Sponsored Links
হিমালয় দর্শন (বেগম রোকেয়া)
বিখ্যাত নারীজাগরণের অগ্রদূত ও সাহিত্যিক বেগম রোকেয়া রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত নারীজাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া রচিত 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. রচনার বিষয়সংক্ষেপ
হিমালয় যাত্রার সূচনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: লেখিকা বেগম রোকেয়া শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে ছোটো খেলনা গাড়ির মতো হিমালয়ান রেলগাড়িতে করে পাহাড়ে ওঠার মনোরম অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। ট্রেনটি যখন আঁকাবাঁকা পথে উঁচুতে উঠছিল, তখন পথের দু-ধারের উঁচু পাহাড়ের চূড়া, নিবিড় অরণ্য, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং হরিৎ বর্ণের চা-বাগানগুলি তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। দূর থেকে চা-বাগানের পথগুলিকে তিনি বসুমতীর মাথার সিঁথির সঙ্গে তুলনা করেছেন। পথে সুন্দর সুন্দর জলপ্রপাত বা ঝরনা দেখে তাঁর মনে পড়ে যে এরাই গঙ্গা বা জাহ্নবীর উৎস।
কারসিয়ং-এ বসবাস ও ভুটিয়ানিদের জীবনযাত্রা: কারসিয়ং স্টেশনে (উচ্চতা ৪৮৬৪ ফিট) পৌঁছানোর পর লেখিকারা তাঁদের বাসায় ওঠেন। এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ। সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম গগনের খণ্ড খণ্ড মেঘগুলো সোনার মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ভূতত্ত্বের বইয়ে পড়া অতিকায় ঢেঁকিশাক (ফার্ন গাছ) লেখিকা এখানে স্বচক্ষে দেখেন। এই অঞ্চলে বাঘ না থাকলেও জোঁক আছে। এখানকার ভুটিয়া নারীদের (যাদের 'ভুটিয়ানি' বলা হয়) কর্মঠ ও সাহসী জীবন লেখিকাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তারা পিঠে ভারী পাথর বয়ে নিয়ে পাহাড়ি পথে অনায়াসে ওঠানামা করে। পুরুষদের পাশাপাশি তারাও সমানভাবে উপার্জন করে। লেখিকা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই পরিশ্রমী নারীদের কোনোভাবেই 'অবলা' বলা যায় না। তবে সমতলের মানুষদের (নীচেকা আদমি) সংস্পর্শে এসে এরা চুরি করা বা দুধে জল মেশানোর মতো কিছু খারাপ গুণও শিখছে।
ঈশ্বরের উপাসনা ও ভক্তি: পাহাড় ও ঝরনার এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখে লেখিকার মনে ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা জেগে ওঠে। পাহাড়ের উচ্চশৃঙ্গ এবং ঝরনা যেন তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সৃষ্টিকর্তা বা মহাশিল্পী ঈশ্বর কত মহান! লেখিকার মতে, ঈশ্বর আমাদের যে সুন্দর চোখ, কান ও মন দিয়েছেন, তা দিয়ে যদি আমরা এই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করে তাঁর গুণকীর্তন না করি, তবে তা চরম অকৃতজ্ঞতা বা কৃতঘ্নতা হবে। তিনি মনে করেন, কেবল টিয়াপাখির মতো কিছু শব্দ উচ্চারণ করলেই প্রকৃত উপাসনা হয় না; মন, মস্তিষ্ক ও প্রাণ দিয়ে ঈশ্বরের এই সৃষ্টির প্রশংসা করার নামই হলো আসল উপাসনা।
কারসিয়ং-এ বসবাস ও ভুটিয়ানিদের জীবনযাত্রা: কারসিয়ং স্টেশনে (উচ্চতা ৪৮৬৪ ফিট) পৌঁছানোর পর লেখিকারা তাঁদের বাসায় ওঠেন। এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ। সূর্যাস্তের সময় পশ্চিম গগনের খণ্ড খণ্ড মেঘগুলো সোনার মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ভূতত্ত্বের বইয়ে পড়া অতিকায় ঢেঁকিশাক (ফার্ন গাছ) লেখিকা এখানে স্বচক্ষে দেখেন। এই অঞ্চলে বাঘ না থাকলেও জোঁক আছে। এখানকার ভুটিয়া নারীদের (যাদের 'ভুটিয়ানি' বলা হয়) কর্মঠ ও সাহসী জীবন লেখিকাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। তারা পিঠে ভারী পাথর বয়ে নিয়ে পাহাড়ি পথে অনায়াসে ওঠানামা করে। পুরুষদের পাশাপাশি তারাও সমানভাবে উপার্জন করে। লেখিকা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই পরিশ্রমী নারীদের কোনোভাবেই 'অবলা' বলা যায় না। তবে সমতলের মানুষদের (নীচেকা আদমি) সংস্পর্শে এসে এরা চুরি করা বা দুধে জল মেশানোর মতো কিছু খারাপ গুণও শিখছে।
ঈশ্বরের উপাসনা ও ভক্তি: পাহাড় ও ঝরনার এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখে লেখিকার মনে ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা জেগে ওঠে। পাহাড়ের উচ্চশৃঙ্গ এবং ঝরনা যেন তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সৃষ্টিকর্তা বা মহাশিল্পী ঈশ্বর কত মহান! লেখিকার মতে, ঈশ্বর আমাদের যে সুন্দর চোখ, কান ও মন দিয়েছেন, তা দিয়ে যদি আমরা এই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করে তাঁর গুণকীর্তন না করি, তবে তা চরম অকৃতজ্ঞতা বা কৃতঘ্নতা হবে। তিনি মনে করেন, কেবল টিয়াপাখির মতো কিছু শব্দ উচ্চারণ করলেই প্রকৃত উপাসনা হয় না; মন, মস্তিষ্ক ও প্রাণ দিয়ে ঈশ্বরের এই সৃষ্টির প্রশংসা করার নামই হলো আসল উপাসনা।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| কুঞ্ঝটিকা | কুয়াশা / মেঘের আবরণ | দুগ্ধফেননিভ | দুধের ফেনার মতো সাদা |
| উপত্যকা | দুই পাহাড়ের মাঝখানের নিচু সমতল ভূমি | মনোরথ | মনের ইচ্ছা বা বাসনা |
| হিমাদ্রি | হিমালয় পর্বত | কৃতঘ্নতা | উপকারীব ব্যক্তির উপকার অস্বীকার করা |
| জাহ্নবী | গঙ্গা নদী | অবলীলক্রমে | অনায়াসে / কোনো কষ্ট ছাড়াই |
| সীমন্ত | সিঁথি (মাথার চুল ভাগ করার রেখা) | ভ্রুকুটি | ভুরু কুঁচকানো / বিরক্ত হওয়া |
| প্রাণ কণ্ঠাগত | প্রায় মরণাপন্ন অবস্থা / চরম কষ্ট | স্রষ্টা | যিনি সৃষ্টি করেন / ঈশ্বর |
| নির্ঝর | ঝরনা / জলপ্রপাত | তামাশা | মজা / কৌতুককর দৃশ্য |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
(ক) মহাশ্বেতা দেবী (খ) বেগম রোকেয়া (গ) লীলা মজুমদার (ঘ) কামিনী রায়
উত্তর: (খ) বেগম রোকেয়া
২. লেখিকারা কোথা থেকে পাহাড়ে ওঠার যাত্রা শুরু করেছিলেন?
(ক) দার্জিলিং (খ) শিলিগুড়ি (গ) কলকাতা (ঘ) কারসিয়ং
উত্তর: (খ) শিলিগুড়ি
৩. হিমালয়ান রেলগাড়িগুলিকে লেখিকা কীসের মতো বলেছেন?
(ক) দৈত্যের মতো (খ) খেলনা গাড়ির মতো (গ) সাপের মতো (ঘ) মালগাড়ির মতো
উত্তর: (খ) খেলনা গাড়ির মতো
৪. নিবিড় শ্যামল বনকে লেখিকা কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
(ক) বসুমতীর ঘন কেশপাশ (খ) সবুজ গালিচা (গ) পাহাড়ের পোশাক (ঘ) মেঘের চাদর
উত্তর: (ক) বসুমতীর ঘন কেশপাশ
৫. চা-বাগানের মাঝের সরু পথগুলিকে দূর থেকে কীসের মতো দেখায়?
(ক) নদীর মতো (খ) ফিতের মতো (গ) ধরণীর সীমন্ত বা সিঁথির মতো (ঘ) সাপের মতো
উত্তর: (গ) ধরণীর সীমন্ত বা সিঁথির মতো
৬. 'সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে' - কী দেখে এই ভ্রম হয়?
(ক) চা বাগান (খ) নির্মল শ্বেত কুঞ্ঝটিকা (গ) পাইন বন (ঘ) ঝরনা
উত্তর: (খ) নির্মল শ্বেত কুঞ্ঝটিকা
৭. পাহাড়ি ঝরনাগুলো কীসের উৎস?
(ক) তিস্তা নদীর (খ) ব্রহ্মপুত্রের (গ) জাহ্নবী বা গঙ্গার (ঘ) রূপনারায়ণের
উত্তর: (গ) জাহ্নবী বা গঙ্গার
৮. একটি বড়ো ঝরনার কাছে ট্রেনটি কেন থেমেছিল?
(ক) যাত্রী তোলার জন্য (খ) সিগন্যাল না থাকায় (গ) জল পরিবর্তন করার জন্য (ঘ) ইঞ্জিন খারাপ হওয়ায়
উত্তর: (গ) জল পরিবর্তন করার জন্য
৯. কারসিয়ং স্টেশনের উচ্চতা কত?
(ক) ৩৮৬৪ ফিট (খ) ৪৮৬৪ ফিট (গ) ৫৮৬৪ ফিট (ঘ) ৬৮৬৪ ফিট
উত্তর: (খ) ৪৮৬৪ ফিট
১০. লেখিকাদের ট্রাঙ্কগুলি ভ্রমক্রমে কোথায় বুক করা হয়েছিল?
(ক) শিলিগুড়ি (খ) দার্জিলিং (গ) কালিম্পং (ঘ) কারসিয়ং
উত্তর: (খ) দার্জিলিং
১১. লেখিকা পাহাড়ে কোন্ জল ব্যবহার করতেন?
(ক) নদীর জল (খ) বৃষ্টির জল (গ) কূপের জল (ঘ) ফিলটারে ছাঁকা ঝরনার জল
উত্তর: (ঘ) ফিলটারে ছাঁকা ঝরনার জল
১২. ভূতত্ত্বের গ্রন্থে লেখিকা কীসের কথা পড়েছিলেন?
(ক) ডাইনোসরের (খ) কারবনিফেরাস যুগের বড়ো ঢেঁকিশাকের (গ) আগ্নেয়গিরির (ঘ) বরফ যুগের
উত্তর: (খ) কারবনিফেরাস যুগের বড়ো ঢেঁকিশাকের
১৩. পাহাড়ি বনে নির্ভয়ে বেড়ানোর কারণ কী?
(ক) সাপ নেই (খ) বাঘ নেই (গ) পুলিশ আছে (ঘ) আলো আছে
উত্তর: (খ) বাঘ নেই
১৪. ভুটিয়ানিরা নিজেদের কী বলে পরিচয় দেয়?
(ক) জংলি (খ) অবলা (গ) পাহাড়নি (ঘ) সমতলি
উত্তর: (গ) পাহাড়নি
১৫. ভুটিয়ানিরা সমতলের মানুষদের কী বলে?
(ক) সমতলি আদমি (খ) বাবু (গ) নীচেকা আদমি (ঘ) উপরকা আদমি
উত্তর: (গ) নীচেকা আদমি
১৬. "রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁহাদের নাম অবলা"- কথাটি কে লিখেছিলেন?
(ক) লেখিকা স্বয়ং (খ) ভুটিয়ানিরা (গ) 'মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক (ঘ) রেলের গার্ড
উত্তর: (গ) 'মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক
১৭. 'দুগ্ধফেননিভ' জল বলতে কীসের জলের কথা বলা হয়েছে?
(ক) নদীর (খ) ঝরনার (গ) সমুদ্রের (ঘ) পুকুরের
উত্তর: (খ) ঝরনার
১৮. উচ্চশৃঙ্গ ও ঝরনাগুলো যেন ভ্রুকুটি করে কী বলে?
(ক) আমায় দেখ (খ) এখানে এসো না (গ) আমার স্রষ্টাকে স্মরণ করো (ঘ) আমি কত সুন্দর
উত্তর: (গ) আমার স্রষ্টাকে স্মরণ করো
১৯. "চিত্র দেখিয়া..." কী বোঝা যায়?
(ক) ছবির দাম (খ) চিত্রকরের নৈপুণ্য (গ) রঙের বাহার (ঘ) ক্যানভাসের মান
উত্তর: (খ) চিত্রকরের নৈপুণ্য
২০. লেখিকার মতে কীভাবে উপাসনা করলে তৃপ্তি হয়?
(ক) জোরে গান গাইলে (খ) মন, মস্তিষ্ক ও প্রাণ দিয়ে করলে (গ) কেবল মন্ত্র পড়লে (ঘ) মন্দিরে গেলে
উত্তর: (খ) মন, মস্তিষ্ক ও প্রাণ দিয়ে করলে
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. শিলিগুড়ি থেকে কোন রেলগাড়ি ছাড়ত এবং সেটি কেমন ছিল?
উত্তর: শিলিগুড়ি থেকে হিমালয়ান রেলগাড়ি ছাড়ত। ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ির তুলনায় এই গাড়িগুলি ছিল অনেক ছোটো, যা দেখতে অনেকটা খেলনা গাড়ির মতো সুন্দর।
২. ট্রেন যখন আঁকাবাঁকা পথে উপরে উঠছিল, তখন পথের দুই ধারের দৃশ্য কেমন ছিল?
উত্তর: ট্রেন যখন আঁকাবাঁকা পথে উপরে উঠছিল, তখন পথের দুই ধারে দেখা যাচ্ছিল অতি উচ্চ চূড়া, নিবিড় অরণ্য এবং মনোরম চা-বাগান।
৩. 'নিম্ন উপত্যকায় নির্মল শ্বেত কুঞ্ঝটিকা দেখিয়া সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে।' - কুঞ্ঝটিকা কী?
উত্তর: 'কুঞ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ হলো কুয়াশা। পাহাড়ের নীচের উপত্যকায় জমে থাকা সাদা কুয়াশাকে দূর থেকে দেখে হঠাৎ নদী বলে মনে হচ্ছিল।
৪. নিবিড় শ্যামল বনকে লেখিকা কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
উত্তর: নিবিড় শ্যামল বনকে লেখিকা বসুমতীর (পৃথিবীর) ঘন কেশপাশ বা ঘন চুলের সাথে এবং তার মাঝখানের সরু পথগুলিকে আঁকাবাঁকা সিঁথির সাথে তুলনা করেছেন।
৫. 'ইহাদেরই কোন একটি বিশালকায় জাহ্নবীর উৎস' - কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: রেলপথে যেতে যেতে লেখিকা যে অসংখ্য সুন্দর জলপ্রপাত বা ঝরনা দেখেছিলেন, তাদের কথাই এখানে বলা হয়েছে। এই ঝরনার জল মিলেই গঙ্গা বা জাহ্নবী নদীর সৃষ্টি হয়েছে।
৬. একটি বড়ো ঝরনার কাছে ট্রেনটি থেমেছিল কেন?
উত্তর: লেখিকা ভেবেছিলেন ট্রেনটি বোধহয় তাঁদের ঝরনার সৌন্দর্য দেখার জন্যই থেমেছে, কিন্তু আসলে ইঞ্জিন বা ট্রেনের জল পরিবর্তন করার জন্যই ট্রেনটি সেখানে থেমেছিল।
৭. কারসিয়ং স্টেশনের উচ্চতা কত এবং সেখানকার আবহাওয়া কেমন?
উত্তর: কারসিয়ং স্টেশনের উচ্চতা হলো ৪৮৬৪ ফিট। এখানকার আবহাওয়া খুব স্বাস্থ্যকর, শীতের প্রকোপ খুব বেশি নেই আবার গ্রীষ্মও নেই, যাকে লেখিকা 'পার্বত্য বসন্তকাল' বলেছেন।
৮. লেখিকা পাহাড়ে পানীয় জল হিসেবে কী ব্যবহার করতেন?
উত্তর: পাহাড়ে কোনো কূপ, নদী বা পুকুর ছিল না। তাই পানীয় জল হিসেবে তাঁরা ঝরনার স্বচ্ছ জল ফিলটারে ছেঁকে ব্যবহার করতেন।
৯. কারবনিফেরাস যুগের কথা লেখিকার কেন মনে পড়েছিল?
উত্তর: পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে ২০/২৫ ফিট উচ্চতার অতিকায় ঢেঁকিশাক বা ফার্ন গাছ স্বচক্ষে দেখে লেখিকার ভূতত্ত্ব বইয়ে পড়া কারবনিফেরাস যুগের অতিকায় উদ্ভিদের কথা মনে পড়েছিল।
১০. পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষেত্রে লেখিকার একমাত্র সুবিধা ও অসুবিধা কী ছিল?
উত্তর: সুবিধা ছিল যে সেখানে কোনো বাঘের ভয় ছিল না, তাই নির্জন বন্য পথে নির্ভয়ে ঘোরা যেত। আর অসুবিধা ছিল পথে প্রচুর জোঁক থাকা, যা রক্ত চুষে খেত।
১১. ভুটিয়ানিরা নিজেদের এবং সমতলের মানুষদের কী বলে পরিচয় দেয়?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা নিজেদের 'পাহাড়নি' বলে পরিচয় দেয় এবং সমতলের মানুষদের তারা 'নীচেকা আদমি' বলে উল্লেখ করে।
১২. 'নীচেকা আদমি'দের সংস্পর্শে এসে ভুটিয়ানিদের কী ক্ষতি হচ্ছে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা স্বভাবত সৎ ও সাহসী হলেও সমতলের মানুষদের সংস্পর্শে এসে তারা বাজারের পয়সা চুরি করা, দুধে জল মেশানোর মতো খারাপ দোষগুলো শিখছে।
১৩. 'দুগ্ধফেননিভ' শব্দের অর্থ কী? এটি কীসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: 'দুগ্ধফেননিভ' শব্দের অর্থ হলো দুধের ফেনার মতো সাদা। লেখিকার বাসা থেকে এক মাইল দূরে অবস্থিত পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ ও সাদা জলকে বোঝাতেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
১৪. "চিত্র দেখিয়া চিত্রকরের নৈপুণ্য বুঝা যায়।" - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: একটি সুন্দর ছবি দেখে যেমন চিত্রকরের প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনি হিমালয়ের এই অপরূপ সৃষ্টি দেখে মহাশিল্পী স্রষ্টা বা ঈশ্বরের অসীম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়।
১৫. টিয়াপাখির মতো শব্দ উচ্চারণ করা বলতে লেখিকা কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: না বুঝে বা হৃদয় থেকে ভক্তি না এনে কেবল মুখস্থ করা কিছু মন্ত্র বা শব্দ উচ্চারণ করাকে লেখিকা টিয়াপাখির বুলি আওড়ানোর সাথে তুলনা করেছেন, যা তাঁর মতে প্রকৃত উপাসনা নয়।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. 'হিমালয় দর্শন' রচনায় হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বর্ণনা আছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: নারীজাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া রচিত 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধটি একটি অনবদ্য ভ্রমণকাহিনি। শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে ওঠার সময় হিমালয়ের যে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তিনি উপভোগ করেছিলেন, তা রচনায় সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
হিমালয়ান রেলগাড়িতে করে যখন তাঁরা আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে উপরে উঠছিলেন, তখন পথের দু-ধারের দৃশ্য ছিল চোখ জুড়ানো। একদিকে যেমন ছিল অতি উচ্চ পর্বতচূড়া, অন্যদিকে ছিল নিবিড় সবুজ অরণ্য। পাহাড়ের ধাপে ধাপে তৈরি হওয়া হরিৎ বর্ণের চা-বাগানগুলিকে দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন বসুমতীর বা পৃথিবীর মাথার সিঁথি। পাহাড়ি খাদের নীচের উপত্যকায় জমে থাকা সাদা কুয়াশাকে দূর থেকে নদী বলে ভ্রম হচ্ছিল।
পাহাড়ে ওঠার পথে তাঁরা অসংখ্য মনোহর জলপ্রপাত বা ঝরনা দেখেছিলেন, যেগুলো পাথরের বুক চিরে প্রবল বেগে নীচের দিকে নেমে এসে জাহ্নবী বা গঙ্গার জন্ম দিচ্ছে। কারসিয়ং-এ পৌঁছানোর পর সেখানকার নির্মল বাতাস এবং সূর্যাস্তের সময় মেঘ ও রোদের লুকোচুরি খেলা লেখিকাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে। পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যের আলোয় মেঘগুলো যেন গলে যাওয়া সোনার রূপ ধারণ করত। পাহাড়ি পথের ২০-২৫ ফিট উঁচু অতিকায় ঢেঁকিশাক এবং নির্ঝরের দুগ্ধফেননিভ জল হিমালয়ের সৌন্দর্যকে লেখিকার কাছে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছিল।
হিমালয়ান রেলগাড়িতে করে যখন তাঁরা আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে উপরে উঠছিলেন, তখন পথের দু-ধারের দৃশ্য ছিল চোখ জুড়ানো। একদিকে যেমন ছিল অতি উচ্চ পর্বতচূড়া, অন্যদিকে ছিল নিবিড় সবুজ অরণ্য। পাহাড়ের ধাপে ধাপে তৈরি হওয়া হরিৎ বর্ণের চা-বাগানগুলিকে দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন বসুমতীর বা পৃথিবীর মাথার সিঁথি। পাহাড়ি খাদের নীচের উপত্যকায় জমে থাকা সাদা কুয়াশাকে দূর থেকে নদী বলে ভ্রম হচ্ছিল।
পাহাড়ে ওঠার পথে তাঁরা অসংখ্য মনোহর জলপ্রপাত বা ঝরনা দেখেছিলেন, যেগুলো পাথরের বুক চিরে প্রবল বেগে নীচের দিকে নেমে এসে জাহ্নবী বা গঙ্গার জন্ম দিচ্ছে। কারসিয়ং-এ পৌঁছানোর পর সেখানকার নির্মল বাতাস এবং সূর্যাস্তের সময় মেঘ ও রোদের লুকোচুরি খেলা লেখিকাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে। পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যের আলোয় মেঘগুলো যেন গলে যাওয়া সোনার রূপ ধারণ করত। পাহাড়ি পথের ২০-২৫ ফিট উঁচু অতিকায় ঢেঁকিশাক এবং নির্ঝরের দুগ্ধফেননিভ জল হিমালয়ের সৌন্দর্যকে লেখিকার কাছে আরও মহিমান্বিত করে তুলেছিল।
২. পাহাড়ি ভুটিয়ানিদের জীবনযাত্রা ও স্বভাবের কী রূপ লেখিকা তুলে ধরেছেন? তাদের 'অবলা' বলা যায় কি না সে বিষয়ে লেখিকার মত কী?
উত্তর: 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধে লেখিকা বেগম রোকেয়া পাহাড়ি ভুটিয়া নারীদের (ভুটিয়ানিদের) কর্মঠ ও স্বাধীন জীবনযাত্রার এক চমৎকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
ভুটিয়ানিদের জীবনযাত্রা ও স্বভাব: ভুটিয়ানিরা স্বভাবতই খুব শ্রমশীলা, সাহসী, কার্যপ্রিয় এবং সত্যবাদী। তারা সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাগরার মতো করে পরে, গায়ে জ্যাকেট দেয় এবং বিলাতি শাল দিয়ে মাথা ঢাকে। পাহাড়ি জোঁক রক্ত চুষে খেলেও তারা ভ্রূক্ষেপ করে না। দুর্গম ও পাথুরে পাহাড়ি পথে পিঠে ভারী পাথরের বোঝা নিয়ে তারা অবলীলায় ওঠানামা করে। পুরুষদের উপর তারা উপার্জনের জন্য নির্ভরশীল নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে তারাই বেশি ভারী কাজ করে। তারা নিজেদের সগর্বে 'পাহাড়নি' বলে পরিচয় দেয়।
'অবলা' বলার বিষয়ে লেখিকার মত: সমতলের সমাজে নারীদের সাধারণত 'অবলা' বা দুর্বল মনে করা হয়। 'মহিলা' পত্রিকার সম্পাদকও এমন কথাই লিখেছিলেন। কিন্তু ভুটিয়ানিদের এই কঠোর পরিশ্রম এবং স্বাবলম্বী জীবন দেখে লেখিকা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই নারীদের কোনোভাবেই 'অবলা' বলা যায় না। যারা পিঠে এক-আধ মণ পাথরের বোঝা নিয়ে অনায়াসে পাহাড় চড়তে পারে এবং নিজেদের উপার্জনে স্বাধীনভাবে বাঁচে, তারা প্রকৃত অর্থেই 'সবল'। নারীজাতি যে দুর্বল নয়, ভুটিয়ানিদের জীবনযাত্রা দিয়ে লেখিকা সেই সত্যটিই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
ভুটিয়ানিদের জীবনযাত্রা ও স্বভাব: ভুটিয়ানিরা স্বভাবতই খুব শ্রমশীলা, সাহসী, কার্যপ্রিয় এবং সত্যবাদী। তারা সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাগরার মতো করে পরে, গায়ে জ্যাকেট দেয় এবং বিলাতি শাল দিয়ে মাথা ঢাকে। পাহাড়ি জোঁক রক্ত চুষে খেলেও তারা ভ্রূক্ষেপ করে না। দুর্গম ও পাথুরে পাহাড়ি পথে পিঠে ভারী পাথরের বোঝা নিয়ে তারা অবলীলায় ওঠানামা করে। পুরুষদের উপর তারা উপার্জনের জন্য নির্ভরশীল নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে তারাই বেশি ভারী কাজ করে। তারা নিজেদের সগর্বে 'পাহাড়নি' বলে পরিচয় দেয়।
'অবলা' বলার বিষয়ে লেখিকার মত: সমতলের সমাজে নারীদের সাধারণত 'অবলা' বা দুর্বল মনে করা হয়। 'মহিলা' পত্রিকার সম্পাদকও এমন কথাই লিখেছিলেন। কিন্তু ভুটিয়ানিদের এই কঠোর পরিশ্রম এবং স্বাবলম্বী জীবন দেখে লেখিকা প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই নারীদের কোনোভাবেই 'অবলা' বলা যায় না। যারা পিঠে এক-আধ মণ পাথরের বোঝা নিয়ে অনায়াসে পাহাড় চড়তে পারে এবং নিজেদের উপার্জনে স্বাধীনভাবে বাঁচে, তারা প্রকৃত অর্থেই 'সবল'। নারীজাতি যে দুর্বল নয়, ভুটিয়ানিদের জীবনযাত্রা দিয়ে লেখিকা সেই সত্যটিই প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
৩. "চিত্র দেখিয়া চিত্রকরের নৈপুণ্য বুঝা যায়।" - উক্তিটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: প্রসঙ্গ: আলোচ্য উক্তিটি নারীজাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া রচিত 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধ থেকে গৃহীত। হিমালয়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গগনচুম্বী পর্বতশৃঙ্গ এবং উদ্দাম জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মনে ঈশ্বর বা স্রষ্টার প্রতি যে গভীর ভক্তি ও বিস্ময় জেগেছিল, তা প্রকাশ করতেই তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন।
অন্তর্নিহিত অর্থ: একটি সুন্দর ছবি বা চিত্র যেমন একা একা তৈরি হয় না, তার পেছনে একজন দক্ষ চিত্রকরের নিখুঁত হাতের ছোঁয়া এবং প্রতিভা লুকিয়ে থাকে, ঠিক তেমনি এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডও কোনো আকস্মিক সৃষ্টি নয়। হিমালয়ের এই বিশাল পর্বতমালা, মেঘ ও রোদের খেলা, সুউচ্চ শৃঙ্গ আর কলনাদিনী ঝরনা হলো সেই মহাশিল্পী বা ঈশ্বরের সৃষ্টি করা এক বিশাল ক্যানভাস। একটি নিখুঁত চিত্র যেমন চিত্রকরের নৈপুণ্য বা দক্ষতার পরিচয় দেয়, তেমনি প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে এর স্রষ্টা কত মহান এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী। প্রকৃতির এই রূপ দেখে স্রষ্টাকে চেনা ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর কথাই লেখিকা এই রূপক উক্তিটির মাধ্যমে সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন।
অন্তর্নিহিত অর্থ: একটি সুন্দর ছবি বা চিত্র যেমন একা একা তৈরি হয় না, তার পেছনে একজন দক্ষ চিত্রকরের নিখুঁত হাতের ছোঁয়া এবং প্রতিভা লুকিয়ে থাকে, ঠিক তেমনি এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডও কোনো আকস্মিক সৃষ্টি নয়। হিমালয়ের এই বিশাল পর্বতমালা, মেঘ ও রোদের খেলা, সুউচ্চ শৃঙ্গ আর কলনাদিনী ঝরনা হলো সেই মহাশিল্পী বা ঈশ্বরের সৃষ্টি করা এক বিশাল ক্যানভাস। একটি নিখুঁত চিত্র যেমন চিত্রকরের নৈপুণ্য বা দক্ষতার পরিচয় দেয়, তেমনি প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে এর স্রষ্টা কত মহান এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী। প্রকৃতির এই রূপ দেখে স্রষ্টাকে চেনা ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর কথাই লেখিকা এই রূপক উক্তিটির মাধ্যমে সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন।
৪. "টিয়াপাখির মতো কণ্ঠস্থ কতকগুলি শব্দ উচ্চারণ করিলে উপাসনা হয় না।" - উপাসনা সম্পর্কে লেখিকা বেগম রোকেয়ার এমন ভাবনার কারণ কী?
উত্তর: উৎস: উদ্ধৃত উক্তিটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক বেগম রোকেয়ার লেখা 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
ভাবনার কারণ: লেখিকার মতে, ধর্ম বা উপাসনা কোনো যান্ত্রিক বা মুখস্থ করা বিষয় নয়। আমাদের সমাজে অনেকেই উপাসনার অর্থ মনে করেন কিছু নির্দিষ্ট মন্ত্র, শ্লোক বা বাক্য না বুঝে যান্ত্রিকভাবে আউড়ে যাওয়া। টিয়াপাখিকে যেমন কোনো শব্দ শেখালে সে অর্থ না বুঝেই তা বারবার উচ্চারণ করতে থাকে, ঈশ্বরকে না ভালোবেসে কেবল মন্ত্রপাঠ করাও ঠিক তেমনই একটি নিরর্থক কাজ।
লেখিকা যখন হিমালয়ের বুকে দাঁড়িয়ে বিশাল পর্বতশৃঙ্গ এবং দুগ্ধফেননিভ ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য উপলব্ধি করেন, তখন তাঁর অন্তর থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা বেরিয়ে আসে। তাঁর মতে, স্রষ্টা আমাদের চোখ, কান এবং মন দিয়েছেন এই সুন্দর সৃষ্টিকে দেখার ও উপলব্ধি করার জন্য। মন, মস্তিষ্ক এবং প্রাণ দিয়ে যখন আমরা প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে অনুভব করে স্রষ্টার মহিমা স্বীকার করি, তখন মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ না করলেও সেটাই হয় ঈশ্বরের প্রতি শ্রেষ্ঠ উপাসনা। প্রাণের আবেগহীন যান্ত্রিক স্তুতি কখনোই প্রকৃত ভক্তি হতে পারে না—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি এমন উক্তি করেছেন।
ভাবনার কারণ: লেখিকার মতে, ধর্ম বা উপাসনা কোনো যান্ত্রিক বা মুখস্থ করা বিষয় নয়। আমাদের সমাজে অনেকেই উপাসনার অর্থ মনে করেন কিছু নির্দিষ্ট মন্ত্র, শ্লোক বা বাক্য না বুঝে যান্ত্রিকভাবে আউড়ে যাওয়া। টিয়াপাখিকে যেমন কোনো শব্দ শেখালে সে অর্থ না বুঝেই তা বারবার উচ্চারণ করতে থাকে, ঈশ্বরকে না ভালোবেসে কেবল মন্ত্রপাঠ করাও ঠিক তেমনই একটি নিরর্থক কাজ।
লেখিকা যখন হিমালয়ের বুকে দাঁড়িয়ে বিশাল পর্বতশৃঙ্গ এবং দুগ্ধফেননিভ ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য উপলব্ধি করেন, তখন তাঁর অন্তর থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা বেরিয়ে আসে। তাঁর মতে, স্রষ্টা আমাদের চোখ, কান এবং মন দিয়েছেন এই সুন্দর সৃষ্টিকে দেখার ও উপলব্ধি করার জন্য। মন, মস্তিষ্ক এবং প্রাণ দিয়ে যখন আমরা প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে অনুভব করে স্রষ্টার মহিমা স্বীকার করি, তখন মুখে কোনো শব্দ উচ্চারণ না করলেও সেটাই হয় ঈশ্বরের প্রতি শ্রেষ্ঠ উপাসনা। প্রাণের আবেগহীন যান্ত্রিক স্তুতি কখনোই প্রকৃত ভক্তি হতে পারে না—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি এমন উক্তি করেছেন।
৫. 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধটি একটি সার্থক ভ্রমণকাহিনি - আলোচনা করো।
উত্তর: কোনো রচনা সার্থক ভ্রমণকাহিনি হয়ে ওঠে যখন তাতে ভ্রমণের ভৌগোলিক বিবরণের পাশাপাশি লেখকের ব্যক্তিগত আবেগ, পর্যবেক্ষণ এবং দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির সুন্দর মেলবন্ধন ঘটে। বেগম রোকেয়ার 'হিমালয় দর্শন' প্রবন্ধটি এই সমস্ত গুণাবলির একটি সার্থক নিদর্শন।
প্রবন্ধের শুরুতেই লেখিকা শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়ং পর্যন্ত টয়ট্রেনে যাত্রার এক অপূর্ব বাস্তব চিত্র এঁকেছেন। পাহাড়ি পথের আঁকাবাঁকা বাঁক, চা-বাগানের সৌন্দর্য, মেঘ ও কুয়াশার লুকোচুরি এবং বিশাল জলপ্রপাতগুলির বর্ণনা পাঠকদের চোখের সামনে হিমালয়ের জীবন্ত ছবি ভাসিয়ে তোলে।
এর পাশাপাশি, এই ভ্রমণকাহিনিতে স্থান পেয়েছে পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রার নিখুঁত সমাজচিত্র। ভুটিয়ানিদের কর্মঠ জীবন, তাদের পোশাক এবং পুরুষদের পাশাপাশি তাদের সমকক্ষ হয়ে পাথর বওয়ার বর্ণনা লেখিকার সমাজমনস্কতার পরিচয় দেয়। এই নারীদের শ্রম দেখে তিনি তাদের 'অবলা' বলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পরিশেষে, শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টির মাঝে তিনি মহাশিল্পী স্রষ্টাকে খুঁজে পেয়েছেন এবং যান্ত্রিক উপাসনার পরিবর্তে আত্মিক উপাসনার কথা বলেছেন। বাহ্যিক প্রকৃতির সাথে আধ্যাত্মিক চেতনার এই সুন্দর মিশ্রণই 'হিমালয় দর্শন' রচনাটিকে বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম সার্থক ভ্রমণকাহিনিতে পরিণত করেছে।
প্রবন্ধের শুরুতেই লেখিকা শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়ং পর্যন্ত টয়ট্রেনে যাত্রার এক অপূর্ব বাস্তব চিত্র এঁকেছেন। পাহাড়ি পথের আঁকাবাঁকা বাঁক, চা-বাগানের সৌন্দর্য, মেঘ ও কুয়াশার লুকোচুরি এবং বিশাল জলপ্রপাতগুলির বর্ণনা পাঠকদের চোখের সামনে হিমালয়ের জীবন্ত ছবি ভাসিয়ে তোলে।
এর পাশাপাশি, এই ভ্রমণকাহিনিতে স্থান পেয়েছে পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রার নিখুঁত সমাজচিত্র। ভুটিয়ানিদের কর্মঠ জীবন, তাদের পোশাক এবং পুরুষদের পাশাপাশি তাদের সমকক্ষ হয়ে পাথর বওয়ার বর্ণনা লেখিকার সমাজমনস্কতার পরিচয় দেয়। এই নারীদের শ্রম দেখে তিনি তাদের 'অবলা' বলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
পরিশেষে, শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টির মাঝে তিনি মহাশিল্পী স্রষ্টাকে খুঁজে পেয়েছেন এবং যান্ত্রিক উপাসনার পরিবর্তে আত্মিক উপাসনার কথা বলেছেন। বাহ্যিক প্রকৃতির সাথে আধ্যাত্মিক চেতনার এই সুন্দর মিশ্রণই 'হিমালয় দর্শন' রচনাটিকে বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম সার্থক ভ্রমণকাহিনিতে পরিণত করেছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- হিমালয় = হিম + আলয়
- নিবিড় = নিঃ + বিড়
- নৈপুণ্য = নিপুণ + য
- উচ্চারণ = উৎ + চারণ
- অত্যাবশ্যক = অতি + আবশ্যক
সমাস নির্ণয়
- হিমালয়: হিমের আলয় (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- দুগ্ধফেননিভ: দুগ্ধের ফেনার নিভ (সদৃশ) - (উপমান কর্মধারয়)
- জলপ্রপাত: জলের প্রপাত (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- আত্মহারা: আত্মাকে হারা (দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস)
- মনোহর: মন হরণ করে যা (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)
পদ পরিবর্তন
- দর্শন ➜ দৃষ্ট
- মন ➜ মানসিক
- পর্বত ➜ পার্বত্য
- সৌন্দর্য ➜ সুন্দর
- ঈশ্বর ➜ ঐশ্বরিক
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধ সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
এই রচনাটি নারীজাগরণের অগ্রদূত ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক বেগম রোকেয়ার লেখা। এটি মূলত একটি শিক্ষামূলক ভ্রমণকাহিনি, যেখানে লেখিকার শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়ে ওঠার মনোরম অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে।
ভুটিয়ানিরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সাহসী। তারা পুরুষদের সমকক্ষ হয়ে ভারী পাথর বয়ে রোজগার করে। তাই লেখিকা মনে করেন যে, নারীজাতিকে 'অবলা' বলা হলেও এই পাহাড়ি নারীদের কোনোভাবেই অবলা বলা যায় না।
লেখিকার মতে, টিয়াপাখির মতো না বুঝে মন্ত্র পাঠ করলে প্রকৃত উপাসনা হয় না। মন, প্রাণ ও মস্তিষ্ক দিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপলব্ধি করে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোই হলো আসল উপাসনা।