বোঝাপড়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বোঝাপড়া' কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, ব্যাকরণ ও সহজ ব্যাখ্যা | অষ্টম শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 December 2025 Last Update: 31 May 2026

🕊️ বোঝাপড়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনবোধের কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE) • প্রথম পাঠ

বাস্তববাদ ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থ জীবন দর্শন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)

জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। তিনি ভারতী ও বালক পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে কথাকাহিনী, সহজপাঠ, রাজর্ষি, ছেলেবেলা, শিশু ভোলানাথ, ডাকঘর ইত্যাদি। ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' (Song Offerings) এর জন্য তিনি এশিয়ার মধ্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার পান। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা। পাঠ্য "বোঝাপড়া" কবিতাটি তাঁর 'ক্ষণিকা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

📜

কবিতা

বোঝাপড়া

👤

কবি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

📚

উৎস

ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থ

📖

পাঠ

প্রথম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

কবিতার সারাংশ ও মূলভাব

সারমর্ম: "বোঝাপড়া" কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের জীবনের এক চরম বাস্তব সত্যকে তুলে ধরেছেন। জীবনে ভালো এবং মন্দ—দুটিই আসবে, আর এই দুই পরিস্থিতিকেই আমাদের সমানভাবে, সহজে গ্রহণ করতে হবে। পৃথিবীর কোনো মানুষই নিখুঁত নয়, সবার স্বভাব এক নয়। কেউ আমাদের ফাঁকি দেবে, আবার আমরাও হয়তো কাউকে ফাঁকি দেব। জীবনের চলার পথে হঠাৎ অপ্রত্যাশিত বিপদ (জাহাজডুবি) আসতেই পারে, কিন্তু তাই নিয়ে বিধাতার সঙ্গে বিবাদ করে বা অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করে নিজের জীবনকে অন্ধকার করে তোলা বোকামি।

কেন্দ্রীয় দর্শন: নিজের মনের সঙ্গে সঠিক বোঝাপড়া করে সব দুঃখ-কষ্টকে ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলাই হলো প্রকৃত জীবন। অহংকার ত্যাগ করে, অন্যের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই জীবনে প্রকৃত সুখ ও শান্তি পাওয়া যায়। এককথায়, "সত্যেরে লও সহজে"—বাস্তবকে মেনে নিয়ে আশার আলো জ্বালানোই এই কবিতার মূল সুর।

১. একটি বাক্যে উত্তর দাও

১.১ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত কোন পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত লিখতেন?

জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত ভারতী এবং বালক পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত লিখতেন।

১.২ ভারতের কোন প্রতিবেশী দেশে তাঁর লেখা গান জাতীয় সংগীত হিসাবে গাওয়া হয়?

ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ-এ তাঁর লেখা গান ("আমার সোনার বাংলা") জাতীয় সংগীত হিসাবে গাওয়া হয়।

২. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও

১০ টি
২.১ 'সেইটে সবার চেয়ে শ্রেয়।' কোনটি সবার চেয়ে শ্রেয়?
জীবনের চলার পথে অপ্রত্যাশিত বিপদ বা দুঃখ-কষ্ট এলে, অন্যের সঙ্গে বৃথা ঝগড়া বা বিবাদ না করে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে টিকে থাকা বা ভেসে থাকতে পারাটাই সবার চেয়ে শ্রেয় (মঙ্গলজনক)।
২.২ 'ঘটনা সামান্য খুবই।' কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
জীবনে চলার পথে যেখানে আমরা কোনো আশঙ্কাই করি না, সেখানেই অনেক সময় অপ্রত্যাশিত বিপদ বা 'জাহাজ-ডুবি'র মতো ঘটনা ঘটে। বাস্তব জীবনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ আসা খুবই স্বাভাবিক ও চিরন্তন। তাই এই বিপদ বা দুর্ঘটনাকেই কবি 'সামান্য ঘটনা' বলেছেন।
২.৩ 'তেমন করে হাত বাড়ালে / সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি।'- উদ্ধৃতিটির নিহিতার্থ স্পষ্ট করো।
মানুষ অনেক সময় অহংকারে মত্ত হয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে এবং কষ্ট পায়। কিন্তু এই স্বার্থপরতা ও ভেদাভেদ ভুলে, যদি মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে মন থেকে অনেক ভার লাঘব হয় এবং এক পরম আত্মিক শান্তি বা সুখ পাওয়া যায়।
২.৪ 'মরণ এলে হঠাৎ দেখি / মরার চেয়ে বাঁচাই ভালো।'— ব্যাখ্যা করো।
মানুষ জীবনের ছোটোখাটো দুঃখ-কষ্টে বা হতাশায় অনেক সময় মৃত্যু কামনা করে। কিন্তু সত্যিই যখন মৃত্যু শিয়রে এসে দাঁড়ায়, তখন সে জীবনের প্রকৃত মূল্য ও পৃথিবীর সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারে। তখন সে বুঝতে পারে যে, হাজারো দুঃখ-কষ্ট থাকা সত্ত্বেও এই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে আনন্দের।
২.৫ 'তাহারে বাদ দিয়েও দেখি / বিশ্বভুবন মস্ত ডাগর।'— উদ্ধৃতিটির মধ্য দিয়ে জীবনের কোন সত্য প্রকাশ পেয়েছে?
এর মধ্য দিয়ে জীবনের বহমানতার অমোঘ সত্য প্রকাশ পেয়েছে। জীবনে কোনো প্রিয় মানুষ হারিয়ে গেলে বা প্রতারণা করলে মনে হয় যেন জীবন শেষ হয়ে গেল। কিন্তু আসলে একজনের অবর্তমানে এই বিশাল বিশ্বজগৎ থেমে থাকে না, জীবনের গতি আপন নিয়মেই চলতে থাকে।
২.৬ কীভাবে মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে?
জীবনে ভালো বা মন্দ যাই আসুক, তাকে সহজভাবে মেনে নেওয়ার জন্য মনকে প্রস্তুত করতে হবে। কিছুটা কেঁদে বা আক্ষেপ করে মনের ভার হালকা করে নিতে হবে এবং বাস্তব সত্যকে বিনা দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়ে নতুন করে পথ চলার নামই হলো মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করা।
২.৭ 'দোহাই তবে এ কার্যটা / যত শীঘ্র পারো সারো।'— কবি কোন কার্যের কথা বলেছেন? সেই কার্যটি শীঘ্র সারতে হবে কেন?
কবি এখানে বিধাতার সঙ্গে বিবাদ করে বা নিজের দোষে নিজের পায়ে কুড়ুল মারার (নিজে নিজের ক্ষতি করার) মতো কার্যটির কথা বলেছেন।
এই কার্যটি শীঘ্র সারতে বলেছেন কারণ, বৃথা আক্ষেপ বা শোক করে মানুষ যত তাড়াতাড়ি বাস্তবের মাটিতে ফিরে আসবে, তত তাড়াতাড়ি সে মনের আঁধার দূর করে জীবনে নতুন আশার প্রদীপ জ্বালাতে পারবে।
২.৮ কখন আঁধার ঘরে প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব?
দুঃখ, কষ্ট বা বঞ্চনায় যখন মানুষের জীবন অন্ধকারে ঢেকে যায়, তখন নিজের মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে, কেঁদেকেটে মনের ক্ষোভ দূর করার পরই জীবনের সেই 'আঁধার ঘরে' নতুন করে আশা ও আনন্দের 'প্রদীপ' জ্বালানো সম্ভব হয়।
২.۹ 'ভুলে যা ভাই, কাহার সঙ্গে / কতটুকুন তফাত হলো।'— এই উদ্ধৃতির মধ্যে জীবনের চলার ক্ষেত্রে কোন পথের ঠিকানা মেলে?
এই উদ্ধৃতির মধ্যে সাম্য, মৈত্রী ও বিশ্বজনীন ভালোবাসার পথের ঠিকানা মেলে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, কে আপন-কে পর, কে কতটা ফাঁকি দিল—এইসব ক্ষুদ্র স্বার্থবোধের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে আপন করে নেওয়ার মহান আদর্শ এখানে ফুটে উঠেছে।
২.১০ 'অনেক ঝঞ্ঝা কাটিয়ে বুঝি / এলে সুখের বন্দরেতে,' 'ঝঞ্ঝা কাটিয়ে আসা' বলতে কী বোঝো?
সমুদ্রে যেমন প্রবল ঝড় বা 'ঝঞ্ঝা' থাকে, তেমনি মানুষের জীবনেও নানা বাধা-বিপত্তি, প্রতিকূলতা ও ঘোর বিপদ আসে। এই সমস্ত কঠিন সংগ্রাম, মানসিক দ্বন্দ্ব ও দুঃখ-কষ্টকে সাহসের সঙ্গে অতিক্রম করে জীবনে সুখ ও শান্তিতে পৌঁছানোকেই কবি 'ঝঞ্ঝা কাটিয়ে আসা' বলেছেন।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো

৩.১ 'ভালো মন্দ যাহাই আসুক / সত্যেরে লও সহজে।'— তুমি কি কবির সঙ্গে একমত? জীবনে চলার পথে নানা বাধাকে তুমি কীভাবে অতিক্রম করতে চাও?

হ্যাঁ, আমি কবির এই গভীর জীবনবোধের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। পৃথিবী এবং মানবজীবন কখনোই সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়। ভালো যেমন আছে, মন্দও তেমন আছে। এটাই জীবনের সবচেয়ে বড়ো সত্য।

বাধা অতিক্রম করার উপায়: জীবনে চলার পথে নানা বাধা, বিপদ বা ব্যর্থতা আসতে পারে। আমি সেই সময় কান্নাকাটি বা হতাশায় ভেঙে না পড়ে, বাস্তব পরিস্থিতিকে সহজভাবে মেনে নেব (সত্যেরে লও সহজে)। অন্যের ঘাড়ে দোষ না চাপিয়ে, মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে, নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেব এবং নতুন উদ্যমে আবার সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

৩.২ 'মনেরে আজ কহ যে, / ভালো মন্দ যাহাই আসুক / সত্যেরে লও সহজে।'— কবির মতো তুমি কি কখনও মনের সঙ্গে কথা বলো? সত্যকে মেনে নেবার জন্য মনকে তুমি কীভাবে বোঝাবে একটি পরিস্থিতি কল্পনা করে বুঝিয়ে লেখো।

হ্যাঁ, আমি অনেক সময়ই নিজের একান্তে নিজের মনের সঙ্গে কথা বলি।

কল্পিত পরিস্থিতি ও মনকে বোঝানো: ধরো, আমি একটি অঙ্ক পরীক্ষার জন্য খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে নার্ভাস হয়ে কয়েকটি জানা অঙ্ক ভুল করে ফেললাম এবং ফল আশানুরূপ হলো না। এই অবস্থায় মন খুব খারাপ হবে, কান্নাকাটি পাবে। তখন আমি মনকে বোঝাব— "যা হবার তা তো হয়েই গেছে, কেঁদে আর নম্বর পাল্টাবে শ্রেষ্ঠ। এই ফলটাই এখন বাস্তব (সত্য)। এই ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে আমাকে বুঝতে হবে কোথায় ভুল হয়েছে। পরের বার আরও মন দিয়ে শান্ত হয়ে পরীক্ষা দেব।" এভাবেই মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে আমি বাস্তবকে মেনে নেব।

৩.৩ 'তেমন করে হাত বাড়ালে / সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি।'— 'তেমন করে' কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও। এখানে কবি কী ধরনের সুখের ইঙ্গিত করেছেন লেখো।

'তেমন করে' কথাটির অর্থ: এখানে 'তেমন করে' বলতে নিঃস্বার্থভাবে, মন থেকে সমস্ত অহংকার, ভেদাভেদ ও সংকীর্ণতা দূর করে ভালোবেসে অন্য মানুষের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সুখের ইঙ্গিত: মানুষ যখন শুধু নিজের ক্ষুদ্র গণ্ডি ও স্বার্থের কথা ভাবে, তখন সে দুঃখ পায়। কিন্তু যখন সে বিশ্বজগতের সবার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেয়, অন্যের দুঃখে সহানুভূতি দেখায় এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বিলিয়ে দেয়, তখন তার মনের সব ভার দূর হয়ে যায়। কবি এখানে সেই আত্মিক প্রশান্তি বা পরম আধ্যাত্মিক সুখের ইঙ্গিত করেছেন, যা জাগতিক পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাবের অনেক ঊর্ধ্বে।

৪. দল বিশ্লেষণ করে মুক্ত দল ও রুদ্ধ দল চিহ্নিত করো

শব্দদল বিশ্লেষণদলের প্রকৃতি
বোঝাপড়াবো-ঝা-প-ড়াবো (মুক্ত), ঝা (মুক্ত), প (মুক্ত), ড়া (মুক্ত)
কতকটাক-তক্-টাক (মুক্ত), তক্ (রুদ্ধ), টা (মুক্ত)
সত্যেরেসত্-তে-রেসত্ (রুদ্ধ), তে (মুক্ত), রে (মুক্ত)
পাঁজরগুলোপাঁ-জর্-গু-লোপাঁ (মুক্ত), জর্ (রুদ্ধ), গু (মুক্ত), লো (মুক্ত)
বিশ্বভুবনবিশ্-শ-ভু-বন্বিশ্ (রুদ্ধ), শ (মুক্ত), ভু (মুক্ত), বন্ (রুদ্ধ)
অশ্রুসাগরঅশ্-শ্রু-সা-গর্অশ্ (রুদ্ধ), শ্রু (মুক্ত), সা (মুক্ত), গর্ (রুদ্ধ)

৫. বিপরীতার্থক শব্দ দিয়ে শব্দজোড় তৈরি করে বাক্য রচনা করো

মূল শব্দবিপরীত শব্দ (শব্দজোড়)বাক্য রচনা
আঁধারআলো (আঁধার-আলো)জীবনের আঁধার-আলো নিয়েই আমাদের পথ চলতে হয়।
সত্যমিথ্যা (সত্য-মিথ্যা)ঘটনার সত্য-মিথ্যা বিচার না করে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
দোষগুণ (দোষ-গুণ)পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মধ্যেই দোষ-গুণ দুই-ই বর্তমান।
আকাশপাতাল (আকাশ-পাতাল)লোকটা সারা দিন আকাশ-পাতাল কী যেন ভাবে!
সুখদুঃখ (সুখ-দুঃখ)সুখ-দুঃখ জীবনের মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মাত্র।

৬. নীচের প্রতিটি শব্দের তিনটি করে সমার্থক শব্দ লেখো

প্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দ (৩টি)
মনচিত্ত, হৃদয়, অন্তর
জখমআঘাত, ক্ষত, চোট
ঝঞ্ঝাঝড়, তুফান, প্রভঞ্জন
ঝগড়াবিবাদ, কলহ, দ্বন্দ্ব
সামান্যঅল্প, তুচ্ছ, কিঞ্চিৎ
শঙ্কাভয়, ভীতি, আশঙ্কা
আকাশগগন, অম্বর, নভঃ

বাস্তবকে স্বীকার করাই জীবনের ধর্ম

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বোঝাপড়া' কবিতাটি আমাদের শেখায় যে জীবন সবসময় মসৃণ হয় না। দুঃখ, বঞ্চনা ও আঘাত আসবেই। কিন্তু সেই আঘাতে ভেঙে না পড়ে, বাস্তব সত্যকে সহজে গ্রহণ করে মনের আঁধার দূর করতে পারলেই জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'বোঝাপড়া' কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। এটি তাঁর রচিত বিখ্যাত 'ক্ষণিকা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। কবিতাটি অষ্টম শ্রেণির (WBBSE) 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের প্রথম পাঠ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বোঝাপড়া' কবিতায় মানুষের নিজের মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে বলেছেন। জীবনে ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ যাই আসুক না কেন, মনকে সান্ত্বনা দিয়ে বাস্তব সত্যকে সহজভাবে মেনে নেওয়ার কথাই এখানে বলা হয়েছে।

'মান্ধাতার আমল' কথাটির অর্থ হলো অতি প্রাচীনকাল বা রাবণ রাজার সমসাময়িক যুগ। আর 'আর্তরবে' কথাটির অর্থ হলো কাতর ধ্বনিতে বা আর্তনাদ করে ওঠা।