Sponsored Links
নব নব সৃষ্টি (সৈয়দ মুজতবা আলী)
বিখ্যাত প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. প্রবন্ধের বিষয়সংক্ষেপ
ভাষার স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও ঋণগ্রহণ: সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধটি ভাষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান নিয়ে এক অপূর্ব বিশ্লেষণ। লেখকের মতে সংস্কৃত, হিব্রু, গ্রিক, আবেস্তা এবং পুরোনো আরবি ভাষা হলো আত্মনির্ভরশীল বা স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষা। নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে এরা অন্যের কাছে ধার না করে নিজেদের শব্দভাণ্ডারেই নতুন শব্দ তৈরি করে নেয়। অন্যদিকে ইংরেজি এবং বাংলা ভাষা আত্মনির্ভরশীল নয়। এরা প্রয়োজন ও অপ্রয়োজন দুই ক্ষেত্রেই আরবি, ফার্সি, ইংরেজি বা অন্যান্য বিদেশি ভাষা থেকে দেদার শব্দ ধার করেছে। যেমন- পাঠান-মোগল যুগে আইন-আদালতের প্রয়োজনে আরবি-ফার্সি এবং পরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রয়োজনে ইংরেজি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
বিদেশি শব্দের ব্যবহার ও সাহিত্যিকদের মত: বিদেশি শব্দ ধার করা ভালো না মন্দ, সে প্রশ্ন অবান্তর। রান্নাঘর থেকে 'আলু-কপি'র মতো বিদেশি শব্দও আজ তাড়ানো মুশকিল। হিন্দি ভাষার সাহিত্যিকরা বিদেশি শব্দ তাড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলা সাহিত্যে তা হয়নি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগর (বেনামিতে), এমনকি কট্টর পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও প্রয়োজনমতো আরবি-ফার্সি শব্দ ব্যবহার করেছেন। লেখকের মতে রচনার ভাষা তার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে; শংকরদর্শনের ভাষায় গাম্ভীর্য থাকবে এবং মোগলাই রেস্তোরাঁর বর্ণনায় চটুলতা থাকবে।
সংস্কৃত ও ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা: বাংলায় নতুন নতুন শব্দের প্রয়োজনে এখনও সংস্কৃত ভাষার চর্চা অপরিহার্য। একইভাবে দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা বা বিজ্ঞানের টেকনিক্যাল শব্দের জন্য ইংরেজি ভাষার চর্চাও বন্ধ করা উচিত নয়। যদিও ভবিষ্যতে আরবি-ফার্সি থেকে হয়তো নতুন শব্দ আসবে না, কিন্তু পুরোনো সাহিত্য থেকে অনেক অপ্রচলিত আরবি-ফার্সি শব্দ পুনরায় বাংলায় ব্যবহার হতে পারে।
বাঙালির চরিত্র ও সাহিত্য: ভারতের অন্যান্য ভাষাগুলি ফার্সি সাহিত্যের প্রভাবে প্রভাবিত হলেও বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য 'পদাবলি কীর্তন' সম্পূর্ণ খাঁটি বাঙালি রূপেই গড়ে উঠেছে। প্রাবন্ধিকের মতে, বাঙালির চরিত্রে এক জন্মগত বিদ্রোহ বিদ্যমান। রাজনীতি, ধর্ম বা সাহিত্য—যেকোনো ক্ষেত্রে সত্য, শিব ও সুন্দরের সন্ধান পেলে বাঙালি তা গ্রহণ করেছে। গতানুগতিক ঐতিহ্য বা প্রাচীন পন্থার দোহাই দিয়ে কেউ বাধা দিতে এলে বাঙালি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আবার সেই বিদ্রোহ যখন উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিণত হয়েছে, বাঙালি তার বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন করলেও বাঙালির এই বিদ্রোহী চরিত্র কখনো বদলায় না।
বিদেশি শব্দের ব্যবহার ও সাহিত্যিকদের মত: বিদেশি শব্দ ধার করা ভালো না মন্দ, সে প্রশ্ন অবান্তর। রান্নাঘর থেকে 'আলু-কপি'র মতো বিদেশি শব্দও আজ তাড়ানো মুশকিল। হিন্দি ভাষার সাহিত্যিকরা বিদেশি শব্দ তাড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলা সাহিত্যে তা হয়নি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগর (বেনামিতে), এমনকি কট্টর পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও প্রয়োজনমতো আরবি-ফার্সি শব্দ ব্যবহার করেছেন। লেখকের মতে রচনার ভাষা তার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে; শংকরদর্শনের ভাষায় গাম্ভীর্য থাকবে এবং মোগলাই রেস্তোরাঁর বর্ণনায় চটুলতা থাকবে।
সংস্কৃত ও ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা: বাংলায় নতুন নতুন শব্দের প্রয়োজনে এখনও সংস্কৃত ভাষার চর্চা অপরিহার্য। একইভাবে দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা বা বিজ্ঞানের টেকনিক্যাল শব্দের জন্য ইংরেজি ভাষার চর্চাও বন্ধ করা উচিত নয়। যদিও ভবিষ্যতে আরবি-ফার্সি থেকে হয়তো নতুন শব্দ আসবে না, কিন্তু পুরোনো সাহিত্য থেকে অনেক অপ্রচলিত আরবি-ফার্সি শব্দ পুনরায় বাংলায় ব্যবহার হতে পারে।
বাঙালির চরিত্র ও সাহিত্য: ভারতের অন্যান্য ভাষাগুলি ফার্সি সাহিত্যের প্রভাবে প্রভাবিত হলেও বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য 'পদাবলি কীর্তন' সম্পূর্ণ খাঁটি বাঙালি রূপেই গড়ে উঠেছে। প্রাবন্ধিকের মতে, বাঙালির চরিত্রে এক জন্মগত বিদ্রোহ বিদ্যমান। রাজনীতি, ধর্ম বা সাহিত্য—যেকোনো ক্ষেত্রে সত্য, শিব ও সুন্দরের সন্ধান পেলে বাঙালি তা গ্রহণ করেছে। গতানুগতিক ঐতিহ্য বা প্রাচীন পন্থার দোহাই দিয়ে কেউ বাধা দিতে এলে বাঙালি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আবার সেই বিদ্রোহ যখন উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিণত হয়েছে, বাঙালি তার বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছে। ধর্ম পরিবর্তন করলেও বাঙালির এই বিদ্রোহী চরিত্র কখনো বদলায় না।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| আত্মনির্ভরশীল | নিজের ওপর নির্ভরশীল / স্বাবলম্বী | অভূতপূর্ব | যা আগে কখনো হয়নি বা দেখা যায়নি |
| মুষ্টিমেয় | হাতের মুঠোয় ধরে এমন অল্প পরিমাণ | হৃদয়ঙ্গম | উপলব্ধি করা বা মর্মে মর্মে বোঝা |
| স্বয়ংসম্পূর্ণ | নিজের দ্বারা সম্পূর্ণ / অন্যের সাহায্য ছাড়া | নিষ্কৃতি | মুক্তি / রেহাই পাওয়া |
| অবান্তর | অপ্রাসঙ্গিক / যা প্রাসঙ্গিক নয় | উচ্ছৃঙ্খলতা | নিয়ম না মানা / বিশৃঙ্খলা |
| আহাম্মুখী | বোকামি / মূর্খামি | পদাবলি | বৈষ্ণব ভক্তিগীতির সংকলন |
| নন্দনশাস্ত্র | সৌন্দর্যতত্ত্ব (Aesthetics) | আশিক | প্রেমিক / অনুরাগী |
| জিহাদ | ধর্মযুদ্ধ / তীব্র সংগ্রাম বা আন্দোলন | গতানুগতিক | চিরাচরিত প্রথা / অন্ধ অনুকরণ |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) সৈয়দ মুজতবা আলী (গ) প্রমথ চৌধুরী (ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর: (খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
২. প্রাবন্ধিকের মতে কোন্ ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল বলা যায়?
(ক) বাংলা (খ) ইংরেজি (গ) সংস্কৃত (ঘ) উর্দু
উত্তর: (গ) সংস্কৃত
৩. বর্তমান যুগের কোন্ ভাষা আত্মনির্ভরশীল নয়?
(ক) গ্রিক (খ) আবেস্তা (গ) হিব্রু (ঘ) ইংরেজি ও বাংলা
উত্তর: (ঘ) ইংরেজি ও বাংলা
৪. পাঠান-মোগল যুগে আইন-আদালতের কারণে কোন্ ভাষা থেকে প্রচুর শব্দ বাংলায় এসেছে?
(ক) পর্তুগিজ (খ) ফরাসি (গ) আরবি ও ফার্সি (ঘ) ইংরেজি
উত্তর: (গ) আরবি ও ফার্সি
৫. আজ রান্নাঘর থেকে কী তাড়ানো মুশকিল?
(ক) চাল-ডাল (খ) মাছ-মাংস (গ) আলু-কপি (ঘ) তেল-নুন
উত্তর: (গ) আলু-কপি
৬. কোন্ ভাষার সাহিত্যিকরা বিদেশি শব্দ তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন?
(ক) বাংলা (খ) হিন্দি (গ) তামিল (ঘ) মারাঠি
উত্তর: (খ) হিন্দি
৭. 'ইনকিলাব' ও 'শহিদ' শব্দ বাংলায় কে ঢুকিয়েছেন?
(ক) রবীন্দ্রনাথ (খ) শরৎচন্দ্র (গ) নজরুল ইসলাম (ঘ) প্রমথ চৌধুরী
উত্তর: (গ) নজরুল ইসলাম
৮. রচনার ভাষা কার ওপর নির্ভর করে?
(ক) লেখকের ইচ্ছার ওপর (খ) বিষয়বস্তুর ওপর (গ) পাঠকের ওপর (ঘ) সম্পাদকের ওপর
উত্তর: (খ) বিষয়বস্তুর ওপর
৯. দর্শন ও বিজ্ঞানের জন্য আমাদের কোন্ ভাষার চর্চা বিশেষ প্রয়োজন?
(ক) আরবি (খ) ফার্সি (গ) ইংরেজি (ঘ) ফরাসি
উত্তর: (গ) ইংরেজি
১০. আর্য ইরানি ভাষা ও সেমিতি আরবি ভাষার সংঘর্ষে কোন্ ভাষা জন্ম নেয়?
(ক) উর্দু (খ) নবীন ফার্সি (গ) সিন্ধি (ঘ) কাশ্মীরি
উত্তর: (খ) নবীন ফার্সি
১১. বাঙালি চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
(ক) অলসতা (খ) বিদ্রোহ (গ) অনুকরণপ্রিয়তা (ঘ) রক্ষণশীলতা
উত্তর: (খ) বিদ্রোহ
১২. বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি কী?
(ক) মঙ্গলকাব্য (খ) মহাকাব্য (গ) পদাবলি কীর্তন (ঘ) চর্যাপদ
উত্তর: (গ) পদাবলি কীর্তন
১৩. আরবি-ফার্সি শব্দের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকে কে 'আহাম্মুখী' বলেছিলেন?
(ক) বিদ্যাসাগর (খ) রবীন্দ্রনাথ (গ) বঙ্কিমচন্দ্র (ঘ) পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর: (ঘ) পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
১৪. উর্দু কবি ইকবাল উর্দুকে কার অনুকরণ থেকে নিষ্কৃতি দিতে চেয়েছিলেন?
(ক) আরবির (খ) ফার্সির (গ) ইংরেজির (ঘ) তুর্কির
উত্তর: (খ) ফার্সির
১৫. বিদ্যাসাগর কোন রচনায় চুটিয়ে আরবি-ফার্সি ব্যবহার করতেন?
(ক) সাধু রচনায় (খ) পাঠ্যপুস্তকে (গ) বেনামিতে লেখা 'অসাধু' রচনায় (ঘ) অনুবাদে
উত্তর: (গ) বেনামিতে লেখা 'অসাধু' রচনায়
১৬. প্রাচীন যুগের ভাষাগুলির মধ্যে আত্মনির্ভরশীল কোনটি?
(ক) গ্রিক (খ) বাংলা (গ) হিন্দি (ঘ) উর্দু
উত্তর: (ক) গ্রিক
১৭. শংকরদর্শনের আলোচনায় ভাষা কেমন হওয়া স্বাভাবিক?
(ক) ইংরেজিঘেঁষা (খ) আরবিশব্দবহুল (গ) সংস্কৃতশব্দবহুল (ঘ) চটুল
উত্তর: (গ) সংস্কৃতশব্দবহুল
১৮. মোগলাই রেস্তোরাঁর বর্ণনায় ভাষা কেমন হওয়া স্বাভাবিক?
(ক) গাম্ভীর্যপূর্ণ (খ) 'হুতোম'-ঘ্যাঁষা (গ) সংস্কৃতপ্রধান (ঘ) নীরস
উত্তর: (খ) 'হুতোম'-ঘ্যাঁষা
১৯. ভারতের মক্তব-মাদ্রাসায় কী ভাষা বেশি পড়ানো হতো?
(ক) ফার্সি (খ) উর্দু (গ) আরবি (ঘ) তুর্কি
উত্তর: (গ) আরবি
২০. "ধর্ম বদলালেই... বদলায় না।" - কী বদলায় না?
(ক) মানুষের চেহারা (খ) জাতির চরিত্র (গ) খাদ্যাভ্যাস (ঘ) পোশাক
উত্তর: (খ) জাতির চরিত্র
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: সংস্কৃত ভাষায় কোনো নতুন চিন্তা, অনুভূতি বা বস্তুর জন্য নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে তা অন্য ভাষা থেকে ধার করে না; বরং নিজের ভাণ্ডারে থাকা শব্দ বা ধাতু সামান্য অদলবদল করে নতুন শব্দ নির্মাণ করে নেয়, তাই এটি আত্মনির্ভরশীল।
২. বাংলা ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল নয় বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: বাংলা ভাষা সংস্কৃতের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। প্রয়োজনের তাগিদে কিংবা অপ্রয়োজনেও বাংলা ভাষা যুগে যুগে আরবি, ফার্সি, ইংরেজি এবং অন্যান্য বিদেশি ভাষা থেকে অকাতরে শব্দ গ্রহণ করেছে।
৩. বিদ্যাসাগরের শব্দ ব্যবহারের রীতি কেমন ছিল?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর নিজের নামে লেখা 'সাধু' রচনায় সাধারণত বিদেশি শব্দ ব্যবহার করতেন না, কিন্তু বেনামিতে লেখা 'অসাধু' বা ব্যঙ্গাত্মক রচনায় তিনি চুটিয়ে আরবি-ফার্সি শব্দ ব্যবহার করতেন।
৪. "বিদেশি শব্দ নেওয়া ভালো না মন্দ সে প্রশ্ন অবান্তর।" - কেন?
উত্তর: কারণ আমরা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সজ্ঞানে এবং আপন খুশিতে প্রচুর বিদেশি শব্দ (যেমন- আলু, কপি, ডাক্তারি ওষুধ) গ্রহণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তাই তা ভালো না মন্দ সে নিয়ে আলোচনা অর্থহীন।
৫. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কাকে 'আহাম্মুখী' মনে করতেন?
উত্তর: অতিশয় নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, বাংলা ভাষা থেকে বিদেশি আরবি-ফার্সি শব্দের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করা বা তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করাটাই হলো এক ধরনের 'আহাম্মুখী' বা বোকামি।
৬. রচনার ভাষা কীসের ওপর নির্ভর করে?
উত্তর: রচনার ভাষা তার বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে। যেমন, গম্ভীর দর্শনের আলোচনায় সংস্কৃত শব্দের আধিক্য থাকবে, আবার সাধারণ রেস্তোরাঁর বর্ণনায় ভাষা অনেক হালকা বা 'হুতোম'-ঘেঁষা হবে।
৭. প্রাবন্ধিক কেন স্কুল-কলেজ থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে দিতে চান না?
উত্তর: কারণ বাংলা ভাষায় যেকোনো নতুন পারিভাষিক শব্দ বা উন্নত চিন্তার প্রকাশের জন্য এখনও আমাদের সংস্কৃত ভাষার শব্দভাণ্ডারের প্রচুর প্রয়োজন। সংস্কৃত চর্চা উঠালে বাংলা ভাষা তার প্রধান খাদ্য থেকেই বঞ্চিত হবে।
৮. ইংরেজি ভাষার চর্চা আমাদের কেন প্রয়োজন?
উত্তর: দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা এবং সর্বাধুনিক বিজ্ঞানের নানা টেকনিক্যাল শব্দ জানার ও বোঝার জন্য আমাদের ইংরেজি ভাষার চর্চা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
৯. আরবি-ফার্সি থেকে ব্যাপকভাবে আর নতুন শব্দ বাংলায় ঢুকবে না কেন?
উত্তর: এর কারণ হলো পশ্চিম বাংলায় আরবি-ফার্সির চর্চা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে, আর আরব-ইরানেও এমন কোনো অভূতপূর্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয়নি যা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাকে প্রভাবিত করতে পারে।
১০. উর্দু সাহিত্যের মূল সুর কার সঙ্গে বাঁধা?
উত্তর: ভারতের মক্তব-মাদ্রাসায় প্রচুর আরবি ভাষা পড়ানো হলেও, ভারতীয় আর্যরা ফার্সি সাহিত্যের সৌন্দর্যে বেশি অভিভূত হয়েছিলেন। তাই উর্দু সাহিত্যের মূল সুর ফার্সির সঙ্গেই বাঁধা, আরবির সঙ্গে নয়।
১১. উর্দু ভাষার ক্ষেত্রে কবি ইকবাল কী হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন?
উত্তর: কবি ইকবাল হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন যে, উর্দু ভাষা অন্ধভাবে ফার্সিকে অনুকরণ করছে। তাই তিনি নতুন সৃষ্টির চেষ্টা করে উর্দুকে ফার্সির এই অতিরিক্ত অনুকরণ থেকে নিষ্কৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
১২. পদাবলি কীর্তন সম্পর্কে প্রাবন্ধিকের মত কী?
উত্তর: প্রাবন্ধিকের মতে, পদাবলি কীর্তন হলো বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যসৃষ্টি। এই সাহিত্যের প্রাণ এবং দেহ—উভয়ই সম্পূর্ণ খাঁটি বাঙালি রূপ ও রসে সমৃদ্ধ।
১৩. বাঙালির বিদ্রোহের স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: বাঙালির চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো বিদ্রোহ। রাজনীতি, ধর্ম বা সাহিত্য—যেখানেই বাঙালি সত্য, শিব ও সুন্দরের সন্ধান পেয়েছে, তাকে গ্রহণ করার জন্য সে গতানুগতিক প্রথা বা ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আবার সেই বিদ্রোহ যখন উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিণত হতে চেয়েছে, বাঙালি তার বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়িয়েছে।
১৪. "ধর্ম বদলালেই জাতির চরিত্র বদলায় না।" - এ কথার অর্থ কী?
উত্তর: প্রাবন্ধিক বোঝাতে চেয়েছেন যে, বাঙালি হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলেও তার অন্তর্নিহিত বিদ্রোহী সত্তা, সাহিত্যপ্রীতি এবং বাঙালি সুলভ মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। জাতির মূল চরিত্র অপরিবর্তিতই থাকে।
১৫. "বসুমতী"র সম্পাদকীয় আর "বাঁকা চোখে"র ভাষার পার্থক্য কী?
উত্তর: 'বসুমতী' পত্রিকার সম্পাদকীয় রচনাগুলি সাধারণত গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে লেখা হয়, তাই তাতে থাকে গাম্ভীর্য। অন্যদিকে 'বাঁকা চোখে' হলো একটি ব্যঙ্গাত্মক ও হালকা মেজাজের কলম, তাই তার ভাষায় থাকে চটুলতা।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. "সংস্কৃত ভাষা আত্মনির্ভরশীল।" - প্রাবন্ধিক কেন এমন বলেছেন? বাংলা ভাষাকে তিনি কেন আত্মনির্ভরশীল মনে করেন না?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধে সংস্কৃত ভাষাকে আত্মনির্ভরশীল বা স্বয়ংসম্পূর্ণ বলেছেন। এর প্রধান কারণ হলো, সংস্কৃত ভাষায় যখনই কোনো নতুন চিন্তা, অনুভূতি বা বস্তুর জন্য নতুন শব্দের প্রয়োজন হয়, তখন এই ভাষা অন্য কোনো বিদেশি ভাষার কাছে শব্দ ধার করতে যায় না। বরং এটি নিজের শব্দভাণ্ডারে অনুসন্ধান করে এবং পুরোনো কোনো ধাতু বা শব্দের সামান্য অদলবদল করে সম্পূর্ণ নতুন একটি পারিভাষিক শব্দ তৈরি করে নেয়। বিদেশি শব্দ যে সংস্কৃত একদম নেয়নি তা নয়, তবে তার পরিমাণ খুবই নগণ্য। তাই সংস্কৃতকে আত্মনির্ভরশীল বলা হয়।
অন্যদিকে, বাংলা ভাষাকে প্রাবন্ধিক আত্মনির্ভরশীল মনে করেন না। কারণ, বাংলা ভাষা নিজের প্রয়োজন এবং অপ্রয়োজন—উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশি ভাষার ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। পাঠান-মোগল যুগে প্রশাসনিক কারণে আরবি-ফার্সি শব্দ এবং পরবর্তীকালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য ইংরেজি ও অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষার শব্দ বাংলা ভাষায় অকাতরে প্রবেশ করেছে। নতুন শব্দের প্রয়োজনে বাংলা নিজের ভাণ্ডারে না খুঁজে সহজেই বিদেশি শব্দ ধার করে, তাই এটি আত্মনির্ভরশীল নয়।
অন্যদিকে, বাংলা ভাষাকে প্রাবন্ধিক আত্মনির্ভরশীল মনে করেন না। কারণ, বাংলা ভাষা নিজের প্রয়োজন এবং অপ্রয়োজন—উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশি ভাষার ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। পাঠান-মোগল যুগে প্রশাসনিক কারণে আরবি-ফার্সি শব্দ এবং পরবর্তীকালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য ইংরেজি ও অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষার শব্দ বাংলা ভাষায় অকাতরে প্রবেশ করেছে। নতুন শব্দের প্রয়োজনে বাংলা নিজের ভাণ্ডারে না খুঁজে সহজেই বিদেশি শব্দ ধার করে, তাই এটি আত্মনির্ভরশীল নয়।
২. বিদেশি শব্দ গ্রহণের ক্ষেত্রে হিন্দি ও বাংলা ভাষার লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গির কী পার্থক্য প্রবন্ধে লক্ষ করা যায়?
উত্তর: বিদেশি শব্দ গ্রহণ ও বর্জনের ক্ষেত্রে হিন্দি এবং বাংলা ভাষার লেখকদের মধ্যে এক সুস্পষ্ট পার্থক্য 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে।
হিন্দি ভাষার অনেক সাহিত্যিক বর্তমানে এক বিশুদ্ধিকরণ বা শুদ্ধি অভিযানে মেতে উঠেছেন। তাঁরা সচেতনভাবে চেষ্টা করছেন হিন্দি ভাষা থেকে সমস্ত আরবি, ফার্সি এবং ইংরেজি শব্দ তাড়িয়ে দিয়ে ভাষাকে সম্পূর্ণ দেশি বা সংস্কৃতঘেঁষা করে তুলতে।
বিপরীতে, বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকরা বিদেশি শব্দের ব্যাপারে কখনো এমন রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখাননি। প্রাবন্ধিক প্রমাণস্বরূপ দেখিয়েছেন যে, স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনায়াসে 'আব্রু', 'ইজ্জৎ', 'ইমান' ইত্যাদি আরবি-ফার্সি শব্দ তাঁর লেখায় ব্যবহার করেছেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'ইনকিলাব', 'শহিদ'-এর মতো শব্দ বাংলায় স্থায়ীভাবে ঢুকিয়ে গেছেন। এমনকি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর বেনামি রচনায় এবং নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও তাঁদের লেখায় দেদার আরবি-ফার্সি শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে 'আহাম্মুখী' বলেছেন। অর্থাৎ বাংলা ভাষা বিদেশি শব্দকে আপন করে নিতে অনেক বেশি উদার।
হিন্দি ভাষার অনেক সাহিত্যিক বর্তমানে এক বিশুদ্ধিকরণ বা শুদ্ধি অভিযানে মেতে উঠেছেন। তাঁরা সচেতনভাবে চেষ্টা করছেন হিন্দি ভাষা থেকে সমস্ত আরবি, ফার্সি এবং ইংরেজি শব্দ তাড়িয়ে দিয়ে ভাষাকে সম্পূর্ণ দেশি বা সংস্কৃতঘেঁষা করে তুলতে।
বিপরীতে, বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকরা বিদেশি শব্দের ব্যাপারে কখনো এমন রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখাননি। প্রাবন্ধিক প্রমাণস্বরূপ দেখিয়েছেন যে, স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনায়াসে 'আব্রু', 'ইজ্জৎ', 'ইমান' ইত্যাদি আরবি-ফার্সি শব্দ তাঁর লেখায় ব্যবহার করেছেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'ইনকিলাব', 'শহিদ'-এর মতো শব্দ বাংলায় স্থায়ীভাবে ঢুকিয়ে গেছেন। এমনকি পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর বেনামি রচনায় এবং নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীও তাঁদের লেখায় দেদার আরবি-ফার্সি শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে 'আহাম্মুখী' বলেছেন। অর্থাৎ বাংলা ভাষা বিদেশি শব্দকে আপন করে নিতে অনেক বেশি উদার।
৩. "বাঙালির চরিত্রে বিদ্রোহ বিদ্যমান।" - 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধ অবলম্বনে বাঙালির এই বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় দাও।
উত্তর: প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধের উপসংহারে বাঙালি চরিত্রের এক অসামান্য মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, বাঙালির রক্তের মধ্যেই এক জন্মগত বিদ্রোহের বীজ লুকিয়ে আছে।
বাঙালি সবসময় গতানুগতিক প্রথা বা অন্ধ অনুকরণের বিরোধী। রাজনীতি, ধর্ম, সমাজ বা সাহিত্য—যে কোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন, বাঙালি যখনই নতুন কোনো 'সত্য, শিব ও সুন্দরে'র সন্ধান পেয়েছে, সে সাগ্রহে তাকে গ্রহণ করতে চেয়েছে। এই নতুন সত্যকে গ্রহণ করার পথে যদি প্রাচীন ঐতিহ্য বা সমাজের চিরাচরিত নিয়ম কোনো বাধার সৃষ্টি করেছে, বাঙালি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সেই প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে বা বিদ্রোহ করেছে।
বাঙালি চরিত্রের আরও একটি বড়ো বৈশিষ্ট্য হলো তার ভারসাম্য। এই বিদ্রোহ করতে গিয়ে যখন সে দেখেছে যে সমাজ উচ্ছৃঙ্খলতার পথে এগোচ্ছে বা নিয়মশৃঙ্খলার চরম অবনতি হচ্ছে, তখন সে নিজের সেই উচ্ছৃঙ্খল বিদ্রোহের বিরুদ্ধেই আবার পাল্টা বিদ্রোহ করেছে। ধর্ম পরিবর্তন করলেও বাঙালি হিন্দু বা বাঙালি মুসলমান উভয়ের চরিত্রেই এই তেজস্বী বিদ্রোহী সত্তা একইরকমভাবে বর্তমান থাকে।
বাঙালি সবসময় গতানুগতিক প্রথা বা অন্ধ অনুকরণের বিরোধী। রাজনীতি, ধর্ম, সমাজ বা সাহিত্য—যে কোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন, বাঙালি যখনই নতুন কোনো 'সত্য, শিব ও সুন্দরে'র সন্ধান পেয়েছে, সে সাগ্রহে তাকে গ্রহণ করতে চেয়েছে। এই নতুন সত্যকে গ্রহণ করার পথে যদি প্রাচীন ঐতিহ্য বা সমাজের চিরাচরিত নিয়ম কোনো বাধার সৃষ্টি করেছে, বাঙালি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সেই প্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে বা বিদ্রোহ করেছে।
বাঙালি চরিত্রের আরও একটি বড়ো বৈশিষ্ট্য হলো তার ভারসাম্য। এই বিদ্রোহ করতে গিয়ে যখন সে দেখেছে যে সমাজ উচ্ছৃঙ্খলতার পথে এগোচ্ছে বা নিয়মশৃঙ্খলার চরম অবনতি হচ্ছে, তখন সে নিজের সেই উচ্ছৃঙ্খল বিদ্রোহের বিরুদ্ধেই আবার পাল্টা বিদ্রোহ করেছে। ধর্ম পরিবর্তন করলেও বাঙালি হিন্দু বা বাঙালি মুসলমান উভয়ের চরিত্রেই এই তেজস্বী বিদ্রোহী সত্তা একইরকমভাবে বর্তমান থাকে।
৪. "রচনার ভাষা তার বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে।" - প্রাবন্ধিক কীভাবে দৃষ্টান্তসহযোগে এই সত্যটি প্রমাণ করেছেন?
উত্তর: 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলী বোঝাতে চেয়েছেন যে, কোনো রচনার ভাষারীতি আগে থেকে নির্দিষ্ট করা যায় না; রচনার বিষয়বস্তুই নির্ধারণ করে দেয় তার ভাষা কেমন হবে।
এই সত্যটিকে প্রমাণ করার জন্য প্রাবন্ধিক চমৎকার কিছু দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি গভীর ও তত্ত্বমূলক 'শংকরদর্শন' নিয়ে আলোচনা করতে বসেন, তবে সেই রচনার ভাষা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং সংস্কৃত শব্দবহুল হতে বাধ্য। কারণ দর্শনের গভীরতা হালকা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। পক্ষান্তরে, কেউ যদি কোনো মোগলাই রেস্তোরাঁর চটুল ও রোজকার পরিবেশের বর্ণনা দেন, তবে সেখানে সংস্কৃত শব্দ মানাবে না। সেই রচনার ভাষা হবে অনেকখানি হালকা, কথ্য এবং 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'র মতো ব্যঙ্গাত্মক বা আরবি-ফার্সি মিশ্রিত। আবার পত্রিকার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। 'বসুমতী' পত্রিকার সম্পাদকীয় নিবন্ধের ভাষা যেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক গাম্ভীর্য নিয়ে লেখা হয়, সেখানে 'বাঁকা চোখে'র মতো কলমগুলিতে হালকা বা চটুল ভাষার ব্যবহার দেখা যায়। বিষয়বস্তুর এই ভিন্নতাই ভাষার রূপ পরিবর্তন করে।
এই সত্যটিকে প্রমাণ করার জন্য প্রাবন্ধিক চমৎকার কিছু দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি গভীর ও তত্ত্বমূলক 'শংকরদর্শন' নিয়ে আলোচনা করতে বসেন, তবে সেই রচনার ভাষা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং সংস্কৃত শব্দবহুল হতে বাধ্য। কারণ দর্শনের গভীরতা হালকা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। পক্ষান্তরে, কেউ যদি কোনো মোগলাই রেস্তোরাঁর চটুল ও রোজকার পরিবেশের বর্ণনা দেন, তবে সেখানে সংস্কৃত শব্দ মানাবে না। সেই রচনার ভাষা হবে অনেকখানি হালকা, কথ্য এবং 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'র মতো ব্যঙ্গাত্মক বা আরবি-ফার্সি মিশ্রিত। আবার পত্রিকার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। 'বসুমতী' পত্রিকার সম্পাদকীয় নিবন্ধের ভাষা যেখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক গাম্ভীর্য নিয়ে লেখা হয়, সেখানে 'বাঁকা চোখে'র মতো কলমগুলিতে হালকা বা চটুল ভাষার ব্যবহার দেখা যায়। বিষয়বস্তুর এই ভিন্নতাই ভাষার রূপ পরিবর্তন করে।
৫. ইংরেজি ও সংস্কৃত ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রাবন্ধিকের মতামত 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধ অবলম্বনে লেখো।
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর 'নব নব সৃষ্টি' প্রবন্ধে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধির স্বার্থেই ইংরেজি এবং সংস্কৃত ভাষা চর্চার প্রবল যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন।
সংস্কৃত চর্চার প্রয়োজনীয়তা: প্রাবন্ধিকের মতে, বাংলা ভাষা থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে দেওয়া চরম বোকামি হবে। বাংলা ভাষা বর্তমানে বহু বিষয়ে উন্নতি লাভ করলেও নতুন নতুন পারিভাষিক শব্দ, বৈজ্ঞানিক নাম বা উন্নত চিন্তাভাবনা প্রকাশের জন্য তাকে সংস্কৃতের কাছেই হাত পাততে হয়। সংস্কৃত ভাষা হলো বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান 'খাদ্য'। সংস্কৃত চর্চা বন্ধ হলে বাংলা ভাষা নতুন শব্দ সৃষ্টির ক্ষমতা হারাবে এবং পঙ্গু হয়ে পড়বে।
ইংরেজি চর্চার প্রয়োজনীয়তা: অন্যদিকে, বর্তমান যুগ হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা এবং রেলের ইঞ্জিন চালানোর মতো আধুনিক বিজ্ঞানের নানা টেকনিক্যাল শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ এখনো তৈরি হয়নি বা হলেও তা খুবই অপ্রতুল। আন্তর্জাতিক স্তরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমেই আমাদের সেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই প্রাবন্ধিকের সুস্পষ্ট অভিমত হলো, ইংরেজি চর্চা বন্ধ করার সময় এখনো আমাদের আসেনি।
সংস্কৃত চর্চার প্রয়োজনীয়তা: প্রাবন্ধিকের মতে, বাংলা ভাষা থেকে সংস্কৃত চর্চা উঠিয়ে দেওয়া চরম বোকামি হবে। বাংলা ভাষা বর্তমানে বহু বিষয়ে উন্নতি লাভ করলেও নতুন নতুন পারিভাষিক শব্দ, বৈজ্ঞানিক নাম বা উন্নত চিন্তাভাবনা প্রকাশের জন্য তাকে সংস্কৃতের কাছেই হাত পাততে হয়। সংস্কৃত ভাষা হলো বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান 'খাদ্য'। সংস্কৃত চর্চা বন্ধ হলে বাংলা ভাষা নতুন শব্দ সৃষ্টির ক্ষমতা হারাবে এবং পঙ্গু হয়ে পড়বে।
ইংরেজি চর্চার প্রয়োজনীয়তা: অন্যদিকে, বর্তমান যুগ হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। দর্শন, নন্দনশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা এবং রেলের ইঞ্জিন চালানোর মতো আধুনিক বিজ্ঞানের নানা টেকনিক্যাল শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ এখনো তৈরি হয়নি বা হলেও তা খুবই অপ্রতুল। আন্তর্জাতিক স্তরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমেই আমাদের সেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই প্রাবন্ধিকের সুস্পষ্ট অভিমত হলো, ইংরেজি চর্চা বন্ধ করার সময় এখনো আমাদের আসেনি।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- স্বয়ংসম্পূর্ণ = স্বয়ম্ + সম্পূর্ণ
- হৃদয়ঙ্গম = হৃদয়ম্ + গম
- উচ্ছৃঙ্খলতা = উৎ + শৃঙ্খলতা
- অভূতপূর্ব = অভূত + পূর্ব
- বিদ্যালয় = বিদ্যা + আলয়
সমাস নির্ণয়
- আত্মনির্ভরশীল: আত্মের ওপর নির্ভরশীল (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)
- নন্দনশাস্ত্র: নন্দন বিষয়ক শাস্ত্র (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)
- রান্নাঘর: রান্নার নিমিত্ত ঘর (নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস)
- স্বয়ংসম্পূর্ণ: স্বয়ং দ্বারা সম্পূর্ণ (তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস)
- মহাভারত: মহান যে ভারত (কর্মধারয় সমাস)
পদ পরিবর্তন
- সৃষ্টি ➜ সৃষ্ট
- ধর্ম ➜ ধার্মিক
- নির্ভর ➜ নির্ভরশীল
- সাহিত্য ➜ সাহিত্যিক
- সৌন্দর্য ➜ সুন্দর
নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধ সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
প্রবন্ধটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা। এর মূল বিষয় হলো বিভিন্ন ভাষার শব্দভাণ্ডার, বিদেশি শব্দ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং বাংলা ভাষার বিবর্তনে সংস্কৃত ও অন্যান্য ভাষার প্রভাবের বিশ্লেষণ।
কারণ নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে সংস্কৃত ভাষা অন্যের কাছে ধার না করে নিজের শব্দভাণ্ডারে থাকা ধাতু বা শব্দ থেকেই নতুন শব্দ তৈরি করে নিতে পারে।
প্রাবন্ধিকের মতে, বাঙালির চরিত্রে জন্মগত বিদ্রোহ বিদ্যমান। সত্য, শিব ও সুন্দরের সন্ধানে বাধা এলে বাঙালি যেমন প্রাচীন ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, তেমনি সেই বিদ্রোহ উচ্ছৃঙ্খল হলে তার বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়ায়।