🏞️ গড়াই নদীর তীরে
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE)
১. কবি পরিচিতি ও অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
কবি জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে 'পল্লীকবি' অভিধায় অভিহিত।
তাঁর লেখা দুটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'নক্সীকাঁথার মাঠ' এবং 'রাখালী'।
২. একটি বাক্যে উত্তর দাও
৫ টিকবিতায় বর্ণিত নদীটির নাম হলো গড়াই নদী।
মাচানের উপরে সিম-লতা আর লাউ-কুমড়ার ঝাড় আছে।
বনের পাখিরা এখনো বোঝেনি যে সেখানে মানুষ বসত করে।
উঠানেতে মটরের ডাল, মসুরের ডাল, কালিজিরা, ধনে এবং লংকা-মরিচ রোদে সযত্নে শুকাচ্ছে।
সাঁঝ-সকালের রঙিন মেঘেরা বাড়িটিকে ভালোবেসে বেড়াতে এসে কিছুক্ষণ থেমে রয়।
৩. কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও
গড়াই নদীর তীরের একটি ছোট্ট গ্রাম্য কুটিরের চারপাশে প্রচুর গাছপালা, ফুল ও লতাপাতা রয়েছে। প্রকৃতি যেন মায়ের মতো পরম স্নেহে ও ভালোবাসায় (মায়ায়) তার সবুজ আঁচল দিয়ে ওই ছোট্ট ঘরটিকে জড়িয়ে রেখেছে। মানুষের তৈরি কুটিরের সঙ্গে প্রকৃতির এই নিবিড় ও স্নেহময় আত্মীয়তা বোঝাতেই কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
ডাহুক মেয়ে: এখানে 'ডাহুক মেয়ে' বলতে পুকুর বা জলাশয়ের আশেপাশে থাকা স্ত্রী-ডাহুক পাখিদের বোঝানো হয়েছে।
যাদের নিয়ে আসে: তারা তাদের ছোটো ছোটো ছানাদের সঙ্গে নিয়ে আসে।
কীভাবে কথা বলে: তারা নিজেদের মধ্যে মিষ্টি সুরে গানে গানে কথা বলে।
'আখর' শব্দটির অর্থ: অক্ষর বা বর্ণ।
প্রিয় ছবি ও কারণ: কবির আঁকা নানা ছবির মধ্যে উঠোনে বিভিন্ন রঙের ডাল ও মশলা শুকানোর ছবিটি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। মটরের ডাল, মসুর ডাল, কালোজিরা, ধনে এবং লাল লংকা যখন পাশাপাশি রোদে শুকোতে দেওয়া হয়, তখন তা যেন এক অপূর্ব রঙিন আলপনার মতো দেখায়। এটি গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবারের সরলতা, প্রাচুর্য এবং অনাবিল সুখের এক অকৃত্রিম ছবি তুলে ধরে।
গড়াই নদীর তীরের ছোট্ট কুটিরটি লতাপাতা, ফুল এবং ফসলের প্রাচুর্যে অপরূপ সুন্দর। কুটিরের এই নিবিড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকাশচারী মেঘেদেরও মুগ্ধ করে। তাই সকাল ও সন্ধ্যার রঙিন মেঘেরা যেন ওই বাড়িটির রূপে আকৃষ্ট হয়ে, ভালোবেসে তার উপরে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে কবি কুটিরটির অসীম মায়া ও গ্রাম্য প্রকৃতির প্রতি স্বর্গীয় আকর্ষণের কথা বুঝিয়েছেন।
ব্যাকরণ ও ভাষাচর্চা
- ৫.১ কুটিরখানিরে লতাপাতা ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে।
রয়েছে = পুরাঘটিত বর্তমান কাল। - ৫.২ উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।
হয় = সাধারণ বর্তমান (বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান) কাল। - ৫.৩ লংকা-মরিচ রোদে শুকাইছে উঠানেতে সযতনে।
শুকাইছে (শুকোচ্ছে) = ঘটমান বর্তমান কাল। - ৫.৪ জিরা ও ধনের রঙের পাশেতে আলপনা আঁকা কার!
আঁকা (হয়েছে/আছে - উহ্য) = পুরাঘটিত বর্তমান কাল। - ৫.৫ কিছুখন যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে।
রয়েছে = পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
- ৬.১ লাল শাড়িখানি রোদে দিয়ে গেছে এ বাড়ির বধূ কেউ। (জটিল বাক্যে)
যে শাড়িখানি লাল, তা রোদে দিয়ে গেছে এ বাড়ির বধূ কেউ। - ৬.২ ডাহুক মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে। (চলিত গদ্যে)
ডাহুক মেয়েরা গানে গানে কথা বলে বেড়াতে আসে। - ৬.৩ গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে। (না-সূচক বাক্যে)
গাছের শাখায় বনের পাখিরা সসভয়ে (ভয় পেয়ে) গান ধরে না। (অথবা: বনের পাখিরা গান ধরতে ভয় পায় না।) - ৬.৪ এখনো তাহারা বোঝেনি হেথায় মানুষ বসত করে। (যৌগিক বাক্যে)
হেথায় মানুষ বসত করে, কিন্তু তাহারা এখনো তা বোঝেনি।
- কুমড়া: কুষ্মাণ্ড > কুম্ভাণ্ড > কুমড়া (নাসিক্যীভবন ও ব্যঞ্জনচ্যুতি / ধ্বনি পরিবর্তন)।
- কালিজিরা: কালোজিরা > কালিজিরা (স্বরসংগতি)।
- উঠান: উপস্থান > উঠান (ধ্বনি লোপ)।
- সযতনে: সযত্নে > সযতনে (স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ)।
- আখর: অক্ষর > অক্খর > আখর (ক্ষ > খ, এবং ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবন)।
- সাঁঝ: সন্ধ্যা > সঞ্ঝা > সাঁঝ (নাসিক্যীভবন ও স্বরপরিবর্তন)।
- ৮.১ গড়াই নদীর তীরে
অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি (তীর + এ)। - ৮.২ উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি
কর্তৃকারকে 'গুলি' নির্দেশক (শূন্য বিভক্তি)। - ৮.৩ গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে
অধিকরণ কারকে 'য়' বিভক্তি। - ৮.৪ যেন একখানি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি
করণ কারকে 'এ' বিভক্তি। - ৮.৫ সাঁঝ-সকালের রঙিন মেঘেরা এখানে বেড়াতে এসে
কর্তৃকারকে 'এরা' বিভক্তি।
- মানুষ: জাতিবাচক বিশেষ্য।
- আনন্দ: অবস্থাবাচক / গুণবাচক বিশেষ্য।
- ফুলগুলি: বস্তুবাচক / জাতিবাচক বিশেষ্য।
- আলপনা: সংজ্ঞাবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্য।
- যার: সাপেক্ষ সর্বনাম।
- কেউ: অনির্দেশক সর্বনাম।
- তাহারা: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম (প্রথম পুরুষ)।
- তার: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।
- এঁদো: এঁদো পুকুর।
- লাল: লাল গোলাপ।
- বুনো: বুনো হাঁস।
- রঙিন: রঙিন সুতো।