Sponsored Links
উপোস (বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়)
বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'উপোস' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত 'উপোস' গল্পের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
নোয়াখালির দাঙ্গা ও গান্ধিজির প্রভাব: বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত 'উপোস' গল্পটি স্বাধীনতাপূর্ব ভারতের এক অস্থির ও দাঙ্গাপীড়িত সময়ের পটভূমিতে লেখা। গল্পের প্রধান চরিত্র সাত বছরের ছোট্ট মেয়ে এষা (আয়েষা)। দাদু হাজিসাহেবের সঙ্গে নোয়াখালি ঘুরে আসার পর হাসিখুশি এষা হঠাৎ খুব গম্ভীর হয়ে যায়। নোয়াখালিতে তখন ভয়াবহ হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা চলছে। মহাত্মা গান্ধি দাঙ্গা থামানোর জন্য মানুষের মন বদলাতে গ্রামে গ্রামে পদযাত্রা করছেন। দাদুর সঙ্গে গিয়ে এষা গান্ধিজির দর্শন পায়। গান্ধিজির শিশুসুলভ আচরণ ও চরখা খেলা এষাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
উপোসের সংকল্প ও এষার প্রার্থনা: একদিন এষা জানতে পারে যে গান্ধিজি খুব অসুস্থ। দাঙ্গা, খুন ও লুঠতরাজ না থামলে তিনি 'উপোস' (অনশন) করে প্রাণত্যাগ করবেন বলে সংকল্প করেছেন। গান্ধিজির মৃত্যুর সম্ভাবনায় ছোট্ট এষার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে গান্ধিজিকে উপোস করতে বারণ করে এবং সারারাত জেগে খোদাতালার (ঈশ্বরের) কাছে প্রার্থনা করে যাতে মানুষের মন ভালো হয় এবং গান্ধিজিকে যেন উপোস না করতে হয়। কিন্তু দাঙ্গা থামে না এবং এষাদের টেলিগ্রাম পেয়ে তড়িঘড়ি কলকাতায় ফিরে আসতে হয়।
কলকাতায় দাঙ্গা ও এষার সাহসিকতা: কিছুদিন পর কলকাতাতেও হিন্দু-মুসলমানের ভয়ংকর দাঙ্গা বেধে যায়। রাস্তায় 'আল্লা-হো আকবর' আর 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনির সঙ্গে চলে ইট-পাটকেল ও বোতল ছোঁড়াছুড়ি। দাঙ্গাকারীদের মারামারি দেখে এষার মনে হয়, এই দাঙ্গার খবর পেলে গান্ধিজি আবার উপোস করবেন এবং এবার তিনি সত্যিই মারা যাবেন। গান্ধিজির প্রতি অগাধ ভালোবাসায় এষা মৃত্যুর পরোয়া না করে দুই দাঙ্গাকারী দলের ঠিক মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ায়। তার পরনে ছিল সাদা ফ্রক। সে দুই হাত তুলে দাঙ্গাকারীদের থামতে অনুরোধ করে এবং জানায় যে তারা না থামলে গান্ধিজি উপোস করে মারা যাবেন। একটি বোতলের টুকরো লেগে তার কোমর কেটে রক্ত ঝরলেও সে থামে না। এষার এই অলৌকিক সাহসিকতা ও মিনতি দেখে দাঙ্গাকারীরা স্তব্ধ হয়ে যায় এবং দাঙ্গা থেমে যায়। শেষে খবর আসে গান্ধিজি দিল্লি থেকে আসছেন এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষকে মিলেমিশে শান্তি ফেরাতে হবে।
উপোসের সংকল্প ও এষার প্রার্থনা: একদিন এষা জানতে পারে যে গান্ধিজি খুব অসুস্থ। দাঙ্গা, খুন ও লুঠতরাজ না থামলে তিনি 'উপোস' (অনশন) করে প্রাণত্যাগ করবেন বলে সংকল্প করেছেন। গান্ধিজির মৃত্যুর সম্ভাবনায় ছোট্ট এষার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে গান্ধিজিকে উপোস করতে বারণ করে এবং সারারাত জেগে খোদাতালার (ঈশ্বরের) কাছে প্রার্থনা করে যাতে মানুষের মন ভালো হয় এবং গান্ধিজিকে যেন উপোস না করতে হয়। কিন্তু দাঙ্গা থামে না এবং এষাদের টেলিগ্রাম পেয়ে তড়িঘড়ি কলকাতায় ফিরে আসতে হয়।
কলকাতায় দাঙ্গা ও এষার সাহসিকতা: কিছুদিন পর কলকাতাতেও হিন্দু-মুসলমানের ভয়ংকর দাঙ্গা বেধে যায়। রাস্তায় 'আল্লা-হো আকবর' আর 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনির সঙ্গে চলে ইট-পাটকেল ও বোতল ছোঁড়াছুড়ি। দাঙ্গাকারীদের মারামারি দেখে এষার মনে হয়, এই দাঙ্গার খবর পেলে গান্ধিজি আবার উপোস করবেন এবং এবার তিনি সত্যিই মারা যাবেন। গান্ধিজির প্রতি অগাধ ভালোবাসায় এষা মৃত্যুর পরোয়া না করে দুই দাঙ্গাকারী দলের ঠিক মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ায়। তার পরনে ছিল সাদা ফ্রক। সে দুই হাত তুলে দাঙ্গাকারীদের থামতে অনুরোধ করে এবং জানায় যে তারা না থামলে গান্ধিজি উপোস করে মারা যাবেন। একটি বোতলের টুকরো লেগে তার কোমর কেটে রক্ত ঝরলেও সে থামে না। এষার এই অলৌকিক সাহসিকতা ও মিনতি দেখে দাঙ্গাকারীরা স্তব্ধ হয়ে যায় এবং দাঙ্গা থেমে যায়। শেষে খবর আসে গান্ধিজি দিল্লি থেকে আসছেন এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষকে মিলেমিশে শান্তি ফেরাতে হবে।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| উপোস | অনশন / না খেয়ে থাকা | খোদাতালা | ঈশ্বর / সৃষ্টিকর্তা / আল্লাহ |
| ভাজ | দাদার স্ত্রী / বউদি | দোভাষী | যে দুই ভাষার মানুষের মধ্যে কথা অনুবাদ করে দেয় |
| বনবাদাড় | জঙ্গল ও ঝোপঝাড় | অষ্টপহর | সারাদিন-রাত / ২৪ ঘণ্টা |
| মহাত্মাজি | মহাত্মা গান্ধি | সড়কি | বল্লম বা বর্শা জাতীয় দীর্ঘ অস্ত্র |
| নেমন্তন্ন | নিমন্ত্রণ / আমন্ত্রণ | মিনতি | কাতর অনুরোধ / প্রার্থনা |
| হল্লা | শোরগোল / চেঁচামেচি | তলব | ডাক / আহ্বান |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'উপোস' গল্পটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (গ) বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় (ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
২. এষা কোথা থেকে ফিরেছে?
(ক) কলকাতা থেকে (খ) ঢাকা থেকে (গ) নোয়াখালি থেকে (ঘ) দিল্লি থেকে
উত্তর: (গ) নোয়াখালি থেকে
৩. এষার দাদুর নাম কী?
(ক) হাজিসাহেব (খ) আলি সাহেব (গ) রহিম সাহেব (ঘ) মাস্টারমশাই
উত্তর: (ক) হাজিসাহেব
৪. এষার বয়স কত?
(ক) পাঁচ বছর (খ) ছয় বছর (গ) সাত বছর (ঘ) দশ বছর
উত্তর: (গ) সাত বছর
৫. এষার ভাজ (বউদি) এষাকে কী বলে ঠাট্টা করত?
(ক) বুড়ো বড্ড ভালোবাসত (খ) পাগলি (গ) পরির মতো (ঘ) বোকা মেয়ে
উত্তর: (ক) বুড়ো বড্ড ভালোবাসত
৬. হাজিসাহেব এষাকে কার নেমন্তন্নর কথা বলেছিলেন?
(ক) লাটসায়েবের (খ) মহাত্মাজির (গ) ডাক্তারের (ঘ) গ্রামের মোড়লের
উত্তর: (খ) মহাত্মাজির
৭. এষার ভয় ছিল গান্ধিজি কিসের দুধ খেতে দেবেন?
(ক) গোরুর (খ) মোষের (গ) ছাগলের (ঘ) উটের
উত্তর: (গ) ছাগলের
৮. ঘরে ঢুকে এষা একজনকে কী করতে দেখেছিল?
(ক) রান্না করতে (খ) চরখা ঘোরাতে (গ) বই পড়তে (ঘ) খ ও গ উভয়ই
উত্তর: (ঘ) খ ও গ উভয়ই
৯. দাদু এষার ভালো নাম কী বলেছিলেন?
(ক) ফতেমা (খ) মরিয়ম (গ) আয়েষা (ঘ) আমিনা
উত্তর: (গ) আয়েষা
১০. গান্ধিজির সাথে কার কথা বলতে গেলে দোভাষী লাগত?
(ক) হাজিসাহেবের (খ) এষার (গ) ডাক্তারবাবুর (ঘ) সাধারণ মানুষের
উত্তর: (খ) এষার
১১. গান্ধিজি এষাকে কার কাছে প্রার্থনা করতে বলেছিলেন?
(ক) দাদুর কাছে (খ) খোদাতালার কাছে (গ) ডাক্তারের কাছে (ঘ) নিজের কাছে
উত্তর: (খ) খোদাতালার কাছে
১২. গান্ধিজি কীসের জন্য উপোস করতে চেয়েছিলেন?
(ক) অসুখ কমানোর জন্য (খ) দাঙ্গা ও মারামারি থামাতে (গ) পুণ্য লাভের জন্য (ঘ) রাগ করে
উত্তর: (খ) দাঙ্গা ও মারামারি থামাতে
১৩. এষাদের হঠাৎ করে কেন কলকাতায় চলে আসতে হয়েছিল?
(ক) টেলিগ্রাম পেয়ে (খ) চিঠি পেয়ে (গ) স্কুল খোলার জন্য (ঘ) অসুখ হওয়ার জন্য
উত্তর: (ক) টেলিগ্রাম পেয়ে
১৪. কলকাতায় কী নিয়ে দাঙ্গা বেধেছিল?
(ক) হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা (খ) রাজনৈতিক দাঙ্গা (গ) জমিদারদের দাঙ্গা (ঘ) ছাত্রদের দাঙ্গা
উত্তর: (ক) হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা
১৫. দাঙ্গার সময় এষার পরনে কী ছিল?
(ক) লাল শাড়ি (খ) সবুজ জামা (গ) সাদা ধবধবে ফ্রক (ঘ) নীল সালোয়ার
উত্তর: (গ) সাদা ধবধবে ফ্রক
১৬. দাঙ্গার সময় এষার গলাটা কেমন শোনাচ্ছিল?
(ক) রাগী (খ) পরির মতন (মুলতানের সুরের মতো) (গ) কর্কশ (ঘ) খুব আস্তে
উত্তর: (খ) পরির মতন (মুলতানের সুরের মতো)
১৭. এষার কোথায় বোতলের টুকরো লেগেছিল?
(ক) হাতে (খ) পায়ে (গ) মাথায় (ঘ) কোমরে
উত্তর: (ঘ) কোমরে
১৮. আঘাত পাওয়ার পরেও এষা কী বলেছিল?
(ক) আমাকে বাঁচাও (খ) ওগো তোমরা থামো (গ) আমি মরে গেলাম (ঘ) দাদুকে ডাকো
উত্তর: (খ) ওগো তোমরা থামো
১৯. দাঙ্গাকারীরা এষাকে কী ভেবেছিল?
(ক) সাধারণ মেয়ে (খ) পুলিশ (গ) আকাশের পরি (ঘ) ডাক্তার
উত্তর: (গ) আকাশের পরি
২০. শেষ পর্যন্ত কোথা থেকে খবর বা টেলিগ্রাম এসেছিল?
(ক) ঢাকা থেকে (খ) লন্ডন থেকে (গ) দিল্লি থেকে (ঘ) নোয়াখালি থেকে
উত্তর: (গ) দিল্লি থেকে
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. নোয়াখালি থেকে ফিরে এষা কেমন হয়ে গেছে?
উত্তর: নোয়াখালি থেকে ফিরে এসে আগেকার সেই হাসিখুশিতে ভরা ও প্রজাপতির মতো চঞ্চল এষা হঠাৎ খুব গম্ভীর ও চুপচাপ হয়ে গেছে।
২. এষার ভাজ এষাকে কী বলে ঠাট্টা করে?
উত্তর: এষার ভাজ (বউদি) ঠাট্টা করে বলে যে, বুড়ো (গান্ধিজি) নাকি এষাকে বড্ড ভালোবাসত, তাই গুণ করে তাকে এমন বুড়ি বা গম্ভীর করে দিয়ে গেছে।
৩. হাজিসাহেব গান্ধিজির কাছে কেন গিয়েছিলেন?
উত্তর: হাজিসাহেব অত্যন্ত ধার্মিক ও দয়ালু মানুষ ছিলেন। নোয়াখালিতে চলা হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা থামাতে গান্ধিজি যে চেষ্টা করছিলেন, হাজিসাহেব তাতে নিজের সাহায্যটুকু মিশিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন যে মানুষের মতিগতি ফেরে কি না।
৪. এষা ছাগলের দুধের কথা শুনে কী করেছিল?
উত্তর: নেমন্তন্নর কথা শুনে এষা খুশি হয়েছিল, কিন্তু যখন শুনল যে সেখানে বাটিখানেক ছাগলের দুধ খেতে দেওয়া হবে, তখন সে 'ওয়াক' শব্দ করে মুখ গোঁজ করে দাঁড়িয়েছিল এবং দাদুর হাঁটুতে ঘুষি মেরেছিল।
৫. গান্ধিজির ঘরে ঢুকে এষা কী দেখেছিল?
উত্তর: গান্ধিজির ঘরে ঢুকে এষা দেখেছিল যে সেখানে বেশি লোক নেই। মাদুরে বসে একজন মেয়ে চরখা ঘোরাচ্ছে, একজন রোগাপনা লোক বই পড়ছে, আর একজন চুপ করে বসে আছে।
৬. দোভাষীর কাজ কী ছিল?
উত্তর: গান্ধিজি যেহেতু বাংলা কথা খুব একটা বুঝতে বা বলতে পারতেন না, তাই দোভাষী এষার কথা গান্ধিজিকে এবং গান্ধিজির কথা এষাকে অনুবাদ করে বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ করত।
৭. গান্ধিজি এষাকে খোদাতালার কাছে কী চাইতে বলেছিলেন?
উত্তর: গান্ধিজি এষাকে বলেছিলেন খোদাতালার (ঈশ্বরের) কাছে এই প্রার্থনা করতে, যাতে দাঙ্গায় যাদের ঘরবাড়ি পুড়েছে এবং যারা মারা গেছে, তাদের কষ্ট যেন দূর হয় এবং দাঙ্গাকারীদের মন যেন ভালো হয়ে যায়।
৮. গান্ধিজি উপোস করার কথা কেন বলেছিলেন?
উত্তর: নোয়াখালি এবং বিহারের দাঙ্গায় মানুষ একে অপরকে খুন করছিল এবং ঘরবাড়ি জ্বালাচ্ছিল। মানুষের এই হিংসা ও দাঙ্গা থামাতেই গান্ধিজি অনশন বা উপোস করার সংকল্প করেছিলেন।
৯. এষা গান্ধিজিকে উপোস করতে বারণ করে কী বলেছিল?
উত্তর: এষা কেঁদে ফেলে গান্ধিজিকে বলেছিল উপোস না করতে। সে কথা দিয়েছিল যে সে সারারাত জেগে খোদাতালাকে ডাকবে, যাতে মানুষের মন ভালো হয়ে যায় এবং দাঙ্গা থেমে যায়।
১০. এষাদের কলকাতা ফিরে আসার পর হঠাৎ একদিন কীসের হইহই উঠল?
উত্তর: নোয়াখালির পর কলকাতাতেও ভয়ংকর দাঙ্গা শুরু হয়েছিল। রাস্তায় হঠাৎ 'আল্লা-হো আকবর' এবং 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনির প্রবল হইহই ও শোরগোল শুরু হয়েছিল।
১১. বাড়ির লোকেরা দাঙ্গার সময় কী নিয়ে দাঁড়িয়েছিল?
উত্তর: দাঙ্গার সময় প্রাণ বাঁচাতে এষার বাবা ও দাদারা বন্দুক, লাঠি ও সড়কি (বল্লম) নিয়ে নিজেদের বাড়ি পাহারার জন্য জায়গায় জায়গায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।
১২. দাঙ্গার মাঝখানে গিয়ে এষা কী বলেছিল?
উত্তর: এষা দাঙ্গার মাঝখানে গিয়ে দু-হাত তুলে কাতর গলায় বলেছিল— "ওগো তোমরা থামো! থামো না গো তোমরা! গান্ধিজি যে উপোস। গান্ধিজি যে আর বাঁচবেন না!"
১৩. এষার কোমরে কী লেগেছিল এবং তার ফলে কী হয়েছিল?
উত্তর: দাঙ্গাকারীদের ছোঁড়া একটি সোডার বোতলের টুকরো উড়ে এসে এষার কোমরে লেগেছিল। এর ফলে তার সাদা ফ্রকের ওই জায়গাটা রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল।
১৪. এষার এই কাণ্ড দেখে দাঙ্গাকারীদের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: এষার এই অদ্ভুত সাহসিকতা ও রক্ত ঝরা দেখে দাঙ্গাকারীরা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারা ভেবেছিল আকাশের পরি বুঝি নিজের রক্ত দিয়ে তাদের থামাতে এসেছে। ফলে মারামারি ও দাঙ্গা থেমে গিয়েছিল।
১৫. দিল্লি থেকে টেলিগ্রাম আসার পর কী জানা গেল?
উত্তর: দিল্লি থেকে টেলিগ্রাম আসার পর জানা গেল যে গান্ধিজি দিল্লি থেকে আসছেন। তিনি হাজিসাহেবকে তলব করেছেন যাতে সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে একে অপরকে বাঁচাতে পারে।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. 'উপোস' গল্প অবলম্বনে ছোট্ট এষা চরিত্রের সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দাও।
উত্তর: বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত 'উপোস' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো সাত বছরের ছোট্ট মেয়ে এষা (আয়েষা)। গল্পটিতে তার অসীম সাহসিকতা, মানবিকতা এবং মহাত্মা গান্ধির প্রতি তার গভীর ভালোবাসার এক অনবদ্য চিত্র ফুটে উঠেছে।
গল্পের শুরুতে এষা ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও হাসিখুশি একটি মেয়ে। কিন্তু দাদু হাজিসাহেবের সঙ্গে নোয়াখালি গিয়ে দাঙ্গার ভয়াবহতা দেখে এবং গান্ধিজির সংস্পর্শে এসে তার চরিত্রের গভীর পরিবর্তন ঘটে। গান্ধিজি যখন দাঙ্গা থামানোর জন্য 'উপোস' বা অনশন করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন ছোট্ট এষা ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে গান্ধিজিকে উপোস না করার জন্য মিনতি করে এবং সারারাত জেগে খোদাতালার কাছে প্রার্থনা করে। তার এই শিশুসুলভ কিন্তু গভীর মানবিক অনুভূতি পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়।
এষার চরিত্রের শ্রেষ্ঠ দিকটি প্রকাশিত হয় গল্পের ক্লাইম্যাক্সে। কলকাতায় যখন ভয়ংকর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয় এবং ইট-বোতল ছোঁড়াছুড়ি চলে, তখন এষা নিজের প্রাণের ভয় তুচ্ছ করে দাঙ্গাকারীদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ায়। তার ভয় ছিল, এই দাঙ্গার খবর পেলে গান্ধিজি আবার উপোস করবেন এবং মারা যাবেন। সে দুই হাত তুলে দাঙ্গাকারীদের থামতে বলে। বোতলের কাঁচ লেগে কোমর কেটে রক্ত ঝরলেও সে থামে না। এষার এই নিঃস্বার্থ সাহসিকতা ও মিনতিই শেষপর্যন্ত দুই উন্মত্ত সম্প্রদায়কে থামিয়ে দেয়। একটি সাত বছরের মেয়ের এই অভাবনীয় সাহসিকতা তাকে গল্পের এক মহৎ ও অবিস্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে।
গল্পের শুরুতে এষা ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও হাসিখুশি একটি মেয়ে। কিন্তু দাদু হাজিসাহেবের সঙ্গে নোয়াখালি গিয়ে দাঙ্গার ভয়াবহতা দেখে এবং গান্ধিজির সংস্পর্শে এসে তার চরিত্রের গভীর পরিবর্তন ঘটে। গান্ধিজি যখন দাঙ্গা থামানোর জন্য 'উপোস' বা অনশন করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন ছোট্ট এষা ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সে গান্ধিজিকে উপোস না করার জন্য মিনতি করে এবং সারারাত জেগে খোদাতালার কাছে প্রার্থনা করে। তার এই শিশুসুলভ কিন্তু গভীর মানবিক অনুভূতি পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়।
এষার চরিত্রের শ্রেষ্ঠ দিকটি প্রকাশিত হয় গল্পের ক্লাইম্যাক্সে। কলকাতায় যখন ভয়ংকর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয় এবং ইট-বোতল ছোঁড়াছুড়ি চলে, তখন এষা নিজের প্রাণের ভয় তুচ্ছ করে দাঙ্গাকারীদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ায়। তার ভয় ছিল, এই দাঙ্গার খবর পেলে গান্ধিজি আবার উপোস করবেন এবং মারা যাবেন। সে দুই হাত তুলে দাঙ্গাকারীদের থামতে বলে। বোতলের কাঁচ লেগে কোমর কেটে রক্ত ঝরলেও সে থামে না। এষার এই নিঃস্বার্থ সাহসিকতা ও মিনতিই শেষপর্যন্ত দুই উন্মত্ত সম্প্রদায়কে থামিয়ে দেয়। একটি সাত বছরের মেয়ের এই অভাবনীয় সাহসিকতা তাকে গল্পের এক মহৎ ও অবিস্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে।
২. নোয়াখালিতে এষার সঙ্গে গান্ধিজির প্রথম সাক্ষাৎ এবং তাদের বন্ধুত্বের বিবরণ দাও।
উত্তর: 'উপোস' গল্পে দাদু হাজিসাহেবের হাত ধরে ছোট্ট এষা নোয়াখালিতে মহাত্মা গান্ধির সঙ্গে দেখা করতে যায়। প্রথম সাক্ষাতের এই দৃশ্যটি অত্যন্ত সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী।
এষার ধারণা ছিল গান্ধিজি খুব ভয়ংকর কেউ হবেন, যাঁর ভয়ে লাটসায়েবরাও কাঁপে। কিন্তু ঘরে ঢুকে সে দেখে যে তিনি অত্যন্ত সাধারণ এক মানুষ। প্রথম পরিচয়ে দাদু যখন বলেন এষার ভালো নাম 'আয়েষা', তখন গান্ধিজি অত্যন্ত মিষ্টি করে হাসেন। গান্ধিজির সেই শিশুসুলভ হাসি এষার মন থেকে সমস্ত ভয় দূর করে দেয়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে খুব ভাব হয়ে যায়।
গান্ধিজি এষাকে ছোট্ট একটি চরখা ঘুরিয়ে খেলা করতে দেন। এষা মজা করে বলে যে সে চরখা ঘোরানোতে গান্ধিজিকে হারিয়ে দেবে। গান্ধিজি তার সঙ্গে গল্প করেন, তাকে ছড়া শোনান। গান্ধিজি যেহেতু বাংলা ভাষা শিখছিলেন, তাই তিনি এষার কাছে নতুন কিছু শিখলে হেসে বলতেন, "এই দেখো, মাস্টারমশাই, আমি শিখেছি।" এক বয়স্ক মহাপুরুষ এবং সাত বছরের ছোট্ট একটি মেয়ের মধ্যে ভয়-লজ্জাহীন এই নিষ্পাপ বন্ধুত্বের দৃশ্যটি গল্পটিকে এক অনন্য মাত্রা দান করেছে।
এষার ধারণা ছিল গান্ধিজি খুব ভয়ংকর কেউ হবেন, যাঁর ভয়ে লাটসায়েবরাও কাঁপে। কিন্তু ঘরে ঢুকে সে দেখে যে তিনি অত্যন্ত সাধারণ এক মানুষ। প্রথম পরিচয়ে দাদু যখন বলেন এষার ভালো নাম 'আয়েষা', তখন গান্ধিজি অত্যন্ত মিষ্টি করে হাসেন। গান্ধিজির সেই শিশুসুলভ হাসি এষার মন থেকে সমস্ত ভয় দূর করে দেয়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে খুব ভাব হয়ে যায়।
গান্ধিজি এষাকে ছোট্ট একটি চরখা ঘুরিয়ে খেলা করতে দেন। এষা মজা করে বলে যে সে চরখা ঘোরানোতে গান্ধিজিকে হারিয়ে দেবে। গান্ধিজি তার সঙ্গে গল্প করেন, তাকে ছড়া শোনান। গান্ধিজি যেহেতু বাংলা ভাষা শিখছিলেন, তাই তিনি এষার কাছে নতুন কিছু শিখলে হেসে বলতেন, "এই দেখো, মাস্টারমশাই, আমি শিখেছি।" এক বয়স্ক মহাপুরুষ এবং সাত বছরের ছোট্ট একটি মেয়ের মধ্যে ভয়-লজ্জাহীন এই নিষ্পাপ বন্ধুত্বের দৃশ্যটি গল্পটিকে এক অনন্য মাত্রা দান করেছে।
৩. "ওগো তোমরা থামো! থামো না গো তোমরা!" - কে, কাদের উদ্দেশে বলেছে? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তার এই সাহসিকতার বর্ণনা দাও।
উত্তর: বক্তা ও শ্রোতা: উদ্ধৃত কথাগুলি বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত 'উপোস' গল্পের প্রধান চরিত্র, সাত বছরের ছোট্ট মেয়ে এষা বলেছে। কলকাতায় দাঙ্গারত উন্মত্ত হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে সে এই মিনতি করেছিল।
সাহসিকতার বর্ণনা: নোয়াখালি থেকে ফিরে আসার কিছুদিন পর এষাদের কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয়। রাস্তায় 'বন্দে মাতরম্' এবং 'আল্লা-হো আকবর' ধ্বনির সঙ্গে দুই দলের মধ্যে ইট, পাটকেল ও বোতল ছোঁড়াছুড়ি চলতে থাকে। এষার পরিবারের লোকেরাও প্রাণ বাঁচাতে লাঠি ও বন্দুক নিয়ে প্রস্তুত হয়।
এই ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে ছোট্ট এষা নিজের প্রাণের পরোয়া করেনি। তার মনে কেবল একটাই ভয় কাজ করছিল যে, এই দাঙ্গার খবর পেলে মহাত্মা গান্ধি আবার উপোস করবেন এবং তাতে তিনি মারা যাবেন। গান্ধিজিকে বাঁচানোর এই প্রবল ব্যাকুলতায় এষা সাদা ফ্রক পরে ওই উন্মত্ত দাঙ্গাকারীদের মাঝখানে ছুটে গিয়ে দাঁড়ায়। সে দুই হাত তুলে মিনতি করে দাঙ্গা থামাতে বলে। এমন সময় একটি বোতলের টুকরো এসে তার কোমরে লাগে এবং রক্ত ঝরতে শুরু করে। কিন্তু আঘাত পেয়েও সে থামে না, রক্ত চেপে ধরেই সে সমানে চিৎকার করে তাদের থামতে বলে। এষার এই অলৌকিক সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ দেখে দাঙ্গাকারীরা স্তব্ধ হয়ে যায় এবং দাঙ্গা থেমে যায়।
সাহসিকতার বর্ণনা: নোয়াখালি থেকে ফিরে আসার কিছুদিন পর এষাদের কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয়। রাস্তায় 'বন্দে মাতরম্' এবং 'আল্লা-হো আকবর' ধ্বনির সঙ্গে দুই দলের মধ্যে ইট, পাটকেল ও বোতল ছোঁড়াছুড়ি চলতে থাকে। এষার পরিবারের লোকেরাও প্রাণ বাঁচাতে লাঠি ও বন্দুক নিয়ে প্রস্তুত হয়।
এই ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে ছোট্ট এষা নিজের প্রাণের পরোয়া করেনি। তার মনে কেবল একটাই ভয় কাজ করছিল যে, এই দাঙ্গার খবর পেলে মহাত্মা গান্ধি আবার উপোস করবেন এবং তাতে তিনি মারা যাবেন। গান্ধিজিকে বাঁচানোর এই প্রবল ব্যাকুলতায় এষা সাদা ফ্রক পরে ওই উন্মত্ত দাঙ্গাকারীদের মাঝখানে ছুটে গিয়ে দাঁড়ায়। সে দুই হাত তুলে মিনতি করে দাঙ্গা থামাতে বলে। এমন সময় একটি বোতলের টুকরো এসে তার কোমরে লাগে এবং রক্ত ঝরতে শুরু করে। কিন্তু আঘাত পেয়েও সে থামে না, রক্ত চেপে ধরেই সে সমানে চিৎকার করে তাদের থামতে বলে। এষার এই অলৌকিক সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ দেখে দাঙ্গাকারীরা স্তব্ধ হয়ে যায় এবং দাঙ্গা থেমে যায়।
৪. গান্ধিজি কেন 'উপোস' করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এষার মনে তার কী প্রভাব পড়েছিল তা গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর: উপোস করার কারণ: 'উপোস' গল্পের পটভূমিতে স্বাধীনতাপূর্ব ভারতের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা রয়েছে। নোয়াখালি ও বিহারে তখন হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে চরম হানাহানি, খুন এবং লুঠতরাজ চলছিল। মহাত্মা গান্ধি মনেপ্রাণে অহিংসায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি মানুষের এই পাশবিক আচরণ ও হিংসা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। মানুষদের শান্ত করতে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন কিছুতেই মানুষের মন বদলাচ্ছে না, তখন দাঙ্গাকারীদের বিবেককে জাগ্রত করতে এবং শান্তি ফেরাতে তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে প্রায়োপবেশন বা 'উপোস' (অনশন) করার চরম সিদ্ধান্ত নেন।
এষার মনে প্রভাব: গান্ধিজির এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে ছোট্ট এষার মনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। গান্ধিজির সঙ্গে তার এক গভীর আত্মিক বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। সে ভয় পায় যে উপোস করলে গান্ধিজি মারা যাবেন। সে ব্যাকুল হয়ে গান্ধিজিকে উপোস করতে বারণ করে এবং সারারাত জেগে খোদাতালার কাছে প্রার্থনা করে যাতে মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। পরবর্তীতে কলকাতায় দাঙ্গা লাগলে, সেই একই ভয়ের বশবর্তী হয়ে (গান্ধিজি মারা যাবেন ভেবে) সে নিজের জীবন তুচ্ছ করে দাঙ্গাকারীদের থামাতে ছুটে যায়। গান্ধিজির উপোসের সিদ্ধান্তই এষার ভেতরের অসীম সাহস ও মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলেছিল।
এষার মনে প্রভাব: গান্ধিজির এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে ছোট্ট এষার মনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। গান্ধিজির সঙ্গে তার এক গভীর আত্মিক বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। সে ভয় পায় যে উপোস করলে গান্ধিজি মারা যাবেন। সে ব্যাকুল হয়ে গান্ধিজিকে উপোস করতে বারণ করে এবং সারারাত জেগে খোদাতালার কাছে প্রার্থনা করে যাতে মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। পরবর্তীতে কলকাতায় দাঙ্গা লাগলে, সেই একই ভয়ের বশবর্তী হয়ে (গান্ধিজি মারা যাবেন ভেবে) সে নিজের জীবন তুচ্ছ করে দাঙ্গাকারীদের থামাতে ছুটে যায়। গান্ধিজির উপোসের সিদ্ধান্তই এষার ভেতরের অসীম সাহস ও মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলেছিল।
৫. 'উপোস' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ নামকরণের মধ্য দিয়েই রচনার মূল ভাব ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের আলোচ্য গল্পটির নাম রাখা হয়েছে 'উপোস'।
'উপোস' শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো অনশন বা না খেয়ে থাকা। সমগ্র গল্পটি আবর্তিত হয়েছে মহাত্মা গান্ধির এই 'উপোস' করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। নোয়াখালি ও বিহারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামাতে গান্ধিজি যখন উপোস করার সংকল্প করেন, তখন সেই খবর ছোট্ট এষার মনে এক গভীর রেখাপাত করে। এষা বুঝতে পারে যে উপোস করলে তার প্রিয় গান্ধিজি আর বাঁচবেন না।
পরবর্তীতে কলকাতায় যখন দাঙ্গা শুরু হয়, তখন এষার মনে সেই একই ভয় কাজ করে। সে ভাবে এই দাঙ্গার খবর পেলে গান্ধিজি নিশ্চয় উপোস করবেন এবং প্রাণত্যাগ করবেন। গান্ধিজিকে এই উপোসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এবং দাঙ্গা থামানোর জন্যই এষা নিজের প্রাণের পরোয়া না করে উন্মত্ত জনতার মাঝখানে ছুটে যায়। অর্থাৎ, গান্ধিজির এই 'উপোস' করার সিদ্ধান্তটিই গল্পের মূল চালিকাশক্তি, যা এষার মতো একটি ছোট্ট মেয়ের মধ্যে অসীম সাহসিকতা ও মানবিকতার জন্ম দিয়েছে। যেহেতু গল্পের শুরু থেকে ক্লাইম্যাক্স পর্যন্ত এই 'উপোস' শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তাই বলা যায় 'উপোস' নামকরণটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাময় হয়েছে।
'উপোস' শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো অনশন বা না খেয়ে থাকা। সমগ্র গল্পটি আবর্তিত হয়েছে মহাত্মা গান্ধির এই 'উপোস' করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। নোয়াখালি ও বিহারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থামাতে গান্ধিজি যখন উপোস করার সংকল্প করেন, তখন সেই খবর ছোট্ট এষার মনে এক গভীর রেখাপাত করে। এষা বুঝতে পারে যে উপোস করলে তার প্রিয় গান্ধিজি আর বাঁচবেন না।
পরবর্তীতে কলকাতায় যখন দাঙ্গা শুরু হয়, তখন এষার মনে সেই একই ভয় কাজ করে। সে ভাবে এই দাঙ্গার খবর পেলে গান্ধিজি নিশ্চয় উপোস করবেন এবং প্রাণত্যাগ করবেন। গান্ধিজিকে এই উপোসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এবং দাঙ্গা থামানোর জন্যই এষা নিজের প্রাণের পরোয়া না করে উন্মত্ত জনতার মাঝখানে ছুটে যায়। অর্থাৎ, গান্ধিজির এই 'উপোস' করার সিদ্ধান্তটিই গল্পের মূল চালিকাশক্তি, যা এষার মতো একটি ছোট্ট মেয়ের মধ্যে অসীম সাহসিকতা ও মানবিকতার জন্ম দিয়েছে। যেহেতু গল্পের শুরু থেকে ক্লাইম্যাক্স পর্যন্ত এই 'উপোস' শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তাই বলা যায় 'উপোস' নামকরণটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাময় হয়েছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- মহাত্মা = মহা + আত্মা
- মহাপুরুষ = মহা + পুরুষ
- উচ্চারণ = উৎ + চারণ
- দুর্দশা = দুঃ + দশা
- আশ্চর্য = আ + চর্য
সমাস নির্ণয়
- ছেলেমেয়ে: ছেলে ও মেয়ে (দ্বন্দ্ব সমাস)
- বনবাদাড়: বন ও বাদাড় (সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)
- দোভাষী: দুই ভাষার অনুবাদ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)
- অষ্টপহর: অষ্ট (আট) পহরের সমাহার (দ্বিগু সমাস)
- প্রাণত্যাগ: প্রাণকে ত্যাগ (দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস)
পদ পরিবর্তন
- গ্রাম ➜ গ্রাম্য
- শরীর ➜ শারীরিক
- ভগবান ➜ ভাগবত
- রক্ত ➜ রক্তিম
- দিন ➜ দৈনিক
উপোস গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
গল্পটি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের লেখা। গল্পের মূল চরিত্র হলো এষা (আয়েষা) নামের সাত বছরের একটি সাহসী ছোট্ট মেয়ে।
নোয়াখালি এবং বিহারে চলা ভয়াবহ হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা থামাতে এবং মানুষের মন থেকে হিংসা দূর করতেই মহাত্মা গান্ধি উপোস বা অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কলকাতায় দাঙ্গার সময় এষা নিজের প্রাণের ভয় না করে দাঙ্গাকারীদের মাঝখানে ছুটে যায়। সে তাদের থামতে অনুরোধ করে জানায় যে তারা দাঙ্গা না থামালে গান্ধিজি উপোস করে মারা যাবেন।