Sponsored Links
ছোটোদের পথের পাঁচালী (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'ছোটোদের পথের পাঁচালী' উপন্যাসের (দ্রুতপঠন) সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের দ্রুতপঠন হিসেবে নির্ধারিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'ছোটোদের পথের পাঁচালী' উপন্যাসের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও Broad Questions) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. উপন্যাসের বিষয়সংক্ষেপ
পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। অষ্টম শ্রেণির দ্রুতপঠনের জন্য এর কিশোর সংস্করণ 'ছোটোদের পথের পাঁচালী' পাঠ্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এই উপন্যাসে গ্রামবাংলার অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবার—হরিহর রায়, তাঁর স্ত্রী সর্বজয়া এবং তাঁদের দুই ছেলেমেয়ে অপু ও দুর্গার জীবনের সুখ-দুঃখের অসামান্য চিত্র ফুটে উঠেছে।
গল্পটি শুরু হয় অপুর শিশুসুলভ বিস্ময় ও কৌতূহল দিয়ে। নীলকণ্ঠ পাখি, খরগোশ, কিংবা সাহেবদের ভাঙা কুঠি—সবকিছুই তার কাছে এক অজানা রহস্যময় জগৎ। দিদি দুর্গার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। দিদি তাকে বনজঙ্গল থেকে ফল কুড়িয়ে খাওয়ায়, খেলার সাথী হয়। অন্যদিকে, অভাবের সংসারে মা সর্বজয়া সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে এবং একটু ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু দারিদ্র্য তাদের পিছু ছাড়ে না। দুর্গার নামে পুঁতির মালা চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয় এবং তাকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়, যা অপুর কচি মনে গভীর দাগ কাটে।
অপুর জীবনে পাঠশালায় যাওয়া, যাত্রাদলের গান শোনা, রেলগাড়ি দেখার স্বপ্ন, এবং প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ—সব মিলিয়ে তার শৈশব এক স্বপ্নের ঘোরে কাটে। কিন্তু এই স্বপ্নের জগতে নেমে আসে চরম ট্র্যাজেডি। হরিহর যখন রোজগারের আশায় বিদেশে, তখন প্রবল বর্ষা ও জ্বরে ভুগে, বিনা চিকিৎসায় দুর্গার অকালমৃত্যু ঘটে। দুর্গার মৃত্যু অপুর জীবনের প্রথম বড়ো শোক। দুর্গার মৃত্যুর পর হরিহর বাড়ি ফেরে এবং পরিবারের এই চরম দুর্দশার কথা জানতে পেরে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রামবাংলার প্রকৃতি, শৈশবের সারল্য এবং দারিদ্র্যের কশাঘাতে এক পরিবারের মর্মস্পর্শী কাহিনিই হলো 'পথের পাঁচালী'।
গল্পটি শুরু হয় অপুর শিশুসুলভ বিস্ময় ও কৌতূহল দিয়ে। নীলকণ্ঠ পাখি, খরগোশ, কিংবা সাহেবদের ভাঙা কুঠি—সবকিছুই তার কাছে এক অজানা রহস্যময় জগৎ। দিদি দুর্গার সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। দিদি তাকে বনজঙ্গল থেকে ফল কুড়িয়ে খাওয়ায়, খেলার সাথী হয়। অন্যদিকে, অভাবের সংসারে মা সর্বজয়া সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে এবং একটু ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু দারিদ্র্য তাদের পিছু ছাড়ে না। দুর্গার নামে পুঁতির মালা চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয় এবং তাকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়, যা অপুর কচি মনে গভীর দাগ কাটে।
অপুর জীবনে পাঠশালায় যাওয়া, যাত্রাদলের গান শোনা, রেলগাড়ি দেখার স্বপ্ন, এবং প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ—সব মিলিয়ে তার শৈশব এক স্বপ্নের ঘোরে কাটে। কিন্তু এই স্বপ্নের জগতে নেমে আসে চরম ট্র্যাজেডি। হরিহর যখন রোজগারের আশায় বিদেশে, তখন প্রবল বর্ষা ও জ্বরে ভুগে, বিনা চিকিৎসায় দুর্গার অকালমৃত্যু ঘটে। দুর্গার মৃত্যু অপুর জীবনের প্রথম বড়ো শোক। দুর্গার মৃত্যুর পর হরিহর বাড়ি ফেরে এবং পরিবারের এই চরম দুর্দশার কথা জানতে পেরে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রামবাংলার প্রকৃতি, শৈশবের সারল্য এবং দারিদ্র্যের কশাঘাতে এক পরিবারের মর্মস্পর্শী কাহিনিই হলো 'পথের পাঁচালী'।
২. লেখক পরিচিতি
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০): বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার ঘোষপাড়া মুরারিপুর গ্রামে (মাতুলালয়ে) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুরের নিকটবর্তী পানিতর গ্রামে। প্রকৃতিপ্রেম এবং গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনের সূক্ষ্ম ও বাস্তব চিত্রায়ণ তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ১৯২৮ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং তাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে— 'অপরাজিত', 'আরণ্যক', 'ইছামতী', 'দৃষ্টিপ্রদীপ', 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' ইত্যাদি। তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' (মরণোত্তর) লাভ করেন।
৩. উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশের তাৎপর্য
"নীলকণ্ঠ পাখি কই বাবা? ... এই দেখো এখন, বাবলাগাছে এখুনি এসে বসবে-"
তাৎপর্য: এটি উপন্যাসের শুরুতেই অপুর শিশুসুলভ কৌতূহলের প্রকাশ। গ্রামবাংলার প্রকৃতির সাথে অপুর প্রথম পরিচয় ঘটছে বাবার হাত ধরে। নীলকণ্ঠ পাখি, খরগোশ, সবকিছুই তার কচি মনে এক অদ্ভুত বিস্ময় সৃষ্টি করে। এটি অপুর প্রকৃতিপ্রেমিক সত্তার উন্মেষের ইঙ্গিত দেয়।
"চোর চোরের বেহদ্দ চোর- আর ওই দেখো না বাগানের আমগুলো..."
তাৎপর্য: ভুবন মুখুজ্যের বাড়ির সেজো বউ দুর্গাকে পুঁতির মালা চুরির মিথ্যা অপবাদ দেয়। দারিদ্র্যের কারণে গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের যে বিনা দোষেও কতটা লাঞ্ছনা ও অপমান সহ্য করতে হয়, এই ঘটনাটি তারই এক নির্মম উদাহরণ। সর্বজয়া অপমানে নিজের মেয়েকেই প্রহার করে, যা অপুর মনে গভীর কষ্ট দেয়।
"আমি তো জানিনে কাকিমা- আমি তো-"
তাৎপর্য: দুর্গার এই অসহায় উক্তি প্রমাণ করে সে নির্দোষ। কিন্তু সেজো ঠাকরুন তার কথা বিশ্বাস করেন না এবং তাকে নির্মমভাবে মারধর করেন। সমাজের বিত্তবান মানুষদের গরিবের প্রতি এই নিষ্ঠুরতা ও অমানবিক আচরণ লেখক খুব সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন।
"ঠিক শুনতে পায় তো, আসে কোত্থেকে! আচ্ছা কাল একটু চুপি চুপি ডেকে দেখব দিকি, তাও শুনতে পাবে?"
তাৎপর্য: এটি দুর্গার অবোধ ও নির্মল আনন্দের চিত্র। বনের কুকুর 'ভুলো'কে ভাত খাওয়ানোর মধ্যে সে এক অদ্ভুত আনন্দ ও রহস্য খুঁজে পায়। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও একটি ছোট্ট মেয়ের অন্য একটি প্রাণীর প্রতি এই মমতা ও নিখাদ আনন্দ সত্যিই হৃদয়স্পর্শী।
"ওগো, দুগ্গা কী আর আছে গো মা যে আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গিয়েচে - এতদিন কোথায় ছিলে!"
তাৎপর্য: হরিহর যখন রোজগার করে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের জন্য নতুন জামাকাপড় ও উপহার নিয়ে বাড়ি ফেরে, তখন সর্বজয়া ডুকরে কেঁদে উঠে এই নিদারুণ সত্যটি প্রকাশ করে। উপন্যাসের এই অংশটি চরম ট্র্যাজিক। দারিদ্র্যের কশাঘাতে বিনা চিকিৎসায় দুর্গার অকালমৃত্যু এবং হরিহরের আশাভঙ্গ পাঠক হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন
১. 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
২. অপুর বাবার নাম কী?
(ক) হরিহর রায় (খ) নবীন পালিত (গ) ভুবন মুখুজ্যে (ঘ) নীলমণি রায়
উত্তর: (ক) হরিহর রায়
৩. অপুর মায়ের নাম কী?
(ক) দুর্গা (খ) সর্বজয়া (গ) সেজো বউ (ঘ) অমলা
উত্তর: (খ) সর্বজয়া
৪. অপুর দিদির নাম কী?
(ক) রানি (খ) টুনু (গ) দুর্গা (ঘ) পুঁটি
উত্তর: (গ) দুর্গা
৫. অপুদের গ্রামের নাম কী?
(ক) নবাবগঞ্জ (খ) দশঘরা (গ) নিশ্চিন্দিপুর (ঘ) পানিতর
উত্তর: (গ) নিশ্চিন্দিপুর
৬. হরিহর ও তার সঙ্গীরা মাঠে কী পাখি দেখতে গিয়েছিল?
(ক) শালিক (খ) নীলকণ্ঠ (গ) চিল (ঘ) পায়রা
উত্তর: (খ) নীলকণ্ঠ
৭. বনের মধ্যে কী দৌড়ে গিয়েছিল বলে অপু প্রশ্ন করেছিল?
(ক) শেয়াল (খ) খরগোশ (গ) কুকুর (ঘ) বেজি
উত্তর: (খ) খরগোশ
৮. অপুর টিনের বাক্সে কীসের পুতুল ছিল?
(ক) মাটির পুতুল (খ) রং-ওঠা কাঠের ঘোড়া (গ) কলের পুতুল (ঘ) রবারের বাঁদর
উত্তর: (খ) রং-ওঠা কাঠের ঘোড়া
৯. দুর্গা অপুকে কী জারিয়ে খাওয়ার কথা বলেছিল?
(ক) চালতা (খ) তেঁতুল (গ) আমের কুসি (ঘ) কুল
উত্তর: (গ) আমের কুসি
১০. ভুবন মুখুজ্যের বাড়ির সেজো বউ দুর্গাকে কী চুরির অপবাদ দিয়েছিল?
(ক) টাকার (খ) আমের (গ) পুঁতির মালার (ঘ) পুতুলের
উত্তর: (গ) পুঁতির মালার
১১. দুর্গা অপুকে কী ফুল দিয়ে নোলক পরিয়ে দিয়েছিল?
(ক) জবা (খ) ওড়কলমি (গ) অপরাজিতা (ঘ) সোঁদালি
উত্তর: (খ) ওড়কলমি
১২. মহাভারতের কোন চরিত্র অপুর সবচেয়ে ভালো লাগত?
(ক) অর্জুন (খ) ভীম (গ) কর্ণ (ঘ) যুধিষ্ঠির
উত্তর: (গ) কর্ণ
১৩. অপু ও দুর্গা গড়ের পুকুরে কী কুড়াতে গিয়েছিল?
(ক) পদ্মফুল (খ) পানফল (গ) আম (ঘ) জাম
উত্তর: (খ) পানফল
১৪. গড়ের পুকুরে দুর্গা মাটি খুঁড়ে কী পেয়েছিল বলে ভেবেছিল?
(ক) মোহর (খ) হিরে (গ) সোনা (ঘ) টাকা
উত্তর: (খ) হিরে
১৫. হরিহর সেই চকচকে জিনিসটাকে কী বলেছিল?
(ক) আসল হিরে (খ) ঝাড়-লণ্ঠনে ঝুলোনো বেলোয়ারি কাচ (গ) দামি পাথর (ঘ) সাধারণ পাথর
উত্তর: (খ) ঝাড়-লণ্ঠনে ঝুলোনো বেলোয়ারি কাচ
১৬. ঝড়ের দিন আম কুড়াতে গিয়ে দুর্গা ও অপু কাদের বাগানে গিয়েছিল?
(ক) রায়েদের (খ) সোনামুখীতলায় (মুখুজ্যেদের) (গ) পালিতদের (ঘ) বোষ্টমদের
উত্তর: (খ) সোনামুখীতলায় (মুখুজ্যেদের)
১৭. ঝড়ের সময় বৃষ্টি থামাতে দুর্গা কোন ছড়াটি বলছিল?
(ক) আয় বৃষ্টি ঝেঁপে (খ) নেবুর পাতায় করমচা, হে বিষ্টি ধরে যা (গ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (ঘ) মেঘের কোলে রোদ হেসেছে
উত্তর: (খ) নেবুর পাতায় করমচা, হে বিষ্টি ধরে যা
১৮. দুর্গা অপুর সঙ্গে খেলাঘর সাজাতে বালিকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছিল?
(ক) নুন (খ) চিনি (গ) চাল (ঘ) আটা
উত্তর: (খ) চিনি
১৯. সতু অপুর খেলাঘর থেকে কী নিয়ে পালিয়েছিল?
(ক) মাকাল ফল (খ) কড়ি (গ) পুতুল (ঘ) আমের গুটি
উত্তর: (ক) মাকাল ফল
২০. অপুকে পাঠশালায় পড়ানোর জন্য কে নিয়ে গিয়েছিল?
(ক) মা (খ) দিদি (গ) বাবা (ঘ) জ্যেঠামশায়
উত্তর: (গ) বাবা
২১. অপুর পাঠশালার গুরুমশায়ের নাম কী ছিল?
(ক) প্রসন্ন গুরুমশায় (খ) রাজু রায় (গ) রামচরণ (ঘ) নরোত্তম দাস
উত্তর: (ক) প্রসন্ন গুরুমশায়
২২. পাঠশালায় গুরুমশায় আর কী করতেন?
(ক) চাষবাস (খ) মুদির দোকান (গ) ডাক্তারি (ঘ) দর্জির কাজ
উত্তর: (খ) মুদির দোকান
২৩. অপুর কাছে কোন জিনিসটা খুব প্রিয় ছিল, যা দিয়ে সে নানা কল্পনা করত?
(ক) বাঁকা কঞ্চি (খ) টিনের বাঁশি (গ) কাঠের ঘোড়া (ঘ) বইয়ের দপ্তর
উত্তর: (ক) বাঁকা কঞ্চি
২৪. অপু বাবার বইয়ের দপ্তরে কোন বইয়ে আকাশে ওড়ার কথা পড়েছিল?
(ক) মহাভারত (খ) সর্ব-দর্শন সংগ্রহ (গ) চরিতাষ্টক (ঘ) শুভঙ্করী
উত্তর: (খ) সর্ব-দর্শন সংগ্রহ
২৫. আকাশে ওড়ার জন্য অপুর কীসের ডিমের দরকার ছিল?
(ক) চিলের (খ) কাকের (গ) শকুনির (ঘ) পায়রার
উত্তর: (গ) শকুনির
২৬. অপু কার কাছ থেকে শকুনির ডিম কিনেছিল?
(ক) সতুর (খ) নীলুর (গ) রাখাল ছোঁড়ার (ঘ) পটুর
উত্তর: (গ) রাখাল ছোঁড়ার
২৭. দুর্গা কী নামে ডাক দিয়ে কুকুরকে ভাত খাওয়াত?
(ক) কালু (খ) ভুলো (গ) বাঘা (ঘ) টমি
উত্তর: (খ) ভুলো
২৮. দুর্গার প্রথম বনভোজনে কী রান্না হয়েছিল?
(ক) মাংস (খ) লুচি (গ) শুধু ভাত আর বেগুনভাজা (ঘ) খিচুড়ি
উত্তর: (গ) শুধু ভাত আর বেগুনভাজা
২৯. টুনির মায়ের কী হারিয়ে গিয়েছিল, যার জন্য দুর্গাকে সন্দেহ করা হয়?
(ক) সোনার হার (খ) আংটি (গ) সোনার সিঁদুরের কৌটো (ঘ) কানের দুল
উত্তর: (গ) সোনার সিঁদুরের কৌটো
৩০. সেজো ঠাকরুন দুর্গাকে কী করেছিলেন?
(ক) বকেছিলেন শুধু (খ) মাথাটা দেয়ালে ঠুকে দিয়েছিলেন (গ) বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন (ঘ) পুলিশে দিয়েছিলেন
উত্তর: (খ) মাথাটা দেয়ালে ঠুকে দিয়েছিলেন
৩১. গ্রামে নীলমণি হাজরার কিসের দল এসেছিল?
(ক) সার্কাস (খ) ম্যাজিক (গ) যাত্রার দল (ঘ) পুতুল নাচ
উত্তর: (গ) যাত্রার দল
৩২. যাত্রায় রাজপুত্র অজয়ের পার্ট কে করেছিল?
(ক) একটি বয়স্ক লোক (খ) অপুরই বয়সি একটি সুন্দর ছেলে (গ) সতু (ঘ) পটু
উত্তর: (খ) অপুরই বয়সি একটি সুন্দর ছেলে
৩৩. অপু কার কাছে গান গাইতে শিখেছিল এবং বন্ধুত্ব করেছিল?
(ক) অধিকারীর (খ) রাজপুত্র অজয় সাজা ছেলেটির (গ) নীলুর (ঘ) বাবার
উত্তর: (খ) রাজপুত্র অজয় সাজা ছেলেটির
৩৪. যাত্রার ছেলেটি যাওয়ার সময় সর্বজয়াকে কী দিতে চেয়েছিল?
(ক) কাপড় (খ) পাঁচটি টাকা (দিদির বিয়ের জন্য) (গ) মিষ্টি (ঘ) বই
উত্তর: (খ) পাঁচটি টাকা (দিদির বিয়ের জন্য)
৩৫. অপু ও নীলু সন্ধ্যায় কার বাড়ির সামনে গিয়ে ভয় পেয়েছিল?
(ক) মুখুজ্যেদের (খ) আতুরি ডাইনির (গ) রায়েদের (ঘ) ঘোষদের
উত্তর: (খ) আতুরি ডাইনির
৩৬. অপু বাবার সঙ্গে দূরে গিয়ে প্রথম কী দেখেছিল?
(ক) নদী (খ) রেলরাস্তা (গ) পাহাড় (ঘ) শহর
উত্তর: (খ) রেলরাস্তা
৩৭. লক্ষ্মণ মহাজনের বাড়িতে অপু কী খেয়ে অবাক হয়েছিল?
(ক) লুচি (খ) পায়েস (গ) ঘি আর কিশমিশ দেওয়া মোহনভোগ (ঘ) দই
উত্তর: (গ) ঘি আর কিশমিশ দেওয়া মোহনভোগ
৩৮. অপু বনের ধারে বসে কোন বই পড়ত?
(ক) রামায়ণ (খ) কাশীদাসী মহাভারত (গ) চণ্ডীমঙ্গল (ঘ) শুভঙ্করী
উত্তর: (খ) কাশীদাসী মহাভারত
৩৯. অপু একটা খাতায় কী লিখত?
(ক) কবিতা (খ) নাটক (গ) উপন্যাস (ঘ) ডায়েরি
উত্তর: (খ) নাটক
৪০. দুর্গা জ্বরে ভুগতে ভুগতে কী খাওয়ার কথা ভাবত?
(ক) মাংস (খ) মানকচু ভাতে আর রুটি (গ) লুচি (ঘ) বিস্কুট
উত্তর: (খ) মানকচু ভাতে আর রুটি
৪১. প্রবল ঝড়ের রাতে সর্বজয়া ভয় পেয়ে কাকে ডেকেছিল?
(ক) হরিহরকে (খ) নীলমণি মুখুজ্যের বউকে (গ) সেজো বউকে (ঘ) কাউকে নয়
উত্তর: (খ) নীলমণি মুখুজ্যের বউকে
৪২. দুর্গার অসুখের সময় কোন ডাক্তারকে ডাকা হয়েছিল?
(ক) শরৎ ডাক্তারকে (খ) বিধান ডাক্তারকে (গ) রাম ডাক্তারকে (ঘ) শ্যাম ডাক্তারকে
উত্তর: (ক) শরৎ ডাক্তারকে
৪৩. জ্বরের ঘোরে দুর্গা অপুকে কী দেখার কথা বলেছিল?
(ক) নদী (খ) রেলগাড়ি (গ) মেলা (ঘ) যাত্রা
উত্তর: (খ) রেলগাড়ি
৪৪. দুর্গা কী রোগে মারা যায়?
(ক) কলেরায় (খ) ম্যালেরিয়ায় (গ) গুটিবসন্তে (ঘ) টাইফয়েডে
উত্তর: (খ) ম্যালেরিয়ায়
৪৫. হরিহর বিদেশে গিয়ে প্রথম কোথায় ছিল?
(ক) কলকাতা (খ) গোয়াড়ি কৃষ্ণনগর (গ) বর্ধমান (ঘ) নবদ্বীপ
উত্তর: (খ) গোয়াড়ি কৃষ্ণনগর
৪৬. অপু বাবার কাছে কী বই আনার কথা বলেছিল?
(ক) রামায়ণ (খ) পদ্মপুরাণ (গ) চণ্ডীমঙ্গল (ঘ) মহাভারত
উত্তর: (খ) পদ্মপুরাণ
৪৭. হরিহর অপুর জন্য কী বই কিনে এনেছিল?
(ক) পদ্মপুরাণ (খ) সচিত্র চণ্ডী মাহাত্ম্য বা কালকেতুর উপাখ্যান (গ) শিশুবোধক (ঘ) ধারাপাত
উত্তর: (খ) সচিত্র চণ্ডী মাহাত্ম্য বা কালকেতুর উপাখ্যান
৪৮. দুর্গার জন্য হরিহর কী এনেছিল?
(ক) শাড়ি (খ) খেলনা (গ) লালপাড় কাপড় ও আলতা (ঘ) বই
উত্তর: (গ) লালপাড় কাপড় ও আলতা
৪৯. হরিহর বাড়ি ফিরে যখন মেয়েকে খুঁজছিল, তখন সর্বজয়া কী করেছিল?
(ক) হাসছিল (খ) চুপ করেছিল (গ) উচ্ছ্বসিতকণ্ঠে ফুকারিয়া কাঁদিয়া উঠিয়া দুর্গার মৃত্যুর কথা বলেছিল (ঘ) রাগ করেছিল
উত্তর: (গ) উচ্ছ্বসিতকণ্ঠে ফুকারিয়া কাঁদিয়া উঠিয়া দুর্গার মৃত্যুর কথা বলেছিল
৫০. 'বঙ্গবাসী' পত্রিকাটি কে পড়ত?
(ক) দুর্গা (খ) হরিহর (গ) সর্বজয়া (ঘ) অপু
উত্তর: (ঘ) অপু
৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন
১. 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটি কার লেখা?
উত্তর: 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা।
২. অপুদের গ্রামের নাম কী ছিল?
উত্তর: অপুদের গ্রামের নাম ছিল নিশ্চিন্দিপুর।
৩. হরিহর ও তার সঙ্গীরা নীলকণ্ঠ পাখি দেখতে কোথায় গিয়েছিল?
উত্তর: হরিহর ও তার সঙ্গীরা নীলকণ্ঠ পাখি দেখতে গ্রামের বাইরের মাঠে গিয়েছিল।
৪. বনের মধ্যে কী দৌড়ে গিয়েছিল বলে অপু তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিল?
উত্তর: বনের মধ্যে বড়ো বড়ো কানওয়ালা একটি খরগোশ দৌড়ে গিয়েছিল, যা দেখে অবাক হয়ে অপু তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছিল।
৫. অপুর টিনের বাক্সে কী কী জিনিস ছিল?
উত্তর: অপুর টিনের বাক্সে একটা রং-ওঠা কাঠের ঘোড়া, একটা টোল-খাওয়া টিনের ভেঁপু-বাঁশি, গোটাকতক কড়ি, একটা দু-পয়সা দামের পিস্তল, কিছু শুকনো নাটা ফল এবং খানকতক খাপরার কুচি ছিল।
৬. দুর্গা কোথা থেকে আমের কুসি কুড়িয়ে পেয়েছিল?
উত্তর: দুর্গা পল্লিদের বাগানে সিঁদুরকোটোর তলা থেকে কচি আম বা আমের কুসি কুড়িয়ে পেয়েছিল।
৭. মহাভারতের কোন চরিত্রটি অপুর সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত এবং কেন?
উত্তর: মহাভারতের কর্ণের চরিত্রটি অপুর সবচেয়ে ভালো লাগত, কারণ রথের চাকা মাটিতে বসে যাওয়ায় কর্ণের অসহায় অবস্থা এবং মৃত্যু তার কচি মনে গভীর সমবেদনা ও মমতার সৃষ্টি করেছিল।
৮. অপু ও দুর্গা গড়ের পুকুরে কেন গিয়েছিল?
উত্তর: অপু ও দুর্গা গড়ের পুকুরে পানফল কুড়াতে গিয়েছিল।
৯. গড়ের পুকুরে দুর্গা মাটি খুঁড়ে কী পেয়েছিল বলে ভেবেছিল?
উত্তর: গড়ের পুকুরে দুর্গা মাটি খুঁড়ে একটি গোল, পল-কাটা চকচকে জিনিস পেয়েছিল, যাকে সে 'হিরে' বলে ভেবেছিল।
১০. হরিহর সেই চকচকে জিনিসটাকে কী বলেছিল?
উত্তর: হরিহর জিনিসটিকে দেখে বলেছিল যে ওটা কোনো হিরে নয়, ওটা হলো ঝাড়-লণ্ঠনে ঝুলোনো একরকম বেলোয়ারি কাচ।
১১. ঝড়ের দিন আম কুড়াতে গিয়ে সোনামুখীতলায় কারা অপুদের তাড়িয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: ঝড়ের দিন আম কুড়াতে গেলে ভুবন মুখুজ্যের বাড়ির ছেলেমেয়েরা, বিশেষ করে সতু, অপু ও দুর্গাকে তাদের বাগান (সোনামুখীতলা) থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।
১২. দুর্গা বৃষ্টির সময় কোন ছড়াটি আবৃত্তি করছিল?
উত্তর: দুর্গা বৃষ্টির সময় ভয় পেয়ে আবৃত্তি করছিল— "নেবুর পাতায় করমচা, হে বিষ্টি ধরে যা।"
১৩. দুর্গা কোথা থেকে নারিকেল কুড়িয়ে পেয়েছিল?
উত্তর: দুর্গা বৃষ্টির সময় সেজজেঠিমার (মুখুজ্যেদের) বাগানের বেড়ার ধারের একটি গাছের তলা থেকে একটি ঝুনা নারিকেল কুড়িয়ে পেয়েছিল।
১৪. সেজো ঠাকরুন নারিকেল চুরির অপবাদে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তর: সেজো ঠাকরুন অভিশাপ দিয়েছিলেন যে, যারা নারিকেল চুরি করেছে তারা যেন উচ্ছন্নে যায় এবং শিগগিরই যেন ছাতিমতলা-সই (শ্মশানে যায়) হয়।
১৫. অপুর পাঠশালার গুরুমশায়ের নাম কী ছিল এবং তিনি আর কী করতেন?
উত্তর: অপুর পাঠশালার গুরুমশায়ের নাম ছিল প্রসন্ন গুরুমশায় এবং তিনি পাঠশালার পাশাপাশি বাড়িতে একটি মুদির দোকানও চালাতেন।
১৬. অপুর জীবনে 'বাঁকা কঞ্চি' কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তর: একখানা বাঁকা কঞ্চি হাতে পেলেই অপুর মনে অদ্ভুত সব কল্পনা জাগত। সে নিজেকে রাজপুত্র, সেনাপতি বা ভ্রমণকারী ভেবে আপন মনে গল্প রচনা করত এবং আনন্দে সময় কাটাত।
১৭. 'সর্ব-দর্শন সংগ্রহ' বইটিতে অপু কী অদ্ভুত কথা পড়েছিল?
উত্তর: অপু পড়েছিল যে, শকুনির ডিমের মধ্যে পারদ পুরে কয়েকদিন রৌদ্রে রেখে, পরে সেই ডিম মুখে পুরলে মানুষ শূন্যমার্গে (আকাশে) বিচরণ বা উড়তে পারে।
১৮. অপু কার কাছ থেকে শকুনির ডিম কিনেছিল এবং কত দিয়ে?
উত্তর: অপু রাখাল ছোঁড়ার কাছ থেকে চার পয়সা এবং কিছু কড়ির বিনিময়ে শকুনির ডিম কিনেছিল।
১৯. দুর্গার প্রথম বনভোজনে রান্নার মেনু কী ছিল?
উত্তর: দুর্গার প্রথম বনভোজনে কোনো এলাহি আয়োজন ছিল না, শুধু একটি ছোটো হাঁড়িতে ভাত এবং বেগুনভাজা রান্না হয়েছিল।
২০. সেজো ঠাকরুন দুর্গাকে কী চুরির দায়ে মারধর করেছিলেন?
উত্তর: সেজো ঠাকরুন তাঁর মেয়ের সোনার সিঁদুরের কৌটো চুরির মিথ্যা দায়ে দুর্গাকে সন্দেহ করেছিলেন এবং তাকে অমানুষিকভাবে মারধর করে মাথা দেয়ালে ঠুকে দিয়েছিলেন।
২১. নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে কোন যাত্রার দল এসেছিল?
উত্তর: নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে চড়কপূজা উপলক্ষে নীলমণি হাজরার যাত্রার দল এসেছিল।
২২. যাত্রায় রাজপুত্র অজয়ের চরিত্রে কে অভিনয় করেছিল এবং তার সঙ্গে কার বন্ধুত্ব হয়?
উত্তর: যাত্রায় রাজপুত্র অজয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিল অপুরই বয়সি একটি সুন্দর ছেলে, যার সাথে অপুর গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
২৩. অজয় যাওয়ার সময় সর্বজয়াকে কী দিতে চেয়েছিল এবং কেন?
উত্তর: মাতৃস্নেহ পেয়ে আপ্লুত অজয় যাওয়ার সময় তার কষ্টের সঞ্চিত পাঁচটি টাকা সর্বজয়াকে দিতে চেয়েছিল, যাতে দিদি দুর্গার বিয়ের সময় একটি ভালো কাপড় কেনা যায়।
২৪. অপু ও নীলু সন্ধ্যায় কার বাড়ির সামনে গিয়ে ভয় পেয়েছিল?
উত্তর: মাঠ থেকে ফেরার পথে অপু ও নীলু পথ হারিয়ে আতুরি ডাইনির বাড়ির সামনে গিয়ে পড়েছিল এবং ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল।
২৫. অপু বাবার সঙ্গে রেলরাস্তা দেখতে যাওয়ার সময় কী কী কল্পনা করছিল?
উত্তর: রেলরাস্তার লোহার লাইন এবং টেলিগ্রাফের তার দেখে অপুর মনে অসীম কৌতূহল জেগেছিল যে কীভাবে তারে খবর যায় এবং গাড়ি কীভাবে চলে।
২৬. লক্ষ্মণ মহাজনের বাড়িতে অপু কী খেয়ে অবাক হয়েছিল?
উত্তর: লক্ষ্মণ মহাজনের বাড়িতে প্রচুর ঘি এবং কিশমিশ দেওয়া মোহনভোগ খেয়ে অপু অবাক হয়েছিল, কারণ তার দরিদ্র মা কখনও এমন মোহনভোগ তাকে খাওয়াতে পারেনি।
২৭. অপু দুপুরে কোথায় বসে বই পড়ত?
উত্তর: অপু দুপুরে বাঁশবনের ছায়ায় শেওড়াগাছের ডাল পেতে উপুড় হয়ে শুয়ে একমনে বই পড়ত।
২৮. দুর্গা জ্বরের সময় কী খেতে চাইত?
উত্তর: দুর্গা জ্বরের সময় মানকচু ভাতে দিয়ে দুটো ভাত এবং রুটি খাওয়ার বায়না করত।
২৯. প্রবল ঝড়ের রাতে সর্বজয়া ভয় পেয়ে কী করেছিল?
উত্তর: প্রবল ঝড়ের রাতে রান্নাঘরের দেয়াল ভেঙে পড়তে দেখে ভয় পেয়ে সর্বজয়া পাশের বাড়ির নীলমণি মুখুজ্যের স্ত্রীকে ডাকতে পাঠিয়েছিল।
৩০. দুর্গার অসুখের সময় কোন ডাক্তারকে ডাকা হয়েছিল?
উত্তর: দুর্গার অসুখ বাড়লে নবাবগঞ্জ থেকে শরৎ ডাক্তারকে ডাকা হয়েছিল।
৩১. মৃত্যুর আগে জ্বরের ঘোরে দুর্গা অপুকে কী বলেছিল?
উত্তর: মৃত্যুর আগে জ্বরের ঘোরে দুর্গা অপুকে বলেছিল যে সে সুস্থ হয়ে উঠলে অপু যেন তাকে রেলগাড়ি দেখাতে নিয়ে যায় এবং গঙ্গা স্নান করতে যায়।
৩২. দুর্গার মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?
উত্তর: প্রবল বর্ষায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে, বিনা চিকিৎসায় ও উপযুক্ত পথ্যের অভাবে হার্টফেল করে দুর্গার অকালমৃত্যু ঘটেছিল।
৩৩. হরিহর বিদেশে গিয়ে কোথায় আশ্রয় নিয়েছিল?
উত্তর: হরিহর গোয়াড়ি কৃষ্ণনগরে গিয়ে প্রথমে হোটেলে এবং পরে একটি হরিসভার কুঠুরিতে আশ্রয় নিয়েছিল।
৩৪. অপু তার বাবার কাছে কী বই আনার আবদার করেছিল?
উত্তর: অপু তার বাবার কাছে বটতলার ছাপা 'পদ্মপুরাণ' বইটি আনার আবদার করেছিল।
৩৫. দুর্গা বাবার কাছে কী আনার কথা বলেছিল?
উত্তর: দুর্গা বাবার কাছে একখানা সবুজ হাওয়াই কাপড় এবং একপাতা ভালো আলতা আনার কথা বলেছিল।
৩৬. হরিহর অপুর জন্য কী বই কিনে এনেছিল?
উত্তর: 'পদ্মপুরাণ' না পেয়ে হরিহর অপুর জন্য ছয় আনা মূল্যে 'সচিত্র চণ্ডী মাহাত্ম্য বা কালকেতুর উপাখ্যান' কিনে এনেছিল।
৩৭. হরিহর বাড়ি ফেরার পর সর্বজয়ার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: হরিহর হাসিমুখে বাড়ি ফিরে ছেলেমেয়েকে খুঁজতে থাকলে, সর্বজয়া আর আবেগ চেপে রাখতে না পেরে ডুকরে কেঁদে উঠে দুর্গার মৃত্যুর সংবাদ দেয়।
৩৮. অপু শনিবার সকালে চণ্ডীমণ্ডপে কার জন্য অপেক্ষা করত?
উত্তর: অপু শনিবার সকালে ভুবন মুখুজ্যের চণ্ডীমণ্ডপে ডাকবাক্সের কাছে পিওনের আশায় বসে থাকত, যাতে সে 'বঙ্গবাসী' খবরের কাগজটি পায়।
৩৯. অপু একটা খাতায় কী লিখত?
উত্তর: অপু তার লাল খাতায় একটি নাটক লিখত, যেখানে রাজা, মন্ত্রী, দস্যু এবং রাজকুমারীদের কাল্পনিক গল্প থাকত।
৪০. 'ছোটোদের পথের পাঁচালী' মূলত কাদের জন্য সম্পাদিত হয়েছে?
উত্তর: মূল 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটিকে সম্পাদনা করে অষ্টম শ্রেণির কিশোর ছাত্রছাত্রীদের দ্রুতপঠনের উপযোগী করে 'ছোটোদের পথের পাঁচালী' তৈরি করা হয়েছে।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন
১. 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে অপু চরিত্রটির পরিচয় দাও। প্রকৃতি ও কল্পনার জগতে তার বিচরণের কী রূপ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো অপু (অপূর্বকুমার রায়)। সে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান, কিন্তু তার মনোজগৎ দারিদ্র্যের গণ্ডি পেরিয়ে এক অসীম কল্পনার জগতে বিস্তৃত।
অপুর চরিত্রে শিশুসুলভ বিস্ময় ও প্রবল কৌতূহল বর্তমান। গ্রামের মাঠ, নদী, বাঁশবন, নীলকণ্ঠ পাখি বা খরগোশ—সবকিছুই তার কাছে এক মায়াময় রূপকথার জগৎ বলে মনে হয়। সে যখন একটি 'বাঁকা কঞ্চি' হাতে পায়, তখন তার কল্পনার ডানা মেলে দেয়। সে নিজেকে কখনো রাজপুত্র, কখনো সেনাপতি, আবার কখনো মহাভারতের অর্জুন বলে কল্পনা করে। বাবার পুরোনো বইপত্র ঘেঁটে সে আকাশে ওড়ার উপায় খোঁজে এবং শকুনির ডিম কিনে আনে। মহাভারত পড়ার সময় কর্ণের অসহায়তা তাকে কাঁদিয়ে তোলে, যা তার সংবেদনশীল মনের পরিচয় দেয়।
তদুপরি, রেলগাড়ি দেখার অদম্য বাসনা, যাত্রাদলের গানের প্রতি আকর্ষণ এবং দূর অজানার প্রতি তার চিরন্তন টান প্রমাণ করে যে অপু কোনো সাধারণ গ্রাম্য বালক নয়, সে এক অন্তর্মুখী, ভাবুক এবং আজন্ম রোমান্টিক পথিক। চরম দারিদ্র্যের মাঝেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য এবং কল্পনার মোহময় জগৎই অপুর বেঁচে থাকার প্রধান রসদ।
অপুর চরিত্রে শিশুসুলভ বিস্ময় ও প্রবল কৌতূহল বর্তমান। গ্রামের মাঠ, নদী, বাঁশবন, নীলকণ্ঠ পাখি বা খরগোশ—সবকিছুই তার কাছে এক মায়াময় রূপকথার জগৎ বলে মনে হয়। সে যখন একটি 'বাঁকা কঞ্চি' হাতে পায়, তখন তার কল্পনার ডানা মেলে দেয়। সে নিজেকে কখনো রাজপুত্র, কখনো সেনাপতি, আবার কখনো মহাভারতের অর্জুন বলে কল্পনা করে। বাবার পুরোনো বইপত্র ঘেঁটে সে আকাশে ওড়ার উপায় খোঁজে এবং শকুনির ডিম কিনে আনে। মহাভারত পড়ার সময় কর্ণের অসহায়তা তাকে কাঁদিয়ে তোলে, যা তার সংবেদনশীল মনের পরিচয় দেয়।
তদুপরি, রেলগাড়ি দেখার অদম্য বাসনা, যাত্রাদলের গানের প্রতি আকর্ষণ এবং দূর অজানার প্রতি তার চিরন্তন টান প্রমাণ করে যে অপু কোনো সাধারণ গ্রাম্য বালক নয়, সে এক অন্তর্মুখী, ভাবুক এবং আজন্ম রোমান্টিক পথিক। চরম দারিদ্র্যের মাঝেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য এবং কল্পনার মোহময় জগৎই অপুর বেঁচে থাকার প্রধান রসদ।
২. দুর্গা চরিত্রটি 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে কীভাবে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। অপুর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিশেষত্ব কী?
উত্তর: 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে দুর্গা এক অনবদ্য এবং মর্মস্পর্শী চরিত্র। সে অপুর দিদি এবং প্রকৃতির এক স্বাধীন ও মুক্ত কন্যা।
দুর্গা অত্যন্ত চঞ্চল ও ডানপিটে স্বভাবের মেয়ে। সারাদিন সে বনজঙ্গল, আমবাগান, বাঁশবনে ঘুরে বেড়ায়। কোথায় কোন ফল পেকেছে, তা তার নখদর্পণে। দারিদ্র্যের কারণে সে ভালো খাবার পায় না, তাই বনের তুচ্ছ ফলমূল (আমের কুসি, শেওড়ার ফল, মেটে আলু) দিয়েই সে তার স্বাদ মেটায়। তার চরিত্রে এক অদ্ভুত সারল্য ও মাতৃসুলভ স্নেহ রয়েছে। সে পুতুল খেলতে ভালোবাসে, চড়ুইভাতি করে আনন্দ পায়, আবার কুকুরকে লুকিয়ে ভাত খাইয়ে অবোধ উল্লাসে মেতে ওঠে।
অপুর সঙ্গে দুর্গার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মধুর। দুর্গা অপুকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। সে জঙ্গল থেকে ফল কুড়িয়ে এনে অপুকে লুকিয়ে খাওয়ায়, গঙ্গা-যমুনা খেলায় সাথী করে। অপু যখন মায়ের কাছে বকুনি খায়, তখন দুর্গা তাকে সান্ত্বনা দেয়। অপুর চোখে ধুলো পড়লে সে মাতৃস্নেহে তা পরিষ্কার করে দেয়। এমনকি মৃত্যুর আগেও তার শেষ ইচ্ছা ছিল অপুর সাথে রেলগাড়ি দেখার। অপুর জীবনে দুর্গা শুধু দিদি নয়, তার শ্রেষ্ঠ বন্ধু ও রক্ষাকর্ত্রী হিসেবেই উপন্যাসে অমর হয়ে আছে।
দুর্গা অত্যন্ত চঞ্চল ও ডানপিটে স্বভাবের মেয়ে। সারাদিন সে বনজঙ্গল, আমবাগান, বাঁশবনে ঘুরে বেড়ায়। কোথায় কোন ফল পেকেছে, তা তার নখদর্পণে। দারিদ্র্যের কারণে সে ভালো খাবার পায় না, তাই বনের তুচ্ছ ফলমূল (আমের কুসি, শেওড়ার ফল, মেটে আলু) দিয়েই সে তার স্বাদ মেটায়। তার চরিত্রে এক অদ্ভুত সারল্য ও মাতৃসুলভ স্নেহ রয়েছে। সে পুতুল খেলতে ভালোবাসে, চড়ুইভাতি করে আনন্দ পায়, আবার কুকুরকে লুকিয়ে ভাত খাইয়ে অবোধ উল্লাসে মেতে ওঠে।
অপুর সঙ্গে দুর্গার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মধুর। দুর্গা অপুকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। সে জঙ্গল থেকে ফল কুড়িয়ে এনে অপুকে লুকিয়ে খাওয়ায়, গঙ্গা-যমুনা খেলায় সাথী করে। অপু যখন মায়ের কাছে বকুনি খায়, তখন দুর্গা তাকে সান্ত্বনা দেয়। অপুর চোখে ধুলো পড়লে সে মাতৃস্নেহে তা পরিষ্কার করে দেয়। এমনকি মৃত্যুর আগেও তার শেষ ইচ্ছা ছিল অপুর সাথে রেলগাড়ি দেখার। অপুর জীবনে দুর্গা শুধু দিদি নয়, তার শ্রেষ্ঠ বন্ধু ও রক্ষাকর্ত্রী হিসেবেই উপন্যাসে অমর হয়ে আছে।
৩. সর্বজয়া চরিত্রের মধ্যে দিয়ে তৎকালীন পল্লিবালার যে মাতৃরূপ ও দারিদ্র্য-লাঞ্ছিত জীবনের ছবি ফুটে উঠেছে, তা বর্ণনা করো।
উত্তর: 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে সর্বজয়া হলো হরিহর রায়ের স্ত্রী এবং অপু-দুর্গার মা। তার চরিত্রটি তৎকালীন গ্রামবাংলার এক শাশ্বত, অভাবক্লিষ্ট অথচ স্নেহময়ী মায়ের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
সর্বজয়া সারাদিন সংসারের হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে সংসার চালাতে গিয়ে তার স্বভাব কিছুটা খিটখিটে হয়ে গেছে। সে দুর্গার ডানপিটে স্বভাব পছন্দ করে না এবং অনেক সময় রাগের মাথায় তাকে মারধরও করে। কিন্তু এই রুক্ষতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর মাতৃস্নেহ। সে অপুকে অত্যন্ত ভালোবাসে, তাকে নিজের হাতে খাওয়ায় এবং তার ভবিষ্যতের ভালো স্বপ্ন দেখে। সেজো বউ যখন দুর্গাকে চুরির অপবাদে মারে, তখন সর্বজয়ার মাতৃহৃদয় অপমানে ডুকরে কেঁদে ওঠে।
সর্বজয়া সবসময় একটা ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। সে চায় স্বামী ভালো রোজগার করুক, ছেলে বড়ো হয়ে বিদ্বান হোক। কিন্তু ভাগ্য তাকে স্বাদ দেয় শুধু অভাবের। ঝড়ের রাতে একলা ঘরে সন্তানদের বুকে আগলে তার যে অসহায়তা এবং পরিশেষে বিনা চিকিৎসায় দুর্গার মৃত্যুতে তার যে গগনবিদারী হাহাকার, তা সর্বজয়াকে এক চিরন্তন ট্র্যাজিক মাতৃমূর্তিতে পরিণত করেছে।
সর্বজয়া সারাদিন সংসারের হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে সংসার চালাতে গিয়ে তার স্বভাব কিছুটা খিটখিটে হয়ে গেছে। সে দুর্গার ডানপিটে স্বভাব পছন্দ করে না এবং অনেক সময় রাগের মাথায় তাকে মারধরও করে। কিন্তু এই রুক্ষতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর মাতৃস্নেহ। সে অপুকে অত্যন্ত ভালোবাসে, তাকে নিজের হাতে খাওয়ায় এবং তার ভবিষ্যতের ভালো স্বপ্ন দেখে। সেজো বউ যখন দুর্গাকে চুরির অপবাদে মারে, তখন সর্বজয়ার মাতৃহৃদয় অপমানে ডুকরে কেঁদে ওঠে।
সর্বজয়া সবসময় একটা ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। সে চায় স্বামী ভালো রোজগার করুক, ছেলে বড়ো হয়ে বিদ্বান হোক। কিন্তু ভাগ্য তাকে স্বাদ দেয় শুধু অভাবের। ঝড়ের রাতে একলা ঘরে সন্তানদের বুকে আগলে তার যে অসহায়তা এবং পরিশেষে বিনা চিকিৎসায় দুর্গার মৃত্যুতে তার যে গগনবিদারী হাহাকার, তা সর্বজয়াকে এক চিরন্তন ট্র্যাজিক মাতৃমূর্তিতে পরিণত করেছে।
৪. "ওগো, দুগ্গা কী আর আছে গো মা যে আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গিয়েচে - এতদিন কোথায় ছিলে!" - এই উক্তিটির প্রেক্ষাপট ও উপন্যাসে এর ট্র্যাজিক পরিণতি আলোচনা করো।
উত্তর: প্রেক্ষাপট: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের শেষাংশে এই চরম বেদনাদায়ক উক্তিটি করেছেন সর্বজয়া। তাঁর স্বামী হরিহর রায় রোজগারের আশায় দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। এদিকে গ্রামে প্রবল বর্ষা নামে। তাঁদের জীর্ণ ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। সেই দুর্যোগের মধ্যেই দুর্গা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। চরম দারিদ্র্য, বিনা চিকিৎসা এবং উপযুক্ত পথ্যের অভাবে দুর্গা মারা যায়। এর কিছুদিন পর হরিহর যখন কিছু টাকা ও ছেলেমেয়ের জন্য নতুন জামাকাপড় ও শখের জিনিস (আলতা, বই) কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফেরে, তখন সর্বজয়া আর আবেগ চেপে রাখতে না পেরে ডুকরে কেঁদে উঠে এই নিদারুণ সত্যটি তাকে জানায়।
ট্র্যাজিক পরিণতি: এই ঘটনাটি উপন্যাসের সবচেয়ে ট্র্যাজিক বা করুণ পরিণতি। যে বাবা তার মেয়ের হাসিমুখ দেখার জন্য শখ করে লালপাড় শাড়ি ও আলতা এনেছিল, সে জানতে পারে তার মেয়ে আর পৃথিবীতে নেই। দারিদ্র্য যে কত নির্মম হতে পারে, তা এই মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে। দুর্গার মৃত্যু কেবল একটি মেয়ের মৃত্যু নয়, এটি অপুর শৈশবের এক বিশাল অংশের মৃত্যু এবং হরিহর-সর্বজয়ার সমস্ত স্বপ্নের অপমৃত্যু। এই শোকাবহ ঘটনাই হরিহরকে গ্রাম ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
ট্র্যাজিক পরিণতি: এই ঘটনাটি উপন্যাসের সবচেয়ে ট্র্যাজিক বা করুণ পরিণতি। যে বাবা তার মেয়ের হাসিমুখ দেখার জন্য শখ করে লালপাড় শাড়ি ও আলতা এনেছিল, সে জানতে পারে তার মেয়ে আর পৃথিবীতে নেই। দারিদ্র্য যে কত নির্মম হতে পারে, তা এই মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে। দুর্গার মৃত্যু কেবল একটি মেয়ের মৃত্যু নয়, এটি অপুর শৈশবের এক বিশাল অংশের মৃত্যু এবং হরিহর-সর্বজয়ার সমস্ত স্বপ্নের অপমৃত্যু। এই শোকাবহ ঘটনাই হরিহরকে গ্রাম ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
৫. 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে গ্রামবাংলার প্রকৃতির যে রূপ ধরা পড়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো। প্রকৃতি কীভাবে অপুর চরিত্রকে প্রভাবিত করেছে?
উত্তর: 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রামবাংলার প্রকৃতির এক মায়াময়, সজীব ও প্রাণবন্ত চিত্র অঙ্কন করেছেন। নিশ্চিন্দিপুর গ্রামটি গাছপালায় ঘেরা। সেখানে আছে আম-কাঁঠালের বাগান, বাঁশবন, শেওড়া-ভাঁট গাছের জঙ্গল, গড়ের পুকুর এবং নীলকণ্ঠ পাখি। কালবৈশাখীর ঝড়ের তাণ্ডব, আবার শরতের স্নিগ্ধ রৌদ্রকরোজ্জ্বল আকাশ—প্রকৃতির সব রূপই এখানে নিপুণভাবে ধরা পড়েছে। প্রকৃতি এখানে শুধু একটি পটভূমি নয়, সে যেন এই উপন্যাসের একটি জীবন্ত চরিত্র।
অপুর ওপর প্রভাব: এই উন্মুক্ত প্রকৃতি অপুর চরিত্র গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। প্রকৃতির এই অফুরন্ত সৌন্দর্য অপুর মনে চিরন্তন কৌতূহল ও ভাবুকতার জন্ম দিয়েছে। বাঁশবনের ছায়ায় বসে বই পড়া, দূরের মাঠের দিকে তাকিয়ে রামায়ণ-মহাভারতের দেশের কল্পনা করা, কিম্বা একখানা বাঁকা কঞ্চি হাতে নিয়ে বনের পথে ঘুরে বেড়ানো—সবকিছুতেই প্রকৃতি তার প্রধান সঙ্গী। প্রকৃতির সান্নিধ্যই অপুকে একজন স্বপ্নদর্শী, রোমান্টিক এবং গভীর অনুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
অপুর ওপর প্রভাব: এই উন্মুক্ত প্রকৃতি অপুর চরিত্র গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। প্রকৃতির এই অফুরন্ত সৌন্দর্য অপুর মনে চিরন্তন কৌতূহল ও ভাবুকতার জন্ম দিয়েছে। বাঁশবনের ছায়ায় বসে বই পড়া, দূরের মাঠের দিকে তাকিয়ে রামায়ণ-মহাভারতের দেশের কল্পনা করা, কিম্বা একখানা বাঁকা কঞ্চি হাতে নিয়ে বনের পথে ঘুরে বেড়ানো—সবকিছুতেই প্রকৃতি তার প্রধান সঙ্গী। প্রকৃতির সান্নিধ্যই অপুকে একজন স্বপ্নদর্শী, রোমান্টিক এবং গভীর অনুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
৬. দুর্গার প্রথম বনভোজনের বা চড়ুইভাতির অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে তাদের জীবনের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর: বনভোজনের অভিজ্ঞতা: 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে নীলমণি রায়ের জঙ্গলাকীর্ণ ভিটায় দুর্গা তার ভাই অপু এবং প্রতিবেশী মেয়ে বিনিকে নিয়ে জীবনের প্রথম বনভোজন বা চড়ুইভাতির আয়োজন করেছিল। এই বনভোজনে কোনো এলাহি আয়োজন ছিল না। একটি ছোট্ট হাঁড়িতে শুধু ভাত আর বেগুনভাজা রান্না হয়েছিল। তারা মেটে আলু ভাতে মেখে কলার পাতে খেয়েছিল। রান্নায় এমনকি নুন পর্যন্ত ছিল না। তবুও বনের নিভৃত ছায়ায়, শুকনো পাতার রাশির মধ্যে বসে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ার আনন্দে দুর্গা ও অপুর মুখ স্বর্গীয় তৃপ্তিতে ভরে উঠেছিল।
জীবনের যে দিকটি ফুটে উঠেছে: এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অপু ও দুর্গার জীবনের চরম দারিদ্র্য এবং সেইসঙ্গে তাদের অসাধারণ সারল্য ফুটে উঠেছে। জন্মে অবধি তারা ভালো কোনো খাবার খেতে পায়নি। তাই সামান্য ভাত আর বেগুনভাজাই তাদের কাছে অমৃতের মতো মনে হয়েছে। অভাব তাদের শৈশবের আনন্দকে কেড়ে নিতে পারেনি। বনের তুচ্ছ উপকরণ দিয়েই তারা নিজেদের জন্য এক মায়াবী ও আনন্দের জগত তৈরি করে নিতে জানত, এই বনভোজন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
জীবনের যে দিকটি ফুটে উঠেছে: এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অপু ও দুর্গার জীবনের চরম দারিদ্র্য এবং সেইসঙ্গে তাদের অসাধারণ সারল্য ফুটে উঠেছে। জন্মে অবধি তারা ভালো কোনো খাবার খেতে পায়নি। তাই সামান্য ভাত আর বেগুনভাজাই তাদের কাছে অমৃতের মতো মনে হয়েছে। অভাব তাদের শৈশবের আনন্দকে কেড়ে নিতে পারেনি। বনের তুচ্ছ উপকরণ দিয়েই তারা নিজেদের জন্য এক মায়াবী ও আনন্দের জগত তৈরি করে নিতে জানত, এই বনভোজন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
৭. সেজো ঠাকরুন দুর্গাকে কী অপবাদে মারধর করেছিলেন? এই ঘটনা অপুর মনে কী প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর: অপবাদ ও মারধর: ভুবন মুখুজ্যের বাড়ির সেজো ঠাকরুন তাঁর মেয়ে টুনুর সোনার সিঁদুরের কৌটো খুঁজে পাচ্ছিলেন না। যেহেতু দুর্গা সেদিন তাদের বাড়িতে গিয়েছিল, তাই কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেজো ঠাকরুন গরিবের মেয়ে দুর্গাকেই চোর সাব্যস্ত করেন। দুর্গা বারবার অস্বীকার করলেও সেজো ঠাকরুন তার কথা শোনেননি। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দুর্গার মাথাটা সজোরে দেয়ালে ঠুকতে শুরু করেন, যার ফলে দুর্গার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।
অপুর মনে প্রভাব: দিদিকে এইভাবে বিনা দোষে মার খেতে দেখে ছোট্ট অপু অত্যন্ত ভয় পেয়ে যায় এবং গভীরভাবে আহত হয়। সে জানত তার দিদি চোর নয়। অপুর চোখে দুর্গা শুধু তার দিদি নয়, তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও রক্ষাকর্ত্রী। যখন দুর্গার চুল খাড়া হয়ে উড়ে এবং সে অসহায়ভাবে মার খায়, তখন অপুর মনে দিদির জন্য তীব্র মমতা জেগে ওঠে। অপুর মনে হয় দিদি যেন বড়ো একা, তার কেউ নেই। অপুর অবচেতন মনে এই সংকল্প জেগে ওঠে যে, বড়ো হয়ে সে দিদির সব অভাব ও দুঃখ ঘুচিয়ে দেবে এবং তাকে আর কখনো এরকম কষ্টে পড়তে দেবে না।
অপুর মনে প্রভাব: দিদিকে এইভাবে বিনা দোষে মার খেতে দেখে ছোট্ট অপু অত্যন্ত ভয় পেয়ে যায় এবং গভীরভাবে আহত হয়। সে জানত তার দিদি চোর নয়। অপুর চোখে দুর্গা শুধু তার দিদি নয়, তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও রক্ষাকর্ত্রী। যখন দুর্গার চুল খাড়া হয়ে উড়ে এবং সে অসহায়ভাবে মার খায়, তখন অপুর মনে দিদির জন্য তীব্র মমতা জেগে ওঠে। অপুর মনে হয় দিদি যেন বড়ো একা, তার কেউ নেই। অপুর অবচেতন মনে এই সংকল্প জেগে ওঠে যে, বড়ো হয়ে সে দিদির সব অভাব ও দুঃখ ঘুচিয়ে দেবে এবং তাকে আর কখনো এরকম কষ্টে পড়তে দেবে না।
৮. নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে যাত্রাদলের আগমন এবং অপুর ওপর তার প্রভাব উপন্যাসে কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
উত্তর: নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে চড়কপূজা উপলক্ষে নীলমণি হাজরার যাত্রাদলের আগমন ঘটে, যা গ্রামের মানুষের, বিশেষ করে অপুর জীবনে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে।
যাত্রার প্রভাব: যাত্রার সাজপোশাক, আলো এবং অভিনয় অপুকে সম্পূর্ণ মুগ্ধ করে দেয়। সে এক অপলক বিস্ময় নিয়ে যাত্রা দেখে। যাত্রাপালার করুণ রস, রাজকন্যা ইন্দুলেখার বনে হারিয়ে যাওয়া বা সেনাপতি বিচিত্রকেতুর তলোয়ার খেলা অপুর শিশুমনকে এক মায়াবী জগতে নিয়ে যায়। বিশেষ করে রাজপুত্র অজয়ের পার্ট করা ছেলেটির প্রতি সে তীব্র আকর্ষণ বোধ করে। তার গানের গলা ও চেহারায় মুগ্ধ হয়ে অপু তাকে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ায় এবং তার সাথে গভীর বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলে।
অপুর মনে এই যাত্রার ঘোর এতটাই প্রবল হয় যে, সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বড়ো হয়ে সেও যাত্রাদলে যোগ দেবে এবং সেনাপতি সেজে তলোয়ার ঘোরাবে। যাত্রার এই অভিজ্ঞতা অপুর কল্পনার জগৎকে আরও প্রসারিত ও ঐশ্বর্যময় করে তোলে।
যাত্রার প্রভাব: যাত্রার সাজপোশাক, আলো এবং অভিনয় অপুকে সম্পূর্ণ মুগ্ধ করে দেয়। সে এক অপলক বিস্ময় নিয়ে যাত্রা দেখে। যাত্রাপালার করুণ রস, রাজকন্যা ইন্দুলেখার বনে হারিয়ে যাওয়া বা সেনাপতি বিচিত্রকেতুর তলোয়ার খেলা অপুর শিশুমনকে এক মায়াবী জগতে নিয়ে যায়। বিশেষ করে রাজপুত্র অজয়ের পার্ট করা ছেলেটির প্রতি সে তীব্র আকর্ষণ বোধ করে। তার গানের গলা ও চেহারায় মুগ্ধ হয়ে অপু তাকে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ায় এবং তার সাথে গভীর বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলে।
অপুর মনে এই যাত্রার ঘোর এতটাই প্রবল হয় যে, সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বড়ো হয়ে সেও যাত্রাদলে যোগ দেবে এবং সেনাপতি সেজে তলোয়ার ঘোরাবে। যাত্রার এই অভিজ্ঞতা অপুর কল্পনার জগৎকে আরও প্রসারিত ও ঐশ্বর্যময় করে তোলে।
৯. "জীবন্ত! একেবারে তোমার সামনে লাফাইয়া পালায়; ছবি না, কাচের পুতুল না..." - অপুর এই বিস্ময়ের কারণ কী? তার এই কৌতূহল কীভাবে তার জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করেছে?
উত্তর: বিস্ময়ের কারণ: উদ্ধৃত অংশটি 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের শুরু থেকে নেওয়া। অপুর বাবা হরিহর যখন তাকে নিয়ে মাঠে যাচ্ছিল, তখন বনের মধ্যে দিয়ে একটি খরগোশ দৌড়ে যায়। অপু এর আগে কেবল 'বর্ণপরিচয়' বইয়ের পাতায় 'খ'-এ খরগোশের ছবি দেখেছিল অথবা কাচের পুতুল দেখেছিল। কিন্তু আজ নিজের চোখে একটি জীবন্ত খরগোশকে লাফিয়ে পালাতে দেখে তার কচি মনে এক প্রবল বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। বইয়ের পাতা থেকে বেরিয়ে এসে জীবন্ত প্রাণী যে বাস্তবের মাটিতে বিচরণ করতে পারে, এটিই ছিল তার বিস্ময়ের কারণ।
জীবনবোধের সমৃদ্ধি: অপুর এই কৌতূহল ও বিস্ময়বোধ প্রমাণ করে যে সে চারপাশের জগৎকে এক নতুন এবং আবিষ্কারকের দৃষ্টিতে দেখে। তার কাছে প্রকৃতির প্রতিটি তুচ্ছ জিনিসই এক অসীম রহস্যের ভাণ্ডার। এই সীমাহীন কৌতূহলই তাকে বইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করেছে। প্রকৃতির এই খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ এবং নতুন কিছু জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই পরবর্তীকালে অপুর জীবনবোধ, মনন ও কল্পনাশক্তিতে গভীরতা এনে দিয়েছে।
জীবনবোধের সমৃদ্ধি: অপুর এই কৌতূহল ও বিস্ময়বোধ প্রমাণ করে যে সে চারপাশের জগৎকে এক নতুন এবং আবিষ্কারকের দৃষ্টিতে দেখে। তার কাছে প্রকৃতির প্রতিটি তুচ্ছ জিনিসই এক অসীম রহস্যের ভাণ্ডার। এই সীমাহীন কৌতূহলই তাকে বইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করেছে। প্রকৃতির এই খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ এবং নতুন কিছু জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই পরবর্তীকালে অপুর জীবনবোধ, মনন ও কল্পনাশক্তিতে গভীরতা এনে দিয়েছে।
১০. 'ছোটোদের পথের পাঁচালী' উপন্যাসে দারিদ্র্য কীভাবে একটি অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে তা হরিহর ও সর্বজয়ার জীবন অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসে দারিদ্র্য বা চরম অভাব একটি অলঙ্ঘ্য অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা হরিহর ও সর্বজয়ার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে।
হরিহর পেশায় একজন সামান্য ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ও পুরোহিত। তার রোজগার এতই নগণ্য যে সংসার চলে না। রোজগারের আশায় তাকে মাসের পর মাস বিদেশে পড়ে থাকতে হয়, তবুও সে টাকা পাঠাতে পারে না। অন্যদিকে, সর্বজয়াকে একা হাতে এই অভাবের সংসার সামলাতে হয়। সে সবসময় স্বপ্ন দেখে যে সুদিন আসবে, কিন্তু বাস্তবে তাকে উপবাস করে ছেলেমেয়েকে খাওয়াতে হয়। দারিদ্র্যের কারণেই তার মেয়ে দুর্গাকে প্রতিবেশীদের কাছে চুরির অপবাদ ও অকথ্য মারধর সহ্য করতে হয়।
সবচেয়ে বড়ো ট্র্যাজেডি ঘটে যখন প্রবল বর্ষায় দুর্গা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। ঘরে খাবার নেই, চাল ফুটো হয়ে জল পড়ছে, আর এই চরম দারিদ্র্যের কারণেই বিনা চিকিৎসায় ও বিনা পথ্যে দুর্গার মতো এক প্রাণবন্ত কিশোরীর অকালমৃত্যু ঘটে। হরিহর ও সর্বজয়ার জীবনের সমস্ত আশা ও স্বপ্ন এই দারিদ্র্যের কশাঘাতেই চুরমার হয়ে যায়, যা উপন্যাসে এক গভীর বেদনার সঞ্চার করেছে।
হরিহর পেশায় একজন সামান্য ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ও পুরোহিত। তার রোজগার এতই নগণ্য যে সংসার চলে না। রোজগারের আশায় তাকে মাসের পর মাস বিদেশে পড়ে থাকতে হয়, তবুও সে টাকা পাঠাতে পারে না। অন্যদিকে, সর্বজয়াকে একা হাতে এই অভাবের সংসার সামলাতে হয়। সে সবসময় স্বপ্ন দেখে যে সুদিন আসবে, কিন্তু বাস্তবে তাকে উপবাস করে ছেলেমেয়েকে খাওয়াতে হয়। দারিদ্র্যের কারণেই তার মেয়ে দুর্গাকে প্রতিবেশীদের কাছে চুরির অপবাদ ও অকথ্য মারধর সহ্য করতে হয়।
সবচেয়ে বড়ো ট্র্যাজেডি ঘটে যখন প্রবল বর্ষায় দুর্গা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। ঘরে খাবার নেই, চাল ফুটো হয়ে জল পড়ছে, আর এই চরম দারিদ্র্যের কারণেই বিনা চিকিৎসায় ও বিনা পথ্যে দুর্গার মতো এক প্রাণবন্ত কিশোরীর অকালমৃত্যু ঘটে। হরিহর ও সর্বজয়ার জীবনের সমস্ত আশা ও স্বপ্ন এই দারিদ্র্যের কশাঘাতেই চুরমার হয়ে যায়, যা উপন্যাসে এক গভীর বেদনার সঞ্চার করেছে।
৭. ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar & Composition) সিলেবাস অনুযায়ী
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- অপু বাবাকে বলিল... - কর্মকারকে 'কে' বিভক্তি।
- বাঁশবাগানে খুঁজলে কঞ্চি আর মিলবে না বুঝি! - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- মার খেয়ে কোথায় পালিয়েচে? - করণ কারকে 'শূন্য' বিভক্তি (মারের দ্বারা)।
- হরিহর মোট পাঁচটা টাকা পাঠাইয়াছিল। - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
- বড়ো গাছের তলায় সেখানে বৃষ্টির মধ্যে মাটি খসিয়া পড়িয়াছে। - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।
- সে বিছানায় গিয়া শোয়। - অধিকরণ কারকে 'য়' বিভক্তি।
সমাস নির্ণয়
- বনভোজন: বনে ভোজন (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।
- নীলকণ্ঠ: নীল কণ্ঠ যার (বহুব্রীহি সমাস)।
- রাজপুত্র: রাজার পুত্র (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
- দেশভ্রমণ: দেশে ভ্রমণ (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।
- হাঁড়ি-কলসি: হাঁড়ি ও কলসি (দ্বন্দ্ব সমাস)।
- মহামূল্যবান: মহা মূল্যবান (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন
- বাক্য: অপুর বয়স কম, তাই সে ভয় পেয়েছিল। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যেহেতু অপুর বয়স কম, সেহেতু সে ভয় পেয়েছিল। - বাক্য: দুর্গা বলিল, আমি এ কথা জানি না। (অস্ত্যর্থক বাক্যে)
উত্তর: দুর্গা বলিল, আমি এ কথায় অজ্ঞাত। - বাচ্য: অপু এক দৌড়ে ফটক পার হইয়া রাস্তার উপর আসিয়া উঠিল। (ভাববাচ্যে)
উত্তর: অপুর এক দৌড়ে ফটক পার হইয়া রাস্তার উপর আসিয়া ওঠা হলো। - বাচ্য: সেজো ঠাকরুন দুর্গাকে মারলেন। (কর্মবাচ্যে)
উত্তর: সেজো ঠাকরুনের দ্বারা দুর্গাকে মারা হলো।
নির্মিতি (অনুশীলনের জন্য)
- কাল্পনিক সংলাপ: অপু ও দুর্গার মধ্যে তাদের প্রথম বনভোজনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
- প্রতিবেদন রচনা: "প্রবল বর্ষায় গ্রামের একটি জীর্ণ বাড়ির দেওয়াল ধসে বিপত্তি" - এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
- প্রবন্ধ রচনা: "আমার দেখা একটি গ্রাম" অথবা "শৈশবের স্মৃতি"।
পথের পাঁচালী উপন্যাস সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
পথের পাঁচালী উপন্যাসটি প্রখ্যাত বাঙালি কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা।
অপু ও দুর্গার গ্রামের নাম ছিল নিশ্চিন্দিপুর।
প্রবল বর্ষার সময় দুর্গা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং পরিবারের চরম দারিদ্র্যের কারণে বিনা চিকিৎসায় ও উপযুক্ত পথ্যের অভাবে তার মৃত্যু হয়।
বাবার পুরোনো বই 'সর্ব-দর্শন সংগ্রহ'-এ পড়ে অপু আকাশে ওড়ার আশায় রাখাল ছেলের কাছ থেকে শকুনির ডিম কিনেছিল।
ভুবন মুখুজ্যের বাড়ির সেজো ঠাকরুন দুর্গাকে তাঁর মেয়ের সোনার সিঁদুরের কৌটো চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলেন।