গড়াই নদীর তীরে

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত 'গড়াই নদীর তীরে' কবিতার সম্পূর্ণ অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তর ও ব্যাকরণ | অষ্টম শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 28 May 2026 Last Update: 31 May 2026

🏞️ গড়াই নদীর তীরে

জসীমউদ্দীন পল্লী প্রকৃতির কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE)

গ্রাম্য কুটির প্রকৃতির স্নেহ পল্লী জীবন

জসীমউদ্দীন (১৯০৪-১৯৭৬)

জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে 'পল্লীকবি' হিসেবে সমধিক প্রসিদ্ধ। তাঁর জন্ম অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে। বাংলার গ্রামীণ জীবন, মাটি ও মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক তাঁর কবিতায় অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে। 'নক্সীকাঁথার মাঠ', 'রাখালী', 'বালুচর', 'সোজনবাদিয়ার ঘাট' তাঁর অমর সৃষ্টি। পাঠ্যাংশটি তাঁর 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

১. কবি পরিচিতি ও অতি-সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১.১ কবি জসীমউদ্দীন কোন অভিধায় অভিহিত?

কবি জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে 'পল্লীকবি' অভিধায় অভিহিত।

১.২ তাঁর লেখা দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।

তাঁর লেখা দুটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো 'নক্সীকাঁথার মাঠ' এবং 'রাখালী'।

২. একটি বাক্যে উত্তর দাও

৫ টি
২.১ কবিতায় বর্ণিত নদীটির নাম কী?

কবিতায় বর্ণিত নদীটির নাম হলো গড়াই নদী।

২.২ মাচানের পরে কী আছে?

মাচানের উপরে সিম-লতা আর লাউ-কুমড়ার ঝাড় আছে।

২.৩ মানুষের বসত করার কথা এখানে কারা বোঝেনি?

বনের পাখিরা এখনো বোঝেনি যে সেখানে মানুষ বসত করে।

২.৪ উঠানেতে কী কী শুকাচ্ছে?

উঠানেতে মটরের ডাল, মসুরের ডাল, কালিজিরা, ধনে এবং লংকা-মরিচ রোদে সযত্নে শুকাচ্ছে।

২.৫ বাড়িটিকে ভালোবেসে কারা বেড়াতে এলে কিছুক্ষণ থেমে রয়?

সাঁঝ-সকালের রঙিন মেঘেরা বাড়িটিকে ভালোবেসে বেড়াতে এসে কিছুক্ষণ থেমে রয়।

৩. কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও

৩.১ 'কুটিরখানিরে লতাপাতা ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে'- এখানে কুটিরটিকে লতাপাতা-ফুলের মায়া দিয়ে ঘিরে রাখা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

গড়াই নদীর তীরের একটি ছোট্ট গ্রাম্য কুটিরের চারপাশে প্রচুর গাছপালা, ফুল ও লতাপাতা রয়েছে। প্রকৃতি যেন মায়ের মতো পরম স্নেহে ও ভালোবাসায় (মায়ায়) তার সবুজ আঁচল দিয়ে ওই ছোট্ট ঘরটিকে জড়িয়ে রেখেছে। মানুষের তৈরি কুটিরের সঙ্গে প্রকৃতির এই নিবিড় ও স্নেহময় আত্মীয়তা বোঝাতেই কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

৩.২ 'ডাহুক মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে'- 'ডাহুক মেয়ে' কারা? তারা কাদের নিয়ে আসে? তারা কীভাবে কথা বলে?

ডাহুক মেয়ে: এখানে 'ডাহুক মেয়ে' বলতে পুকুর বা জলাশয়ের আশেপাশে থাকা স্ত্রী-ডাহুক পাখিদের বোঝানো হয়েছে।

যাদের নিয়ে আসে: তারা তাদের ছোটো ছোটো ছানাদের সঙ্গে নিয়ে আসে।

কীভাবে কথা বলে: তারা নিজেদের মধ্যে মিষ্টি সুরে গানে গানে কথা বলে।

৩.৩ 'যেন একখানি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি'- 'আখর' শব্দটির অর্থ কী? সুখের কাহিনির যে নানা ছবি কবি এঁকেছেন তার মধ্যে কোনটি তোমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এবং কেন?

'আখর' শব্দটির অর্থ: অক্ষর বা বর্ণ।

প্রিয় ছবি ও কারণ: কবির আঁকা নানা ছবির মধ্যে উঠোনে বিভিন্ন রঙের ডাল ও মশলা শুকানোর ছবিটি আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। মটরের ডাল, মসুর ডাল, কালোজিরা, ধনে এবং লাল লংকা যখন পাশাপাশি রোদে শুকোতে দেওয়া হয়, তখন তা যেন এক অপূর্ব রঙিন আলপনার মতো দেখায়। এটি গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবারের সরলতা, প্রাচুর্য এবং অনাবিল সুখের এক অকৃত্রিম ছবি তুলে ধরে।

৩.৪ 'কিছুখন যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে'- রঙিন মেঘেরা বাড়িটিকে ভালোবেসে থেমে থাকে। এর মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

গড়াই নদীর তীরের ছোট্ট কুটিরটি লতাপাতা, ফুল এবং ফসলের প্রাচুর্যে অপরূপ সুন্দর। কুটিরের এই নিবিড় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকাশচারী মেঘেদেরও মুগ্ধ করে। তাই সকাল ও সন্ধ্যার রঙিন মেঘেরা যেন ওই বাড়িটির রূপে আকৃষ্ট হয়ে, ভালোবেসে তার উপরে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে কবি কুটিরটির অসীম মায়া ও গ্রাম্য প্রকৃতির প্রতি স্বর্গীয় আকর্ষণের কথা বুঝিয়েছেন।

ব্যাকরণ ও ভাষাচর্চা

৫ নীচের বাক্যগুলি থেকে ক্রিয়ার কাল নির্ণয় করো:
  • ৫.১ কুটিরখানিরে লতাপাতা ফুল মায়ায় রয়েছে ঘিরে।
    রয়েছে = পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
  • ৫.২ উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি।
    হয় = সাধারণ বর্তমান (বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান) কাল।
  • ৫.৩ লংকা-মরিচ রোদে শুকাইছে উঠানেতে সযতনে।
    শুকাইছে (শুকোচ্ছে) = ঘটমান বর্তমান কাল।
  • ৫.৪ জিরা ও ধনের রঙের পাশেতে আলপনা আঁকা কার!
    আঁকা (হয়েছে/আছে - উহ্য) = পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
  • ৫.৫ কিছুখন যেন থামিয়া রয়েছে এ বাড়িরে ভালোবেসে।
    রয়েছে = পুরাঘটিত বর্তমান কাল।
৬ নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো:
  • ৬.১ লাল শাড়িখানি রোদে দিয়ে গেছে এ বাড়ির বধূ কেউ। (জটিল বাক্যে)
    যে শাড়িখানি লাল, তা রোদে দিয়ে গেছে এ বাড়ির বধূ কেউ।
  • ৬.২ ডাহুক মেয়েরা বেড়াইতে আসে গানে গানে কথা কয়ে। (চলিত গদ্যে)
    ডাহুক মেয়েরা গানে গানে কথা বলে বেড়াতে আসে।
  • ৬.৩ গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে। (না-সূচক বাক্যে)
    গাছের শাখায় বনের পাখিরা সসভয়ে (ভয় পেয়ে) গান ধরে না। (অথবা: বনের পাখিরা গান ধরতে ভয় পায় না।)
  • ৬.৪ এখনো তাহারা বোঝেনি হেথায় মানুষ বসত করে। (যৌগিক বাক্যে)
    হেথায় মানুষ বসত করে, কিন্তু তাহারা এখনো তা বোঝেনি।
৭ নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো:
  • কুমড়া: কুষ্মাণ্ড > কুম্ভাণ্ড > কুমড়া (নাসিক্যীভবন ও ব্যঞ্জনচ্যুতি / ধ্বনি পরিবর্তন)।
  • কালিজিরা: কালোজিরা > কালিজিরা (স্বরসংগতি)।
  • উঠান: উপস্থান > উঠান (ধ্বনি লোপ)।
  • সযতনে: সযত্নে > সযতনে (স্বরভক্তি বা বিপ্রকর্ষ)।
  • আখর: অক্ষর > অক্খর > আখর (ক্ষ > খ, এবং ক্ষতিপূরক দীর্ঘীভবন)।
  • সাঁঝ: সন্ধ্যা > সঞ্ঝা > সাঁঝ (নাসিক্যীভবন ও স্বরপরিবর্তন)।
৮ কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো:
  • ৮.১ গড়াই নদীর তীরে
    অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি (তীর + এ)।
  • ৮.২ উঠানের কোণে বুনো ফুলগুলি হেসে হয় কুটি কুটি
    কর্তৃকারকে 'গুলি' নির্দেশক (শূন্য বিভক্তি)।
  • ৮.৩ গাছের শাখায় বনের পাখিরা নির্ভয়ে গান ধরে
    অধিকরণ কারকে 'য়' বিভক্তি।
  • ৮.৪ যেন একখানি সুখের কাহিনি নানান আখরে ভরি
    করণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
  • ৮.৫ সাঁঝ-সকালের রঙিন মেঘেরা এখানে বেড়াতে এসে
    কর্তৃকারকে 'এরা' বিভক্তি।
৯ নীচের শব্দগুলির মধ্যে কোনটি কোন শ্রেণির বিশেষ্য তা নির্দেশ করো:
  • মানুষ: জাতিবাচক বিশেষ্য।
  • আনন্দ: অবস্থাবাচক / গুণবাচক বিশেষ্য।
  • ফুলগুলি: বস্তুবাচক / জাতিবাচক বিশেষ্য।
  • আলপনা: সংজ্ঞাবাচক বা বস্তুবাচক বিশেষ্য।
১০ নীচের শব্দগুলির মধ্যে কোনটি কোন শ্রেণির সর্বনাম তা নির্দেশ করো:
  • যার: সাপেক্ষ সর্বনাম।
  • কেউ: অনির্দেশক সর্বনাম।
  • তাহারা: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম (প্রথম পুরুষ)।
  • তার: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।
১১ এঁদো, লাল, বুনো, রঙিন বিশেষণগুলির সাহায্যে নতুন শব্দবন্ধ তৈরি করো:
  • এঁদো: এঁদো পুকুর।
  • লাল: লাল গোলাপ।
  • বুনো: বুনো হাঁস।
  • রঙিন: রঙিন সুতো।
Sponsored Links

Frequently Asked Questions

কবিতাটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীন-এর লেখা এবং এটি তাঁর বিখ্যাত 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

কবিতায় মটরের ডাল, মসুরের ডাল, কালিজিরা, ধনে এবং লংকা-মরিচ রোদে শুকানোর কথা বলা হয়েছে, যা দেখতে রঙিন আলপনার মতো লাগে।

গ্রাম্য কুটিরটির চারপাশ এতটাই শান্ত এবং লতাপাতায় ঘেরা যে, গাছের শাখায় নির্ভয়ে গান গাওয়া বনের পাখিরা এখনো বুঝতে পারেনি যে সেখানে মানুষের বসত রয়েছে।