🌱 গাছের কথা
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE) • পঞ্চম পাঠ
১. লেখক পরিচিতি বিষয়ক প্রশ্ন
জগদীশচন্দ্র বসুর লেখা একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম হলো 'অব্যক্ত'।
জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেস্কোগ্রাফ (Crescograph) যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন, যার সাহায্যে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে গাছেরও প্রাণ আছে এবং তাদেরও মানুষের মতো অনুভূতি আছে।
২. একটি বাক্যে উত্তর দাও
৫ টিলেখক যখন থেকে গাছ, পাখি এবং কীটপতঙ্গদের ভালোবাসতে শিখেছেন, তখন থেকে তিনি গাছদের অনেক কথা বুঝতে পারেন।
মানুষের মধ্যে যেমন স্বার্থত্যাগ, বন্ধুত্ব বা চুরি-ডাকাতির মতো ভালো-মন্দ গুণাবলি রয়েছে, গাছেদের মধ্যেও তার কিছু কিছু দেখা যায়।
জীবিতের প্রধান দুটি লক্ষণ হলো— তারা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং তাদের মধ্যে গতি দেখা যায় (নড়াচড়া করে)।
বৃক্ষশিশু বীজের কঠিন ঢাকনার ভেতরে নিরাপদে নিদ্রা যায়।
বীজ থেকে অঙ্কুর বের হবার জন্য উপযুক্ত মাটি, উত্তাপ এবং জল প্রয়োজন।
৩. নিজের ভাষায় উত্তর দাও
১০ টিগাছেরা কথা বলতে পারে না ঠিকই, কিন্তু তাদেরও যে একটা জীবন আছে, তারা যে আমাদের মতো আহার করে, দিন দিন বাড়ে, তাদেরও যে মানুষের মতো অভাব, দুঃখ-কষ্ট থাকে— এই সব বিষয়গুলিই আগে লেখকের কাছে অজানা ছিল।
এখানে উদ্ভিদ বা গাছেদের কথা বলা হয়েছে।
মানুষের মতো গাছেদের মধ্যেও জীবনধারণের ব্যস্ততা রয়েছে। মানুষের মতো গাছেদের মধ্যেও একে অপরকে সাহায্য করার প্রবৃত্তি, বন্ধুত্ব এবং স্বার্থত্যাগের মহান গুণ লক্ষ করা যায়। এমনকি, কখনো কখনো কষ্ট পড়লে গাছেদের মধ্যে চুরি-ডাকাতি করার মতো স্বভাবও দেখা যায়।
মানুষের জীবনের অনেক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে গাছের জীবনের অদ্ভুত মিল রয়েছে। মানুষের মতোই গাছের জন্ম-মৃত্যু, বৃদ্ধি ও আহারের প্রয়োজন আছে। অভাব, দুঃখ-কষ্ট গাছেরও আছে। মানুষের মতো তারাও বাঁচার তাগিদে সংগ্রাম করে, আবার মানুষের সেরা গুণ 'স্বার্থত্যাগ' (মা যেমন সন্তানের জন্য জীবন দেন)— গাছের মধ্যেও দেখা যায়। তাই লেখক গাছের জীবনকে মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি বা ছায়ামাত্র বলেছেন।
লেখক জানিয়েছেন যে, জীবিত বস্তু মাত্রই দুটো ধর্ম মেনে চলে— বৃদ্ধি ও গতি। মরা গাছ কেবল ক্ষয়ে যায়, কিন্তু জীবন্ত গাছ ক্রমশ বাড়ে। তাছাড়া, জীবনের আর একটি ধর্ম হলো গতি বা নড়াচড়া। যদিও গাছের গতি হঠাৎ চোখে পড়ে না, কিন্তু লতা যখন অন্য গাছকে পেঁচিয়ে ধরে ওঠে, তখন সেই গতি স্পষ্ট বোঝা যায়। অর্থাৎ, বৃদ্ধি এবং গতি— এই দুটিই হলো জীবনের মূল ধর্ম।
গাছের বীজ নানাভাবে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে:
- পাখিদের দ্বারা: পাখিরা গাছের ফল খেয়ে উড়ে গিয়ে দূর দেশে বা জনমানবহীন দ্বীপে মলত্যাগ করলে তার সাথে বীজও ছড়িয়ে পড়ে।
- বাতাসের সাহায্যে: শিমুল ফলের মতো অনেক বীজ রোদে ফেটে তুলোর সাহায্যে বাতাসে উড়ে দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
- ঝড়ের মাধ্যমে: প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে ডালপালা ছিঁড়ে বীজ মাটিতে পড়ে এবং বাতাসের বেগে বহুদূরে উড়ে যায়।
বীজ কীভাবে বাতাসের সাহায্যে ছড়ায়, তা বোঝাতে গিয়ে লেখক তাঁর ছেলেবেলার একটি স্মৃতির কথা বলেছেন। ছেলেবেলায় শিমুল ফল রোদে ফেটে গেলে, তার মধ্য থেকে বীজ যখন তুলোর সঙ্গে উড়তে থাকত, তখন লেখক ও তাঁর সঙ্গীরা সেই বীজ ধরার জন্য ছুটতেন। কিন্তু হাত বাড়িয়ে ধরতে গেলেই বাতাস সেই তুলোসমেত বীজকে অনেক ওপরে উড়িয়ে নিয়ে যেত। এই মধুর স্মৃতির কথা তিনি পাঠ্যাংশে স্মরণ করেছেন।
| বীজ | কোন ঋতুতে / মাসে পাকে |
|---|---|
| ১. আম | বৈশাখ মাসে (গ্রীষ্মকাল) |
| ২. লিচু | বৈশাখ মাসে (গ্রীষ্মকাল) |
| ৩. ধান | আশ্বিন-কার্তিক মাসে (শরৎ-হেমন্তকাল) |
| ৪. যব | আশ্বিন-কার্তিক মাসে (শরৎ-হেমন্তকাল) |
| ৫. শিমুল | ফাল্গুন-চৈত্র মাসে (বসন্তকাল) [রোদে ফাটে] |
প্রবল ঝড়ে বীজ যখন মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধুলো-মাটির নীচে চাপা পড়ে, তখন সে মানুষের চোখের আড়ালে চলে যায় ঠিকই, কিন্তু বিধাতার দৃষ্টির বাইরে যায় না। বিশ্বপ্রকৃতি বা পৃথিবী তখন ঠিক একজন মমতাময়ী মায়ের মতো সেই ছোট্ট বীজটিকে নিজের বুকে আশ্রয় দেয়। মাটির উষ্ণতায় বীজটি বাইরের শীত ও ঝড়ের প্রকোপ থেকে রক্ষা পায় এবং নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে। এর মধ্যে দিয়ে প্রকৃতির মাতৃসুলভ ও পালনকারী রূপটি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
সব বীজ মাটিতে পড়লেই তা থেকে গাছ জন্মায় না। যদি বীজটি কোনো কঠিন পাথরের ওপর পড়ে, তবে সেখান থেকে অঙ্কুর বের হতে পারে না। একটি বীজ থেকে সার্থকভাবে গাছ জন্মানোর বা অঙ্কুরোদগমের জন্য তিনটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত বা উপাদানের প্রয়োজন— উপযুক্ত মাটি, সঠিক উত্তাপ এবং প্রয়োজনীয় জল। এই তিনটি পেলে তবেই বীজের খোলস ফাটিয়ে বৃক্ষশিশু বাইরে আসে।
লেখক যখন প্রকৃতিকে চিনতে শেখেননি, সেই ছোটোবেলার অনুভূতির কথা এখানে বলা হয়েছে।
আগে লেখক যখন মাঠে বা পাহাড়ে বেড়াতে যেতেন, তখন প্রকৃতিকে তাঁর নির্জীব এবং শূন্য বলে মনে হতো, তাই সব খালি-খালি লাগত। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন তিনি গাছ, পাখি এবং কীটপতঙ্গদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে ও ভালোবাসতে শিখলেন, তখন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পালটে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, গাছপালাও জীবিত, তাদেরও অনুভূতি আছে, তারাও মানুষের মতো সুখ-দুঃখ ভোগ করে। এই নব উপলব্ধির পর প্রকৃতির শূন্যতা দূর হয়ে তা এক জীবন্ত ও প্রাণবন্ত চেহারায় ধরা দেয়।
৪. বাক্য পরিবর্তন করো
৪.১ আগে যখন একা মাঠে কিংবা পাহাড়ে বেড়াইতে যাইতাম, তখন সব খালি-খালি লাগিত। (সরল বাক্যে)
উত্তর: আগে একা মাঠে কিংবা পাহাড়ে বেড়াতে গেলে সব খালি-খালি লাগত।
৪.২ তাদের অনেক কথা বুঝিতে পারি, আগে যাহা পারিতাম না। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)
উত্তর: আগে তাদের যে কথা আমার অজানা ছিল, এখন তা বুঝতে পারি।
৪.৩ ইহাদের মধ্যেও আমাদের মতো অভাব, দুঃখ-কষ্ট দেখিতে পাই। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: আমাদের যেমন অভাব ও দুঃখ-কষ্ট আছে, ইহাদের মধ্যেও তেমনি তা দেখিতে পাই।
৪.৪ তোমরা শুষ্ক গাছের ডাল সকলেই দেখিয়াছ। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে শুষ্ক গাছের ডাল দেখোনি।
৪.৫ প্রবল বাতাসের বেগে কোথায় উড়িয়া যায়, কে বলিতে পারে? (প্রশ্ন পরিহার করো)
উত্তর: প্রবল বাতাসের বেগে কোথায় যে উড়িয়া যায়, তা কেউ বলিতে পারে না।
৫. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয়
| সমাসবদ্ধ পদ | ব্যাসবাক্য | সমাসের নাম |
|---|---|---|
| কীটপতঙ্গ | কীট ও পতঙ্গ | দ্বন্দ্ব সমাস |
| স্বার্থত্যাগ | স্বার্থকে ত্যাগ | কর্ম তৎপুরুষ সমাস |
| বৃক্ষশিশু | বৃক্ষের শিশু | সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস |
| বনজঙ্গল | বন ও জঙ্গল | সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস |
| জনমানবশূন্য | জন ও মানব দ্বারা শূন্য | করণ তৎপুরুষ সমাস |
| দিনরাত্রি | দিন ও রাত্রি | দ্বন্দ্ব সমাস |
| দেশান্তরে | অন্য দেশ (দেশান্তর) | নিত্য সমাস |
| নিরাপদ | নেই (নির্) আপদ যার | নঞ বহুব্রীহি সমাস |
৬. কারক ও বিভক্তি নির্ণয়
৬.১ ইহাদের মধ্যে একের সহিত অপরের বন্ধুত্ব হয়।
অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি (মধ্যে + এ)।
৬.২ আর কিছুকাল পরে ইহার চিহ্নও থাকিবে না।
কর্ম কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
৬.৩ বীজ দেখিয়া গাছ কত বড়ো হইবে বলা যায় না।
কর্ম কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
৬.৪ মানুষের সর্বোচ্চ গুণ যে স্বার্থত্যাগ, গাছে তাহাও দেখা যায়।
অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
৭. সন্ধি-বিচ্ছেদ করো
৭.১ নিরাপদে: নির্ + আপদে (বা নিঃ + আপদে)
৭.২ অপেক্ষা: অপ + ঈক্ষা
৭.৩ দেশদেশান্তরে: দেশদেশ + অন্তরে