দাঁড়াও

শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচিত 'দাঁড়াও' কবিতার সম্পূর্ণ সারাংশ, হাতে-কলমে প্রশ্নোত্তর, ব্যাকরণ ও দল বিশ্লেষণ | অষ্টম শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 27 May 2026 Last Update: 31 May 2026

🤝 দাঁড়াও

শক্তি চট্টোপাধ্যায় আধুনিক মানবতাবাদী কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE) • চতুর্থ পাঠ

সহমর্মিতা একাকীত্ব নিস্পাপ ভালোবাসা মানবপ্রেম

শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩-১৯৯৫)

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি ও ঔপন্যাসিক। জন্ম দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে। কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র ছিলেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য'। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— 'ধর্মে আছ জিরাফেও আছ', 'হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান', 'সোনার মাছি খুন করেছি' এবং 'যেতে পারি কিন্তু কেন যাব'। তাঁর রচিত অনন্য দুটি উপন্যাস হলো 'কুয়োতলা' ও 'অবনী বাড়ি আছো?'। তিনি আনন্দ পুরস্কার এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

কবিতার সারাংশ ও মূলভাব

মূলভাব: কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'দাঁড়াও' কবিতাটি এক গভীর মানবতাবাদী আবেদন। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার চরম শিখরে পৌঁছেও মানুষ আজ ভীষণভাবে অসহায়, একাকী এবং কাঁদছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থপরতা, ক্ষমতার লোভ আর জটিলতায় মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসার 'ফাঁদ' পাতছে। ফলে মানুষ তার প্রকৃত মানবসত্তা হারিয়ে কৃত্রিম জীবনে একা হয়ে পড়েছে।

এই চরম মানবিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে কবি অত্যন্ত কাতর স্বরে সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কেবল শারীরিকভাবে নয়, আত্মিক সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। 'পাখির মতো' মুক্ত ও নিস্পাপ ভালোবাসা নিয়ে এবং 'মানুষ হয়ে' বিপন্ন মানুষের সহায় হওয়ার মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত—এটাই কবিতাটির মূল বার্তা।

১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্নোত্তর

১.১ শক্তি চট্টোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

১.২ তাঁর লেখা একটি উপন্যাসের নাম লেখো।

তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো 'কুয়োতলা' (অন্যতম অপর উপন্যাসটি হলো 'অবনী বাড়ি আছো?')।

২. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও

৫ টি
২.১ 'মতো' শব্দ ব্যবহার করা হয় কখন? তোমার যুক্তির পক্ষে দুটি উদাহরণ দাও।

সাধারণত দুটি বিজাতীয় বা সমজাতীয় বস্তুর মধ্যে তুলনা বা সাদৃশ্য বোঝাতে উপমা হিসেবে 'মতো' শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ:

  • ১. রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধমাখা এই বাতাস।
  • ২. সেদিনের আকাশটা ছিল মেঘের মতো ঘন নীল।
২.২ কবি পাখির মতো পাশে দাঁড়াতে বলছেন কেন?

পাখি হলো সরলতা, অকৃত্রিমতা, স্বাধীনতা এবং নিস্পাপ সখ্যতার প্রতীক। পাখির মনে কোনো জটিলতা, স্বার্থপরতা বা ফাঁদ পাতার কুটিলতা থাকে না। তাই কবি মানুষকে তার বৈষয়িক হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে অত্যন্ত সহজ, মুক্ত ও কৃত্রিমতাহীন মানসিকতা নিয়ে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন। পাখির মতো স্বাভাবিক ভালোবাসাই মানুষের একাকীত্ব দূর করতে পারে, তাই কবির এই বিশেষ অনুরোধ।

২.৩ 'মানুষই ফাঁদ পাতছে' কবি এ কথা কেন বলেছেন? 'মানুষ' শব্দের সঙ্গে 'ই' ধ্বনি যোগ করেছেন কেন— তোমার কী মনে হয়?

আধুনিক যুগে মানুষ চরম স্বার্থপর ও জটিল হয়ে উঠেছে। সে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে বনের পশুর মতো অন্য মানুষের জন্য চক্রান্তের জাল বুনছে বা 'ফাঁদ' পাতছে। এক মানুষ অন্য মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে। এই নিষ্ঠুর সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই কবি আলোচ্য কথাটি বলেছেন।

'ই' ধ্বনি যোগ করার কারণ: 'মানুষ' শব্দের সঙ্গে 'ই' নির্দেশক প্রত্যয় বা বলবাচক ধ্বনি যোগ করে কবি এই চরম পরিহাস ও ট্র্যাজেডিকে ফুটিয়ে তুলেছেন। যে মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, যার অন্যের পাশে দাঁড়ানোর কথা— সেই 'মানুষই' আজ লোভের বশে ঘাতকের ভূমিকা পালন করছে। এই অবিশ্বাস্য সত্যের ওপর বিশেষ জোর দিতেই কবি 'মানুষই' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

২.৪ 'তোমার মতো মনে পড়ছে'— এই পঙ্ক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

আলোচ্য পঙ্ক্তিটির গভীর অর্থ হলো— কবি যখন চারপাশের সমাজব্যবস্থায় মানুষের দুঃখ, কান্না আর একাকীত্ব দেখেন, তখন তাঁর অবচেতন মনে কোনো এক পরম দরদী ও সহানুভূতিশীল সত্তার কথা মনে পড়ে। এই 'তুমি' হতে পারে কোনো প্রকৃত আদর্শ মানুষ, মানবপ্রেমিক কেউ বা স্বয়ং ঈশ্বরের সহানুভূতিশীল রূপ। কবি অনুভব করেন, সেই আদর্শ মানুষটির গুণাবলির মতোই সহানুভূতিশীল হয়ে বর্তমানে আমাদের একে অপরের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত।

২.৫ 'এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও'— এই পঙ্ক্তিটির বিশেষত্ব কোথায়? এই ধরনের দুটি বাক্য তুমি তৈরি করো।

বিশেষত্ব: এই পঙ্ক্তিটির বিশেষত্ব এর অপূর্ব ধ্বনিঝংকার, অনুপ্রাস অলংকার এবং ছন্দের স্বতঃস্ফূর্ত বহমানতার মধ্যে। এখানে 'এসে', 'ভেসে' এবং 'বেসে'— এই তিনটি ক্রিয়াপদের অভ্যন্তরীণ মিল (Internal Rhyme) বাক্যটিকে অত্যন্ত শ্রুতিমধুর ও আবেগঘন করে তুলেছে। এই পঙ্ক্তিটি নিছক অনুরোধ ছাড়িয়ে এক আন্তরিক অনুনয় হয়ে উঠেছে।

অনুরূপ দুটি বাক্য:

  • ১. হেসে চলো, ভেসে চলো এবং ভালোবেসে চলো।
  • ২. ধীরে হাঁটো, সুরে হাঁটো এবং মিলেমিশে হাঁটো।

৩. 'মানুষ বড়ো কাঁদছে'— কী কারণে কবি এই কথা বলেছেন?

আধুনিক মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উন্নতির শিখরে পৌঁছেও এক তীব্র মানসিক দেউলিয়াত্ব ও নিঃসঙ্গতার শিকার। আজকের ভোগবাদী সমাজে মানুষ বড়ো বেশি স্বার্থপর এবং একা। মানুষ নিজের উন্নতির জন্য অন্য মানুষকে ঠকাতে কুণ্ঠাবোধ করে না। চারদিকে চক্রান্তের ফাঁদ, অবিশ্বাস, স্বার্থের সংঘাত এবং ভালোবাসার অভাবের কারণে মানুষের জীবন আজ চরম যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে। মানুষের এই আন্তরিক হাহাকার, মানসিক ক্ষত এবং শূন্যতার কারণেই কবি ব্যথিত হৃদয়ে বলেছেন— "মানুষ বড়ো কাঁদছে"।

৪. 'মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও'— এই পঙ্ক্তিটিকে তিনবার ব্যবহার করার কারণ কী হতে পারে বলে তোমার মনে হয়?

কবিতার তিনটি স্তবকের শেষেই এই পঙ্ক্তিটি ধ্রুবপদের মতো আবর্তিত হয়েছে। এর মূল কারণগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • গুরুত্ব আরোপ: আধুনিক মানুষের নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব কোনো সাময়িক বিষয় নয়, এটি বর্তমান সভ্যতার এক মহাসংকট। এই সংকটের তীব্রতাকে বারবার পাঠকের মনের গভীরে চারিয়ে দিতেই কবি পঙ্ক্তিটি পুনরাবৃত্তি করেছেন।
  • আবেগের তীব্রতা ও সংগীতময়তা: একই চরণের বারবার প্রয়োগ কবিতার সুর ও সংগীতময়তাকে বৃদ্ধি করে। এটি কবির ভেতরের ব্যাকুল অনুনয়কে এক অন্য মাত্রা দেয়।
  • আহ্বান ও দায়বদ্ধতা: মানুষের দুঃখমোচন কেবল একবারের সদিচ্ছায় সম্ভব নয়। মানুষের পাশে অবিরত থাকার যে নৈতিক দায়বদ্ধতা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের রয়েছে, তা মনে করাতেই এই ত্রিমাত্রিক গভীর আবেদন।

৫. কবিতাটির নাম 'দাঁড়াও' কতটা সার্থক? কবিতাটির নাম 'মানুষ বড়ো কাঁদছে' হতে পারে কি— তোমার উত্তরের ক্ষেত্রে যুক্তি দাও।

'দাঁড়াও' নামকরণের সার্থকতা: শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'দাঁড়াও' কবিতাটির নাম অত্যন্ত ব্যঞ্জনাময় এবং সার্থক। 'দাঁড়াও' শব্দটি একটি আহ্বানমূলক ক্রিয়াপদ। সমগ্র কবিতা জুড়ে কবি কোনো নিষ্ক্রিয় বিবরণ দেননি, বরং তিনি আর্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য এক গতিশীল ও সক্রিয় অনুনয় প্রকাশ করেছেন। এই এক শব্দের নামের মধ্যেই কবিতার মূল দর্শন ও সমাধানের ইঙ্গিত রয়েছে। তাই এই নামকরণ অত্যন্ত সার্থক।

'মানুষ বড়ো কাঁদছে' নামকরণ হতে পারত কি?
হ্যাঁ, কবিতাটির নাম 'মানুষ বড়ো কাঁদছে' হতেই পারত। কারণ কবিতার আদি-অন্ত জুড়ে মানুষের অসহায় কান্নার দীর্ঘশ্বাস বেজে উঠেছে। তবে এই নামটি হতো অত্যন্ত হতাশাবোধক ও বর্ণনামূলক (Passive)। পক্ষান্তরে, 'দাঁড়াও' নামটি অনেক বেশি সদর্থক (Positive) এবং উত্তরণের পথ নির্দেশ করে। তাই 'মানুষ বড়ো কাঁদছে'-র চেয়ে 'দাঁড়াও' নামটিই অনেক বেশি শিল্পোত্তীর্ণ ও যুগোপযোগী।

৬. কবি কাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করছেন বলে তোমার মনে হয়?

প্রথমত, বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হতে পারে কবি কোনো কাল্পনিক দরদী দরবেশ বা ভালোবাসার প্রতীক কোনো প্রিয় মানুষকে অনুরোধ করছেন।

কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, কবি আসলে প্রতিটি বিবেকবান শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের অন্তরাত্মাকে বা তার ভেতরের সুপ্ত 'মানুষ' সত্তাকেই জাগ্রত হওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। সভ্যতার জটিলতায় আচ্ছন্ন মানুষের মন থেকে স্বার্থপরতা দূর করে তার ভেতরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার রূপটিকে সামনে এনে মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্যই কবির এই আকুল মিনতি।

৭. কবিতাটি চলিত বাংলায় লেখা, শুধু একটা শব্দ সাধু ভাষার। শব্দটি খুঁজে বার করো এবং শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন কেন কবি?

কবিতাটিতে ব্যবহৃত একমাত্র সাধু ভাষার শব্দটি হলো— "তাহার" ("মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও")।

এভাবে ব্যবহার করার কারণ: কবি চাইলে চলিত রূপ 'তার' ব্যবহার করতেই পারতেন। কিন্তু 'তাহার' শব্দটি ব্যবহারের ফলে পঙ্ক্তিটিতে একটি ছন্দোগত গাম্ভীর্য ও আর্তি তৈরি হয়েছে। 'তাহার' শব্দের 'হা' ধ্বনির দীর্ঘ উচ্চারণ পঙ্ক্তিটির করুণ রস ও নিঃসঙ্গতার বেদনাকে তীব্রতর করে তোলে, যা স্বাভাবিক চলিত রূপে কিছুটা হালকা শোনাত। ছন্দের ভারসাম্য ও শৈল্পিক প্রয়োজনেই কবি এই মিশ্রণ ঘটিয়েছেন।

৮. প্রথম স্তবকের তিনটি পঙ্ক্তির প্রত্যেকটির দলসংখ্যা কত? প্রতিটি পঙ্ক্তি কটি রুদ্ধদল ও মুক্তদল নিয়ে তৈরি?

পঙ্ক্তি দল বিশ্লেষণ (Syllabic Break) মুক্তদল সংখ্যা রুদ্ধদল সংখ্যা মোট দলসংখ্যা
৮.১ মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও মা(মু)-নুষ(রু) ব(মু)-ড়ো(মু) কাঁদ(রু)-ছে(মু), তু(মু)-মি(মু) মা(মু)-নুষ(রু) হ(মু)-য়ে(মু) পা(মু)-শে(মু) দাঁ(মু)-ড়াও(রু) ১২ টি ৪ টি ১৬ টি
৮.২ মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতো পাশে দাঁড়াও মা(মু)-নুষ(রু)-ই(মু) ফাঁদ(রু) পাত(রু)-ছে(মু), তু(মু)-মি(মু) পা(মু)-খির(রু) ম(মু)-তো(মু) পা(মু)-শে(মু) দাঁ(মু)-ড়াও(রু) ১০ টি ৬ টি ১৬ টি
৮.৩ মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও মা(মু)-নুষ(রু) ব(মু)-ড়ো(মু) এক(রু)-লা(মু), তু(মু)-মি(মু) তা(মু)-হার(রু) পা(মু)-শে(মু) এ(মু)-সে(মু) দাঁ(মু)-ড়াও(রু) ১১ টি ৫ টি ১৬ টি

৯. কী ঘটেছে লেখো (ধ্বনিতাত্ত্বিক রূপান্তর)

মূল শব্দ পরিবর্তিত রূপ ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া / বিবরণ
সন্ধ্যা সন্ধে স্বরসংগতি ও স্বরলোপ: শব্দের আদি স্বর 'অ' (স)-এর প্রভাবে এবং পরবর্তী অন্তঃস্থ য-ফলার প্রভাবে অন্ত্যস্বর 'আ' পরিবর্তিত হয়ে 'এ' হয়েছে। এটি কথ্য বাংলার স্বরসংগতির একটি স্বাভাবিক রূপ।
ফাদ (পাদ) ফাঁদ নাসিক্যভবন (Spontaneous Nasalization): কোনো নাসিক্য ব্যঞ্জন না থাকা সত্ত্বেও কেবল উচ্চারণের ঝোঁকে বা কোমল তালুর অবনমনের কারণে স্বরধ্বনিটি অনুনাসিক বা চন্দ্রবিন্দুযুক্ত হয়েছে।

মানবতার জয়গান

'দাঁড়াও' কবিতাটি আমাদের শেখায় যে, চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধুনিক সমাজেও ভালোবাসা আর সহমর্মিতাই মানুষের আসল আশ্রয়। জীবনের সমস্ত ফাঁদ ও কুটিলতাকে জয় করার একমাত্র অস্ত্র হলো একে অপরের পাশে এসে নিস্পাপভাবে দাঁড়ানো।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'দাঁড়াও' কবিতাটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা। এটি তাঁর বিখ্যাত 'যেতে পারি কিন্তু কেন যাব' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

পাখি হলো নিস্পাপ, মুক্ত এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক। পাখির মনে কোনো স্বার্থপরতা বা ফাঁদ পাতার কুটিলতা থাকে না। মানুষ যেন তার বৈষয়িক হিংসা-দ্বেষ ভুলে সহজ ও অকৃত্রিম মানসিকতা নিয়ে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সেই কারণেই কবি পাখির সাথে তুলনা করেছেন।

'তাহার' শব্দটি সাধু ভাষার শব্দ। কবিতাটি চলিত ভাষায় লেখা হলেও ছন্দের ভারসাম্য, আর্তি ও গভীর মরমী নিঃসঙ্গতাকে শ্রোতার মনের গভীরে পৌঁছে দিতেই কবি অসাধারণ শৈল্পিক দক্ষতায় এই সাধু রূপটি ব্যবহার করেছেন।