Sponsored Links
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি (প্রথম পাঠ)
কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতার সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতার প্রতিটি লাইনের বিস্তারিত আলোচনা, সারসংক্ষেপ এবং সমস্ত প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও রচনাধর্মী) এই পেজে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।
১. কবিতার পঙ্ক্তিভিত্তিক সহজ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা
"মেঘে কৈল অন্ধকার মেঘে কৈল অন্ধকার / দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার...
নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল / চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল"
নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল / চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল"
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: কলিঙ্গদেশে হঠাৎ করে উত্তর-পূর্ব (ঈশান) কোণে ঘন কালো মেঘ জমে ওঠে। সেই মেঘের আস্তরণ এতটাই ঘন যে সমগ্র আকাশ নিমিষের মধ্যে ঢেকে যায় এবং দিনের বেলাই রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসে। কলিঙ্গবাসীরা এই ঘোর অন্ধকারে নিজেদের হাত-পাও দেখতে পারছিল না। এরই মধ্যে প্রবল মেঘের গর্জনের সাথে সাথে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। পুরাণ মতে, চার প্রকার মেঘ (আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর, দ্রোণ) যেন একত্রিত হয়ে অঝোর ধারায় বর্ষণ শুরু করেছে।
"কলিঙ্গে উড়িয়া মেঘ ডাকে উচ্চনাদ / প্রলয় গনিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ...
ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত / উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত"
ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত / উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত"
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: মেঘের প্রবল গর্জন ও হুড়মুড় করে ধেয়ে আসা ঝড়ের তাণ্ডবে প্রজারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের মনে হয় যেন পৃথিবী ধ্বংসের সময় (প্রলয়) ঘনিয়ে এসেছে। প্রাণের ভয়ে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে (রড়) নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে মাঠের সমস্ত সবুজ (হরিৎ) ফসল ধুলোয় মিশে যায় এবং শস্যগাছগুলি শেকড়সমেত উপড়ে পড়ে, যা দেখে কৃষিজীবী প্রজারা চরম হতাশ ও চমকিত হয়।
"চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ / সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ-তড়কাবাজ...
পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী / কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি"
পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী / কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি"
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: বৃষ্টি এতটাই প্রবল যে মনে হচ্ছিল আটটি দিকের রক্ষক আটটি বিশাল হাতি (অষ্ট গজরাজ) তাদের শুঁড় দিয়ে একসঙ্গে মুষলধারে জল ঢালছে। ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি (চিকুর) এবং ব্যাঙের লাফানোর মতো কড়কড় শব্দে বাজ পড়তে থাকে। এই টানা দুর্যোগে দিন, রাত বা সন্ধ্যার কোনো পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না। বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় ভীত প্রজারা পৌরাণিক ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে (লোকবিশ্বাস অনুযায়ী তাঁর নাম নিলে বাজ পড়ে না)।
"নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর / আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর...
চণ্ডীর আদেশে ধায় নদ-নদীগণ / অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ"
চণ্ডীর আদেশে ধায় নদ-নদীগণ / অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ"
বিস্তারিত ব্যাখ্যা: একটানা সাতদিন ধরে বৃষ্টি চলতে থাকে। মাঠের ফসল নষ্ট তো হয়েইছে, অবিরাম জলে ভিজে মানুষের বাড়িঘরও পচে (হেজ্যা) নষ্ট হতে থাকে। ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বড় বড় শিলা বৃষ্টির সাথে ঘরের চাল ফুটো করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে নদ-নদীরা ফুলে-ফেঁপে উঠে কলিঙ্গদেশে পাহাড়-প্রমাণ ঢেউ নিয়ে বন্যা সৃষ্টি করে, এবং পবন-নন্দন হনুমান যেমন লঙ্কা ধ্বংস করেছিলেন, তেমনি কলিঙ্গে মঠ-অট্টালিকা ভেঙে ধ্বংসলীলা চলতে থাকে। এই সমগ্র প্রলয়ের বর্ণনা কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী তাঁর 'অম্বিকামঙ্গল' বা 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে করেছেন।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ সংকলন
| শব্দ | অর্থ | শব্দ | অর্থ |
|---|---|---|---|
| ঈশানে | উত্তর-পূর্ব কোণে | চিকুর | বিদ্যুৎ / বাজ |
| সঘনে | ঘন ঘন / অবিরাম | উচ্চনাদ | তীব্র বা জোরে শব্দ |
| প্রলয় | ভয়াবহ ধ্বংস / মহাবিপদ | বিষাদ | দুঃখ / দুশ্চিন্তা |
| হরিৎ | সবুজ রঙের শস্যক্ষেত্র | জৈমিনি | বজ্রপাত নিবারক বিখ্যাত মুনি |
| করিকর | হাতির শুঁড় | নিরবধি | একটানা / বিরামহীন |
| রড় | ছুট / দৌড় | অষ্ট গজরাজ | আটটি দিকের রক্ষক আটটি হাতি |
| হেজ্যা | জলে ভিজে পচে যাওয়া | সোঙরে | স্মরণ করে |
| ভুজঙ্গ | সাপ | বুলে | ঘুরে বেড়ায় |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৩০ টি প্রশ্ন
১. 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতাটির রচয়িতা কে?
উত্তর: (খ) মুকুন্দ চক্রবর্তী
২. কবিতাটি কোন কাব্যের অংশ?
উত্তর: (গ) চণ্ডীমঙ্গল
৩. মেঘ প্রথম কোন দিকে দেখা গিয়েছিল?
উত্তর: (গ) ঈশান কোণে
৪. 'ঈশান' কোণ বলতে কোন দিক বোঝায়?
উত্তর: (ক) উত্তর-পূর্ব
৫. অন্ধকার এতটাই গভীর ছিল যে প্রজারা কী দেখতে পাচ্ছিল না?
উত্তর: (খ) নিজেদের অঙ্গ
৬. 'সঘনে চিকুর' - এখানে 'চিকুর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (গ) বিদ্যুৎ
৭. প্রজারা কীসের আশঙ্কা করে বিষাদগ্রস্ত হয়েছিল?
উত্তর: (ঘ) প্রলয়ের
৮. প্রজারা নিজেদের ভবন ছেড়ে কেন ছুটে পালাল?
উত্তর: (ক) বিপাকে পড়ে
৯. ঝড়ের দাপটে ধুলোয় কী আচ্ছাদিত হলো?
উত্তর: (গ) সবুজ শস্য
১০. চারি মেঘে জল দেয় কে?
উত্তর: (খ) অষ্ট গজরাজ
১১. 'করি-কর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (ক) হাতির শুঁড়
১২. মেঘের গর্জনে কে কার কথা শুনতে পায় না?
উত্তর: (খ) কেউ কারও
১৩. কলিঙ্গদেশে কতদিন ধরে একটানা বৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: (গ) সাতদিন
১৪. বিপদে প্রজারা কাকে স্মরণ করেছিল?
উত্তর: (খ) জৈমিনিকে
১৫. ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করার কারণ কী?
উত্তর: (খ) বজ্রপাত থেকে বাঁচতে
১৬. কিসের কারণে সন্ধ্যা, দিন ও রজনীর পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না?
উত্তর: (খ) মেঘের অন্ধকারে
১৭. গর্ত ছেড়ে কারা জলে ভাসতে শুরু করল?
উত্তর: (গ) ভুজঙ্গ (সাপ)
১৮. একটানা বৃষ্টির ফলে ঘরের কী অবস্থা হলো?
উত্তর: (খ) হেজ্যা (পচে) গেল
১৯. ভাদ্র মাসে কী পড়ার সাথে শিলাবৃষ্টির তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: (গ) তাল
২০. কার আদেশে নদ-নদীগণ ধেয়ে আসে?
উত্তর: (ঘ) চণ্ডীর
২১. কার আদেশে বীর হনুমান মঠ-অট্টালিকা ভাঙছে?
উত্তর: (গ) চণ্ডীর
২২. পর্বত-প্রমাণ ঢেউয়ের আঘাতে কী দলমল করছে?
উত্তর: (গ) ঘরগুলা
২৩. কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: (খ) কবিকঙ্কণ
২৪. কলিঙ্গদেশ বর্তমানে ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
উত্তর: (গ) ওড়িশা
২৫. 'চারি মেঘ' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: (খ) আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর, দ্রোণ
২৬. 'বেঙ্গ-তড়কাবাজ' শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) ব্যাঙের লাফানোর মতো বাজ পড়া
২৭. 'জলে মহী একাকার' - 'মহী' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (খ) পৃথিবী
২৮. 'উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত' - কেন শস্য উল্টে পড়ে?
উত্তর: (গ) প্রবল ঝড়ে
২৯. 'কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি' - 'সোঙরে' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (খ) স্মরণ করে
৩০. শ্রীকবিকঙ্কণ কী গান গাইছেন?
উত্তর: (খ) অম্বিকামঙ্গল
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. ' দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার' — এর কারণ কী?
উত্তর: কলিঙ্গদেশের আকাশ ঈশান কোণের কালো মেঘে এমনভাবে ঢেকে যায় যে চারদিক ঘোর অন্ধকার হয়ে ওঠে। সেই অন্ধকারে প্রজারা নিজেদের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।
২. 'ঈশানে উড়িল মেঘ' - ঈশান কোণে মেঘ জমার ফল কী হয়েছিল?
উত্তর: ঈশান কোণে মেঘ জমার ফলে নিমেষের মধ্যে সমগ্র আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল মেঘগর্জনের সাথে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়।
৩. 'নিমিষেকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল' - 'গগন-মণ্ডল' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'গগন-মণ্ডল' শব্দের অর্থ হলো সমগ্র আকাশ বা আকাশসীমা।
৪. 'চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল' - চারি মেঘ কী কী?
উত্তর: পৌরাণিক মত অনুযায়ী চার প্রকার মেঘ হলো— আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর এবং দ্রোণ।
৫. প্রজারা কেন প্রলয় বা ধ্বংসের আশঙ্কা করেছিল?
উত্তর: হঠাৎ আকাশ অন্ধকার করে প্রবল ঝড়, মেঘের ভয়ংকর গর্জন, এবং একটানা মুষলধারে বৃষ্টি দেখে প্রজারা প্রলয় বা মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা করেছিল।
৬. 'বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়' - 'রড়' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'রড়' শব্দের অর্থ হলো দৌড় বা দ্রুতবেগে ছুটে পালানো।
৭. 'উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত' - প্রজাদের চমকিত হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে মাঠের সবুজ ফসল ধুলোয় মিশে যায় এবং গাছগুলি শেকড়সমেত উল্টে পড়ে যায়। ফসলের এই করুণ পরিণতি দেখে প্রজারা চমকিত ও আতঙ্কিত হয়েছিল।
৮. 'সঘনে চিকুর পড়ে বেঙ্গ-তড়কাবাজ' - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, ব্যাঙ যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে চলে, ঠিক তেমনি আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে এবং লাফিয়ে লাফিয়ে কড়কড় শব্দে বাজ পড়ছে।
৯. 'জলে মহী একাকার' - মহী শব্দের অর্থ কী এবং কেন একাকার?
উত্তর: 'মহী' শব্দের অর্থ পৃথিবী। প্রবল ও একটানা বৃষ্টির কারণে কলিঙ্গদেশের সমস্ত স্থলভাগ জলে ডুবে গিয়ে জল ও স্থল একাকার হয়ে গিয়েছিল।
১০. কলিঙ্গদেশের প্রজারা ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করেছিল কেন?
উত্তর: লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মীমাংসা দর্শনের প্রণেতা ঋষি জৈমিনির নাম স্মরণ করলে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই প্রাণভয়ে ভীত প্রজারা তাঁকে স্মরণ করেছিল।
১১. 'না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ' - কেন রবির কিরণ দেখা যাচ্ছে না?
উত্তর: কলিঙ্গদেশের আকাশ টানা সাতদিন ধরে ঘন কালো মেঘে ঢাকা থাকায় এবং বিরামহীন বৃষ্টি হওয়ায় সূর্যের (রবির) আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারছিল না।
১২. 'গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে' - ভুজঙ্গ কেন গর্ত ছাড়ল?
উত্তর: একটানা সাতদিনের বৃষ্টির ফলে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং সাপের গর্তেও জল ঢুকে যায়। তাই সাপ (ভুজঙ্গ) গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে জলে ভাসতে বাধ্য হয়।
১৩. 'আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর' - 'হেজ্যা' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'হেজ্যা' শব্দের অর্থ হলো জলে ভিজে পচে যাওয়া বা গলে যাওয়া।
১৪. 'ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল' - কিসের সাথে তালের তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে বৃষ্টির সাথে যে বড়ো বড়ো আকারের শিলা বা শিল পড়ছিল, তার আকারকে ভাদ্র মাসে গাছ থেকে পড়া পাকা তালের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
১৫. 'চণ্ডীর আদেশে পান বীর হনুমান' - বীর হনুমান কী করছেন?
উত্তর: দেবীর আদেশে বীর হনুমান যেন কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছেন। তিনি মঠ, মন্দির ও অট্টালিকা ভেঙে গুঁড়িয়ে খান খান করে দিচ্ছেন।
১৬. 'উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল' - কেন এমন হচ্ছে?
উত্তর: বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট পাহাড়-প্রমাণ ঢেউয়ের প্রবল আঘাতে কলিঙ্গদেশের বাড়িঘরগুলি টলমল করছে বা কাঁপছে।
১৭. 'চণ্ডীর আদেশে ধায় নদ-নদীগণ' - নদ-নদীরা কেন ধেয়ে আসছে?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গদেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও জলমগ্ন করার জন্য নদ-নদীগণ প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা নিয়ে ধেয়ে আসছে।
১৮. 'অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ' - অম্বিকামঙ্গল কী?
উত্তর: অম্বিকামঙ্গল হলো দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য কীর্তন করে লেখা একটি মঙ্গলকাব্য, যা 'চণ্ডীমঙ্গল' নামেও পরিচিত। এর রচয়িতা কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী।
১৯. মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি কী ছিল এবং কেন দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কণ'। তাঁর কবিত্ব প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে জমিদার বাঁকুড়া রায় বা রঘুনাথ রায় তাঁকে এই উপাধি দেন।
২০. 'করি-কর সমান বরিষে জলধারা' - এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: হাতির শুঁড় (করি-কর) থেকে যেমন প্রবল বেগে মোটা ধারায় জল বের হয়, ঠিক তেমনি মুষলধারে প্রবল বৃষ্টির তীব্রতাকে বোঝাতে এই উপমা ব্যবহার করা হয়েছে।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন
১. 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের যে ছবি ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় কলিঙ্গ দেশের এক ভয়াবহ দুর্যোগের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
আকাশে হঠাৎ ঈশান কোণে ঘন কালো মেঘ জমে সমগ্র দিক অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তীব্র বজ্রপাত এবং মুষলধারে একটানা বৃষ্টি। ঝড়ের প্রবল দাপটে মাঠের সবুজ ফসল উপড়ে যায়, যা দেখে প্রজারা প্রলয়ের আশঙ্কায় ভীত হয়ে পড়ে। আটটি দিকের রক্ষক হাতি যেন শুঁড় দিয়ে অঝোর ধারায় জল ঢালতে থাকে। টানা সাতদিন ধরে বিরামহীন বৃষ্টিতে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে, দিন ও রাতের পার্থক্য মুছে যায়। জলে ডুবে গর্ত ছেড়ে সাপ বাইরে বেরিয়ে আসে। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়। অবশেষে দেবী চণ্ডীর আদেশে নদ-নদীরা পাহাড়-প্রমাণ ঢেউ নিয়ে ধেয়ে আসে এবং হনুমানের মতো মঠ-অট্টালিকা ভেঙে কলিঙ্গদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
আকাশে হঠাৎ ঈশান কোণে ঘন কালো মেঘ জমে সমগ্র দিক অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তীব্র বজ্রপাত এবং মুষলধারে একটানা বৃষ্টি। ঝড়ের প্রবল দাপটে মাঠের সবুজ ফসল উপড়ে যায়, যা দেখে প্রজারা প্রলয়ের আশঙ্কায় ভীত হয়ে পড়ে। আটটি দিকের রক্ষক হাতি যেন শুঁড় দিয়ে অঝোর ধারায় জল ঢালতে থাকে। টানা সাতদিন ধরে বিরামহীন বৃষ্টিতে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে, দিন ও রাতের পার্থক্য মুছে যায়। জলে ডুবে গর্ত ছেড়ে সাপ বাইরে বেরিয়ে আসে। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড় শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়। অবশেষে দেবী চণ্ডীর আদেশে নদ-নদীরা পাহাড়-প্রমাণ ঢেউ নিয়ে ধেয়ে আসে এবং হনুমানের মতো মঠ-অট্টালিকা ভেঙে কলিঙ্গদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
২. "প্রলয় গনিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ" - প্রজাদের এই বিষাদের কারণ সবিস্তারে আলোচনা করো।
উত্তর: 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় কলিঙ্গের আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রজাদের মনে গভীর বিষাদ বা ভয়ের সৃষ্টি করেছিল।
প্রথমত, হঠাৎ আকাশ অন্ধকার করে এমনভাবে মেঘ জমে যে, প্রজারা নিজেদের হাত-পাও দেখতে পাচ্ছিল না।
দ্বিতীয়ত, মেঘের ভয়ংকর গর্জনের সাথে মুষলধারে বৃষ্টি এবং প্রবল ঝড়ে মাঠের সবুজ ফসল ধুলোয় মিশে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিজীবী মানুষের কাছে ফসলই জীবন, তা নষ্ট হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
তৃতীয়ত, ঘন ঘন বাজ পড়া এবং একটানা সাতদিন ধরে দুর্যোগ চলায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
এই প্রবল দুর্যোগকে তারা মহাপ্রলয় বা পৃথিবী ধ্বংসের সংকেত বলে মনে করেছিল। নিজেদের জীবন, বাসস্থান ও ফসল হারানোর নিশ্চিত সম্ভাবনা দেখেই প্রজারা গভীরভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
প্রথমত, হঠাৎ আকাশ অন্ধকার করে এমনভাবে মেঘ জমে যে, প্রজারা নিজেদের হাত-পাও দেখতে পাচ্ছিল না।
দ্বিতীয়ত, মেঘের ভয়ংকর গর্জনের সাথে মুষলধারে বৃষ্টি এবং প্রবল ঝড়ে মাঠের সবুজ ফসল ধুলোয় মিশে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিজীবী মানুষের কাছে ফসলই জীবন, তা নষ্ট হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
তৃতীয়ত, ঘন ঘন বাজ পড়া এবং একটানা সাতদিন ধরে দুর্যোগ চলায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
এই প্রবল দুর্যোগকে তারা মহাপ্রলয় বা পৃথিবী ধ্বংসের সংকেত বলে মনে করেছিল। নিজেদের জীবন, বাসস্থান ও ফসল হারানোর নিশ্চিত সম্ভাবনা দেখেই প্রজারা গভীরভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
৩. "কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি" - জৈমিনি কে? প্রজারা কেন তাঁকে স্মরণ করেছিল?
উত্তর: জৈমিনি কে: জৈমিনি হলেন হিন্দু পুরাণের একজন বিখ্যাত ঋষি। তিনি বেদব্যাস মুনির শিষ্য এবং 'পূর্ব মীমাংসা' নামক বিখ্যাত দর্শনের রচয়িতা।
স্মরণ করার কারণ: লোকসমাজে একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে, ঋষি জৈমিনি ছিলেন বজ্র নিবারক। মেঘ ডাকলে বা বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকলে তাঁর নাম স্মরণ করলে বাজ পড়ে না বা বজ্রপাতের বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কলিঙ্গদেশে যখন একটানা মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে 'সঘনে চিকুর' অর্থাৎ ঘন ঘন ভয়ংকর বাজ পড়ছিল এবং মেঘের প্রবল গর্জনে প্রাণ সংশয় দেখা দিয়েছিল, তখন চরম বিপদে পড়ে প্রাণভয়ে ভীত কলিঙ্গের প্রজারা বজ্রপাতের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার শেষ উপায় হিসেবে ঋষি জৈমিনিকে আকুল হয়ে স্মরণ করেছিল।
স্মরণ করার কারণ: লোকসমাজে একটি প্রচলিত বিশ্বাস আছে যে, ঋষি জৈমিনি ছিলেন বজ্র নিবারক। মেঘ ডাকলে বা বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকলে তাঁর নাম স্মরণ করলে বাজ পড়ে না বা বজ্রপাতের বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কলিঙ্গদেশে যখন একটানা মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে 'সঘনে চিকুর' অর্থাৎ ঘন ঘন ভয়ংকর বাজ পড়ছিল এবং মেঘের প্রবল গর্জনে প্রাণ সংশয় দেখা দিয়েছিল, তখন চরম বিপদে পড়ে প্রাণভয়ে ভীত কলিঙ্গের প্রজারা বজ্রপাতের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার শেষ উপায় হিসেবে ঋষি জৈমিনিকে আকুল হয়ে স্মরণ করেছিল।
৪. "চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ" - উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উৎস: উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
তাৎপর্য: হিন্দু পুরাণ অনুসারে পৃথিবীর আটটি দিক বা কোণ রক্ষা করে আটটি ঐশ্বরিক হাতি, যাদের 'অষ্ট গজরাজ' (ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক) বলা হয়। অন্যদিকে 'চারি মেঘ' বলতে আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ নামক চার প্রকার মেঘকে বোঝানো হয়েছে। কলিঙ্গদেশে যখন মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হয়, তখন সেই বৃষ্টি সাধারণ বৃষ্টি ছিল না। বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা বোঝাতে কবি এই পৌরাণিক রূপকের আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে, আট দিকের আটটি বিশাল হাতি যেন তাদের শুঁড় দিয়ে ওই চার প্রকার মেঘের সাহায্যে একসঙ্গে মুষলধারে জল ঢালছে। বৃষ্টির এই ভয়াবহ রূপ বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।
তাৎপর্য: হিন্দু পুরাণ অনুসারে পৃথিবীর আটটি দিক বা কোণ রক্ষা করে আটটি ঐশ্বরিক হাতি, যাদের 'অষ্ট গজরাজ' (ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক) বলা হয়। অন্যদিকে 'চারি মেঘ' বলতে আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ নামক চার প্রকার মেঘকে বোঝানো হয়েছে। কলিঙ্গদেশে যখন মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হয়, তখন সেই বৃষ্টি সাধারণ বৃষ্টি ছিল না। বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা বোঝাতে কবি এই পৌরাণিক রূপকের আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে, আট দিকের আটটি বিশাল হাতি যেন তাদের শুঁড় দিয়ে ওই চার প্রকার মেঘের সাহায্যে একসঙ্গে মুষলধারে জল ঢালছে। বৃষ্টির এই ভয়াবহ রূপ বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।
৫. "ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল" - উপমাটি কতখানি সার্থক তা কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: কলিঙ্গদেশে একটানা সাতদিনের প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ভয়ংকর শিলাবৃষ্টিও শুরু হয়েছিল। সেই শিলাবৃষ্টির ভয়াবহতা ও শিলার আকার বোঝাতেই কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী এই সার্থক উপমাটি ব্যবহার করেছেন।
বাংলার প্রকৃতিতে ভাদ্র মাসে তাল পাকে এবং গাছ থেকে বড় বড় পাকা তাল সজোরে মাটিতে খসে পড়ে। তালের ওজন ও আকার বেশ বড় হয়। কলিঙ্গদেশে আকাশ থেকে যে বরফের টুকরো বা শিলাগুলি পড়ছিল, সেগুলি সাধারণ শিলার মতো ছোট ছিল না। সেগুলি ছিল ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বিশাল আকারের। এই বড় বড় শিলার আঘাতেই প্রজাদের ঘরের চাল ফুটো (বিদারিত) হয়ে যাচ্ছিল। তাই বৃষ্টির তীব্রতা ও শিলার বিশাল আকার বোঝাতে এই গ্রামীণ ও পরিচিত উপমাটির ব্যবহার অত্যন্ত বাস্তবোচিত ও সার্থক হয়েছে।
বাংলার প্রকৃতিতে ভাদ্র মাসে তাল পাকে এবং গাছ থেকে বড় বড় পাকা তাল সজোরে মাটিতে খসে পড়ে। তালের ওজন ও আকার বেশ বড় হয়। কলিঙ্গদেশে আকাশ থেকে যে বরফের টুকরো বা শিলাগুলি পড়ছিল, সেগুলি সাধারণ শিলার মতো ছোট ছিল না। সেগুলি ছিল ভাদ্র মাসের পাকা তালের মতো বিশাল আকারের। এই বড় বড় শিলার আঘাতেই প্রজাদের ঘরের চাল ফুটো (বিদারিত) হয়ে যাচ্ছিল। তাই বৃষ্টির তীব্রতা ও শিলার বিশাল আকার বোঝাতে এই গ্রামীণ ও পরিচিত উপমাটির ব্যবহার অত্যন্ত বাস্তবোচিত ও সার্থক হয়েছে।
৬. কলিঙ্গদেশে একটানা সাতদিন বৃষ্টির ফলে প্রজাদের কী কী দুর্দশা হয়েছিল তা বর্ণনা করো।
উত্তর: একটানা সাতদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে কলিঙ্গদেশের প্রজাদের জীবনে চরম দুর্দশা নেমে এসেছিল:
১. অন্ধকার ও দিশেহারা অবস্থা: সাতদিন সূর্যের আলো না থাকায় দিন ও রাতের পার্থক্য মুছে যায়। চারদিক অন্ধকারে ডুবে থাকে।
২. কৃষিকাজে ক্ষতি: প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিতে মাঠের সমস্ত সবুজ ফসল ধুলোয় মিশে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায়।
৩. বাসস্থানের বিনাশ: টানা বৃষ্টির ফলে মানুষের ঘরবাড়ি জলে ভিজে পচে (হেজ্যা) যেতে থাকে। বড় বড় শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়।
৪. বন্যা পরিস্থিতি: জল ও স্থল একাকার হয়ে যায়। এমনকি সাপের গর্তে জল ঢোকায় সাপও জলে ভাসতে থাকে। পাহাড়-প্রমাণ ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর টলমল করতে থাকে।
সব মিলিয়ে কলিঙ্গবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
১. অন্ধকার ও দিশেহারা অবস্থা: সাতদিন সূর্যের আলো না থাকায় দিন ও রাতের পার্থক্য মুছে যায়। চারদিক অন্ধকারে ডুবে থাকে।
২. কৃষিকাজে ক্ষতি: প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিতে মাঠের সমস্ত সবুজ ফসল ধুলোয় মিশে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায়।
৩. বাসস্থানের বিনাশ: টানা বৃষ্টির ফলে মানুষের ঘরবাড়ি জলে ভিজে পচে (হেজ্যা) যেতে থাকে। বড় বড় শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়।
৪. বন্যা পরিস্থিতি: জল ও স্থল একাকার হয়ে যায়। এমনকি সাপের গর্তে জল ঢোকায় সাপও জলে ভাসতে থাকে। পাহাড়-প্রমাণ ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর টলমল করতে থাকে।
সব মিলিয়ে কলিঙ্গবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
৭. "নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর" - এর ফলে কলিঙ্গদেশের প্রকৃতি ও জনজীবনে কী প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর: প্রকৃতির উপর প্রভাব: সাতদিন একটানা বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশের প্রকৃতিতে ভয়ংকর পরিবর্তন আসে। আকাশ সব সময় ঘন কালো মেঘে ঢাকা থাকায় সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছাতে পারেনি। চারদিক জলে ডুবে যায়, যার ফলে জল ও স্থলভাগের কোনো পার্থক্য আর থাকে না। নদ-নদীতে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা দেখা দেয়।
জনজীবনের উপর প্রভাব: প্রজাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঠের শস্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। বৃষ্টির জলে ভিজে বাড়িঘর পচে যেতে থাকে। বড় বড় শিলার আঘাতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়। গর্তে জল ঢোকায় সাপ বাইরে বেরিয়ে জলে ভাসতে শুরু করে, যা মানুষের ভয় আরও বাড়িয়ে দেয়। আতঙ্কে প্রজারা ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং পরিত্রাণের আশায় ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।
জনজীবনের উপর প্রভাব: প্রজাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঠের শস্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। বৃষ্টির জলে ভিজে বাড়িঘর পচে যেতে থাকে। বড় বড় শিলার আঘাতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায়। গর্তে জল ঢোকায় সাপ বাইরে বেরিয়ে জলে ভাসতে শুরু করে, যা মানুষের ভয় আরও বাড়িয়ে দেয়। আতঙ্কে প্রজারা ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং পরিত্রাণের আশায় ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।
৮. "চণ্ডীর আদেশে পান বীর হনুমান" - হনুমানের ধ্বংসলীলার যে বর্ণনা কবিতায় আছে তা লেখো।
উত্তর: মধ্যযুগীয় মঙ্গলকাব্যে দেবদেবীর আদেশে অলৌকিক ঘটনা ঘটার প্রচলন ছিল। 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় দেবী চণ্ডী কলিঙ্গদেশকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন।
দেবীর আদেশে পবন-পুত্র বীর হনুমান কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চালানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রামায়ণে হনুমান যেমন লঙ্কাপুরী ধ্বংস করেছিলেন, ঠিক তেমনি কলিঙ্গদেশে এসে তিনি সমস্ত মঠ, মন্দির ও বড় বড় অট্টালিকা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেন। হনুমানের পরাক্রমে সমস্ত পাকা বাড়িঘর ভেঙে খান খান হয়ে যায়। আসলে প্রবল ঝড়ে কলিঙ্গদেশের বড় বড় ইমারত ভেঙে পড়ার বাস্তব ঘটনাটিকেই কবি চণ্ডীর আদেশে হনুমানের অলৌকিক তাণ্ডব বা ধ্বংসলীলা হিসেবে রূপক আকারে বর্ণনা করেছেন।
দেবীর আদেশে পবন-পুত্র বীর হনুমান কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চালানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রামায়ণে হনুমান যেমন লঙ্কাপুরী ধ্বংস করেছিলেন, ঠিক তেমনি কলিঙ্গদেশে এসে তিনি সমস্ত মঠ, মন্দির ও বড় বড় অট্টালিকা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেন। হনুমানের পরাক্রমে সমস্ত পাকা বাড়িঘর ভেঙে খান খান হয়ে যায়। আসলে প্রবল ঝড়ে কলিঙ্গদেশের বড় বড় ইমারত ভেঙে পড়ার বাস্তব ঘটনাটিকেই কবি চণ্ডীর আদেশে হনুমানের অলৌকিক তাণ্ডব বা ধ্বংসলীলা হিসেবে রূপক আকারে বর্ণনা করেছেন।
৯. "বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়" - প্রজারা কেন ভবন ছেড়েছিল? তাদের পরবর্তী অবস্থার বর্ণনা দাও।
উত্তর: ভবন ছাড়ার কারণ: কলিঙ্গদেশে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রবল ঝড়, মেঘের ভয়ংকর গর্জন, ঘন ঘন বজ্রপাত এবং মুষলধারে বৃষ্টির কারণে প্রজারা চরম বিপদে পড়ে। চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যায় এবং তাদের বাসস্থান বা ভবনগুলি এই তাণ্ডবের মুখে অসুরক্ষিত হয়ে পড়ে। তাই প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে (রড়) পালাতে বাধ্য হয়।
পরবর্তী অবস্থা: বাড়ি ছাড়ার পরও তাদের দুর্দশার শেষ ছিল না। ঝড়ে তারা দেখতে পায় তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে ধুলোয় মিশেছে। একটানা সাতদিন বৃষ্টিতে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে যায়। শিলাবৃষ্টিতে তাদের ফেলে আসা ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায় এবং বন্যার জলে বাড়িঘর পচে নষ্ট হতে থাকে। জলের তোড়ে সাপ ভেসে বেড়াতে শুরু করে, ফলে তাদের জীবন সবসময় আতঙ্কের মধ্যেই কাটে।
পরবর্তী অবস্থা: বাড়ি ছাড়ার পরও তাদের দুর্দশার শেষ ছিল না। ঝড়ে তারা দেখতে পায় তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে ধুলোয় মিশেছে। একটানা সাতদিন বৃষ্টিতে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে যায়। শিলাবৃষ্টিতে তাদের ফেলে আসা ঘরের চাল ফুটো হয়ে যায় এবং বন্যার জলে বাড়িঘর পচে নষ্ট হতে থাকে। জলের তোড়ে সাপ ভেসে বেড়াতে শুরু করে, ফলে তাদের জীবন সবসময় আতঙ্কের মধ্যেই কাটে।
১০. 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কাব্যাংশে দেবীর আদেশে কীভাবে কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চলেছিল তা বিস্তারিত লেখো।
উত্তর: চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডে দেখা যায়, দেবী চণ্ডী ব্যাধ কালকেতুকে গুজরাট নগর নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন, কিন্তু সেই নগরে প্রজার অভাব ছিল। তাই দেবীর ষড়যন্ত্রে পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে।
দেবীর আদেশে মেঘেরা ঈশান কোণে জড়ো হয়ে আকাশ অন্ধকার করে তোলে এবং মুষলধারে বৃষ্টি শুরু করে। ঝড়ের দাপটে মাঠের ফসল নষ্ট হয়। দেবীর নির্দেশে অষ্ট গজরাজ চার মেঘের সাহায্যে প্রবল বর্ষণ ঘটায়। সাতদিনের একটানা বৃষ্টিতে কলিঙ্গদেশ জলে ডুবে যায়। এরপর দেবীর আদেশে বীর হনুমান মঠ ও অট্টালিকাগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। সবশেষে চণ্ডীর আদেশে নদ-নদীগণ পাহাড়-প্রমাণ ঢেউ নিয়ে কলিঙ্গে ছুটে আসে এবং বাড়িঘরগুলি ভাসিয়ে নিয়ে যায়। দেবীর এই পরিকল্পিত ধ্বংসলীলার ফলেই কলিঙ্গদেশ জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং প্রজারা কালকেতুর রাজ্যে চলে যায়।
দেবীর আদেশে মেঘেরা ঈশান কোণে জড়ো হয়ে আকাশ অন্ধকার করে তোলে এবং মুষলধারে বৃষ্টি শুরু করে। ঝড়ের দাপটে মাঠের ফসল নষ্ট হয়। দেবীর নির্দেশে অষ্ট গজরাজ চার মেঘের সাহায্যে প্রবল বর্ষণ ঘটায়। সাতদিনের একটানা বৃষ্টিতে কলিঙ্গদেশ জলে ডুবে যায়। এরপর দেবীর আদেশে বীর হনুমান মঠ ও অট্টালিকাগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। সবশেষে চণ্ডীর আদেশে নদ-নদীগণ পাহাড়-প্রমাণ ঢেউ নিয়ে কলিঙ্গে ছুটে আসে এবং বাড়িঘরগুলি ভাসিয়ে নিয়ে যায়। দেবীর এই পরিকল্পিত ধ্বংসলীলার ফলেই কলিঙ্গদেশ জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং প্রজারা কালকেতুর রাজ্যে চলে যায়।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar) ২০ টি প্রশ্ন
সন্ধি বিচ্ছেদ
- দিগন্তর = দিক্ + অন্তর
- বৃষ্টি = বৃষ্ + তি
- নিরবধি = নিঃ + অবধি
- গজরাজ = গজ + রাজ
- অট্টালিকা = অট্ট + আলিকা
- নিরন্তর = নিঃ + অন্তর
- আচ্ছাদিত = আ + ছাদিত
- উচ্চনাদ = উচ্চ + নাদ
সমাস নির্ণয়
- গগন-মণ্ডল: গগনের মণ্ডল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)
- মুষলধারে: মুষলের ন্যায় ধারা যার (বহুব্রীহি সমাস)
- উচ্চনাদ: উচ্চ যে নাদ (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- অষ্টগজরাজ: অষ্ট গজরাজের সমাহার (দ্বিগু সমাস)
- জলস্থল: জল ও স্থল (দ্বন্দ্ব সমাস)
- দিবসরজনী: দিবস ও রজনী (দ্বন্দ্ব সমাস)
পদ পরিবর্তন
| বিশেষ্য | বিশেষণ | বিশেষ্য | বিশেষণ |
|---|---|---|---|
| অন্ধকার | অন্ধকারাচ্ছন্ন | মেঘ | মেঘলা |
| দিন | দৈনিক | জল | জলীয় |
| প্রলয় | প্রলয়ংকর | বিষাদ | বিষণ্ণ |
| শস্য | শস্যপূর্ণ | পর্বত | পার্বত্য |
অধ্যায় সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
মুকুন্দ চক্রবর্তীর কবিতা অনুসারে কলিঙ্গদেশে একটানা সাতদিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল।
পৌরাণিক মতে চার প্রকার মেঘ হলো— আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর এবং দ্রোণ।
বজ্রপাতের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রজারা ঋষি জৈমিনির নাম স্মরণ করেছিল।