সবুজ জামা

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'সবুজ জামা' কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ ও ব্যাকরণ সমাধান | অষ্টম শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 27 May 2026 Last Update: 31 May 2026

🌿 সবুজ জামা

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রকৃতি বিষয়ক কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE)

তোতাইবাবু সবুজ সজীবতা প্রজাপতি মুক্ত শৈশব

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২০-১৯৮৫)

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তাঁর রচিত অজস্র কাব্যগ্রন্থে প্রকৃতি, চারপাশের মানুষজন, নানান জীবন সংগ্রাম ও পরিস্থিতি রূপায়িত হয়েছে। তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে গ্রহচ্যুত, রাণুর জন্য, লখিন্দর, ভিসা অফিসের সামনে, মানুষের মুখ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমান 'সবুজ জামা' কবিতাটিতে তিনি শিশুদের প্রকৃতির মাঝে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন।

📜

ধরন

আধুনিক কবিতা

👦

প্রধান চরিত্র

তোতাইবাবু ও দাদু

👔

আকাঙ্ক্ষা

গাছদের মতো সবুজ জামা

🦋

আকর্ষণ

প্রজাপতি ও লাল-নীল ফুল

কবিতার বিষয়সংক্ষেপ

'সবুজ জামা' কবিতাটিতে কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি শিশুর প্রকৃতিপ্রেম এবং বাঁধাধরা শিক্ষার প্রতি অনীহার কথা ব্যক্ত করেছেন। ছোট্ট শিশু তোতাইবাবুর ইস্কুলে গিয়ে চার দেওয়ালের মাঝে 'অ-আ-ক-খ' পড়ার কোনো ইচ্ছে নেই। সে চারপাশের সবুজ গাছেদের মতো একটি 'সবুজ জামা' গায়ে দিতে চায়। গাছেদের একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকাকে সে তার নিজের খেলা বলে মনে করে, যদিও বয়স্ক দাদু এসবের কিছুই বোঝেন না।

তোতাইয়ের বিশ্বাস, সে যদি গাছেদের মতো সবুজ জামা পরে, তবে তার ডালে (হাতে) প্রজাপতি এসে বসবে এবং তার কোলের ওপর টুপ করে লাল-নীল ফুল ঝরে পড়বে। আসলে তোতাইয়ের এই সবুজ জামা চাওয়া হলো প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার, প্রকৃতির মুক্ত ও সজীব পরিবেশের মধ্যে স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার এক গভীর আকাঙ্ক্ষা।

১ ও ২. অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

৭ টি
১.১ বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

১.২ তাঁর রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।

তাঁর রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো— 'লখিন্দর' এবং 'মানুষের মুখ'।

২.১ তোতাইবাবুর সবুজ জামা চাই কেন?

গাছেদের মতো সবুজ জামা গায়ে দিলে তার ডালে (হাতে) প্রজাপতি বসবে এবং কোলের ওপর লাল-নীল ফুল ঝরে পড়বে, তাই প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে তোতাইবাবুর সবুজ জামা চাই।

২.২ সবুজ গাছেরা কোন পতঙ্গ পছন্দ করে?

সবুজ গাছেরা প্রজাপতি নামক পতঙ্গ পছন্দ করে।

২.৩ সবুজ জামা আসলে কী?

সবুজ জামা আসলে গাছেদের সবুজ পাতা বা প্রকৃতির সবুজ সজীবতা ও প্রাণোচ্ছলতার প্রতীক।

২.৪ 'এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তো খেলা'- এখানে কোন খেলার কথা বলা হয়েছে?

এখানে গাছেদের মতো এক পায়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে, যা ছোট্ট তোতাইয়ের কাছে পড়াশোনার চেয়ে অনেক বেশি মজার খেলা।

২.৫ তোতাই সবুজ জামা পরলে কী কী ঘটনা ঘটবে?

তোতাই সবুজ জামা পরলে তার ডালে (হাতে) প্রজাপতি এসে বসবে এবং তার কোলের ওপর টুপ করে লাল-নীল ফুল ঝরে পড়বে।

৩. নিজের ভাষায় উত্তর লেখো

৩.১ 'দাদু যেন কেমন, চশমা ছাড়া চোখে দেখে না।'- এই পঙ্ক্তির মধ্যে 'যেন' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কেন? এই রকম আর কী কী শব্দ দিয়ে একই কাজ করা যায়?

'যেন' শব্দের ব্যবহার: এই পঙ্ক্তিতে 'যেন' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে দাদুর শারীরিক দুর্বলতা (দৃষ্টিহীনতা) এবং তার প্রতি তোতাইয়ের শিশুসুলভ বিস্ময় বা সামান্য অবজ্ঞা প্রকাশ করতে। দাদু বয়স্ক হওয়ায় প্রকৃতির সৌন্দর্য বুঝতে পারেন না, শুধু পুঁথিগত শিক্ষাতেই জোর দেন। দাদুর এই না-বোঝার বিষয়টিকে একটি অনুমানের স্তরে রাখতে কবি 'যেন' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

সমার্থক শব্দ: একই অর্থ বা কাজ প্রকাশ করার জন্য 'যেন' শব্দটির বদলে আমরা 'বুঝি', 'কী যে', 'মনে হয়' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে পারি।

৩.২ 'সবুজ জামা' কবিতায় তোতাইয়ের সবুজ জামা চাওয়ার মাধ্যমে কবি কী বলতে চাইছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।

কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তোতাইয়ের সবুজ জামা চাওয়ার মধ্য দিয়ে আজকের শিশুমনস্তত্ত্বের এক গভীর দিক তুলে ধরেছেন। আজকের শিশুরা চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি থেকে কেবল একঘেয়ে পুঁথিগত শিক্ষায় (অ-আ-ক-খ পড়ায়) আবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা প্রকৃতির বিশাল উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে চায়।

গাছেরা যেমন সবুজ পাতা মেলে দিয়ে প্রজাপতি ও ফুলকে আপন করে নেয়, তোতাইও তেমনি প্রকৃতির মতো সজীব, প্রাণোচ্ছল ও বাধাহীন হতে চায়। তার 'সবুজ জামা' চাওয়া আসলে যান্ত্রিক ও কৃত্রিম জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

৪. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও

৪.১ 'ইস্কুল' শব্দটির ধ্বনিতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা লেখো এবং একই রকম আরো দুটি শব্দ লেখো।

ধ্বনিতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা: স্কুল > ইস্কুল। এখানে মূল শব্দ 'স্কুল'-এর আদিতে বা শুরুতে উচ্চারণের সুবিধার জন্য একটি স্বরধ্বনির (ই) আগমন ঘটেছে। তাই এটি ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী 'আদি স্বরাগম'-এর উদাহরণ।

একই রকম দুটি শব্দ:

  • স্টেশন > ইস্টিশন
  • স্পর্ধা > আস্পর্ধা
৪.২ 'চোখ' শব্দটিকে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে অন্তত তিনটি বাক্য লেখো।

'চোখ' শব্দটির ভিন্নার্থে প্রয়োগ:

  • নজর বা দৃষ্টি অর্থে: দুষ্টু ছেলেটার ওপর একটু চোখ রেখো।
  • লজ্জা অর্থে: বড়োদের মুখে মুখে তর্ক করছ, তোমার কি একটুও চোখের মাথা নেই?
  • ঈর্ষা বা লোভ অর্থে: অন্যের ভালো জিনিসে চোখ দেওয়া কখনোই উচিত নয়।

প্রকৃতির মাঝে মুক্ত শৈশব

'সবুজ জামা' কবিতাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় আটকে রাখলে চলবে না। তাদের মনের বিকাশ ঘটাতে প্রকৃতির উদার প্রাঙ্গণে মিশে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তোতাইবাবুর সবুজ জামার আবেদন আসলে প্রতিটি শিশুরই মনের কথা।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'সবুজ জামা' কবিতাটির রচয়িতা আধুনিক কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। গাছেদের মতো সবুজ জামা পরলে তোতাইয়ের ডালে প্রজাপতি এসে বসবে এবং তার কোলের ওপর ফুল ঝরে পড়বে, তাই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে সে সবুজ জামা চায়।

তোতাইয়ের চোখে তার বয়স্ক দাদু চশমা ছাড়া চোখে দেখতে পান না এবং প্রকৃতির খেলার মর্ম বোঝেন না। তোতাই চার দেওয়ালের মাঝে একঘেয়ে অ-আ-ক-খ শিখতে চায় না, সে প্রকৃতির মাঝে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়, তাই সে ইস্কুলে যেতে চায় না।

'সবুজ জামা' বলতে কবি আসলে গাছেদের সবুজ পাতাকে বুঝিয়েছেন যা প্রকৃতির সজীবতা ও প্রাণোচ্ছলতার প্রতীক। শিশুরা এই সবুজ জামার মাধ্যমে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে মুক্ত শৈশব উপভোগ করতে চায়।