না। তিনি চান রোদ-বৃষ্টির সজীবতা এবং জীবনের সমস্ত 'লাবণ্য'। পদ্মপাতায় ফড়িংয়ের স্বাধীন খেলার উপমা দিয়ে কবি এক প্রাণবন্ত, মুক্ত ও সুন্দর জীবনের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: অন্যদিকে, এই সুন্দর জীবন উপভোগ করার পথে যে সমাজব্যবস্থা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তার বিরুদ্ধে কবি তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। যারা সাধারণ মানুষকে গ্রামে-গঞ্জে ভিখারি বানায়, কিংবা সুতো কলে ও কামারশালায় সস্তায় নিলাম করে শ্রম শোষণ করে, কবি তাদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। অধিকার না পেলে তিনি 'গোটা দুনিয়া' খেয়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এখন তাঁর 'অন্য খেলা' অর্থাৎ অধিকার আদায়ের লড়াই। সুতরাং, জীবনের প্রতি অকৃতিম প্রেমের পাশাপাশি শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের সুরেই কবিতাটি সার্থক হয়ে উঠেছে।
জীবনের প্রতি ভালোবাসা: কবিতার শুরুতেই কবি জীবনের প্রতি তাঁর তীব্র আকর্ষণের কথা জানিয়েছেন। তিনি জীবনকে কেবল নিছক অন্ন বা বেঁচে থাকার গণ্ডিতে বাঁধতে চান না। তিনি চান রোদ-বৃষ্টির সজীবতা এবং জীবনের সমস্ত 'লাবণ্য'। পদ্মপাতায় ফড়িংয়ের স্বাধীন খেলার উপমা দিয়ে কবি এক প্রাণবন্ত, মুক্ত ও সুন্দর জীবনের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: অন্যদিকে, এই সুন্দর জীবন উপভোগ করার পথে যে সমাজব্যবস্থা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তার বিরুদ্ধে কবি তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। যারা সাধারণ মানুষকে গ্রামে-গঞ্জে ভিখারি বানায়, কিংবা সুতো কলে ও কামারশালায় সস্তায় নিলাম করে শ্রম শোষণ করে, কবি তাদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। অধিকার না পেলে তিনি 'গোটা দুনিয়া' খেয়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এখন তাঁর 'অন্য খেলা' অর্থাৎ অধিকার আদায়ের লড়াই। সুতরাং, জীবনের প্রতি অকৃতিম প্রেমের পাশাপাশি শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের সুরেই কবিতাটি সার্থক হয়ে উঠেছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- বৃষ্টি = বৃষ্ + তি
- ক্ষুধার্ত = ক্ষুধা + ঋত
- জীবন্ত = জীব্ + অন্ত
- স্বাধীন = স্ব + অধীন
- অন্নদ = অন্ন + দ
সমাস নির্ণয়
- পদ্মপাতা: পদ্মের পাতা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- কামারশালা: কামারদের শালা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- সুতোকল: সুতোর কল (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- গ্রাম-গঞ্জ: গ্রাম ও গঞ্জ (দ্বন্দ্ব সমাস)
- আপনমনে: আপন যে মন তাতে (কর্মধারয় সমাস)
পদ পরিবর্তন
- জীবন ➜ জীবিত
- ক্ষুধা ➜ ক্ষুধার্ত
- লাবণ্য ➜ লাবণ্যময়
- গ্রাম ➜ গ্রাম্য
- মানুষ ➜ মানবিক
এই জীবন কবিতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
কবিতাটি প্রখ্যাত কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা। এর মূল সুর হলো জীবনের প্রতি তীব্র ভালোবাসা, বাঁচার মতো বাঁচার অধিকারের দাবি এবং সমাজব্যবস্থার শোষণের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ।
মানুষের বাঁচার জন্য শুধু খাবার বা অন্নই যথেষ্ট নয়; তাই জীবনকে পরিপূর্ণ ও সুন্দর করতে কবি অন্নের পাশাপাশি জীবনের সমস্ত 'লাবণ্য' বা সৌন্দর্যও দাবি করেছেন।
সমাজে পুঁজিপতিদের দ্বারা শ্রমশোষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে কবি বলেছেন যে তাঁকে সুতো কলে কিংবা কামারশালায় নিলাম করার বা কম মজুরিতে বিক্রি করার চেষ্টা চলছে।