প্রাণ ভরিয়ে (গান)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'প্রাণ ভরিয়ে' গানের সম্পূর্ণ সারাংশ, অন্তর্নিহিত অর্থ ও সহজ ব্যাখ্যা | অষ্টম শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 27 May 2026 Last Update: 31 May 2026

🎶 প্রাণ ভরিয়ে (গান)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রসংগীত

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE) • প্রথম পাঠ

প্রার্থনা চেতনা আধ্যাত্মিকতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)

বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং সুরকার। তাঁর রচিত অগণিত গানগুলি 'গীতবিতান' নামের বইতে কয়েকটি খণ্ডে বিধৃত রয়েছে। আর গানগুলির স্বরলিপি বিভিন্ন খণ্ডে রয়েছে 'স্বরবিতান' নামের বইয়ে। তাঁর সৃষ্ট গানগুলি কেবল সুরের মূর্ছনা নয়, বরং গভীর জীবনদর্শন ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য মেলবন্ধন।

📜

ধরন

গান / কবিতা

👤

রচয়িতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

📚

উৎস গ্রন্থ

গীতবিতান (পূজা পর্যায়)

📖

পাঠ

প্রথম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

মূল গানটি

প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ।
তব ভুবনে তব ভবনে
মোরে আরো আরো আরো দাও স্থান।
মোর নয়নে প্রভু, ঢালো
আরো আলো আরো আলো।
সুরে সুরে বাঁশি পূরে
তুমি আরো আরো আরো দাও তান।।
দাও মোরে আরও চেতনা
আরো বেদনা আরো বেদনা,
দ্বার ছুটায়ে বাধা টুটায়ে
মোরে করো ত্রাণ মোরে করো ত্রাণ।
মোর আমি ডুবে যাক নেমে
আরো প্রেমে আরো প্রেমে।
সুধাধারে আপনারে
তুমি আরো আরো আরো করো দান ॥

গানের সারাংশ ও মূলভাব

সারমর্ম: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'প্রাণ ভরিয়ে' গানটি মূলত একটি গভীর আধ্যাত্মিক প্রার্থনামূলক সংগীত। গীতবিতানের 'পূজা' পর্যায়ের এই গানে কবি পরম করুণাময় ঈশ্বরের কাছে নিজের ক্ষুদ্রতা ও সীমাবদ্ধতা দূর করে বৃহত্তর জীবনবোধ ও চেতনায় নিজেকে পূর্ণ করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

অন্তর্নিহিত অর্থ ও প্রার্থনা:

  • প্রাণের পূর্ণতা: কবি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন যেন তাঁর অন্তরের সমস্ত তৃষ্ণা বা অপূর্ণতা দূর করে ঈশ্বর তাঁকে আরও বেশি প্রাণশক্তিতে ভরিয়ে তোলেন। তিনি ঈশ্বরের এই বিশাল ভুবনে নিজের অস্তিত্বের আরও একটু গভীর স্থান চাইছেন।
  • জ্ঞানের আলো: তিনি তাঁর চোখে আরও আলো অর্থাৎ জ্ঞানের আলো ঢেলে দেওয়ার প্রার্থনা করেছেন। তাঁর জীবনের বাঁশিতে যেন ঈশ্বর আরও বেশি সুর বা তান ভরে দেন, যাতে জীবন আরও ছন্দময় হয়ে ওঠে।
  • বেদনা ও চেতনা: কবি শুধু সুখ চাননি, তিনি আরও বেশি বেদনা ও চেতনা চেয়েছেন। কারণ, বেদনার মাধ্যমেই মানুষের আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং প্রকৃত চেতনার উন্মেষ ঘটে। তিনি চান ঈশ্বর যেন তাঁর জীবনের সমস্ত বাধা ও সংকীর্ণতার দরজা ভেঙে তাঁকে মুক্ত বা ত্রাণ করেন।
  • অহংকার মুক্তি: সবশেষে কবি প্রার্থনা করেছেন, তাঁর ভেতরের অহংকার বা "আমি" বোধ যেন ঈশ্বরের প্রেমে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়। পরমাত্মার সুধাধারায় বা অমৃতের ধারায় ঈশ্বর যেন নিজেকে কবির কাছে আরও বেশি করে ধরা দেন বা দান করেন।

কঠিন শব্দের অর্থ

  • তৃষা: তৃষ্ণা, আকাঙ্ক্ষা বা অপূর্ণতা।
  • হরিয়ে: হরণ করে, দূর করে।
  • তব: তোমার (এখানে ঈশ্বরের)।
  • নয়নে: চোখে।
  • তান: সুরের বিস্তার বা মূর্ছনা।
  • চেতনা: জ্ঞান, বোধ বা উপলব্ধি।
  • টুটায়ে: ভেঙে ফেলে।
  • ত্রাণ: উদ্ধার, মুক্তি বা নিস্তার।
  • সুধাধারে: অমৃতের ধারায়।
  • মোর আমি: আমার অহংকার বা স্বার্থপর সত্তা।

আত্মসমর্পণ ও পরিশুদ্ধির গান

'প্রাণ ভরিয়ে' গানটি কেবল একটি সাধারণ কবিতা নয়, এটি অহংকার ত্যাগের এবং পরম সত্তার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ বিলিয়ে দেওয়ার এক শাশ্বত প্রার্থনা। কবির মতে, কেবল সুখ নয়, বেদনার দহনেই মানুষের প্রকৃত চেতনা জাগ্রত হয় এবং তখনই সে ঈশ্বরের অনন্ত প্রেমের অধিকারী হতে পারে।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'প্রাণ ভরিয়ে' গানটির রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এটি তাঁর 'গীতবিতান' গ্রন্থের 'পূজা' পর্যায়ভুক্ত একটি অসামান্য প্রার্থনামূলক সংগীত।

কবি ঈশ্বরের কাছে তাঁর জীবনের সমস্ত অপূর্ণতা ও তৃষ্ণা দূর করে আরও বেশি প্রাণশক্তি, জ্ঞানের আলো, এবং জীবনের বাঁশিতে নতুন সুরের প্রার্থনা করেছেন।

কবি জানেন যে কেবল সুখের মধ্য দিয়ে জীবনের পূর্ণতা আসে না। বেদনার দহনেই মানুষের আত্মা পরিশুদ্ধ হয়, অহংকার দূর হয় এবং প্রকৃত আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটে। তাই তিনি বেদনা চেয়েছেন।

এখানে 'মোর আমি' বলতে মানুষের ভেতরের অহংকার বা ক্ষুদ্র স্বার্থপর সত্তাকে বোঝানো হয়েছে। কবি চাইছেন ঈশ্বরের বিশাল প্রেমের সাগরে তাঁর সেই অহংকার যেন চিরতরে ডুবে গিয়ে তিনি পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হতে পারেন।