Sponsored Links
ঝোড়ো সাধু (মহাশ্বেতা দেবী)
বিখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'ঝোড়ো সাধু' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত স্বনামধন্য লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী রচিত 'ঝোড়ো সাধু' গল্পের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
ট্রেনে আলাপ ও সাধুর অতীত: মায়ের অসুখের খবর পেয়ে স্কুলছাত্র তথাগত পুরী থেকে তাড়াতাড়ি কলকাতায় ফিরছিল। ট্রেনের কামরায় তার এক অদ্ভুত চেহারার সাধুর সঙ্গে আলাপ হয়। টিকেট চেকার সাধুটিকে 'অপয়া' বলে সম্বোধন করেন। তোয়াজ করার পর সাধুটি তার জীবনের এক অবিশ্বাস্য গল্প তথাগতকে শোনায়। সাধুর আসল বাড়ি ছিল ময়ূরভঞ্জে এবং তার পেশা ছিল নৌকো তৈরি করা। একদিন সে এক বুড়ো জেলের দেখা পায় যে কিনা জল ও ঝড়ের দানোদের বশ করতে পারত। সাধু তার কাছে মন্ত্র শিখতে চায়। বুড়ো তাকে সতর্ক করে বলেছিল, শুধু ঝড় তোলার মন্ত্র শিখলে হবে না, ঝড় থামানোর মন্ত্রও শিখতে হবে। কিন্তু অতি-উৎসাহে সাধু দ্বিতীয় মন্ত্রটি শেখার আগেই প্রথমটি উচ্চারণ করে বসে। ফলে এক ভয়ংকর ঝড় ওঠে এবং সাধু জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফিরলে সে দেখে বুড়ো জেলে উধাও। সেই থেকে সে 'ঝোড়ো সাধু' নাম পায়, কারণ সে যেখানেই যায়, দানোরা তার পিছু নেয় এবং সেখানে বিধ্বংসী ঝড় ওঠে। তাই সে এমন একটি নির্জন দ্বীপ খুঁজছিল যেখানে মানুষ নেই, যাতে তার কারণে আর কারও ক্ষতি না হয়।
কলকাতায় অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ: ১৯৮২ সালের সুন্দরবনের ভয়ংকর ঝড়ের সময় তথাগত আবার সাধুকে ডায়মন্ডহারবার স্টেশনে দেখতে পায়। নিজের কারণে মানুষের ক্ষতি হচ্ছে ভেবে সাধু চরম হতাশায় তথাগতকে অনুরোধ করে তাকে ট্রেনের নীচে ফেলে দিতে। তথাগত তাকে কলকাতায় তার মাস্টারমশাইয়ের দাদা, বিখ্যাত ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ডক্টর দেবেন্দু রায়ের কাছে নিয়ে আসে। বিবেকানন্দ পার্কে দেবেন্দু রায়, মেঘ বিশেষজ্ঞ চিন্তামণি নরসিংহ, আবহাওয়া বিশারদ মণিময় দত্ত এবং এক অবিশ্বাসী সাংবাদিক মোহন প্যাটেলের সামনে সাধু উপস্থিত হয়। মোহন প্যাটেল সাধুর কথাকে 'ধাপ্পা' বলে উপহাস করলে সাধু ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বিড়বিড় করে। সঙ্গে সঙ্গে এক প্রচণ্ড ঝড় ওঠে, পার্কের গাছপালা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং অবিশ্বাসী মানুষগুলি হাওয়ায় ছিটকে পড়ে। ঝড়টি তারপর লেকের দিকে চলে যায়।
সাধুর চিরশান্তি লাভ: বিজ্ঞানীরা সাধুকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে গবেষণা করতে চাইলেও সাধু তাদের হাতের নাগাল এড়িয়ে পালিয়ে যায়। এরপর গাইঘাটায় এক প্রলয়ংকরী ঝড় হয়। মোহন প্যাটেল গাইঘাটা ঘুরে এসে তথাগতকে একটি ছবি দেখায়। ছবিতে দেখা যায়, সাধুটি একটি গাছ বুকে জড়িয়ে মরে পড়ে আছে, কিন্তু তার মুখে রয়েছে এক পরম প্রশান্তির হাসি। তথাগত ছবিটি দেখে বুঝতে পারে যে, সারাজীবন ঝড়ের অভিশাপ বয়ে বেড়ানোর পর সাধু অবশেষে তার এই জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে, তাই মৃত্যুর মুখেও সে এত শান্ত ও খুশি।
কলকাতায় অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ: ১৯৮২ সালের সুন্দরবনের ভয়ংকর ঝড়ের সময় তথাগত আবার সাধুকে ডায়মন্ডহারবার স্টেশনে দেখতে পায়। নিজের কারণে মানুষের ক্ষতি হচ্ছে ভেবে সাধু চরম হতাশায় তথাগতকে অনুরোধ করে তাকে ট্রেনের নীচে ফেলে দিতে। তথাগত তাকে কলকাতায় তার মাস্টারমশাইয়ের দাদা, বিখ্যাত ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ডক্টর দেবেন্দু রায়ের কাছে নিয়ে আসে। বিবেকানন্দ পার্কে দেবেন্দু রায়, মেঘ বিশেষজ্ঞ চিন্তামণি নরসিংহ, আবহাওয়া বিশারদ মণিময় দত্ত এবং এক অবিশ্বাসী সাংবাদিক মোহন প্যাটেলের সামনে সাধু উপস্থিত হয়। মোহন প্যাটেল সাধুর কথাকে 'ধাপ্পা' বলে উপহাস করলে সাধু ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু বিড়বিড় করে। সঙ্গে সঙ্গে এক প্রচণ্ড ঝড় ওঠে, পার্কের গাছপালা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং অবিশ্বাসী মানুষগুলি হাওয়ায় ছিটকে পড়ে। ঝড়টি তারপর লেকের দিকে চলে যায়।
সাধুর চিরশান্তি লাভ: বিজ্ঞানীরা সাধুকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে গবেষণা করতে চাইলেও সাধু তাদের হাতের নাগাল এড়িয়ে পালিয়ে যায়। এরপর গাইঘাটায় এক প্রলয়ংকরী ঝড় হয়। মোহন প্যাটেল গাইঘাটা ঘুরে এসে তথাগতকে একটি ছবি দেখায়। ছবিতে দেখা যায়, সাধুটি একটি গাছ বুকে জড়িয়ে মরে পড়ে আছে, কিন্তু তার মুখে রয়েছে এক পরম প্রশান্তির হাসি। তথাগত ছবিটি দেখে বুঝতে পারে যে, সারাজীবন ঝড়ের অভিশাপ বয়ে বেড়ানোর পর সাধু অবশেষে তার এই জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে, তাই মৃত্যুর মুখেও সে এত শান্ত ও খুশি।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| তছনছ | লণ্ডভণ্ড / ছিন্নভিন্ন | অপয়া | যার আগমন অমঙ্গলজনক |
| হদিস | খোঁজ / সন্ধান | দানো | দানব / অপদেবতা |
| তোয়াজ করা | খুশি করা / তোষামোদ করা | নিদারুণ | ভয়ংকর / অত্যন্ত কঠিন |
| সাধ্যসাধনা | বারবার অনুরোধ করা | ধাপ্পা | মিথ্যা কথা / প্রতারণা |
| বিশারদ | বিশেষভাবে অভিজ্ঞ / পণ্ডিত | ডিলিউশন | ভ্রম / মনের অলীক কল্পনা |
| নির্মেঘ | মেঘহীন / পরিষ্কার | প্রশান্ত | অত্যন্ত শান্ত / তৃপ্তিময় |
| আবদার | ভালোবাসা মিশ্রিত জোর দাবি | সর্বনাশ | সবকিছু ধ্বংস হওয়া |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'ঝোড়ো সাধু' গল্পটির রচয়িতা কে?
(ক) আশাপূর্ণা দেবী (খ) মহাশ্বেতা দেবী (গ) লীলা মজুমদার (ঘ) নবনীতা দেব সেন
উত্তর: (খ) মহাশ্বেতা দেবী
২. ট্রেনের কামরায় সাধুর সঙ্গে কার দেখা হয়েছিল?
(ক) মোহন প্যাটেলের (খ) টিকেট চেকারের (গ) তথাগতর (ঘ) দেবেন্দু রায়ের
উত্তর: (গ) তথাগতর
৩. তথাগত কোথা থেকে ফিরছিল?
(ক) দীঘা (খ) দার্জিলিং (গ) পুরী (ঘ) কলকাতা
উত্তর: (গ) পুরী
৪. টিকেট চেকার সাধুকে কী বলে সম্বোধন করেছিলেন?
(ক) পাগল (খ) অপয়া (গ) জাদুকর (ঘ) ভণ্ড
উত্তর: (খ) অপয়া
৫. সাধু কোথায় গিয়ে থাকতে চাইছিল?
(ক) পাহাড়ে (খ) জঙ্গলে (গ) নির্জন দ্বীপে (ঘ) মন্দিরে
উত্তর: (গ) নির্জন দ্বীপে
৬. সাধুর নিজের দেশ কোথায় ছিল?
(ক) মেদিনীপুরে (খ) ময়ূরভঞ্জে (গ) সুন্দরবনে (ঘ) চিল্কায়
উত্তর: (খ) ময়ূরভঞ্জে
৭. সাধুর আসল কাজ কী ছিল?
(ক) মাছ ধরা (খ) জাল বোনা (গ) নৌকো তৈরি করা (ঘ) কাঠ কাটা
উত্তর: (গ) নৌকো তৈরি করা
৮. সাধু কার কাছ থেকে মন্ত্র শিখতে চেয়েছিল?
(ক) এক বুড়ো জেলের কাছ থেকে (খ) সন্ন্যাসীর কাছ থেকে (গ) ভিখিরির কাছ থেকে (ঘ) পীরের কাছ থেকে
উত্তর: (ক) এক বুড়ো জেলের কাছ থেকে
৯. সাধু কোন্ মন্ত্রটি শিখতে ভুলে গিয়েছিল?
(ক) ঝড় তোলার মন্ত্র (খ) বৃষ্টি থামানোর মন্ত্র (গ) ঝড় থামানোর মন্ত্র (ঘ) রোগ সারানোর মন্ত্র
উত্তর: (গ) ঝড় থামানোর মন্ত্র
১০. দানো ছাড়ানোর জন্য সাধু কোথায় যেতে চাইছিল?
(ক) তারাপীঠে (খ) কালীঘাটে (গ) কামাখ্যায় (ঘ) বারাণসীতে
উত্তর: (খ) কালীঘাটে
১১. সাধুর দাদা কোথায় থাকত?
(ক) ক্যানিং-এ (খ) গাইঘাটায় (গ) ডায়মন্ডহারবারে (ঘ) বনগাঁয়
উত্তর: (ক) ক্যানিং-এ
১২. সাধুর ভাগ্নে গাইঘাটায় কীসের দোকান খুলেছিল?
(ক) চায়ের (খ) মিষ্টির (গ) কাপড়ের (ঘ) মুদির
উত্তর: (খ) মিষ্টির
১৩. ডায়মন্ডহারবার স্টেশনে সাধু তথাগতকে কী করতে বলেছিল?
(ক) টাকা দিতে (খ) পুলিশে দিতে (গ) ট্রেনের নীচে ঠেলা দিয়ে ফেলে দিতে (ঘ) সঙ্গে নিয়ে যেতে
উত্তর: (গ) ট্রেনের নীচে ঠেলা দিয়ে ফেলে দিতে
১৪. ডক্টর দেবেন্দু রায় কীসের বিশেষজ্ঞ ছিলেন?
(ক) আবহাওয়ার (খ) ভূমিকম্পের (গ) সমুদ্রের (ঘ) মেঘের
উত্তর: (খ) ভূমিকম্পের
১৫. মেঘ বিশেষজ্ঞের নাম কী ছিল?
(ক) মণিময় দত্ত (খ) দেবেন্দু রায় (গ) চিন্তামণি নরসিংহ (ঘ) মোহন প্যাটেল
উত্তর: (গ) চিন্তামণি নরসিংহ
১৬. আবহাওয়া বিশারদ কে ছিলেন?
(ক) মণিময় দত্ত (খ) চিন্তামণি নরসিংহ (গ) মোহন প্যাটেল (ঘ) দেবেন্দু রায়
উত্তর: (ক) মণিময় দত্ত
১৭. মোহন প্যাটেল পেশায় কী ছিলেন?
(ক) বিজ্ঞানী (খ) ডাক্তার (গ) সাংবাদিক (ঘ) পুলিশ
উত্তর: (গ) সাংবাদিক
১৮. কলকাতায় সাধুর ক্ষমতা পরীক্ষার জন্য কোথায় সবাইকে ডাকা হয়েছিল?
(ক) গড়ের মাঠে (খ) দেশপ্রিয় পার্কে (গ) বিবেকানন্দ পার্কে (ঘ) রবীন্দ্র সরোবরে
উত্তর: (গ) বিবেকানন্দ পার্কে
১৯. কে সাধুর কথাকে 'ধাপ্পা' বলেছিল?
(ক) দেবেন্দু রায় (খ) মোহন প্যাটেল (গ) তথাগত (ঘ) চিন্তামণি
উত্তর: (খ) মোহন প্যাটেল
২০. গাইঘাটায় মারা যাওয়ার পর সাধুর মুখে কীরূপ ভাব ছিল?
(ক) যন্ত্রণার (খ) ভয়ের (গ) প্রশান্ত ও হাসি হাসি (ঘ) রাগের
উত্তর: (গ) প্রশান্ত ও হাসি হাসি
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. তথাগতর সঙ্গে সাধুর কোথায় দেখা হয়েছিল?
উত্তর: তথাগতর সঙ্গে সাধুর প্রথম দেখা হয়েছিল ট্রেনের কামরায়, যখন তথাগত পুরী থেকে কলকাতায় ফিরছিল।
২. টিকেট চেকার সাধুকে 'অপয়া' বলেছিলেন কেন?
উত্তর: সাধুটি ট্রেনে উঠলেই বা সে যেখানেই যায় সেখানে ভয়ংকর ঝড় ওঠে এবং মানুষের ক্ষতি হয়। এই অমঙ্গলের জন্যই টিকেট চেকার তাকে 'অপয়া' বলেছিলেন।
৩. সাধু কেন একটি নির্জন দ্বীপ খুঁজছিল?
উত্তর: সাধু চাইত না তার কারণে আর কোনো মানুষের ক্ষতি হোক বা নৌকো ডুবুক। তাই সে এমন একটি নির্জন দ্বীপ খুঁজছিল যেখানে মানুষজন থাকে না, যাতে সেখানে সে নিজের মতো থাকতে পারে।
৪. সাধুর আসল বাড়ি কোথায় ছিল এবং সে কী কাজ করত?
উত্তর: সাধুর আসল বাড়ি ছিল ময়ূরভঞ্জে এবং তার পেশা ছিল নৌকো তৈরি করা।
৫. বুড়ো জেলে সাধুকে কী সতর্ক করেছিল?
উত্তর: বুড়ো জেলে সাধুকে সতর্ক করেছিল যে, ঝড় তোলার মন্ত্র শিখলে ঝড় থামানোর মন্ত্রও অবশ্যই শিখতে হবে। তা না শিখলে জল ও ঝড়ের দানোরা সাধুর সঙ্গ নেবে এবং সে যেখানে যাবে সেখানেই নিদারুণ ঝড় উঠবে।
৬. সাধু কেন দ্বিতীয় মন্ত্র শেখার আগেই প্রথমটি উচ্চারণ করেছিল?
উত্তর: বুড়ো জেলে সত্যি কথা বলছে নাকি স্রেফ ধাপ্পা দিচ্ছে, তা পরীক্ষা করে দেখার অতি-উৎসাহেই সাধু দ্বিতীয় মন্ত্র শেখার আগেই মনে মনে প্রথম মন্ত্রটি উচ্চারণ করে বসেছিল।
৭. জ্ঞান ফেরার পর সাধু কী দেখেছিল?
উত্তর: প্রথম মন্ত্র উচ্চারণের পর ভয়ংকর ঝড়ে সাধু অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে সে দেখে যে, বুড়ো জেলের কোনো পাত্তা নেই এবং সে সমুদ্রতীরে একা পড়ে আছে।
৮. সাধু তার আত্মীয়দের কাছে যেতে ভয় পেত কেন?
উত্তর: সাধুর দাদা ক্যানিং-এ থাকত এবং ভাগ্নে গাইঘাটায় মিষ্টির দোকান খুলেছিল। কিন্তু সাধু তাদের কাছে গেলে তার পিছু নেওয়া দানোদের প্রভাবে সেখানেও ভয়ংকর ঝড় উঠবে এবং তাদের চরম ক্ষতি হবে, এই ভেবে সাধু তাদের কাছে যেতে ভয় পেত।
৯. ডায়মন্ডহারবার স্টেশনে সাধু তথাগতকে কী অনুরোধ করেছিল?
উত্তর: নিজের কারণে মানুষের এত চরম সর্বনাশ হচ্ছে দেখে হতাশ ও বিষণ্ণ সাধু তথাগতকে অনুরোধ করেছিল তাকে ঠেলা দিয়ে ট্রেনের নীচে ফেলে দিতে, যাতে তার মৃত্যু হয় এবং মানুষের মুক্তি ঘটে।
১০. তথাগত কলকাতায় সাধুকে কার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিল?
উত্তর: তথাগত ভেবেছিল সাধুকে তার মাস্টারমশাইয়ের দাদা, বিখ্যাত ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ডক্টর দেবেন্দু রায়ের কাছে নিয়ে যাবে, যাতে তিনি সাধুর সমস্যার কোনো বৈজ্ঞানিক সমাধান বা নির্জন দ্বীপের খোঁজ দিতে পারেন।
১১. কলকাতায় সাধুর সঙ্গে দেখা করতে কোন্ কোন্ বিশেষজ্ঞ এসেছিলেন?
উত্তর: বিবেকানন্দ পার্কে সাধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ডক্টর দেবেন্দু রায়, মেঘ বিশেষজ্ঞ চিন্তামণি নরসিংহ, আবহাওয়া বিশারদ ড. মণিময় দত্ত এবং সাংবাদিক মোহন প্যাটেল।
১২. মোহন প্যাটেলের কথা শুনে সাধু কী করেছিল?
উত্তর: মোহন প্যাটেল সাধুর ক্ষমতাকে 'ধাপ্পা' বা 'ডিলিউশন' বলে উপহাস করলে সাধু ক্ষুব্ধ হয়। সে তখন তথাগতর হাত চেপে ধরে কিছু বিড়বিড় করে এবং নিজের অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ দিতে মুহূর্তের মধ্যে এক প্রবল ঝড় তৈরি করে দেখায়।
১৩. দেবেন্দু রায় সাধুকে আটকাতে চেয়েছিলেন কেন?
উত্তর: সাধুর অলৌকিক ও ভয়ংকর ক্ষমতা নিজের চোখে দেখে দেবেন্দু রায় মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি সাধুকে আটকে রেখে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের এই অবিশ্বাস্য ব্যাপারটি দেখাতে চেয়েছিলেন।
১৪. মোহন প্যাটেল গাইঘাটা থেকে ফিরে তথাগতকে কী দেখিয়েছিল?
উত্তর: মোহন প্যাটেল গাইঘাটার ভয়ংকর ঝড়ের খবর সংগ্রহ করে ফিরে এসে তথাগতকে একটি ছবি দেখিয়েছিল, যেখানে দেখা যায় সাধুটি একটি গাছ বুকে জড়িয়ে মরে পড়ে আছে।
১৫. "ও মুক্তি পেয়ে গেছে, তাই হাসছে।" - কে, কেন এমন কথা বলেছিল?
উত্তর: তথাগত সাধুর মৃত্যুর ছবিটি দেখে এ কথা বলেছিল। সারাজীবন দানোদের অভিশাপ ও মানুষের মৃত্যুর গ্লানি বয়ে বেড়ানোর পর মৃত্যুর মাধ্যমেই সাধুর এই যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি ঘটেছে, তাই তার মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠেছে।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. 'ঝোড়ো সাধু' গল্প অবলম্বনে সাধুর অতীত জীবনের করুণ কাহিনিটি নিজের ভাষায় লেখো। কীভাবে সে 'ঝোড়ো সাধু' হয়ে উঠল?
উত্তর: মহাশ্বেতা দেবীর 'ঝোড়ো সাধু' গল্পের প্রধান চরিত্র এই সাধুটির আসল বাড়ি ছিল ময়ূরভঞ্জে এবং তার পেশা ছিল নৌকো তৈরি করা। কাজের সূত্রেই সে ওড়িশা ও মেদিনীপুরের মাঝামাঝি এক জায়গায় গিয়ে পড়ে।
সেখানে সে খবর পায় এক বয়স্ক জেলের, যে কিনা মন্ত্রের জোরে জল ও ঝড়ের দানোদের বশ করতে পারত। এই অলৌকিক বিদ্যে শেখার জন্য সাধু সেই জেলের পিছু নেয়। অনেক সাধ্যসাধনার পর জেলে তাকে বিদ্যা শেখাতে রাজি হয়, কিন্তু সতর্ক করে বলে যে ঝড় তোলার পাশাপাশি ঝড় থামানোর মন্ত্রও তাকে শিখতে হবে, নইলে দানোরা তার সঙ্গ নেবে। কিন্তু সাধুর মনে সন্দেহ ছিল যে জেলে তাকে ধাপ্পা দিচ্ছে কি না। তাই সে দ্বিতীয় বা থামানোর মন্ত্রটি শেখার আগেই প্রথম মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে এক রাক্ষুসে ঝড় ওঠে এবং সাধু অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে সে দেখে যে বুড়ো জেলের কোনো অস্তিত্ব নেই।
সেই অসম্পূর্ণ শিক্ষার অভিশাপ নিয়ে সাধুকে বাঁচতে হয়। সে যেখানেই যায়, দানোরা তার পিছু নেয় এবং সেখানে বিধ্বংসী ঝড় ওঠে। সে নিজে বাঁচলেও তার কারণে অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রাণহানি ঘটে। নিজের এই অভিশপ্ত ক্ষমতার জন্যই সে সমাজে 'অপয়া' এবং 'ঝোড়ো সাধু' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সেখানে সে খবর পায় এক বয়স্ক জেলের, যে কিনা মন্ত্রের জোরে জল ও ঝড়ের দানোদের বশ করতে পারত। এই অলৌকিক বিদ্যে শেখার জন্য সাধু সেই জেলের পিছু নেয়। অনেক সাধ্যসাধনার পর জেলে তাকে বিদ্যা শেখাতে রাজি হয়, কিন্তু সতর্ক করে বলে যে ঝড় তোলার পাশাপাশি ঝড় থামানোর মন্ত্রও তাকে শিখতে হবে, নইলে দানোরা তার সঙ্গ নেবে। কিন্তু সাধুর মনে সন্দেহ ছিল যে জেলে তাকে ধাপ্পা দিচ্ছে কি না। তাই সে দ্বিতীয় বা থামানোর মন্ত্রটি শেখার আগেই প্রথম মন্ত্রটি মনে মনে উচ্চারণ করে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে এক রাক্ষুসে ঝড় ওঠে এবং সাধু অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে সে দেখে যে বুড়ো জেলের কোনো অস্তিত্ব নেই।
সেই অসম্পূর্ণ শিক্ষার অভিশাপ নিয়ে সাধুকে বাঁচতে হয়। সে যেখানেই যায়, দানোরা তার পিছু নেয় এবং সেখানে বিধ্বংসী ঝড় ওঠে। সে নিজে বাঁচলেও তার কারণে অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রাণহানি ঘটে। নিজের এই অভিশপ্ত ক্ষমতার জন্যই সে সমাজে 'অপয়া' এবং 'ঝোড়ো সাধু' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
২. বিবেকানন্দ পার্কে সাধুর অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শনের ঘটনাটি সবিস্তারে বর্ণনা করো।
উত্তর: ডায়মন্ডহারবার স্টেশনে হতাশাগ্রস্ত সাধুকে পেয়ে তথাগত তাকে কলকাতায় তার মাস্টারমশাইয়ের দাদা, বিখ্যাত ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ডক্টর দেবেন্দু রায়ের কাছে নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিল সাধুর সমস্যার কোনো বৈজ্ঞানিক সমাধান বা একটি নির্জন দ্বীপের খোঁজ পাওয়া।
দক্ষিণ কলকাতার বিবেকানন্দ পার্কে এক নির্মেঘ সন্ধ্যায় সাধুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন দেবেন্দু রায়, মেঘ বিশেষজ্ঞ চিন্তামণি নরসিংহ, আবহাওয়া বিশারদ মণিময় দত্ত এবং অবিশ্বাসী সাংবাদিক মোহন প্যাটেল। সাধু তার জীবনের সব কথা খুলে বললেও মোহন প্যাটেল সেটিকে 'ধাপ্পা' ও 'ডিলিউশন' বলে উপহাস করে। এই অবিশ্বাসে সাধু ক্ষুব্ধ হয়। সে তথাগতর হাত চেপে ধরে বিড়বিড় করে কিছু মন্ত্র উচ্চারণ করে।
মুহূর্তের মধ্যে সেই শান্ত সন্ধ্যায় এক প্রচণ্ড ঝড় আছড়ে পড়ে। পার্কের গাছপালা প্রবলভাবে দুলে ওঠে এবং বাতাসের ভয়ংকর ধাক্কায় মোহন প্যাটেলসহ অন্যান্যরা মাটিতে পড়ে গড়াতে থাকে। কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালিয়ে ঝড়টি লেকের দিকে চলে যায়। বিজ্ঞানীরা এই অলৌকিক কাণ্ড দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। সাধু জানায়, এটি তার নিজের ডেকে আনা ঝড় বলেই সে থামাতে পারল, কিন্তু নিজে থেকে আসা ঝড় সে থামাতে পারে না। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাধুর ভয়ংকর ক্ষমতার অকাট্য প্রমাণ মেলে।
দক্ষিণ কলকাতার বিবেকানন্দ পার্কে এক নির্মেঘ সন্ধ্যায় সাধুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন দেবেন্দু রায়, মেঘ বিশেষজ্ঞ চিন্তামণি নরসিংহ, আবহাওয়া বিশারদ মণিময় দত্ত এবং অবিশ্বাসী সাংবাদিক মোহন প্যাটেল। সাধু তার জীবনের সব কথা খুলে বললেও মোহন প্যাটেল সেটিকে 'ধাপ্পা' ও 'ডিলিউশন' বলে উপহাস করে। এই অবিশ্বাসে সাধু ক্ষুব্ধ হয়। সে তথাগতর হাত চেপে ধরে বিড়বিড় করে কিছু মন্ত্র উচ্চারণ করে।
মুহূর্তের মধ্যে সেই শান্ত সন্ধ্যায় এক প্রচণ্ড ঝড় আছড়ে পড়ে। পার্কের গাছপালা প্রবলভাবে দুলে ওঠে এবং বাতাসের ভয়ংকর ধাক্কায় মোহন প্যাটেলসহ অন্যান্যরা মাটিতে পড়ে গড়াতে থাকে। কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালিয়ে ঝড়টি লেকের দিকে চলে যায়। বিজ্ঞানীরা এই অলৌকিক কাণ্ড দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। সাধু জানায়, এটি তার নিজের ডেকে আনা ঝড় বলেই সে থামাতে পারল, কিন্তু নিজে থেকে আসা ঝড় সে থামাতে পারে না। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাধুর ভয়ংকর ক্ষমতার অকাট্য প্রমাণ মেলে।
৩. "ও মুক্তি পেয়ে গেছে, তাই হাসছে।" - উক্তিটি কার? কে, কার সম্পর্কে মন্তব্য করেছে? এমন মন্তব্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উৎস ও বক্তা: আলোচ্য উক্তিটি মহাশ্বেতা দেবী রচিত 'ঝোড়ো সাধু' গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। উক্তিটি করেছে গল্পের অন্যতম চরিত্র তথাগত, সাংবাদিক মোহন প্যাটেলের প্রশ্নের উত্তরে। সে 'ঝোড়ো সাধু'র মৃতদেহের ছবিটি দেখে এই মন্তব্য করেছিল।
কারণ বিশ্লেষণ: সাধুর জীবন ছিল এক চরম অভিশপ্ত জীবন। তার অসম্পূর্ণ মন্ত্রশিক্ষার কারণে জল ও ঝড়ের দানোরা সারাক্ষণ তার পিছু নিয়ে থাকত। সে নিজের আত্মীয়স্বজনের কাছে যেতে পারত না, কারণ সে গেলে সেখানেও ভয়ংকর ঝড় উঠে তাদের চরম ক্ষতি হবে। নিজের কারণে নিরীহ মানুষের মৃত্যু ও সর্বনাশ দেখে সে তীব্র অনুশোচনা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগত। সে এতটাই হতাশ ছিল যে তথাগতকে ট্রেনের নীচে ফেলে দিয়ে তাকে মেরে ফেলতে অনুরোধ করেছিল।
শেষপর্যন্ত যখন গাইঘাটায় এক প্রলয়ংকরী ঝড়ে সাধুর মৃত্যু হয়, তখন তার মুখের ছবিটি মোহন প্যাটেল তথাগতকে দেখায়। ছবিতে মৃত সাধুর মুখে ভয়ের বদলে ছিল এক পরম প্রশান্তির হাসি। তথাগত বুঝতে পারে যে, এই মৃত্যুই ছিল সাধুর একমাত্র কাম্য। মৃত্যুর মাধ্যমেই সে তার সারাজীবনের অভিশাপ, গ্লানি ও যন্ত্রণা থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি পেয়েছে। এই আত্মিক মুক্তির আনন্দেই তার মৃতমুখে সেই প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠেছে।
কারণ বিশ্লেষণ: সাধুর জীবন ছিল এক চরম অভিশপ্ত জীবন। তার অসম্পূর্ণ মন্ত্রশিক্ষার কারণে জল ও ঝড়ের দানোরা সারাক্ষণ তার পিছু নিয়ে থাকত। সে নিজের আত্মীয়স্বজনের কাছে যেতে পারত না, কারণ সে গেলে সেখানেও ভয়ংকর ঝড় উঠে তাদের চরম ক্ষতি হবে। নিজের কারণে নিরীহ মানুষের মৃত্যু ও সর্বনাশ দেখে সে তীব্র অনুশোচনা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগত। সে এতটাই হতাশ ছিল যে তথাগতকে ট্রেনের নীচে ফেলে দিয়ে তাকে মেরে ফেলতে অনুরোধ করেছিল।
শেষপর্যন্ত যখন গাইঘাটায় এক প্রলয়ংকরী ঝড়ে সাধুর মৃত্যু হয়, তখন তার মুখের ছবিটি মোহন প্যাটেল তথাগতকে দেখায়। ছবিতে মৃত সাধুর মুখে ভয়ের বদলে ছিল এক পরম প্রশান্তির হাসি। তথাগত বুঝতে পারে যে, এই মৃত্যুই ছিল সাধুর একমাত্র কাম্য। মৃত্যুর মাধ্যমেই সে তার সারাজীবনের অভিশাপ, গ্লানি ও যন্ত্রণা থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি পেয়েছে। এই আত্মিক মুক্তির আনন্দেই তার মৃতমুখে সেই প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠেছে।
৪. সাধু কেন নির্জন দ্বীপ খুঁজছিল? তার এই ইচ্ছার মধ্যে দিয়ে সাধুর চরিত্রের কোন্ দিকটি প্রকাশ পায়?
উত্তর: নির্জন দ্বীপ খোঁজার কারণ: সাধু তার যৌবনের একটি ভুলের কারণে এক ভয়ংকর অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছিল। সে ঝড় তোলার মন্ত্র জানলেও ঝড় থামানোর মন্ত্র জানত না। ফলে সে যেখানেই যেত, তার পিছু পিছু দানোরা গিয়ে সেখানে বিধ্বংসী ঝড় তুলত। এই ঝড়ে বহু মানুষের নৌকো ডুবত, ঘরবাড়ি তছনছ হতো এবং প্রাণহানি ঘটত। নিজের কারণে নিরপরাধ মানুষের এই চরম সর্বনাশ দেখে সাধুর মনে গভীর অপরাধবোধ কাজ করত। তাই সে এমন একটি ছোটো ও নির্জন দ্বীপ খুঁজছিল যেখানে কোনো মানুষজন বাস করে না। সেখানে গিয়ে পড়ে থাকলে ঝড় উঠলেও কোনো মানুষের কষ্ট হবে না, বড়জোর তার নিজের ক্ষতি হবে বা সে না খেতে পেয়ে মারা যাবে।
চরিত্রের প্রকাশ: সাধুর এই ইচ্ছার মধ্যে দিয়ে তার চরিত্রের গভীর মানবিকতা, নিঃস্বার্থপরতা এবং প্রবল বিবেকের দংশন প্রকাশ পেয়েছে। সে একজন ভণ্ড বা স্বার্থপর সাধু ছিল না। নিজের আরাম বা জীবন বাঁচানোর চেয়ে সে অন্যদের জীবন বাঁচানোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। মানুষের ক্ষতি এড়াতে সে নিজের প্রিয়জনদের ছেড়ে চিরতরে নির্বাসনে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয়নি। এটি তার চরিত্রের এক মহৎ ও আত্মত্যাগী দিককে তুলে ধরে।
চরিত্রের প্রকাশ: সাধুর এই ইচ্ছার মধ্যে দিয়ে তার চরিত্রের গভীর মানবিকতা, নিঃস্বার্থপরতা এবং প্রবল বিবেকের দংশন প্রকাশ পেয়েছে। সে একজন ভণ্ড বা স্বার্থপর সাধু ছিল না। নিজের আরাম বা জীবন বাঁচানোর চেয়ে সে অন্যদের জীবন বাঁচানোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। মানুষের ক্ষতি এড়াতে সে নিজের প্রিয়জনদের ছেড়ে চিরতরে নির্বাসনে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয়নি। এটি তার চরিত্রের এক মহৎ ও আত্মত্যাগী দিককে তুলে ধরে।
৫. 'ঝোড়ো সাধু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের নামকরণের মধ্যে দিয়ে রচনার মূল বিষয়বস্তু বা কেন্দ্রীয় চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। মহাশ্বেতা দেবীর আলোচ্য গল্পটির নাম রাখা হয়েছে 'ঝোড়ো সাধু'।
সমগ্র গল্পটি আবর্তিত হয়েছে এক অদ্ভুত ও হতভাগ্য সাধুকে কেন্দ্র করে। এই সাধু তার যৌবনে অতি-উৎসাহের বশে এক বুড়ো জেলের কাছ থেকে শুধু ঝড় তোলার মন্ত্র শিখেছিল, কিন্তু ঝড় থামানোর বিদ্যাটি সে শিখতে পারেনি। এই অসম্পূর্ণ শিক্ষার কারণে তার জীবন এক অভিশাপে পরিণত হয়। সে যেখানেই যায়, সেখানেই প্রকৃতি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এবং ভয়ংকর ঝড়ের সৃষ্টি হয়। তার উপস্থিতিতেই চিল্কা, সুন্দরবন বা গাইঘাটায় প্রলয়ংকরী ঝড় আছড়ে পড়ে। নিজের এই অভিশপ্ত ক্ষমতার জন্য সে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং মানুষের চোখে 'অপয়া' হিসেবে চিহ্নিত হয়।
যেহেতু এই সাধুটির পুরো জীবনটাই ঝড়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং সে নিজেই এই ঝড়ের কারণ ও নিয়ন্ত্রক (যদিও আংশিক), তাই সমাজের মানুষ তাকে 'ঝোড়ো সাধু' নামেই চেনে। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই সাধুর জীবনের ট্র্যাজেডি এবং ঝড়ের ধ্বংসলীলাই প্রাধান্য পেয়েছে। সুতরাং, কেন্দ্রীয় চরিত্রের এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যকে ভিত্তি করে রাখা 'ঝোড়ো সাধু' নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও অত্যন্ত ব্যঞ্জনাময় হয়েছে।
সমগ্র গল্পটি আবর্তিত হয়েছে এক অদ্ভুত ও হতভাগ্য সাধুকে কেন্দ্র করে। এই সাধু তার যৌবনে অতি-উৎসাহের বশে এক বুড়ো জেলের কাছ থেকে শুধু ঝড় তোলার মন্ত্র শিখেছিল, কিন্তু ঝড় থামানোর বিদ্যাটি সে শিখতে পারেনি। এই অসম্পূর্ণ শিক্ষার কারণে তার জীবন এক অভিশাপে পরিণত হয়। সে যেখানেই যায়, সেখানেই প্রকৃতি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এবং ভয়ংকর ঝড়ের সৃষ্টি হয়। তার উপস্থিতিতেই চিল্কা, সুন্দরবন বা গাইঘাটায় প্রলয়ংকরী ঝড় আছড়ে পড়ে। নিজের এই অভিশপ্ত ক্ষমতার জন্য সে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং মানুষের চোখে 'অপয়া' হিসেবে চিহ্নিত হয়।
যেহেতু এই সাধুটির পুরো জীবনটাই ঝড়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং সে নিজেই এই ঝড়ের কারণ ও নিয়ন্ত্রক (যদিও আংশিক), তাই সমাজের মানুষ তাকে 'ঝোড়ো সাধু' নামেই চেনে। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই সাধুর জীবনের ট্র্যাজেডি এবং ঝড়ের ধ্বংসলীলাই প্রাধান্য পেয়েছে। সুতরাং, কেন্দ্রীয় চরিত্রের এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যকে ভিত্তি করে রাখা 'ঝোড়ো সাধু' নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও অত্যন্ত ব্যঞ্জনাময় হয়েছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- নির্জন = নিঃ + জন
- অবিশ্বাস্য = অ + বিশ্বাস্য
- উচ্চারণ = উৎ + চারণ
- অত্যাশ্চর্য = অতি + আশ্চর্য
- আবিষ্কার = আবিঃ + কার
সমাস নির্ণয়
- মেঘবিশেষজ্ঞ: মেঘের বিশেষজ্ঞ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- ছেলেমানুষ: ছেলের মতো মানুষ (উপমিত কর্মধারয় সমাস)
- মাস্টারমশাই: যিনি মাস্টার তিনিই মশাই (সাধারণ কর্মধারয়)
- গাছপালা: গাছ ও পালা (সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)
- আবহাওয়াবিদ: আবহাওয়ার বিশারদ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
পদ পরিবর্তন
- বিশ্বাস ➜ বিশ্বস্ত
- শরীর ➜ শারীরিক
- গাছ ➜ গেছো
- দিন ➜ দৈনিক
- বিজ্ঞান ➜ বৈজ্ঞানিক
ঝোড়ো সাধু গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
গল্পটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর লেখা। গল্পের মূল চরিত্র হলো এক অভিশপ্ত সাধু, যে তার অসম্পূর্ণ মন্ত্রজ্ঞানের কারণে যেখানেই যায়, সেখানেই ভয়ংকর ঝড় ডেকে আনে।
সাধুর উপস্থিতিতেই প্রবল ঝড় ওঠে এবং মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রাণহানি ঘটে। নিজের কারণে নিরীহ মানুষের এই ক্ষতি আটকাতেই সে এমন এক নির্জন দ্বীপ খুঁজছিল যেখানে মানুষ থাকে না।
সারাজীবন নিজের অভিশপ্ত ক্ষমতার জন্য অনুশোচনা ও গ্লানিতে ভোগার পর, মৃত্যুর মাধ্যমেই সাধু সেই যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এই আত্মিক মুক্তির আনন্দেই তার মৃতমুখে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠেছিল।